নিয়তিকে হার মানিয়ে নতুন জীবন নিয়ে কাজলী আবার চোখ মেলল৷ ও পুরোপুরি সচেতন হওয়ার পর থেকে ইউসুফ আর ওর মুখোমুখি হয়নি। দূর থেকে দেখে চলে যায়৷
ওয়ার্ডে ভর্তির ঠিক একদিন পরেই কাজলীকে কেবিনে শিফট করা হয়েছিল। মারিয়াম হুইলচেয়ারের চাকা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সেই কেবিনের ভেতর ঢুকল৷ ভেতরটা বেশ পরিপাটি আর ছিমছাম। মেঝেতে ধবধবে সাদা টাইলস। দেয়ালগুলোতে অফ-হোয়াইট রঙ। আধুনিক রিমোট-কন্ট্রোলড বেডের পাশেই একটা মস্ত বড় কাঁচের স্লাইডিং জানালা। সেই জানালা দিয়ে সকালের সোনালী রোদ এসে এসে পড়েছে ধবধবে পরিষ্কার চাদরের ওপর। বেডের ঠিক উল্টো দিকে রোগীর স্বজনদের বসার জন্য রাখা আছে দুটো খয়েরী রঙের আরামদায়ক গদিওয়ালা সোফা।
হুইলচেয়ারের চাকার শব্দ পেয়ে কাজলী ক্লান্ত ঘাড়টা ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকাল। ওপাশে চাকার ওপর বসে আছে ওর ধবধবে ফর্সা, লতানো চুলের অসম্ভব সুন্দরী বোনটি! মারিয়াম দেখতে অবিকল তাদের বাবার মতো হয়েছে। লোকে বলে, মেয়েরা নাকি বাবার মতো হলে ভাগ্যবতী হয়৷ তবে মারিয়ামের কপালটা কেন বিধাতা এমন নির্মমতা দিয়ে লিখলেন?
বোনকে সুস্থ দেখে কাজলীর ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল৷ কিন্তু মারিয়াম হাসল না। ও নিজের চোখমুখ পাথরের মতো শক্ত করে কাজলীর বেডের পাশে গিয়ে স্থির হলো। সাহেব চাচার সাহায্য নিয়ে কোনোমতে হুইলচেয়ার থেকে কাজলীর বেডে বসল। কাজলী তখন বালিশে পিঠ ঠেকিয়ে আধশোয়া হয়ে আছে৷ সে মারিয়ামের থমথমে মুখের দিকে তাকিয়ে ভাঙা গলায় ফিসফিসিয়ে বলল, “রাগ করছস, আপা?”
মারিয়াম কোনো উত্তর দিল না৷ ও ঠায় তাকিয়ে রইল৷ কাজলী মারিয়ামের একটা হাত নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরে বলল, “সরি আপা...আমি তোরে, এমনকি তোর পেটের বাচ্চাটারেও মাইরা ফেলতে চাইছি।”
মারিয়াম ওর হাতটা ছাড়িয়ে না নিয়ে হিমশীতল কণ্ঠে বলল, “তুই অন্যায় করছস, কাজলী।”
“জানি আপা, অনেক বড় ভুল হইয়া গেছে। তখন মাথাটা একদম অবশ হয়া গেছিল, কোনো কিছু ভাবতে পারতেছিলাম না৷ মনের মধ্যে শুধু একটাই চিন্তা ঘুরপাক খাইতেছিল, আমি না থাকলে তুই আর আম্মা কেমনে টিকে থাকবি? শকুনদের খাবার হওয়ার চাইতে তোদের সাথে নিয়া একবারে শেষ হয়া যাওয়া সমাধান মনে হইছিল। শয়তানে ধরছিল।”
বলতে বলতে কাজলীর গলাটা বুজে এলো। ও অনুতপ্ত সুরে মারিয়ামের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি ইচ্ছে করে এমন করি নাই আপা। তোর প্রতি বা তোর সন্তানের প্রতি আমার এমন কোনো ক্ষোভ নাই যে তোদের মাইরা ফেলতে চাইব। আমার মুখ অবধিই সব রাগ।”
“তুই অন্যায় করছস... তুই অনেক বড় অন্যায় করছস…” বলতে বলতে মারিয়ামের এতক্ষণের ধরে রাখা আবেগের বাঁধ ভেঙে গেল। ও হেঁচকি তুলে ডুকরে কেঁদে উঠে কাজলীর ছোট বুকটায় নিজের মাথাটা ঠেকিয়ে দিল। কান্নায় ভেঙে পড়ে বলতে লাগল, “তুই অন্যায় করছস আমার প্লেটের বিরিয়ানি ফালায়া৷ তুই অন্যায় করছস আমারে রাইখা নিজে একলা মরার চেষ্টা কইরা।”
কাজলীর বুকের ভেতরটায় উথাল-পাতাল আলোড়ন শুরু হয়ে গেল। ওর সমস্ত অপরাধবোধ গলে গলে জল হয়ে মিশে যেতে লাগল।
মারিয়াম কাজলীর বুক থেকে মুখ তুলল। হাত দুটো বাড়িয়ে ও কাজলীর দুই গাল শক্ত করে ধরে শাসন করার গলায় বলল, “খবরদার! আর কুনুদিন এমন অন্যায় কাম করবি না৷ জীবনে যদি আর কুনুদিন তোর মনে অয় আর বাঁচা সম্ভব না, আর পথ নাই, তহন সবার আগে তুই আমার মুখে বিষ দিবি। ক, দিবি?”
কাজলীর চোখ দুটো জলে ভিজে উঠল। ও সমস্ত শক্তি দিয়ে মারিয়ামকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল, “এইবার যখন মরি নাই, আমরা বাঁচব আপা। খুব সুন্দর কইরা বাঁচব, তুই দেখিস। আল্লাহর ইচ্ছায়, এই পৃথিবীর শেষ সুখ অবধি আমি তোরে নিয়া যাব।”
মারিয়াম একটু আদুরে গলায় গুমরে উঠে বলল, “আমার কুনু সুখ লাগব না৷ তুই খালি সারাজীবন আমার চোখের সামনে, আমার কাছে থাকবি৷ তোর কোনোদিন বিয়া হইতে দিমু না আমি। কালা জাদু কইরা আটকায়া রাখমু।”
“হয় নাই তো বিয়া! তোর নজরেই হয় নাই।”
বলতে বলতে অশ্রুসজল চোখেই খিলখিল করে হেসে উঠল কাজলী। বোনকে হাসতে দেখে এতক্ষণের মেঘ কেটে মারিয়ামের মুখেও হাসি ফুটে উঠল। কেবিনটা মুহূর্তের মধ্যে দুই বোনের হাসির আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
পরদিন দুপুরের দিকে কেবিনে এলো জামিল। ওর ঠিক পিছু পিছু চোরের মতো ঢুকল ইউসুফ৷ সে কাজলীর দিকে একবারের জন্যও তাকাল না। কাজলী এখন পুরোপুরি সুস্থ, পুরোপুরি সজ্ঞানে আছে এই অবস্থায় ও মেয়েটার চোখের দিকে কীভাবে তাকাবে? তাকালেই কেমন যেন গা শিরশির করে, মাথাটা ভনভন করে৷
জামিল আন্তরিকতার সাথে বলল, “দুপুর তো হইয়া গেল, আপনারা তো এখনো কিছু খান নাই৷ আমি বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসি৷ কী খাইবেন কন?”
জোহরা একটু লজ্জিত হয়ে বললেন, “তোমরা অনেক করতাছো বাবা। আর কিছুর দরকার নাই৷ সাহেব ভাই খাওন আনতে বাড়িত গেছে।”
জামিল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “বাড়ি থেইকা রান্না কইরা এরপর আনব?”
“হ।”
“তাতে তো অনেক সময় লাগব৷ এতক্ষণ কি আপনারা না খাইয়া থাকবেন? কাজলীরে হসপিটাল থেকে স্যুপ দিছে, ও ওইটা খাক। আপনাদের তো কিছু খাইতে হইব৷ মারিয়াম আপু, কন তো কী খাইবেন?”
জামিলের মুখে খাবারের নাম শুনতেই মারিয়াম গদগদ হয়ে আহ্লাদী গলায় বলে উঠল, “আনবা যখন, এক প্যাকেট ভালো বিরিয়ানিই আনো।”
বোনের নির্লজ্জতা দেখে কাজলী বিরক্তি নিয়ে মারিয়ামের দিকে কটমট করে তাকাল। মারিয়াম সেদিকে পাত্তা না দিয়ে শিশুসুলভ হাসল।
কাজলী সহ্য করে চুপ করে রইল, বাইরের মানুষের সামনে মা-বোনকে কিছু বলতে চায় না৷ তাছাড়া ইউসুফের সাথে ওর একান্তে বোঝাপড়া আছে। তার আগে ওর সামনে কোনো কথাই বলবে না।
মেয়ের দেখাদেখি জোহরা বেগমও এবার হেসে বললেন, “আচ্ছা আনবা যহন আনো। তয় আমার বিরিয়ানি অতো পছন্দ না। আমার লাইগা একটু গরুর কইলজা ভুনা আর গরম ভাত আইনো। ওই যে পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট, ওখান থেকে থাইকা আইনো কিন্তু।”
মা-বোনের খাবারের ফর্দ দেখে কাজলীর লজ্জায় ইচ্ছে করছিল হাসপাতালের জানালা দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়ে মরে যেতে।
জামিল, ইউসুফ খাবার আনার জন্য যেই না চলে যেতে উদ্যত হলো, মারিয়াম পেছন থেকে আবার ডেকে বলল, “শুনো ভাই, আসার সময় একটা স্যান্ডউইচও সাথে কইরা নিয়া আইসো! বিকালে ক্ষুধা লাগে। বাবু খাইতে চায়।”
জামিল বিনয়ের সাথে মুচকি হেসে বলল, “জ্বি আপু, নিয়ে আসব। আর কিছু লাগবে?”
কাজলীর আগুন চোখ দেখে মারিয়াম আর কিছু বলল না। ওরা ঘর থেকে বের হয়ে দরজাটা টানতেই কাজলী ঝাঁঝালো গলায় খেঁকিয়ে উঠল, “তোরা যে ছোটলোক, সেইটা কি জায়গায় জায়গায় ঢাকঢোল পিটায়া প্রমাণ করতে হইব?”
মারিয়াম মুখ ভার করে বলল, “তুই এমন করস কেন? ওরাই তো সাইধা খাওয়াইতে চাইল।”
“কেউ সাধলেই কি খাওয়ার জন্য নিজের বারো হাত জিহবাটা বের করে দিতে হইব?”
“ওদের কত কত টাকা, ওসব খাইব কে?”
“ফকিন্নি কি তোরে সাধে বলি আমি? ওরা তোরে দয়া দেখায়া সদকা দিতাছে। খা, বসে বসে ওই সদকাই খা তুই।”
মারিয়াম কাঁধ নাচিয়ে বলল, “খামুই তো, তোর কি? গরীবের জন্যই আল্লাহ দুনিয়াতে সদকা রাখছে, তাই না আম্মা?”
জোহরাও মেয়ের কথায় সায় দিয়ে নির্বোধের মতো মাথা নাড়লেন৷ দীর্ঘ জীবনের অভাব আর দারিদ্র্যের কষাঘাতে তিনি আজ ভুলেই গেছেন যে কত বড় এবং সম্ভ্রান্ত বংশে একদা তার জন্ম হয়েছিল। নিয়তির স্রোতে ভেসে ভেসে তিনি আজ নির্লজ্জ, পরমুখাপেক্ষী গরীবে পরিণত হয়েছেন।
কাজলী মায়ের দিকে ফিরে চোখ বড় বড় করে বলল, “আম্মা! তুমিও ওর কথায় সায় দিতাছো? নিজের মান-ইজ্জত নাই? পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টের কইলজা ভুনার ফরমায়েশ ক্যামনে দিলা? তোমরা কি বস্তির লজিং খাওয়া টোকাই পাইছে ওগো?”
জোহরা একটু আমতা আমতা করে নিজের আঁচলটা ঠিক করতে করতে বললেন, “কতদিন ধইরা ভালোমন্দ মুখে তুলি না ক? একটু সুযোগ পাইছি …”
“সুযোগ পাইছো মানে কী?” কাজলী প্রায় চেঁচিয়ে উঠল, “সুযোগ পাইলেই মানুষের ঘাড়ে কাঁঠাল ভাইঙা খাইতে হইব? এই জামিল আর ইউসুফ আমাদের কী লাগে? ওরা বড়লোক ঘরের পোলা, ওদের সামনে নিজেদের হাভাতে প্রমাণ না করলে চলত না?”
মারিয়াম তখন বিছানার পাশে রাখা জগ থেকে এক ঢোক পানি গিলে টিপ্পনী কেটে বলল, “তোর এত জ্বলতাছে কেন? ওই ইউসুফ পোলাটা তো তোর দিকে কেমনে চোরের মতো তাকায়, আমি সব দেখছি! জামাই মানুষ খাওয়াইতে চাইলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন একটু খাতির নিবই, এতে লজ্জার কী আছে!”
“মুখ সামলায়া কথা ক আপা!” কাজলীর বাদামি ফর্সা মুখটা এবার রাগে, লজ্জায় লাল হয়ে গেল। কান দিয়ে যেন ধোঁয়া বেরোতে লাগল৷ ওরা কি বুঝে গেছে ইউসুফের মনের খবর?
“জামাই মানে কী? কিসের জামাই? আর একটা উল্টাপাল্টা কথা কইলে আমি ভুইলা যামু তুই আমার বড় বইন।”
জোহরা মশা তাড়ানোর মতো হাত নাড়িয়ে মারিয়ামের দিকে চোখ রাঙিয়ে বললেন, “ওরে রাগাইস না৷ ওর শরীর ভালা না৷ আর কাজলী হুন, ওগো অনেক টাকা, মনেও যহন দয়া, এতো টেকা খরচ করছে তহন আরও দুইটা টাকা খাবারের পেছনে খরচ করলে ওদের পকেট খালি হইয়া যাইব না।”
কাজলী আর কিছু বলার মতো রুচি পেল না৷ ও নিজের দুই হাত দিয়ে মুখটা ঢেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
রাতের আকাশে তখন ইয়া বড় একখানা রূপালি চাঁদ উঠেছে৷ চাঁদের মায়াবী আলো জানালার গ্রিল গলে হাসপাতালের কেবিনে এসে লুটোপুটি খাচ্ছে৷ আগামীকাল বিকেলেই কাজলী বাড়ি চলে যাবে।
মারিয়াম বেডে আধশোয়া হয়ে কাজলীর চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে৷ কাজলী বোনের বুকে মুখ লুকিয়ে, তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে৷ ওর বুকের ভেতরটা প্রশান্তিতে ভরে উঠেছে৷ এর আগে মারিয়ামের কোলে বহুবার মাথা রাখা হলেও, এমন করে বুকে জড়িয়ে কখনো শোয়া হয়নি।
প্রতিদিন হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে যখন ঘরে ফিরত, তখন মনটা প্রচণ্ড বিক্ষিপ্ত হয়ে থাকত৷ ক্লান্ত লাগত। মায়া প্রকাশ তো দূর, প্রয়োজন ছাড়া দুটো বাড়তি কথা বলার সময় বা মানসিকতাও হয়ে উঠত না৷ মারিয়াম একদম পছন্দ করত না কাজলীর খিটখিটে মেজাজ, আর কাজলী সহ্য করতে পারত না মারিয়ামের বোকামি আর অলসতা। এই নিয়েই দুজনের খটাখট লেগেই থাকত৷ ভালোবাসাটা বুক চিরে প্রকাশ করার মতো সুবর্ণ সুযোগ বা পরিস্থিতি ওদের জীবনে কখনো হয়েই ওঠেনি।
নিস্তব্ধতা ভেঙে মারিয়াম খুব নরম গলায় ডাকল, “এই কাজলী?”
কাজলী চোখ বোজা অবস্থাতেই বলল, “হু?”
“তোর কি অনেক রাগ আমার ওপর?”
কাজলী বোনকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল, “না। জমায়া রাখার মতো কোনো রাগ তোর ওপর আমার কোনোকালেই ছিল না, আপা। একা একা সংসারের ঘানি টানতে টানতে মাঝেমধ্যে অনেক হাঁপায়া যাই, তখন খুব রাগ উঠে। আর... আর মাঝে মাঝে একটু হিংসেও হয়।”
মারিয়াম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কেন?”
“তোর প্রতি আম্মার ভালোবাসা দেখে।”
বোনের কথা শুনে মারিয়াম হাসল। ও কাজলীর কপালে হাত রেখে বলল, “আম্মা তোরে আমারে এক চোখেই দেখে। কাউরে কম-বেশি বাসে না।”
কাজলী অভিমানের সুরে বলল, “বিশ্বাস করলাম না।”
বোনের সংশয় দূর করতে মারিয়াম উঠে বসল৷ কাজলীর দিকে পিঠ ফিরিয়ে এক টানে কামিজের চেইন খুলে ফেলল।
উপচে পড়া চাঁদের আলোয় মারিয়ামের খোলা পিঠের দিকে তাকাতেই কাজলী চমকে উঠল। চ্যালাকাঠ দিয়ে পেটানোর দগদগে, তাজা কালশিটে দাগগুলো দেখে হতভম্ব হয়ে গেল। মারিয়াম মুখ ফিরিয়ে ম্লান হেসে বলল, “তোরে মারার পর আম্মা আমারে মারে নাই, এমন একটা দিনও নাই। তোরে মারার পর আম্মার মনের ভেতর যে অপরাধবোধ হইত, কষ্ট হইত, আমারে মাইরা আম্মা সেই কষ্ট কমাইত। তুই তো তাও তর্ক করতি, নইলে আম্মার মতের বাইরে কিছু কইরা মাইর খাইতি৷ আর আমি? আমি খামখাই মাইর খাইতাম। তুই মার খাইলে কাঁদতি, চিৎকার করতি; আর আমি অচল শরীলটা নিয়া চুপচাপ সয়ে যাইতাম। মাইর খাইয়া কানতে আমার লজ্জা লাগে।” বলতে বলতে মারিয়াম কেমন উদাসীনতায় হেসে ফেলল। যখন ওর স্বামী মারত, তখনো কাঁদত না।
কাজলীর রক্ত মাথায় চড়ে গেল, ও ভীষণ রেগে বলল, “তাই বইলা তোরে এই অবস্থায় মারব? তোর পেটে একটা ছয় মাসের বাচ্চা, এই জ্ঞানটা ওনার নাই?”
মারিয়াম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “আম্মা খিটখিইট্যা। কী চায় আর কী করে নিজেই বুঝে না৷ সারাদিন ঘরে তো একলগেই থাকি, আমি চিনি আম্মারে। আম্মার মানসিক সুস্থতা নাই বুঝছস৷ আম্মার জীবনটা তো কম দুঃখের না। সুখের মুখ দেখে নাই, খালি অভাব আর নির্যাতনই দেখছে৷ আম্মারে কোনো একজন ভালো সাইকোলজিস্ট দেখাইলে মনে হয় ঠিক হইব।”
কাজলী মারিয়ামের পিঠের ক্ষতগুলোর ওপর হাত রাখল। বলল, “ইশ! আম্মা এতো নিষ্ঠুর কেমনে হইল? মা’রা কি এমন হয়?”
দরজার ওপাশে ছিলেন জোহরা। দুই মেয়ের কথা শুনে ওনার চোখ দুটো ভিজে উঠল। কানের ভেতর বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল, ‘আম্মা এতো নিষ্ঠুর কেমনে হইল? মা’রা কি এমন হয়?’’
ওনার পায়ের তলার মাটি যেন সরে যাচ্ছিল। তিনি চোখের জল মুছতে মুছতে হসপিটাল থেকে সোজা পালিয়ে এলেন নিজেদের ভাঙা বাড়িতে। অন্ধকার ঘরে উঁবু হয়ে শুয়ে, বিছানার চাদরটা দুই হাত দিয়ে খামচে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন।
ওনার পিছু পিছু এসে দরজার চৌকাঠে দাঁড়ালেন সাহেব চাচা। জোহরা ওনার উপস্থিতি টের পেয়ে রক্তাক্ত চোখ জোড়া তুলে হাহাকার করে বলে উঠলেন, “আমি কেউয়ের কাছে ভালা হইতে পারলাম না সাহেব ভাই! কেউয়ের সুখের কারণ হইতে পারলাম না।”
সাহেব চাচা জোহরার আত্মদহন সহ্য করতে পারলেন না। তিনি মুখ ঘুরিয়ে উঠানের কোণে বিষণ্ণ মনে বসতে বসতে ভারী গলায় বিড়বিড় করে বললেন, “কেউয়ের কাছে তুমি চান্দের টুকরা, জোহরা৷ কিন্তু তুমি কোনোদিন হেই চোখের দিকে চাও নাই, হেই মায়া তুমি কোনোদিন দেখো নাই।”
রাত বারোটা। আলাউদ্দিনের বুকটা রাগে হাঁপানির রোগীর মতো হাপুসহুপুস করে ওঠানামা করছে। ড্রয়িংরুমের সোফার পাশে মেঝের ওপর পড়ে আছেন আছিয়া। ঠোঁটের কোণ ফেটে ফোঁটা ফোঁটা গাঢ় রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। আছিয়ার অপরাধ, তিনি আলাউদ্দিনকে কাজলীর কোনো ক্ষতি করতে বারণ করেছেন। ওনার অপরাধ, কাজলীকে বিপদের দিনে সাহায্য করার কারণে সাহেব চাচার চাকরিটা কেড়ে না নেওয়ার জন্য তিনি আলাউদ্দিনের সামনে দাঁড়িয়ে অনুনয়-বিনয় করেছেন, বাধা দিয়েছেন। আলাউদ্দিন কতটা ভয়ংকর আর পৈশাচিক হতে পারে, তা খুব ভালো করেই জানা ছিল। তবুও তিনি নরপশুটার মুখের ওপর প্রতিবাদ করে বসেছেন।
কাজলীর প্রতি আছিয়ার টানটা বহু পুরোনো। ওনার শাশুড়ি যখন বেঁচে ছিলেন, তখন কাজলী ওনার ফরমায়েশ খাটার জন্য সওদাগর বাড়িতেই থাকত। আলাউদ্দিন যখন-তখন আছিয়ার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাত, মারধর শেষে আছিয়ার পিঠের দগদগে ক্ষতগুলোতে মলম লাগিয়ে দিত কাজলী।
আছিয়ার কান্না, দীর্ঘশ্বাস, সব কষ্টের সাক্ষী ওই মেয়েটা। যখনই দেখত আলাউদ্দিন আছিয়াকে মারার জন্য তেড়ে আসছে, ও চতুরতার সাথে শাশুড়ির গায়ে ঢিল মেরে কিংবা কিছু একটা ঘটিয়ে ঝড়ের বেগে দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলত, “দাদি কেমন জানি করতাছে।”
মায়ের বিপদের কথা শুনে আলাউদ্দিন তখন আছিয়াকে মারার কথা ভুলে নিজের মায়ের ঘরে ছুটে যেত৷ এভাবে বহুবার, কত কৌশলে কাজলী আছিয়াকে আলাউদ্দিনের থাবা থেকে রক্ষা করেছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। আজ সেই মেয়েটার বিপদে আছিয়া কীভাবে মুখ বুজে চুপ করে থাকতেন!
আলাউদ্দিন তাকে মাত্র পনেরো বছর বয়সে জোরপূর্বক তুলে এনে বিয়ে করেছিলেন। আছিয়ার বাবা ছিলেন একজন গরীব ইমাম। আলাউদ্দিনের দাবি, তিনি ভালোবাসেন আছিয়াকে৷ এই হলো তার ভালোবাসার নমুনা! দিনরাত অমানুষিক মারধর আর পশুর মতো আচরণ। পতিতালয়ে নিয়মিত যাতায়াত থেকে শুরু করে বস্তির সস্তা মেয়েরা প্রতিনিয়ত ছিল ওনার রাতের শয্যাসঙ্গী। এমনকি বস্তির ঝিলমিল আপার ভরা যৌবনটাও তো আলাউদ্দিনের চরণেই পিষে ছারখার হয়ে গেছে৷ চড়া সুদের ব্যবসা, সেই সুদের জাঁতাকলে ফেলে গরীব অসহায় মানুষদের নির্যাতন করা…কোন পাপ কাজটা তিনি করেননি?
আছিয়ার ‘আছিয়া’ নামটাই যেন ওনার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়াল। ফেরাউনের ঘরে বন্দি পুণ্যবতী আছিয়ার মতোই হয়ে উঠল ওনার নিয়তি। আর আলাউদ্দিন হচ্ছে এই যুগের ক্ষমতাধর ফেরাউন।
একটু আগেই আলাউদ্দিন আছিয়াকে সপাটে এক লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে দিয়েছে। অগাধ টাকা, ক্ষমতা আর রাজনৈতিক প্রভাব কৈশোর থেকেই তাকে অন্ধ, বধির করে রেখেছে।
“আর একটা বাড়তি কথা মুখ দিয়া বের করলে এক্কেবারে মেরেই ফেলব খান*!” গলা উঁচিয়ে ড্রয়িংরুম কাঁপিয়ে গর্জে উঠলেন আলাউদ্দিন।
আছিয়া নিজের শরীরটাকে কোনোমতে টেনে হিঁচড়ে ড্রয়িংরুম থেকে বের করে নিয়ে গেলেন। পাশের রুমে ঢুকে ভেতরের খিলটা শক্ত করে লক করে দিলেন।
আলাউদ্দিন সোফায় ধপাস করে বসলেন। রাগটা যখন স্তিমিত হয়ে এলো, তখনই হঠাৎ নিজের শরীরের ভেতর অদ্ভুত পরিবর্তন টের এলেন। মাথাটা কেমন চক্কর দিয়ে উঠছে, শরীরটা কাঁপছে। ঘরের এসিটা চলছে কাঁটায় কাঁটায় ১৮ তে, তবুও কপাল আর ঘাড় বেয়ে টপ টপ করে বরফ-শীতল ঠাণ্ডা ঘাম ঝরছে।
ভেতর থেকে দমবন্ধ করা বমি বমি ভাব দলা পাকিয়ে ওপরের দিকে উঠে আসছে। তিনি নিজেকে সামলাতে ধড়ফড় করে উঠে দাঁড়াতে গেলেন,ডান পা-টা মেঝেতে ফেলতেই শরীরটা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল৷ আবার সোফায় আছড়ে পড়লেন।
কিছুক্ষণ সোফায় নিথর হয়ে শুয়ে থেকে খেয়াল করলেন, নিজের শরীর থেকে ভ্যাপসা মরা মাংসের মতো পচা গন্ধ বের হচ্ছে! তিনি বিভ্রান্ত হয়ে নিজের হাত-পায়ের দিকে তাকালেন, কিছুই পেলেন না। শরীরটাই বা ওভাবে নিস্তেজ হয়ে আসছে কেন? ব্লাড প্রেসারটাও আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে৷
মাঝরাতে অবস্থা বেগতিক দেখে বাড়ির দারোয়ান, কাজের লোক আর একটু আগে মার খাওয়া আছিয়া মিলে তাকে টেনেহিঁচড়ে কোনোমতে গাড়িতে তুলল। ঝড়ের বেগে গাড়ি ছুটিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো ইবনে সিনা হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে।
পরদিন, সকাল দশটা। ইউসুফ পা টিপে টিপে কেবিনের ভেতর ঢুকল। কাজলীর বেডের ঠিক সামনের সোফাটায় কোনোমতে বসে খুব নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল, “কেমন আছো?”
কাজলী বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় বসে আছে৷ ওর তীক্ষ্ণ চোখ দুটো ইউসুফের মুখের ওপর স্থির। লোকটার সাথে কথা বলেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। কাজলী ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বেশ গম্ভীর গলায় বলল, “পাক্কা দুই ঘণ্টা আগে আপনাকে ডেকেছিলাম কথা বলার জন্য, আর আপনি দুই ঘণ্টা পর এলেন?”
ইউসুফ অপরাধীর মতো চুপ করে রইল। কাজলী একান্তে কথা বলতে চায় শোনার পর, বাবার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে দ্রুত নয়াসড়কের সেইলর আউটলেটে গিয়ে একটা নতুন শার্ট আর প্যান্ট কিনে পরে এসেছে। চুলগুলোও কায়দা করে কেটেছে, মুখে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়েছে৷
মুখে ময়েশ্চারাইজার মাখাটা বোধহয় উচিত হয়নি। খুব ঘাম হচ্ছে মুখে। কেবিনের এসিটা এত নিচে চলছে, তাও শরীরটা তপ্ত কয়লার মতো পুড়ে যাচ্ছে!
কাজলী রোবটের মতো আড়ষ্ট হয়ে বসে থাকা ইউসুফকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল৷ সে সাহেব চাচার কাছ থেকে সবটুকু শুনেছে৷ ইউসুফের অতি-উৎসাহী পাগলামিতে ও মোটেও ইমপ্রেস হয়নি, উল্টো ভীষণ বিরক্ত হয়েছে। কাজলীর মতো কঠোর বাস্তববাদী মেয়েকে শুধু একগাদা টাকাপয়সার ক্ষমতা দেখিয়ে পটানো যে অসম্ভব, তা এই ছেলেটা কি জানে না? উল্টো ওর কারণে কাজলীর ঘাড়ে ঋণের বোঝা আরও বাড়ল। এখন এই হাসপাতালের কয়দিনের যাতায়াত আর চিকিৎসার সমস্ত বিল পাইপাই করে হিসাব করে ওকে ফেরত দিতে হবে। সে নিজের ডান ভ্রুটা কুঁচকে ইউসুফকে পা থেকে মাথা অবধি একনজর পরখ করল। ছেলেটা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সুদর্শন আর বেশ লম্বা চওড়া গড়নের৷ যতক্ষণ না সে আমতা আমতা করে কথা বলে, ততক্ষণ বাইরে থেকে ওকে কোনো হাবাগোবা, সরল-সহজ পাত্র মনে হয় না।
কাজলী কোনো ভূমিকা ছাড়াই তীক্ষ্ণ কণ্ঠে প্রশ্ন করল, “আপনি আমার চেয়ে কত বছরের বড়?”
অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নে ইউসুফ থতমত খেয়ে চোখ তুলে তাকাল। কাজলীর ঢেউ খেলানো চুলগুলো তালুর ওপর আলগা করে খোঁপা করে রাখা৷ রুগ্ন মুখটার কপাল জুড়ে কয়েকটা অবাধ্য চুল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
ইউসুফ দ্রুত চোখ নামিয়ে বলল, “আগামীকাল যদি তোমার বয়স বিশ বছর হয়, তবে আমি তোমার চেয়ে ঠিক পাঁচ বছরের বড়।”
কাজলী মনের অজান্তেই একটু চমকে উঠল। কাল ওর জন্মদিন! আজ কি তবে ২৬ শে সেপ্টেম্বর? পরক্ষণেই নিজের ভেতরের আবেগটুকু সামলে নিয়ে ঠোঁট উল্টে বেশ কড়া সুরে বলল, “কিন্তু আপনার আচরণ দেখলে যে কেউ ভাববে, আপনি আমার চেয়ে অন্তত পাঁচ বছরের ছোট! সদ্য গোঁফ উঠা পনেরো বছরের কিশোর।”
ইউসুফ চুপ করে রইল। কাজলী গলার স্বর আরও কিছুটা চড়িয়ে বলল, “আপনি কি জানেন, হিরোগিরি দেখাতে গিয়ে আপনি আমার কত বড় ক্ষতি করেছেন?”
ইউসুফ মাথা না তুলেই খুব শান্ত গলায় বলল, “জি।”
অদ্ভুত! কী অবলীলায় নিজের দোষ স্বীকার করে জি বলে দিল! কাজলী অবাক হয়ে বলল, “কী ক্ষতি করেছেন, বলুন।”
ইউসুফ এবার আস্তে করে চোখ তুলে কাজলীর চোখের দিকে তাকিয়ে পালটা প্রশ্ন করল, “আমি তোমার কী ক্ষতি করেছি?”
ইউসুফের বোকা বোকা প্রশ্ন শুনে কাজলী হা হয়ে গেল৷ কয়েক সেকেন্ডের জন্য ও মুখ দিয়ে আর কোনো কথা ফুটাতে পারল না৷ এই লোক একটা আস্তো পাগল, নয়তো সে পাগল।
কাজলী রাগ সামলে নিয়ে বলল, “আপনার প্রথম ভুল ছিল, আমাকে সরকারি হাসপাতাল থেকে তুলে এই হাসপাতালে নিয়ে আসা৷ দ্বিতীয় ভুল করেছেন, আমাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়ে৷ আর তৃতীয় এবং চরমতম ভুলটা করেছেন, আমাকে কেবিনে শিফট করিয়ে৷”
ইউসুফ আবার মাথা নিচু করে অপরাধীর মতো বলল, “সরি।”
“আপনি কি আমার সঙ্গে তামাশা করছেন?”
কাজলীর রাগ এবার চড়চড় করে মাথার তালুতে চড়ে যাচ্ছে।
ইউসুফ দ্রুত এদিক-ওদিক মাথা নাড়াল৷ সে মোটেও তামাশা বা মজা করছে না।
কাজলী রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “সরকারি হাসপাতালে থাকলে আমি মরে যেতাম না। আমার মা আর বোনের সব চিকিৎসাও সরকারি হাসপাতালের ফ্লোরে শুয়েই হয়েছে৷ যার কপালে যে নিয়তি লেখা থাকে, সে তার সেই নিয়তিতেই সার্ভাইভ করার ক্ষমতা রাখে। কোনো প্রয়োজন ছিল না আমার ওপর দয়া দেখিয়ে ওখান থেকে তুলে আনার।”
ইউসুফ চুপচাপ ওর সব কথা শুনতে লাগল। কাজলী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছিল, “আমি ছোট থেকে উপার্জন করি। এখনো করছি। আমি কারও দান-সদকা কিংবা পুতুপুতু সহানুভূতি নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই না৷ আমার ভালো লাগে না। কমফোর্টেবল ফিল করি না৷ এই যে আপনি এত এত টাকার বিল বাড়ালেন, এটা তো আমার সারা বছরের মোট ইনকামওনা৷ এত টাকা আমি এখন কোথা থেকে যোগাড় করে আপনাকে দেব?”
ইউসুফ মিনমিনে গলায় বলল, “দিতে হবে না।”
“আপনি বললেই তো হবে না! আপনি কে আমার? যেভাবে হোক, যেমন করেই হোক আমি আপনার সমস্ত টাকা পাইপাই করে ফেরত দেব। হয়তো ভাবছেন, কী অকৃতজ্ঞ মেয়ে! ধন্যবাদও জানাল না। কিন্তু আমার ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা আসছে না৷ আপনি উপকার করতে গিয়ে উল্টো আমার মাথার ওপর একটা বিশাল বড় ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিলেন৷ সরকারি হাসপাতালের ফ্লোরেই আমার ভালো চিকিৎসা হয়ে যেত। হাজারো মানুষের হচ্ছে। তারা কি সেখান থেকে বেঁচে ফিরছে না? তাহলে কেন আমাকে আমার অজান্তে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে এলেন?”
“কষ্ট হতো।”
কাজলী এবার চটে গিয়ে বলল, “কার কষ্ট হতো? আজব তো! আমার শরীরের খবর কি আমার চেয়েও বেশি আপনি জানেন?”
ইউসুফ ফিসফিসিয়ে বলল, “আমার কষ্ট হতো।”
কথাটা শোনার সাথে সাথেই কাজলী কেমন থমকে গেল৷ ওর ভেতরের সমস্ত রাগ, ক্ষোভ কীসের জাদুতে যেন স্তব্ধ হয়ে গেল।
·
·
·
চলবে……………………………………………………