মেঘবন - পর্ব ৩৩ - ঈশানুর তাসমিয়া মীরা - ধারাবাহিক গল্প

মেঘবন - ঈশানুর তাসমিয়া মীরা
          একটা বিচ্ছিরি সাইরেন সেই দূর থেকে বাতাসে ভেসে ভেসে বেড়াচ্ছে। ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শুনে মনে হলো, কেউ কাঁদছে। খুব করুণ ভাবে। আর্ত নাদে জর্জরিত হয়ে। কপালে গুটি কয়েক ভাঁজ ফেলে তন্দ্রা আচ্ছন্ন চোখ মেলে সিলিংফ্যানের দিকে তাকালো তারফান। নিঃশব্দ ঘুরছে। নগ্ন বুকে উষ্ণতা ছড়িয়ে ভীষণ আষ্টেপৃষ্টে মাথা পেতে আছে মেরিন। অল্পসল্প বড়ো হওয়া নখ দিয়ে বুকের বা'পাশটা খামছে ধরে আছে। ভেঁজা, শীতল কিছু অনুভব করতেই তারফান চমকে উঠলো। ঘুম উবে গেল। মেরিনকে সরাতে চাইলে সে আরও জোড়ালো ভাবে মিশে গেল। সরতে চাইলো না। তারফান থেমে, ভীষণ মোলায়েম গলায় ডাকলো তখন, ‘কাঁদছো, মেরিন?’

উত্তর নেই। তপ্ত নিশ্বাস ফেলে এবার মেরিনের মাথায়, চুলের ওপর হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো তারফান। অনুতপ্ত স্বরে বললো, ‘স্যরি।’

মেরিন এবারও সাড়া দিলো না। কান্না থেমেছে তার। নাক টানছে। কি ভারি নিশ্বাস! ঘুমিয়ে গেছে কি? আবছা অন্ধকারে কিছুই স্পষ্ট নয়৷ তবুও ঘাড় ঝুঁকিয়ে মেরিনের মুখ দেখার চেষ্টা করবার আগেই মেয়েটা খুব দমবন্ধ গলায় অভিযোগ জানালো, ‘আমি আপনার সঙ্গে অভিমান করতে পারছি না কেন? অভিমান করে কথা বলা বন্ধ করতে পারছি না কেন? এটা হয় না তারফান। আপনি আমায় অনেক কষ্ট দিয়েছেন।’

যেন নিজেকেই প্রশ্ন করছে মেরিন। দ্বিধাদ্বন্দে যুদ্ধ করছে।
তারফানের বুকের ভেতর চাপ সৃষ্টি করা সমুদ্র প্লাবন ধীরে ধীরে হারিয়ে গেল। কিন্তু একটা ভারি ভাব যেন ঠিক আছে। ওসবে পাত্তা দিলো না সে। চোখ বুজে ঢোক গিললো। মেরিনের কোমড়ে বলিষ্ঠ হাতের দৃঢ়তা বাড়িয়ে বললো, ‘স্যরি।’

রয়েসয়ে চোখ মুছলো মেরিন। তার হাউমাউ করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। খুব কষ্ট হচ্ছে। অথচ যার জন্য তার এত এত কষ্ট তাকে জড়িয়ে ধরে, তার বুকে মাথা পেতে কান্না করতে চাওয়া কি খুব অপরাধের? কানের কাছে কেউ ফিসফিসিয়ে বললো, ‘খুব অপরাধ। তুমি তারফান নামক নিষ্ঠুর মানুষটাকে অন্ধের মতো ভালোবেসে ফেলেছো। তার ভুলগুলো দেখেও দেখছো না। একটা প্রশ্নও করছো না। বের হয়ে আসো মেয়ে। নয়তো দেড়ি হয়ে যাবে।’

উপদেশ, পরামর্শ কিছুই মেনে নিলো না মেরিন। অবাধ্যের ন্যায় তবুও তারফানকেই চাইলো, জড়িয়ে ধরে রইলো, আঁকড়ে রইলো। ঠোঁট কামড়ে পুন:পুন গলায় অধৈর্য ভাবে জানতে চাইলো, ‘আমায়... আমায় আর কষ্ট দিবেন নাতো তারফান? বলুন... বলুন প্রমিস্?’

নেমে এসে শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে মেরিনকে নিজের মাঝে টেনে নিলো তারফান। গ্রীবায় মুখ গুঁজে তপ্ত ঠোঁট ছোঁয়ালো। একবার, দু'বার, বারংবার! ঠোঁট ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে বলতেই রইলো, ‘প্রমিস্, প্রমিস্, প্রমিস্ মেরিন।’

গলার পাশটা চুমুর তোড়ে ভিঁজে গেছে। নিশ্চুপ কাঁদছে মেরিন। তারফানের তন্ময় স্বর ম্লান হয়ে উঠলো, ‘আই প্রমিস টু নেভার ব্রিং টিয়ার্স টু ইয়োর আইজ, মেরিন। আই উইল কিপ ইউ সো ডিপলি শেল্টার্ড উইদিন মাই হার্ট দ্যাট ইভেন মাই ওন ফ্লজ ক্যান নেভার রিচ ইউ।’

মেরিন মেনে নিলো। মেনে নিলো তারফানের সকল খুঁত, গুণ আর মিথ্যাগুলো। বাবা-মায়ের অতি আদরে বড়ো হওয়া মেরিন কি কখনো ভেবেছিল আস্ত ভেঁজাল যুক্ত একটা মানুষের প্রেমে পড়বে সে? ভালোবাসবে? ভাবেনি। ভাবেনি— বেয়াদব, রুঢ় আর ধূর্ত স্বভাবের মানুষটা একদিন প্রচন্ড নিপুণভাবে তার ছোট ছোট যত্নে, কাজে মেরিনকে ভীষণভাবে ম্যানিপুলেট করে ফেলবে। যার কখনো কোনো শেষ নেই। অন্তিম রেখার চিহ্ন নেই। অথচ এই তারফানকে একসময় মেরিন দু'চোখে দেখতে পারতো না। হায়! জীবন কতো আনপ্রেডিক্টেবল, তাই না?

—————

তারফানের মাঝে মাঝে মনে হয়, সে খুব গভীর কিছুতে জড়িয়ে গেছে। অসুস্থ কিছু। ছোট থেকে বড় হওয়া বস্তিতে। ভদ্র সমাজের ভাষায়, তারা খারাপ, নিম্ন শ্রেণীর। বাপের ঠিক নেই। মা পতিতা। শুনেছে, জারজ সন্তানরা কখনো ভালো হয় না। ভদ্ররা তাদের থেকে দূরে থাকতে চায়। কথাটা একদম শতভাগ সত্য। 
ভদ্র সমাজের স্কুলগুলোতে যেবার ভর্তি হলো? তার একটা বন্ধু হয়েছিল। তূর্যয়। লম্বা মুখের, ঠোঁট দিয়ে লোল পড়ে। ক্লাসের মাস্তান ধরণের ছেলে ছিল সে। তবুও শান্তশিষ্ট তারফানের সঙ্গে কিভাবে যেন বন্ধুত্ব হয়ে গেল। কি সুন্দর, জীবন্ত ছিল দিনগুলো! স্বপ্নের মতোন উড়ে যেতে লাগলো। স্কুল জীবনটা সবে ভালো লাগতে শুরু করেছিল তার। কিন্তু কি থেকে কি হলো কে জানে! কোনোভাবে তারফান, তামজিদ আর তালহার জা রজ হওয়ার ব্যাপারটা সমস্ত স্কুলে ট্রেনের গতিতে ছড়িয়ে পড়লো। সবাই বাঁকা চোখে দেখতে লাগলো। ফিসফিসিয়ে গালমন্দ করতে লাগলো। মায়েরা ছুটে এসে সাবধান করলো, ‘এই ছেলেগুলোর সাথে মিশবে না। এরা খারাপ।’

তূর্যয়ের সঙ্গে কথা বলতে গেলে সেও নাক-মুখ কুঁচকে ফেলতো। ঘৃণায় তাকাতো না অব্দি। 
‘তোর সঙ্গে মা কথা বলতে বারণ করেছে। তুই নোংরা।’

তারফান তবুও কথা বলতে চাইলে, ছুঁতে গেলে সপাটে গাল বরাবর একটা চড় বসিয়ে চিৎকার করলো, ‘ছিহ্! ছুঁবি না আমাকে। নোংরা তুই!’

নিষ্পাপ বাচ্চাটার বয়স কত হবে? ছয়? বেশি হলে সাত? তারফান সেই সাত বছর বয়সে বুঝে গেল, সে নোংরা। কারো সঙ্গে মেশার তার অধিকার নেই। কথা বলার অধিকার নেই। তারপর থেকে কেমন একা থাকতে লাগলো সে। নিজেকে গুটিয়ে রাখলো। তালহা কিন্তু এদিক দিয়ে একেবারে উল্টো। ইখতিয়ারকে পটিয়ে কেমন করে যে এত গভীর বন্ধু বানিয়ে ফেলেছে, তাদের জন্য অপরাধ করতেও দু'বার ভাবছে না ছেলেটা। 

দীর্ঘ লম্বা নিশ্বাসে বুক উঠা-নামা করলো। মেরিন নড়েচড়ে আবারও ঘুমিয়ে গেছে। ঘামে ভেঁজা শরীরের সঙ্গে লেপ্টে আছে নিগূঢ় ভাবে। আকাশে সবে সবে ভোর হচ্ছে। কারেন্ট নেই। জানালা গলিয়ে লহু পশ্চিমা বাতাস এইতো, ঢুকছে-ঢুকছে না।

তারফান হৃদপিণ্ডের একদম কাছে থাকা রমণীটিকে কবে, কখন মন দিয়েছে জানে না। কেবল জানে, এই মেয়েটিকে হারানোর ভয় সে প্রতিটা নিশ্বাসে পায়। ভয়ে তার গলা শুকিয়ে যায়। হৃদযত্নের য ন্ত্রণা বাড়ে। এমন আগে ছিল না। নিজের নোংরা জীবনে মেরিনকে জড়াতে সে চায়নি। বিয়ে ভেঙ্গেছে। দূরে সরতে চেয়েছিল। মেরিন যদি কোনোভাবে তার সত্য জেনে ফেলে, সে জার জ জেনে যায়, তাকে যদি তূর্যয়ের মতোই ঘৃণা করে? বিয়ের রাতে জার জ কথাটার স্বীকারোক্তি দেবার পর নিশ্বাস ধীর হয়ে আসছিল তার। হাত-পা ঠান্ডা হয়ে নমনীয় হয়ে উঠেছিল। কি ভয়টাই না পেয়েছিল সে!
মেরিনকে বিয়ে করার কারণটা যদি বলা যায়, মেরিনের অন্য জায়গায় বিয়ে প্রায় ঠিক হয়ে যাচ্ছিল। তার বড় চাচার বড় ছেলে ছিল না? তাসকিন? ওর সঙ্গে। শুনে হিতাহিতজ্ঞানশূণ্য হয়ে গিয়েছিল তারফান। মস্তিষ্কে কেবল একটা কথাই ঘুরছিল, মেরিন যদি তার না হয় তবে কারো হবে না। অসুস্থ চিন্তা না? হ্যাঁ, অবশ্যই। তারফান অসুস্থ। তার অলস মস্তিষ্কে মেরিনকে নিয়ে কেবল অসুস্থ চিন্তাই ঘোরে। 

হায়দারকে পাওয়া অতো কঠিন ব্যাপার ছিল না। এতদূর এগিয়েছে। ইমনের অধঃপতন ঘটিয়েছে। আর হায়দারের ঠিকানা বের করতে পারবে না? তবে সত্যি বলতে, হায়দারকে বের করতে সময় লাগছিল। ইমনের কুকর্ম সারাদেশে ছড়িয়ে যাবার পর ব্যাটা ঝোপের আড়ালে কানাকোকা হয়ে লুকিয়ে ছিল। বিয়ের মধ্যদিয়ে তারফান কেবল একঢিলে দুই পাখি মেরে ছে। পরিকল্পনা ছিল মেরিনকে কখনো, কোনোভাবেই এসব জানতে দিবে না। অথচ মেয়েটা কেমন করে যে সব বুঝে ফেললো!
ফের একবার তপ্ত নিশ্বাস ফেলে নরম শরীরে ডুবে গেল তারফান। মেরিন গুঙিয়ে উঠলো, ‘সকাল হয়ে গেছে?’

মেরিনের কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে তারফান ঘোলা স্বরে উত্তর দিলো, ‘উহু, ঘুমাও। আমি ডেকে দেব।’

—————

‘দুর্নীতি ও অনৈতিক ব্যবসা-কারবারের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইমন তালুকদারের মামলার মোড় আবারও ঘুরে গেল। আদালত তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃ ত্যুদণ্ড দিলেও, আইনি মারপ্যাঁচে পিছিয়ে গেল ফাঁ সি কার্যকরের নির্ধারিত তারিখ। গ্রেফতারের পর থেকেই সাবেক এই প্রভাবশালী মন্ত্রীর পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে নিয়োগ করা হয়েছে একদল প্যানেল আইনজীবী। তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই আদালত ফাঁ সি কার্যকরের তারিখ পুনঃনির্ধারণের আদেশ দেন।’

টিভির সাউন্ড ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আড়চোখে একবার মায়ের দিকে তাকালো তালহা। তিনি ডাইনিংহলে চেয়ারে বসে আছেন। দৃষ্টি, ওইতো আদালত থেকে গুটিকয়েক পুলিশের হেফাজতে জীর্ণশীর্ণ বদনে বের হওয়া ইমন তালুকদারের ওপর। লোকটা বুড়িয়ে গেছে। চোখে কেমন সাদা সাদা ভাব। ছানি পড়েছে না-কি? রজনী হায়দার পলক ফেললেন না। বুকের ভেতর আজীবন কষ্টের দপদপ প্রদীপ কেমন করে নিভে গেছে। কেউ বোধহয় লিটার ভরে পানি ঢেলেছে এইমাত্র। জ্বলজ্বলে চোখজোড়া এবার টিভির পর্দা থেকে সড়িয়ে একে একে ছেলেদের দিকে স্থির করলেন তিনি। তামজিদ, তালহা এরপর তারফান। রয়েসয়ে দুর্দান্ত একটা নিশ্বাস ফেললেন। তাঁর নির্মল চাহনি যেন বোঝাতে চাইছে, ‘তোরা করেছিস, তাই না?’

তাদের লুকোচুরি চোখগুলো একে অপরকে দেখলো। তারফান গলার মধ্যে ছোট্ট আওয়াজ তুলে ফিসফিসিয়ে বললো, ‘মা কি চালাক!’

তামজিদ সায় দিলো, ‘বুঝবে জানতাম। কিন্তু প্রশ্ন করছে না কেন? বকছেও না!’

তালহা বললো, ‘মা কিন্তু মনে মনে এই শয় তানদের শাস্তি চাইতেন।’

টিভির সাউন্ড আবারও বাড়িয়ে দিলো তালহা। এবার আদালতে দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দেওয়া আইনজীবীর বক্তব্য দেখাচ্ছে। সে স্বগর্বে পাঁচ-ছ'টা মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে বিনয়ী স্বরে বলছে, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলসহ বেশ কিছু আইনি প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। তাই নিয়ম মেনেই ফাঁ সি কার্যকরের তারিখ পেছানোর আবেদন করা হয়েছিল, যা আদালত মঞ্জুর করেছেন।’

তালহা বাকিসব শুনতে পারলো না। চ্যানেল পালটে দিলো। বিরক্তিতে তার চোখ-মুখ কুঁচকে গেছে। এত বেয়াদব এরা! তামজিদ তেঁত গলায় শুধায়, ‘এই বুড়োর হায়াত কমে না ক্যান? ইখতিয়ার এ নিয়ে কি বলছে? ফাঁ সি কি আসলেই আর হবে না?’

ইখতিয়ার কোত্থেকে যেন উদয় হলো তক্ষুনি। রজনী হায়দারকে সালাম দিয়ে ধপ করে সোফা দাবিয়ে বসলো। শরীরের ক্লান্তিতে তার চেহারা ম্লান হয়ে উঠেছে। দুর্বল স্বরে বললো, ‘ফাঁ সি হবে। এখন শয় তানদেরও তো পক্ষপাতিত্ব থাকে। কি করে দেখা যাক! তবে শাস্তি ঠেকানোর উপায় নেই।’

তারফান মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করলো, ‘আর স্বপন? ওকে কবে ফাঁ সি দিবে?’

‘না। যাবজ্জীবন বোধহয়। ওই ব্যাটারে কেউ মনেও রাখে নাই।’

‘আমার আর এই দেশের প্রশাসনের ওপর কোনো ভরসা নাই। সবগুলা পয়সা চোর।’ কথাটা বলে ফোনের দিকে একবার তাকালো তামজিদ। স্ক্রীনের ওপর আননোন নম্বর ভেসে উঠেছে। নিশ্চিত তুবা? মেয়েটার নম্বর ব্লক করার পর থেকে নানা ভাবে নানা রকম ভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। স্পষ্ট করে বারণ করা সত্ত্বেও। 

ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলে ফোনের স্ক্রীন অফ করে দিলো তামজিদ। তালহা পাশ থেকে আড়নয়নে চেয়ে বললো, ‘প্রেম এখন একটা করে ফেল।’

তামজিদ দিরুক্তি জানালো, ‘এখন না।’

‘সারাজীবন চিরকুমার থাকবি?’

‘না। তোর বিয়ে করার পরই মায়ের পছন্দের মেয়ে বিয়ে করে ফেলবো।’ এরপর কিছু মনে পরার মতো করে হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো, ‘তোর নাটকের খবর কি? ওই নায়িকার কি খবর?’

‘নায়িকা আছে নায়িকার মতো। নাটকের কাজ তো সেই কবে শেষ! এডিটিং চলছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন বের হবে।’

আটপৌরে শাড়ি বদনে মেরিন রান্নাঘর থেকে এগিয়ে আসছে। ব্যস্ত পায়ের কদম, হাতে লেবুর শরবত ভর্তি গ্লাসের ট্রে। ইখতিয়ার দেখা মাত্রই তার স্বভাবসুলভ বিশ্রী হাসিটা হাসলো। গাল ভর্তি তার দাঁড়ি। সকালে বোধহয় ব্রাশও করেনি। মুখের দাঁত সব'কটা বের করে হেসে বললো, ‘কেমন আছো মেরিন? প্রেম করো না প্রেম করো না বলে তো তারফানের সঙ্গে জমিয়ে প্রেম করে ফেললে। প্রেম কেমন ছিলো?’

ধাম করে একটা শক্ত হাতের থাবা পিঠের ওপর পড়লো। বড়ো বড়ো চোখে তাকালো তারফান, ‘বেশি কথা বলিস।’ মেরিন থেকে ট্রে নিয়ে বললো, ‘আমাকে দাও, আমি দিচ্ছি।’

মেরিন ব্যস্ত হাতে দিলো। গরমে তার পেলব সুন্দর মুখ ঘেমে আছে। গালের গোল জায়গাটায় রক্ত জমাট। তারফান নিষ্পলক লাজুক মুখটার দিকে কিছু সেকেণ্ড চেয়ে রইলো। আস্তে করে বললো, ‘বউ হলেই এত কাজ করতে হয় না মেরিন। একটু বিশ্রাম নাও। ফ্যানের নিচে বসো। সকাল থেকে কিছু খেয়েছো?’

যেন ইচ্ছে করেই মেরিনের চুলে হাত বুলিয়ে আদর করে দিলো তারফান। বোঝালো, মেরিন তার।
তামজিদ আর তাকিয়ে থাকতে পারলো না। মুখের মিঠা শরবত তেঁতো ঠেকছে। বিষাদ। বিশ্রীভাবে কপাল কুঁচকে বললো, ‘এই তারফানটাকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, তালহা।’

তালহা বিপরীতে স্পষ্ট জানালো, ‘আমি জেলে যেতে পারবো না। আমার একটা স্ট্যাটাস আছে। তোর কাজ তুই কর।’

ফোনে টুংটাং শব্দ হলো আরও একবার। কল নয়, এবার বিশাল একটা রচনার মতোন বার্তা এসেছে। প্রথম কয়েকটা লাইনে চোখ বুলাতেই তামজিদ উঠে দাঁড়ালো। তালহা চ্যানেল পাল্টাতে পাল্টাতে শুধালো, ‘কোথায় যাচ্ছিস?’

তামজিদ মৃদু স্বরে উত্তর দিলো, ‘তুবা এসেছে। কোত্থেকে খবর পেয়েছে আমার বিয়ে হয়ে গেছে।’

‘কি বলিস! ঠিকানা কোথায় পেল?’ 

তালহার বিস্ময় শেষ হলো না। তামজিদ আগের মতোই বললো, ‘জোগাড় করেছে বোধহয়। বিল্ডিংয়ের গেটের সামনে আছে। আমি দেখা করে আসছি।’

‘থাপ্পড় মারিস না আবার। ভালো করে বুঝাস।’

তামজিদ মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো, ‘মাতাল হয়ে এসেছে। বাসায় পৌঁছে দিবো শুধু।’
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp