কারেন্ট নেই। ফ্যান হীনা ছোট্ট ঘরটা যেন আরও ছোট্ট ঠেকছে। বাহিরের কোলাহল দেয়াল চিড়ে চিড়ে ডুকছে ভেতরে। গ্রীষ্মকাল তো! কাকেদের ঝাঁক দিনে তিনবেলা করে গোসল করে। ওদের অবশ্য গোসল! মাথা না ভিঁজিয়ে শরীর ভেঁজালেই হলো। ওটাকে আবার চোরা গোসলও বলা যেতে পারে। কারেন্টের তারে বসে শরীরের ওইটুকু চোরা গোসল শোকাতেই ওদের কত রাখঢাক! কা কা শব্দে টেকা যায় না। ঘড়ির মিনিটের কাটাও সে ক্ষণে মৃদুমন্দ আওয়াজ তুলে, টিকটিক! টিকটিক! ঘুমের ঘোরে মেরিন অল্প নড়ে উঠলো। টের পেল, ভীষণ মোলায়েম কোলের মাঝে সে মাথা পেতে আছে। চুলে আদর আদর স্পর্শ, স্নেহ। কে হতে পারে? ভাবনার অকূল পাথারেই চোখ মেলে তাকালো মেরিন। সামনে খুব যত্ন করে তার বিয়ের গহনাগুলো গুছিয়ে রাখা। ওইতো, তারফানের শখের টেবিলের ওপর। আলো-বাতাসের কমতি থাকায় আশপাশটা গুমোট ঠেকছে। মেরিন আনমনে বিরবিরিয়ে উঠলো, ‘গরম।’
চোখ তখনো পুরোপুরি মেলতে পারেনি মেরিন। চারিদিক গাঢ় দাপটে পরখ করতে পারেনি। মাথায় হাত বুলালো ব্যক্তিটা ভীষণ মমতাময়ী হয়ে শুধালেন, ‘বেশি গরম লাগছে?’
চট করে উঠে বসলো সে। রজনী হায়দার হাসিমুখে বসে আছেন। মেরিন উঠতেই এবার ঠোঁটের হাসি আরও চমৎকার করে বললেন, ‘আমি তোমাকে ডেকে আমাদের ওখানে নিয়ে যেতে এসেছিলাম। এত সুন্দর করে ঘুমাচ্ছিলে, ডাকতে মন চায়নি।’
গলার কাছটা ভেঁজা ঠেকছে। ঘাম নিশ্চয়ই? হাতের উল্টোপিঠে ঘামটুকু মুছে ইতস্তত করলো মেরিন। শুধালো, ‘বেশি ঘুমিয়ে ফেলেছি আন্টি?’
‘নাহ, বিয়ের পরের দিন বউরা একটু ঘুমায়ই। ওসব ব্যাপার না।’ একটু থেমে বললেন, ‘ক্ষুধা লেগেছে নিশ্চয়ই? চলো, খাবে। ফ্ল্যাটে এখন কেউ নেই। আমি আর তুমি নাস্তা সেড়ে তোমার মায়ের ওখানে কিছুক্ষণ আড্ডা দেবো। মাকে মনে পড়ছে না?’
মেরিন খুব তাৎক্ষণিক উত্তর দিলো, ‘পড়ছে।’
বলে নিজেই লজ্জা পেয়ে গেল আবার। রজনী হায়দার হেসে বললেন, ‘আমার তিন ছেলের তিনটেই হয়েছে কাজপাগল। সারাদিন একা ফ্ল্যাটে থাকতে হয়। তুমি তারফানকে বোঝাবে বুঝেছো? এই চিলেকোঠায় কি মানুষ থাকে? ফ্ল্যাটের একটা রুম তারফানের জন্য এমনিতেই আছে। বুঝিয়ে-সুধিয়ে ওকে ফ্ল্যাটে থাকার জন্য বলবে। আমরা একসাথে থাকবো।’
মেরিন আস্তে করে মাথা দুলালো। মুখে জবাব দিলো না। রজনী হায়দার আচমকা চুপ হয়ে গেছেন। থমথমে নিরবতা। একজোড়া পায়ের দশটা আঙুলে কি যেন সুগভীর নয়নে দেখছেন, ভাবছেন। মুখ তুলে মেরিনের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ প্রশ্ন করলেন, ‘তোমার কি তারফানের সঙ্গে কিছু হয়েছে?’
‘কি হবে?’ কণ্ঠ নড়বড়ে হয়। অল্প থতমত খেয়ে যায় মেরিন। রজনী হায়দার তপ্ত শ্বাস ফেলে বলেন, ‘আমার ছেলেটা একটু বোকা, মেরিন। কখন কি বলতে হয়, করতে হয় বুঝে না। তোমার মুখ দেখে মনে হচ্ছিল কিছু হয়েছে। তাই জিজ্ঞেস করলাম।’
টলটলে সমুদ্র ন্যায় আঁখিজোড়ার বিপরীতে মাতৃস্নেহের এইটুকু খাঁদ নেই। মেরিন অকপটে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। ধীরলয়ে বললো, ‘কিছু হয়নি আন্টি। সব ঠিক আছে।’
এগিয়ে এসে মেরিনের মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে দিলেন রজনী হায়দার। মিষ্টি গলায় বললেন, ‘এখনো আন্টি ডাকবে? এখন মা লাগি না? দ্বিতীয় মা?’
—————
বাহিরে নিত্যদিনের চাকচিক্যময় তপ্ত সূর্য উঁকি দিলেও বন্দি কারাগারে তা টের পাওয়া যায় না। একদম ওপরে একটা বন্ধ জানালা থাকলেও ওতে কোত্থেকে যেন শেওলা জমে আছে। আলো তেমন আসে না। খুবই সূক্ষ্ণ একছটা দ্যুতি। নাই সমান। বিচ্ছিরি রক্ত, পঁচা গন্ধে পেট গুলিয়ে বমি পায়। তালহা সহসাই নাকে রুমাল চেপে ধরলো। সে আবার কাঁটাছেড়া কিংবা রক্ত সহ্য করতে পারে না। মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়, বমি পায়, নাক চুলকায়, চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। এইযে এখন? চোখে ঘোলা ঘোলা দেখছে সে। নাকে রুমাল চেপেই প্যান্টের পকেট থেকে চশমা নিয়ে চোখে পরলো তা। ধীরে ধীরে সব স্পষ্ট হলো। কালো দেওয়ালের বাম কোণে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দু'জন অমানুষ বসে আছে। ইমন তালুকদার, স্বপন হায়দার। ইমনকে আজ সকালেই ঢাকার বাইরের একটা আবাসিক হোটেল থেকে তুলে আনা হয়েছে। সারাদেশের হৈ হট্টগোলের আলোড়ন ছাপিয়ে সেলে ঢোকা মাত্র উত্তর-মাধ্যম দেওয়া হয়েছে প্রগাঢ় ভালোবাসা মিশিয়ে। আপাতত তাঁর নাক ফেঁটে রক্ত গড়িয়ে ঠোঁটের কাছটায় শুকিয়ে আছে। ডান চোখ ফুলে ঢোল। একটা কান কেঁটে ফেলা হয়েছে। ওতে ব্যান্ডেজ করা। হাত-পায়ে শক্ত করে দঁড়ি বাঁধা। স্বপন ভয়ে একপাশে কাঁপছে। হাত ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে ওর। পা প্রায় নেই। তামজিদ মনে করার চেষ্টা করলো, এই হাত দিয়েই না লোকটা তার মায়ের চুলের মুঠি ধরে মা রতো? পা দিয়ে পেটে অনবরত লাথি মে রেছে? উহু! ভুল হয়ে গেছে একটা। চরম ভুল। লাথি মার তো বাম পা দিয়ে। কিন্তু কেটেছে ডান পা। এমন একটা ভুল কিভাবে হয়ে গেল?
তালহা নিভু নিভু গলায় বললো, ‘বুইড়ার কান বরাবর একটা দেয়, তামজিদ। নাক-নকশা উল্টাই দেয়।’
তামজিদ তাই করলো। ক্ষ ত কান বরাবর সর্বশক্তি দিয়ে ঘুষি মারলো একটা। জখমের ওপর জখম। ইমন সহ্য করতে পারলো না। তার গগনবিহারী চিৎকারে বন্ধ কারাগার কি করুণ ঝনঝন শব্দ তুললো! উহু, করুণ না। অস্পষ্ট আমজে বুঝি!
আরেকটা মার তে নিলেই ইখতিয়ার থামালো, ‘বেশি মারিস না। একেবারে ম রে গেলে সমস্যা। জনগণ এমনিতেও ক্ষেপে আছে।’
‘শয় তানের জন্য করুণা এদের আসে কিভাবে?’ চরম বিতৃষ্ণা নিয়ে কথাটা বলেই একদলা থুতু ফেললো ইমনের বুকে। হাতের পাতায় বুট পরিহিত জুতা দিয়ে পিঁষে দিলো একবার, দু'বার। তারফান তখন সবে মাত্র কারাগারের ১১১ নম্বর সেলে ঢুকেছে। সার্জারির ব্যস্ততায় তখনো হাঁপাচ্ছে সামান্য। ইখতিয়ারের দিকে চেয়ে প্রথমেই প্রশ্ন ছুঁড়লো, ‘এখনো বাঁচিয়ে রেখেছিস?’
‘ফাঁসি সোমবার। ততদিন নিশ্বাস বন্ধ করা যাবে না।’
তারফান ভ্রু তুলে শুধালো, ‘তাহলে হাত-পা ভাঙ্গতে পারবো?’
‘ইমনেরটা পারবি না। বুঝিসই তো, সাবেক মন্ত্রী ছিল। সরকারের কিছু লোক এখনো চেষ্টা করছে শ**টাকে জেল থেকে ছুটানোর। শক্ত এভিডেন্স থাকায় পারছে না। এইযে এইটুকু মারলি? আমাকে উপরমহল থেকে কড়া ডোজ নিতে হবে। তবে, স্বপনকে যা ইচ্ছে কর। ওই ছুঁচোকে কেউ গোনায় ধরে না।’
বুকে মোচড় দিয়ে উঠলো স্বপনের। ব্যথায়, ভয়ে অসহায় হয়ে মিহি মিহি কান্না জুড়ে দিলো সে। কি বিচ্ছিরি সুর! তালহা এগিয়ে গিয়ে সপাটে একটা চড় লাগিয়ে দিলো গালে। পাশ থেকে ইমন কাতরে উঠলো, ‘আমারে ফাঁসি দিবি? এত্ত সোজা? আমার ভাই এহনো জীবিত আছে। অয় আমারে ঠিক মুক্তি দিবো। তহন কই যাবি? ন্যাংটা হইয়া দৌড়াইতে হইবো তোরে।’
তালহা বরাবরই ভদ্রলোক। গালি-গালাজ, অশালীন ভাষা শুনতে পারে না। শ্রুতিকটু লাগে। নিজে অথবা ভাইয়েরা বললে অন্য ব্যাপার। সে নাক-মুখ কুঁচকে, ভীষণ, ভীষণ, ভীষণ বিরক্তি নিয়ে বললো, ‘বুইড়া, মুখে আঙুল ঢুকাইয়া দিমু।’
ইখতিয়ার ফিক করে হেসে দিলো। তারফান এবার ইমনের সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো। তার নিশ্চল চোখে কি ভীষণ সুন্দর শীতলতা, প্রশান্তি, গাঢ় আবেশ! তারফান সচরাচর হাসে না। খুবই কম। ছোটবেলায় অবশ্য একসময় প্রচন্ড হাসতো। কথায় কথায় হাসি আছে না? সেই ছোটবেলার তীব্র হাসিটাই যেন ঠোঁটে এসে হানা দিলো। গাঢ় দাগ টানলো। তিন আঙুল দিয়ে কানের রক্তাক্ত ক্ষ তে খোঁচা দিতে লাগলো তারফান। লাগাতার, অনবরত। ঠিক ততক্ষণ, যতক্ষণ পর্যন্ত না ভেঁজা ব্যান্ডেজ আর রক্ত সুষে নিতে পারছে না।
পুন:পুন রক্ত বিন্দু চোয়াল ছুঁচ্ছে, গলা ছুঁচ্ছে, শত শত ভাঁজ ফেলা বুড়ো শরীর ভিঁজিয়ে দিচ্ছে। একটা লম্বা লাল তরল মাত্র। অথচ তারফানের চোখে শিল্পীর অনবদ্য আবিষ্কার মনে হলো। তৃপ্তির ঢেকুর তুলে সে তামজিদকে বললো, ‘অনেক সুন্দর করে কানটা কেটেছিস তামজিদ। মনে হচ্ছে না তাড়াতাড়ি শুকাবে।’
তামজিদ বিষাদ গলায় বললো, ‘কিন্তু পা ভালো ভাবে কাটটে পারিনি। বাম পা কাটার কথা ছিলো। কেটেছি ডান পা।’
তারফান ভাবলেশহীন গলায় জানালো, ‘সমস্যা নেই। আমি কেটে দিচ্ছি।’
যেন মাংস-মাছ কাটার কথা হচ্ছে। স্বপন বিস্ময়াভিভূত হয়ে কান্নাও ভুলে গেল। কাঁপা কাঁপা, ভাঙ্গা গলায় অনুরোধ করলো, ‘ছাইড়া দেও বাবজান। আমারে এই লাস্ট সুযোগ দেও। আমি তোমগোরে পাইলা বড়ো করছি।’
তালহা বেজায় মুখে বললো, ‘ওম্মা! বুইড়া দেখি ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলও করে। লাভ নাই, বুইড়াদের ওপর আমরা মায়া করি না।’
তারফান তালহার পিঠ ছাপড়ে বললো, ‘মজা পরে কর। আমাকে আবার তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে হবে। মা আর মেরিন একা।’
তামজিদ কান খাড়া করে বললো, ‘তাহলে তুই আর তালহা বাড়ি ফিরে যা। আমি এদের দেখছি। হস্পিটালেও কিছু কাজ আছে। আজ বাড়ি ফিরবো না।’
তারফান আড়নয়নে তাকালো। ভাইয়ের মনোভাব, ভালো লাগা, খারাপ লাগা সে কি বোঝে না? বোধকরি বোঝে। বোঝে বলেই অনেকটা আচমকা ভাবে তামজিদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো সে। ছোট থেকে তার এই ভাইটা মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া পছন্দ করে।
তামজিদ তাকাতেই সস্নেহে বলে, ‘সারারাত না খেয়ে থাকিস না। সময় করে কিছু খেয়ে নিবি, হু?’
তামজিদ অচিরেই তুলো নরম হয়ে গেল। কণ্ঠের দাম্ভিকতা মিইয়ে মোলায়েম শোনালো, ‘আচ্ছা।’
চৌরাস্তার মোড়ে কিছু ছোট ছোট ছেলে গোলাপ বিক্রি করছিল। এইটুকু হাতে বিশাল গোলাপের সংখ্যা মোটে বিশটা। লম্বা ট্রাফিক লাইটে তখনো লাল বাতি। মিনিট দেখাচ্ছে, ছাড়তে আরও পাঁচ মিনিট লাগবে। লাল ফুলগুলোর দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে তারফান হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো, ‘তালহা? ফুলগুলো মেরিনের জন্য নিবো?’
তারফানকে গলিয়ে ওপাশের জানালা দিয়ে ফুলগুলোর দিকে তাকালো তালহা। এরপর তারফানের মুখপানে দৃষ্টি স্থির করলো। বিরক্তিতে তেঁতে উঠে বললো, ‘গর্দভ! বউয়ের জন্য ফুল নিতে আবার জিজ্ঞেস করতে হয়?’
‘তারফাম উদাস গলায় বললো, ‘ও রেগে আছে।’ পরপরই ঠোঁট উলটে শুধালো, ‘বউয়ের রাগ কিভাবে ভাঙায়?’
তালহা আরেকদফা বিরক্ত হতে গিয়েও হলো না। হতাশ নিশ্বাস ফেললে বিরবির করলো, ‘গর্দভ! গর্দভ! এরা বিয়ে করেই-বা কেন?’
তারফান শুনে ফেলে বললো, ‘তুই কখনো প্রেম করেছিস? বা প্রেমে পড়েছিস?’
তালহা দূর দৃষ্টি ফেলে বললো, ‘না।’
‘তাহলে জানতি গর্দভেরাই বিয়ে করে।’
—————
সন্ধ্যাবাতির নিয়ন আলোয় চিলেকোঠা অনবদ্য সৌন্দর্যে ঝিমিয়ে আছে। সাঁঝের নীড় ফেরা পাখিরা আজ খুব অলস। নীড়ে ফিরছে না। ছাদের রেলিংয়ে ঘুম কাতর বদনে বসে আছে। বিছানায় কাপড় ভাঁজ করতে করতে জানালা দিয়ে সেদিকে তাকালো মেরিন। পায়ের ধুপধাপ আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। এই সময়ে, এই মুহূর্তে আওয়াজ করা ব্যক্তি তারফান ছাড়া আর কেউ হতেই পারে না।
ভীষণ তুফানের মতোন ভিড়িয়ে রাখা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো তারফান। ম্লান মুখে বিছানায় বসে থাকা মেরিনের দিকে একপল তাকালো। নীরব রঙ রাঙানো শাড়ি পরনে। হাতে, গলায়, নাকে তার নামে দেওয়া অলংকার। চুলে খোপা। সাজ নেই। অথচ… তারফানের বুক ধক করে উঠল। ধুকপুক আওয়াজ হলো। আর এক মুহূর্তে ব্যয় না করে মেরিনের সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো সে। ওভাবেই, ওখানেই। হাতের লাল গোলাপগুলো মেরিনের কোলে রেখে ওখানেই মুখ গুঁজলো। অভিব্যক্তিহীন মেরিন নড়েচড়ে উঠলো এবার। বিরোধ করলো, ‘ফুলে সমস্যা হবে। মুখ সরান।’
তারফান সরালো না। কবে কোন কথা শুনেছে সে? আশ্চর্য ভাবে গোলাপের কড়া ঘ্রাণ তার কাছে অমৃতের মতন লাগছে। বলিষ্ঠ হাতজোড়া মেরিনের কোমড় আকড়ে ধরলো এবার। জোরালো ভাবেই। কি ভীষণ শক্ত ভাবে! মেরিন হাঁসফাঁস করে সরতে চাইলে আরও কঠিন করে আঁকড়ে ধরলো। নিগূঢ় গলায় বললো, ‘তুমি এমন করে আমাকে সরিয়ে দিও না মেরিন, আমি সহ্য করতে পারি না।’
·
·
·
চলবে……………………………………………………