আজ ওদের মন ভালো নেই - পর্ব ২৫ - নৌশিন আহমেদ রোদেলা - ধারাবাহিক গল্প

আজ ওদের মন ভালো নেই
          গহীন রাত। বাড়ির আশেপাশে কোথাও শৃগাল ডাকছে। গ্রামে থাকতে শুরু করার পর থেকে সাব্বির খুব আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করছে, তার সাধারণ জ্ঞানে ভয়ংকর গোলযোগ আছে। সাধারণ অনেক কিছুই সে জানে না। যেমন, ইছা মাছের আরেক নাম যে চিংড়ি সে কথা সে জেনেছে আজ বিকালে। তার থেকেও বিস্ময়কর ঘটনা, এই ত্রিশ বছর বয়সে এই প্রথম সে শেয়ালের ডাক শুনছে। এর আগে কখনও শুনেনি। এর আগে কখনও শুনেনি এই আশ্চর্য সত্যটাও সে আবিষ্কার করেছে কিছুক্ষণ আগে। সাব্বির জানালার কাছে দাঁড়িয়ে গভীর মনোযোগে তাকিয়ে আছে বাহিরের অন্ধকারে। গহীন রাতে দুর্বল শরীরে দাঁড়িয়ে থেকে দেখতে হবে ; অন্ধকার এমন কোনো মোহনীয় বস্তু না। মোহনীয় না হলেও সাব্বিরকে খুব আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রকৃতির কাছে আমরা মাঝে মাঝেই খুব নিরুপায় হয়ে পড়ি। সাব্বির এই মুহূর্তে নিরুপায়৷ মিথি নামক অতি রূপবতী মেয়েটি এই নিরুপায় অবস্থার প্রধান কারণ। হিসেব মতো আজ তার আর মিথির একই ঘরে একই বিছানায় ঘুমানোর কথা। ঘুম সাব্বিরের জন্য বড় কোনো বিষয় না। বিছানায় যাওয়ার দেড় মিনিটের মাথায় গভীর ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা তার আছে। কিন্তু বিষয়টা হলো, মিথি। সাব্বির হঠাৎ করেই বুঝে উঠতে পারছে না, এই মুহূর্তে তার কী করা উচিত? বিছানায় গিয়ে সটান শুয়ে পড়বে? মিথি কী তার সাথে একই বিছানায় ঘুমোতে রাজি হবে? রাজি হবে কি-না সে প্রশ্নই বা জিজ্ঞাসা করবে কী করে? তারপর যে সম্ভাবনার কথা মাথায় আসছে, তা খুবই অপ্রীতিকর। আংশিক অশ্লীল। মিথি রাতে শাড়ি পরে ঘুমোতে পারে না – এই বেয়ারা তথ্যটা হঠাৎ তার মাথায় ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। মিথি যদি এখন আচমকা শাড়ি খুলে বসে তবে সাব্বিরের কর্তব্য কী হবে, সে কথা ভেবেও শরীরে শীতল ঘাম দিচ্ছে। 

‘ আপনি নিশ্চয় ঘুমাবেন?’ 

সাব্বির ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল। নীল জমিনে সাদা ফুল তোলা শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছে মিথি। শাড়ির কাপড়টা সম্ভবত খুব মোলায়েম। কাপড়ের মোলায়েম ভাবের কিছুটা এসে পড়েছে মিথির মুখে। এই পবিত্র, স্নিগ্ধ মুখের দিকে তাকিয়ে সাব্বিরের মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল। মিথিকে যতটা পবিত্র দেখাচ্ছে তার থেকে কয়েকগুণ অপবিত্র এক সত্য বুকের ভেতর গোপন করে রেখেছে সাব্বির। এই কলুষিত সত্যের মৃদু আঁচও যদি পড়ে ওই স্নিগ্ধ মুখে, ঘৃণায় বিকৃত হয়ে যাবে তার পবিত্রতা। সাব্বির দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সিদ্ধান্ত নিলো, মিথিকে কোনোরকম কঠিন সত্যের মুখোমুখি সে করবে না। যে সত্যের উপর সাব্বিরের হাত ছিল না, সে সত্য লুকিয়ে, যেমন চুপ করে মিথি তার জীবনে এসেছিল তেমন চুপ করে তাকে যেতে দেওয়াতে নিশ্চয় কোনো অন্যায় হবে না? হয়ত, আজন্ম একটা অন্যায় অপমান ঘিরে থাকবে মিথির মনোজগত। অসংখ্য সুখের ভিড়ে সুচের মতো সূক্ষ্ম ব্যথা দিবে। কিন্তু নিজের জন্য এতটুকু স্বার্থপর না হলে যে সাব্বিরের উপায় নেই। সৃষ্টিকর্তা তাকে কীসের শাস্তিস্বরূপ এভাবে পৃথিবীতে এনেছেন তা সাব্বিরের জানা নেই৷ কিন্তু মিথির চোখে নিজের এই নিকৃষ্ট রূপ দেখতে সে অপরাগ। এই পৃথিবীর সব সত্য সবাইকে জানতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই। মিথি নাহয় থাকুক সত্যের বাইরে। সত্যের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে সে নতুন করে সংসার করুক সাফাতের মতো সুদর্শন কোনো যুবকের সাথে। সাব্বির এই সত্যের গন্ডি থেকে মাঝেমধ্যে বেরুলে তাদের হঠাৎ হঠাৎ দেখা হোক কোনো এক রাস্তার মোড়ে অথবা কোনো ফলের দোকানে অথবা কোনো বর্ষায় একই ছাউনির নিচে। স্বল্প পরিচিতের মতো তাদের দুই একটা কথা হোক। মিথি সাব্বিরের চেহারায় গাঢ় যন্ত্রণার ছায়া দেখে সন্দিহান কণ্ঠে শুধাল,

