সপ্তাহ খানেক যেতে না যেতেই একদিন হুট করেই ফেরার পথে মুখোমুখি হলো শ্রেয়ান ও প্রিয়। প্রিয় বাস স্টপেজে বসে ছিল। শ্রেয়ান ওকে বসে থাকতে দেখে গাড়ি থামিয়ে সোজা সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল। প্রিয়র মুখের ওপর কোলাহলপূর্ণ শহরটির গাড়িগুলোর হেডলাইটের আলো আর পড়ছে না। সচকিত হয়ে সামনে তাকাল প্রিয়। কালো ক্যাজুয়াল শার্ট পরে সামনে দাঁড়িয়ে আছে শ্রেয়ান। চেহারায় গাম্ভীর্য। প্রিয়র তাকানোর সাথে সাথে শ্রেয়ান সামান্য হাসল। বলল,
-“এখানে কী করছ?”
প্রিয় স্বাভাবিক হলো দুটো শ্বাস টেনে,
-“বাসের অপেক্ষা।”
-“চলো, বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসি।”
প্রিয় এমনভাবে তাকাল যেন শেয়াল নিজে থেকে মুরগীর বর্গা নিতে চাইছে। ভেতর থেকে হাসি এলো। প্রিয় হেসে ফেলে বলল,
-“আর তুমি ভাবছ, আমি তোমার সাথে যাব?”
শ্রেয়ান প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে টানটান হয়ে দাঁড়াল। প্রিয়র চোখে চোখ রেখে বলল,
-“তুমি আর আমাকে চাও না, প্রিয়শ্রী.. তাই-না?”
প্রশস্ত হেসে প্রিয় বুকে হাত বেঁধে বলল,
-“নিঃসন্দেহে।”
শ্রেয়ান মাথা নুইয়ে হেসে ফেলল,
-“ঠিক আছে।”
প্রিয়র বুকে বেঁধে রাখা হাতদুটোর মাঝে বাঁ হাতের আঙুলগুলো ডানপাশের বাহু ধরে আছে। আর ঠিক অনামিকাতে একটি গোল্ডের রিং জ্বলজ্বল করছে। শ্রেয়ানের দৃষ্টি সেখানে পড়তেই কপাল কুঁচকে গেল। একবার প্রিয়র দিকে তাকাল, আরেকবার হাতের দিকে। অবিশ্বাস্য সে দৃষ্টি। একটা অবিবাহিত মেয়ের হাতের অনামিকাতে স্বর্ণের আংটি কখনোই দেখা যায় না।
প্রিয় শ্রেয়ানের সেই দৃষ্টিতে নির্বিকার তাকিয়ে রইল। শ্রেয়ান হতভম্ব হয়ে ডাকল,
-“প্রিয়শ্রী?”
প্রিয় একই ভঙ্গিতে তাকিয়ে রইল, জবাবে বলল না একটি শব্দও। প্রিয়র নির্লিপ্ততায় শ্রেয়ানের কম্পনরত আওয়াজটা পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম প্রশ্নটাও করে ফেলল,
-“আমি কি তোমায় হারালাম?”
—————
সমগ্র রুম পিনপতন নিঃস্তব্ধতায় ছেয়ে আছে। ঝড়ের পর প্রকৃতি যেমন শান্ত হয়ে যায় না? ওমন। ড্রেসিং মিররের গ্লাস ভেঙে ফ্লোরে পড়ে আছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অন্যান্য সামগ্রী। একপাশে ফ্লোরে হাত-পা ছিটিয়ে চুপ হয়ে বসে আছে শ্রেয়ান। প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হচ্ছে তার। নিঃশ্বাসের ঘনত্ব বাড়ছে। চোখ দুটো লাল হয়ে আছে, জ্বলছে।
শেষ মুহুর্তে প্রিয় উত্তরে বলেছিল,
-“যেই মুহূর্তে আমি টের পেয়েছিলাম, আমি তোমার অবসরের প্রয়োজন মাত্র। মন থেকে উঠে গেছিলে, আমায় হারিয়ে ফেলেছিলে। আর এখন সর্বোপরিভাবে।”
নিশ্চিত হওয়ার জন্য শ্রেয়ান আবারও বলেছিল,
-“এখন এটা বোলো না, বিয়ে করে নিয়েছ। প্লিজ।”
প্রিয়র দৃঢ় আওয়াজ,
-“করে নিয়েছি বিয়ে।”
শ্রেয়ান আর ওসব ভাবতে পারছে না। মাথাটা ছিঁড়ে যাচ্ছে। দু-হাতে চুলগুলো টেনে ধরল। প্রিয় তার না, সে মেনে নিতে পারবে। তবে প্রিয় অন্য কারো, এটা কীভাবে মানে সে? পারছে না তো। পুরো পৃথিবী ভেঙে ফেলতে মন চাইছে। সে স্বীকার করে, কখনও প্রিয়কে ভালোবাসেনি। কিন্তু প্রিয় নিজে একটা খেলার বস্তুর ন্যায় আচরণ করে শ্রেয়ানকে কতগুলো বছর কর্তৃত্ব দিয়েছিল, সেটা শ্রেয়ান ভুলতে পারে না।
তার খারাপ লাগছে, অসহ্য লাগছে, দমবন্ধ হয়ে আসছে। আর ঠিক সেই মুহূর্তে সে অনুভব করে, সে প্রিয়কে ভালোবাসে। বিশ্রী বিশ্রী বিশ্রী! হারানোর পরই কেন প্রাপ্তির উপলব্ধি হলো? কী অসহ্য! যন্ত্রণার সর্বোচ্চ সীমানায় গিয়ে তখন তার মুঠোফোনটা বেজে উঠল। শ্রেয়ান ফ্লোরে স্ক্রিন ভেঙে পড়ে থাকা ফোনটার দিকে তাকাল। ভাঙা স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে একটা লেখা,
-“মিস্টার রহমান।”
শ্রেয়ান কল রিসিভ করে স্পিকারে দিয়ে সামনে ধরল। ওপাশ থেকে গম্ভীর আওয়াজ এলো,
-“সন্ধ্যের মধ্যে আমার অফিসে তোমার থাকার কথা ছিল। তুমি কোথায়?”
শ্রেয়ান থেমে থেমে বলল,
-“ধানমন্ডি।”
-“ফেরোনি?”
-“না, বাবা।”
-“কবে ফিরবে?”
-“কবে ফিরব?”
শ্রেয়ানের পালটা প্রশ্ন দেখে আনোয়ার সাহেব বললেন,
-“কাল ফেরো।”
-“আচ্ছা।”
-“সত্যি কথা শুনতে চাই একটা।”
-“বলুন, বাবা।”
আনোয়ার সাহেব জিজ্ঞেস করলেন,
-“তুমি কি ওখানে প্রিয়কে ফের ডিস্টার্ব করতে গিয়েছ?”
শ্রেয়ান চোখ বন্ধ করে ফেলল। শক্ত আওয়াজে বলল,
-“হুম।”
-“তোমাকে বারণ করে..”
আনোয়ার সাহেবের কথা শেষ করতে দিলো না শ্রেয়ান। বলে উঠল,
-“বাবা, মেয়ে দেখুন। আমি বিয়ে করতে চাই।”
—————
শ্রেয়ান বিয়ে করতে চাইলেও, বিয়ের দিকে এগোতে পারেনি। হাজার মেয়ে দেখল, কারোর ওপরই ফিলিংস কাজ করে না। সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য হয় না আর, নেশা চড়ে না কোনো কিছুতেই। মেয়েদের থেকেও আস্তে-আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে। এভাবে মাস তিন-চার গেলে, এক বিকেলে সে তার ধানমন্ডির অ্যাপার্টমেন্টে এসে গা ছেড়ে শুয়ে পড়ে।
পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট, কুড়ি মিনিট ওভাবেই পড়ে থেকে নতুন সিম দিয়ে কুহককে কল লাগায় শ্রেয়ান। কুহক অফিস আওয়ার শেষে একটা ক্যাফেতে বসে রেস্ট নিচ্ছিল, নিজেকে টাইম দিচ্ছিল। এমন সময় ফোনে কল আসায় সচরাচর সে রিসিভ করে না। তবে আজ কেন যেন মুডটা একটু বেশিই ভালো। করে ফেলল কল রিসিভ। ফোন কানে তুলে কিছু বলল না, অপর পাশের ব্যক্তির থেকে প্রথম কনভারসেশন শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে সে। শ্রেয়ান অনেকটা সময় চুপ রইল। শ্বাস ফেলতে লাগল ধীরে-সুস্থে। তারপর একসময় গিয়ে ডেকে উঠল,
-“কুহক?”
কুহক মুচকি হাসল তৎক্ষণাৎ,
-“বলো, শ্রেয়ান। হঠাৎ কল দিলে যে?”
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে শ্রেয়ান বলল,
-“এমনিই। কেমন আছ?”
-“বিন্দাস।”
-“আমাকে জিজ্ঞেস করবে না?”
কুহক চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে বলল,
-“যখন কোনো ব্যক্তি, কাউকে শুধু শুধু কল দিয়ে পাঁচ মিনিট চুপ হয়ে থাকে আর এরপর কেবল জিজ্ঞেস করে—কেমন আছ। দ্যাট মিনস, সে নিজে ভালো নেই।”
শ্রেয়ান মলিন হেসে বলল,
-“তুমি খুব বুদ্ধিমতী, জ্ঞানী। আমাকে কিছু উপদেশ দেবে?”
মিহি হেসে কুহক বলল,
-“জীবনের সবক্ষেত্রে এই জ্ঞানটা কাজে লাগে না, শ্রেয়ান। কিছু ক্ষেত্রে আমাদের থেমে যেতে হয়। তুমি যেই উপদেশ চাইছ, আমি সেক্ষেত্রে হেরে বসে আছি।”
-“কাকে ভালোবাসতে তুমি? বাই এনি চান্স, আমাকে?”
শব্দ করে হেসে ফেলল কুহক,
-“আমাদের মধ্যে যা ছিল, তাকে কোনোভাবেই ভালোবাসা বলা যায় না। তুমি বরং আয়োজন করে তাকে ‘মিউচুয়াল রিলেশনশিপ’ বলতে পারো।”
শ্রেয়ান বরাবরের মতো আবার বলল,
-“একটা মেয়ে হয়ে কীভাবে এসব কথা বলতে পারো, আমি বুঝি না।”
-“আমি নম্র-ভদ্র হয়েও দেখেছি, সে আমায় চায়নি।”
-“কে?”
-“ঢাকায় আছ?”
-“হ্যাঁ।”
-“লোকেশন পাঠিয়ে দিচ্ছি, চলে এসো।”
—————
শ্রেয়ান আর কুহক, মুখোমুখি দু'জন বসে আছে। কুহক কফির কাপে চুমুক দিয়ে বলল,
-“কী খবর, শ্রেয়ান?”
-“যেটা শোনাতে ডেকেছ, তা বলো!”
হো হো করে হেসে ওঠে কুহক,
-“বাব্বাহ! এক ডাকে ছুটে এলে? এত আগ্রহ! রিজন কী, মশাই?”
