সকালের রঙিন প্রহর। সূর্য পূর্ব আকাশে কিঞ্চিৎ হেলে রয়েছে। আকাশ সোনালী আভায় মুখরিত। ভরাট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শুভ্রা আজ জমিদার বাড়ির প্রাঙ্গণ পেড়িয়ে চলেছে। গত কালের মতো নেই বিন্দুমাত্র কোনো সংকোচ, উদ্বিগ্নতা। অদ্ভুত এক মনোবল এসে ভর করেছে তার লতানো দেহে। হয়তো এটা কারো উপড় অনাকাঙ্ক্ষিত আস্থা, যা অতি স্বাভাবিক ভাবে ধরা দিয়েছে তার মনে। হালকা আকাশী রঙের শাড়ি, যা নিয়মিত ভঙ্গিমায় শুভ্রার দেহে জড়িয়ে আছে। দুই পায়ে সজ্জিত আলতা, যেটা সে ভোরে শান বাঁধা ঘাটে বসে দিয়েছিল। লম্বা চুলগুলো আজ অর্ধবেনী করে সাজিয়ে রাখা। কাঁচের চুরি হাতে ঔষধির বাটি।
আজ রুম খুঁজে পেতে তার বিন্দুমাত্র মাথা খাটাতে হয়নি। গুটি গুটি পায়ে সিঁড়ি বেয়ে সোজা গিয়ে ঢুকে পরল ডান দিকের তিন নম্বর রুম। ঢুকতেই সে দ্বিতীয় বারের মতো অবাক হলো। এমনও রুম হয়! চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য রুমের প্রতিটা কোণা জুড়ে। অবিলম্বে কিছু একটা ভেবে শুভ্রা দাঁতে জিভ কাটে। কারও রুমে প্রবেশের পূর্বে অনুমতি নেওয়া সভ্যতার লক্ষণ, যা সে গতকাল গিলে খেয়েছিল। তাই আজ আর একই ভুল করা চলবে না। সে আবারও রুমের বাহিরে বেরিয়ে এল। কারুকাজ করা বিশাল দরজায় হালকা টোকা দিয়ে আওয়াজ তুলতেই ভেতর থেকে কারও উত্তর এল,
- 'ভেতরে আসো।'
কন্ঠস্বর শুনে শুভ্রার কিছুটা অস্বস্তি হলো। কন্ঠটি তার অপরিচিত। ছোট বাবুর কন্ঠ বলে মনে হচ্ছে না। রুমে কি সে নেই? যাওয়া কি ঠিক হবে? সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে সে রুমের ভেতর পা বাড়াল। শূন্য বিছানা পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখা। বিছানায় কেউ নেই। একরাশ জড়তা নিয়ে সে বারান্দার দিকে পা বাড়াল। সামনে চোখ তুলে তাকাতেই তার সকল জড়তা স্বস্তিতে পরিনত হয়। বাহিরের দিকে মুখ ঘুড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রভব। কনুই পর্যন্ত শার্টের হাতা ভাঁজ করা পেশিবহুল হাত দুটো, প্যান্টের পকেটে ঢোকানো। লম্বা দেহে চওড়া কাঁধ ও পিঠের পেছনের দিকটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। শুভ্রা ঢোক গিললো। খুব করে ইচ্ছে করছে ছুঁয়ে দেখতে। সে কি আসলেই রক্তে মাংসে গড়া মানব!
- 'আরেহ শুভ্রা যে!'
নিজের নাম কানে যেতেই শুভ্রার হুঁশ ফিরল। ঘাড় ঘুড়িয়ে পাশে তাকাতেই রকিং চেয়ারে বসা এক শ্যামবর্ণী যুবককে দেখতে পেল। যদিও ফর্সাটে প্রভবকে দেখা মাত্রই, শুভ্রা সুদর্শন পুরুষের খেতাব দিয়েছিল৷ তবে এ শ্যামলা যুবককে যদি সুদর্শন পুরুষ বলে আখ্যায়িত না করা হয়, তবে বেশ অপরাধ হয়ে যাবে। শার্ট পরিহিত এ যুবককে তার কাছে প্রভবের সমবয়সী ঠেকলো। পুরুষের মুখে সৌজন্যে মূলক হাসি। প্রভবকে নিগরাতে গিয়ে সে বারান্দায় আরেক ব্যক্তির উপস্থিতি খেয়ালই করেনি। স্থির ভঙ্গিমায় শেখরের প্রফুল্লময় কন্ঠে, শুভ্রা যেন আকাশ থেকে পরেছে।
এদিকে, শুভ্রা নামটা কানের পর্দা ভেদ করার সাথে সাথেই পেছন ফিরে তাকালো প্রভব। গভীর চিন্তামগ্ন চেহারায় শান্তির ছায়া নেমে এল। বাজপাখির ন্যায় তীক্ষ্ণ চক্ষুজোড়া এখন বেশ শান্ত শীতল দেখাচ্ছে। অবুঝ রমণী কি আদোও জানতে পারবে, তার নামের উচ্চারণ ঠিক কতটা কম্পন সৃষ্টি করেছে এক নির্দিষ্ট যুবকের হৃদপিণ্ডে? প্রভবের দিকে বিশেষ খেয়াল না দিয়ে শুভ্রা বোকা চোখে তাকিয়ে আছে শেখরের পানে। সে কৌতূহলী কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,
- 'আপনে আমার নাম জানলেন কেমনে?'
শেখর রহস্যময় হাসল। গর্ব নিয়ে বলতে শুরু করল,
- 'শুধু কি আর নাম? আমরা তোমার জন্মপরিচয়, বাবা-চাচা সব......'
শেখর তার কথা শেষ করতে পারল না। তার আগেই মাথায় কষিয়ে এক চাপড় খেল। মাথায় হাত বুলিয়ে পেছন ফিরে তাকতেই রাগী প্রভবকে দেখতে পায়। চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে আছে তারই দিকে। চোখ যেন জীবন্ত এক নিশ্চুপ হুশিয়ার। তার চোখের ভাষা বলছে,
- 'তোকে সব বলতে বলেছি?'
শেখর ঢোক গিলে। গমগমে পরিবেশ। নিজের ভাবমূর্তিতে একরাশ শীতলতা ঢেলে প্রভব শুভ্রার দিকে তাকালো। এরপর ঠান্ডা গলায় বলল,
- 'দাঁড়িয়ে আছো কেন? বসো প্লিজ!'
শুভ্রা আশেপাশে চোখ বুলায়। বসার জন্য কোন চেয়ার খুঁজে না পেয়ে সে দ্বিধায় পড়ে গেল। যা প্রভব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে। বারান্দায় শুধুমাত্র একটা রকিং চেয়ার রাখা। যেটায় শেখর বসে আছে। প্রভব শেখরের মাথায় আবারও চাপড় মারলো। তৎক্ষনাৎ শেখর উঠে দাঁড়িয়ে শুভ্রাকে বসার জন্য অনুরোধ করল।
রকিং চেয়ার দুলছে। শুভ্রা বেশ জড়তা নিয়ে চেয়ারে বসল। দুলন্ত চেয়ারে তার অস্বস্তি লক্ষ্য করে প্রভব নিজের লম্বা পা দিয়ে চেয়ারের পায়ায় ঠেস লাগালো। অবিলম্বে রকিং চেয়ার স্থির হয়। এবার শুভ্রা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে নড়েচড়ে বসে। টেবিলের উপড় একগাদা বই রাখা। যা দেখে শুভ্রা কৌতূহলবশত জিজ্ঞেস করল,
- 'বইগুলান কি আপনারা পড়েন?'
- 'হ্যা, প্রভব পড়ে।'
উত্তর শুনে শুভ্রা কেবলার মত তাকালো। সে জানে না প্রভব বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে। শুভ্রার এমন প্রশ্নবোধক চাহনি শেখর ধরে ফেলে। সে বুঝতে পারল এ অবুঝ নারী তার প্রমিক পুরুষের নামই জানে না। শেখর প্রভবের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যময় হাসল। যে কিনা রমণীতে মত্ত। শেখর বিড়বিড়িয়ে আওড়ালো,
- 'তুমি যাকে বিয়ে করার দিন নক্ষত্র ঠিক করে ফেলেছ, সে তোমার নামটা অবধি জানে না...আব তেরা ক্যেয়া হোগা কালিয়া!'
সেদিকে তোয়াক্কা না করে প্রবভ ভরাট গলায় বলল,
- 'তোমার ওই ছোট্ট বাবুটার আসল নামই হলো চৌধুরী প্রভব আহসান অরফে আমি!'
প্রভবের প্রগাঢ় দৃষ্টি শুভ্রায় নিবদ্ধ। শুভ্রা খানিক লজ্জা পেল। জমিদার নাতির নেশাতুষ গলায় 'তোমার ছোট্ট বাবুটা' শুনে লজ্জায় মিয়িয়ে যাচ্ছে সে। নাকের ডগায় লালচে আভা দেখা যাচ্ছে। প্রভব বাঁকা হাসল। এরই মধ্যে সোলানি রঙের ট্রে হাতে এক মধ্যবয়স্কা নারী বারান্দায় প্রবেশ করল। টেবিলের উপড় দুটো চায়ের কাপ, টি-পট সহ ট্রে রেখে বিনয়ের সুরে বলল,
- 'বাবু আরও কিছু লাগলে কইবেন।'
প্রভব কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেল। নাকোচ করে বলল,
- 'না লাগবে না। আপনি আসতে পারেন।'
মধ্যবয়স্কা মাথা কাত করে, জায়গা প্রস্থান করল। শেখর দুটো কাপে চা বানিয়ে একটা কাপে দু চামচ চিনি মিশিয়ে নিজের হাতে তুলে নিল। শুভ্রা মনোযোগ দিয়ে শেখরকে পর্যবেক্ষণ করছে। এ সব কিছুই তার কাছে নতুন। দাদুর সাথে কুটুম বাড়িতে গেলে ছোট কাপে লাল চা পরিবেশন করা হতো। তবে, এটা আবার কেমন ধরনের চা হলো যা নিজের বানিয়ে খেতে হচ্ছে? ভাবছে সে। হঠাৎ,
- 'শুভ্রা?'
প্রভবের ডাকে তার ভাবনায় ছেদ পরলো। যুবকের কন্ঠে নিজের নামের প্রতিধ্বনি শুভ্রার দেহে কম্পন তুলে। কাঁটা দিয়ে উঠে সারা শরীরে। নিজ অতি সাধারণত নামটা যে এতটা শ্রুতিমধুর হতে পারে তা তার জানা ছিল না। সে পিট পিট চোখে প্রভবের দিকে তাকালো। প্রভব মৃদু হেসে বলল,
- 'শেখর কিন্তু দারুণ চা বানায়। তুমি খেয়ে দেখতে পারো।'
শুভ্রা ট্রের দিকে তাকিয়ে দেখল অবশিষ্ট একটা কাপ রয়েছে। বাকি আরেকটায় শেখর চা খাচ্ছে। শুভ্রার মনের মধ্যে প্রশ্ন ঘুরপাক খেল। ছোট বাবু কি চা খাবেন না? সে প্রশ্নটাকে না দাবিয়ে জিজ্ঞেস করে ফেলল,
- 'এইখানে দেহি খালি একটা কাপ আছে। আপনি চা খাইবেন না?'
- 'না আমি চা খাই না, তুমি খাও।'
শেখর চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিল। প্রভবের কথা শুনে অকস্মাৎ বিষম খেল। চা মাগজে উঠে কাশতে শুরু করল। হঠাৎ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বিরক্ত হয় প্রভব। গম্ভীর মুখে শেখরের দিকে তাকায়। যে কিনা নিজের মাথায় চাপড় মেরে কাশি থামাতে ব্যস্ত। ক্ষণিক পর নিজেকে শিথিল করে শেখর প্রভবের দিকে নাক কুঁচকে তাকালো। তারপর অস্পষ্ট শব্দে মিনমিনিয়ে বলল,
- 'ইসসস! হিটলার দাদা নাকি চা খায় না!'
তবে, সেদিকে বিন্দুৃমাত্র ভ্রুক্ষেপ না দিয়ে প্রভব আবারও শুভ্রাকে চা পানে তাড়া দিল। শুভ্রা খানিক জড়তা নিয়ে, তুলতুলে নরম হাতে সাবধানে কাপ তুলে নিল। চায়ে চুমুক দিতেই নাক সিকোয় তুলল। মনে হচ্ছে নীলকন্ঠের সব তিক্ততা যেন চায়ের কাপে মেশানো। শুভ্রার মুখভঙ্গি দেখে শেখর দমফাটা হাসিতে মেতে উঠল। তারপর ঠোঁট চেপে অবলীলায় বলল,
- 'চায়ে চিনি দেওয়া নেই। দু চামচ চিনি মিশিয়ে নাও, ভালো লাগবে।'
যথারীতি চিনি মিশিয়ে আবারও কাপে চুমুক দিতেই শুভ্রা আশ্চর্য হয়ে গেল। আসলেই দারুন খেতে। এমন চা সে আগে খায়নি। প্রভব কিঞ্চিৎ হাসল। খেতে খেতে শুভ্রা টেবিলে রাখা বইগুলোর দিকে তাকিয়ে ফের বলে উঠল,
- 'আমি হুনছি যারা বই পড়েন, হেরা মেলা শান্ত স্বভাবের হয়। ছোট বাবুও নিশ্চিত ঠান্ডা মগজের মানুষ তাইনা?'
অবুঝ শুভ্রার এমন সহজ সরল যুক্তিতে দ্বিতীয় বারের মত বিষম খেল শেখর। কাশতে কাশতে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। প্রভব মাত্রাধিক বিরক্তি নিয়ে ঝাঁঝাল কন্ঠে বলল,
- 'হরর ফিল্মে সাউন্ড এফেক্ট দেওয়া বন্ধ কর, গিয়ে পানি খা।'
শেখর দু'একবার কাশি দিয়ে চায়ে চুমুক দিল। তারপর চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
- 'তোদের যুক্তি-বিদ্যা আমাকে হার্ট অ্যাটাক দিচ্ছে, আবার আমাকেই মেজাজ দেখানো হচ্ছে।'
প্রভব কটমটিয়ে তাকায় শেখরের দিকে। চেয়ারে বসে থাকা শুভ্রা অবুঝভাবে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। চোখে প্রশ্নবোধক চাহনি, মুখাবয়বে খোলামেলা বিস্ময়। তার সরল মন দুই বন্ধুর কথোপকথন আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারছে না। শুধু ডেবডেব করে চেয়ে রইল তাদের পানে। একপর্যায়ে সে একটু নড়েচড়ে বসে ধিমি আওয়াজে বলল,
- 'বাটিতে ঔষধি লইয়া আইছিলাম...ছোট বাবু মনে কইরা খাইয়া নিয়েন।'
বলে শুভ্রা উঠে দাঁড়ায়। হাতের কাপ খুব সাবধানে টেবিলের উপড় রাখে। চায়ের কাপে এখনো অনেকখানি চা অবশিষ্ট রয়ে গেছে। বিনয়ী কন্ঠে বিদায় জানিয়ে বলল,
- 'আমি তাইলে যাই ছোট বাবু।'
প্রভব চোখের ইশারায় সম্মতি জানালো। প্রগাঢ় আলতা রাঙা পায়ে রমণী ভদ্র বেশে বাহিরে দিকে পা বাড়ালো। প্রভব একধ্যানে চেয়ে রইল তার যাওয়ার পানে। যতক্ষণ পর্যন্ত তার লতানো দেহ দৃশ্যমান, ততক্ষণ সে তাকিয়ে রইল। হয়তো মানুষটাকেই বেঁধে রাখতে চাইছে। কিন্তু পারছে না। অনেকটা অপেক্ষা করতে হবে তাকে! ভাবতেই তার প্রকট হৃদপিণ্ডে টান অনুভব করল।
শুভ্রার চলে যাওয়ার পর প্রভব কিছুক্ষণ টেবিলে রাখা চায়ের কাপে চোখ বুলালো। নির্দিষ্ট কিছু একটা ভেবে তার ভরাট বাদামি ঠোঁটে বাঁকা হাসির রেশ নেচে উঠল। সে হাত বারালো চায়ের কাপের দিকে। এক হাত প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে, অন্য হাতে কাপ তুলে চায়ে চুমুক দিল। প্রভবের এমন কান্ডে শেখর অবাক হয়। চোখ সরু করে বলে,
- 'প্রেয়সীর মুখ লাগানো কাপ তা বুঝলাম, তবে প্রভব বাবাজি চিনি মেশানো চা খাচ্ছে! এটা কি আদোও সম্ভব? আমি কি চোখে ঠিক দেখছি?'
প্রভব কোন উত্তর দিল না। চোখজোড়া বন্ধ করে, সে শুভ্রার কোমল আলতা রাঙা পদধূলির কল্পনায় মত্ত। রক্তজবার ন্যায় পা দুটি যেন নরম শোভা এবং সৌন্দর্যের পবিত্রতা স্বপ্নের মতো ছড়াচ্ছে চারদিকে। ম ম করছে গোধূলি। সেখানে কিছুক্ষণের জন্য থেমে যাচ্ছে সময়। সে চোখ বন্ধ অবস্থাতেই চায়ের কাপে আরও একবার চুমুক দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসল। মুখে বলল,
- 'বুঝেছিস শেখর...? এবার মনে হয় মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাসটা করতেই হচ্ছে। আমার উনি যেই পরিমাণে রসালো! ডায়বেটিস না হয়ে গেলে হয়!'
প্রভবের কথা শুনে শেখর দমফাটা হাসিতে মেতে উঠল। ভালোবাসা মানুষকে ঠিক এতটা বদলে দিতে পারে, তার জানা ছিল না। শেখর কাপ হাতে মাথা নাড়াতে নাড়তে বেড়িয়ে গেল। প্রভব চোখ মেললো। হাতের কাপের দিকে নেশাতুষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে কামুক স্বরে আওড়ালো,
- 'তোমার ঠোঁটের স্পর্শে বৃষ্টি নামে,
তোমার অপেক্ষায়, প্রভব নতুন করে ডোবে।'
·
·
·
চলবে……………………………………………………