‘ আপনার কী শরীর খারাপ হচ্ছে? আপনাকে দেখে একদমই সুস্থ মনে হচ্ছে না। আপনি প্লিজ বসুন। দাঁড়িয়ে থাকবেন না।’ 

সাব্বির প্রত্যুত্তর না করে এগিয়ে এসে বিছানায় বসল। মিথি পাশের টেবিলে ঢেকে রাখা পানির গ্লাসটি তুলে সাব্বিরের দিকে এগিয়ে দিল। সাব্বির এক ঢোক পানি গিলে ফিরিয়ে দিল গ্লাস। মিথি সচেতন কণ্ঠে শুধাল,

‘ আপনি ঠিক আছেন?’ 

‘ মিথি! আমি ঠিক আছি।’ 

সাব্বিরের মুখে হঠাৎ নিজের নামের স্পষ্ট সম্বোধনে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিহ্বল হলো মিথি। ঋজু হয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

‘ আপনার কিছু দরকার হলে আমাকে বলতে পারেন।’ 

‘ কিছু দরকার নেই।’ 

‘ তাহলে বরং শুয়ে পড়ুন। আমি আলো নিভিয়ে দিচ্ছি। আমি ওদিকের চেয়ারে বসে কাজ করব। আপনার কিছু দরকার হলে আমাকে নির্দ্বিধায় ডাকবেন।’ 

সাব্বির প্রত্যুত্তরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আঁধার বিছানায় শুয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ল্যাপটপের আলোয় উদ্ভাসিত মিথির মুখের দিকে। কাঠিন্যের আদলে কী অপরূপ আলো তাকে দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা! সেই আলো আলো চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই একসময় ঘুম নেমে এলো তার দুর্বল চোখে। 

সাফাতের প্রস্তাবকৃত প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে টুকটাক খোঁজখবর ও আনুষঙ্গিক তথ্য ঘাটতে ঘাটতে অনেকটা রাত হলো মিথির। চারদিকে ঝিঁঝিঁর রব, দুই-একটা ব্যাঙের ডাক আর গ্রাম্য রাতের নিস্তব্ধতা মুঠোয় নিয়ে কিছুক্ষণ আনমনে জানালার বাইরে তাকিয়ে থেকে সামনে চোখ ফেরাতেই বিছানায় ঘুমন্ত মানুষটির দিকে চোখ আটকে গেল মিথির। দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে বসে কাজ করায় ঘরের অন্ধকারটা চোখে সয়ে এসেছে। বারান্দার হলদে বাতির ম্লান আলোয় বেশ স্পষ্ট দেখাচ্ছে ওই দুহারা শ্যামলা মুখ। ঘন কালো ভ্রুর নিচে ঝরা শেফালির মতো নিমীলিত দুটো চোখ। সরু, চাপা নাসা৷ কাঁটাবনের মতো তীক্ষ্ণ দাঁড়ির ভিড়ে ঘুমন্ত সন্ন্যাসীর মতো পাতলা ঠোঁট। কী মায়া! কতোই না সুন্দর! মিথির মুগ্ধ মন সপ্রশংস চোখে তাকিয়ে থাকে। বারান্দা থেকে ভেসে আসে কারো অস্পষ্ট অথচ রিনরিনে কণ্ঠ, 

‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।
আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।
এ জীবন পুণ্য করো,
এ জীবন পুণ্য করো,
এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে।’ 

মিথি আশ্চর্য হয়। কান পেতে আবারও বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে থাকে। বাইরে কী বৃষ্টি হচ্ছে? এতোরাতে, এতো দরদ দিয়ে কে গাইছে এমন গান? কে গুটিগুটি পায়ে হাঁটছে বারান্দায়? বড় চাচী? বড় চাচীর তো এতো রাতে তিন তলায় উঠে আসার কথা না? এই বাড়িতে বড় চাচী ছাড়া কে গাইতে পারে এমন মায়া মায়া গান? মিথি কৌতূহল নিবৃত্ত করতে জায়গা ছেড়ে উঠল না। কেমন এক আলস্য নিয়ে ঠাঁই বসে রইল। মনে হলো, কেউ যেন তার ভেতরটাকে শুষে নিয়ে সুর তুলেছে। এতো ব্যথা, এতো মায়া, এতো আদর একসঙ্গে নিয়ে মিশে যাচ্ছে গাঢ় অন্ধকারের সঙ্গে। সেই গুনগুন কণ্ঠটা কিছুক্ষণ মিথির জানালার কাছে দাঁড়িয়ে থেকে সরে গেল একটা যান্ত্রিক শব্দ সঙ্গে নিয়ে। মিথি তবু কান পেতে বসে রইল। চোখে তার অকারণ জল। বিধাতা যাকে এমন স্বর্গীয় সুর দিলেন তার নিশ্চুপতাকে অপরাধ কেন করলেন না? 

————— 

দাদাজানের মস্ত দুর্গের প্রতিটি তলা ঘিরে আছে দীর্ঘ টানা বারান্দায়। মৌনি তৃতীয় তলার টানা বারান্দা ধরে হাঁটছে। অভিমানিনী আকাশ সন্ধ্যা থেকে নানান ছলাকলা দেখিয়ে এবার ঝরাতে বসেছে হৃদয়ের সমস্ত অভিযোগ। ধূসর আকাশের বুক চিঁড়ে মাঝেমধ্যেই ছলকে উঠছে আলো। মৌনি সেই আকাশের দিকে তাকিয়ে গুনগুনিয়ে গান গাইছে। 

‘ আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে 
আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে 
এ জীবন পুণ্য করো 
এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে।’ 

 চায়ের উত্তাপের সাথে কল্পনা আর বাস্তব মিলিয়ে মিশিয়ে নানান কল্প চিত্র আঁকতে আঁকতে হঠাৎ সে থমকে গেল মিথির ঘরের সামনে। জানালার পাশে ইজিচেয়ারে মূর্তির মতো বসে আছে মিথি। বারান্দার এক কোণে জ্বলতে থাকা হলদে বাতির ম্লান আলোয় তাকে দেখাচ্ছে প্রতিমার মতো। মিথিকে ওভাবে স্থির হয়ে বসে থাকতে দেখে মৌনি সাবধানে উঁকি দিল ভেতরে। কারো শোবার ঘরে উঁকি দেওয়া অত্যন্ত রুচিহীন কাজ। মৌনি সাধারণত রুচিহীন কাজ করে না। আজ করতে হচ্ছে। আজকাল বিবাহ নিয়ে তার বিশেষ আগ্রহ দেখা দিয়েছে। তার থেকেও অধিক আগ্রহ তার নর-নারী সম্বন্ধীয় বিষয়ে। আগ্রহটা অহেতুক নয়। কয়েকমাস যাবৎ লিখতে থাকা উপন্যাসটা বাদের খাতায় ফেলে দিয়ে সে খুব উৎসাহ নিয়ে নতুন এক উপন্যাস লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এইবারের উপন্যাস হবে কঠিন মনস্তাত্ত্বিক। নর-নারীর ভাবনার অলি-গলি একেবারে খামচে তুলে এনে রেখে দিবে বইয়ের পাতায়। কিন্তু সমস্যা হলো, এসব অলি-গলি সম্পর্কে মৌনির নিজেরই জ্ঞান অজমূর্খ পর্যায়ের। তারপরও মৌনি হাল ছাড়েনি। একটা সফল উপন্যাস লেখা মুখের কথা না। তার জন্য পরিশ্রম দরকার। মৌনি পরিশ্রম করবে। তার পরিশ্রম শুরু হবে মিথির ঘরে উঁকিঝুঁকি দেওয়া থেকে। বিজ্ঞ পাঠকগণের মৌনির এই পরিশ্রমকে বাঁকা চোখে দেখার সমূহ সম্ভাবনা আছে। তার আগেই বলে রাখি মৌনির দর্শন মতে, অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সকল পাপই পানিতুল্য। সেখানে কারো ঘরে উঁকিঝুঁকি দেওয়া হলো পিউরিফায়িং ওয়াটার। মৌনি খুব আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার ভীষণ আনন্দ লাগছে। মিথির চোখ-মুখের মুগ্ধতা বলছে ঘটনা একটা ঘটে যাবে। মৌনিকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু দেখা গেলো, প্রয়োজন হলো। মিনিট পনেরো অপেক্ষা করার পরও মুগ্ধ মূর্তির মতো স্থির বসে রইল মিথি। এক চুলও নড়ল না। ছটফটে মৌনি এই পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে গেল। বিবাহিত ব্যাডা-বেডির এতো নকশা তার পছন্দ হচ্ছে না। এদের অবস্থা স্টার প্লাসের সিরিয়ালের থেকেও খারাপ। ভয়ংকর স্লো। বিবাহের পর সবাই এমন স্লো ভাবে আগায় কি-না কে জানে? মৌনির গভীর চিন্তা-ভাবনার মধ্যেই তার মোবাইল ভাইব্রেট করল। এই রাতের বেলায় শাওনের ফোন আসার কথা না। লাস্ট কলের এক সপ্তাহ হয়েছে কি-না কে জানে! তারপরও আননোন নাম্বার দেখেই মৌনির মনে হলো এটা শাওনেরই কল। সে ফোন ধরেই চাপা স্বরে বলল, 

‘ শাওন! শাওন! শাওন! ওরা কিছু করছে না কেন শাওন?’ 

শাওন মৌনির এমন ফিসফিসানির বাহারে হকচকিয়ে গেল। হতবাক হয়ে বলল,

‘ কে কী করছে না মন?’ 

মৌনি আগের মতোই ফিসফিস করে বলল,

‘ মিথি আপা আর সাব্বির ভাই। দু'জনের বিয়ে হয়েছে। সাব্বির ব্রো এতো জোস দেখতে তারপরও মিথি আপা কেমন রোবটের মতো বসে আছে। তাদের মধ্যে কিছু হওয়ার সম্ভবনা তো দেখা যাচ্ছে না।’ 

শাওন শুধাল,

‘ তুমি কী ওদের ঘরে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছ মন?’ 

মৌনি প্রচন্ড বেগে মাথা নেড়ে বলল,

‘ ইয়েসসস্!’ 

‘ তুমি উঁকিঝুঁকি দিয়ে একজেক্টলি কী দেখতে চাইছ?’ 

‘ ওরা যা করতে চাইছে।’ 

‘ ওরা কী করতে চাইছে?’ 

মৌনি বিরক্ত হয়ে বলল,

‘ উফ শাওন, তুমি জানো না কী করতে চাইছে? বিয়ের পর মানুষ যা করে তাই করতে চাইছে।’ 

শাওন হেসে ফেলল এবার। মেয়েটা এতো মিষ্টি কেন? এতো বাচ্চা! হৃদয়ের আঙিনায় অদ্ভুত এক গুদগুদি হলো তার। কণ্ঠে প্রশ্রয় ঢেলে মৌনির মতোই ফিসফিস করে বলল,

‘ আমি তো কখনও বিয়ে করিনি মন। তাই বুঝতে পারছি না। ঘুমানো ছাড়া ঘরের ভেতরে আর কী-ই বা করতে পারে?’ 

মৌনি অতিষ্ঠ হয়ে জায়গাটা ছেড়ে সরে এলো। শাওনকে এখন একটা ধমক না দিয়ে শান্তি পাওয়া যাবে না। সে একটু দূরে সরে গিয়ে বলল,

‘ নাটক করবে না। ঘরের ভেতরে কী হয় সেটা যে তোমার মুখস্থ সেটা আমি ভালো করে জানি।’ 

তারপর উৎফুল্ল হয়ে বলল,

‘ মিথি আপা আর সাব্বির ভাই কী করে নিজেদের কন্ট্রোলে রেখেছে বলো তো? এদের মধ্যে কী হিউম্যান রিয়েকশন নেই? আমি হলে এতোক্ষণে একটা ভূমিকম্প হয়ে যেত।’ 

শাওন বহু কষ্টে নিজের হাসি চেপে বলল,

‘ কেন? ঘরের ভেতরে কী তুমি তোমার বরকে নিয়ে লম্ফঝম্প খেলতে মন? তোমার তো আবার বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলার স্বভাব আছে। লাস্ট টাইম নানুবাড়ি যখন এলে তোমাকে দেখলাম ছাদে উঠে দড়ি লাফ খেলছ। তোমার লাফালাফিতে আমার রুমের বালি-সিমেন্ট ঝুরঝুর করে খসে পড়ছে। তাই বলছি, একটু সাবধানে। ঘরের ভেতরে বেশি উত্তেজিত হয়ে গেলে সমস্যা আছে।’ 

মৌনি ক্ষেপে গেল। ফোনের এপাশ থেকে প্রায় চিৎকার করে উঠল,

‘ শাওওওনন!’ 

শাওন হেসে বলল,

‘ বাকিটুকু পরে শুনব। সময় শেষ। রাখছি ডার্লিং।’ 

মৌনি আবার চেঁচিয়ে উঠল,

‘ ডোন্ট কল মি ডার্লিং, শাওন। আমি তোমাকে খুন করে ফেলব।’ 

শাওন দুষ্টুমি করে বলল,

‘ ওকে, সুইটহার্ট।’ 

‘ শাওন!’ 

‘ বেইবি ইজ ওকে?’ 

‘ ফাজিল ছেলে! আই উইল কিল ইউ।’ 

কিন্তু দেখা গেল ‘কিল’ করার আগেই শাওন ফোন কল ‘কিল’ করে বসে আছে। মৌনির মেজাজের পারদ দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। আজ সবজায়গায় সে ঠকে যাচ্ছে। মাঝরাতে এসব ঠকাঠকি তার পছন্দ হচ্ছে না। একদম না! 

—————

দাদাজানের ঘরের দেওয়াল ঘড়ির কাটা ধীরে ধীরে সুবহে সাদিকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একটু আগেই ‘টং’ শব্দ তুলে রাত্তিরের একটা বাজার সংবাদ জানিয়েছে। একটুপর বাজবে দুটো। তারপর তিনটা। ভোরের আলোয় যখন চারদিক সরব হবে। জেগে উঠবে গ্রাম্য পাখিরা। ঠিক তখন মৌনি ঘুমোতে যাবে। মৌনির ঘুম আসবে ফজরের পর। মৌনি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঘুম ফিরে আসার আগমুহূর্ত পর্যন্ত সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে চা খাবে। চা খেতে খেতে বিশেষ একটা বিষয়ে চিন্তা করবে। চিন্তাটা তার উপন্যাস সম্পর্কিত। হঠাৎ সে উপলব্ধি করেছে, এইভাবে অন্যের ঘরে উঁকিঝুঁকি দিয়ে উপন্যাসের রশদ জোগাড় করা মুশকিল। এই বিষয়ে কারো সাক্ষাৎকার নেওয়া আরও বিপদ। বাঙালি মেয়েদের শরমের মাত্রা বাড়াবাড়ি। তোমার স্বামী তোমাকে কীভাবে চুমু খায় এরূপ প্রশ্ন করলেই যে তারা নাচতে নাচতে উত্তর দিয়ে দিবে, এমন ভাবনা ভাবার কোনো কারণ নেই। মৌনির মন খারাপ হয়ে গেল। লেখালেখি বিষয়টা তো দেখা যাচ্ছে ভয়ংকর কঠিন কাজ! আচ্ছা, মৌনি নিজে একটা বিয়ে করে ফেললে কেমন হয়? কিন্তু কাকে বিয়ে করবে? এই পৃথিবীতে মৌনিকে বিয়ে করে ফেলার মতো একটা পাত্র মজুত নেই ভাবতেই দুঃখে মরে যেতে ইচ্ছে হলো মৌনির। দাদাজানের তৃ-তল নিবাসের দক্ষিণে চাকরবাকরের থাকবার ঘর। তার পাশে বিশাল এক হাতিশাল। মৌনিরা যখন দলভেদে পাড়ার প্রাইমারি স্কুলে পড়তে যেতো। তখন দাদাজান সারা গায়ে হৈ-চৈ ফেলে দিয়ে কোথা থেকে কিনে আনলেন একটা মস্ত হাতি আর তার দুই শাবক। চারদিক সচকিত করে হাতিশাল তৈরি করা হলো। হাতি দেখভালের জন্য লোক নিয়োগ করা হলো। বিকেল হলে দূরদূরান্তের মানুষ আসতে লাগল, হাতি দেখতে। তার ঠিক একমাস পর সবাইকে চমকে দিয়ে মা হাতির মৃত্যু ঘটল। দাদাজান এক সপ্তাহ উদাস হয়ে রইলেন। তারপর সেই শাবক ছানাদুটোকে রেখে এলেন বন বিভাগের রক্ষণাবেক্ষণে। হাতিশালে হাতি না থাকলেও সুন্দর মতো এক ছেলেকে থাকতে দেখা যাচ্ছে আজকাল। পরহেজগার টাইপ ছেলে। গ্রামের বাচ্চাদের আরবি পড়ায়। অনেক রাতে বারান্দায় এসে দাঁড়ালে হাতিশাল থেকে ভেসে আসে কুরআন তিলাওয়াতের সুর। মৌনি একবার খুব গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেসা করেছিল,

‘ আপনার নাম কী, হুজুর সাহেব?’ 

হুজুর সাহেব বলাটা বোধহয় উচিত হয়নি। ছেলেটার গালে দাড়ি নেই। কোনো এক পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ইকোনমিক্সে পড়াশোনা করতো। হুট করে পড়াশোনা বাদ দিয়ে ধর্মের দিকে ঝুঁকে গিয়েছে। ধর্মের দিকে ঝুঁকে গেলেই কেউ হুজুর হয়ে যায় না। ‘নয় হুজুর সাহেব’ মৌনির দিকে তাকায়নি। মাটির দিকে তাকিয়ে থেকে জানিয়েছে,

‘ মিশকাত রহমান।’ 

মিশকাত নামটা মৌনির একটুও পছন্দ হয়নি। সে গম্ভীর মুখে বলেছে,

‘ আপনি হুজুর মানুষ। বাচ্চাদের আরবি পড়ান। আপনার নাম মিশকাত কেন হবে? এর অর্থ কী? আপনার নাম হওয়া উচিত আব্দুর রহমান।’ 

মিশকাত সাহেব মৌনির কথার উত্তর দেয়নি। আচ্ছা, এই মিশকাত ছেলেটিকে বিবাহ করে ফেললে কেমন হয়? মৌনির কথার উত্তর দেয়নি এর প্রতিশোধ স্বরূপ বিবাহ? মৌনি উদাসমুখে চায়ের কাপে চুমুক দিল। সাথে সাথেই বেজে উঠল তার মোবাইল ফোন। অন্যান্য সময় মোবাইলে কথা বলতে তার ভয়ংকর বিরক্ত লাগে। আজকে ভালো লাগছে। সে ফোন উঠিয়ে খুশি খুশি কণ্ঠে বলল,

‘ প্রেম করতে করতে আমাকে ভুলে গিয়েছিস বেয়াদব মহিলা। এই তোর ভালোবাসা? এই তোর প্রেম?’ 

উত্তরে ফোনের ওপাশে কলকল করে উঠল মিষ্টি। বারান্দায় পায়চারি করতে করতে অনেকটা সময় ধরে গল্প চলল তাদের। এক পর্যায়ে মিষ্টি কণ্ঠ নামিয়ে লাজুক স্বরে বলল,

‘ তোকে একটা কথা জানানো হয়নি।’ 

মৌনি চোখ সরু করে বলল,

‘ কী কথা?’  

মিষ্টি লজ্জায় মিইয়ে যাওয়া কণ্ঠে বলল,

‘ ঈশান কিসড্ মি লাস্ট নাইট।’ 

মৌনি চোখ বড় বড় করে তাকাল,

‘ ওহহহোহোওওও! ফাইনালি ইউর ফার্স্ট কিস হ্যাপেন্ড! কিন্তু লাস্ট নাইট মানে কী? ঈশান তোকে রাতে পেলো কোথায়!’ 

মিষ্টি লাজুক কণ্ঠে বলল,

‘ গতকাল খালামণির বাসায় গিয়েছিলাম। ঈশানসহ ঈশানের কাজিনরাও এসেছিল। সেখানেই। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ছাদে…’  

মৌনি এবার হৈহৈ করে উঠল,

‘ ওহহোওওও! হাও রোমান্টিক! তুই তো দেখি হেব্বি চালু মামা!’ 

‘ কচু চালু। উত্তেজনায় আমি সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিলাম জানিস? ঈশান তো ভয়ে অস্থির..’ 

মৌনি হাসতে হাসতেই হঠাৎ বাড়ির গেইটের দিকে তাকিয়ে থমকে গেল। ওপাশ থেকে আসা মিষ্টির কথার ঝরনাও একমুহূর্তের জন্য ম্লান ঠেকল তার কানে। কেবল বিষণ্ণ চোখে তাকিয়ে রইল বাড়ির ফটকের দিকে। গেইটের পাশে টিমটিম করে জ্বলছে একটা হলদে বাতি। সেই হলদে আলোয় মাথা নিচু করে ধীর পায়ে বাড়ির ভেতর ঢুকতে দেখা গেল নাহিদকে। এই দীর্ঘদেহী, সৌমকান্ত ছেলেটিকে মিষ্টি একদিন ভালোবেসেছিল। আজ অন্যকাউকে ভালোবাসে। ভালো আছে। কিন্তু নাহিদ? ছেলেটা কেমন আছে কে জানে? মৌনি গেইটের বাইরে তাকায়। দু-তিনটে ছেলে হেঁটে চলে যাচ্ছে সামনের রাস্তা ধরে। ছেলেগুলোকে মৌনি চিনে। গ্রামের সবচেয়ে বখাটে, বখে যাওয়া ছেলের দল। মদ-গাঁজা খায়। নোংরা কথা বলে। এদের সাথে এতো রাত অব্দি কীসের এতো মেলামেশা নাহিদের? নাহিদ উঁচু বংশের শিক্ষিত ছেলে। এদের সাথে এতো মেলামেশা কী তাকে মানায়? চিন্তিত দেখায় মৌনিকে। কোনোরকম বিদায় সম্ভাষণ না জানিয়েই কল কেটে বন্ধ করে রাখে মুঠোফোন। কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না তার। কারো সাথে না। 

—————

বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। মিথি অনেকটাক্ষণ আপন ভাবনায় ডুবে থেকে যখন সচেতন হলো তখন আবারও বোলতার গুঞ্জনের মতো ভেসে এলো সেই সুর, 

‘ যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো 
চলে এসো..
এক বরষায়।।’ 

কী স্নিগ্ধ, মায়াময় কণ্ঠস্বর! মিথি জানালার পাশ থেকে উঠে দাঁড়াল। বারান্দার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে শুধাল,

‘ কে? বারান্দায় কে?’ 

সুরটা থেমে গেল সাথে সাথেই। বারান্দার একদম অন্যধারে ম্লান অন্ধকার থেকে ভেসে এলো একটা কণ্ঠ, 

‘ কী হয়েছে মিথি আপু? ভয় পেয়েছ? আমি।’ 

‘ আমি কে?’ 

মৌনি এগিয়ে এলো। আলোর কাছে দাঁড়িয়ে হাসল, 

‘ আমি মৌনি।’ 

মিথি অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে রইল। মেয়েটা যে সত্যিই মৌনি, তা যেন বিশ্বাস হচ্ছে না। মৌনি গান গাইতে পারে? আগে তো কখনও শুনেনি। মিথি সন্দিহান কণ্ঠে শুধাল,

‘ তুই গান গাইছিলি?’ 

মৌনি বিস্ময় নিয়ে বলল,

‘ গান! এই মাঝরাত্তিরে গান গাইতে যাব কেন? আমি তো ফোনে কথা বলছিলাম।’ 

‘ আমার মনে হলো, বারান্দায় কেউ গান গাইছে।’ 

‘ হাতিশালে মিশকাত নামের ছেলেটা কুরআন তিলাওয়াত করছে। সেটাই বোধহয় গানের মতো মনে হয়েছে তোমার। ছেলেটার কণ্ঠ ভালো। তাই না?’ 

মিথি চিন্তিত চোখে একবার হাতিশালের দিকে তাকাল, উত্তর দিল না। মৌনি শুধাল,

‘ তুমি কী ঠিক আছ মিথি আপা?’ 

মিথি মুখ ফিরিয়ে তাকাল। বিরক্ত কণ্ঠে বলল,

‘ ঠিক থাকব না কেন?’ 

মৌনি সেকথার উত্তর না দিয়ে বলল,

‘ বিয়ে বিষয়টাকে তুমি কীভাবে দেখছ বলো তো? এই বিষয়ে আমি একটা আর্টিকেল লিখব ভাবছি। বিয়ে নিয়ে তোমার অভিজ্ঞতা কেমন? খুব খারাপ নাকি খুব ভালো?’

মিথি বারান্দার রেলিং-এ ঠেস দিয়ে মৌনির মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। মৌনিকে আজ অন্যরকম লাগছে। যেরকমই লাগুক মেয়েটাকে কখনই ঠিক পছন্দ করে উঠতে পারে না মিথি। বলল,

‘ খুব খারাপ।’ 

মৌনিও রেলিঙে ঠেস দিয়ে দাঁড়াল। শুধাল,

‘ এই খুব খারাপ এক্সপেরিয়েন্সটাকে কোনোভাবে খুব ভালো করে ফেলা যায় না মিথি আপু?’ 

‘ যায়।’ 

‘ তুমি তোমার এক্সপেরিয়েন্সটাকে খুব ভালোর দিকে নেওয়ার চেষ্টা করবে?’ 

মিথি থমথমে কণ্ঠে বলল,

‘ না।’ 

‘ কেন!’ 

মিথি মৌনির দিকে তাকাল। এই অসহ্য মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থেকে মিথির কী মনে হলো কে জানে! বুকের ভেতর জমিয়ে রাখা টুকরো কথাগুলোকে বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে দিল। বলল,

‘ বিয়ের এক্সপেরিয়েন্সটা খুব ভালোর দিকে নিয়ে যেতে দুইজনকেই চেষ্টা করতে হয় মৌনি। একজনের চেষ্টায় কিছু হয় না৷ আমি আমার ভাগের চেষ্টা করে ফেলেছি। এর থেকে বেশি চেষ্টা করলে আমি নিজের কাছে হেরে যাব। এবার অপরপক্ষের পালা।’ 

‘ আর তোমার মনে হচ্ছে, অপরপক্ষ এই চেষ্টাটা করবে না?’ 

মিথি উত্তর দিলো না। মৌনি কয়েক সেকেন্ড মিথির দিকে তাকিয়ে রইল। ওর বলতে ইচ্ছে হলো, কিন্তু আমার ধারণা অপরপক্ষ এই চেষ্টাটা করবে মিথি আপু। সাব্বির ভাই ভয়ংকরভাবে তোমার প্রেমে পড়েছে কিন্তু তুমি জানো না। অথচ বলল,

‘ আমি কী তোমায় একটু জড়িয়ে ধরতে পারি মিথি আপু? আমার আজ ভয়ংকর মন খারাপ। এতো মন খারাপ যে মরে যেতে ইচ্ছে করছে।’ 

মিথি কিছু বলল না। মিথিকে বিস্মিত করে দিয়ে অনুমতির অপেক্ষা না করেই মিথিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল মৌনি। মিথি ততোধিক বিস্ময় নিয়ে খেয়াল করল, খুব অসহ্য মেয়েটির আলিঙ্গন খুব একটা অসহ্য লাগছে না। বরং সহনীয় লাগছে। ধীরে ধীরে বুকের কোথায় যেন জল জমছে। অপরিচিত একটা কান্না বুক বেয়ে উঠে আসতে চাইছে কণ্ঠে তারপর চোখে। মিথি নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। মৌনি ছাড়ল না। আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখল তাকে। মিথির মনে হলো জন্মের পর এই প্রথম কেউ তাকে আলিঙ্গন করছে। এর আগে কারো স্মৃতি তো মনে পড়ে না। মৌনি ফিসফিস করে বলল,

‘ আমার ভীষণ কান্না পাচ্ছে মিথি আপু। মনে হচ্ছে, এই পৃথিবীতে সবাই ভীষণ একা। বিষণ্ণ। পৃথিবীর এতো বিষণ্ণতা আমি নিতে পারছি না। আমার একা কাঁদতে লজ্জা লাগছে। তুমি কী আমার সাথে একটু কাঁদবে, প্লিজ?’ 

মিথি উত্তর দিলো না। বৃষ্টির গতি বেড়েছে। মৌনি বৃষ্টির রিমঝিমের সাথে সুর মিলিয়ে ধরা কণ্ঠে গাইল, 

‘ যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো 
চলে এসো 
এক বরষায়। 
যদি মন কাঁদে…’ 

মিথি নিজের সব দেওয়াল মিথ্যে করে দিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল এবার। ধীরে ধীরে বাড়ল সেই কান্নার গতি। কীসের জন্য, কার জন্য এই কান্না মিথি জানে না। শুধু জানে, বহুদিন সে কাঁদে না। বহুদিন সে কাঁদার মানুষ পায় না। বহুদিন কেউ তাকে ভালোবাসে না। বহুদিন, বহুদিন সে ভালো থাকে না। মিথির হাউমাউ কান্নার মাঝেই ধরফর করে দরজার কাছে উঠে এলো সাব্বির। ঘুম চোখে অবাক হয়ে সে দাঁড়িয়ে রইল দরজায়। অস্থির বিষণ্ণতা নিয়ে সে শুধাল,

‘ কাঁদছ কেন মিথি! কী হয়েছে তোমার?’ 
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp