গোধূলির শেষ আলোটুকু এসে রানির মুখমন্ডলে বিচরণ করছে নিবিড় ভাবে। তার রাজপ্রাসাদে প্রবেশের জন্যই হয়তো সূর্য টুকু আজ পথ না ভুলে দাঁড়িয়ে ছিলো অনেকক্ষণ। রানির সেই আত্মবিশ্বাসী প্রবেশ হয়তো সে-ও চোখ মেলে দেখতে চায়।
চারপাশে রানির জয় জয়কারে মুখরিত। মৃন্ময়ী বিস্মিত না হয়ে পারছে না। এতদিন পর কোনো রানি রাজ্যে ফিরে এলে তার প্রজারা এত উৎসবে মত্ত হয় তা তার আগে জানা ছিলো না। এমন অভিজ্ঞতা তার কাছে নতুনই। সে বিস্মিত হয়ে ইনান ণেকিতানকে বলল,
“কোনো রানিকে প্রজারা এতটা সাদরে কীভাবে গ্রহণ করে? তাছাড়া শুনেছিলাম না প্রজারা রানির প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলো?”
ইনান ণেকিতান রাজ প্রাসাদে প্রবেশ করতে করতে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো। মৃন্ময়ীর চেয়েও ধীর স্বরে বলল,
“যখন ছিলো তখন মর্ম বুঝেনি কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার পর বুঝেছে। তাই এখন এত জয় জয়কার করছে। এই রাজ্যের প্রজাদের বহু জন্মের সৌভাগ্য যে এমন রানি ওরা পেয়েছে। যামিনী না এলে কখনো ওরা সেটা উপলব্ধি করতো না।”
“আমি প্রতিনিয়ত রানির এমন খ্যাতি দেখে বিস্মিত হচ্ছি। এজন্যই তুমি এই রানির জন্য এতটা উন্মাদ। আজ আমি সেটি অনুভব করতে পারি।”
ইনান ণেকিতান উত্তরে লাজুক হাসল কেবল।
সমগ্র প্রজায় ভরে গেলো প্রাসাদের সামনের যতটুকু খোলা পথ ছিলো ততটুকুই। লোকে গিজগিজ করছে। দাঁড়ানোর মতন জায়গা নেই অথচ রানিকে দেখার জন্য ভিড় বাড়ছেই কেবল। যেন নতুন করে তারা বাঁচার সন্ধান পেয়েছে।
রানি গিয়ে দাঁড়ালেন তার প্রাসাদের মার্বেল পাথরে খোদাইকৃত সোপানের সর্বোচ্চতেই। তার ডানপাশে দাঁড়ালো সেনাপতি হ্যাব্রো। তার বেশভূষা বদলে গিয়েছে। সেই আগের সেনাপতির জৌলুশ দেখা যাচ্ছে তার ভেতর। সেনাপতির পাশে দাঁড়ানো ক্যামিলাস রাজ্যের সেনাপতি ও রাজবৈদ্য।
বামপাশে দাঁড়ানোর হেমলক পিয়ার্স। তারই পাশে মৃন্ময়ী অতঃপর ইনান ণেকিতান। যেন একটি শক্ত প্রাচীরের সবচেয়ে কঠিন পাথরটি রানি। আর বাকিরা সেই পাথরকে আগলে রেখেছে।
কমলা রঙে ছেয়ে গিয়েছে আকাশ। রানি তার উপচে পড়া প্রজাদের ভিড়ের দিকে তাকালেন। তার পা মৃদু কাঁপছে। আবার নিজের জায়গাটি ফিরে পাবেন তিনি তা কল্পনা করে এসেছেন। এবং সেই কল্পনা এতদিনের ছলাকলার পর এসে পরিপূর্ণ হয়েছে বলে তার ভীষণ আনন্দ হচ্ছে। কিন্তু স্বভাবতই তিনি তার প্রেম, আনন্দ, ভালোবাসা, দুঃখ প্রকাশ করতে অপারগ বলেই আনন্দটা চাপিয়ে নিলেন বুকের ভেতর।
বুক ভরে শ্বাস নিলেন তিনি। তারপর বুকের সমস্ত গ্লানিবোধ উড়িয়ে দিলেন দীর্ঘশ্বাসে। চোখের সামনে থাকা জনসমুদ্রের ভিড়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“আমার প্রিয় প্রজারা… আপনাদের সাথে এই সাক্ষাৎ এর জন্য আমি বহু রাত্রি কেবল হিসেব করে গিয়েছি। কেবল সাজিয়েছি খেল। কীভাবে আমি আবার এই জায়গাটিতে এসে দাঁড়াতে পারি। সবশেষে আমি এখানে এসে দাঁড়িয়েছি। অনেক যু দ্ধের পর আজ আমি এখানটাই। আমারই রাজ্যের সৈনিকদের মৃতদেহের উপর দাঁড়িয়ে ছিনিয়ে আনতে হয়েছে আমাকে এই জয়। এটি আমার জন্য সহজ ছিলো না। যেই সৈনিকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি আমি। আমার ছায়াতলে রেখে বানিয়েছি আদর্শ সৈনিক তাদের বুকে তীর ছুঁড়তে আমারও ভাবতে হয়েছিলো কিছু সময়। কিন্তু আমি সবসময় বলি— সবার আগে আমার কাছে আমার রাজ্য। তারপর আমার প্রাজারা। এরপর বাকিসব। সেই রাজ্য ও প্রজাদের কাছে আসতে এতটুকু ত্যাগ আমাকে করতে হয়েছে। সবশেষে আজ আমি এখানে। আমি জানি এ্যাজেলিয়া রাজ্যের অবস্থা খুবই করুণ। রাজকোষে অর্থ নেই। খাদ্য-সংকট আছে। তারচেয়ে বড়ো সংকট চিকিৎসার। এই সমস্ত সংকটই কাটিয়ে তুলব আমরা। আপনাদের চিকিৎসার পথ্য জোগাড় করেছেন ক্যামিলাস রাজ্যের রাজবৈদ্য। যেই মহামারীতে প্রাণ হারিয়েছে আপনাদের স্বজনেরা সেটি নির্মুল করে ফেলবো আমরা। আপনারা কেবল ধৈর্য ধরুন। আমি আপনাদের সাথে আছি।”
রানি কথা থামতেই সকলে একসাথে আবারও জয় জয়কার শুরু করল। রানির দীর্ঘায়ু কামনা করলো দীর্ঘ প্রার্থনায়।
—————
সন্ধ্যার আলো ঘনিয়ে আসতেই রানি উপস্থিত হলেন কারাগারে। যামিনীকে সেখানেই বেঁধে রাখা হয়েছে। রানির পাশে আছে হ্যাব্রো। যেন সব আগের মতনই হয়ে গিয়েছে। এই রাজ্য দীর্ঘদিন রানি কামিনীকাঞ্চনের শাসনের অভাবে ভুগে ছিলো তার চিহ্নমাত্র নেই।
রানি কারগারে প্রবেশ করতে গিয়ে খেয়াল করলেন বহুবছর ধরে যেই অপরাধীকে তিনি কারাগারে আটকে রেখেছিলেন সেই মানুষটি নেই কারাগারে। যাকে তিলে তিলে মৃত্যু দেওয়ার কথা ছিলো সেই মানুষটা নিরুদ্দেশ। ফাঁকা পড়ে আছে সেই স্থান।
রানিকে শূন্য কারাগারটির সামনে থামতে দেখে থামলো হ্যাব্রোও। রানির মুখ খুলে জিজ্ঞেস করতেও হয়নি। তার আগেই সে গড়গড় করে বলল,
“যামিনী এই অপরাধীকে মুক্তি দিয়েছেন। কেন দিয়েছেন, কোন কারণে তা উল্লেখ করেননি।”
রানি শান্ত ভাবে মাথা ঘুরিয়ে তীক্ষ্ণ চোখে তাকালেন হ্যাব্রোর দিকে। তার রাগ মাত্রাতিরিক্ত ভাবে যেন বেড়েছে। দাঁতে দাঁত চেপে বললেন,
“ওর এত বড়ো সাহস? আমি যেই অপরাধীকে এত বছর রেখেছিলাম তাকে ছাড়ার সাহস ওর কী করে হলো?”
“এছাড়াও উনি বহু সাহসই করেছেন। আপনাকে ঠকানোর মতন আস্পর্ধা যার ভেতর আছে তার কাছে এসব তো সামান্যই।”
রানি হ্যাব্রোর মুখে দু'বার চোখ বুলালেন,
“চলো, ওর কাছে। ও-ই বলুক কেন এমন সাহস সে দেখালো। কী তার কারণ। এত যত্নের কোথায় খামতি রেখেছিলাম আমি।”
হ্যাব্রো মাথা নাড়িয়ে সামনের দিকে ইশারা করলো।
তারা হাঁটতে হাঁটতে এসে পৌঁছালো যামিনীর কারাগারের সামনে। যামিনী বসে আসে কারাগারের এক কোণায়। তাকে দেখে যে-কেউ আঁতকে যাবে। তার রাজকীয় পোশাকটির বিভিন্ন জায়গা ছিঁড়ে ছুঁড়ে একাকার। চুলের ভাঁজে দৈন্যতা। চোয়াল ঝুলে পড়েছে। মনে হচ্ছে যেন কোনো বয়স্ক মহিলা।
সশব্দে কারাগারের কপাট খুলতেই চোখ তুলে তাকালো যামিনী। সরাসরি রানির চোখে। রানি কিছু করলেন না। তাকিয়ে রইলেন ওর দিকে। যামিনীই অতঃপর চোখ ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হলো। অমন ধারালো চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা যে সহজ নয়! বড্ড ভয়ঙ্কর সেই চোখের আগুন।
রানি কামিনী দাঁড়িয়ে আছেন যামিনীর সামনে। যামিনীর প্রতি তার যেমন রাগ অনুভব হচ্ছে তেমন অনুভব হচ্ছে ঘৃণাও।
কিন্তু স্মৃতির কোথাও আবছা হয়ে যেন বন্ধুত্বের গোপন কোনো ক্ষণের চিত্র ভেসে উঠছে। কিন্তু রাগ ও ঘৃণার ভয়ে সেই চিত্র ডাল-পালা মেলতে পারছে না।
রানি গুরুগম্ভীর কণ্ঠে বললেন, “আমার সাথে যুদ্ধে তুমি হারবে জেনেও কেন যুদ্ধক্ষেত্রে নেমেছিলে?”
“হারার আগে তোমাকে দমিয়ে ফেলার শেষ চেষ্টাটুকু করার জন্য।” কাঠ কাঠ কণ্ঠস্বর যামিনীর। সেখানে কোনো বাঁধা নেই। কোনো প্রেম নেই, মায়া নেই। বহুদিন একসাথে থাকার স্মৃতি রানির মনে ভাসলেও তার বোধহয় কোথাও নেই।
“দমাতে কি পেরেছো? পারোনি। উল্টো ডেকে আনলে নিজের মৃত্যু। তা-ও কতটা নির্মম ও ভয়ঙ্কর তা ভাবতেও পারছ না।”
রানির হুংকারে ভীত হওয়ার কথা যামিনীর অথচ সে ভয় না পেয়ে হেসে ওঠল। যেমন-তেমন হাসি না, পুরো রাজপ্রাসাদ কাঁপিয়ে যেন সেই হাসি প্রতিধ্বনিত হলো। নেই ভয়, নেই আফসোস, নেই কোনো হাহাকার। অতীতের ভীতু যামিনীর লেশমাত্র নেই এই যামিনীর ভেতরে। কী অদ্ভুত পরিবর্তন! রানি বুঝেই উঠতে পারছেন না কোন যামিনী সত্য।
অতীতের নরম, কোমল যামিনী না আজকের প্রতিশোধপরায়ণা এই নির্ভীক যামিনী।
“তুমি কী ভেবেছো? মৃত্যুকে আমি ভয় পাই? ভয় পেলে পালিয়ে যেতাম না? সেই পথ কি আমার ছিলো না? আমাকে মৃত্যুর ভয় দেখিও না। কোনো মৃত্যুই আমার জন্য কষ্টকর বোধ হবে না। সে তুমি যত নিষ্ঠুরতম মৃত্যুদন্ডই দাও না কেন।”
যামিনীর কথাগুলো চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুনলেন রানি। তিনি কথা বাড়ালেন না। হ্যাব্রোকে ইশারা দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। যামিনী ভেবেছিলো তার এমন কথার পর রানি প্রহার করবেন কিংবা আরও ভীতিকর শাস্তির নির্দেশ দিবেন অথচ তেমন কিছুই করলেন না। উল্টো স্বাভাবিক ভাবেই বেরিয়ে গেলেন।
রানিকে তো সে ইচ্ছে করেই রাগিয়ে ছিলো যেন রানি রাগের বশে তাকে মেরে ফেলে। কিন্তু তার এই চাল বোধহয় রানি বুঝে গিয়েছেন। রানি যে কারো কথায় প্রভাবিত হওয়ার মানুষ নন তা কী করে ভুলল সে!
—————
রাজকীয় ভোজনে মগ্ন সকলে। মৃন্ময়ীদের আপ্যায়নে কোনো খামতি রাখেননি রানি। কী নেই? দক্ষিণ রাজ্যের পুষ্পান্ন হতে উত্তরের মিষ্টান্ন… সবই আয়োজন করেছেন রানি। রাত তখন বেশ অনেকটাই গভীর হয়েছে।
মৃন্ময়ী এত রাতে এত আয়োজন দেখে আশ্চর্যান্বিত হলো।
“এ কেমন করে করলেন রানি! কিছু সময়ের ব্যবধানে এতকিছু উপস্থিত!”
রানি আহার করছিলেন না, বসে ছিলেন ওদেরই পাশে। এগিয়ে পিছিয়ে দিচ্ছিলেন সমস্তটা। মৃন্ময়ীর প্রশ্ন শুনে খানিক হেসে তিনি উত্তর দিলেন,
“রানি কামিনীকাঞ্চনের রাজ্যে কিছুর অভাব হয় না।”
“তাই বলেই কি আমাদের চিত্রশিল্পী প্রেমের অভাবে ভুগছেন? আপনার রাজ্যের প্রেমের কেন এত অভাব রানি?”
রানি আগের মতনই তাকানো মৃন্ময়ীর দিকে। মোটেও অপ্রস্তুত হলেন না কিংবা মুখাবয়বের নড়চড় করলেন না। যেন খুব সহজ-সরল প্রশ্নটিই করেছে মৃন্ময়ী।
হেমলক খেতে খেতে খানিক কেঁশে উঠল। ভ্যাবাচ্যাকা খেলো সে। অস্বস্তি মোড়ানো দৃষ্টিতে তাকালো রানির দিকে।
রানি লাল রঙের মদ্যরসের পাত্রটা হেমলকের দিকে বাড়িয়ে দিতে দিতে বললেন,
“প্রেমের বাগিচায় ঋতু থেমেছে বহুকাল। শষ্য জন্ম নেয়নি আর। তাই বোধকরি অভাব।”
একই সময় মৃন্ময়ী এগিয়ে ধরল জলের পাত্রটা। আমতা-আমতা করে বলল,
“উনি তো মদ্যরস পান করেন না।”
রানি তাকালেন একবার হেমলকের দিকে। তার হাসিটা তিনি আরেকটু প্রসস্থ করে নিজের হাত থেকে মদ্যরসের পাত্রটি নামিয়ে নিলেন। মাথা নাড়িয়ে বললেন,
“এতটা খেয়াল রাখিনি কখনো। তোমার মনের রাখার ক্ষমতা আমাকে মুগ্ধ করলো।”
হেমলক কখনো মদ্যরস পান করে না তা ঠিক তবে আজ সে এই প্রচলিত নিয়মটি ভেঙে ফেলল। রানির বাড়িয়ে রাখা মদ্যরসের পাত্রটিই তুলে নিলো মৃন্ময়ীকে উপেক্ষা করে। অতঃপর এক চুমুক পাত্রটিতে দিয়ে আনন্দের সাথে বলল,
“আমার রানির জয়কে আজ তো উদযাপন করাই যায় তাই না?”
মৃন্ময়ী খানিক অপমানিত হয়ে জলটা নামিয়ে ফেলল। কিন্তু হাসি বজায় রাখলো মুখে। বলল, “রানির দেওয়া সবকিছুই আপনার জন্য বিশেষ আমি জানি। তার জন্য একটু-আধটু অনিয়ম করাই যায়। চলুন, উদযাপনই করি।”
এরপর দু'জনে দু'টি পাত্রে চুমুক দিলো।
ইনান ণেকিতান প্রায় ফিসফিসিয়ে মৃন্ময়ীকে বলল, “কেবল রানির সাথ দিয়েছিলে বলে আজ বেঁচে গেলে। নয়তো এখুনি গর্দান নিতো তোমার।”
“তোমার গায়ে লাগছে না-কি? হেমলকের প্রেমের কথা রানিকে বলাতে? অবশ্য লাগারই কথা। তুমিও তো তার জন্য উন্মাদ।”
“গায়ে লাগাটাই তো স্বাভাবিক। তার জন্য আমি কত বছর ধরে অপেক্ষা করছি তা তো তুমি জানো না।”
“কত বছর ধরে?”
“চার বছর।”
“কত বছর পর্যন্ত এই অপেক্ষা চলতে পারে?” মৃন্ময়ীর প্রশ্নে ভ্রু কুঞ্চিত করল ইনান,
“কেন?”
“বলোই না।”
“জানি না আর কত বছর ধরে পারব।”
“কিন্তু হেমলক জানে। ও আমরণ পর্যন্ত হয়তো অপেক্ষা করতে পারবে। এখানেই তো পার্থক্য। তাহলে বলো আমি হেমলক পিয়ার্সের কথা বলে ভুল করেছি কি-না?” প্রশ্ন করে ভ্রু নাচালো মৃন্ময়ী। ইনান ণেকিতানের এবার একটু রাগই হলো। মেয়েটা তার সব ডুবাবে যেন!
একে একে খাবার শেষ করে উঠল ইনান, মৃন্ময়ী। বসে রইল কেবল হেমলক। রানি হেমলককে শেষ পাতের মিষ্টান্নের বাটিটা এগিয়ে দিতে দিতে বললেন,
“কোনটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তা জেনেই গ্রহণ করুন। প্রেমে অন্ধ হয়ে গিয়ে পৃথিবীতে মানুষ ঠকেছে কেবল। জল আর গরলের পার্থক্য জেনেও জলকে প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়।”
হেমলক রানির কথার ভেতরের সারাংশ বোধহয় কিছুটা আঁচ করতে পারল। কপাল কুঁচকে শুধাল,
“এখানে গরল যদি তুমি হও, সেই গরল হেমলক পিয়ার্স গিলে নিবে অনায়াসেই।”
“গিলে সবাই ই নিতে পারবে কিন্তু সহ্য যে হবে না প্রাণের। যে প্রেমে প্রাণনাশ ঘটে সেই প্রেমের নাশ হওয়া ভালো।”
“জীবনে এই প্রথম হয়তো কোনো স্ত্রী নিজের স্বামীকে পরনারীর প্রতি মন গলানোর চেষ্টা করছে! আমারই কী ভাগ্য! ভালো নাহয় না-ই বাসলে অন্তত আমাকে তো ভালোবাসতে দিবে। কেন সেটুকু অধিকারও কেঁড়ে নিতে মরিয়া তুমি?”
রানি চুপ করে গেলেন। হয়তো সঠিক উত্তর নেই তার কাছে। কীই-বা উত্তর তিনি দেবেন? যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি তো এই হেমলক পিয়ার্সকেই স্মরণ করেছিলেন এই কথাটি কি নিজের কাছে নিজে অস্বীকার করতে পারবেন? অস্বীকার করতে পারবেন মৃন্ময়ীর হেমলকের প্রতি নরম দৃষ্টি তার বুকে কেমন চিড় ধরায় সেটাকে?
পারবেন না। পারবেন না বলেই চুপ করে রইলেন।
ঠিক তখুন ছুটে এলো ক্যামিলাস রাজ্যের সেনাপতি। হন্তদন্ত হয়েই এলো কিছুটা। কুর্নিশ করে বলল,
“রানি, যামিনী পালিয়েছেন কারাগার থেকে। তার কারাগারের দোর খোলা। প্রাসাদে নেই আপনার সেনাপতি হ্যাব্রোও।”
·
·
·
চলবে……………………………………………………