সূর্যমামার ঘুম ভাঙতে তখনো বাকি তবে পাখিরা ডাকাডাকি করে সবার ঘুম ভাঙানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে। পদ্মজা স্বামীর বুকের ওম ছেড়ে অজু করে এলো। এসে দেখে, তার সোহাগের স্বামী এখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন! তাকে ডেকে তুলে দুজন একসঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে নিলো। নামাজ শেষ করেই ঘুমিয়ে পড়ল আমির। পদ্মজা রান্নাঘরে চলে গেল। ফরিনা বেগম এখনও আসেননি। আজ মেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পাবে। উত্তেজনায় পদ্মজার ভেতর কাঁপছে। সে পায়চারি করতে করতে লাবণ্যর ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দরজা খোলা। পদ্মজা বাইরে থেকে উঁকি দেয়, রানি মেঝেতে বসে উদাস হয়ে কিছু ভাবছে। সেদিনের পর থেকে রাতে ঘুমায় না। নিজের মতো জগৎ করে নিয়েছে। খাবার রেখে যাওয়া হয়, যখন ইচ্ছে হয় খায়। পদ্মজা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জায়গা ত্যাগ করল। রানি নিজের ঘরে লাবণ্যকে ছাড়া অন্য কাউকে দেখলে খুব রেগে যায়। তাই এই ভোরবেলা তার সামনে না যাওয়াই মঙ্গল। পদ্মজা সদর ঘরে পায়চারি করছে। ফরিনা বেগম তাসবিহ পড়তে পড়তে সদর ঘরে প্রবেশ করলেন। পদ্মজাকে দেখে প্রশ্ন করলেন, ‘উইট্টা পড়ছ! চুলায় আগুন ধরাইছো?’
পদ্মজা অপরাধীর মতো মাথা নত করে ‘না’ উচ্চারণ করল। ফরিনা এ নিয়ে কথা বাড়ালেন না। মৃদু কণ্ঠে আদেশ করলেন, ‘লাবণ্যরে গিয়া ডাইককা তুলো। ছেড়িডা আইজও মানুষ হইল না। ভোরের আলো ফুইটা গেছে। হে এহনও ঘুমায়।’
পদ্মজা বাধ্য বউয়ের মতো বলল, ‘আচ্ছা আম্মা।’
পদ্মজা আবার লাবণ্যর ঘরের সামনে গেল। এবার আর বাইরে থেকে উঁকি দিয়ে চলে যায়নি। ভেতরে ঢুকল। পদ্মজা আওয়াজ করে দরজা খুলে। তাও রানির ভাবান্তর হলো না। সে যেভাবে মেঝেতে বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল, সেভাবেই রয়ে গেল। রানির দিকে দৃষ্টি খেয়াল করে পালঙ্কের পাশে গিয়ে দাঁড়াল পদ্মজা। লাবণ্যকে ডাকল, ‘এই লাবণ্য। লাবণ্য?’
লাবণ্য আড়মোড়া ভেঙে পিটপিট করে তাকিয়ে বলল, ‘উ?’
‘আজ ফলাফল। আর তুই ঘুমাচ্ছিস!’
পদ্মজার কথা বুঝতে লাবণ্যর অনেক সময় লাগল। যখন বুঝতে পারল লাফিয়ে উঠে বসল। বুকে হাত রেখে, হাসফাঁস করতে করতে বলল, ‘কী বললি এটা! দেখ কলিজাডা কেমনে লাফাইতাছে! কী ভয়ানক কথা মনে করায়া দিলি, উফ!’
পদ্মজা হাসল। বলল, ‘কলিজা লাফায় না, বুক ধুকপুক করে।’
ওইটাই…ওইটাই। আমি ফেল করব। রানি আপার মতো মাইর খাব দেখিস। আমার শ্বাস কষ্ট হইতাছে।’ লাবণ্য ভয়ে ঘন ঘন নিশ্বাস নিচ্ছে। রাতে দুশ্চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়েছে, ঘুম ভেঙেও সেই আতঙ্ক! এই চিন্তায় রাতে ঘুমাতে ঘুমাতে মাঝরাত হয়ে গেছে। লাবণ্যর ছটফটানি দেখে ভয় পেয়ে গেল পদ্মজাও। সান্ত্বনা দিয়ে বলল, ‘এমন কিছুই হবে না, দেখিস। অকারণে চিন্তা করছিস। সূর্য উঠে যাবে। নামাজ পড় জলদি। আল্লাহর কাছে দোয়া কর।’
লাবণ্য হুড়মুড়িয়ে বিছানা থেকে নেমে কলপাড়ে ছুটে গেল। এইবার হেসে ফেলল পদ্মজা, রানির দিকে চোখ পড়তেই মিলিয়ে গেল হাসি। রানি কাঁদছে। পদ্মজা দুই পা রানির দিকে এগিয়ে আবার পিছিয়ে এলো।
শেষমেষ সাহস জুগিয়ে এগিয়ে এসে মৃদু কণ্ঠে ডাকল, ‘আপা?’
চোখ ভরতি অশ্রু নিয়ে তাকাল রানি। পৃথিবীর সব কষ্টরা বুঝি এক জোট হয়ে রানির চোখে ভিড় জমিয়েছে! রানি পদ্মজাকে অবাক করে দিয়ে অশ্রুরুদ্ধ কণ্ঠে বলল, ‘প্রিয় মানুষ হারানোর কষ্ট
এতডা যন্ত্রণা কেন দেয়, পদ্মজা? তুমি তো অনেক জ্ঞানী। সবাই তোমারে বুদ্ধিমতী কয়। তুমি একটা বুদ্ধি দেও না। এই কষ্টের পাহাড় কমানোর বুদ্ধি। আমারে দেখায়া দিবা শান্তির পথ?’
মানুষের কতটা কষ্ট হলে এভাবে শান্তি খুঁজে? পদ্মজার চোখ টলমটল করে উঠল। সে ঢোক গিলে বলল, ‘পুরনো স্মৃতি মুছে সামনের কথা ভাবো। নামাজ পড়ো, হাদিস পড়ো, কোরআন পড়ো। একদিন ঠিক শান্তি খুঁজে পাবে।’
‘আমার মতো পাপীরে আল্লাহ কবুল করব?’
আল্লাহ তায়ালার মতো দয়াবান, উদার আর কেউ নেই। পাপ মোছার জন্য অনুতপ্ত হয়ে সেজদা দিয়েই দেখো না, আপা। ক্ষমা চেয়ে দেখো। আল্লাহ ঠিক তোমার জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনবেন। সেদিন বুঝবে, আল্লাহ তোমার সেজদা কবুল করেছেন।’
রানি জানালার বাইরে তাকাল। আমগাছের ডালে চোখ রেখে বলল, ‘কেন এমনডা হইল আমার লগে?’
‘ব্যভিচার করেছ, আপা। বিয়ের আগে এভাবে…! আপা, এসব ভেবো না আর। যা হওয়ার হয়েছে।’
‘দুনিয়াত আর চাওনের-পাওনের কিচ্ছু নাই আমার।’
‘এবার আখিরাতের জন্য সম্পদ জমাও।’
রানি অন্যরকম দৃষ্টি নিয়ে তাকাল। পদ্মজা সবসময় মাথায় সোজা সিঁথি করে। এক অংশ সিঁথি দেখা যাচ্ছে। বাকিটুকু শাড়ির আঁচলে ঢাকা। মেয়েটা এত স্নিগ্ধ, এত সুন্দর, এত পবিত্র দেখতে! দেখলেই মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়।
পদ্মজা বলল, ‘আখিরাতের সম্পদ ইবাদত, খাঁটি ইবাদত।’
তুমি খুব ভালা, পদ্মজা।’ মৃদু হেসে বলল রানি। তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল জল। পদ্মজা অপ্রস্তুত হয়ে হাসল। বলল, ‘এখন নামাজ পড়তে পারবে? তাহলে পড়ে নাও। মনে শান্তি আসবে।’
‘ওইদিনের পর আর গোসল করি নাই।’
‘আজ করবে কিন্তু।’
‘করব।’
‘আসি?’
‘আসো।’
পদ্মজা বেরিয়ে যায়। দরজার বাইরে পা রাখতেই রানির কান্নার স্বর কানে এলো। থমকে দাঁড়াল পদ্মজা, পেছন ফিরে দেখে নিলো একবার। রানি হাঁটুতে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে। পদ্মজা মনে মনে প্রার্থনা করল: আল্লাহ, ক্ষমা করে দাও রানি আপাকে। শান্তির পথে ফিরে আসার রহমত দাও।
—————
বাড়ির সবাই মেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আমির বের হয়েছে সেই সকাল দশটায়। এখন বাজে দুপুর তিনটা। লাবণ্য মিনিটে মিনিটে গ্লাস ভরে পানি খাচ্ছে। আর বার বার টয়লেটে যাচ্ছে। পদ্মজা ঝিম মেরে বসে আছে। হেমলতা সবসময় পদ্মজাকে বলতেন, মেট্রিকে ফার্স্ট ডিভিশন পেতে হবে। পদ্মজার একবার মনে হচ্ছে সে ফার্স্ট ডিভিশন পাবে, আরেকবার মনে হচ্ছে সেকেন্ড ডিভিশনে চলে যাবে! সে এক হাতের আঙুল দিয়ে অন্য হাতের তালু চুলকাচ্ছে। এই মুহূর্তে খুব মনে পড়ছে মাকে, কতদিন হলো দেখা হয় না। প্রথম প্রথম মায়ের জন্য প্রায় কাঁদত সে। এখন অবশ্য মানিয়ে নিয়েছে।
আছরের আজান পড়ছে। এখনও ফেরেনি আমির। পদ্মজা নামাজ পড়তে চলে গেল। নামাজ পড়ে এসে দাঁড়াল বারান্দায়। এরপর যা দেখল, খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়ল। আমিরের সঙ্গে হেমলতা, পূৰ্ণা এসেছে। দুজনের পরনে কালো বোরখা। তিনজন আলগ ঘর পেরিয়ে অন্দরমহলের দিকে আসছে। মাথার ওপর কড়া রোদ নিয়ে মরুভূমিতে সারাদিন হাঁটার পর পথিক তৃষ্ণার্ত হয়ে পানির দেখা পেলে যেমন আনন্দ হয়, ঠিক তেমন আনন্দ হচ্ছে পদ্মজার। ইচ্ছে হচ্ছে দুই তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নেমে যেতে। কিন্তু তা তো সম্ভব নয়। পদ্মজা উন্মাদের মতো দৌড়াতে থাকে। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় উলটে পড়ে যেতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিলো, কিন্তু দৌড় থামল না। সদর ঘরের সবাইকে তোয়াক্কা না করে বাড়ির বউ ছুটে বেরিয়ে যায়। হেমলতা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার নয়নের মণি ঝাঁপিয়ে পড়ে বুকের ওপর। পদ্মজার ছোঁয়ায় চারিদিকে যেন বসন্ত শুরু হয়। পূর্ণা পদ্মজাকে দেখেই জড়িয়ে ধরে ফোঁপাতে থাকল। হেমলতার বুকে মাথা রেখে পূর্ণাকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে কাঁদো কাঁদো হয়ে পদ্মজা বলল, ‘এতদিনে তোমাদের আমার কথা মনে পড়ল? এভাবে পর করে দিলে, আম্মা? আর পূর্ণা, তুই তো আসতে পারিস। বোনকে মনে পড়ে না?
শাড়ির আঁচল টেনে পদ্মজার মাথার চুল ঢেকে দিলেন হেমলতা। বললেন, ‘মেয়ের শ্বশুরবাড়ি আসা কী এতই সোজা?’
‘তাহলে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর কী দরকার? যদি মা-বাবা সহজে না আসতে পারে!’
‘আপা…আমার তোমাকে খুব মনে পড়ে।’ পূর্ণা বাচ্চাদের মতো কাঁদছে। পদ্মজা পূর্ণার চোখের জল মুছে দিয়ে বলল, ‘আমারও মনে পড়ে।’ হেমলতা পদ্মজার চোখের জল মুছে দিয়ে উচ্ছ্বাস নিয়ে বললেন, ‘সাতশো পঞ্চাশ মার্ক পেয়েছিস। স্টার মার্ক। ফার্স্ট ডিভিশন। এই খুশিতে আর কাঁদিস না।’
পদ্মজার চোখে জল। গাল, ঠোঁট চোখের জলে ভেজা। এমতাবস্থায় সে হাসল। তাকে মায়াবী ভোরের শিশিরের মতো দেখাচ্ছে। হেমলতা অন্দরমহলের সদর দরজার দিকে তাকিয়ে দেখেন, হাওলাদার বাড়ির বাকিরা তাকিয়ে আছে। তিনি পদ্মজাকে সরিয়ে সদর দরজার দিকে এগিয়ে যান। ফরিনা বেগমের মুখ দেখে পদ্মজার ভয় হচ্ছে। উনার মুখ আগে আগে ছোটে। আম্মাকে কিছু বলবেন না তো?
হেমলতা সবাইকে সালাম দিয়ে বললেন, ‘আমির ধরে নিয়ে এলো।’
মজিদ হাওলাদার বিনীত স্বরে বললেন, ‘এই প্রথম আমাদের বাড়িতে এসেছেন। আগে জানলে, গরু জবাই করে রাখতাম।’
হেমলতা হাসলেন, ‘বলেছেন, এই অনেক।’
‘বললেই হবে না। করতে হবে। কয়দিন কিন্তু থেকে যাবেন।’
‘এটা বলবেন না। আজই ফিরতে হবে আমার। কিছুক্ষণ থেকেই চলে যাব।’
‘প্রথম বার আসলেন আর কিছুক্ষণ থেকেই চলে যাবেন?
‘আবার আসব। অনেকদিন থেকে যাব।’
‘আজকের রাতটা থেকে যান।’
‘আম্মা, আজ আমার সঙ্গে থেকে যাও।’ পদ্মজা অনুরোধ করে বলল। হেমলতা হেসে সম্মতি দিলেন। ফরিনা কিছু বলছেন না। ভ্রুকুটি করে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি হেমলতাকে ভেতরে ভেতরে ভয় পান। কেমন ধারাল চোখের দৃষ্টি, যেন একবার তাকিয়েই ভেতরের সব দেখে ফেলতে পারে। আর চোখমুখের ভাব দেখলে মনে হয়, কোন দেশের রাজরানি! তার উপর আমির দরদ দেখিয়ে শাশুড়ি নিয়ে এসেছে। ফরিনা বিরক্ত হচ্ছেন। হেমলতা ফরিনার দিকে তাকাতেই ফরিনা চোখ সরিয়ে নিলেন। হেমলতা ফরিনাকে প্রশ্ন করলেন, ‘আপা, কথা বলছেন না যে? আমার উপস্থিতি বিরক্ত করেছে খুব?’
হেমলতার কথার ফরিনাসহ উপস্থিত সবাই অস্বস্তিতে পড়ে যায়। ফরিনা হাসার ব্যর্থ চেষ্টা করে বললেন, ‘কী বলছেন, আপা? বিরক্ত হইতাম কেরে? এই পরথম আইছেন। খুশিই হইছি।’
‘তাই বলুন।’
‘দরজায় দাঁড়ায়া গপ আর কতক্ষণ হইব? ঘরে আহেন।’ ফরিনা দ্রুত সটকে পড়েন। সদর ঘরে আগে আগে হেঁটে চলে যান। তিনি হাঁপাচ্ছেন। বিড়বিড় করে বললেন, ‘মহিলা এত্ত চালাক! সত্যি সত্যি সব বুইঝা ফেলে।’
হেমলতা সবার আড়ালে শাড়ির আঁচল মুখে চেপে সেকেন্ড দুয়েক হাসলেন। হেমলতাকে হাসতে দেখে, পদ্মজাও হাসল। সবাই সদর ঘরে এসে বসে। লাবণ্য ও পদ্মজার ফলাফল দেওয়ার উপলক্ষে শিরিন, শাহানাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। তারা এখন হাওলাদার বাড়িতেই আছে। দুই বোন নাস্তা তৈরি করতে রান্নাঘরে গেল। লাবণ্য দরজা বন্ধ করে ঘরে বসে আছে। আমির এখনও লাবণ্যর ফলাফল কাউকে বলেনি। সে সদর ঘর থেকে লাবণ্যকে ডাকল, ‘লাবণ্য? এই লাবণ্য? শুনছিস? এদিকে আয়। আজ তোর খবর আছে।’
আমিরের কথা শুনে লাবণ্যর বুকের ধুকপুকানি থেমে যায়। এখুনি নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে অবস্থা। নিশ্চিত ফেল করেছে! লাবণ্য চিত হয়ে শুয়ে অপেক্ষা করতে থাকে, কখন সে মারা যাবে। আমির আবার ডাকল, ‘বেরিয়ে আয় বলছি। নয়তো দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকব। তখন কিন্তু গায়ে মার বেশি পড়বে।’
লাবণ্য তড়িঘড়ি করে বিছানা থেকে নামে। গায়ের ওড়না ঠিক করে সদর ঘরে ঢুকতে ঢুকতে নামাজের সব সুরা পড়তে থাকে।
আমির চেয়ার ছেড়ে দাঁড়াতেই লাবণ্য কেঁপে উঠল। কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল ‘আগামী বছর মেট্রিকে পাশ করাম। আল্লাহর কসম কইরা কইতেছি
‘এই বছরই তো পাশ করেছিস! তাহলে আগামী বছর আবার মেট্রিক দিবি কেন?’
লাবণ্য চকিতে তাকাল। তার মুখটা হাঁ হয়ে যায়। লাবণ্যর মুখের ভঙ্গি দেখে সবাই হাসল। লাবণ্য খুশিতে কেঁদে দিল। আমির লাবণ্যকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, ‘আরেকটুর জন্য ফেল করিসনি।’
লাবণ্য হাসতে হাসতে কাঁদছে। লাবণ্যর পাগলামি দেখে আমিরও হাসছে। তখন সদর ঘরে প্রবেশ করল রিদওয়ান হাওলাদার। হেমলতা রিদওয়ানের দিকে অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে তাকান। হেমলতার চোখে চোখ পড়তেই রিদওয়ান বিব্রত হয়ে উঠল, সরিয়ে নিলো চোখ। একটু পর আড়চোখে তাকিয়ে দেখে,
দেখে, হেমলতা তখনো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে আছেন। রিদওয়ান ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল।
এ যেন সাপুড়ে ও সাপের খেলা!
·
·
·
চলবে……………………………………………………