জুলফা চোখ মেলে নিজেকে বিশাল বটগাছের কুঞ্জিত শিকড়ে হেলান দিয়ে বসে থাকতে দেখতে পায়। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে নাভেদ, হাতে ধরা ঘোড়ার লাগাম। তখন সকালের কোমল আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছিল আকাশের গায়ে। জুলফা উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করতেই তার শরীর বিদ্রোহ ঘোষণা করে। দীর্ঘ অনাহার আর দুশ্চিন্তায় তার দেহ অবসন্ন। সে হাত বাড়িয়ে গাছের খসখসে বাকল ধরে উঠতে চেষ্টা করলে নাভেদ দ্রুত এগিয়ে আসে। জুলফাকে সাহায্য করার জন্য হাত বাড়ায়, "সাবধানে," ফিসফিস করে বলে, "আপনি এখনও খুব দুর্বল। আস্তে আস্তে উঠুন।"
জুলফা নাভেদের দিকে লাজুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে কোনোমতে বলে, "আমি... আমি ঠিক আছি।"
নাভেদ একটু পিছিয়ে গিয়ে বলে, "আপনাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারতাম। কিন্তু তাতে আপনার সম্মানে আঘাত লাগতে পারে। সমাজের চোখে... বুঝতেই তো পারছেন। তাই এখানেই অপেক্ষা করতে হলো।"
জুলফার মনে পড়ে গত রাতের ঘটনা। সে যখন জ্ঞান হারিয়েছিল, ঠিক তখনই নাভেদ ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়া থেকে তাকে বাঁচিয়েছিল। লজ্জায় তার গাল দুটো টকটকে লাল হয়ে উঠে।
"আমি কীভাবে আপনাকে ধন্যবাদ দেব, জানি না।"
"ধন্যবাদের প্রয়োজন নেই। আপনি নিরাপদে আছেন, এটাই আমার কাছে যথেষ্ট। আমি যা করেছি, তা যে কেউই করত।"
জুলফা শাড়ির আঁচল দিয়ে মাথা ঢেকে বলে, "আপনি না থাকলে..." কথাটা শেষ করতে পারে না, গলায় কী যেন আটকে যায়।
নাভেদ জুলফার অস্বস্তি অনুভব করে একটু দূরে সরে গিয়ে বলে, "বাড়ি ফিরে যান। আমি এখানেই থাকব, যতক্ষণ না আপনি নিরাপদে পৌঁছে যান।"
জুলফা মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। সে ধীরে ধীরে জমিদার বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করে। মহলে ঢুকে সোজা নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে বসে পড়ে মেঝেতে। এ কী স্বপ্ন ছিল নাকি বাস্তব!
জমিদার বাড়ির প্রাঙ্গণে রোদ্দুর ঝলমল করছে। হঠাৎ করে বাড়ির নিস্তব্ধতা ভেঙে যায় সাইকেলের ঘণ্টির শব্দে। দারোয়ান মতিন মিঞা দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে বলেন, "কে?"
"আমি ডাকপিয়ন। একখান চিঠি আছে," উত্তর আসে গেটের ওপার থেকে।
মতিন মিঞা তালা খুলে গেট ফাঁক করতেই দেখে এক মধ্যবয়সী লোককে। তার পরনে খাকি রঙের হাফ প্যান্ট আর হাফ শার্ট, মাথায় একটা পুরনো ক্যাপ। কাঁধে ঝুলছে একটা ময়লা ব্যাগ।
"কার নামে চিঠি?"
"ছোট জমিদারের নামে।"
ডাকপিয়ন ব্যাগ থেকে একটা খাম বের করে।
মতিন মিঞা খামটা মনিরের কাছে পৌঁছে দেয়। মনির খাম নিয়ে দোতলায় জাওয়াদের ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আস্তে আস্তে দরজায় কড়া নাড়ে।
"কে ?" ভেতর থেকে জাওয়াদের তেজি গলা শোনা যায়।
"হুজুর, আমি মনির। আপনের নামে চিঠি এসেছে।"
"ভেতরে আয়।"
মনির দরজা খুলে ঘরে ঢোকে। জাওয়াদ তখন তার পুরনো কাঠের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে।
"রাখ ওইখানে," জাওয়াদ টেবিলের একপাশে ইশারা করে।
মনির খামটা রেখে চলে যায়। জাওয়াদ হাত বাড়িয়ে খামটা খুলে। চিঠির প্রথম কয়েকটা লাইন পড়তেই তার ভ্রু কুঁচকে যায়। যত পড়তে থাকে, মুখের রেখাগুলো তত কঠিন হতে থাকে।
চিঠি শেষ করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। জানালার কাছে গিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্রুত পায়ে যেতে থাকে দ্বিতীয় তলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত রাইহার ঘরের দিকে।
রাইহার ঘরের সামনে এসে থমকে দাঁড়ায় সে। একটু ইতস্তত করে গভীর শ্বাস নিয়ে দরজায় কড়া নাড়ে।
"কে?" রাইহার কণ্ঠ।
জাওয়াদ উত্তর দেয় না। রাইহা দরজা খুলতেই, জাওয়াদ ঝড়ের বেগে ঘরে ঢুকে পড়ে। সে খামটা বিছানার উপর রেখে, কিছুটা অস্থির স্বরে বলে, "আসিফ চিঠি পাঠিয়েছে।"
রাইহার চোখ দুটি উজ্জ্বল হয়ে উঠে।
সে উৎসুক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে, "কী বলেছে? পাসপোর্ট পেয়েছে?"
জাওয়াদ কঠিন স্বরে বলে, "পাসপোর্ট এখনো নিতে পারেনি। আর কতদিন তোমাকে নিয়ে এখানে থাকতে হবে? আমি সত্যিই বিরক্ত হয়ে গেছি, রাইহা। ওটা তোমার বাপ নাকি শত্রু?"
রাইহার মুখের হাসি মুহূর্তে মিলিয়ে যায়। সে চোয়াল শক্ত করে বলে, "তুমি ভেবো না, আমিও এখানে থাকতে চাই না। আমি কালই চলে যাব।"
এ কথায় জাওয়াদ অবাক হয়। বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করে, "কোথায় যাবে? তোমার কোথাও যাওয়ার জায়গা আছে নাকি?"
রাইহা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে জাওয়াদের দিকে তাকায়। তার চোখে মুখে অভিমান। সে ধীরে ধীরে বলে, "সে তোমাকে জানতে হবে না। প্রথম দিন থেকে তুমি আমাকে সহ্য করতে পারছ না। এইবার তোমারও মুক্তি, আমারও। দেখো, আমার ব্যাগপত্র গুছানো শেষ।"
জাওয়াদ বিস্ময়ে কয়েক মুহূর্ত চোখ পিটপিট করে বলে, "ঠিক আছে। তবে যাবার আগে একটা কাগজে সই করে যেও। লিখে দিও, তুমি স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছ। রাস্তাঘাটে যদি মরে-টরে যাও, যেন আমাকে কেউ দায়ী না করে।"
রাইহা বিস্ফোরিত নয়নে তাকিয়ে থাকে জাওয়াদের দিকে। এই ছেলেটা কী করে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে? সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে মৃদু স্বরে বলে, "তোমাকে এতদিন জ্বালাতন করার জন্য আমি সত্যিই সরি, জাওয়াদ। আমি কেবল বিপদে পড়েছিলাম বলেই তোমার এতসব কথা সহ্য করেও এখানে থেকেছি। আমি এইবার সত্যি চলে..."
রাইহা কথা শেষ করার আগেই ঘুরে দেখে জাওয়াদ ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে।
জাওয়াদ রাইহার ঘর থেকে বেরিয়ে সোজা ছাদে এসে দাঁড়ায়৷ উঁচু থেকে সে নীরবে পর্যবেক্ষণ করে বাগানের দৃশ্য। তার দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে গুলনূরের ওপর। বাগানে নানা ধরনের কাজ চলছে। কিছু দাসী গাছের গোড়ায় জল দিচ্ছে, কেউ আগাছা তুলছে, আবার কেউ পাকা ফল তুলছে ঝুড়িতে। গুলনূর একটা ছোট কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে বীজ বোনার জন্য জমি তৈরি করছে। তার অবস্থান অন্য দাসীদের থেকে কিছুটা দূরে। তাই খুব সহজেই অন্য দাসীরা বুঝতে পারে জাওয়াদ ছাদ থেকে গুলনূরকেই দেখছে। তারা একে অপরের দিকে তাকায়। চোখে চোখে কথা হয়। তারপর তারা গুলনূরের কাছে গিয়ে বসে।
প্রথম দাসী ফিসফিস করে বলে, "ও গুলনূর, তোর কপালে তো চাঁন উঠছে! দেখছ না? ছোট জমিদার ছাদ থাইকে তোরে কেমনে দেখতাছে।"
দ্বিতীয় দাসী হাসতে হাসতে যোগ করে, "এখন থাইকা ওরে 'বেগম গুলনূর' বইলা ডাকা লাগব!"
তৃতীয় দাসী গুলনূরের কানের কাছে মুখ এনে বলে, "এই সুযোগটা হাতছাড়া করিছ না। একটু হাসি দিয়া দে ছোট জমিদারের দিকে তাকায়া। দেখবি, কাল থেকে তোর আর এই রোদে পুড়ে কাজ করতে হইতেছে না।"
দাসীদের কথায় গুলনূরের বুকের ভেতরটা দুরু দুরু করে ওঠে। সে অবাক চোখে মাথা তোলে তাকায় উপরের দিকে। চোখ পড়ে জাওয়াদের চোখে। মুহূর্তের জন্য দুজনের দৃষ্টি বিনিময় হয়। যতবার জাওয়াদের সঙ্গে তার দৃষ্টি মিলন ঘটে একটা শিরশির অনুভূতি হয় বুকের ভেতর।
সেই মুহূর্তে যেন সময় থেমে যায়। বাতাসে ভেসে আসে ফুলের মিষ্টি গন্ধ। দূরে একটা পাখি ডেকে উঠে।
মুহূর্তটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। দাসীদের মধ্যে হাসাহাসি শুরু হতেই জাওয়াদের মুখভাব পাল্টে যায়। সে হঠাৎ সচেতন হয়ে উঠে নিজের অবস্থান সম্পর্কে। একজন জমিদারপুত্র হয়ে এভাবে একজন দাসীকে দেখা উচিত হচ্ছে না। জাওয়াদ দ্রুত মুখ ঘুরিয়ে নেয়। এমনভাবে চারদিকে তাকাতে থাকে যেন সে শুধু সামগ্রিকভাবে বাগানের কাজকর্ম তদারকি করছে।
গুলনূর আবার মাথা নিচু করে কাজে মন দেয়। দাসীরা এই ঘটনাকে ঘিরে হাসিঠাট্টা করতে থাকে। তাদের চাপা হাসি আর ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তায় বাগানটা মুখর হয়ে উঠে।
সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তে গুলনূর তার ভিজে চুল নিয়ে ঘরে ঢুকে। গোসলের পর তার গায়ে এখনও পানির ছোঁয়া লেগে আছে। তখনই জাওয়াদ এসে দাঁড়ায় ঘরের সামনে, হাতে কুড়িয়ে পাওয়া সেই চিঠি। সে দরজায় আলতো করে আঘাত করে। গুলনূর হন্তদন্ত হয়ে দরজা খুলে চমকে যায়। দ্রুত মাথা নত করে কুর্নিশ জানায়।
জাওয়াদের চোখে-মুখে কৃত্রিম অহংকারী ভাব। দরজায় হাত রেখে জোরে ধাক্কা দিতেই দরজাটা পুরো খুলে যায়।
গুলনূর ললজ্জাবতী লতার মতো দাঁড়িয়ে আছে মাথা নিচু করে। জাওয়াদ দাঁড়িয়ে আছে বুক ফুলিয়ে। সে গুলনূরের দিকে তাকিয়ে ব্যঙ্গ করে বলে, "মাথাটা এতই ভারী যে তুলতে পারছো না? সোজা হয়ে দাঁড়াও। দেখি, তোমার মেরুদণ্ড আছে কি না!"
গুলনূর বিব্রতবোধ করে। সে ধীরে ধীরে মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।
গুলনূরের ঘরটি খাসমহলের একটি ছোট ঘর। দেয়ালে ঝুলানো কয়েকটি পুরনো তসবির। একটি ছোট জানালা দিয়ে বাইরের উঠানের একটুখানি দেখা যায়। ঘরের এক কোণে একটি সাদাসিধে খাট, উপরে পরিপাটি করে ভাঁজ করা কাপড়চোপড়। অন্য দিকে একটি ছোট আলমারি।
ঘরের মাঝখানে একটা ছোট গালিচা পাতা, গুলনূরের নিত্য নামাজের স্থান। দেয়ালের গায়ে টাঙানো একটি আয়না। ঘরের এক কোণে একটি ছোট শূন্য টেবিল। জাওয়াদের চোখে বিস্ময়, সে ভেবেছিল এখানে বইখাতা, কালি কলম দেখতে পাবে। সে ধীরে ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে হাতের চিঠিটি গুলনূরের সামনে মেলে ধরে কৌতুকের সুরে বলে, "বেশ ভালো লিখো তো।"
গুলনূর তার পায়ের আঙ্গুল দিয়ে মেঝে খোঁড়ার অসহায় চেষ্টা করছে। জাওয়াদ তার অস্বস্তি লক্ষ্য করেও উপেক্ষা করে বলে, "আমাকে একটা চিঠি লিখে দাও, প্রেমিকাকে দেব।"
গুলনূর পাথরের মূর্তির মতো নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকে।
জাওয়াদের অভিধানে ধৈর্য বলতে কিছু নেই। সে তীক্ষ্ণ সুরে বলে ওঠে, 'যা বললাম, তাই করো। কালি-কলম কোথায় লুকিয়ে রেখেছ? বের করো। জলদি বের করো।"
জাওয়াদ ঘরময় চোখ বোলায়।
গুলনূর দ্রুত ঘরের কোণে রাখা পুরনো ট্রাঙ্কের দিকে এগিয়ে যায়। ট্রাঙ্কটি খুলে সে একটি মলাটহীন খাতা আর একটি পুরনো কলম বের করে বাধ্য মেয়ের মতো জাওয়াদের নির্দেশ পালন করে।
জাওয়াদের ঠোঁটে বিজয়ের হাসি ফুটে ওঠে। তার সন্দেহ যে সত্য প্রমাণিত হয়েছে, সেই আত্মতৃপ্তি তার চোখেমুখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সে বলে, "তাহলে তুমি সত্যিই লিখতে পারো। বাড়ির কেউ জানে না কেন?"
গুলনূরের হাত কাঁপছে। ধীরে ধীরে সে লিখতে শুরু করে। কিছু একটা লিখে খাতাটি জাওয়াদের সামনে তুলে ধরে। জাওয়াদ পড়ে, "কেউ কখনো জিজ্ঞেস করেনি, জানতে চায়নি। তাই কখনো জানানো হয়নি।"
হাতের লেখা দেখে জাওয়াদ মুগ্ধ হয়ে যায়। প্রতিটি অক্ষর ছবির মতো সুন্দর। হয়তো বোবা বলেই তার হাতের লেখায় এমন নৈপুণ্য। সৃষ্টিকর্তা সত্যিই অদ্ভুত। তিনি প্রত্যেককেই কোনো না কোনো অনন্য গুণ দিয়ে পাঠিয়েছেন।
ঘরের ছোট্ট জানালা দিয়ে সন্ধ্যার শেষ আলোটুকুও ঢুকতে পারছে না। অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরটি। গুলনূরের চোখজুড়ে আতঙ্ক। অন্ধকার ঘরে পুরুষ মানুষের উপস্থিতি মাত্রই তার শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসে, বুকের ভেতর পাথর চেপে বসে। হঠাৎ করেই সে টেবিল ছেড়ে উঠে পড়ে। তাড়াহুড়োয় পা জড়িয়ে যায় চেয়ারের পায়ায়। টলমল করে পড়ে যাচ্ছিল সে। জাওয়াদ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু তার স্পর্শের আশঙ্কায় গুলনূর আরও বেশি সন্ত্রস্ত হয়ে উঠে। জাওয়াদ থমকে দাঁড়ায়। গুলনূরের মুখে ফুটে ওঠা আতঙ্ক তাকে বিস্মিত করে দেয়।
"কী হলো? হঠাৎ ভয় পাচ্ছ কেন?" সে আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে থাকে গুলনূরের দিকে।
"তোমার কি অসুখ করেছে? কোথাও ব্যথা হচ্ছে? কী আশ্চর্য, এমন করে কাঁপছ কেন?" জাওয়াদ গুলনূরের থুতনি ধরে মুখটা তুলে ধরে বলে, "আমাকে দেখে ভয় কিসের? আমি কি এতই ভয়ঙ্কর?"
জাওয়াদের স্পর্শে গুলনূরের সারা শরীর শিউরে উঠে। সে পিছু হটতে থাকে, যেন কোনো বিষধর সাপের সামনে পড়ে গেছে।
তার চোখে ফুটে উঠে নির্বাক আর্তনাদ, "আমাকে ছুঁবেন না, ছুঁবেন না৷ দূরে সরে যান।"
·
·
·
চলবে……………………………………………………