সুদীর্ঘ শ্বাস টেনে শ্রেয়ান বলল,
-“আমার গাট ফিলিংস আমাকে জানাচ্ছিল, তোমার সাথে কথা বললে সলিউশন পাব।”
কুহকের বাঁকানো হাসিটার মানে শ্রেয়ান বুঝল না। কুহক বলল,
-“শরৎ, আই মিন প্রিয়র হাজব্যান্ড। ওকে আমি পছন্দ করি। আচ্ছা পছন্দ না, ভালোবাসি। ওর থেকে সেই অনুভূতি আমি পাইনি। ওর ভাষ্যমতে, প্রেম নাকি যন্ত্রণা ছাড়া কিছুই দেয় না। আমি বহু চেষ্টা চালিয়েও যখন পেলাম না, তখন ভাবলাম ওর মন জিতি। সেজন্য ওর আশে-পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ও যখন প্রিয়র ফাইল ঘাটছিল, তোমার ডিটেইলস নিয়ে এলো, আমি গিয়ে ওর থেকে ঘটনার বিবরণ পাই। আমি নিজ থেকে অফার করি, ওকে সাহায্য করার। আমি চাইলাম, তোমাকে প্রেমে ফেলতে। আর তারপর মন ভেঙে চলে যেতে। মন ভাঙার কষ্টটা উপলব্ধি করাতে চেয়েছিলাম তোমাকে। এরপর তোমার সাথে দেখা হওয়া, সম্পর্কে জড়ানো, সবটাই আমার ধোঁকা ছিল। আমি তোমার মন ভাঙতে গিয়ে লক্ষ করলাম তুমি হৃদয়হীনা। ততদিনে আমি প্রিয়র প্রতি শরতের ফিলিংস টের পাই।
আমি নিজের প্ল্যান চেঞ্জ করে ফেললাম। আমি তোমাকে শুধু মন ভাঙার কষ্টটা রিয়ালাইজ করাতে নয়, চেয়েছিলাম প্রিয়র কাছে ফিরিয়ে দিতে। ভেবেছিলাম, তুমি হয়তো আমার অবহেলার মাধ্যমে প্রিয়র ভালোবাসার গভীরতা টের পাবে। ওর কাছে ফিরে যাবে। এরপর হয়তো আমিও শরৎকে পেতাম। আর বোকা ছেলে তুমি, তুমি তাও হেরে গেলে! তোমার মানুষকে অন্য একজন নিয়ে গেল। আমার মানুষটা অন্যের হলো।”
শ্রেয়ান অন্যদিকে তাকিয়ে রইল। কুহক হেসে ফেলে বলল,
-“চেষ্টা তুমিও করেছিলে, আমিও করেছিলাম। তবুও পাইনি। এর মানে বুঝতে হবে, ওরা আমাদের জন্য ঠিক ছিল না। আমি তোমার থেকে সরে এসে পুরোপুরি নিজের ক্যারিয়ারে ফোকাস করেছি। বাবা-মা বিয়ের জন্য প্রেশার দিচ্ছে। বাট ম্যারিটাল লাইফ আমার জন্য নয়। দেখি, কপালে লেখা থাকলে করে নেব বিয়ে।”
দ্বিধায় পড়ে শ্রেয়ান শুধাল,
-“আমার কী করা উচিত?”
-“আমি বলে দেবো?”
-“হু।”
-“জীবনকে একটা নদী ভাবো, স্রোতের ধারা অনুযায়ী যেভাবে চলছে চলতে দাও। বিপরীতে যাওয়া সম্ভব নয়।”
শ্রেয়ান নির্নিমেষ তাকিয়ে রইল। তারপর বলল,
-“ঠিক আছে।”
কুহক উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
-“আজ আসি। আবার দেখা হবে।”
-“আচ্ছা।”
কুহক ব্যাগটা উঠিয়ে হাতে নিয়ে চলে যেতে গিয়েও আরেকবার শ্রেয়ানের দিকে ফিরে এলো। তার সচরাচর স্বভাবটা সাইডে রেখে মিষ্টিমুখে বলল,
-“শ্রেয়ান, তোমার চোখ আজ কেবল আমার চোখেই স্থির ছিল। তোমার নারী দেহের লোভ নেই আর। সম্ভবত আর কোনো ধরনের নেশা-টেশাতেও নেই। চেহারাটা অ্যাট্রাক্টিভ ছিল, এখন ম্যাচিওর লাগে। ব্যাপারটা ইপ্রেমসিভ। আই অ্যাপ্রিশিয়েট ইট। নিজের ব্যক্তিত্বকে এত সুন্দর করার বিপরীতে তুমি পেলে শূন্যতা। লাভ নেই শ্রেয়ান, যখন এই বদলে যাওয়াটা প্রয়োজন ছিল তখন তুমি বদলাওনি। এখন তাকে পাবে না। আই উইশ, তোমাকে এরপর যে পাবে, সে এই বর্তমানের তুমির মাঝে অতীতের ছায়া যেন দেখতে না পায়। এই তুমিটা ভীষণ সুন্দর।”
কুহক চলে গেলেও শ্রেয়ান সেখানে বসে রইল পুরো এক সন্ধ্যে। লাস্টের কথাগুলো মনে আঁচড় কাটল। কুহক তাকে অনেক ধরনের শিক্ষা দিয়েছে, তার মধ্যে শেষেরটা তার মারাত্মক পছন্দ হলো। সে অতীত থেকে দূরত্ব বাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টায় আরও একবার নিজের মানুষ খোঁজার অভিলাষে মেতে উঠল। নিজের চিকিৎসা করাল। এবার আর পছন্দ-অপছন্দের ধার ধারল না। তাকে যেই মেয়েটা পছন্দ করল, সেই মেয়েটাকেই বিয়ে করে নিল। আর ঠিক বিয়ের ক'দিন পরই মস্তিষ্কে যখন প্রিয় নামক পোকাটা কিলবিল করতে লাগল, সে প্রিয়কে ম্যাসেজ করে নিজের বউয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় তিনটে ছবি পাঠিয়ে দিলো। পুরোনো প্রেম, অত্যাধিক ভালোবাসার মানুষটার বুকে যখন আরেকটি নারীকে প্রিয় দেখবে, তখন সে কষ্ট পাবে। কেন যেন সেই কষ্টটা শ্রেয়ান উপভোগ করতে চাইলো।
—————
অতীতের গল্পটা অবশ্যই সুন্দর ছিল, ততখানি ভয়ঙ্করও ছিল। প্রিয় দীর্ঘশ্বাস ফেলতে লাগে বার বার। আজ অফিসে সে ভীষণ অমনোযোগী। এজন্য বসের কাছে একটু কথাও শুনতে হয়েছে। প্রিয় হাফ টাইমে লিভ নিয়ে নিল। অফিস থেকে বের হয়ে সে শরৎকে কল লাগাল। শরৎ সঙ্গে সঙ্গে কল রিসিভ করে বলল,
-“হ্যাঁ বলুন।”
-“কিছু না।”
ফিক করে হেসে ফেলে শরৎ শুধাল,
-“কিছু না?”
-“নাহ, কিছু না।”
-“কল দিলেন যে?”
-“এমনি।”
-“এমনিই?”
-“হুঁ। আমার ইচ্ছে।”
শরৎ খুব করে অনুভব করল তার সুখের আজ মন খারাপের। সে দ্রুত হাতে কাজ গোছাতে গোছাতে বলল,
-“অফিসে আছেন?”
প্রিয় হাঁটছে। পায়ের গতি স্বাভাবিক রেখেই বলল,
-“লিভ নিলাম।”
-“গুড। উলটো দিকের ক্যাফেতে বসে কফি খেতে থাকুন, আমি আসছি।”
প্রিয় ক্যাফেতে গিয়ে বসল। এর ঠিক আধ ঘন্টার মাথায় শরৎ এসে পড়ল। প্রিয় বিল দিয়ে বাইরে গিয়ে দাঁড়াতেই শরৎ এগিয়ে এলো। একহাত বাড়িয়ে প্রিয়র হাত ছুঁয়ে নিজের কাছে এনে বলল,
-“সুখ, চলুন আপনার মনের অসুখ সব দূর করি...”
·
·
·
চলবে……………………………………………………