আজ ওদের মন ভালো নেই - পর্ব ৪৫ - নৌশিন আহমেদ রোদেলা - ধারাবাহিক গল্প

          সেক্রেটারিয়েট টেবিলে এক গাদা কাগজ ছড়িয়ে ল্যাপটপে চোখ ডুবিয়ে বসে আছে মিথি। কপালে চিন্তার ভাঁজ, চোখে-মুখে গাম্ভীর্য। হালকা রঙের উপর চওড়া পাড়ের শাড়িতে আরও রাশভারী দেখাচ্ছে তার চেহারা। আজ তাদের শুটিং শিডিউল নেই। তারপরও অফিশিয়াল কাজের ভারে নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসত নেই। নিজের টেলিফিল্ম নিজে প্রযোজনায় স্বাধীনতা যেমন আছে দুশ্চিন্তাও আছে প্রতুল। সকাল থেকে শুটিংয়ের খরচ, লোকবল, সেট ডিজাইন, প্রপস, কস্টিউম, ক্যামেরা ইত্যাদির হিসেব, বাজেটের বিবরণ দেখাশোনা করতে করতেই দুপুর পেরিয়ে গিয়েছে মিথির। মধ্যাহ্নভোজের পর স্পন্সরশিপের জন্য দুটো কোম্পানির সঙ্গে দেখা করবার কথা। তার আগে এট্যান্ড করতে হবে প্রোডাকশন মিটিং। মিথি রিডিং গ্লাসটা খুলে রেখে হৃদয়কে ডেকে পাঠাল। হৃদয় ভেতরে এসে দাঁড়াতেই সরু আঙুলগুলো ল্যাপটপের কি-বোর্ডে ব্যস্ত রেখে প্রশ্ন করল মিথি,

‘ প্রোডাকশন শিডিউলটা তৈরি করেছ হৃদয়?’ 

প্রত্যুত্তরে মুখ কাঁচুমাচু করে দাঁড়িয়ে রইল হৃদয়। মিথি এবার ল্যাপটপের পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে সামনে তাকাল। হৃদয়কে মুখ ছোট করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্পষ্ট অসন্তোষ ফুটে উঠল চোখে। অসন্তুষ্ট কণ্ঠে বলল,

‘ একটা শিডিউল তৈরি করতে এতোক্ষণ লাগে তোমার? এটা তোমার গতকাল রাতে কমপ্লিট করে রাখার কথা ছিল। অথচ দুপুর পেরিয়ে যাচ্ছে এখনও তুমি আমাকে একটা শিডিউল দিতে পারলে না। তোমার ধারণা আমার হাতে নষ্ট করার মতো অজস্র সময় আছে? আমি এখানে সময় নষ্ট করার জন্য বসে আছি? তোমার কাছে সময়ের মূল্য না থাকলেও আমার কাছে প্রতিটি সেকেন্ড অমূল্য। তোমার কাজ যদি আমাকেই করতে হয়, এইটুকু কাজের জন্য যদি এতো সময়ই খরচ হয় তাহলে তো অযথা তোমাকে কাজে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন দেখছি না। কেবল চেহারা দেখাতে কাজে আসার দরকার নেই।’ 

মিথির কঠিন কণ্ঠে মলিন হয়ে গেলো হৃদয়ের সদা চঞ্চল মুখশ্রী। মাথা নুইয়ে, মুখ কালো করে বলল,

‘ সরি আপু। আর ঘন্টাখানেকের মধ্যেই কমপ্লিট করে ফেলব শিডিউল। রিদিমা ম্যাডাম খুব ঘুরাচ্ছে। কালকে থেকে উনার এসিস্ট্যান্টের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। কিন্তু ঠিকঠাক কোনো শিডিউলই দিচ্ছে না। একবার বলে পাঁচ তারিখ ফ্রী, আবার বলে ছয় তারিখ। আবার..’ 

মিথি শীতল চোখে হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। আপাতদৃষ্টিতে সামান্য এক রমণী, বয়সে হৃদয়ের থেকে কতোই আর বড় হবে? চার-পাঁচ বছর। অথচ তার ঠান্ডা চাহনিতে কণ্ঠ শুকিয়ে আসে হৃদয়ের। সে শুকনো কণ্ঠে বলল,

‘ আধঘন্টার মধ্যে শিডিউল রেডি করে ফেলব আপু।’ 

 বাম হাতের মণিবন্ধের শোভাবর্ধন করা ঘড়িটির দিকে এক নজর তাকিয়ে নির্লিপ্ত কণ্ঠে সময় নির্ধারণ করে দিল মিথি। ল্যাপটপে পুনরায় ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার আগে বলল,

‘ ইউ অনলি হ্যাভ ফিফটিন মিনিটস্।’ 

হৃদয় হতাশ চোখে তাকাল। প্রতিবাদ করার সাহস করতে না পেরে দীর্ঘ একটা শ্বাস ফেলে দ্রুত কাজে ফেরার জন্য রওনা দিল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পেছন থেকে ডাক পড়ল। মিথি হঠাৎ মনে পড়েছে এমন ভঙ্গিমায় বলল,

‘ ওহ হৃদয়! শিডিউল তৈরি শেষে কাউকে দিয়ে এই মাসের পুরোনো খবরের কাগজগুলো কিনে আনার ব্যবস্থা করো তো।’ 

হৃদয় অবাক হলো। কণ্ঠে বিভ্রান্তি নিয়ে শুধাল,

‘ খবরের কাগজ! কিন্তু প্রপসে খবরের কাগজ লাগবে এমন তো কোনো সিকুয়েন্স নেই আপু।’ 

মিথি তাকাল। ঠান্ডা ধমক দিয়ে বলল,

‘ আনার ব্যবস্থা করতে বলেছি, ব্যবস্থা করবে। কথায় কথায় এতো প্রশ্ন করো কেন হৃদয়? খবরের কাগজগুলো আমার প্রয়োজন।’ 

পুরোনো খবরের কাগজ দিয়ে মিথির কী কাজ বোধগম্য না হলেও বাধ্য ছেলের মতো মাথা নাড়ল হৃদয়। দ্রুত পায়ে বেরিয়ে গেল নিজের কাজে। কাজের সময় মিথির সময়-জ্ঞান খুব টনটনে। পনেরো মিনিটের জায়গায় ষোল মিনিট হয়ে গেলেই রণচণ্ডীর মতো জ্বলে উঠবে। ঠান্ডা কথার ছুরিতে একেবারে কেটে ছিঁড়ে ফেলবে হৃদয়। হৃদয় হতাশ নিঃশ্বাস ফেলল। কোন কুক্ষণে যে পরিচালনার কাজে মন মজেছিল তার! শালা! সব বাঁশ শুধু তার জন্যই। 

—————

রৌদ্রজ্জ্বল দুপুর। নাহিদ টেবিলের কাছের জানালাটা খোলে এক মনে আঙুল চালিয়ে যাচ্ছে ল্যাপটপের কি-বোর্ডে। ল্যাপটপের পাশেই এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে কিছু খসড়া কাগজ। তারপাশেই অবহেলায় পড়ে আছে ক্রাইম জার্নালিজম নিয়ে কয়েকটা ইংরেজি বই। মার্কার, স্টিকি পেপার। নাহিদ আনমনে ঠান্ডা হয়ে আসা চায়ের কাপে চুমুক দিল। ল্যাপটপের স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একের পর এক অক্ষরমালা। কপালে মনোযোগী ভাঁজ ফেলে ব্যস্ত হাতে সে লিখে চলেছে ফিচারের খসড়া, 

রাতের ঢাকা: একটি নিষিদ্ধ দুনিয়া 
 রাতের আঁধার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকার লালবাতির নিচে আরম্ভ হয় অন্যরকম এক জীবন। অন্ধকারের চাদর মুড়িয়ে শুরু হয় নগর জীবনের ভয়াল এক খেলা। রাত যত গভীর হয় কোলাহল থেমে নীরব হয়ে আসে সাধারণ মানুষের শহর ; জেগে উঠে ঘুমন্ত অসুরের দল। সভ্য মানুষের ব্যস্ত নগরকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে নেয় নগ্নতা। লালসা। বিশ্বাসঘাতকতা …  

লিখতে লিখতে হঠাৎ থেমে যায় নাহিদ। কর্মচঞ্চল মস্তিষ্কে পলক ফেলার ব্যবধানে টের পায় একটি পরিবর্তন, ‘ কেন?’ নাহিদ মূর্তির মতো স্থির হয়ে যায় নিমেষে। ফিরে আসছে! ওই রোগটা আবারও ফিরে আসছে টের পায় নাহিদ। নাহিদ দ্রুত চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। কেউ না জানুক, নাহিদ জানে, প্রতিনিয়ত কতটা যুদ্ধ সে করছে নিজের সঙ্গে। ব্ল্যাকহোলের মতো একটা লোপ ক্রমাগত ঘুরে বেড়াচ্ছে তার পাশ ঘেঁষে। সেই লোপ ভর্তি কেবল হতাশা আর প্রশ্ন। কেন এই পৃথিবীতে থাকতে হবে নাহিদকে? কেন এই অহেতুক ছুটাছুটি? কীসের লোভে এই সকল পরিশ্রম? হাওয়ার মতো শনশন আওয়াজ তোলে বহু, অজস্র প্রশ্ন এক সঙ্গে ধেয়ে আসে সেখান থেকে। সেই প্রশ্নের তোপে এলোমেলো হয়ে যায় নাহিদ৷ হারিয়ে ফেলে নিজেকে। নাহিদ টের পায় কেবল একটা আঁচল, এক টুকরো স্নেহের ছায়া দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার আর ওই ভয়াল লোপের মাঝে। কী ভীষণ পরিশ্রম করছে সে নাহিদকে টিকিয়ে রাখতে, বাঁচিয়ে রাখতে। কিন্তু কতক্ষণ পারবে সে? নাহিদ তাকে সাহায্য করতে চায়। দ্রুত নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলতে চায়। টেবিলের উপর থেকে ব্যস্ত হাতে একটা বই তুলে নিয়ে বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। আর এক মুহূর্ত এই বদ্ধ ঘরে থাকা যাবে না। তার এখন মানুষ দরকার। মানুষ! মানুষ! কথা বলার মতো একটি মানুষ কোথায় পাবে সে? নাহিদ আশ্চর্য হয়ে আবিষ্কার করে আটশো কোটি মানুষের পৃথিবীতে, অজস্র বন্ধু দিয়ে ঘেরা এই জীবনটিতে আসলে কথা বলবার মতো একটি মানুষ তার নেই। যার কোলে নির্দ্বিধায় মুখ ডুবিয়ে দেওয়া যাবে। যে তাকে কোমল স্নেহে আড়াল করে রাখবে পৃথিবীর সমস্ত প্রশ্ন থেকে। নাহিদের মন ভার হয়ে আসে। সেদিনের সেই উষ্ণ স্পর্শ, সেই আদুরে অস্তিত্ব আরও একবার নিজের শরীরে ফিরে পাওয়ার জন্য আকুল হয়ে উঠে মন। নাহিদ হাতে বই রেখেই সিগারেট ধরায়। নিকোটিনের ধোঁয়ায় উড়িয়ে দিতে চায় দ্বিমুখী অনুভূতিদের। কিছুক্ষণ উদাসমুখে আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে সামনে তাকাতেই চোখে পড়ে ছয় তলার সেই মেয়েটি কাপড় মেলে দিচ্ছে ছাদের একপাশে। আড়চোখে বারবার নিরক্ষণ করছে তাকে। রমণীদের সঙ্গে কথা বলতে নাহিদের ভালো লাগে। মিষ্টি কথায় তাদের মন বুলানো সবসময়ই তার প্রিয় অবসর। কিন্তু সে আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করল, আজ তার মন টানছে না। সামনে সদ্য স্নান করা যৌবনবতী তরুণী তার সঙ্গে কথা বলবার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে অথচ নাহিদ যেন দেখেও দেখল না। পাঁচিলে ঠেস দিয়ে একইভাবে দাঁড়িয়ে থেকে উড়াতে লাগল নিকোটিনের ধোঁয়া। মেয়েটি নিজে থেকেই এগিয়ে এসে শুধাল,

‘ কেমন আছেন?’ 

নাহিদ চোখ ফিরিয়ে তাকাল। হাতের সিগারেটটা ফেলে দিয়ে ঠোঁটের কোণে হাসি ধরে রেখে সে তাকিয়ে রইল মেয়েটির দিকে। মেয়েটি একটু অপ্রস্তুত, একটু লাল হয়ে বলল,

‘ এভাবে কী দেখছেন?’ 

নাহিদ হাসল। বলল,

‘ আমি সাধারণত কবিতা টবিতা পড়ি না। তবে আপনাকে দেখে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটা কবিতা মনে পড়ল,

শিশির ভেজা ঘাসে তোমার চাঁপা রঙের পা 
তোমার চোখে চোখ রেখেছে, 
সদ্য ফোটা জুঁই 
সেই মুহূর্তে নীরা, 
তুমি টেরও পেলে না 
ফুলকে ছেড়ে ভ্রমর বলল, কিশোরীটিকে ছুঁই।’ 

বলে আরেকটু হাসল নাহিদ। বলল,

‘ সদ্যস্নাতা তরুণীদের যে আসলেই ফোটা জুঁইয়ে মতো লাগে তা আজ জানলাম আমি।’  

মেয়েটি হাসল। প্রসঙ্গ বদলে নাহিদের হাতের দিকে ইশারা করে বলল,

‘ আপনি কবিতা-টবিতা পড়েন না। তবে কী পড়েন?’ 

নাহিদ নিজের হাতের বইয়ের দিকে তাকাল। বইটি দেখিয়ে বলল, 

‘ ওহ্, এটা? The Journalist and the Murderer, Janet Malcolm এর লেখা। এটা কবিতার বই না। প্রেম আর কবিতার বিপরীত সাবজেক্ট নিয়ে লেখা।’ 

‘ প্রেম আর কবিতার বিপরীত সাবজেক্ট! সেটা কী?’ 

‘ হয়তো মৃত্যু, হত্যা, রক্ত।’ 

‘ সেই ভালো। আপনাকে কবিতার বই হাতে ঠিক মানাতো না।’ 

মেয়েটি ততক্ষণে নাহিদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। নাহিদ তার দিকে তাকিয়ে হাসল। চোখে দুষ্টুমি নিয়ে বলল,

‘ আচ্ছা! তাহলে আপনি বলুন, কবিতা নয়, তো কীসে মানায় আমায়?’ 

‘ এইযে, যে বইটি হাতে, যেভাবে দাঁড়িয়ে আছেন সেভাবেই মানায় আপনাকে।’ 

তারপর নাহিদের দিকে পূর্ণদৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

‘ আপনি তো জার্নালিজম পড়েন তাই না?’ 

নাহিদ দুই হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে ছিল। মেয়েটির প্রশ্নে দায়সারা কণ্ঠে বলল,

‘ বোধহয় পড়ি। আমি গুড ফর নাথিং টাইপের ছেলে। পড়ার থেকে ঘুরতে-ফিরতে ভালোবাসি বেশি। একটা গান ছিল শুনেছেন?

আমি এক গরিব প্রেমিক নীলা 
আমার আর কিচ্ছু করার নেই 
আমি এক বেকার প্রেমিক নীলা 
তোমাকে কিচ্ছু দেবার নেই।’  

মেয়েটি নাহিদের দিকে তাকিয়ে রইল। মোহিত কণ্ঠে বলল,

‘ নীলাদের যে সবসময় কিছু চাওয়ার থাকে সেটা কে বলল আপনাকে?’  

নাহিদ চোখ বড় বড় করে তাকাল, 

‘ থাকে না নাকি? গ্রেট!’ 

মেয়েটি চোখ ফেরাল না। গ্রীক দেবতাদের মতন কাটা কাটা চেহারার নাহিদের দিকে তাকিয়ে রইল এক দৃষ্টিতে। দেখল, তার কালচে ঠোঁট, কঠিন চোয়াল, বিষণ্ণ বাদামি চোখ, শার্টের উন্মুক্ত বোতামের ফাঁকে পেটানো ছাতি, ভাঁজ করে রাখা জামার আস্তিনের সঙ্গে আঁটোসাঁটো হয়ে জড়িয়ে থাকা সুঠাম বাহু। মেয়েটি মোহগ্রস্তের মতো বলল,

‘ আপনি…আপনি দেখতে অনেকটা ক্রিস্টিনা লরেনের উপন্যাসের মতো। সো.. সো মাচ ইরোটিক!’ 

‘ইরোটিক!’ হেসে ফেলল নাহিদ। একটু ঝুঁকে এসে দুষ্টুমি করে জানতে চাইল,

‘ তাই নাকি? ক্রিস্টিনা লরেন তো অনেক উপন্যাসই লিখেছেন। আমাকে ঠিক কোন উপন্যাসটির মতো মনে হলো আপনার?’ 

মেয়েটি ফিসফিস করে বলল,

‘ আ বিউটিফুল বাস্টার্ড।’ 

তারপর আর কথা এগোলো না। নাহিদ নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল মেয়েটির চোখে। তাদের দু'জনকে ঘিরে ধীরে ধীরে যে শরীরবৃত্তীয় রসায়ন ঘনীভূত হলো সে রসায়ন নাহিদের পরিচিত। সে মুক্তমনা মানুষ। স্ব-ইচ্ছায় কেউ নিজেকে সমর্পন করলে সেখানে কোনো অপরাধ নেই বলেই তার বিশ্বাস। এই মেয়েটিকে পাওয়াও খুব সহজ। হৃদয়ের সুতোয় একটু টান পড়লে কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে এই বয়সী মেয়েরা নিজ উদ্যোগেই রঙিন চশমা পরে পা বাড়ায় ভুল অথবা নতুন অভিজ্ঞতার দুনিয়ায়। জনশূন্য ছাদ, নিস্তব্ধ দুপুরে নির্বিঘ্নে অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে। কিন্তু নাহিদের ইচ্ছে হলো না। এই অশান্ত হৃৎকমলকে শান্ত করতে কোনো আনকোরা অষ্টাদশীর চাহিদা তার নেই। তার দরকার একটা ছায়া দেওয়া বৃক্ষ, একটা টলটলে দিঘি। একটুখানি শীতল হাওয়া। যার মেলে রাখা আটপৌরে আঁচলে থাকবে মায়ের মতো আরাম। এই পুরুষসত্তার জন্য নয় ভেতরের ভীত, শ্রান্ত শিশু সত্তার কপালে যে চুমু খাবে পরম আশ্লেষে। কোনো যৌনতা নয়, কোনো উত্তেজনা নয় কেবল একটু শীতল স্নেহের পরশ, ব্যস। তারপর সেই স্নেহ গায়ে জড়িয়ে নাহিদ ঘুমাবে দীর্ঘ, নির্বিঘ্ন একটি ঘুম। 

‘ কী ভাবছেন?’ 

নাহিদ দীর্ঘশ্বাস গোপন করে মেয়েটির দিকে তাকাল। ঠোঁটে হাসি এনে বলল,

‘ কাজের কথা ভাবছিলাম। আপনি থাকুন তবে? আমার একটু কাজ আছে।’ 

কথাটা বলে উত্তরের অপেক্ষা না করে নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে যেতেই পেছন থেকে ডেকে উঠল মেয়েটি, 

‘ আপনাকে একটা চিঠি দিয়েছিলাম কিছুদিন আগে। তার উত্তর দেননি কেন?’ 

নাহিদ তাকাল। অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে সে আরও আনমনা হয়ে গেল যেন! হেসে বলল,

‘ আমি তো চিঠি লিখতে জানি না।’ 

‘ তাহলে মুখেই বলুন।’ 

‘ কী বলব? আপনি চাইলেই আমাকে অজস্র চুমু খেতে পারেন এমন কিছু?’ 

মেয়েটি লজ্জায় মাথা নোয়ালো। নাহিদ হঠাৎ গম্ভীর হয়ে বলল, 

‘ সরি সোহা, ইউ আর নট দ্য গার্ল আই ওয়ান্ট।’ 

বলে নিজেই যেন চমকে গেল নাহিদ। এতো স্পষ্ট করে এর আগে তো কখনও কাউকে অপারগতার কথা জানায়নি সে! আজ প্রথম জানালো। সেই সঙ্গে জানলো, তার হৃদয়ে অদৃশ্য এক রমণীর প্রবল উপস্থিতির কথা। নাহিদ নীরবে ফিরে এলো নিজের ঘরে। কাওরানবাজারে তাদের অফিসটা গুছিয়ে নেওয়ার আগপর্যন্ত ভার্চুয়াল অফিস করছে তারা। সম্পাদকীয় দল, লেখক, ডিজাইনার, প্রয়োজনীয় স্টাফ পরিকল্পনা নিয়ে ধফায় ধফায় আলোচনা হচ্ছে। নাহিদ ভিডিও কনফারেন্সের প্রস্তুতি না নিয়ে মুখ গম্ভীর করে বসে রইল। শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আকাশের দিকে। চোখ বন্ধ করতেই শরীরে অনুভব করল, সেই পুরোনো স্পর্শ। কপাল, চিবুক থেকে নেমে যে মুষলধারার মতো স্থির হয়েছিল নাহিদের খরা বুকে। কানের কাছে মুখ নামিয়ে মায়ের মতো স্নিগ্ধ ভালোবাসা দিয়ে বলেছিল, 

‘ খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে? ভয় নেই, সব ঠিক হয়ে যাবে।’ 

সত্যিই সব ঠিক হয়ে গিয়েছে। নাহিদ সব ঠিক করে ফেলার অপ্রাণ চেষ্টা করেছে। তার অতটুকু স্নেহের বিনিময়ে সেই চেষ্টা নাহিদ আজন্ম করে যাবে। 

————— 

অনেকক্ষণ হলো দুপুর গড়িয়েছে। মৌনির আজ ক্লাস ছিল দুটো থেকে তিনটা পর্যন্ত। একটাই ক্লাস। মৌনি সাধারণত একটা ক্লাসের জন্য ক্যাম্পাসে আসে না। আর এই ভর দুপুরে তো, নৈব নৈব চ! কোনোদিন এই সময়ে ক্লাসে না এলেও আজ মৌনি ক্লাসে এসেছে। তাকে আসতে হয়েছে মিষ্টির জন্য। মিষ্টিকে নিয়ে আজ তার একটু বাইরে বের হওয়ার কথা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মিষ্টির ল্যাব ক্লাস পড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই মৌনিকে নিজের ডিপার্টমেন্টের দিকে আসতে হলো। একটা ঘন্টা একা একা ক্যান্টিনে বসে থাকার চেয়ে ক্লাস করা উত্তম। মৌনি যখন ক্লাসে পৌঁছাল তখন ক্লাসের পঁয়ত্রিশ মিনিট শেষ। স্যার তাকে এই সময় ক্লাসে ঢুকার অনুমতি চাইতে দেখে অবাক হয়ে তাকালেন। মৌনি অবাক হলো তার থেকেও বেশি। এতো চমৎকার দেখতে একজন ফ্যাকাল্টি তার ডিপার্টমেন্টে আছেন অথচ মৌনি এতোদিন দেখেনি! আশ্চর্য! প্রফেসর সম্ভবত মৌনির সময়জ্ঞানের বিস্ময় সামলাতে না পেরে বাক্যহারা হয়ে পড়লেন। মাথা নাড়িয়ে নীরবে তাকে ভেতরে ঢুকার অনুমতি দিলেন। অল্প বয়স্ক প্রফেসর; গায়ে-গতরে আলস্য নেই। এক ঘন্টার ক্লাস তিনি নিলেন আড়াই ঘন্টা। মৌনির ক্লাস করতে কোনোই সমস্যা হলো না। ক্লাস শেষ করে ডিপার্টমেন্টের নিচে মিষ্টিকে অপেক্ষা করতে দেখেই সে উচ্ছ্বাস নিয়ে বলল,

‘ দোস্ত! কী জোস একটা প্রফেসর আজকে ক্লাস নিলো মাইরি! আড়াই ঘন্টা ক্লাস নিয়েছে। লিটারেলি কিছুই বুঝি নাই। তবে তাকে নিয়ে কল্পনায় দুষ্টু দুষ্টু চিন্তা করতে ভালো লেগেছে। কসম ভাই, প্রফেসর আমার কল্পনার সিম্বলও যদি দেখতে পেতো, কালকে থেকে বোরকা পরে আসতো ক্যাম্পাসে।’ 

বলে নিজেই হো-হো করে হেসে উঠল মৌনি। তার হাসির মাঝেই পেছন থেকে একজন গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,

‘ সাইড প্লিজ।’ 

মৌনি সরে দাঁড়িয়ে পেছনে তাকাতেই চমকে গেল। অপ্রস্তুত হয়ে মুখ চেপে ধরতেই প্রফেসর গাঢ় চোখে একবার মৌনির দিকে তাকাল। তারপর পাশ কাটিয়ে চলে গেলে স্বীয় গন্তব্যে। মৌনি কয়েক সেকেন্ড মুখ চেপে দাঁড়িয়ে থেকে প্রায় চিৎকার করে বলল,

‘ মা'বুদ! এটাই সেই প্রফেসর ছিল দোস্ত। নির্ঘাত শুনে ফেলেছে আমার কথা। আল্লাহ! এই কলঙ্কিত মুখ এবার কী করে দেখাব আমি? কী করে?’ 

মিষ্টি অত্যধিক উত্তেজিত হয়ে বলল,

‘ কই! কই! কোনটা? এইযে যাচ্ছে যে এইটা? দূর, আগে বলবি না? দেখতাম!’

মৌনি তৎক্ষনাৎ তার মুখ চেপে ধরে বলল,

‘ আস্তে কথা বল বাপ! পেছন থেকে কেউ কিছু বললে সামনে স্পষ্ট শোনা যায়। এই কথাও শুনে ফেলছে কি-না কে জানে!’ 

দুই বন্ধু এই বিষয়ে নানান জল্পনা কল্পনা করতে করতে বেরিয়ে এলো ক্যাম্পাস থেকে। গেইটের কাছে এসে রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে মৌনি হতাশ হয়ে বলল,

‘ দোস্ত? তোর কী ধারণা? ব্যাটা কী সত্যিই শুনে ফেলেছে আমার কথা?’ 

মিষ্টি কিছু বলতে চাইলো। তাকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে মৌনি নিজেই আবার বুঝ দিল নিজেকে। বলল,

‘ শুনলে শুনেছে, তাতে কী? তারা যে আমাদের নিয়ে কতো কী ভাবে, তাতে কোনো দোষ নেই। কেবল আমরা ভাবলেই দোষ? মনে মনে মন কলা খাইলে ব্যাটার তো কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। ব্যাটা দেখতে সুন্দর। এমন গরম বদনখানি নিয়ে ক্যাম্পাসে আসলে মেয়েদের মাথায় এসব চিন্তা আসবেই! স্বাভাবিক! ঠিক কিনা বল?’ 

মিষ্টিকে প্রশ্ন করে পাশে তাকাতেই আবারও নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল মৌনির৷ তাদের থেকে কিছুদূরে কালো চামড়ার ব্যাগ হাতে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছেন সেই তরুণ প্রভাষক। মৌনি তাকাতেই এক মুহূর্তের জন্য চোখাচোখি হলো। মৌনির ইচ্ছে হলো হাওয়ায় গায়েব হয়ে যেতে। সে মিষ্টির পেছনে নিজেকে আড়াল করার যথাসাধ্য চেষ্টা করে প্রায় কেঁদে ফেলে বলল,

‘ শিট! শিট! শিট! আবার শুনে ফেলেছে। হে বিধাতা, কেন আমার মান সম্মানের সঙ্গে এতো লীলাখেলা? কেন?’ 

মিষ্টি আড়চোখে একবার ভদ্রলোককে দেখে মুখ ফিরিয়ে প্রাণপণে হাসি গোপন করার চেষ্টা করল। ভদ্রলোক রিকশা পেয়ে চলে যাবার সময় দু'জনেই রোবটের মতো স্থির দাঁড়িয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল। মিষ্টি আড়চোখে একবার ভদ্রলোককে দেখে মুখ প্রায় বন্ধ রেখেই জানাল,  

‘ দোস্ত, দেখ দেখ ব্যাটা তোর দিকে তাকিয়েছে।’ 

মৌনি দাঁতে দাঁত চেপে, ‘চুপ কর।’ সাবধানবাণী ছুঁড়ে দিয়েও আড়চোখে পাশে তাকাল। সঙ্গে সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো চোখে চোখ পড়ল তাদের। মৌনি এবার আর্তনাদ করে উঠল, 

‘ ইয়া মা'বুদ! আবার দেখে ফেলেছে ব্যাটা। আমি আর বেঁচে থাকতে চাই না। প্লিজ কেউ আমাকে মেরে ফেলো। প্লিজ!’ 

রিকশায় উঠে আজকের এই মহামারী অস্বস্তির ব্যাপারটা অভ্যাসবশত শাওনকে জানাতে ফোনটা হাতে নিতেই সোশ্যাল মিডিয়ার অজস্র নোটিফিকেশন পেল মৌনি। একটা নোটিফিকেশন থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকতেই সবার প্রথমে সামনে পড়ল শাওনের আপডেট। আজকে সৌমির জন্মদিন। শাওন প্রথমবারের মতো নিজের একাউন্টে প্রকাশ করেছে সৌমি আর তার যুগল ছবি। সঙ্গে আবেগঘন কথামালা। সৌমি তার জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ভালোবাসা এবং বন্ধু। মৌনি লেখাটা পড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। একটু আগের উচ্ছ্বাস মিলিয়ে গিয়ে তার নতুন করে মনে পড়ল, মৌনি শাওনের কেউ না। মৌনি অনেক দূরের মানুষ। যতটা দূরের হলে জীবনের অনেক কথায় আড়ালে পড়ে যায় মনের ভুলে। তাহলে শাওনের এইযে এতো এফোর্ট? এসব কেন? মৌনি বুঝতে পারে না শাওনের জীবনদর্শন। ভাবতে পারে না, কেন সে এমন করল মৌনির সঙ্গে? ভালোবাসার কথা ছেড়ে দিয়ে কেবল বন্ধুত্বের কথা ভাবলেও বুকের ভেতর বিঁধতে লাগল সহস্র অপমানের তীর। এই অপমানের কথা কাউকে বলা যায় না। সওয়া যায় না। কেবল বয়ে বেড়াতে হয়। 

সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতেই সৌমির জন্মদিনে কী কী সারপ্রাইজ দেওয়া হলো তার বিস্তর বর্ণনা এবং ছবি পাঠিয়ে মৌনির ইনবক্স ভরিয়ে ফেলল শাওন। মৌনি শাওনের এই শিশুসুলভ আচরণে বিরক্ত হলো। যে সৌমির কথা এতোদিন তাকে জানানোর প্রয়োজনবোধ করেনি এখন উঠতে বসতে সেই সৌমির সকল আপডেট মৌনিকে পাঠানো যে কতটা অবান্তর তা শাওন বুঝতে পারছে না ভেবেই অবাক হলো মৌনি। শাওনকে এই কাল্পনিক প্রতিশোধ, একপাক্ষিক যুদ্ধ আর প্রবল একটা ধাক্কা দেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত থেকেই একটি ছবি দেখে উচ্ছ্বাস নিয়ে লিখল,

‘ এই ছবিটি জাফলং-এ তোলা না? সিলেট আমার এতো পছন্দের শহর! আমি ওকে বলে রেখেছি যেভাবেই হোক আমাদের বিয়ের প্রথম রাতের ব্যবস্থা যেন সিলেটে করা হয়। চারদিকে চা বাগান, টিলার উপর একটা ছোট্ট বাড়ি, ঝুম বৃষ্টি ভাবতেই ভালো লাগে। আমি ওকে বলেছি, আমার স্বপ্নের ঝুপড়ি বাড়ির মালিক না হওয়া পর্যন্ত আমাকে পাওয়ার স্বপ্ন ভুলে থাকতে হবে।’ 

শাওন থমকাল। কিছুক্ষণ নীরব থেকে জিজ্ঞাসা করল,

‘ ও! ও’টা কে?’ 

মৌনি এবার অপ্রস্তুত হওয়ার নিঁখুত অভিনয় করল। ম্যাসেজটা ডিলিট করে সরল কণ্ঠে বলল,

‘ আরে, ভবিষ্যৎ স্বামীর কথা বলছিলাম। কাউকে না কাউকে তো বিয়ে করবোই তাই না?’ 

শাওন ব্যস্ত হয়ে বলল,

‘ ম্যাসেজটা ডিলিট করলে কেন? ম্যাসেজটিতে তোমার কথাগুলো অন্যরকম ছিল। মনে হচ্ছিল, তুমি জানো তুমি কাকে বিয়ে করবে!’ 

মৌনি এই অভিযোগ কঠিনভাবে নাকচ করলো। সেই সঙ্গে মনে মনে আরও কিছু অপ্রস্তুত হওয়ার মতো নিঁখুত ঘটনা সাজিয়ে ফেলল। মিথ্যাকে কী করে সত্যের থেকেও সত্য করে বিশ্বাস করানো যায় তা মৌনি জানে। নিজের দেওয়া ধাক্কা নিজের বুকে একই সুরে বাজলে ঠিক কী রকম অনুভূতি হয় সে কথা এবার সে শাওনকেও জানাবে । 

—————

মাথা ভরা দুশ্চিন্তা, চাপ, ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরল মিথি৷ দরজায় চাবি দিয়ে দোর খোলে নিজের ঘরের দিকে যেতে নিয়েও কী মনে করে ফিরে এলো আবার। কাঁধের ব্যাগটা টেবিলের একপাশে নামিয়ে রেখে সদ্য কিনে আনা পুরোনো খবরের কাগজের স্তুপটা রাখল টেবিলের ওপর। বসার ঘরে অল্প আলো জ্বলছে। মিথি বইয়ের তাকের পাশে বেতের চেয়ারটিতে বসে টেনে নিলো সেদিনের সেই খবরের কাগজ। কিছু বুঝতে না পেরে কাগজগুলোকে আবারও আগের জায়গাতেই যত্ন করে রেখে গিয়েছিল মিথি। বইয়ের তাকের পাশের আলোটা জ্বেলে দিয়ে তারিখ অনুযায়ী নতুন ও পুরাতন কাগজগুলো সাজাল মিথি। তারপর খুঁজে বের করলো, কেটে ফেলা অংশগুলো। একটা কাঁচি নিয়ে নিজেও সেই অংশগুলো কাটলো সাব্বিরের মতো করেই। কেটে ফেলা অংশগুলো এবার নিগূঢ় মনোযোগে পরখ করল মিথি। কোথাও কী কোনো সঙ্গতি আছে তাদের মধ্যে? বিষয়, মানুষ, শব্দ…। ল্যাপটপে বিষয়টা ঠিক করে ধরতে না পারলেও এইবার খুব সহজেই একটা মিল খুঁজে পেয়ে গেল মিথি। সমস্ত খবরগুলোতে এই সংযোগ একই সঙ্গে বিস্মিত এবং হতবাক করে দিলো তাকে। বুঝতে পারল না, সাব্বির কেন এই খবরগুলো সংগ্রহ করছে? কী বুঝাতে চায় সে মিথিকে? সেদিন রাতে মিথির বাবাকে নিয়ে কথা বলছিল সাব্বির। তবে কী সাব্বিরের বাবা এমন ঘৃণ্য অপরাধ করেছিল কখনও? কিন্তু বাবার অন্যায়ের দায় তো সাব্বিরের নয়। তবে কেন এতো বিব্রত, এতো অপ্রস্তুত, এতো ভীত হয়ে থাকে সে! মিথি চিন্তা করতে পারে না। এই পাশবিক নির্যাতনের খবরগুলোর সঙ্গে কোথায়, কীভাবে সাব্বিরের সম্পর্ক ভেবে কূলকিনারা করতে পারে না। মিথির ভাবনার মাঝে নিজের ঘরের দরজা খুলে দরজায় এসে দাঁড়ায় সাব্বির। মিথি চোখ তুলে তাকায়। দু'জনেই একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে দীর্ঘক্ষণ। এক মুহূর্তের জন্য বড় অচেনা লাগে সাব্বিরের মুখাবয়ব। মিথি অপ্রস্তুত হয়। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সতর্ক হয়ে উঠে। মনে হয়, আজ এমন অনেক কিছু ঘটবে যার জন্য মিথি কোনোদিন প্রস্তুত ছিল না। 
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp