শব্দর ও নাভেদ ক্ষেতের আইল ধরে হাঁটছে সামনের দিকে৷ হঠাৎ নাভেদ ভঙ্গুর কণ্ঠে বলে, ‘আমার উপস্থিতি কি আপনার পরিবারের কারো কাছে অস্বস্তিকর হয়ে পড়েছে?’
শব্দর অবাক হয়ে বলে, ‘এরকম ভাবার কারণ কি? কেউ কিছু বলেছে?’
সংকোচে ভরা কণ্ঠে নাভেদ বলে, ‘দাসীরা বলাবলি করছিল, আমার কারণে আপনার স্ত্রী নিচ তলায় আসছে না। আমি খুবই দুঃখিত যদি আমার উপস্থিতি আপনাদের কাছে অবাঞ্ছিত হয়ে থাকে।’
শব্দর হাসে। নাভেদের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, সেরকম কিছুই নয়৷ আমার স্ত্রী কিছুদিন ধরেই অসুস্থ। তাই তিনি বাইরে আসতে পারছেন না। আর দাসীরা তো জানেনই, তিলকে তাল বানিয়ে বলে।’
নাভেদ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলে, ‘বাঁচালেন! সত্যিই আমি ভয় পেয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, হয়তো কোনোভাবে আমি আপনাদের কারো জীবনযাপনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছি।’
শব্দর তখন একটু বিব্রত হয়ে পড়ে। সে তাড়াতাড়ি বলে, ‘এরকম কিছুই নয়।’ তারপর কিছু একটা ভেবে জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি কি আমার স্ত্রীকে দেখেননি?’
এই প্রশ্নে নাভেদ অবাক হয়। শব্দর বুঝতে পারে, তার প্রশ্নটা হয়তো একটু অস্বাভাবিক শোনাচ্ছে। সে তাড়াতাড়ি নিজেকে সামলে নিয়ে একটা ফাঁকা হাসি হেসে বলে, ‘মানে, আপনার সঙ্গে কোনো কথাবার্তা হয়নি নিশ্চয়ই? হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তো নিচে আসতেই পারল না।’
‘আসলে আমি খেয়াল করিনি। সবার সঙ্গে কথা হলেও উনার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।’
শব্দর যেন স্বস্তি পায়। উৎসাহের সাথে জিজ্ঞেস করে, ‘তারপর বলুন, আপনার থাকার ব্যবস্থায় কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো? যদি কোনো সমস্যা থাকে, নিঃসঙ্কোচে জানাবেন।’
নাভেদে হেসে বলে, ‘অসুবিধে তো দূর, বরং ভীষণ সুন্দর সময় কাটাচ্ছি। তবে…’
‘তবে?’
নাভেদ একটু দ্বিধাগ্রস্ত ভাবে বলে, ‘আমি কি রাতে বেহালা বাজাতে পারি? আসলে, বেহালা না বাজালে আমার ঘুম আসে না।’
‘নিশ্চয়ই! বেহালার সুর ভাইজান খুব পছন্দ করেন। তিনি খুশি হবেন আপনার বেহালা শুনে।’
সেদিন মধ্যরাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ বেজে ওঠে বেহালার সুর। অতিথি ভবনের একটি ঘর থেকে জানালা দিয়ে ভেসে আসা সেই মধুর সুরে চমকে উঠেন সুফিয়ান ভূঁইয়া। তিনি ধীরে ধীরে উঠে বসেন বিছানায়। কান পেতে শুনতে থাকে সেই অপূর্ব সুর। শব্দরের থেকে শুনেছেন, নাভেদ নাকি বেহালা বাজানোর অনুমতি চেয়েছিল। সুফিয়ান মুগ্ধ হয়ে ভাবছেন, ছেলেটির কী অসাধারণ দক্ষতা! সুরে কী গভীর অনুভূতি! তিনি উঠে দাঁড়ালেন জানালার পাশে। নিজেকে হারিয়ে ফেললেন সেই সুরের মায়াজালে। মনে হলো যেন তিনিও নাভেদের সাথে বেহালার তারে তারে ছুঁয়ে যাচ্ছেন জীবনের নানা স্মৃতি, নানা অনুভূতি।
গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে নাভেদের বেহালার সুরেলা আলাপ ধীরে ধীরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। অতিথি ভবনে নাভেদের পাশে বসে আছে তার বিশ্বস্ত সহচর সেলিম, যে পুরোপুরি মগ্ন হয়ে নাভেদের বেহালা বাজনা শুনছে।
এমন সময় আংশিক ঘুমে আচ্ছন্ন জুলফা হঠাৎ অপরিচিত শব্দে সচকিত হয়ে ওঠে। বেহালার সুর যেন তার হৃদয়ের গভীরে গিয়ে কড়া নাড়ছে। সে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখে রাতের গাঢ় অন্ধকার চারিদিকে! পাশে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে শব্দর। সে চুপিচুপি বিছানা থেকে নামে। বেহালার সুর অনুসরণ করে ধীরে ধীরে নিচতলার অতিথি ভবনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। ভবনটি খাসমহলের লাগোয়া হলেও প্রধান দরজা দুটি। তার শাড়ির আঁচল মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে। চুল এলোমেলো, চোখে তখনও ঘুমের ঘোর।
দরজার কাছে এসে জানালার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেয় ভেতরে।
মধ্যরাতের মৃদু আলোয় আলোকিত অতিথি ঘরটির এক কোণে একটি সুসজ্জিত পালঙ্কে বসে আছে নাভেদ। তার চোখ বন্ধ, দেহ স্থির, কেবল তার আঙ্গুলগুলির চঞ্চল নৃত্যেই বেহালা থেকে বের হচ্ছে সুরের মালা। সে সম্পূর্ণ তন্ময়তায় বেহালার তারে সুর তুলছে।
নাভেদ বেহালার সুরের শেষ কণা তুলে জানালার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। তৎক্ষণাৎ তার নজর আকৃষ্ট হয় দুটি উজ্জ্বল চোখের প্রতি। পরমুহূর্তেই সে লক্ষ্য করে, একজন দীর্ঘকেশী তরুণী দ্রুত গতিতে সরে পড়ছে। চুড়ি ও নূপুরের মৃদু ঝংকার তার কানে প্রবেশ করে। তৎপরতার সাথে নাভেদ দরজা খুলে বাইরে বের হয় কিন্তু সেই তরুণীর কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পায় না। কে ছিল এই অজানা তরুণী? জমিদার-গৃহিণীর মতো পটলচেরা চোখ! কোনোভাবেই কি সে হতে পারে?
নাভেদের বেহালার সুর মধ্যরাতের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে চুরমার করে দিত প্রতি রাতেই। তার সুরের মায়াজালে আটকে পড়ত সবাই। সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হতো জুলফা। তাই দ্বিতীয় রাতেও একই ঘটনা ঘটে। জুলফা যেন চুম্বকের টানে আকৃষ্ট হয়ে চলে আসে সেই দরজার সামনে। তৃতীয় রাতে সে আর নিজেকে সামলাতে পারে না। তার চোখে নেমে আসে মুগ্ধতার অশ্রুর বন্যা।
নাভেদ টের পায় কেউ একজন তার সুর শুনতে আসে। কিন্তু সে নিশ্চিত হতে পারে না, এই রহস্যময়ী শ্রোতা কে? জমিদারের বউ, নাকি অন্য কেউ?
চতুর্থ রাতে নাভেদ মনস্থির করে ফেলে। সে জানতে চায় কে এই গোপন শ্রোতা। তাই সে একটি চতুর পরিকল্পনা করে।
সেদিন রাতে নাভেদ আবার বেহালা বাজাতে শুরু করে। এবার সে দরজার কাছাকাছি বসেছে। পায়ের শব্দ ভেসে আসে...কেউ একজন এগিয়ে আসছে। তার অজানা শ্রোতা এসে গেছে!
হঠাৎ করেই সে থামিয়ে দেয় বেহালা বাজানো। উঠে দ্রুত একটানে খুলে ফেলে দরজা। চমকে উঠে জুলফা। সে পালাতে চায়। নাভেদ তার চেয়েও দ্রুত বলে উঠে, ‘পালাবেন না।’
জুলফা থমকে দাঁড়ায়। ভয়ে কাঁপছে তার সারা শরীর। ধীরে ধীরে সে ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় নাভেদের দিকে। চাঁদের আলোয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে জুলফার মুখ। তখনই নাভেদের মনে পড়ে যায় এমনি আরেক লুকোচুরি রাতের কথা। সঙ্গে সঙ্গে তার চোখে ফুটে উঠে বিস্ময়। জুলফার চোখে ভয় আর লজ্জা।
নাভেদ ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে জুলফার দিকে। জুলফা পিছিয়ে যেতে চাইলে কোন এক অদৃশ্য শক্তি তাকে আটকে রাখে সেখানেই।
নাভেদ মৃদু স্বরে বলে, ‘আপনি কি...?’
ঘোড়দৌড়ের পর থেকে জুলফা অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল। নাভেদের প্রতি তার আকর্ষণ ক্রমশ গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। প্রতিদিন, যখনই সুযোগ পেত, সে নাভেদকে দূর থেকে অনুসরণ করত। নাভেদের প্রতিটি পদক্ষেপ, তার কথা বলার ভঙ্গি, বেহালা বাজানোর ছন্দ সবই জুলফার হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছিল সিলমোহরের মতো। একদিন সকালে, ঘোড়দৌড়ের মাঠে জুলফার চোখে পড়ে, নাভেদ কী যত্ন আর মমতায় তার ঘোড়ার পরিচর্যা করছে। প্রথমে সে সাবধানে ঘোড়ার পা পরীক্ষা করে, তারপর খুর পরিষ্কার করে। এরপর ঘোড়ার লেজ আঁচড়ায়, যেন কোনো শিশুকে আদর করছে। জুলফা অবাক বিস্ময়ে দৃশ্যটি দেখে।
কিছুক্ষণ পর, নাভেদ ঘোড়াটিকে নিয়ে নদীর ধারে চলে যায়। জুলফাও দূর থেকে অনুসরণ করে তাদের। নদীর পাড়ে একটি নির্জন জায়গায় বসে নাভেদ তার প্রিয় বেহালা বাজাতে শুরু করে। ঘোড়াটি শান্তভাবে দাঁড়িয়ে সেই সুর শুনছে। হঠাৎ কোনো কারণে ঘোড়াটি অস্থির হয়ে উঠলে নাভেদ তৎক্ষণাৎ বেহালা নামিয়ে রেখে ঘোড়াটির কাছে গিয়ে ধীরে ধীরে কানের কাছে কিছু বলে। জুলফা অবাক হয়ে দেখে, কীভাবে ঘোড়াটি শান্ত হয়ে গেছে।
তারপর নাভেদ তার নিজের খাবার ঘোড়ার সঙ্গে ভাগ করে খায়। যেন দুই প্রিয় বন্ধু একসঙ্গে দুপুরের খাবার সেরে নিচ্ছে। সন্ধ্যায় পুনরায় নাভেদ ঘোড়াকে বেহালার সুর শোনায়।
দিনের পর দিন এই সব দৃশ্য দেখতে দেখতে জুলফার হৃদয়ে নাভেদের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হতে থাকে। নাভেদের হৃদয় কত কোমল, কত ভালোবাসায় ভরা! শুধু মানুষের প্রতি নয়, একটি পশুর প্রতিও তার এত যত্ন, এত ভালোবাসা, এটা জুলফাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ধীরে ধীরে সে নিজেও সেই ঘোড়াটির প্রতি একটা অদ্ভুত টান অনুভব করতে থাকে।
একদিন রাতের অন্ধকারে জুলফা চুপিসারে বাজারের প্রান্তে যায় যেখানে নাভেদের ঘোড়া বাঁধা আছে। সে নিজের বোরকার নিচে থেকে একটি ছোট বস্তা বের করে, যাতে কিছু শস্য ও একটি ছোট পাত্রে পানি ছিল। সাবধানে ঘোড়ার কাছে এগিয়ে গিয়ে ধীরে ধীরে ঘোড়ার মুখের কাছে শস্য এগিয়ে দেয়। ঘোড়াটি প্রথমে সন্দেহের সাথে তাকায়, তারপর আস্তে আস্তে খেতে শুরু করে। জুলফা মৃদু হাসে। পানির পাত্রটি এগিয়ে দেওয়ার সময় সে ঘোড়ার গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়। যেন এই স্পর্শের মাধ্যমে সে নাভেদকেও ছুঁয়ে ফেলছে।
আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে বলে উঠে, ‘ও সুন্দর ঘোড়া, তোমার মালিক নাভেদ কেমন আছেন? আমি সারাক্ষণ তার কথা ভাবি। তার সুখ আর শান্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি।’
ঘোড়াটিকে খাওয়ানো শেষ করে জুলফা আবার বলে, ‘আশা করি, এই খাবারটা তোমার পছন্দ হয়েছে। তোমার মালিক নাভেদকে বলো, আমি তাকে খুব পছন্দ করি। তার প্রতি আমার…’
কথাটা শেষ করে না। ধীরে ধীরে চলে যায়।
পরদিন সকালে, সূর্যের প্রথম রশ্মি যখন পৃথিবীকে আলোকিত করছে, তখন নাভেদ দূর থেকেই লক্ষ্য করে ঘোড়াটিকে অন্যদিনের চেয়ে বেশ প্রফুল্ল আর উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখে ঘোড়ার পাশে একটি খালি পাত্র পড়ে আছে, আর মাটিতে ছড়িয়ে আছে কিছু শস্যের অবশিষ্টাংশ। কেউ রাতের অন্ধকারে এসে তার ঘোড়াকে খাইয়ে গেছে। কে এই ব্যক্তি? কেন সে এই দয়ার কাজ করছে?
নাভেদ আশেপাশে খুঁজতে থাকে দয়াবান মানুষটিকে, কিন্তু কাউকেই পায় না। তার কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করে এ সম্পর্কে, তারাও কিছু জানে না।
পর পর পাঁচ দিন একই ঘটনা ঘটে। প্রতি সকালে নাভেদ দেখে তার ঘোড়া খেয়েদেয়ে আরও শক্তিশালী ও সজীব হয়ে উঠছে। অজানা ব্যক্তিটির প্রতি তার কৌতূহল ও কৃতজ্ঞতা বাড়তে থাকে।
পঞ্চম দিন, নাভেদ একটি চিঠি লিখে রাখে ঘোড়ার পাশে,
প্রিয় দয়ালু আত্মা,
আপনার পরিচয় অজানা, কিন্তু আপনার করুণা ও ভালোবাসা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। প্রতি রাতে আপনি নীরবে এসে আমার প্রিয় ঘোড়াটিকে খাওয়ান, সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু আপনার পরিচয় কী? কেন এই নিঃস্বার্থ সেবা করছেন? আমি আপনাকে চোখে দেখার জন্য, আপনার সঙ্গে কথা বলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। দয়া করে সামনে আসুন। আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাই। আপনার মত মহৎ মানুষের সান্নিধ্য পেলে আমার জীবন ধন্য হবে।
অপেক্ষায় রইলাম,
নাভেদ পাটোয়ারী।
পরদিন সকালে, নাভেদ আশা নিয়ে ছুটে যায় ঘোড়ার কাছে। কিন্তু তার চিঠি যেখানে ছিল, সেখানেই অনাদৃত অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো উত্তর নেই। তবে ঘোড়াটিকে যে খাওয়ানো হয়েছে, তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
রহস্যময় ব্যক্তিটিকে স্বপ্নের মতো ঠেকে। তাকে ধরা যায় না, অথচ তার উপস্থিতি অনুভব করা যায়। নাভেদের মনের কৌতূহল আরো গভীর হয়, সেইসাথে বাড়ে অজানা ব্যক্তিটির সঙ্গে দেখা করার আকাঙ্ক্ষা।
পরদিন, রাতের নিঃশব্দতা চাদরের মতো ঢেকে ফেলেছে সারা পরিবেশ। অন্ধকারের গভীরতায় মিশে গেছে জুলফার কালো বোরকা আর নিকাব। তার পা দুটি নিজের থেকেই চলছে, টেনে নিয়ে যাচ্ছে তাকে সেই ঘোড়ার কাছে। হৃদয়ের স্পন্দন দ্রুত, কানে বাজছে নিজের রক্তের শব্দ। জানে, এ পথ বিপদসঙ্কুল। তবুও নাভেদের প্রতি ভালোবাসা তাকে বারবার টেনে আনে এখানে।
তানপুরার কাজ শেষ হয়েছে কবেই, শুধু নাভেদের সান্নিধ্যের আশায় সে এখনও এখানে। ঘোড়াটিকে স্পর্শ করলেই মনে হয় নাভেদকেই ছুঁয়ে ফেলেছে, আর খাওয়ানোর সময় কল্পনা করে, সে নাভেদকেই খাওয়াচ্ছে। এই মধুর অনুভূতি থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে পারে না জুলফা।
সতর্ক পদক্ষেপে সে এগিয়ে যায় ঘোড়ার দিকে। চোখ দুটি সজাগ, কান খাড়া। নিশ্চিত হয়ে নেয়, আশেপাশে কেউ নেই। তারপর ধীরে ধীরে বস্তা থেকে বের করে খাবার, ঘোড়ার সামনে রাখতে যায়।
হঠাৎ-ই অন্ধকার চিরে ভেসে আসে একটি গম্ভীর কণ্ঠস্বর, ‘কে আপনি?’
চমকে ওঠে জুলফা। হাত থেকে পড়ে যায় শস্যের বস্তা। ঘুরে দাঁড়াতেই দেখে, সামনে দাঁড়িয়ে নাভেদ। জুলফার শরীরে শুরু হয় অনিয়ন্ত্রিত কম্পন। পালাতে চেষ্টা করলে নাভেদ ধরে ফেলে তার হাত, ‘ভয় পাবেন না। আমি শুধু আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর জানতে চাই, কেন আপনি এটা করছেন?’
জুলফা নীরব, তার শরীর কাঁপছে ভয়ে। নিকাবের ফাঁক দিয়ে শুধু দেখা যাচ্ছে তার অশ্রুসিক্ত বড় বড় দুটি চোখ।
·
·
·
চলবে……………………………………………………