নিভৃতে বাঁধিয়ো প্রিয়া - পর্ব ১২ - লাবিবা ওয়াহিদ - ধারাবাহিক গল্প

নিভৃতে বাঁধিয়ো প্রিয়া
          ইসমাত অনেক বড়ো ধাক্কা খেল যখন দেখল তার গাউন বদলে গেছে। সে ঠিক করেছিল বেগুনী রঙের একটা গাউন। কিন্তু এটা দেখছে আকাশি রঙের। সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণার এক গাউন হ্যাঙ্গারে ঝুলছে। ইসমাতের থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়ানো দুজন মেইড ভড়কে আছে। ভয়ে কেমন জুবুথুবু।

--“বিশ্বাস করুন ম্যাম, এটা আপনার নামেই এসেছে। এটার সাথেই ম্যাচিং জুয়েলারি, শুজ আর ব্যাগ..”

ইসমাতের কপালে তখনো ভাজ। মেইড ইতিমধ্যেই কয়েকবার তাকে এই কৈফিয়ত দিয়েছে। তারা বারবার জপছে যে ইসমাতের নামে এটাই ডেলিভারি এসেছে। সাহিদ সিগারেটের ধোঁয়া উড়াতে উড়াতে এলো ক্লোজেট রুমের সামনে। মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে বেশ আমেজে আছে। ইসমাত তাকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেল। সাহিদ ধোঁয়া উড়িয়ে বলল,
--“পছন্দ হয়নি?”

একজন মেইড মাথা নুইয়ে করুণ গলায় বলল,
--“ম্যাম বলছেন গাউন চেঞ্জ হয়েছে, স্যার।”

সাহিদের ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটল। পরপর আবারও সিগারেট টেনে বলল,
--“ইউ মে গো!”

মেইডরা তাই মেনে নিল, দ্রুত পালাতে পারলেই যেন বেঁচে যায়। তাদের মধ্যে একজন ভুলবশত ইসমাতের লুকানো তোষকও দেখে ফেলল।

ওরা যেতেই সাহিদ বাঁকা হাসি ফুটিয়েই এগিয়ে গেল ইসমাতের দিকে। তার তখনো কোনোপ্রকার নড়চড় নেই। সাহিদ গাউন দেখার ভান ধরে বলল,
--"ও.. এলিগেন্ট। রাইট?"

থেমে আবারও বলল,
--"ওপস! ডিজাইনার তো আবার ভুল গাউন সেন্ড করেছে। সো স্যাড!"

ইসমাত গরম চোখে সাহিদের দিকে তাকাল। সে হ্যাঙ্গারে হাত দিতে নিবে ওমনি তার হাত ধরে ফেলল,
--"কি করছেন?"

--"চেঞ্জ করব।"

--"সেটা তো হচ্ছে না।"

--"কেন?"

--"ইটস মাই চয়েজ। আপনি আগামীকাল এটাই পরবেন।"

ইসমাতের চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। সাহিদ সেই দৃশ্য দেখে সুখের হাসি দিল। সিগারেটটা ফালাল সে এশট্রেতে। 

--"মানে?"
--"মানে আপনি আমার পছন্দে সাজবেন। চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন মনে আছে?"

ইসমাতের আচমকা মনে পড়ে গেল সেদিন ইনভেস্টরদের পার্টির আগের সময়টা। সে সাহিদকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল যে, সাহিদ কখনোই তার ওপর জোর খাটাতে পারবে না। ইসমাতের কপালে ভাঁজ পড়ল।
--"মজা নিচ্ছ?"

--"একদমই না। আপনি এটা পরবেন, এটাই ফাইনাল।"
--"কখনোই না, তোমার পছন্দের জিনিস আমি কখনোই স্পর্শ করব না।"

--"লেটস সি।"

বলেই হ্যাঙ্গারটা নিয়ে ইসমাতকে জোরপূর্বক আয়নার সামনে দাঁড় করাল। পরপর গাউনটা তার সামনে ধরল। সাহিদ ইসমাতের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
--"সি ইসমাত, আমার চয়েজে আপনাকে কেমন লাগছে দেখে নিন। এটাই আপনার ফিউচার। ইউ উইল ডু হোয়াটেভার আই সে।"

--"ইন ইওর ড্রিম!"

বলেই ড্রেসটা সরিয়ে দিতে গেলে সাহিদ হো হো করে হাসতে হাসতে সরিয়ে দিল। 
--"উম.. নো। এটা নষ্ট হলে আপনি আর ড্রেস পাবেন না। ডিজাইনার খুবই রেয়ার। রাতারাতি এক রাতে কখনোই অন্য ড্রেস অর্ডার করতে পারবেন না।"

ইসমাত ফোঁস ফোঁস করতে করতে বলল,
--"এজন্যই তো বলি আমার গাউন কেন রাতে ডেলিভারি হলো!"

