কামিনী - পর্ব ৬৮ - মম সাহা - ধারাবাহিক গল্প

কামিনী - মম সাহা
          বৃক্ষের ছায়ায় তৃণলতা গুলো যেমন বেড়ে উঠছিলো তেমনই রানির মনে ক্যামিলাস রাজ্য নিয়ে সন্দেহের বীজ মজবুত হচ্ছিলো। 
হ্যাভেনের কক্ষে আজ তিনি গিয়েছিলেন হ্যাভেনের খোঁজ নিতে। গিয়ে দেখেন উন্মাদ হ্যাভেন আজ ভীষণ শান্ত। রানিকে দেখে সে হৈচৈ করেনি, আক্রমণাত্মক হয়নি। বহুদিনের গৃহবন্দী জীবন তাকে যেন অন্যরকম করে দিয়েছিলো। এক ভিন্ন মানুষ। যার চোখের নিজে কালচে দাগ, গায়ের অধিক শুভ্র রঙটা কিছুটা মলিন। দেখা যাচ্ছে যেন কত অনাদারে পড়ে আছে তার জীবনটা। 

  রাজবৈদ্য রানির পেছনেই ছিলো। রানিকে চুপচাপ তাকিয়ে থাকতে দেখে সে বেশ বুঝতে পারল হ্যাভেনের এই রূপ রানিকে বিস্মিত করেছে। তাই নিজ থেকেই বলল,
“বেশ কিছুদিন যাবতই উনি এমন চুপচাপ। কোনো পাগলামো করছে না।”

 “আমাকে জানাওনি কেন?”

“আপনি তো নানান ব্যস্ততায় ছিলেন। আপনার সমস্যা বাড়াতে চাইনি।”

 “রাজা হ্যাভেন আমার সমস্যা ছিলেন না।” কথাটা শেষ করতেই রানি খেয়াল করলেন কিছুটা পেছনেই দাঁড়ানো হেমলক তার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ জুড়ে কেবল নীরবতা। সে বোধহয় রানির কথাটা শুনতে পেয়েছে। 
 রানি আর কিছু না বলেই হ্যাভেনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। হ্যাভেন তার পালঙ্কে বসা ছিলো। রানিকে দেখেই মুখ ঘুরিয়ে নিলো। কোনোরূপ কোনো বাক্যব্যয় করল না। 

তার এমন আচরণ রানির ভেতর আরও খানিক অবাকের জন্ম দিলো। তিনি কোনো ভণিতা না করেই শীতল কণ্ঠে বললেন,
“আপনি কেমন বোধ করছেন? শরীর-স্বাস্থ্য ভালো?”

হ্যাভেনের স্বাভাবিক কণ্ঠস্বর বিপরীতে উত্তর দিলো, “ভালো।”

রানি কিছু একটা ভাবলেন। তারপর পুনরায় বললেন, “আপনার দরজা খুলে দেওয়া হলো। আপনি একটু বেরিয়ে হাঁটাচলা করতে পারেন। তবে উগ্রতা দেখাবেন না।”

 “প্রয়োজন নেই।” হ্যাভেন তৎক্ষণাৎ বলল। রানি আর বেশিকিছু বললেন না। কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। যাওয়ার আগে দাররক্ষীকে নির্দেশ দিয়ে গেলেন কক্ষের দার না আটকানোর। আর খেয়াল রাখার। সমস্ত কার্যক্রমই হেমলক দাঁড়িয়ে দেখছিলো। 

রানি হ্যাভেনের কক্ষ থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়ালেন। রাজবৈদ্য তার পেছনেই ছিলো। রানি থামার সাথে সাথে সে-ও থামল। রানি একবার সাবধানে হ্যাভেনের কক্ষের পানে একপলক তাকিয়ে অতঃপর বললেন,
“কী এমন পথ্য দিয়েছিলেন যে উন্মাদ মানব এমন শান্ত হয়ে গিয়েছে?”

 রাজবৈদ্য একটু চাপা স্বরে উত্তর দিলো, “আমি রাজমাতার কাছে বিভিন্ন জড়িবুটি দিয়েছিলাম। তবে এত দ্রুত এত শান্ত হবেন উনি তা ভাবতে পারিনি। দেহের রোগ দ্রুত সারানো যায় কিন্তু মস্তিষ্কের রোগ না।”

 “তা বোধহয় আমিও বুঝতে পারি। সে যাই হোক, আপনাকে যা বলেছিলাম তা কি তৈরি করেছেন?”

“আর কয়েকটি দিন অপেক্ষা করুন। হয়ে এসেছে প্রায়।”

 “ঠিক আছে। আপনি যান।” রানির আজ্ঞা পেতেই বেরিয়ে চলে গেলো রাজবৈদ্য। রানি একপলক দূরে দাঁড়ানো হেমলকের দিকে তাকিয়ে নিজের কক্ষে চলে গেলেন। 
হেমলক এলো সাথে সাথেই। এসেই দোর আটকালো। তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,
“রাজা হ্যাভেন তোমার সমস্যা ছিলো না তাহলে তোমার সমস্যা কে সুধাকান্তা? আমি?”

 রানি নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে জলের পাত্রটি উঠিয়ে নিতে নিতে বললেন,
“আমি বলেছিলাম কি তা কখনো?”

 “সব কী বলা লাগে? আচার-আচরণ বোধহয় কিছু কথা বুঝিয়ে দেয়। তাছাড়া এই কথাটিতো মিথ্যে নয় যে, রাজা হ্যাভেনের জন্য আপনার মনে কোনো একটি অনুভূতির তৈরি হয়েছিলো।”

রানি এবার সরাসরি তাকালেন হ্যাভেনের দিকে। কণ্ঠস্বর তার আরও শান্ত হলো, “আমি কি এটাও কখনো বলেছিলাম?”

 হেমলক এবার রেগে গেলো। দ্রুত এগিয়ে এসে রানির দুই বাহু চেপে ধরল। দাঁড় কিড়মিড়িয়ে বলল,
“তুমি কিছু বলছো না সেটাই তো সমস্যা। তুমি কী চাচ্ছো? কী চাও? কেন আমার হৃদয় নিয়ে খেলছো? আমাকে দুঃখ দিচ্ছো? বলো। আমি জানতে চাই।”

  রাগে হেমলকের মুখটি অদ্ভুত শক্ত হয়ে গিয়েছে। অধৈর্য দেখাচ্ছে তাকে। 
রানি খুব ধীরে হেমলকের হাতটি নিজের বাহু থেকে সরিয়ে দিতে দিতে বললেন, “আমি চাই কেবল আপনি উন্মাদনা বন্ধ করুন। এসব করে আমাকে অস্বস্তিতে ফেলবেন না।”

 হেমলক আরও রেগে গেলো। ওর চোখগুলো টলমল করছে। ও জড়িয়ে ধরল রানিকে আরও। অসহায় কণ্ঠে বলল,
“আমি উন্মাদ থেকে সুস্থ হয়ে গেলে তুমি তা সহ্য করতে পারবে তো? এত ভালোবাসা ফিরিয়ে দিচ্ছো, আফসোস হবে না?”

 রানি একটু নিশ্চুপ রইলেন। পরক্ষণেই নিজের ব্যক্তিত্ব ধরে রেখেই বললেন, “এর আগেও বহুজনকে আমি ফিরিয়েছি।”

হেমলকের শক্ত বাঁধন এমন কথায় আলগা হয়ে এলো। হত-বিহবল হয়ে বলল,
 “আমি আর বাকি সবাই এক হলাম! এক!”

সেই বাঁধন হালকা হওয়াতে হাসলেন রানি। 

—————

  হেমলক তার রং-তুলি গুছিয়ে নিচ্ছে। মন বিষণ্ণ। চোখে-মুখে উৎফুল্লতা নেই। আগামীকাল তার একটি রাজ্যে আমন্ত্রণ আছে। তাদের পাশেরই রাজ্য। সেখানে চিত্রাঙ্কন হবে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে অনেকেই আসবে সেখানে। বড়ো বড়ো চিত্রশিল্পীরাও আসবে। হেমলকেরও আমন্ত্রণ আছে। প্রতিযোগিতা হবে।
রাত নেমেছে ধরায়। রানি বসে আছেন তার কেদারায়। হেমলক সব গুছিয়ে নিয়েছে। রওনা দিতে প্রস্তুত। তবুও অপেক্ষা করছে রানির। রানিকে সে তার সঙ্গে যেতে বলেছিলো প্রথমবারেই কিন্তু রানি রাজি হননি। কিন্তু হেমলকের বড্ড ইচ্ছে রানিকে সাথে নেওয়ার। তাই সে আশাতেই তার মন রানির দিকে পড়ে আছে। এই বুঝি রানি বলবেন তিনি সাথে যাবেন। অথচ হেমলকের মন ছোটো হয়ে এলো। রানি তেমন কিছুই বলল না। হেমলকও আর পুনরায় আকুতি করল না। বারবার প্রত্যাখ্যান কেই-বা হতে চায়? অন্যকে মানানোর চেয়ে সে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াকে বেশি উপকারী মনে করেছে। অন্তত কষ্ট একটু কম পাবে! 

 আজ হেমলক অদ্ভুত কাজ করল। রানিকে না বলেই বেরিয়ে গেলো। বিদায় নিলো না, একটু আহ্লাদ করল না। আগে যতবারই সে যেখানে গিয়েছে যাওয়ার আগে রানির সাথে আহ্লাদ করেছে। রানি দূর দূর করলেও সে আহ্লাদ কমায়নি। অথচ আজ ঘটল তার ব্যতিক্রম। সে সত্যি সত্যি কিছুই করল না। কিছুই বলল না। 

 রানি মদ্যরসের পাত্রে মুখ ডুবিয়ে রেখেছেন। হয়তো তার মনের কোথাও একটা জানতো হেমলক এতটাও অভিমান করতে পারে না। কিন্তু তার মনের ধারণাকে ভুল করে দিলো এবার হেমলকের অভিমান। রানির খুশি হওয়ার কথা থাকলেও তিনি খুশি হতে পারলেন না। কোথাও যেন খচখচানিটা থেকে গেলো। 

হেমলক বেরিয়ে গেলো। ঘোড়ায় উঠেও ঘুরে তাকালে একবার প্রাসাদের দোরের দিকে। এই আশাতেই যে, রানি বোধহয় তাকে বিদায় জানাতে এলেন! 
 কিন্তু প্রাসাদের দোর শূন্য দেখে বুক চিরে বেরিয়ে এলো দীর্ঘশ্বাস। একটা মানুষের মন কতটা শক্ত হলে এত প্রেমেও গললো না এক বিন্দু? কতটা শক্ত! 
অথচ হেমলক একটা জানালাটির দিকে খেয়াল করলেই দেখতে পেতো একটি অদ্ভুত শূন্য চোখ তাকিয়ে আছে তার দিকে। 

—————

 অন্ধকার একটি পল্লীতে ঘোড়া ঢুকল টগবগিয়ে। ঘোড়ায় বসা কালো চাদরে জড়ানো মানুষটিকে বোঝবার উপায় নেই মানুষটা কে। চারপাশে আসা-যাওয়া করা পুরুষগুলোকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে বণিক শ্রেণীর পুরুষ। যাদের হয়তো সুন্দরী বধূ ঘরে আছে। অথচ কোন মিথ্যে সুখের লোভে তারা এখানে পড়ে থাকে! ঘোড়ায় বসা মানুষটির ঘৃণা বাড়ে। পুরুষদের প্রতি তার কী সে এক আলাদা ঘৃণা! 
 এই পৃথিবীতে সব পশু-পাখি, জন্তু-জানোয়ার নিজেদের অনুভূতি সংযত করতে পারে বোধহয় একমাত্র এই পুরুষজাতি তাদের কাম ব্যাতীত। এরা এত নোংরা, এত চরিত্রহীন! নারীদের যেন ভালো চোখে দেখতেই জানে না। ভীমড়ি খায়। 

 এক বুক ঘৃণা নিয়ে ঘোড়া থেকে নেমে দাঁড়ালেন রানি। চাদরটিকে আরও আঁটসাঁট ভঙ্গিতে শরীরের সাথে চেপে ধরলেন। ত্রস্ত পায়ে গিয়ে বিনা অনুমতিতেই প্রবেশ করলেন একটি বৃহৎ কক্ষের ভেতরে। সেখানে যেতেই তিনি হতভম্ব হলেন। পল্লীর শীর্ণ আলোয় দেখা গেলো একটি সুস্বাস্থ্যের মহিলা শোয়া বিছানায়। তার ফর্সা, সুডৌল পাগুলো একটি পুরুষের কোলে। কারো প্রবেশের শব্দে তারা নড়েচড়ে গেলো। মহিলাটি প্রথম বিশ্রী ভাষায় খেঁকিয়ে উঠলেও পরবর্তীতে চুপ করে গেলেন। তার পাশের পুরুষটিকে দ্রুতই পাশের কক্ষের ভেতর চলে যেতে বললেন। পুরুষটি এক প্রকার মুখ লুকিয়েই পাশের কক্ষে চলে গেলেন। মহিলাটি নিজের পোশাক গুছিয়ে পালঙ্ক থেকে উঠে এলেন। কেদারাটি এগিয়ে দিলেন ভীষণ আগ্রহ নিয়ে। কৌতূহলী স্বরে বললেন,
“কত মাস পর এলেন আপনি! আপনার রাজ্য সম্পর্কে তো শুনে ছিলাম। বড়োই খারাপ লাগলো। আপনার সখী কি-না আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল! সবাই তো জানতো আপনাদের সম্পর্ক… “

 “আমি সেসব শুনতে এখানে আসিনি। থামো।” মহিলাটির কথা থামিয়ে দিলেন রানি মাঝ পথেই। রানির আদেশের পর তো আর সে বিষয়ে কথা বলা সম্ভব নয় তাই থামতে হলো তাকে। রানি একবার ভেতরের কক্ষের দিকে তাকিয়ে ধীরে বললেন,
“কোনো খোঁজ আছে কি?”

 মহিলাটি মাথা নাড়ালেন, “আছে। আপনি যেই নারীটিকে খুঁজছেন তাকে বহুবছর আগে একটি রাজ্য নাকি খরিদ করে নিয়ে গিয়েছিল।”

রানি চমকালেন, “তার মানে উনি বেঁচে আছেন?”

 “আছেন সম্ভবত। কারণ আমাদের পল্লীর কেউ যদি কোনো রাজার বিশেষ দাসী হয়ে যায় তাহলেও তার মৃত্যুর পর তাকে এইখানেই সমাধি দেওয়া হয়। এটাই নিয়ম। সেই চুক্তি অনুযায়ীই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। এখনো যেহেতু ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি তার মানে সে বেঁচে আছে।”

“কোন রাজ্য তাকে কিনে নিয়ে গিয়েছিল? কোনো প্রমাণ? নথিপত্র আছে কি?”

মহিলাটি মাথা নাড়ালেন। ছুটে গিয়ে কাঠের একটি বাক্স থেকে মোটা হলদেটে রঙের একটি পত্র নিয়ে এগিয়ে এলেন। তবে সেটি রানির দিকে এগিয়ে দিতে গিয়েও দিলেন না। এতে কিছুটা বিরক্ত হলেন রানি, 
“মশকরা করছো? এখুনি প্রাণটা নিয়ে নিবো কি বলো?”

 মহিলাটি বিগলিত ভঙ্গিতে হাসল,
“কথা যে দিয়েছিলেন, তা কি মনে আছে? আপনার রাজ্যে আমাদের একটি বাসস্থান যে করতে দেবেন?”

 রানির চোখ-মুখ শক্ত হলো। মহিলার হাত থেকে পত্রটি কেঁড়ে নিতে নিতে বলল, “রানি কথার ভঙ্গ করে না, তা জানো না?”

মহিলাটি হাসলো। আগ্রহী চোখে তাকিয়ে রইল রানির দিকে। রানি তাকালেন সেই নথিটিতে। এবং সেই নথিটির লিখা দেখতেই তার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেলো। শরীর হিমশীতল হয়ে গেলো। অস্ফুটস্বরে বলল,
“ক্যামিলাস রাজ্যের নথি!”

—————

  বিশাল একটি মাঠ জুড়ে হৈচৈ-এ মুখরিত মানুষ। হেমলক খুব মন দিয়ে কিছু একটা আঁকছে। তার সাথে আরও বিশ্ব সেরা চিত্রশিল্পীরা আছে। হেমলকের নামে মুখরিত ময়দান। সেই জয়ধ্বনিতেও মুখটি অন্ধকার হেমলকের। তবে তাকে উৎসাহ দেওয়ার তীব্র চেষ্টা করছে মৃন্ময়ী। হেমলক অংশগ্রহণ করবে আর সে আসবে না তা কি আর হতে পারে? 

 বেলা বাড়তেই অঙ্কনের সমাপ্তি ঘটে। কেউ মানুষ এঁকেছে তো কেউ চাঁদ। অথচ হেমলক এঁকেছে একটি ভিন্নরকম চিত্র। একটি নারী বসে আছেন। যার বুকের একটি পাশ নিরেট অন্ধকার। কিচ্ছু নেই সেখানটায়। নারীটির মাথায় মুকুট, ঠোঁটের তীক্ষ্ণ হাসি। অথচ চোখগুলো শান্ত। ছবিটির নিচে ছোটো করে লিখা,
 “The Hollow Heart… নারীর সেই আবেগশূন্য হৃদয়, যাকে গিলে খেয়েছিলো পুরুষের কাম।”

ময়দান জুড়ে বিস্ময়ে হা করে রইল সবাই। 
 সেই রাজ্যের রাজা তুমুল হাততালিতে ভরিয়ে তুললেন। প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাকিরাও। এ কেমন শিল্প! এ কেমন শিল্পী! যার শৈল্পিকতায় কথা বলে! 

হেমলক সেই কোলাহল পরিপূর্ণ ময়দান জুড়ে চোখ ঘুরালো। যাকে সে আঁকলো সে ব্যতীত সকলেই দেখলো। হাহ্!

 মৃন্ময়ী আর আসনে বসে থাকতে পারল না। উচ্ছ্বাসিত ভাবেই নেমে দৌঁড়ে গেলো হেমলকের কাছে। তার এই স্বার্থহীন আনন্দ দেখে হেমলকের ঠোঁটের কোণে হাসি উঠল রাজবেশে।
 অথচ সে যদি আরেকটু খেয়াল করে দেখতো তাহলে হয়তো অসংখ্য মানুষের আড়ালে থাকা ঐ হৃদয়শূন্য নারীটিকে সে দেখতে পেতো। যে চোখে জল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাততালি দিচ্ছে হেমলকের জন্য। 
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp