শুক্লপক্ষের পরিশেষে - পর্ব ৩৯ - নবনীতা শেখ - ধারাবাহিক গল্প

শুক্লপক্ষের পরিশেষে - নবনীতা শেখ
-“ডাইনিংয়ের চেয়ারের ওপর দশ বছরের অভুক্ত বাচ্চার মতো ছটিয়ে ছিটিয়ে খাবার খেতে থাকা মেয়েটার চোখে কি আমি ইনভিজিবল? একবার এসে সালামটাও দিলো না। কী অভদ্র!”

শরতের গলায় নাহারা রসিকতার আভাস পেলেন। ঠোঁট চেপে হেসে প্রস্থান ঘটালেন। প্রিয় তবুও এদিকে তাকাল না। খেতে খেতে বিরবির করল,
-“বেয়াদ্দব ব্যাটালোক!”

শরৎ ফিক করে হেসে ফেলল। প্রহর হাসি চেপে সোজা নিজের রুমে চলে গেল। শরৎ ধীরপায়ে কয়েক কদম ফেলে প্রিয়র পাশের চেয়ারটা টেনে বসে পড়ল। গ্লাসে পানি ঢালতে ঢালতে বলল,
-“এদিকে তাকান, ম্যাডাম। একটু ভালোভাবে দেখি আপনাকে।”

প্রিয়র খাবার গলায় আটকে গেল ততৎক্ষণাৎ। শরৎ পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো। প্রিয় সামান্য ঝুঁকে পানিটা হাতে নিল। গটগট করে পুরোটা খেয়ে শরতের দিকে তাকাল। দেখতে পেল, শরৎ এক ধ্যানে তার দিকে তাকিয়ে আছে। ঘুমে ফুলো চোখ-মুখ, চুলগুলো এলোমেলোভাবে হাতখোঁপা করা, সামনে কিছু চুল ছড়িয়ে আছে। পরনে হাফ হাতার ছাই রঙা টিশার্ট আর ঢিলা পালাজ্জো, গলায় স্কার্ফ। শুভ্র শরীরটা কেমন গোলাপি আভা ছড়াচ্ছে। গালদুটো লালচে হয়ে আছে। ফুলে থাকা চোখ, ঠোঁট, গাল! শরৎ চোখ ফেরাতে পারছে না। অস্ফুটস্বরে বলে উঠল,
-“প্রস্ফুটিত ফুল!”

প্রিয় শুনতে পেল না ঠিক, পালটা শুধাল,
-“হুঁ?”

কথার প্রসঙ্গটা ভারি চমৎকারভাবে শরৎ এড়িয়ে গেল আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা দ্বারা,
-“শ্রেয়ানের চ্যাপ্টার ক্লোজড?”
-“মেবি।”
-“ইয়েস অর নো?”
-“মেবি ইয়েস।”
-“সামনে থেকে মেবি রিমুভ করুন।”
-“ক্লোজড।”

শরৎ প্রশস্ত হাসল,
-“এবার কী সিদ্ধান্ত?”

চামচে খাবার তুলতে তুলতে প্রিয় বলল,
-“মা বিয়ের কথা তুলেছে, সেটাই ভাবছি।”
-“পজিটিভ কিছু?”
-“হুঁ।”

শরৎ আর কিছু বলল না। প্রিয়-ও খাওয়া শেষে নিজের রুমে চলে যায়। নাহারা এরপর অনেকটা সময় নিয়ে শ্রেয়ানের ব্যাপারে বিভিন্ন কথা-বার্তা বললেন শরতের সাথে। শরৎ নাহারাকে নিশ্চিত করল, সে সবটা দেখে নেবে। ছেলেটার নিশ্চিতকরণ গুটি কয়েক বাক্যেই নাহারার মন থেকে সকল দুঃশ্চিন্তা দূর হলো। 
প্রিয় আর ঘর থেকে বের হয়নি। শরৎও নাহারাকে আরও ক'বার আশ্বস্ত করে চলে গেল। 

—————

এরপরের মাসেই বাড়িতে প্রবেশ হলো মনোহরা শিকদার, সানোয়ার শিকদার, শাহানাজ, নীহিন, নিশান ও শরৎ এর। প্রিয়র সকালে একটা জব ইন্টারভিউ ছিল। বাড়ি ফিরতে ফিরতে দুপুর তখন। দরজা খুলল মেইড। ক্লান্ত শরীরে ভেতরে বাড়িতে প্রবেশ করে বসার ঘরে নসিরুদ্দীন সাহেবের পাশে বসে খোশমেজাজে গল্প করতে থাকা সানোয়ার সাহেবকে দেখে প্রিয় কিঞ্চিৎ অবাক হলো। আচমকা তার দিকে সানোয়ার সাহেব তাকাতেই তড়িঘড়ি করে সম্বোধনসহ সালাম দিয়ে উঠল। সানোয়ার সাহেব মুচকি হেসে বললেন,
-“ওয়া আলাইকুমুস সালাম, আম্মু। কেমন আছ?”
-“আলহামদুলিল্লাহ, আপনি?”
-“আলহামদুলিল্লাহ।”
-“আঙ্কেল, কখন এলেন?”
-“এই তো, ঘন্টা ২-৩ হয়েছে। তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো। তারপর কথা হবে।”

ব্যাপারটা বুঝতে না পেরেও প্রিয় মাথা নেড়ে ইতিবাচকতা প্রকাশ করল। এরপরই তাকাল ডানদিকের কিচেন বরাবর জায়গাটিতে। নাহারার সাথে হেসে হেসে গল্প করছেন এবং রান্না করছেন শাহানাজ। প্রিয় আরেকটু অবাক হলো। এগিয়ে যেতেই শাহানাজ মুচকি হেসে বললেন,
-“আ-রে! এসে গেছ, আম্মু?”
-“জি। ভালো আছেন, আন্টি?”
-“হ্যাঁ। তুমি?”
-“ভালো।”

প্রিয় আঁড়চোখে ওর মায়ের দিকে তাকাতেই নাহারা চোখের ইশারায় শান্ত থাকতে বলল। প্রিয় শান্ত রইল। জিজ্ঞেস করল, কে কে এসেছেন। নাহারা প্রশ্নের উত্তর দিতেই প্রিয় নাহারার রুমে গিয়ে মনোহরার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলল। এরপর নিজের রুমে গিয়ে নীহিনকে একা একা বসে বসে ফোন টিপতে দেখেই বলল,
-“ফ্রেশ হয়ে আসি, পাঁচ মিনিট। তুমি রেডি হতে থাকো আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে।”

ফিক করে হেসে বলে নীহিন,
-“আচ্ছা, প্রিয়দি।”

প্রিয় ফ্রেশ হয়ে এসে টাওয়াল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে আরেক হাতে নীহিনের হাত ধরে নিয়ে বিছানায় বসাল, এরপর নিজে বসল পাশে। উত্তেজিত চিত্তে শুধাল,
-“কাহিনি কী, কখন এসেছ? হঠাৎ?”

নীহিন কোমল গলায় বলে,
-“গতকাল আমি, মা আর ছোটদাভাই এসে দাদাভাইয়ের এপার্টমেন্টে উঠেছি। প্ল্যানিং এক মাস আগে থেকে ছিল। পরে আজ বাবা আর দিদা সকালে এসেছে দাদাভাইয়ের বাসায়। ওখান থেকে গোছগাছ করে ১১টার দিকে আমরা এখানে এসেছি। এসে দেখলাম তুমি নেই, তাই অপেক্ষা করছি। দাদাভাইয়েরা প্রহর ভাইয়ার রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছে।”

প্রিয় নীহিনের হাত শক্ত করে চেপে ধরল,
-“উদ্দেশ্য কী আসার?”

নীহিন সরু চোখে তাকায়,
-“জানো না?”
-“কী?”
-“তোমার বিয়ের কথা চলছে।”

প্রিয় কিঞ্চিৎ ভড়কাল। অস্বাভাবিক বিষয় তো নয়। পরমুহূর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে নিশ্চিতকরণ প্রশ্ন বলল,
-“তোমার দাদাভাইয়ের সাথে?”

নীহিন ঠোঁট উলটে বলল,
-“তা নয় তো আর কার সাথে?”

প্রিয় গা ছেড়ে বসে রইল। থমথমে আওয়াজে জিজ্ঞেস করে,
-“ফ্যামিলি জানে কবে থেকে?”

নীহিন ভ্রু কোঁচকালো, সেভাবেই বলল,
-“ফ্যামিলিই তো এরেঞ্জ করল। মা রিধিমাদির মায়ের সাথে তোমার ব্যাপারে অনেক আগেই কথা বলে রেখেছিল। সেভাবে এগোয়নি বিষয়টা। এরপর সেবার তোমরা এলে না বাড়িতে? রিধিমাদির বিয়ের আগেই নাহারা আন্টিকে দিদা সরাসরি প্রপোজাল দেন। আন্টি তখনই রাজি হয়ে যান। কিন্তু তুমি নাকি তখন বিয়ে করতে চাইতে না, তাই আর জানানো হয়নি। এর আগেও দিদা একবার পাকা কথা বলতে তোমাদের বাড়িতে আসতে চেয়েছিলেন। দাদাভাই জানাল, কী একটা নাকি ঝামেলা হয়েছে এ বাড়িতে, তাই আর আসা হয়নি।”

প্রিয় থেমে থেমে বলল,
-“ওয়াও! নাইস!”

প্রিয়র বলার ভঙ্গিমায় নীহিন হেসে ফেলল। প্রিয় ওর দিকে তাকিয়ে শুধাল,
-“তারমানে সব পারিবারিক? তোমার দাদাভাইয়ের দিক থেকে কচুটিও নেই?”
-“আছে না! অবশ্যই আছে। নয়তো প্রিয়দির সোশ্যাল একাউন্টের বায়োতে 'কামিনী ফুল' লেখা আর দাদাভাইয়ের কভারে একগুচ্ছ কামিনী ফুলের ছবি কেন থাকবে?”

প্রিয় কেশে উঠল,
-“অতদিকে নজর কেন যায়? হু?”

নীহিন হেসে প্রিয়র হাত ধরে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
-“ও রুমে সব ছেলে। আমার একা যেতে লজ্জা লাগছিল। চলো যাই।”

প্রিয় ‘লজ্জা লাগা’ বলতে নীহিনের জন্য প্রহরের উপস্থিতি ছাড়া কিছুই পেল না। নীহিনের টানতে থাকা হাতটা ধরে থামিয়ে ফেলল প্রিয়। নীহিন পিছে তাকাতেই সে মলিন গলায় আবৃত্তি করে উঠল,

-“যারে তুমি পাবে না, 
তার তরেতে মন হারিয়ো না।
তারে তুমি পাবে না, যারে পাওয়ার অভিপ্রায়ে
দুনিয়া হারিয়ে ফেলতে পারো একটি পলকেই...
তারে পাবে না, 
যারে পেতে বরণ করেছ কষ্ট-যন্ত্রণা-ব্যথা-বিষ আমরণ!
একজীবন, একমরন—কেবল একজনাকেই দাও।
যেজন তোমার জন্য যোজন মুগ্ধ-চোখে ঘুরবে সা-রা-টা জীবন।”

নীহিন থমকে গেল। ব্যথাটা কোথায় লেগেছ, তার বহিঃপ্রকাশ সে ঘটাল না। একরাশ মুগ্ধ গলায় বরঞ্চ বলল,
-“ও-মা প্রিয়দি! কী সুন্দর আবৃত্তি জানো গো!”

প্রিয় তাকিয়ে রইল। নীহিন মুচকি হেসে বলল,
-“টের পেয়েছিলে কিছু, প্রিয়দি?”

প্রিয় ইতিবাচক ভঙ্গিমায় মাথা নাড়লে নীহিন বলে,
-“আর ছোট্টটি নেই। কাকিমণি বলেছে বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। ক'টা বছর পর নিজের সংসার হবে, বাচ্চা-কাচ্চা সামলাতে হবে। এখনও কি বাচ্চাদের মতো কোনো কিছুর প্রতি জেদ দেখিয়ে চাইতে পারব নাকি? টেনশন নিয়ো না। কিচ্ছু চাই না আমার।”

প্রিয় নীহিনের বাহুতে হাত রাখে। ব্যথাটা সে নিজে অনুভব করতে পারে। খুব করে পারে। সে এখন বুঝতে পারছে নীহিনের কলিজাটা ছিঁড়ে যাচ্ছে। অথচ মেয়েটা কী সুন্দর হাসছে! প্রকাশ করছে না কিছুই! এমন শক্ত মেয়েও হয়? নীহিনকে প্রিয় খুব নাজুক মনে করেছিল। নীহিন নিজেকে দেখিয়ে দিলো। হেসে হেসে বলল, 
-“চলো যাই।”

প্রিয় আর নীহিন মিলে প্রহরের রুমে যেতেই, নিশান লাফিয়ে এদিকে চলে এলো। প্রিয়র পাশে দাঁড়িয়ে শরৎকে বলল,
-“ব্রো, কেমন মানাচ্ছে?”

শরৎ আইব্রো উঁচিয়ে বলল,
-“জোস! তবে পাশেরটা বেশি জোস!”

নিশান হেহে করে হেসে বলল,
-“দেখতে হবে না কার ভাবি?”

প্রিয় গিয়ে সোজা শরতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়ল। শরৎ শুধাল,
-“কী?”
-“কথা আছে, উঠুন।”

পাশ থেকে নিশান আর নীহিন ঠোঁট চেপে হাসতে লাগল। প্রহর এদিকে একবারও তাকাচ্ছে না। ফোনে ডুবে আছে। একফাঁকে কানে হেডফোনও লাগিয়ে ফেলল। শরৎ না উঠলে প্রিয় ওর হাত ধরে টেনে ওঠায়। নিশান বলে,
-“আরে ভাবি, করছেন কী? ওটাকে তো আজীবনের জন্য বুকড করে দেবো। এখন আমাদেরও সুযোগ দিন।”

প্রিয় নিশানকে বলল,
-“কচু দেবো তোমায়। এই চুল এত বড়ো করেছ কেন? কী বিশ্রী দেখাচ্ছে! কালই কাটবে। এরপর সামনে আসবে।”
-“আরেহ, কিউটিপাই! সেদিন না ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার দিলে বড়ো চুলওয়ালা ছেলেদের তোমার পছন্দ? তাই তো আমি আর দাদাভাই মিলে চুল বড়ো করার মিশনে নেমেছি। এদিকে খেয়াল দিলে, ওদিকে দিলে না? তবে কি ধরে নেব, ভাবি? হু হু?”

নিশানের শেষ কথাগুলোর রসিকতা মাত্রাতিরিক্ত। প্রিয় মুখ গম্ভীর করে বলল,
-“ঢং করবে না, তোমাকে মোটেও সুন্দর লাগে না ঢং করলে। পুরো জংলী দেখাচ্ছে বড়ো চুলে, বুঝেছ? তোমাকেও, তোমার দাদাভাইকেও।”

নিশানের কিছু বলার আগেই প্রিয় শরৎকে বলে উঠল,
-“এই যে, নিশান-নীহিনের দাদাভাই, আপনি কি আমার সাথে আসবেন? নাকি এখানেই কথা কন্টিনিউ করব? বুঝবেন কিন্তু ব্যাপারটা। আমি যে-কোনো কথাই বলতে পারি এখানে।”

নিশান বলল,
-“অভিয়েসলি ভাবি, এখানেই বলো।”

শরৎ কেশে উঠল,
-“না, প্রিয়। চলুন আমরা অন্য জায়গায় যাই।”

উঠে দাঁড়াল শরৎ। নিশান আর কিছু বলতে গেলে শরৎ কড়া চাহনি দিয়ে ওর দিকে তাকায়, কাঠখোট্টা আওয়াজে বলে,
-“প্রাইভেসি দে, ব্যাটা। নইলে তোর বেলায় আমাদের বাচ্চাকে তোর আর তোর বউয়ের মাঝে রেখে আমি আর আমার বউ মিলে চিল করব।”

ভয় পেল নিশান,
-“নাহ, তোমরা যাও। হ্যাভ অ্যা জোস প্রাইভেট মিটিং।”

—————

শরৎ আর প্রিয় মুখোমুখি প্রিয়র বারান্দায় বসে আছে। শরৎ বাম হাতের ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকাল। বিগত ১৩ মিনিট ধরে তারা এখানে বসে আছে, আর প্রিয় ১১ মিনিট ধরে নিষ্পলক তার দিকে তাকিয়ে আছে। অধর বাঁকিয়ে সামান্য হাসল শরৎ,
-“কী, ম্যাডাম? কিছু বলবেন নাকি শুধু দেখবেন? অপশন টু চ্যুজ করলে আমিও সেভাবে দেখানোর জন্য প্রস্তুত হব।”

প্রিয় নির্বিকারত্ব নিয়ে বলল,
-“আপনি বিয়ে করবেন, নীরজ ভাই?”
-“কাকে?”
-“আমাকে।”
-“মনে তো তাই হয়।”

প্রিয়র গলার আওয়াজ আরও কঠিন হয়ে এলো,
-“মজা করছি না।”

এ পর্যায়ে শরৎ প্রিয়র চোখে চোখ রেখে নির্বিকার মুখে বলল,
-“আপনাকে বিয়ে করতে চাই, প্রিয়। আপনি রাজি?”

প্রিয়র বুকের ভেতরে কোথাও একটা কিছু হলো, সে টের পেল, অথচ কিছু বলতে পারল না। শরৎ নিজেও আর কিছু বলল না। ঘড়ির কাটায় আরও ৫টা মিনিট এগোতেই প্রিয় বলে উঠল,
-“আমার সময় চাই।”
-“বিয়ের পর এনাফ সময় দেবো।”
-“একাকিত্ব চাই।”
-“শত চাওয়াতেও তা দিতে পারব না।”
-“কেন?”
-“আপনাকে এক মুহূর্তের জন্যও একা রাখা সম্ভব নয় আর। আমি প্রোফেশনাল লাইফে কনসেন্ট্রেট করতে পারি না। মনে হয়, আমার একাংশ এখানে, বাকি অংশ কোথায় একটা পড়ে আছে।”

প্রিয় বড়ো করে শ্বাস টানল,
-“আমি এখন বিয়ে করতে চাই না।”
-“কারণ?”
-“সেটেল হতে চাই। জব হোক।”
-“এরপর বিয়ে?”
-“এরপর আরও ছয় মাস চাই নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। তারপর।”
-“এখন করতে সমস্যা কী?”
-“সমস্যা না, মন টানছে না। আমি চাইছি না মনের বিরুদ্ধে গিয়ে জীবনের এত গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত আমি নিই।”

শরৎ এখানে থামল। তারপর বলল,
-“আমাকে বিয়ে করতে কোনো আপত্তি?”

প্রিয় বিনাবাক্যব্যয়ে বলল,
-“না। নিঃসন্দেহে আপনার চেয়ে যোগ্য কাউকে আমি পাব না। তবে আমি চাই, এই কয়মাস আপনি আমার সাথে কোনো রকমের যোগাযোগ রাখবেন না। কেউ-কাউকে দেখব না, শুনব না—অনুভূতিটা কি গাঢ় হয় নাকি মুছে যায়, এটা আমার দেখার আছে।”

শরৎ কিঞ্চিৎ হাসল,
-“ঠিক আছে। তাই হবে। তবে এর আগে বিয়ে পড়ানো হবে আজ, এই মুহূর্তে। আনুষ্ঠানিকতা পরে হবে। তৈরি হয়ে নিন মিসেস নীরজ শিকদার হতে।”

প্রিয় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। শরৎও দাঁড়াল। দু-হাত দূরত্ব মাঝে রেখে বলল,
-“এসেছিলাম পাকাকথা বলতে। আপনাকে দেখে বিয়ে করার ইচ্ছে জেগে উঠল। আপনি বহুত শেয়ানা, প্রিয়। কখন বেঁকে বসবেন, বুঝতে পারব না। এদিকে আপনাকে পাওয়ার অনিশ্চয়তা নিয়ে আমি আর একটি মুহূর্তও কাটাতে পারব না। দোষটা কি আমার? নাকি আপনার? যে আমাকে প্রতিটি ক্ষণে হারানোর ভয় দেখায়!”

প্রিয় অস্ফুটে বলল,
-“নীরজ ভাই!”

শরৎ তৎক্ষনাৎ থামাল ওকে,
-“শশশ্! আপনি যদি বলতেন আমি অযোগ্য, তবুও বিয়েটা আমাকেই করতে হতো। সবাই যোগ্য কাউকে পায় না, আপনিও পেতেন না। যেহেতু আমাকে পছন্দ আপনার, কবুল বলার জন্য তৈরি হন, প্রিয় সুখ।”
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp