শুক্লপক্ষের পরিশেষে - পর্ব ৩৫ - নবনীতা শেখ - ধারাবাহিক গল্প

শুক্লপক্ষের পরিশেষে - নবনীতা শেখ
          সাপ্তাহিক ছুটি। প্রিয় ঘুম থেকে উঠেই হাতের কাজগুলো সেরে নিল। তারপর একটা লং শাওয়ার নিয়ে সাদা চুড়িদার পরল। ওড়নাটা গলায় ঝুলিয়ে চুলগুলো বিনুনি করল। এরপর প্রহরকে নিয়ে বেরোল। প্রহর ড্রাইভ করছে। পাশে প্রিয় বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। সে প্রহরকে জিজ্ঞেস করল,
-“আয়াত কখন আসবে?”

প্রহর ড্রাইভ করতে করতে বলল,
-“ওকে কলেজ রোড থেকে পিক করতে হবে।”
-“আচ্ছা, আর তোর প্রিয় অভিভাবক?”

কিঞ্চিৎ হাসল প্রহর,
-“ভাইয়া এসে যাবে সময়মতো।”

প্রিয় আর কিছু বলল না। মৃদু ভলিউমে গান ছেড়ে দিলো। বিনুনি ভেদ করে বেরিয়ে আসা চুলগুলো টুকিটাকি গুছিয়ে নিতে নিতে গাড়ির বাইরের দৃশ্যে দৃষ্টি স্থাপন করল। 

প্রিয় যখন সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতি বিলাসে মত্ত৷ এমন সময় তার ফোনে ম্যাসেজ আসে। প্রিয় ফোনস্ক্রিন অন করে নোটিফিকেশন প্যানেলে দেখতে পেল—শ্রেয়ানের ম্যাসেজ। হোয়াটসঅ্যাপে কিছু ছবি পাঠিয়েছে। প্রিয় ছবিগুলো ওপেন করল। দেখতে পেল ওদের পুরোনো মুহূর্তের কিছু ক্যাপচার। সবগুলোতেই একে-অপরের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠ অবস্থায় লেগে আছে। ছবির গল্পগুলোতে অতকিছু না হলেও, আপাতদৃষ্টিতে দেখতে গেলে লাগবে দু'জনের অন্তরঙ্গতা। একটা ছবিতে প্রিয় চোখ বন্ধ করে হাসছে আর শ্রেয়ান তার কানের নিচে, গলার কাছটায় চুমু খাচ্ছে। অন্যটাতে মিরর পিক, বেশ কাছাকাছি অবস্থায়। আরেকটাতে প্রিয় ওর গলা জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে। এরকম কিছু ছবি। 
আবার কিছু ছবিতে প্রিয় হাসছে আর শ্রেয়ান গালে হাত দিয়ে দেখছে। প্রিয় এটা সেটা বলছে, শ্রেয়ান তাতেও কেমনভাবে প্রিয়কে দেখে যাচ্ছে। এই ছবিগুলো ব্যাকক্যামেরায় তোলা। শ্রেয়ানের কোনো বন্ধু তুলেছিল হয়তো।

প্রিয়র বুকে কেমন অদ্ভুত ব্যথা হলো। এসব দিয়ে সে কী প্রমাণ করতে চাইছে? ভেতরটা কেমন তিতকুটে হয়ে এলো। তখন সে শ্রেয়ানের পাঠানো ম্যাসেজটা পড়ল। লেখা আছে,
-“আ'ম মিসিং দ্যো'জ ডেইজ, সোনা!”

প্রিয় সিটে সপাটে গা এলিয়ে দিয়ে লম্বা শ্বাস টানল। বিষয়টা প্রহর লক্ষ করে দক্ষ হাতে গাড়িটা তৎক্ষনাৎ সাইডে থামিয়ে নিয়ে প্রিয়র দিকে তাকাল,
-“আর ইউ ওকে?”

প্রিয় মাথা নাড়ায়,
-“আ'ম ওকে।”
-“লাগছে না। কোনো সমস্যা, আপু?”
-“উঁহু।”

প্রিয় যেহেতু বলতে চাইছে না, প্রহরও আর জিজ্ঞেস করল না। পানির বোতলটা নিয়ে প্রিয়র দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
-“পানি খা।”

প্রিয় বিনাবাক্যব্যয়ে পানির বোতল নিয়ে গটগট করে আধখানা শেষ করে বোতল ফিরিয়ে দিলো। প্রলম্বিত আরও একটা শ্বাস টেনে নিজেকে স্থির করল। প্রহর সামনে তাকিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো। যেন কিছুই হয়নি এমন একটা মুখের ভাব তার। গোপনে অন্য হাত দিয়ে দক্ষ হাতে কাকে যেন ম্যাসেজ করল,
-“মুড অফ হয়ে গেছে ওর।”

প্রিয় আবার ফোন হাতে নিল। শ্রেয়ানের ম্যাসেজটা পড়ে ফের লিখল,
-“এসব ছবি এখনও রেখেছ?”

সঙ্গে সঙ্গে ম্যাসেজ এলো,
-“রাখব না?”
-“না।”
-“তুমি কি ভাবছ প্রিয়শ্রী, আমি তোমায় ব্ল্যাকমেইল করব?”
-“ভাবাটা অস্বাভাবিক?”

শ্রেয়ান হাহা ইমোজি দিলো একটা। তারপর লিখল,
-“আমার করে ধরে রাখতে সর্বোচ্চটা করব।”

প্রিয় সিন করে রেখে দিলো। এর সাথে কথা বলে এখন এত সুন্দর দিনটা ঈর নষ্ট করতে ইচ্ছে করছে না। তারপর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগ ইন করল। শরতের আইডি থেকে আর ম্যাসেজ আসেনি দুদিনে। প্রিয় তার টাইমলাইনে চলে গেল। শরৎ দুদিন আগে পোস্ট করেছিল ব্রিজের ওখান থেকে চাঁদের ছবি। ঠিক চাঁদের নিচে ব্রিজে দাঁড়িয়ে আছে একটা আবছা ছায়ামূর্তি। শরৎ ক্যাপশনে লিখেছে,
-“উজ্জ্বল চাঁদের নিচে আঁধারিয়া দাঁড়িয়ে। আমি চাঁদকে দেখার অবকাশ পাচ্ছি না, আঁধারিয়াকে কি তবে আমি ব্ল্যাকহোল নাম দেবো?”

শতাধিক রিয়্যাক্ট-কমেন্ট। প্রিয় চুপটি করে কমেন্ট বক্সে ঢুকে পড়ল। একটা ছেলে কমেন্ট করেছে,
-“বড়ভাই, গোপনে বিয়ে-টিয়ে করে ফেললেননি?”

আরেকজন কমেন্ট করেছে, 
-“ভাই, আপনার ব্ল্যাকহোলকে সামনে আনেন এবার। আর কতকাল আমরা দেবরজাতি ভাবিহীনা থাকব?”

রিধিমা কমেন্ট করেছে,
-“দাদাভাই, তুমি সেরা। তলে তলে বহুদূর?”

আরও অনেকে অনেক ধরনের কমেন্ট। শরৎ রিপ্লাই দেয়নি, কেবল লাভ-রিয়্যাক্ট মেরে রেখে দিয়েছি। হঠাৎ করে নোটিফিকেশন এলো শরতের নতুন পোস্টের। প্রিয় দেখল, শরৎ একটা স্ট্যাটাস দিয়েছে। জাস্ট একটা শব্দ, “কামিনীফুল!”

শরৎ সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সে নিজে একটা কমেন্ট রেখে গেল, “কামিনীফুল থেকে আজ সুখঘ্রাণের বদলে দুঃখঘ্রাণ পাচ্ছি। তাই দুঃখ মেটাতে এক মুঠো কামিনীফুল আমি আপনাকে দিলাম..”

কখন যে প্রিয়র উদাসী ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ধরা দিলো, সে টেরও পেল না। খেয়াল করল প্রহর। অদৃশ্য এক মুচকি হাসি প্রহরের ঠোঁটেও ধরা পড়ল। পুনরায় গোপনীয়তার সাথে একজনকে ম্যাসেজ করল, “থ্যাংক্স, ভাই।”

প্রিয় বেখেয়ালি চিত্তে বাইরে চেয়ে রইল। প্রহর কলেজ রোডে এসে গেছে। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে আয়াতকে কল দিলো। আয়াত রিসিভ করতে সময় নিল। কিছু বললও না ফোন কান তুলে। প্রহর ব্যাপারটা ধরতে পেরে শুধাল,
-“সাওদাহ্?”

আয়াত চোখ বুঁজে নিল। তার পুরো নাম মেহেরিন আয়াত সাওদাহ্। দাদাজান মেহেরবিবি বলে ডাকেন। আর বাকিসবাই আয়াত। তার ‘সাওদাহ্’ নামটায় কেউ তাকে ডাকে না বলে মনের মাঝে তার ভীষণ দুঃখ। এই দুঃখ কাউকে বলতে পারে না সে। তারপর হুট করেই একদিন লক্ষ করল, প্রহর তাকে নাম ধরে ডেকেছে। প্রহর এই অবধি তাকে ৮ বার নাম ধরে ডেকেছে। এটা নবমবার। আর সে এই সাওদাহ্ নামটাতেই তাকে ডাকে। আস্তে করে ডাকসূচক জবাব নিল আয়াত,
-“হু-উম?”
-“কোথায়?”
-“বাড়িতে।”
-“আসবি না?”
-“আসব।”
-“আয়।”
-“তুই?”
-“তোর বাড়ির নিচে।”

আয়াত ত্বরিতে চোখ খোলে। প্রথমে ভেবেছিল প্রহর নিশ্চয়ই মজা করেছে, আসবে না, এমনিই বলেছে। কিন্তু? আয়াত দৌড়ে গিয়ে বারান্দায় ছুটল। প্রহরের গাড়ি দেখতে পেল। প্রহর জানালার কাঁচ নামিয়ে দিয়ে বাইরে তাকাল। এরকম জ্বলজ্বলে দৃষ্টিকে আয়াত কখনও উপেক্ষা করতে পারে না। কী যেন হলো তার। ওমনিই ফোন কানে রেখে দাঁড়িয়ে পড়ল। প্রহরের ঠোঁট কিঞ্চিৎ বায়ে প্রসারিত হলো। কল এখনও কাটেনি। কানে রাখা ফোনটির মাধ্যমে আয়াতকে বলল,
-“দু'মিনিটে না এলে তোকে রেখেই চলে যাব।”

আয়াত এতটাই সম্মোহিত হয়ে আছে যে প্রহরের কণ্ঠের রসিকতার আভাস সে পেল না। কথাটাকে ভীষণ সিরিয়াসভাবে নিয়ে বলল,
-“না না না প্লিজ, এই তো আসছি আমি। একটু ওয়েট। প্লিজ প্লিজ।”

আয়াত দৌড়ে রুমে ছুটল। প্রহর ফিক করে হেসে ফেলল। প্রিয় তখন ওর দিকে তাকাল। ওকে হাসতে দেখে জিজ্ঞেস করল,
-“কী?”

প্রহর বলল,
-“আয়াত ভেবেছে আমি আসব না।”

প্রিয় ভ্রু-কুঁচকে বলল,
-“তুই কি এর আগেও আসবি বলে আসিসনি?”
-“এক্সাক্টলি।”

প্রহর মিটিমিটি হাসছে। তারপর আবার বলা শুরু করল,
-“হিমু হুটহাট রূপাকে বলত নীলশাড়ি পরে সেজেগুজে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াতে। সে কণ্ঠ ভীষণ সিরিয়াস করে বলত, সে আসবে। সে আসত না। রূপা জানত সে আসবে না, তবুও খুব যত্ন করে সাজত। বিষয়টা আমার কাছে ভীষণ ইন্ট্রেস্টিং লাগে।”

প্রিয় চোখ রাঙিয়ে বলল,
-“আর তুই এটা আয়াতের সাথে এপ্লাই করেছিস?”

প্রহর হাসি চেপে রেখে বলে,
-“কয়েকবার। প্রথম যেদিন আমি নিজ থেকে বললাম, দেখা করব। ওর বাড়ির সামনে আসব। ও তখন কী খুশি। তারপর সাজগোজ করল। আমি ফোন অফ করে রেখে দিলাম। ফোন অন করলাম রাত ১১টার পর। আর তখনই ওর কল আসে। মেবি টানা কল দিয়েই যাচ্ছিল। খুব অভিমান করেছিল আর অনেক অভিযোগ। আমি চুপ হয়ে শুনে গেছি। এরপর আবারও এরকম করেছি, সেদিনও অভিমানে গাল ফুলিয়েছিল, অভিযোগ করেছিল। চতুর্থবার অভিমানও করেনি, অভিযোগও না। তবে সেজেছিল। সপ্তমবার থেকে বিশ্বাস করা বন্ধ করেছে। তবুও বার বার সেজেছে। সেজে অনেক অনেক ছবি তুলে আমার ইনবক্স ভর্তি করে ফেলেছে। তাই আজকে ওর ধারণা ছিল, আমি আসব না। আর আমি এসে কী দারুণভাবেই না চমকে দিলাম!”

প্রিয় দৃঢ়তা নিয়ে প্রহরকে বলল,
-“ভাই, শোন। একটা কথা বলি। যেই কাজটা তুই করেছিস, সেটা হয়তো আপাতদৃষ্টিতে দেখা গেলে ভীষণ ইন্ট্রেস্টিং একটা ব্যাপার। কিন্তু তুই মন ভেঙেছিস, একাধিকবার। যেই মেয়েটা তোকে এত ভালোবাসে, সেই মেয়েটার মন এভাবে আর ভাঙিস না।”

প্রহর প্রিয়র হাতটা ধরে বলল,
-“ওকে আমি সহস্রবার কষ্ট দেবো, তারপর জানাব সুখ কত সুন্দর। সববারই যদি সুখ দিয়ে যাই, ও এর মূল্য বুঝবে না, সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারবে না। ওর এক্সপেক্টেশন আরও বেড়ে যাবে। এক্সপেক্টেশন জিনিসটা মারাত্মক বাজে। আমি চাই না এমন কিছু হোক।”

প্রিয় এমনভাবে তাকাল যেন দারুণ কিছু শুনেছে। পুরুষ মানুষের দুটো চমৎকার ক্ষমতা আছে; প্রথমত নারীকে সম্মোহন করার, দ্বিতীয়ত তাকে কষ্ট দেওয়ার।  
আয়াত এলো তখন। আগে থেকেই তৈরি হয়ে ছিল। এসে পেছনের সিটে বসে প্রিয়কে বলল,
-“আ-রে, আপু! কেমন আছ?”
-“ভালো, তুমি?”
-“ভালো।”
-“এই প্রহরটা আমাকে জানায়নি তুমিও আসবে।”

প্রিয় প্রহরের বাহুতে মেরে বলল,
-“ওকে উঠতে বসতে মারা উচিত, আয়াত। নেহাতই তুমি ভীষণ লক্ষ্মীমন্ত একটা মেয়ে। নাহলে এই হারামিকে টলারেট করে কে?”

প্রহর কেশে উঠল। আয়াত মেকি হাসছে প্রিয়র কথা শুনে। ব্যাপারটা কী ফানি! সে আর লক্ষ্মীমন্ত? প্রিয় বিশেষণ খুঁজে পেল না আর?

রেস্টুরেন্টে পৌঁছাতে পৌঁছাতে তখন ঘড়িতে বাজে আড়াইটার এদিক-ওদিক। আয়াত জানালা ঘেঁসে চেয়ারে বসল। বিপরীতে মুখোমুখি প্রহর। আয়াতের পাশে প্রিয় বসেছে। শরৎ এলে ওকেও প্রহরের পাশে, প্রিয়র মুখোমুখি বসতে হবে। বিষয়টা ভেবে প্রিয়র কেমন অদ্ভুত অনুভূত হলো। প্রহর শরৎকে কল দিলো। রিসিভ হতেই স্পিকারে দিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-“ভাইয়া, কোথায়?”

শরতের গম্ভীর গলা পাওয়া যায়,
-“অন দ্য ওয়ে।”
-“আর কতক্ষণ লাগবে আসতে?”
-“থ্রী মিনিটস।”

গুনে গুনে তিন মিনিটের মাথায় শরৎ ভেতরে প্রবেশ করল। এদিক-ওদিক না তাকিয়ে সোজা প্রিয়দের টেবিলের দিকে হাঁটা দিলো। প্রিয় লক্ষ করল। শরতের পরনে সাদা শার্টের ওপর নেভীব্লু ব্লেজার। বাঁ হাতে ওয়াচ। চুলগুলো বেশ দারুণভাবে সেট করা। চোখে মাইনাস পাওয়ারের গ্লাস। ভাবলেশহীন মুখটায় হাসি নেই। শরৎকে দেখে প্রহর উঠে দাঁড়াল। দু'কদম এগিয়ে গিয়ে শরতের সাথে হ্যান্ডশেক করে একবার আলতো হাতে একে-অপরকে দুজন জড়িয়ে ধরল। শরৎ জিজ্ঞেস করল,
-“অ্যাম আই ঠু লেইট?”
-“নোপ..”
-“একটা মিটিংয়ে আটকে গেছিলাম অ্যাকচুয়ালি।”

এর মাঝে শরৎ একবারও প্রিয়র দিকে তাকায়নি। প্রহর নিজের জায়গায় বসে পড়লে, শরৎ সোজা এসে প্রিয়র প্রতিমুখে রাখা ফাঁকা চেয়ারটিতে বসে পড়ল। আর ঠিক তখন প্রিয়র দিকে তাকাল। প্রিয় সেই কখন থেকে শরতের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ ফেরানোর নাম নেই। শরৎ সামান্য কেশে মনোযোগ আকর্ষণ করল। 

প্রিয় থতমত খেয়ে এদিক-ওদিক তাকাল। শরৎ ওকে আরও খানিকটা অপ্রস্তুত করে দিতে বলে উঠল,
-“কেমন আছেন, ম্যাডাম? লং টাইম, নো সী..হু?”

যাহ! কী বলে এসব? কাল দিন আগেই না গোটা এক সন্ধ্যে কাটাল? গোটারাত বকবক করল। প্রিয় বিরবির করে বলল,
-“ছাই।”

শরৎ শুনতে পেল, আর জোরে-শোরেই বলে উঠল,
-“কী? ভালো নেই? ছাই আছেন?”

প্রিয়ও আওয়াজ উঁচুতে তুলে বলল,
-“না, আপনার মাথা আছি। ব্যাঙের ছাতা। ছাতার মাথা।”

প্রহর আর আয়াত ওদের দিকে অবুঝের মতো তাকিয়ে রইল। শরৎ প্রিয়র রাগকে আরও দু'ধাপ বাড়িয়ে দিতে গা কাঁপিয়ে হেসে উঠল তখন। 
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp