ঝিম ধরা সন্ধ্যরেতে ঘুঙুরের শব্দ জোড়ালো হতেই রানি কান খাড়া করে দাঁড়িয়ে রইলেন।
এই প্রাসাদে আসার পর এই শব্দটা তেমন খেয়াল করেননি। আজই প্রথম। তা-ও এই দিকটায় আসাতে শুনতে পেলেন। এমন করে কেই-বা নৃত্য করছে? প্রাসাদের কেউ? কিন্তু প্রাসাদে তো এমন নৃত্য প্রেমী কাউকে তিনি দেখেননি!
কৌতূহল দমিয়ে রাখতে না পেরে তিনি দূরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রহরীর দিকে এগিয়ে যান। ভারিক্কি কণ্ঠে জিজ্ঞেস করেন,
“কে নৃত্য করছে এই ভর সন্ধ্যেতে? জানো কিছু?”
প্রহরীর মাথা নত। নতুন রানির এই প্রশ্নে সে দ্বিধান্বিত হয়ে উত্তর দিল,
“প্রতিদিন সন্ধ্যেতেই এখানে নৃত্য করে কেউ। কিন্তু কে করে তার সঠিক তথ্য নেই। বহু বছর যাবতই এই বন্ধ ঘরের ভেতর থেকে শোনা যায় ঘুঙুরের শব্দ। আরতির তালে তালে কেউ নাচছে। কথিত আছে, কোনো বাঈজির আত্মা এই কক্ষে আছে। তিনিই সন্ধ্যা আরতির সঙ্গে নাচেন। আরতি শেষ হলেই নৃত্য থেমে যায়।”
রানি বিস্ময়াভিভূত হলেন, “বন্ধ ঘরে নৃত্য করেন?”
“হ্যাঁ। বহু কাল ধরেই এটা হচ্ছে। এখন প্রাসাদের সকলের কাছেই তা স্বাভাবিক।”
“কেউ, কখনো দেখতে যায়নি?”
“সম্ভবত না। শুনেছি দেখতে গেলেই না-কি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মানুষ। রাজা হ্যাভেনের পিতার মৃত্যু তো এভাবেই ঘটলো!”
প্রহরীর কথা শুনে রানির শিরদাঁড়া শিরশির করে ওঠল।
একটি ঘরে দিনের পর দিন ধরে ঘুঙুরের তাল বাজছে এবং তার সন্ধান করতে গিয়ে মৃত্যুও হয়ে গেছে প্রাক্তন রাজার। অথচ তা নিয়ে কোনো কথা তার কর্ণধার হলো না? কেমন অদ্ভুত আর রহস্যময় যেন এই ক্যামিলাস রাজ্যের রাজপ্রাসাদ!
—————
ক্যামিলাম রাজ্যের রাজবৈঠক খানায় আজ নতুন রানির বসার পালা। রাজামাতাও উপস্থিত হয়েছেন যথারীতি। তবে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন বৈঠক খানার পেছনের দরজার পেছনের কক্ষটিতে।
তবে তিনি একা নন। তার সাথে আছে রানি ইথুন ও মামাশ্রী। তারা দেখতে চাচ্ছেন একজন নারী এই ক্যামিলাস রাজ্যে বসে কেমন পরিচালনা করেন।
সবার আতি আকাঙ্ক্ষিত অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটিয়ে প্রবেশ করলেন রানি। গাঢ় খয়েরি রঙের রাজপোশাক তার দেহ জড়ানো। জড়োয়া গহনার শব্দ ছন্দ তুলছে কক্ষ জুড়ে।
তাকে আসতে দেখেই দাঁড়িয়ে পড়লেন সকলে। রাজ মন্ত্রীসহ, প্রতিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, রাজ কবি… সকলেই।
রানির পেছন পেছন এলো হেমলকও। বৈঠক খানায় তার দেখা পাওয়া অমাবস্যার চাঁদের মতনই অতি আশ্চর্যময়। অথচ সেই আশ্চর্যজনক ঘটনাগুলোই আজকাল প্রাসাদে ঘটছে।
রাজমাতা হতবিহ্বল হয়ে একবার নিজের ভ্রাতার দিকে, আরেকবার নিজের পুত্রবধূর দিকে তাকালেন। এই রাজ্য, এই রাজ বৈঠক নিয়ে কবে থেকে হেমলক এত আগ্রহী হয়ে ওঠল তা তারা বুঝেই ওঠতে পারলেন না।
রানি এসে দাঁড়ালেন রাজ সিংহাসনের সামনে। ঘোমটার আড়ালে থাকা তার চোখে মুখে টান টান ভাব। আত্মবিশ্বাস তার ভাব-ভঙ্গিতে প্রবল ভাবে ফুটে ওঠেছে।
তিনি দাঁড়িয়ে প্রথমেই বললেন,
“আপনাদের পরিচয় আমার জানা। আপনারাও নিশ্চয় আমার পরিচয় পেয়ে গিয়েছেন এতক্ষণে। তাহলে প্রথমেই আমরা কিছু জরুরী কথা সেরে ফেলি। কী বলেন?”
রানির প্রস্তাবে সম্মতি প্রধান করলেন সকলে। মন্ত্রী ত্রিপাদ কুমার বললেন,
“আমরা প্রস্তুত আপনার সাথে সর্ব প্রকারের আলোচনায়।”
রানি মুচকি হাসলেন। বললেন,
“যেহেতু রাজ্য, রাজপ্রাসাদ এবং রাজ বৈঠকখানায় আমি নব্য তাই আমাকে প্রথম অবস্থাতেই আপনারা অসম্ভব বিশ্বাস করে সব বলে দিবেন, তেমনটি ভাবছি না। তাই ছোটোখাটো কথোপকথনে আমরা একে অপরের বিশ্বাস অর্জন করবো।
তা মন্ত্রীমহোদয়, রাজ্যের কোনো খবর থাকলে জানাবেন অবশ্যই। কোনো সমস্যা থাকলেও জানাবেন।”
রানির অনুমতি পেতেই ত্রিপাদ কুমার বললেন,
“রাজ্যে প্রজাদের অবস্থা ভালোই আছে। তবে রাজা অসুস্থ হওয়ার পর অনেক প্রজাই কর দিতে গড়িমসি করেছে। তাই অর্থ রাজকোষে কিছুটা কম।”
“আচ্ছা। আর কোনো সমস্যা?”
“পশ্চিম রাজ্যের রাজা ইনান ণেকিতান পত্র লিখে ছিলেন রাজার কাছে। তিনি রাজার সাথে দেখা করতে আগ্রহী। কিন্তু রাজা অসুস্থ থাকায় আর পত্রের প্রতিত্তোরে কিছু পাঠানো হয়নি।”
“বুঝলাম। আর কিছু?”
“আমাদের রাজ্যের নিকটের একটি গ্রাম- নন্দীসর। সেখান কিছু বণিক আছেন বাহিরের রাজ্যের। শোনা গিয়েছে, তারা নারীদের সাথে উগ্র আচরণ করছেন। আমি রাজাকেও বলেছিলাম তিনি কিছু সমাধান করেননি। প্রজারা ইদানীং ভিড় করছে ভীষণ। তাই বললাম।”
মন্ত্রীর কথা শেষ হতেই আগ বাড়িয়ে সভা-কবি বললেন,
“কিন্তু উনারা তো উত্তর রাজ্যের বণিক। উনাদের বিপক্ষে আমরা কিছু করলে উনাদের সাথে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্যই রাজা চুপ ছিলেন। তা কি আপনি বুঝতে পারেননি, মন্ত্রীমশাই?”
সভাকবির প্রশ্নবাণে ফ্যাকাসে মুখ করলেন ত্রিপাদ কুমার। রানি তীর্যক ভাবে তাকালেন সভাকবির দিকে। ত্রিপাদ কুমারের আগে তিনিই সভাকবির উদ্দেশ্যে বললেন,
“আপনাকে কি আমি কথা বলতে বলেছি? আজ্ঞা, আদেশ, অনুমতি কিছু দিয়েছি?”
রানির স্পষ্ট কণ্ঠস্বরে এবার আমতা-আমতা করলেন সভাকবি, “না। আসলে, আপনি তো নতুন, তাই…”
“তাই আপনি আমাকে আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার বিভিন্ন রাজ্যের সাথে সম্পর্কের কথা ভাবতে হবে। তাই তো?”
রানি প্রশ্ন করলেও আর উত্তর দিলেন না সভাকবি। চুপ করে রইলেন। রানির দাপুটে স্বরই এমন যে এর সামনে আর কিছু বলার সাহস হলো না উনার।
রানি এবার সভার প্রত্যেককে পরখ করলেন রানি। তেজস্বী স্বরে বললেন,
“আজ থেকে এই বৈঠকখানার প্রধান শর্ত হলো, সর্বপ্রথম রাজ্যবাসী, প্রজাদের সম্পর্কে ভাবা। নিজের রাজ্যের কথা প্রথম চিন্তা করা। এবং এই প্রধান শর্ত মানতে যিনি পারবেন না তিনি অবিলম্বে রাজ বৈঠক থেকে ও রাজ্যের ভার থেকে অব্যাহতি নিবেন। মনে রাখবেন, রাজ্যের প্রাণ প্রজা। তাদের দায়িত্ব, তাদের ভালো রাখার জন্য আপনারা, আমি এখানটায় দাঁড়ানো। তাই প্রথম শর্ত হবে, তাদের ভালো রাখা। যে-কোনো মূল্যে, যা কিছুর বিনিময়ে। তাতে যদি এক-আধটা রাজ্যের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নষ্ট হয় তবে তা হোক। কিন্তু প্রজাদের যেন কোনো সমস্যা না হয়। এবং নারীদের তো আরও আগে নয়। নারীরা হলো একটি রাজ্যের সম্মান ও মুকুট। সেই মুকুটে কালি লাগলে রাজ্যের সবচেয়ে বড়ো লজ্জা। মনে থাকবে?”
শেষের ‘মনে থাকবে’ শব্দ দু'টি এত উচ্চস্বরে বললেন যেন ধরনীর বুক অব্দি কেঁপে উঠল। সকলে ভয়ে হোক কিংবা বিস্ময়ে যন্ত্রের মতন সহমত পোষণ করলেন। সভাকবি তো রীতিমতো কাঁপতেই লাগলেন। সেই কম্পন সবচেয়ে বেশি অনুভব করল হেমলক। মিটমিটিয়ে হাসলোও। রানি কামিনীকাঞ্চনের কণ্ঠের এই দৃঢ়তা তার কাছে ভীষণ উপভোগ্য।
রানি এবার ধীর পায়ে বসলেন রাজ সিংহাসনে। রাজকীয় তার বসার ভঙ্গি। দেহের ভাঁজে ঢেউ।
দরজার বাহিরে থাকা রাজমাতা, মামাশ্রী ও রানি ইথুনসহ কেঁপে উঠলেন। মামাশ্রী তো দ্বিধান্বিত কণ্ঠে বলেই উঠলেন,
“এ তো স্বাভাবিক নারী মনে হচ্ছে না। কেউ নতুন রাজসিংহাসনে বসে এত প্রতাপী স্বরে কথা বলতে পারে না। তার উপর একজন সাধারণ নারীর ক্ষেত্রে তো অসম্ভব। ভগ্নি, এ সাধারণ মেয়ে নয়। তোমার পুত্র কাঁচা কোনো কাজ করেনি। আমরা এতদিন তেমন গা না করে ভুল করেছি।”
মামাশ্রী কথাটা রানি ইথুনেরও ভেতর ভেতর ঝড় তুলল। রাজমাতা তাকিয়ে রইলেন একাধারে নিজের পুত্রের দিকে।
আসনে বসেই রানি সকলকে বসার অনুমতি দিলেন। এরপর শুরু করলেন তার কথা,
“প্রথম সমস্যা- অনেক প্রজা কর দিতে গড়িমসি করায় রাজ কোষে কিছুটা সংকট দেখা গিয়েছে। তার সমাধান হলো, রাজ বিধান অনুযায়ী কর ফাঁকি দেওয়া, জালিয়াতি করা, কর দিতে বিলম্ব হলে কী কী শাস্তি প্রদান করা হয় তার বিস্তৃত বর্ণনা দিয়ে পুরো রাজ্যব্যাপী প্রচার করা আজকেই। আগামীকালকের দিনের ভেতর যাদের কর বকেয়া রয়েছে তাদের কর প্রদান করার আদেশ দেওয়া। আগামী পরশু দিন হতে একে একে কর না প্রদান করা প্রজাদের শাস্তি দেওয়া। শাস্তি জনসম্মুখে দেওয়া হবে। এতে এক, দুইজনের শাস্তি দেওয়া দেখলে বাকিদের শিক্ষা এমনিই হয়ে যাবে। বুঝাতে পারলাম?”
রানির কথায় সকলে মাথা নাড়ালো। তবে বাঁধ সাধলেন মন্ত্রী, “রানি, প্রথমেই শাস্তি প্রদান করলে প্রজারা আপনার প্রতি বিরূপ ধারণা পোষণ করবেন না?”
মন্ত্রীর প্রশ্নে আবারও হাসলেন রানি, “আমি প্রথমেই কী বলেছি মন্ত্রীমহোদয়? এই সভার প্রধান লক্ষ্য- প্রজাদের কল্যাণ। ওরা কর ফাঁকি দিলে রাজকোষ দুর্বল হবে। এতে রাজ্যের বিপদ, সংকট উভয়ই বাড়বে। এবং সেটা প্রভাব ফেলবে প্রজাদের উপরেই। তাই ওদের ভালো করতেই আমরা কঠোর হবো।”
রানির তীক্ষ্ণ বুদ্ধিতে বেশ প্রসন্ন হলো সভার অনেকেই। ত্রিপাদ কুমারের মুখেও ফুটল হাসি। হেমলক তো সেই কখনো তো হাসি ঝুলিয়েই আছে। তার যেন আজ গর্বের দিন।
“দ্বিতীয় সমস্যার সমাধান হলো- আমি ইনান ণেকিতানকে পত্র পাঠাবো। দীর্ঘদিন পত্র যেহেতু পাঠাননি তাই আমন্ত্রণ পত্রই পাঠাবো। দীর্ঘদিন তার পত্রের উত্তর না দেওয়ার বিষয়টি তিনি তখন হালকা ভাবে নেবেন।
এবং তৃতীয় সমস্যা- বণিকরা নারীদের উত্যক্ত করছে। আজই সেই বণিকদের সাবধান করা হবে। তাদের জানাবেন আমাদের রাজ্যের নারীরা আমাদের সম্মানের প্রতীক। তাদের কোনোরূপ জুলুম আমরা বরখাস্ত করবো না। এবং সেই আদেশ তারা না মানলে নারীদের উত্যক্ত করার অপরাধে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। কোনো অল্পস্বল্প শাস্তি নয়, সোজা মৃত্যুদণ্ড। বুঝেছেন?”
রানির প্রশ্নে সকলে আবারও মাথা নাড়ালেন। অর্থাৎ, তারা বুঝেছেন।
রানি এবার ওঠে দাঁড়ালেন আবার। তার সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তেই পুরো সভার প্রত্যেকে দাঁড়িয়ে গেলেন। প্রত্যকের মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে তারা রানিকে সানন্দে গ্রহণ করেছেন।
রানি নিজেও তাই। এবং তাই তিনি প্রফুল্ল চিত্তে বললেন,
“আমার দেখে ভালো লাগলো ক্যামিলাস রাজ্যের রাজ বৈঠকের সকলেই রাজ্য প্রেমী। এবং এই ভক্তি, শ্রদ্ধাই রাজ্যকে টিকিয়ে রেখেছে। আপনাদের এই সহযোগিতার মনোভাব আমাকে আনন্দিত করেছে। আপনাদের সেজন্য স্বল্প উপহার স্বরূপ প্রত্যেককে পাঁচটি করে স্বর্ণমুদ্রা দেওয়া হবে।”
রানির আচমকা এই ঘোষণায় আনন্দেরা যেন হুমড়ি খেয়ে পড়লো। সেই আনন্দ দেখে বাঁকা হাসলেন রানি। কাকে, কীভাবে বশ করতে হয় তা তার বেশ জানা। এবং কোথায়, কতটুকু বললে পথ সহজ হয় সেই নীতিও তিনি জানেন। এই যে, এই ভাবেই তিনি ক্যামিলাসের রাজ্যের একটি শক্তপোক্ত মুখ হয়ে যাবেন। এবং তিনি যতটা শক্ত ভাবে বসতে পারবেন এখানে ততটাই শক্ত ভাবে নিজের রাজ্য দখলের প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
হেমলক রানির বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করল না। বরং ধীর ভাবে রানিকে ধরে নিয়ে গেলো বৈঠকখানার বাহিরে। অন্দরমহলের একটি কক্ষে।
রানি কিছুটা কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন করলেন,
“এমন টানাটানি কেন করছেন?”
হেমলক নিখুঁত হাসলো। বললো, “আপনি সম্বোধনই তোমার মুখে মানায় ভীষণ, রানি। আমায় বরং দূরেই রেখো এমন সুন্দর সম্বোধনে। তবে সে যাই হোক, তোমার বিচক্ষণতায় আমি ভীষণ আনন্দিত হয়েছি। তাই তোমাকে একটি উপহার দিতে চাই।”
রানি কৌতূহল আরও খানিক বাড়লো। তবে তিনি তা চাপা রেখেই বললেন,
“কী তা?”
হেমলক তখন কণ্ঠ উঁচুতে তুলে ডাকলো কাউকে,
“ভেতরে আসো তুমি।”
রানি প্রবেশের পথপানে তাকাতেই স্তব্ধ হয়ে গেলেন। বিস্ময়ের চূড়ান্ত বাতাস ছুঁয়ে গেলো তাকে। পরিচিত মেয়েলি মুখটি তার ভেতরে হাজারো প্রশ্নে ঝড় তুললো।
·
·
·
চলবে……………………………………………………