সাহিদ কুটিল হেসে বলল, "ইন্টেলিজেন্ট।"

--"আমি তাও এই ড্রেস পরব না।"

সাহিদ চুক চুক শব্দ করল,
--"আমার ডেডির এত বড়ো ইনভেস্টমেন্ট এই পার্টি। আপনি তার বউমা হয়ে হযবরল কিছু করবেন? বিশ্বাস হচ্ছে না!"

ইসমাতের সবচেয়ে বড়ো দূর্বলতায় আঘা ত করে বসল সাহিদ। যার ফলস্বরূপ এই পর্যায়ে এসে সে মিইয়ে গেল। তার বিশ্বাস হচ্ছে না, সে সাহিদের মতো ছেলের জোর-জবরদস্তি সয়ে যাবে? এটা আদৌ হওয়ার ছিল? সাহিদ সামান্য ড্রেস নিয়ে জব্দ করবে কে জানত? রাগে-দুঃখে ইসমাত ক্লোজেট রুম থেকে বেরিয়ে গেল। সাহিদও তার পিছু পিছু ফিরল। কিন্তু আজ বুঝি ইসমাতের দিন খারাপ। কোত্থেকে শাশুড়ি এসে হাজির হলেন। তিনি সহজে উপরতলায় আসেন না, কিন্তু এবার ঠিকই হুইলচেয়ার নিয়ে এলেন। মেইডকে দিয়ে বের করালেন ইসমাতের গুপ্তধন। সব তোষক, বালিশ, কম্বল নিয়ে অসন্তুষ্ট নজরে তাকালেন ইসমাতের দিকে। ইসমাত চোর ধরা পড়ার মতো মুখ করে দাঁড়ানো। সাহিদ ঠোঁটে ঠোঁট চেপে তামাশা দেখছে। 

শাহেলা বউমার দিকে তাকিয়ে খুবই গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
--"বিয়ে কোনো ছেলে খেলা নয়, সেটা নিশ্চয়ই জানো। তুমি বয়সে বড়ো, তোমাকে আমি ম্যাচিওর ভাবতাম। কিন্তু আজ তুমি আমাকে হতাশ করলে।"

বলেই তিনি মেইডদের নিয়ে চলে গেলেন। এসব কথার ভাজে যে কোন অর্থ লুকানো ছিল তা ইসমাতের অজানা নয়। তার শাশুড়িও তাকে এটা বুঝ দিয়ে গেল, বিয়ে ধরে রাখার সম্পূর্ণ ভার তার। সে চুপ করে গিয়ে সোফায় বসে রইলো। বিয়েটা সুস্থ-সবল হোক, একটা সংসার হোক— এটা সব মেয়েদেরই চাওয়া। কোনো মেয়েই আগ বাড়িয়ে সেপারেশন নেয় না। যদি না তার পার্টনার তাকে বাধ্য করে। তাদের মতের মিল, মনের মিল কিছুই হয়নি এখনো। ইসমাত কখনো চেষ্টাও করেনি এমনও না। তার চেষ্টা না থাকলে এখন অবধি এই বিয়েটা টেকানো যেত না। তার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে হয়তো বিয়ের কয়েক মাসেই সব ছেড়েছুড়ে চলে যেত, কিন্তু ইসমাত একা সব ধরণের যুদ্ধ করে গেছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও নিজের দায়িত্ব, কর্তব্যে কোনো কমতি রাখেনি। সে একই হাতে ঘর আর অফিস দুটোই সামলায়। এখানে বিন্দুমাত্র দায়িত্ব সাহিদের হাতে নেই। সে যা খুশি করে যাচ্ছে। তাকে বকার মতো, কথা শোনানোর মতো কেউ নেই। এই সমাজ এখনো সবার আগে মেয়েকেই দোষ দিবে, মেয়েকেই অপ রাধী করবে। 

সাহিদ ইসমাতের হঠাৎ চুপসে যাওয়া লক্ষ্য করল। পরপর সে শিষ বাজাতে বাজাতে চলে গেল বাথরুমে। ফ্রেশ হয়ে এসে দেখল ইসমাত একই জায়গায় বসা, চোখ-মুখ একদম নির্জীব। সাহিদের কেন যেন ভালো লাগল না। তার তো ঝগড়াঝাঁটিই পছন্দ। একে অপরকে চ্যালেঞ্জ করা, কে কত বেশি ঝগড়া করতে পারে সেসব। অথবা বলা যায়, সে ঝগড়াঝাঁটিতেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। আবার ইসমাতের এই মা টাইপ শাসন তার চরম অপছন্দ। সে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ধরণ জানে না, তবে তাকে বকাবকি, কথা শোনানো এসব তার পছন্দ না। তাই এবারও ইসমাতের মন খারাপকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের ইগো আর স্বার্থকেই গুরুত দিল। যতই হোক, ইসমাতের থেকে প্রতি শোধ তো তার নিতেই হবে। 

ইসমাতের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
--"বেডে আসেন।"

ইসমাত এতক্ষণে মাথা তুলে তাকাল। ভূত দেখার মতো করে বলল,
--"কি!"

--"আই সেইড, ইউ উইল স্লিপ উইথ মি। আপনি আমার সাথে বিছানা শেয়ার করা অপছন্দ করেন তো? আপনার অপছন্দের কাজটাই করব।"

ইসমাত কিছুটা অপ্রস্তুত হলো। আজ অবধি এমন দিন আসেনি যেদিন সাহিদ নিজে থেকে এরকম কিছু অফার করেছে। অবশ্য, এভাবে তাদের একসাথে থাকাই হয়েছে কয়বার? সারাক্ষণ তো দুজন দুজনের নিজস্ব কাজেই ব্যস্ত ছিল। তবুও, এটা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব। ইসমাত বারণ করল।

সাহিদ এতে হাল ছেড়ে না দিয়ে বলল,
--"বি অবিডিয়েন্ট.. আমি ফোর্স করতে চাই না।"

--"তোমার ফোর্স করতে হবে কেন? বললাম না আমি এই সিঙ্গেল সোফাতেই ঠিক আছি?"

--"মম এসে বকে গেল, তাও আপনার এটিটিউড কমছে না?"

ইসমাত নিরিবিলি চোখে তাকাল সাহিদের দিকে। সে যেন ক্লান্ত ঝগড়া করতে করতে। ইসমাত গলা অস্বাভাবিক ঠান্ডা করে বলল,
--"তোমার কমেছে?"

সাহিদ বাঁকা হাসি দিয়ে বলল,
--"ওটা আমার পার্সোনালিটি। কাম অর আই'ল ফোর্স।"

--"ফোর্স ছাড়া আর কি করতে পারো?"

--"ক্যারি করতে পারি। ওয়ানা ট্রাই?"

ইসমাতের নিরিবিলি ভাবটা উড়ে গেল সাহিদের এমন কথায়। ছেলেটার কণ্ঠস্বরে গাম্ভীর্য নাকি ইগো, খুব টের পাওয়া যাচ্ছে। যেন সে তার কথার নড়চড় হবে না। ইসমাত এটাও টের পেল, তাকে নাকে-মুখে জব্দ করতে ছেলেটা কত উদগ্রীব। 

অপছন্দ সত্ত্বেও ইসমাতের বিছানার একপাশে শুতে হলো। সাহিদ গুণগুণ করতে করতে আরেক পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ল। তখনো বুঝি বারোটা বাজল, ফোনে তখন জন্মদিনের উইশের নতিফিকেশনে ভর্তি। সাহিদ ইসমাতের মুখোমুখি ফিরে কুটিল হেসে বলল,
--"উইশ মি লাক।"

ইসমাত তাকে বার্থডে উইশ না করে অন্যদিকে ফিরে শুয়ে পড়ল। সাহিদ ততক্ষণে ব্যস্ত হয়ে পড়ল বন্ধুদের উইশের বদলে গা*লি ছুঁড়তে। তাকে কেউ জন্মদিনের উইশ করবে, ব্যাপারটা ব্যক্তিগত ভাবে বেশ অপছন্দ করে সে। সে কিছু কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদেরও দেখল তাকে উইশ করতে, তাদের খুবই কৌশলে এড়িয়ে গেল সে। 

—————

পার্টিতে খুবই রমরমা পরিবেশ। শাহ মঞ্জিলের পাশাপাশি আশপাশ বিভিন্ন আলোয় সজ্জিত। অতিথিরা একে একে তখন কড়া সিকিউরিটি পার করে ভেতরে প্রবেশ করছে। বাইরে আলাদা করে জায়গা রাখা হয়েছে গাড়ি পার্কিং এর জন্য। ভেতরে বাগানের বিশাল এরিয়া জুড়ে এই আয়োজন। মানুষে ভর্তি চারপাশ। সবাই বেশ ভালো স্যুট, ড্রেসে আবৃত। বাগানের দিকটায় আয়োজন হলেও বাড়ির ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই। এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র কাছের আত্নীয়দের। বাড়ির ভেতরটাও বেশ আহামরি করেই সাজানো। হুইল চেয়ারে করে শাহেলা ঘুরছেন। তার সাথে দুইজন মেইড। তিনি জনে জনে গিয়ে কুশল বিনিময় করছেন। মাহফুজ সাহেব বাইরের দিকটাতে, তার বিভিন্ন নামি-দামি মানুষদের সাথে সাক্ষাতে, কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত। তর্ষা তো তার পছন্দের গাউন পরে চারপাশ ঘুরে বেড়াতে ব্যস্ত। সবার মতো তার তৃষ্ণার্ত চোখও খুঁজছে সাহিদকে। যাকে নিয়ে এত আয়োজন তার খবর নেই দুই ঘণ্টা যাবৎ। 

ইফরাও এলো দাদীকে নিয়ে। দাদী তো এসেই ভেতরে চলে গেলেন। কিন্তু ইফরা থেকে গেল পাবলিক ফিগারদের ভেতরে। চারিপাশে নানান মানুষের ভীড়। পরিচিত, অপরিচিত সবার সাথেই ইফরা মুচকি হেসে ভাব বিনিময় করছে। দুজন বিজনেসম্যানের সাথেও তার আলাপ হলো। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এবারও একজন তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে বসল। ইফরা হাসির মাধ্যমে দ্রুত এড়িয়ে গেল লোকটাকে। যতই হোক, এটা তার দুলাভাইয়ের জন্মদিন। সে চাইলেও সিনক্রিয়েট করতে পারবে না। এতে সে উলটো নিজেই ফাঁসবে। তাই বলে সে কিছু করেনি এমনও না। সে ঠিকই খুঁজে খুঁজে মাহফুজ সাহেবের কাছে চলে গেল। 

মাহফুজ সাহেব তো বউমার ছোটো বোনকে দেখে বেশ খুশিই হলো।
--"আরে, ছোটো মা যে। আসতে সমস্যা হয়নি তো? তোমার দাদী কোথায়?"

--"ভেতরে, আন্টির কাছে গিয়েছে। আপু কোথায়, আঙ্কেল?"

--"ও এখনো নামেনি হয়তো। তুমি আসো, বসো কোথাও। এই ওয়েটার, ম্যাডামকে কোল্ড-ড্রিংক্স দাও।"

--"আপুকে একটু ডেকে দিতে পারবেন আঙ্কেল? একটু দরকার ছিল।"

দরকারের কথা শুনে মাহফুজ সাহেব নড়েচড়ে দাঁড়ালেন। ইফরা খুব টের পেল তার টোপ আঙ্কেল গিলেছে। 
--"দরকার? এনি প্রব্লেম? আমাকে বলতে পারো মা। আমি তো তোমার বাবারই মতো। ইসমাত আর তুমি তো একই আমার জন্য।"

ভদ্রলোকের মুখে সৌজন্যতার হাসি। এই হাসিতে মোটেও খাদ নেই, এটা ইফরা জানে। তার কখনোই ইসমাতের শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে সমস্যা ছিল না। তার যত সমস্যা সাহিদকে নিয়েই। ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন সমস্যায় মাহফুজ সাহেবই সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তিনিই বিভিন্ন কূটচাল থেকে ইফরাকে সরিয়ে রেখেছেন। নয়তো সে কতদিন এসব লোভী মানুষদের থেকে বাঁচত কে জানে? কিন্তু ওইযে, সবসময় সরাসরি কিছু বললে কেমন দেখায়? এজন্যই তো ভাব-সাব নিল সে। নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীর দিকে লক্ষ্য করে বলল,
--"আমাকে কুপ্রস্তাব দিচ্ছে আঙ্কেল। এটা খুবই অসম্মানজনক।"

ইফরা দেখল কীভাবে মাহফুজ সাহেবের মুখের পরিবর্তন হচ্ছে। হাসি-খুশি মুখটা মুহূর্তেই গাম্ভীর্যে রূপ নিল। কিছুটা সময় নিয়ে তিনি আবার হেসে বললেন,
--"ভেতরে যেতে চাইলে যেতে পারো। আমি দেখছি বিষয়টা।"

বলেই তিনি অন্যদিকে চলে গেলেন। ইফরা আবারও ফিরে গেল। এবার সেলিমই ডাকল তাকে। সেলিম তাকে দেখে সৌজন্য হাসি দিয়ে বলল,
--"দেখলাম মি. শাহ-এর সাথে কথা বলছ। ব্যাপার কি?"

--"কিছু না ভাইয়া।"

সেলিম কিছুটা থেমে বলল,
--"তোমার আপু না ওনাদের অফিসে জব করছে?"

ইফরা কোল্ড ড্রিংকে চুমুক দিয়ে উদাসীন গলায় বলল,
--"হুঁ।"

--"আসেনি আপু?"
--"না। রেডি হচ্ছে শুনলাম!"

সেলিম কিছুটা অবাক হলো, সাথে দোটানায় পড়ে গেল। ইসমাত এখনো তৈরি হচ্ছে, এই কথাটা হজম হলো না তার।
--"তোমার পেচানো কথা বুঝছি পারছি না.. ইফরা। সোজাসাপ্টা বলো।"

--"আজকে আমার দুলাভাইয়ের জন্মদিন। আপুর হাসবেন্ড।"

ইফরা অনাগ্রহী গলাতেই ফাঁস করে দিল। যেন সেলিম জানলে তার কোনো মাথা ব্যথা নেই। সেলিম বোধ হয় বড়ো সড়ো শক খেল। চোখ তার কপালে। সে বুঝি কানে ভুল শুনল?

একসময়ে সাহিদের বন্ধুরা এলো। বন্ধুরা আসতেই ভেতরে সাহিদও বেরিয়ে এলো। সে আজ নেভি ব্লু স্যুট পরেছে। ভেতরে সাদা শার্ট, তবে গলার দিকের দুটো বোতাম খোলা। সাহিদের ওপর একটা সাদা লাইট পড়ল। সবার চোখ পড়ল তার ওপরেই। ভ্লগার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা দ্রুত ক্যামেরা চালু করল, কিছু সাংবাদিকরাও চুপিচুপি ভিডিও করতে ব্যস্ত। মাহফুজ সাহেব সবার আগেই ছেলেকে গিয়ে জড়িয়ে ধরল। সাহিদের হাসি আসছে না তবুও হালকা ঠোঁট নাড়াল। এটা দেখে সাব্বির তার পিঠে চাপড় মে রে বলল,
--"হাস ব্যাটা! হাসলে কেউ বো ম মা র বে না।"

আকিব বলল,
--"এটায় হাসতে জানে নাকি?"

রুসান বলল,
--"হাসলে আবার কত মেয়েরা কাত হয়ে পড়বে৷ আমার ওপরেই পড়ে না। সব এটেনশন এই শা লায় পায়।"

এটা শুনে সাব্বির তীব্র প্রতিবাদ করে বলল,
--"সবাইকে দেখাব নাকি প্রজেক্টরে, তোর ইনবক্স? মেয়ের বাজার বসিয়েছিস পুরা।"

মাহফুজ সাহেব ছেলেকে নিয়ে ততক্ষণে চলে যায় বড়ো শ্রেণির মানুষদের সাথে পরিচয় করাতে। সেখানে সাহিদ সর্বোচ্চ হ্যান্ডশেক ছাড়া কিছুই করেনি। এরপর তাকে ধরল ভ্লগার শ্রেণি। বন্ধুরা টেনে ওকে ওদের হাত থেকে বাঁচাল। 

এসব ইফরা আর সেলিম দূর থেকেই দেখল। সেলিম এখনো বোকা বনে আছে।
--"ইফরা, তুমি আমার সাথে মজা নিচ্ছ না তো?"

--"আপনার সাথে আমার মশকরার সম্পর্ক হতে পারে ভাইয়া, কিন্তু আপনি ভাবেন আমি আপুকে নিয়ে আপনাকে মিথ্যে বলব?"

সেলিম এখনো তার অংক মেলাতে পারছে না। যতদূর শুনেছে ইসমাত তার থেকেও বড়ো। তার চাইতেও বড়ো কথা, সাহিদের বয়সটা বড়ো বড়ো করে ব্যানারে লেখা, "25th birhtday". সে কি বলবে বুঝে পাচ্ছে না। ইফরা সেটা লক্ষ্য করে বলল,
--"ওদের দুজনের এইজ গ্যাপ বিয়ে, ভাইয়া। কমপ্লিকেটেড তবে সত্যি। এখনো খবরটা পাঁচ কান হয়নি। আশা করছি আপনিও ভরসা বজায় রাখবেন। এক্সকিউজ মি, যাই.. দুলাভাইয়ের সাথে ফার্স্ট মিট করে আসি।"

সাহিদ আর তার বন্ধুরা ভেতরে যাচ্ছে। রুশান ভেতরে যেতে যেতে বলল,
--"আজ কড়া মা ল আনছি দোস্ত। কেক কাটলেই সব ছুটে দৌড় দিব ছাদে। সাব্বির সব ব্যবস্থা করে রেখেছে। ছাদ খালি পাব তো?"

সাহিদ দায় সারা গলায় বলল,
--"হুঁ।"

বাড়ির ভেতরে মেহমানের প্রেশার কম। ওরা একপাশে গিয়ে দাঁড়াল। তখনই ইফরা ওদের মুখোমুখি দাঁড়াল। ইফরা লম্বা এক সালাম দিল সাহিদকে। সাহিদ অপ্রস্তুত হলো। আকিব তাকে চিনতে পেরে বলল,
--"আপনি অভিনেত্রী না? ইফরি.."

ইফরা নিজের নাম ঠিক করে বলল,
--"ইফরা তায়্যেবা। দুলাভাইয়ের একমাত্র শালি!"

সাহিদের থেকেও বেশি হোঁচট খেল বাকিরা। রুশান বলে উঠল,
--"কিরে, তোর এত সুন্দর শালী আছে আগে বললি না যে?"

সাব্বিরও অবাক হলো,
--"তাই তো! কিরে সাহিদ?"

সাহিদ ইফরার দিকে তাকিয়ে বলল,
--"ডোন্ট কল মি দুলাভাই! সো উইয়ার্ড।"

ইফরা তার হাসি আরও প্রসারিত করে বলল,
--"আপুর ছোটো বোন হিসেবে আপনাকে আমি দুলাভাই-ই ডাকব, দুলাভাই।"

সাহিদ বিরক্ত হলো। টের পেল এই মেয়ে ইসমাতের থেকেও বড়ো ধূর্ত। এর সাথে কথায় লাগা ঠিক হবে না। রুশান ততক্ষণে ব্যস্ত নিজের চুল ঠিক করতে। তার কতদিনের শখ বন্ধুর শালির সাথে প্রেম করবে। ইফরা তা লক্ষ্য করে বলল,
--"আমি দুলাভাইয়ের শালী হতে পারি, বাট স্টিল আপনাদের থেকে দুই বছরের বড়ো। রেসপেক্ট মি! ওকে?" 

ইফরার কথা শুনে রুশান চরম হতাশ হলো। ইফরা থেমে আবারও জিজ্ঞেস করল,
--"দাদী কোন দিকে দুলাভাই?"

উফ! আবারও দুলাভাই! সাহিদ ভাবেনি ইফরার সাথে তার প্রথম সাক্ষাৎ এতটা বাজে হবে। সে ভেবেছিল ইফরা অন্তত একটু অন্যরকম হবে। সে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল,
--"মায়ের সাথে। জানি না কোন দিকে গেছে।"

ইফরা আর জ্বালাল না, বিজয়ে হাসি চেপে দ্রুত কেটে পড়ল। ছেলেটা একটু বিরক্তিকর বটে, তবে কিউট আছে। আপা জব্দ করলেও বুঝি এমন মুখ করে থাকে?

ইফরা চলে যেতেই সাব্বির তাকে খপ করে ধরল।
--"কিরে, তোর শালিকে তো দেখলাম। এবার বল তোর ঘরওয়ালি কোথায়?"

আকিব বলল,
--"আমারও একই প্রশ্ন। এতক্ষণ যাবৎ এলাম। দেখাই পাচ্ছি না। নাকি আমাদের দেখানোর ভয়ে লুকিয়ে রেখেছিস?"

তর্ষা এই পর্যায়ে ভারী সাজে সাহিদের মুখোমুখি এলো। তার গায়ে ইসমাতের ছিনিয়ে নেওয়া ডিজাইনের সেই ড্রেসটাই। তর্ষা মুখে মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল,
--"সাহিদ ভাইয়া, আমাকে কেমন লাগছে?"

সাহিদের বিরক্তিতে কপালে ভাঁজ পড়ল। সে দূরে সরে দাঁড়াল। কিন্তু এই মেয়ে তার সাথে চিপকেই রইল। যেন তার মুখ থেকে কিছু না শুনে যাবে না। এটা নিরিবিলি বন্ধুরা খেয়াল করল। এটা নতুন না, বহু আগে থেকেই এই অবস্থা দেখছে। তর্ষা আবারও একই প্রশ্ন করলে সাহিদ মিনমিন করে গা লি দিয়ে বলল,
--"গোবর লাগছে। এবার দূর হ।"

সাহিদের এই উত্তরে তর্ষার মুখে আঁধার নামল, বেশ হতাশ দেখাল তাকে। সাহিদ তা ভ্রুক্ষেপ করল না। অপ মানে মুখ লাল হয়ে যায় তর্ষার। আবারও কিছু বলতে যাবে, সাহিদ ইচ্ছেকৃত কোল্ডড্রিংকস তার ড্রেসে ফেলে দিল। মুহূর্তেই তর্ষার সুন্দর ড্রেস নষ্ট হয়ে গেল। সাহিদ মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল,
--"ইট'স এন এক্সিডেন্ট।"

তর্ষার আর এখানে দাঁড়ানোর শক্তি হলো না। সে ছুটে উপরে চলে গেল। এটা দেখে ওর বন্ধুরা হো হো করে হেসে উঠল। সাহিদ তা তোয়াক্কা করল না। ওরা আবারও ব্যস্ত হয়ে পড়ল সাহিদকে পচাতে। ইসমাতকে নিয়ে।

টিজ করার মুহূর্তে সাব্বিরের হঠাৎ চোখ গেল সিঁড়িতে। অবাক হয়ে বলল, "সাহিদ, লুক!"

সাহিদও ঘাড় বাঁকিয়ে তাকাল। মুহূর্তেই তার চোখজোড়া অস্বাভাবিকভাবে কিছুটা বড়ো হয়ে গেল। কপালের বিরক্তির ভাজ মিইয়ে গেল। চোখ জোড়ায় বিস্ময় জমেছে।

 ইসমাত খুব সুন্দর এক গাউন পরে নামছে। স্কাই ব্লু রঙের। যেটা সাহিদেরই দেওয়া। ইসমাতকে খুবই নজরকাড়া লাগছে, তার সাজও আজ বেশ পারফেক্ট। চুলগুলো পিঠে ছেড়ে দেওয়া। গাউনটার সামনে খুব সুন্দর গলায় ডিজাইন করা, আর হাতা কনুই অবধি। তার একের পর এক ধাপ যেন সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলছে।

 সিঁড়ির মাঝে থেকেই ইসমাত আর সাহিদের চোখাচোখি হলো। সাহিদের চোখ জোড়া থমকে গেলেও ইসমাতের থামেনি। সে নিচটা ভালো করে দেখছে, কে বা কারা আছে। সৌভাগ্যক্রমে তার দিকে কেউই খেয়াল করেনি। সবাই নিজেদের মতো ব্যস্ত।

সাহিদকে এমন থমকে যেতে দেখে রুশান বলল,
--"কিরে, ঠিক আছিস?"

সাব্বির হেসে বলল, 
--"ঠিক নেই, হি'জ গন।"

ইসমাত সাহিদের দিকে এগিয়ে আসছে। সাহিদ তার এক হাত প্যান্টের পকেটে ঢুকাল, কিছুটা আনইজি ফিল করছে সে। এরকমটা হওয়ার কারণ জানে না সে, অপ্রস্তুত হয়ে চোখ নামিয়ে আবারও তাকাল। হ্যাঁ, ইসমাত সত্যিই তার দিকে এগিয়ে আসছে। ইসমাতের হিলের ঠকঠক শব্দ হচ্ছে মৃদু কোলাহল এবং গানের মাঝেই। ইসমাত তার মুখোমুখি দাঁড়াল। আবারও সিংহের মতো চোখ জোড়া ইসমাতের চোখে মেলাল সে। সে ভাবতেই পারেনি ইসমাত সত্যি তার পছন্দ করা গাউন পরবে। সে তো ভেবেছিল গাইগুই করতে পারে। 

 ইসমাত খুব উপভোগ করল সাহিদের এহেম অস্থিরতা, বিস্ময়, নিশ্চুপ। সে তো এটাই চেয়েছিল। সে তার সামনে দাঁড়িয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী গলায় বলল, 
--"happy 25th birthday, Mr. Sahid Mustahab!"

সাহিদ তার চোখে চোখ রেখেই উত্তর দিল,
--"আমি ভেবেছিলাম ইউ উইল ডেনি মাই ওয়ার্ডস!"

--"তোমাকে ফিরিয়ে দিলে তোমার এই উজবুক মুখটা দেখা হতো না। লোভ সামলাতে পারিনি।"

সাহিদ বাঁকা হাসে। বন্ধুরা কিছুটা দূরে সরে দাঁড়িয়েছে। সাহিদ মিনমিন করে বলল,
--"থ্যাঙ্ক ইউ, মিসেস ইসমাত শানজে, ফর ইওর উইশ! দোয়া করবেন, যেন আপনাকে আরও জব্দ করতে পারি, হু?"

এর উত্তরে ইসমাত চওড়া হাসল,
--"কেমন লাগছে আমায়?"

সাহিদ বাঁকা হেসেই জবাব দিল,
--"ফালতু। নাও, সি ইওর ওয়ে।"

সাহিদ মুহূর্তেই চোখ লুকিয়ে বন্ধুদের সাথে চলে গেল। এ নিয়ে ইসমাতের কোনো মাথা ব্যথা হলো না। সে সবার সাথে মিশল, কথা বলল। কিন্তু পরিচয় দিল সে মাহফুজ সাহেবের একজন কর্মচারী। সারাহ'ও এসেছে বাইরে। সে সারাহ'র সাথে দেখা করল। তুবাকে কোলে নিয়েও ঘুরল। ইফরার সাথেও দেখা হয়ে যায়। এরপর দুই বোনকে আর পায় কে?

 সবটাই দূর থেকে সাহিদ দেখেছে, কিছু সে মুখ ফুটে কিছু বলেনি। বলার মতো মানুষও না সে। সে সর্বদা নিজের ইগোকে গুরুত্ব দেওয়া মানুষ। 

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর সাহিদ সবার সামনে কেক কাটল। সাথে আরও বেশ কিছু ঝামেলা কাটিয়ে অবশেষে বন্ধুরা সুযোগ পেয়ে ছাদে ছুটল। মিনিট দশেকের ভেতরে সবার অনেকখানিই খাওয়া হয়ে গেছে। তারা তাদের মতো করে বার্থডে সেলেব্রেট করল। সাব্বির খ্যাকখ্যাক করে হাসতে হাসতে বলল,
--"ভাবীর উপর ক্রাশ খেয়েছিস তাই না?"

সাহিদ অস্বীকার করল,
--"মোটেই না।"

রুশান বলল,
--"আমি শিওর ও মিথ্যে বলছে। ভাবী কি সুন্দর রে সাব্বির। তুই ঠিকই বলেছিলি।"

সাব্বির বলল,
--"খবরদার মিথ্যে বলবি না সাহিদ। তোর ভেতরের গল্প চেহারাতেই ফুটে উঠছে। শি'জ ইওর ওয়াইফ! স্বীকার করলে ক্ষতি কী?"

সাহিদ সাব্বিরের বিরক্তিকর জ্ঞান না শোনার ভান ধরে রইলো। সাব্বির আবারও বলল,
--"বিলিভ মি সাহিদ, তোর মতো করে যদি রাইসাকে জীবনে পেতাম তবে বউয়ের আঁচলের নিচে ঘুরতাম।"

আকিব বলল,
--"এজন্যই রাইসা আপু আসে নাই তোর জীবনে। আঁচল ধরে ঘুরলে কেমন দেখায়।"

রুশান বলল,
--"তুই চুপ থাক, তুইও ঘুরোস। সাব্বির ঘুরলে ক্ষতি কী? আমি আছি আলাদা ডিপ্রেশনে, ইফরা আমার থেকে বড়ো কেন ইয়ার?"

 কিছুক্ষণ পর ইসমাতও এলো। তার হাতে কেকের মিনি প্লেট। সে এসেছে ওদের ডাকতে। মাহফুজ সাহেব ডাকছে। কিন্তু কেউ ওকে তোয়াক্কা করল না। সাহিদ আবারও দেখল ইসমাতকে, আবছা আলোয়। এতক্ষণে ওরা আরও গিলেছে। সাহিদের নেশা ধরেনি, তবে রুশানের ধরেছে। সে টলমলে গা সাব্বিরের ওপর ছেড়ে দিয়ে বলল,
--"এইতো আমাদের প্রিন্সেস ভাবী এসেছে। আকিব, গান ছাড়! আমরা কাপল ডান্স দেখব।"

সাব্বিরের এই বুদ্ধিটা পছন্দ হলো। সেও সাহিদকে উস্কাতে লাগল,
--"সাহিদ, নাচ। আমরা গান ছাড়ছি। কাপল ডান্স ছাড়া সেলেব্রেশন জমে? যারা আমার সাথে একমত তারা হাত তুলো।"

ইফরাও পেছন পেছন এসেছিল। সেও নিজের অজান্তেই হাত তুলল। সাহিদ এসব দেখে হাসল। আকিবকে কিছু একটা ইশারা করতেই আকিব দ্রুত ফোন নিল। তারা গান শোনার জন্য একটা স্পিকারও এনেছিল। মুহূর্তেই গান বেজে উঠল। সাহিদ ইসমাতের দিকে আগাচ্ছে। ইফরা কেকের বাটিটা বোনের থেকে নিয়ে দূরে সরে দাঁড়াল। মুহূর্তে সাহিদ তার মুখোমুখি দাঁড়াল। ম দের গন্ধ ইসমাতকে দূরে সরিয়ে দিতে চাইল, কিন্তু সাহিদ তা হতে দিল না। ইসমাতকে শিক্ষা দিতে সে তার কোমর চেপে কাছে টানল। ইসমাতের চোখ ছানাবড়া। কোটর থেকে চোখ-জোড়া বেরিয়ে আসার উপক্রম। অনুভব করল তার কোমরে সাহিদের আঙুলগুলো ঘঁষছে। ইসমাত অস্ফুট স্বরে বলল,
--"হচ্ছে কি?"

সাহিদ মুখ খুলল, হুড়মুড়িয়ে আবারও ম দের গন্ধ এলো। ইসমাতের বমি আসার উপক্রম।
--"কাপল ড্যান্স, ইসমাত। আপনি না আমার মিসেস হতে চান? ড্যান্সে সমস্যা কোথায়?"

ইসমাত বাঁধা দিতে চাইল, সাহিদ শুনল না। 
--"মিসেসরা হাসবেন্ডদের কথা শোনে, আপনিও শুনবেন ইসমাত।"

মুহূর্তে সাহিদ আরেক হাতে ইসমাতের ডান হাতটা টেনে নিয়ে নাচের অঙ্গিভঙ্গি করতে শুরু করল। দুজনেরই শরীর দুলছে। একই সাথে, একই সুরে। ব্যাকগ্রাউন্ডে ভাসছে,

"Darling, just hold my hand
Be my girl, I'll be your man
I see my future in your eyes

Baby, I'm dancin' in the dark
With you between my arms
Barefoot on the grass
Listenin' to our favourite song
When I saw you in that dress
Looking so beautiful."
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp