শুক্লপক্ষের পরিশেষে - পর্ব ৪৬ - নবনীতা শেখ - ধারাবাহিক গল্প

শুক্লপক্ষের পরিশেষে - নবনীতা শেখ
          শরৎ ও প্রিয়, দু'জনেরই অফিসের ছুটি শেষ বলেই তারা ঢাকা ফিরে এসেছে। সকাল সকাল প্রহর প্রিয়র যাবতীয় দরকারি জিনিসগুলো দিতে ফ্ল্যাটে চলে এলো। প্রিয় ওকে দেখেই ছোট ছোট চুলগুলোয় হাত বুলিয়ে এলোমেলো করে বলল,
-“কী রে? কী খবর? দিনকাল সব ভালো?”

মাথা নেড়ে প্রহর বলে,
-“ভালো, আপু।”

থেমে নিয়ে আবার বলল,
-“আপু?”

প্রিয় মুচকি হেসে বলল,
-“বল।”

প্রহরের কণ্ঠ একটু নড়বড়ে, 
-“ভালো আছিস?”

প্রহরকে আশ্বস্ত করে প্রিয় বলল,
-“ভীষণ।”

প্রহর সমস্ত ভয় ছাপিয়ে হাসল এখানটায়। তারপর যখন ফিরতে চাইল, তখন প্রিয় বলল,
-“রান্না করেছি ভাই, আমি। খেয়ে যাবি।”

প্রহর বাহানা দেখাল না কোনো, চুপিসারে ড্রয়িংরুমে গিয়ে বসে পড়ল। প্রিয় ওখানে এসে শুধাল,
-“বাড়ির সবাই ভালো আছে? আম্মু কেমন আছে? আব্বু?”
-“ভালো আছে।”
-“আম্মুকে নিয়ে আসতিস!”
-“নেক্সট টাইম আনব।”
-“ঠিক আছে। আয়াতের কী খবর? ও ভালো আছে?”
-“ভালো আছে, আপু।”
-“বিয়ে কবে করবি? তোর বয়স যেমন-তেমন, আয়াতের তো বাড়িতে ঘটকের যাতায়াত বেড়ে যাওয়ার কথা।”

প্রহর কিঞ্চিৎ হাসল,
-“ওরকমই।”

প্রিয় চুলগুলো হাতখোঁপা করে বেঁধে ফেলে প্রহরের পাশে বসল। তারপর বলল,
-“দুটো কথা বলি ভাই, শোন। ওরা বলে না? সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছে, সময় হলে হবে, সময় আসুক! বলে না এসব? সত্যি কী জানিস? সত্যি হচ্ছে, এই সঠিক সময় বলতে কিছু নেই, কিচ্ছু না। কারণ তুই জানিস না, কাল কী হতে যাচ্ছে। তোর এখন কিছু করতে ইচ্ছে করছে, তুই এখনই কর। আর, আমি মায়ের সাথে আয়াতের ব্যাপারে কথা বলি?”

প্রহর চুপচাপ রইল। প্রিয় জবাবের আশায় আছে। তারপর এক থমকানো লগ্নে প্রহর বলল,
-“আমি ভাগ্যে চরমভাবে বিশ্বাসী।”
-“সেটা ভালো। তবে তুই কি আয়াতকে চাস না?”
-“আমরা যা চাই, সব যদি পেয়েই যাই। আফসোস কখন করব, যদি না হারাই?”
-“আফসোস চাস?”
-“আয়াতকে চাই।”
-“তোর কথার ধরন তবে অমন কেন?”

প্রিয়র কণ্ঠে দ্বিধা! গম্ভীরভাবে হেসে উঠল প্রহর,
-“দেখা যাক, ভাগ্য আমাকে কী দেয়। যা দেবে, আমি তাতেই সন্তুষ্ট।”

প্রিয়র গলায় অসন্তোষ প্রকাশ পেল,
-“ভাই, পাবি কিংবা পাবি-না, কিছু একটায় বিশ্বাস রাখ৷ নয়তো হেরে যাবি।”
-“বিশ্বাস রেখেছি তো।”
-“কীসে?”
-“ভাগ্যে।”

প্রিয় উত্তেজিত হতে হতেও শান্ত থাকল,
-“তোর কি বাজে কিছু মাথায় আসছে? কোনো সমস্যা? খুলে বল আমাকে। আপু সব ঠিক করে দেবো, বল আমাকে।”

নরম হলো প্রহর,
-“তুই আম্মুর সাথে কথা বলতে পারিস আজ। নয়তো কাল আমিই জানাব।”

এতক্ষণে প্রিয়র কলিজায় পানি এলো। বুকে হাত রেখে শ্বাস ফেলে বলল,
-“শুধু শুধু ভয় দেখাস! বোস, নীরজকে ডেকে আনি।”

প্রিয় উঠে রুমে গিয়ে দেখল শরৎ উবু হয়ে শুয়ে ঘুমাচ্ছি। প্রিয় ডাক দিলো,
-“ওঠেন, বেলা হয়ে গেছে। খেয়ে অফিসে যেতে হবে। ওঠেন না রে।”

শরৎ চোখ-মুখ কুঁচকে বলল,
-“উঁম-হুঁ!”
-“কী উঁহু? লেট হবেন তো।”
-“হবোনে।”
-“অফিসে গেলে রেজিগনেশন লেটার ধরিয়ে দেবে।”
-“দিক।”
-“চাকরি?”
-“চাকরি বাদ।”
-“খাব কী তাহলে?”
-“চুমু খাবেন। আসেন প্রিয়, এদিকে আসেন। আমার চুমু পাচ্ছে।”
-“আর আমার কাজ পাচ্ছে, আপনিও ওঠেন, আপনারও কাজ পাবে।”
-“পাবে না, প্রিয়। আপনি শুয়ে পড়েন। আসেন, আমরা একত্রে ঘুমু যাই।”
-“আরেহ ভাই, ওঠেন এখনই। আমার ভাই আসছে। ৫ সেকেন্ডের মধ্যে না উঠলে ভাইয়ের সাথে বাপের বাড়ি চলে যাব।”

শরতের অর্ধ-অচেতন মস্তিষ্কে বিষয়টা ধরল দেরি করে। ততক্ষণে পাঁচ সেকেন্ড পেরিয়ে সেকেন্ডের কাটা সপ্তমে এলো। ধপ করে উঠে বসল শরৎ। ঘড়িতে বাজে ৮টা। শরৎ উঠে বসেই প্রিয়র একহাত চেপে ধরে রইলো। ভ্রু উঁচিয়ে প্রিয় শুধাল,
-“কী?”
-“যদি পরিকল্পনা বাপের বাড়ি যাওয়ার হয়, আমরা যাব। যদি একা যাওয়ার হয়, পা কেটে হাতে ধরে এখানে বসিয়ে রাখব। কোত্থাও যাবেন না, আমি থাকতে পারব না।”
-“বাহ রে! এতদিন যেন খুব দোকলা থাকতেন?”
-“এতদিন মনে মনে বউ ছিল, এতদিন কোলবালিশ ছিল। এখন বিকল্পে আপনি আছেন।”
-“জি সেটাই, আমি গেলে আমার বিকল্পে আবার তারা এসে যাবে।”

শরৎ ভ্রু কুঁচকে ফেলল,
-“আসবে না রে বাপ, আসবে না। মনের বউ তার সতিন মানে আপনার আগমনে পালিয়ে গেছে, আর কোল বালিশ নিজ হস্তে অন্যরুমে তালাবদ্ধ রেখে এসেছেন সে-রাতে। ভুলে গেছেন? সো চুপ্প! কোত্থাও যাওয়া চলবে না। আমি আপনাকে ছাড়া থাকব না থাকব না থাকব না, থাকতে পারব না, থাকার অবস্থা তৈরি হতেই দেবো না। শালাসাহেবের সাথে কথা বলেন গিয়ে, আমি ফ্রেশ হয়ে আসি।”

এক দমে শরৎ এতগুলো কথা বলে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। হতবিহ্বল হয়ে সেভাবেই দাঁড়িয়ে রইল প্রিয়। একবার এলোমেলো হয়ে থাকা বিছানায় কম্ফোর্টারের নিচে শরতের বালিশের এ-পাশটায় নিজের গতরাতের ওড়নার দিকে তাকাল, পুনরায় ওয়াশরুমের দরজার দিকে! পর পর দু-বার শ্বাস ফেলল। তারপর বিছানাটা কোনোরকমভাবে গুছিয়ে বাইরে এলো। প্রহর ফোন টিপছিল। প্রিয় ওকে খাবার টেবিলে বসিয়ে বলল,
-“এখন রান্না করতে ভালো লাগে, বুঝলি? নিজের ঘর, নিজের সংসার। সবকিছুর মালিকানা আমার। এই ব্যাপারটাও সুন্দর।”

প্রহর তৃপ্তির সাথে খেতে লাগল। এটাই তো সে দেখতে চেয়েছিল! চাওয়াগুলো কী চমৎকার পাওয়া হয়ে যাচ্ছে তার! 

—————

প্রিয় অফিসে গিয়েছিল আজ। ফিরতে ফিরতে রাত হলো। তার কলিগরা সবাই বিয়ে উপলক্ষে একটা ছোটখাটো সেলিব্রেশনের ব্যবস্থা করেছিল। সেজন্যই দেরি হওয়াটা। রাত নয়টার দিকে রিকশা নিয়ে প্রিয় বাসায় চলে আসে। শরতের ফ্ল্যাটটা প্রিয়র অফিস থেকে বেশ কাছেই; মিনিট পনেরো এর রাস্তা মাত্র।

তবে আজ জ্যামটাও ছিল। প্রিয় বাসায় ফিরল সাড়ে দশটায়। লিফট্ সিক্সথ ফ্লোরে এসে থামতেই, সে হাঁসফাঁস করতে শুরু করল৷ এখন বাসায় গেলে শরৎ কেমন রিয়্যাকশন দিতে পারে, তা ভাবতে লাগল। ভেবে নেতিবাচক কিছু পেল না। তবুও ভেতর থেকে গুমরে উঠতে লাগল। দায়িত্ববোধ তো আছে তার কিছু। এসব থেকে সরতে পারে না সে। যদিও শরৎকে আগেই কল দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল, দেরি হবে। তবুও! ব্যাপারটা কেমন অস্বস্তিকর!

কয়েকবার দম ফেলে সে কলিং বেলে প্রেস করল। সেকেন্ড কয়েকের মধ্যেই দরজা খুলে গেল। ওপাশে হাসিমুখ করে শরৎ দাঁড়িয়ে আছে। মিষ্টি করে বলল,
-“ওয়েলকাম হোম, ম্যাডাম। খুব টায়ার্ড না আপনি? আসেন ভেতরে।”

প্রিয় ভেতরে ঢুকতেই নজর গেল ডাইনিং স্পেসে সাজিয়ে রাখা খাবারগুলোর দিকে। শরৎকে শুধাল,
-“খেয়েছেন?”

শরৎ হেসে বলল,
-“ফ্রেশ হয়ে আসুন, খাবার বেড়ে দেবেন, এরপর খাব।”

অনুশোচনায় ভুগতে লাগল প্রিয়। জলদি ফ্রেশ হয়ে ডাইনিংয়ে এলো। শরৎকে বসিয়ে খাবার বাড়তে বাড়তে বলল,
-“আপনাকে বলেছি, আমার ফিরতে দেরি হবে। তাও অপেক্ষা কেন? এটা মোটেও ঠিক না। আর এরকম করবেন না।”

শরৎ বিপরীতে কিচ্ছুটি বলল না। খাবার বাড়া শেষে প্রিয় শরৎকে খেতে বলতেই সে বলল,
-“বসেন, প্রিয়।”

প্রিয় বসল। শরৎ প্লেটটা ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
-“আপনি খান।”
-“আমি খেয়ে এসেছি তো।”
-“সদ্য বিবাহিতা নারী স্বামীকে ছাড়া রাতে বাইরে আটকে গেছে, চিন্তায় তার খাওয়া হবে। এটা কতটা যুক্তিসঙ্গত? প্রিয়, আর বাকিসব নারীদের ব্যাপারটা জানি না; তবে আপনার কী খাওয়া হয়েছে—ধারণা আছে আমার। এখন খান।”

ঠিক এ-খানটায় এসে প্রিয় আরও খানিকটা দূর্বল হয়ে গেল শরতের ওপর। নরম স্বরে শুধাল,
-“এই যে রাত করলাম ফিরতে, সত্যি বলুন তো—মনে ক্ষোভ জন্মেনি?”

শরৎ ভরসা জুগিয়ে বলল,
-“ক্ষোভ জন্মেনি, তিন সত্যি। আপনি ভুল কিছু করছেন না। করলেও ক্ষোভ আসত না। আপনাকে বোঝাতাম, বোঝাতাম আর সঠিকটা বোঝাতেই থাকতাম। আমার দায়িত্ব এখানেই। আমি রাগারাগিতে বিশ্বাসী নই।”

প্রিয় মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে রইল। শরৎ খাবার মাখিয়ে এক লোকমা প্রিয়র দিকে তুলে দিয়ে বলল,
-“আপনার স্বামী রেঁধেছে, চেখে দেখেন তো কেমন হয়েছে?”

প্রিয় খাবার মুখে তুলতেই শরৎ বলতে লাগল,
-“আপনি ওখানে আটকে গেছেন, স্বেচ্ছায় দেরি করেননি। নিজের ইচ্ছেতে দেরি করলেও আমার কিছু বলার থাকত না। জীবন আপনার, জীবন পরিচালনার ধরনটাও আপনার নিজের। আমার বিশ্বাস আছে, আমার স্ত্রী ভুল কিছু করবে না। সেই বিশ্বাস থেকে আমি আপনাকে আপনার মতো চলার সম্পূর্ণ অধিকার দিতে কার্পন্য করব না।”

প্রিয় মুগ্ধতার শীর্ষে পৌঁছাল। তার দু-চোখ ভর্তি স্বপ্ন, তা পরিলক্ষিত!

—————

খাওয়ার পালা শেষে প্রিয় নাহারাকে কল দিলো। ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করে সোজা কথায় এলো,
-“আম্মু, প্রহরের বিয়ের প্ল্যান নেই?”
-“এখনই? বয়সই বা কত ওর!”
-“যথেষ্ট! ছাব্বিশ চলছে। এখন বিয়ে-শাদি না করালে তুমি বেঁচে থাকতে নাতি-পুতি দেখতে পারবে না, আম্মু। বিয়ে দাও, নাতি-পুতির সংসারও দেখতে পারবে।”
-“বলছিস?”
-“হ্যাঁ।”
-“মেয়ে দেখি?”
-“আমার দেখা আছে।”
-“আচ্ছা, আমি তাহলে ছেলেটার সাথে কথা বলি। ওকে না জানিয়ে এত বড়ো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে যদি রাগ করে?”

প্রিয় তাকিয়ে দেখল পাশে শরৎ ঠোঁট চেপে হেসে যাচ্ছে। প্রিয় নিজেও কেশে নিয়ে নিজের হাসি আটকিয়ে বলল,
-“আমি কথা বলে নেব ওসবের। তুমি বাবার সাথে কথা বোলো। মেয়ে ফার্স্ট ক্লাস। দেখতে যেমন সুন্দর, চলনে-বলনেও সুন্দর। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে। বেশ আদরের। আমাদের প্রহরের সাথেও দারুণ মানাবে।”
-“আচ্ছা, ভালো তো। বয়স কত?”
-“বয়স ২৫।”
-“যাহ! মেয়ের বয়স বেশি তো। মাত্র এক বছরের বয়সের পার্থক্য ওদের! নাহ, অন্য মেয়ে দেখা লাগবে।”

প্রিয় নড়েচড়ে বসে বলল,
-“শোনো না, মা! আমার তো ২৭-এ বিয়ে হলো, ওর মাত্র ২৫। কী এমন সমস্যা?”

নাহারা শক্ত গলায় বলল,
-“নীরজ বাবার বয়স ৩৩+, সেই হিসেবে তোর সাথে ঠিকই আছে। স্বামী স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য কম পক্ষে ৫ বছর থাকা লাগে। নয়তো বোঝাপড়া ঠিকমতো হয় না। এখানে ২৫-২৬! ওরা তো প্রায় সমবয়সী! সমবয়সীদের বোঝাপড়া থাকে না। দুইজনে রাগারাগি, মারামারি করবে সারাদিন। নাহ!”
-“আরেম্মাহ, ব্যাপার না তো। আমাদের প্রহর ম্যাচিউর আছে, ও সামলে নেবে। তাছাড়া মেয়ে আমার পছন্দের। লাখে একটা। বুঝেছ?”
-“তোর পছন্দ?”
-“হু।”
-“তাহলে দেখে আসবোনে।”
-“আচ্ছা, আমি কথা বলে ডেট জানাব।”

প্রিয় আর কিছু কথা বলে কল কেটে দিলো। আর তখনই শরৎ হো হো করে হেসে উঠল। প্রিয় শরতের বাহুতে মেরে বলল,
-“অমন হাসছেন কেন পাগলের মতন? কী হয়েছে?”

শরতের হাসি থামছে না। সে ওভাবেই বলল,
-“বিয়ে হতে না হতেই বউ ঘটকালি শুরু করেছে, সেখানে আমি পাগল হব না তো কে হবে? আপনার স্কিল দেখে আমি জাস্ট ইম্যাজিন করছি—কোনো এক বর্ষায় বৃষ্টি থামার পর মুহূর্তে শাড়ি কোমরে গুঁজে, একহাতে ছাতা ধরে কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে এগোচ্ছেন। পান খাওয়া মুখে একে-ওকে দেখে হাসছেন। পানের পিক ফেলছেন রাস্তায়। রাস্তাঘাটে মেয়ে দেখে জিজ্ঞেস করছেন, ‘আম্মা, তুমি কোন বাড়ির? বাপের নাম কী? দাদার নাম কী? কীসে পড়ো? নাম কী?’

এসব শেষে মেয়েকে ছেড়ে আবারও রাস্তায় হাঁটা ধরেছেন। তারপর কোমরে গোঁজা বাটন ফোনটা বের করে কল লাগালেন আরেকজন মানুষকে। পান-খাওয়া দাঁত বের করে হেসে বলেছেন, ‘আরেহ খানসাহেব, একটা মেয়ে পাইছি হাতে। মেয়েটা লাখে এক। আপনার পোলার সাথে সেই মানাব্বে। বিয়েটা হইলে সারাদিন খালি এই প্রিয়বানুর নাম জপবেন যে, কী একটা মেয়ে জোগাড় করে দিছি এই যুগে আইস্যা।’

তারপর আবারও আগের অবস্থায় হাঁটা ধরবেন। ওহ নো প্রিয়! আমি ইম্যাজিন করেই শ্যাষ। আপনি করেছেন ইম্যাজিন? কী দারুণ লাগবে না আপনাকে? ওহ ম্যান!”

হাসতে হাসতে বিছানায় গড়াগড়ি খাচ্ছে নীরজ। প্রিয় ফুঁসতে ফুঁসতে মনেপ্রাণে চাইছে সিলিংয়ে ঝুলতে থাকা ফ্যানটা এই চরম খারাপ মানুষটার ওপর পড়ুক, আর সে অক্কা পাক!
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp