বাহিরে গুঞ্জন নেই বললেই চলে। যথারীতি নিস্তব্ধ এ্যাজেলিয়া রাজ্যের রাজপ্রাসাদটা। তবে এই নীরবতার ভেতরে যেন ভাঙন হচ্ছে। উথাল-পাতাল ঝড় বইছে হৃদয়ে। শব্দ হারিয়ে বিমর্ষ রানি কামিনী দার্শনিকের মতোই বসে আছেন। যেন জীবনকে দেখছেন তিনি। একে একে সকল পথ এসে মিশেছে তার জীবনেরই সাথে। নিঁখুত সকল ললাটের লিখন। বিধাতার তার প্রতি করা সব অন্যায় আজ সঠিক হয়ে ফুটেছে।
রানির মূর্তিমান সেই স্তব্ধতা হেমলকের ঠিক সহ্য হলো না। সে আগ বাড়িয়ে এলো। রানি যেই কেদারাটায় বসা তারই পাশে দাঁড়াল। আগ বাড়িয়ে হয়ত আরও কিছু বলত কিন্তু রানি সেই বলার সময়টুকু না দিয়ে খুবই ধীরে-স্থিরে বললেন,
“আমি যদি এখন আপনাকে আপনার রাজ্যে ফিরে যেতে বলি, আপনি কি আমরা কথাটি রাখবেন?”
হেমলক আহত হলো। কোথাও একটা এই সংশয়টিই তার বুকে ভয়ের মতোই বাসা বেঁধেছিলো। সে আহত কণ্ঠে বলল,
“আমার অন্যায়?”
“অন্যায় অপরাধের হিসেবে আমি নেই এই মুহূর্তে। আমি কেবল অনুরোধটুকু করতে পারছি আপতত।”
“আমি জানতাম তুমি দুঃখ পাবে তাই…”
“আমিতো দুঃখ পাইনি। জীবনে আমাদের অজান্তেই বহু ঘটনা ঘটেছে, ঘটে এবং আগামীতে ঘটবে। সেই সমস্ত ঘটনার দায় আমাদের নয়। সেই সমস্ত কিছুতেই তাই দুঃখ করা মানায় না। তাছাড়া আমি রানি কামিনীকাঞ্চন, অপ্রেমিক রাজা কেশবচন্দ্র এবং স্বার্থপর নারী, নর্তকী ও গণিকা সুরসুন্দরীর কন্যা। আমি বোধহয় তাই সমস্ত দুঃখের উর্ধ্বে চলে গিয়েছি, তাই না বলুন?”
হেমলকের কথা মাঝ পথে থামিয়ে দিয়েই বললেন রানি। তার কণ্ঠ প্রাণহীন, শূন্য, রুগ্ন শোনালো বড্ড। হেমলক হতাশ শ্বাস ফেলল,
“কার কন্যা তুমি, কিইবা তোমার জন্ম পরিচয় তাতে তোমার অনুভূতির কী যায় আসে? তুমি সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ, তোমরা সমস্তকিছুই ভিন্ন। তাদের সাথে কি আর তোমার তুলনা হয়?”
রানি কথা বিশেষ আগাতে চাইলেন না বোধহয় তাই মৌন থাকলেন। চোখগুলোও বন্ধ করে নিলেন আলগোছে। যেন তীব্র যুদ্ধের পর তিনি ক্লান্ত। অথচ যুদ্ধের ময়দান থেকেও এতটা ক্লান্তি নিয়ে কেউ কখনো তাকে ফিরতে দেখেনি।
হেমলক চেয়েও আর সমস্ত কথা শেষ করতে পারেনি। আগ বাড়িয়ে বলার আর আগ্রহটুকুও হলো না। সে মেনে নিলো রানির একা থাকতে চাওয়ার অনুরোধ। বিনা শব্দে প্রস্থান করতে নিয়েও আবার কী ভেবে যেন দাঁড়িয়ে পড়ল। পরক্ষণেই প্রশ্ন করল,
“তুমি কি তবে আর ফিরবে না সেই রাজ্যে?”
রানি বন্ধরত চোখেই ধীরে বললেন,
“ফিরবো না-ই বা কেন? সে রাজ্যেই তো আমার সমস্তটা রেখে এসেছি। প্রজাদের প্রতি আমার দায়িত্ব রয়েছে কত! রানি কামিনীকাঞ্চন সব ভুললেও নিজের প্রজাদের কথা ভুলেন না।”
হেমলক যেন এতটুকু কথাতেই আশ্বস্ত হলো। স্বস্তি পেলো বেশ। যাক তবে রানি ফিরবেন! এতটুকুই কি তার জন্য অনেক নয়?
তবে মনে মনে তার কিছুটা বিস্ময় রয়েই গেলো। রানি তাকে আরকটিবার নিজের মাতার কথা জিজ্ঞেস করলেন না কেন? কিংবা জানতে চাইলেন না কেন যে এতকাল হেমলক জ্যেষ্ঠ্য পুত্র হওয়ার পরও কেন সমস্ত ক্ষমতা থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলো? রানির মতিগতি বোঝা দায়। তাই এই প্রশ্নগুলোর অপেক্ষাতে থেকেই হেমলক বিদায় নিলো। খালি হাতে ফিরল আপোষে।
রানির বন্ধ চোখের পাতাগুলো কাঁপল অনবরত। শ্বাস অত্যাধিক উঠানামাও করল। হাতগুলো তিনি শক্ত করে মুঠ করে রাখলেন। ঠোঁটে বারংবার কেবল একটি কথায় বলতে লাগলে,
“আমি রানি কামিনীকাঞ্চন। আমি রানি কামিনীকাঞ্চন। আমি রানি কামিনীকাঞ্চন… “
অনবরত, বারংবার এই একটি বাক্যই যেন জপতে লাগলেন। তার পরিচয় সংকটে বলেই হয়ত বার বার নিজের মন ও মস্তিষ্কে গেঁথে রাখতে চাইলেন সেই পরিচয়। তাছাড়া নিজের পরিচয় খোঁজার যেই খেলাতে তিনি নেমেছেন সেই খেলা যে এখনো শেষ হয়নি! এখনও অধিক থেকে অধিকতর গুটি রয়ে গিয়েছে ভূমিতে। সেসবেরও তো প্রস্তুতি প্রয়োজন!
—————
হ্যাব্রোর ক্ষত বেশ ভালোই হয়েছে। দেহের জায়গায় জায়গায় ছোপ ছোপ দাগ কালচে হয়ে আছে। রানি এসেছেন হ্যাব্রোর কক্ষে। তার পেছন পেছন উপস্থিত হয়েছে মন্ত্রীমশাইও।
বৈদ্য কোনো একটি জড়িবুটি তৈরি করছিলেন। রানির উপস্থিতি বোঝানোর জন্যই মন্ত্রী কিছুটা উঁচু স্বরে বললেন,
“রানি কামিনীকাঞ্চন উপস্থিত হয়েছেন।”
বৈদ্যর হাত থামে। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকান তিনি। রানিকে দেখেই কুর্নিশ করেন। রানি গ্রহণ করেন তা। হ্যাব্রো রানি আসার সংবাদে চোখ মেলে তাকায় তড়িৎ গতিতে। উঠে বসবার চেষ্টা করে একাকী। বৈদ্য থামিয়ে দেয় তাকে,
“উঠো না, উঠো না, তোমার ক্ষত সারেনি।”
হ্যাব্রোর কি আর সেসব কথা শোনার সময় আছে?
রানি নিজেই তাই আগ বাড়িয়ে গেলেন। হ্যাব্রোর বাহুতে মৃদু হাত রাখলেন। চোখ দিয়ে ইশারা করে বললেন,
“উঠতে হবে না, শুয়ে থাকো।”
রানির আদেশ পেতেই সে থামল। তার আপ্রাণ চেষ্টাও থামল তখন। রানি হ্যাব্রোর বাহুতেই হাত রেখে ধীরে বললেন,
“ওর সুস্থ হতে আর কতটা সময় লাগবে?”
বৈদ্য কোমল স্বরেই বলল, “আর দিন দুয়েক। সেনাপতি হ্যাব্রো আমাদের বেশ সাহসী ছেলে। খুব দ্রুতই সেরে উঠছেন।”
রানি বৈদ্যর কথায় তাল মিলিয়ে হাসলেন। হ্যাব্রোর বাহুতে ছোটো ছোটো চাপড় দিয়ে বললেন,
“সুস্থ হয়ে উঠে, হ্যাব্রো। তোমাকে আমার প্রয়োজন।”
শেষের বাক্যটি এতটাই ধীরে বললেন যেন কক্ষের কেউই শুনতে পেল না তেমন। অস্পষ্ট হয়ে এলো তাদের কানে। কিন্তু হ্যাব্রো ঠিক শুনল। এবং ঠিক দেখল রানির চোখগুলোতে উষ্ণ শূন্যতা, অসহায়ত্ব। মনে মনে তার চলছে প্রলয়। সে মাথা নাড়ায়। বোঝায় যে সত্যি সত্যি দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে। খুব তাড়াতাড়িই সে ফিরবে।
বাহির থেকে তখুনিই একটি দেহরক্ষী হাঁক ছাড়ে, রানির উদ্দেশ্যে বলে,
“মহারানি, আপনার সাথে দেখা করতে এসেছেন রাজা জহুররাজ।”
রানির ভেতর কোনো পরিবর্তন দেখা দেয় না। তিনি খুব ধীরেসুস্থেই উত্তর দেন,
“বৈঠকখানায় অপেক্ষা করতে বলো। আসছি আমি।”
হ্যাব্রো ঠিকই চিন্তিত হয়ে উঠে। কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“জহুররাজ! উত্তর-দক্ষিণ রাজ্যের রাজা না উনি? আর..”
হ্যাব্রোকে থামতে দেখে আগ্রহ জাগে মন্ত্রীর। আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করে, “আর?”
হ্যাব্রো রানির দিকে তাকায়। অদ্ভুত স্বরে বলে,
“আর যামিনীর মামাশ্রী না? আপনি বলেছিলেন তো!”
রানি হ্যাব্রোর প্রশ্নের বিপরীতে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানান। অর্থাৎ তিনি বলেছিলেন। যেহেতু যামিনীর সকল ছলের কথা সকলেই অবগত তাই এবার মন্ত্রীও চমকায়। তাদের সবচেয়ে বেশি অবাক লাগে রানিকে এত স্থির দেখে। এই মানুষটা কখনো, কোনো ঘটনাতেই কেন প্রতিক্রিয়া করেন না? এমন জড় বস্তুর মতোই বা কেন তিনি?
রানি হ্যাব্রোকে বিশ্রাম নিতে বলেই বের হয়ে যান। মন্ত্রীমহোদয় বের হতে নিলেই হ্যাব্রো পিছু ডাকে। শিশুর মতোই বায়না করে বলে,
“রানির খেয়াল রাখবেন। চারপাশে এখন তার ভীষণ বিপদ।”
—————
বৈঠকখানায় আসনে বসেননি জহুররাজ। দাঁড়িয়েই রয়েছেন টান টান হয়ে। বলিষ্ঠ তার বাহু দু'টি টান টান, সোজা হয়ে আছে। রানি প্রবেশ করতেই তার সমস্ত রক্ষী, মন্ত্রী পরিষদ দাঁড়িয়ে পড়ল। মাথা ঝুঁকে সাদরে, সম্মানের সাথেই গ্রহণ করল তার এই আগমন। একমাত্র জহুররাজ ছাড়া।
জহুররাজের মন্ত্রী আগ বাড়িয়ে রানিকে বলল,
“আপনার সাথে রাজা অনেকক্ষণ হলো দেখা করতে এসেছেন। তার সাথে কথোপকথনটা করে নিতেন যদি।”
রানি দাঁড়ালেন না। যেমন করে তার সিংহাসনের দিকে অগ্রসন হচ্ছিলেন তেমন করেই এক ধারে হেঁটে গিয়ে বসলেন। একটি পায়ের উপর পা তুললেন রাজকীয় ভঙ্গিতে। জহুররাজের দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট কণ্ঠে বললেন,
“বসুন, রাজা।”
জহুররাজের দম্ভে ভরা বুক নত হওয়ার নয়। তিনি তার মন্ত্রীকে চোখ দিয়ে ইশারা করতেই মন্ত্রী বলে উঠল,
“উনি বসতে আসেননি, রানি। উনি…”
“যার কথা তাকে বলতে বলুন। নাকি আপনাদের রাজা কথা বলতে পারেন না? সামান্য কথা বলতেও তার আরেকজনকে প্রয়োজন? এত নির্ভরশীল তিনি?”
রানির তীক্ষ্ণ বাক্যে জহুররাজ অবাক না হয়ে পারে না। তার মন্ত্রী থতমত খেয়ে দমে আসে। আর একটি কথা বলারও সাহস করে না।
জহুররাজ এবার নিজেই গলা পরিষ্কার করে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। মধ্যবয়স্ক লোকটি। মুখটি গুরুগম্ভীর করে রাখার চেষ্টা প্রবল।
“আপনার সাথে আমার শত্রুতার সম্পর্ক তা আপনি ভালো করেই অবগত। তবুও আমি আপনাকে বলেছি সেই শত্রুতা আমি ভুলে যাব কেবল আমি যা চাচ্ছি তা ফেরত দিয়ে দিন।”
রানি আরাম করেই বসে রইলেন। বেশ গা ছাড়া ভাবে বললেন,
“আমি কি আপনাকে শত্রুতা ভুলতে বলেছি?”
রানির গা-ছাড়া প্রশ্নে জহুররাজ ক্রোধান্বিত হন। এই নারীর এত তেজ তার ঠিক সহ্য হচ্ছে না। তবুও ক্রোধে নিজের বোধবুদ্ধি হারান না। নিজেকে যথেষ্ট সামলে নিয়ে বললেন,
“আমার রাজ্যের পাশেই আপনার বাণিজ্যিক অঞ্চল। আমি চাইলে আপনার সেই অঞ্চল ধূলোয় মিশিয়ে দিতে পারব। আর একটি রাজ্যের বাণিজ্য শেষ হয়ে গেলে সেই রাজ্য আর উঠে দাঁড়াতে পারবে কি?”
রানি এ পর্যায়ে হেসে উঠলেন,
“আমার রাজ্যের বাণিজ্য আপনি ধ্বংস করবেন? দেখব তাহলে কেমন পারেন।”
“রানি, আমার ভগ্নিপতিকে ফিরিয়ে দিন। ওর পুরো বংশটিকে আপনি শেষ করে দিয়েছেন। যামিনীটাকে অব্দি তড়পে শেষ করেছেন। যামিনী আমাকে শেষবার পত্রতে লিখেছিলো আপনার কারগারে ওর পিতা হয়ত বন্দী আছে। ও সন্দেহ করেছে। আপনি দয়া করে তাকে ফিরিয়ে দিন।”
রানি ভেতরে ভেতরে চমকান। যামিনী তাহলে আঁচ করতে পেরেছিলো তার পিতার কথা? তা-ই কি সে সেই বৃদ্ধলোকটিকে ছেড়ে দিয়েছিলো? কিন্তু লোকটি পালিয়ে গেলো কোথায়? এমন করে নিরুদ্দেশ হলোও বা কী করে?
মনের প্রশ্ন ও উদ্বেগ তিনি বাহিরে প্রকাশ করেন না। কারগার থেকে যে যামিনীই তার পিতাকে ছাড়িয়ে দিয়েছিলো তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু সে সংবাদটি রানি গোপনেই রাখেন। প্রকাশ্যে বললেন,
“আপনার ভগ্নিপতি যে অন্যায় করেছে তার পরেও যে আপনিসহ তার আত্মীয় স্বজন এখনও জীবিত আছেন তা-ও কি কম নয়?”
জহুররাজ এবার তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন, “ঐ রানি…”
“ওখানেই থেমে যান। নয়ত আর রাজ্যে ফিরতে পারবেন না।” বেশ উচ্চস্বরে শাসিয়ে বললেন রানি।
জহুররাজ রাগে ফুঁসতে লাগলেন। রানি এবার আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন, সকলের সামনে খোলা কণ্ঠে বললেন,
“আমার রাজ্যে এসেছেন স্বেচ্ছায় তাই অক্ষত ফেরত যাচ্ছেন। কারণ আমি কারো অসময়ে আঘাত করি না। কথা দিলাম, আমার বাণিজ্য আপনি ধূলিসাৎ করে দেখান। আর যদি না দেখাতে পারেন তবে আপনার রাজ্যে গিয়ে আপনার রাজত্ব আমি ছিনিয়ে নিয়ে আসব। এত ভয়ঙ্কর হবে আমার সেই আগমন যে আপনি জীবিত থাকাকালীন কখনো ঠিক ভাবে আর নিদ্রাযাপন করতে পারবেন না। ভয়ে প্রতিনিয়ত মৃত্যু কামনা করবেন। এইটা রানি কামিনীকাঞ্চনের প্রতিশ্রুতি রইল, রাজা জহুররাজ। আমার সাথে যেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে আপনার ভাগ্নী, যত অন্যায় করেছে আপনার ভগ্নিপতি তার সকল শোধ না আপনার উপর দিয়ে তুলি আমি, দেখবেন। এই আসমান মিথ্যে হতে পারে কিন্তু আমার প্রতিজ্ঞা কখনো মিথ্যে হয় না। বের হন, এখুনি। যান।”
রানি এত তীব্র ভাবে বের হতে বললেন যে আর দাঁড়িয়ে থাকল না জহুররাজ। হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল। যেতে যেতে সে-ও যেন রানির প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করে গেলো।
রানি বড়ো বড়ো করে শ্বাস নিলেন। এই সমস্তকিছুই সামলে নিবেন তিনি এক হাতে। আগে হ্যাব্রো সুস্থ হলেই ক্যামিলাসে যাবেন শেষ হিসেবনিকেশ সমাপ্ত করতে। তার আগে তিনি মৃন্ময়ীকে একটি পত্র দিবেন। তার অভিশাপ ঘুচিয়ে দিবেন তিনি নিজেই। রানি কামিনীকাঞ্চন কখনো প্রজন্মের শাপ বয়ে বেড়াবেন না। না তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সেটা বইতে দিবেন।
·
·
·
চলবে……………………………………………………