কামিনী - পর্ব ৩৬ - মম সাহা - ধারাবাহিক গল্প

কামিনী - মম সাহা
          জোছনায় মাখানো রানি ও হেমলক পিয়ার্সের একান্ত সময়টায় বাঁধা হয়ে খবর নিয়ে এলো প্রহরী। কপাটের বাহির থেকেই হাঁক ছেড়ে বলল,
“রাজপুত্র, রাজমাতা আপনাকে ও নতুন রানিকে ডেকেছেন।”

 ঘরের ভেতর শুনশান নীরবতায় প্রহরীর কণ্ঠ বাদ্যযন্ত্রের মতন ঝনঝনিয়ে উঠল। 
হেমলক খানিক বিরক্তও বোধ করল। আবার নতুন এক ঝামেলার ইঙ্গিত। সে ঝামেলা তেমন পছন্দ করে না। অথচ আজকাল ঝামেলা ছাড়া কাটছে না একটি দিনও৷ 
 সে রানির দিকে তাকিয়ে বলল, “চলো তবে, রঙ্গ লীলা দেখে আসি তবে।” 

“রঙ্গ লীলা?”
 
 “তা নয়তো কী? রঙ্গ লীলা দেখাবে বলেই তো ডাকছে।” 

বিরক্ত মুখেই নিজের পাঞ্জাবিটা ঝেরে কপাটের সামনে চলে গেলো হেমলক। রানি ভাবুক হয়ে টানলেন নিজের ঘোমটা খানা। তিনি হেমলক পিয়ার্সকে যতই দেখছেন ততই বিস্মিত বোধ করছেন। মানুষটা কেমন যেন নিজের রাজ্যের প্রতি উদাসীন। নিজের ভ্রাতার সম্পূর্ণ বিপরীত। হ্যাভেন ছিলো আদর্শ রাজা। রাজ্য, রাজপ্রাসাদের বিষয়ে সে ছিলো আগ্রহী। শক্ত হাতে সামলাতো সব। অথচ হেমলক সম্পূর্ণই বিপরীত। একই মায়ের পেটের দুই ভাই অথচ আচরণে কতটা বিভেদ!

 রানির ভাবুক সত্বায় ভাঙন ধরিয়ে হেমলক ব্যস্ত স্বরে বলল, “তাড়াতাড়ি আসো। দেখে আসি হয়েছে কী!”

রানি দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলো। হেমলক হাত বাড়িয়ে ছিলো। রানি কিছুটা সংশয় ভরা মন নিয়ে হাতটির দিকে তাকিয়ে, দ্বিধাদ্বন্দেয় আঁকড়ে ধরল হাতটি। তার আর এখন এ ছাড়া গতি নেই যদিও।

—————

বৈঠকখানায় উপস্থিত আছেন অনেকে। রাজমাতা প্রাচী, রানি ইথুন, মামাশ্রী, মামীশ্রী, ঠাকুরানী, পিতৃব্য। 
 হেমলক এক কক্ষে এতজনকে উপস্থিত দেখেই বুঝে গেলো নিশ্চয় ভেতরে কিছু একটা হয়েছে। নয়তো এতগুলো মানুষ একসাথে উপস্থিত হতেন না। 

হেমলকের সাথেই সবল পায়ে উপস্থিত হলেন রানি। বুক তার টান টান, বাহু তার সাহসিকতায় উঁচু।

 নিজের পুত্রকে দেখেই পেত ক্ষণের গম্ভীরতা খর্ব করে রাজমাতা বলে উঠলেন,
“তোমাদের জন্য কতজন অপেক্ষাকৃত। সে বিষয়টি কি চোখে দেখছো না? এতক্ষণ লাগে আসতে? শীগ্রই আসো।”

 রাজামাতা শীগ্রই বললেও হেমলকের ভেতর সেই শব্দটুকুর তাড়া দেখা গেলো না। সে ধীরেই এলো। রানির হাতটি ধরে রাখতে ভুলল না মোটেও। 
রাজমাতার রাগে ঘি এর মতন কাজ করলো যেন তা। তিনি ক্ষুব্ধ হলেন, আদেশ করে বললেন,
“হাত ছাড়ো নিজের স্ত্রী'র। এ কেমন লজ্জাহীন আচরণ তোমার! দেখে দেখে আমার মাথা কাটা যায়।” 

 “তা একান্তই আপনার সমস্যা। আমার নয়। ছাড়বো বলে এই হাত আমি ধরিনি। ভুলে যাবেন না সে আমার নিজস্ব নারী।”

ছেলের অকপটে স্বীকারোক্তির এই দুঃসাহসিকতা দেখে সকলেই চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালেন। রাজ ঠাকুরানী তো গম্ভীর স্বরে বললেন, 
“আমরা সকলে সকলের স্বামীর বৈবাহিক স্ত্রীই ছিলাম। তাই বলে উনারা তো এমন করেননি।”

  “করবেন কীভাবে? সারাদিন থাকতেন খাসদাসীদের নিয়ে। নয়তো বাইজি মজলিসে ডুবে। যাদের দৃষ্টি বাহিরের সমস্ত নারীর দিকে তাদের কাছে নিজস্বতা বা নিজ মানুষ বলে আদৌ কিছু হয় নাকি?” 
 কেমন অবলীলায় নিজের পিতামহ এবং পিতা সম্বন্ধে এমন উক্তি পেশ করলো হেমলক! কথাগুলো যেন বজ্রপাতের মতন শোনালো। 

“তোমার আস্পর্ধা দিনকে দিন সীমা ছাড়াচ্ছে না?” ধমকালেন রাজমাতা। 
 হেমলক সেই ধমকের তোয়াক্কাই করল না। বরং আয়েশি ভঙ্গিতে বলল, “তা বহু আগে থেকেই সীমা লঙ্ঘন করে গিয়েছে। সে যাই হোক, কী বলবেন বলে ডেকেছেন? দ্রুত বলুন।”

 “হুকুম করছ?” 

“অতটা অভদ্রতা দেখাতে পারলে আমার দিন ভালোই যেতো।”

হেমলকের নিজের মা এমনকি সকলের সাথে মোটামুটি চলা এই কথার দ্বন্দ্ব চুপ করে শুনলো রানি। তার নিকট সবকিছু সন্দেহের ঠেকল। হেমলকের সাথে রাজ পরিবারের সম্পর্ক ভালো নয়। বেশ খারাপই বলা চলে। এতটা অবনতি সম্পর্কের কোন কারণে তা-ই ভাবালো তাকে। 

 রাজমাতা নিজেকে শান্ত করলেন বহু কষ্টে। কণ্ঠ অতিমাত্রায় রাগান্বিত করে বললেন,
“তোমার স্ত্রী আমার ভ্রাতাকে নাকি এখন থেকেই আজ্ঞা উপদেশ দিতে আরম্ভ করেছে? তা-ও আরেকটি দেশের সামান্য সেনাপতির সামনেই? তার এত বড়ো দুঃসাহসিকতার কারণ কী? এই অধিকার তাকে কে দিলো?” 

রাজামাতার কথা শুনে রানি কামিনীর কাছে বিষয়টা এবার জলের মতন স্বচ্ছ হলো। তখন হ্যাব্রোর সামনে রানি যেই কথাগুলো বলেছিলের তারই রেশ ধরে নিশ্চয় এই হৈ-হল্লা। তার মানে মামাশ্রী লোকটা যতটা স্থির থাকেন ততটাই জটিল। এবং মোটেও সুবিধার নয়। তাছাড়া গতবার এসেই রানি তা বেশ ভালো করেই বুঝে ছিলেন। মামাশ্রী এত সুবিধার হলে কি আর ভগ্নিপতির রাজ্যে এসে পড়ে থাকতেন!

 “কী হলো? উত্তর দিচ্ছো না যে? তোমার বধূকে কে অধিকার দিয়েছে এই প্রশ্নবাণের?” 

 হেমলক যদিও ঘটনা জানে না। তবুও সে তপ্ত কণ্ঠে উত্তর দিলো, 
“আমি দিয়েছি অধিকার। আমি রাজপুত্র হেমলক পিয়ার্স আমার বধূকে সমস্ত অধিকার দিয়েছি। তাছাড়া ভুলে যাবেন না রাজমাতা, আমার বধূ বর্তমানে ক্যামিলাস রাজ্যের রানি। তা-ই তার কাজের জবাবদিহিতা চাওয়ার কোনো অধিকার আর আপনার নেই।”

 ছেলের টান টান বাক্যে রাজমাতা আহাম্মক ভাবে তাকিয়ে রইলেন। বোবার মুখে কথা ফোটার মতন যেন হয়ে গিয়েছে বিষয়গুলো। এই হেমলক পিয়ার্স, যে সারাদিন কি-না থাকতো রং-তুলি নিয়ে সে আজকাল রাজনীতি করছে। কেবল রাজনীতি নয়, ভয়াবহ রাজনীতি। 

“খবরদার। রানি? কে বানিয়েছে তাকে রানি? সামান্য কথা দিয়েছি তাতে সে রানি হয়ে গেলো?” রাজমাতার হেয় ভরা কণ্ঠস্বর। চোখে দপদপ করে যেন আগুন জ্বলছে মানুষটার। 

 এবার আর হেমলকের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন হলো না কারণ রানি কামিনী তার আগের ব্যক্তি সত্তায় যেন ফিরে এসেছেন। তিনি স্বচ্ছ, বাঁধাহীন স্বরে বললেন,
“তার মানে ক্যামিলাস রাজ্যের রাজমাতার দেওয়া কথা এতটাই সামান্য? কথার ওজন এতটাই হালকা? যে রাজ্যের রাজমাতা নিজেই নিজের কথা রাখেন না, সে রাজ্যের প্রজাদের জানা আমার করুণা।”

উজ্জীবিত কণ্ঠস্বর যেন ভাঙন ধরায় রাজপ্রাসাদের সকল গোঁড়ামিতে। এবার বাকিদেরও বিস্ময় ধরে না। তারা তো ভেবেছিল হেমলক বধূ নিতান্তই ঠান্ডা। কথা বলে না। অথচ এ কোন রূপ দেখছে সেই বধূর!
 রানি ইথুন তীর্যক চোখে তাকালো। নিজের জায়গাটা নড়চড় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বোধহয় তার ভেতরেও নাড়া দিলো। এমন বাজপাখির মতন কণ্ঠস্বর আর আত্মবিশ্বাস যেই কণ্ঠে, সে নারীর সাথে রাজ্য নিয়ে একটা নিবিড় যুদ্ধ তাহলে তার হবে। 

মামাশ্রী চোখের ইশারা করলেন। মিন মিন স্বরে বললেন,
“দেখলে তো ভগ্নি, আমি তোমায় বলেছিলাম তো? তোমার বধূ সহজ সরল কন্যাটি নয়। রাজসিংহাসন পেতেই তার কণ্ঠস্বর বদলে গিয়েছে। দেখলে?”

 রানি কামিনী মামাশ্রীর কথায় তেমন হেলদোল দেখালেন না। না রাগলেন, না হুংকার করলেন। কেবল ঠান্ডা স্বরে বললেন,
“মামাশ্রী, আপনি আমার গুরুজন। তবুও বলছি- আপনার তো নিজস্ব রাজ্য আছে, নিজস্ব বাসস্থান আছে, ভগ্নিপতির রাজ্যে পড়ে থাকাটা কি শোভনীয় দেখায় বলুন? আপনারা আমাদের পরম আত্মীয়। বছরে এক-আধ বার আসবেন, ভীষণ আপ্যায়ন আর যত্ন করে আপনাদের আগলে নেবো। তা-না সারাটি বছর এখানেই থাকছেন। সবসময় চোখের সামনে থাকলে কি আর অত আপ্যায়ন করা যায় বলুন? কটু বাক্য দু-একটি চলেই আসে। আমরা সম্পর্কে আপনার ছোটো তাই বুঝি কম। আপনারা তো বুঝদার। তাই আপনাদের উচিত শীগ্রই এই রাজ্য ছেড়ে নিজেদের রাজ্যে চলে যাওয়া। আত্মীয়ের কাছে আত্মীয় হয়ে আসবেন, স্থায়ী সদস্য হয়ে নয়। মনে থাকবে?” 

 শেষের প্রশ্নটিতে একটি শাসানোর স্বর ঠিক টের পাওয়া গেলো। মামাশ্রী তাই তৎক্ষণাৎ মাথা নেড়ে বলল, “ঠিক আছে, ঠিক আছে।” 

ঘোমটার আড়ালে ঈষৎ হাসলেন রানি। তার কথা যেখানে শুরু হয় সেখানে সবকিছু থেমে যাওয়াটাই যে রীতি। এই কণ্ঠের দাপট যে এতটাই।

 কথোপকথন আর বাড়লো না। তর্কবিতর্কও থেমে গেলো তখনই। রানি যতটা ধীর পায়ে এসেছিলো, ততটাই জোর কদমে বেরিয়ে গেলো। তার পেছন পেছন চলে গেলো হেমলকও। দেখে যেন মনে হবে রানির একমাত্র, একনিষ্ঠ দেহরক্ষীটি যাচ্ছে। 
পুরো ঘর জুড়ে পড়ে রইল আকাশসম বিস্ময়। 

হেমলকের পিতৃব্য হাসলো গোপনে। মাথা নামিয়ে বেরিয়ে গেলো ঘর ছেড়ে। আজ ভীষণ আনন্দ বোধ করছেন তিনি। বাঘের বিপরীতে সিংহ দাঁড়ালে লড়াইয়ের মজাই আলাদা হয়। হেমলক বধূকে তার সিংহী মনে হচ্ছে। দাপুটে নারী বটে। মনে মনে প্রশংসা করতেও ভুললেন না মানুষটা। 

—————

  এ্যাজেলিয়া রাজ্যের দূরাবস্থা এসেছে হুড়মুড়িয়ে। যখন রানি কামিনীকাঞ্চন চলে যাওয়ার সংবাদ রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে গেলো তখন যেন একটা আনন্দ-উল্লাসের স্রোত বয়ে গেলো রাজ্য জুড়ে। প্রজাদের মনে সে কি আনন্দ! একটি নিষ্ঠুর, পাষাণী, হৃদয়হীন রানি রাজ্য ছেড়ে গিয়েছে বলে তাদের আনন্দের যেন সীমা ছিল না। কিন্তু দিন যত যেতে লাগলো ততই সেই আনন্দ মিইয়ে যেতে লাগল দ্বিগুণ হারে। অপরিপক্ব রানির পরিচালনায় রাজ্যে লাগতে শুরু করলো অভাব-অনটন। যেই দাতব্য চিকিৎসালয়টা রানি তৈরি করাচ্ছিলেন দ্রুত গতিতে তারও কাজ থেমে গিয়েছে। প্রজাদের নতুন ব্যাধির এত দীর্ঘমাস হয়ে যাওয়ার পরেও তার ওষুধ পাওয়া গেলো না। কেউ ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষগুলোকে আর দেখতেও এলো না। নতুন রানি তো নয়ই। সাথে রাজ্যের অর্থ সংকট কাটাতে দ্বিগুণ কর ধার্য করা হলো প্রজাদের নিকট। 

 প্রজাদের ভেতর কেউ কেউ আজকাল প্রকাশ্যেই হা-হুতাশ করে। তাদের আজকাল মনে হয় রানি কামিনীকাঞ্চনের হাত ধরে যেন রাজ্যের লক্ষ্মীটি চলে গিয়েছে। আর তাদের সুদিন আসবে না। 

রাজপ্রাসাদের রাজ্যের বিশৃঙ্খলা। হ্যাব্রো যদিও যথাসাধ্য চেষ্টা করে সব সামলানোর কিন্তু সে একা কি আর পারে? আর যামিনী? তার তো মহা আনন্দে দিনযাপন হচ্ছে। এত আনন্দ! এত আনন্দ! রাখার জায়গা পায় না সে। 

 বৈঠকখানায় ঝিমাচ্ছে মন্ত্রীসকল। যামিনীর আসার খবরমাত্র নেই। হ্যাব্রো দাঁড়িয়ে আছে রাজসিংহাসনের পাশেই। দূরেই বসা সকল মন্ত্রী। হ্যাব্রো সকলের উদ্দেশ্যে বলল,
“রাজ্যের ভীষণ দূরাবস্থা মন্ত্রীমহোদয়। আপনার উচিত নয়কি অর্থমন্ত্রীর সাথে বসে সেটার সমাধান করা? তাছাড়া রাজ্যের ব্যাধিরও তো কমতি দেখছি না। রাজ বৈদ্যদের তো তাড়া দেওয়া উচিত। এমন চললে তো রাজ্য টিকবে না!”

মন্ত্রীমহোদয় তখন আরাম করে বসা ছিলেন আরামকেদারায়। হ্যাব্রোর কথা তেমন গা না করে বললেন,
 “যেখানে রানিরই ঠিক নেই, সেখানে আমরা কোন ছাঁই, সেনাপতি মশাই?”

মন্ত্রীর কাছ থেকে এমনই উত্তর আশা করেছিলো হ্যাব্রো। তবুও বলল, 
“তাই বলে আমরা চেষ্টা করব না? রাজ্যটা তো আমাদেরও!”

 “যতদিন নিজেরা খেতে পারছেন ততদিন থাকুন। খেতে না পেলে অন্য রাজ্যে চলে যাবেন। আরাম-আয়েশের জীবনটা কেন এত ভেবে নষ্ট করবেন? রানি কামিনীকাঞ্চন থাকতে বহুত জ্বালাতন করতেন। এখন কিছুটা শান্তিতেই আছি। আপদ বিদেয় হওয়ায় বেঁচেছি।”

রানির প্রতি এমন আচরণ দেখে হ্যাব্রোর রাগে, ঘৃণায় গা জ্বলে উঠে। মনে হয় যেন ঘাড় থেকে আলাদা মাথাটা আলাদা করতে পারলে তার এই জ্বলন থামতো। কিন্তু সে উপায় কি আর আছে? 
 তাই নিজেই বেরিয়ে যায় কক্ষ ছেড়ে। হনহনিয়ে প্রাসাদ ছেড়ে বেরুতে নিলেই পথরোধ করে দাঁড়ায় যামিনী। মুচকি হাসি তার ঠোঁট জুড়ে। দেহ ভঙ্গিতে আকর্ষণ করার চেষ্টা। 

হ্যাব্রো মুখ ফিরিয়ে নেয়। দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “খোলা খাবারে মুখ এই হ্যাব্রো দেয় না। ছি। ঘৃণা করি আপনাকে।” 
 কখাটা শেষ করেই বেরিয়ে যায় মুহূর্তে। যামিনীর কানে কথাগুলো বাজতে থাকে বিশ্রী ভাবে। তাকে এতটা ঘৃণা করে মানুষটা? এতটা?

—————

ভর সন্ধ্যের আবহাওয়া মুক্ত পাখির ন্যায় চঞ্চল। চারপাশে ধূপের ঘ্রাণ ছড়িয়ে আছে। সন্ধ্যা হলেই প্রাসাদ জুড়ে ধূপ দেখানো হয়। বাহিরেও রাখা হয় ধূপ জ্বালিয়ে। তাই পবিত্র একটি ঘ্রাণ বাতাসের সাথে মিলেমিশে যাচ্ছে। 

  রানি কামিনী হাঁটছেন প্রাসাদের পেছনের বিশাল প্রসস্থ ভূমিটা জুড়ে। প্রাসাদটাও এত বিশাল! বাহিরে থেকে যদি দেখা যায় মনে হবে বিশাল দিগন্ত জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। 
রানি ঘ্রাণ টেনে টেনে নিচ্ছেন আর হাঁটছেন। ঢাকের শব্দ ভেসে এলো সেই মুহূর্তে। ক্যামিলাস রাজ্যের সন্ধ্যা আরতিতে প্রাসাদে রোজ ঢাক বাজার রীতি আছে। ঢাকের শব্দে চারপাশটা আরও মোহময় লাগলো। মনে হলো উৎসবমুখর সবটা। 

কিন্তু ঠিক তখনই ঢাকের সেই শক্ত ধ্বনি ছাড়িয়ে রানির কানে এসে লাগলো একটি ঘুঙুরের শব্দে। ঘুঙুর পায়ে নাচছে কেউ তালে তালে। রিনিঝিনি রিনিঝিনি বাজছে সেই সুর। 
  গগন জুড়ে কালচে নীলাভ আলো। প্রাসাদের বাহিরের জায়গাটি জুড়ে ধিক্ ধিক্ জ্বলছে মশালের আলো। তার ভেতরে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সেই ধূপের ঘ্রাণ আর ঢাকের শব্দ। তার সাথে এই ঘুঙুরের শব্দটা কেমন যেন হাড় কাঁপুনি অনুভূতি দিলো। কেমন গা শিরশির করল রানির।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp