শুক্লপক্ষের পরিশেষে - পর্ব ৪৯ - নবনীতা শেখ - ধারাবাহিক গল্প

শুক্লপক্ষের পরিশেষে - নবনীতা শেখ
          আকাশে আতশবাজির শব্দ হচ্ছে তীব্রভাবে। চারপাশ চমকে চমকে উঠছে। এদিক-ওদিক গান বাজছে। কিছু কিছু গান জানান দিচ্ছে বসন্তের, কিছু কিছু প্রেমের। রাত শেষ হতে চলল, অথচ রাজধানী সজাগ ভীষণ। সজাগ পার্শ্ববর্তী শহরগুলোও। এমনই এক শহরের বড়ো রাস্তা দিয়ে প্রচণ্ড স্পিডে এগিয়ে যাচ্ছে কালো রঙের গাড়িটি। তার ড্রাইভিংয়ে বসে আছে আশফিক রহমান শ্রেয়ান। দেখতে অতিমাত্রিক সুদর্শন। বর্ণনায় এলে—সুঠাম শুভ্র দেহ, মাথা ভর্তি গোছানো চুল, চাপা দাড়ি, কালো চোখের মণি, সরু নাক, বাঁকানো অবিস্তীর্ণ ঠোঁট, সাইরেন আই'স আর গায়ে ওয়েল ফিটেড শার্ট! দারুণ গানের গলা তার। বয়স ত্রিশ পেরিয়েছে। অথচ এখনও যে-কোনো মেয়ের কাঙ্ক্ষিত পুরুষ হওয়ার উপরি গুণ তার মধ্যে ভরে ভরে রয়েছে। অবশ্য চেহারায় কিছুটা ভারিক্কি এসেছে, মুখে গাম্ভীর্য লেপটে থাকে সর্বদা।

অথচ এই মানব এককালে এমন ছিল না। যদি বছর দুটো আগেই ঘুরে আসি, তবে দেখতে পাব—এক অসম্ভব দুষ্ট, রসিক, বেপরোয়া, স্বার্থপর, জানোয়ার ছেলেকে। অথচ এখন সে এক দায়িত্ববান পুরুষ। এ যেন কোনো এক ঘুর্ণিঝড়ের আগমন মাত্র! আশফিক রহমান শ্রেয়ানকে সে ঘুর্ণিঝড় ১৮০° এঙ্গেলে পুরো উলটে-পালটে ছেড়েছে। সে ছেলে থেকে পুরুষ হয়ে উঠেছে। পার্থক্য একটি শব্দের হলেও প্রভাব বিস্তর।

গাড়িটি বাড়ির মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে চলে গেল। গ্যারাজে গাড়ি রেখে আর এক মিনিটও দেরি করল না সে। শক্ত পায়ে সরাসরি ভেতরে চলে গেল। বাড়ির সব লাইট অফ, বাইরের লাইট গ্লাস ভেদ করে ভেতরে এসে যা পড়ছে, তাতে কেবল অন্ধকারের গভীরতাটুকুই মাপা যাচ্ছে। সে আলোর সাহায্য নিয়ে এগিয়ে চলাটা বড়ো বোকামিঠাসা কাজ। শ্রেয়ান সে বোকামি করল না। সে মুখস্ত রাস্তা ধরে এগিয়ে গেল। সিঁড়ি ডিঙিয়ে এগোতে লাগল। তারপর রুমের সামনে পৌঁছাল। বড়ো একটা শ্বাস টেনে দরজার নব ঘোরাল।

রুমের লাইট জ্বালানো। রেড ফ্লাওয়ার্স দিয়ে কী সুন্দরভাবে ডেকোরেট করে রেখেছে। কিছু কিছু ক্যান্ডেল একদম শেষের দিকে এসে ঢিপঢিপ জ্বলছে, কিছু কিছু ক্যান্ডেল ফুরিয়ে নিভে গেছে। এত নান্দনিক সৌন্দর্য শ্রেয়ানের চোখে লাগছে না। তার চোখ গিয়ে আটকেছে বিছানায় তন্দ্রাঘোরে ডুবে থাকা মেয়েটির দিকে। তার পরনে লাল অর্গাঞ্জা শাড়ি, কালো ফুল স্লিভসের ব্লাউজ। শ্রেয়ান জুতো খুলে বিছানার একসাইডে উঠে বসল। শার্টের স্লিভসের বোতাম খুলে ফোল্ড করে নিল। তারপর তুশিকে ঠিকমতো গুছিয়ে শোয়াতে গেলে, তুশি বিরবির করে ওঠে। কথাগুলো বোঝার তাগিদে শ্রেয়ান কান নিচু করে তুশির মুখ বরাবর আনতেই, শুনতে পায়,

-“অনেক অনেক অ-নে-ক অপেক্ষা, তারপর ঘুম। অপেক্ষা সমান সমান ঘুম। অল্প অপেক্ষা সমান অল্প ঘুম, বেশি অপেক্ষা সমান একটু বেশি ঘুম, সারাজীবনের মতো অপেক্ষা সমান সারাজীবনের মতো ঘুম। আপনি আসবেন কবে?”

কিছুক্ষণ চুপ থাকে, তারপর আবারও গুঙিয়ে ওঠে,
-“উমম.. এসেছেন?”

শ্রেয়ান আনমনে বলে ফেলল,
-“এসেছি আমি।”

তুশি আওয়াজ পেয়েই ঠোঁট টিপে আস্তেধীরে তাকাল৷ ঘুমের রেশ ধরে চোখ খুলতেই চাইছে না। বড়ো কষ্ট করে তাকাল। শ্রেয়ানের উপস্থিতি তার নিকট ভ্রম বই কিছুই লাগছে না, তাই কোমল স্বরে শুধাল,
-“বিভ্রম?”

শ্রেয়ান মুখোমুখি হয়ে আছে তুশির, বেশ কাছে। তুশির দিকে গম্ভীরতর দৃষ্টি তার। বড়ো কঠিনভাবে বলল,
-“না।”

ভাবল তুশি কিঞ্চিৎ, 
-“তবে?”
-“ভাবো।”
-“বুঝতে পারছি না।”
-“কী বুঝতে পারছ না?”
-“এটা আপনি?”
-“না।”
-“তবে?”
-“তোমার স্বামী।”

আড়ষ্টতায় তুশি নড়েচড়ে উঠল। শ্রেয়ান দূরত্ব চুকিয়ে নিল মাঝের, তুশির আধখোলা ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো, স্বল্পক্ষণের ব্যবধানে সামান্য দূরত্ব আবারও তৈরি করল। তাকিয়ে রইল লাজুক চোখের দিকে। তুশি সে দৃষ্টিতে কেঁপে উঠল। একহাতে বিছানার চাদর খামচে ধরল, ঠোঁট দুটো একটা আরেকটার সাথে চেপে ধরল। শ্রেয়ান হেসে আরেকবার চুমু খেল ঠোঁটদ্বয়ের ভাঁজে। আরেকটা ছোট চুমু গলার মাঝে খেয়ে বুকে মুখ গুঁজে শুয়ে পড়ল। চোখ বন্ধ করে আদেশের সুরে বলল,
-“প্রচণ্ড হেডেক হচ্ছে। চুলগুলো টেনে দাও, তুশি।”

তুশির গায়ের কাঁপুনিটা শ্রেয়ানের ভারি পছন্দ হচ্ছে। কেমন যেন ঘুম ঘুম পাচ্ছে। এদিকে তুশির গায়ে বিন্দুমাত্র শক্তি নেই। হুট করে ঘুম ভাঙার পর থেকে এসব কী হচ্ছে, বুঝে উঠতে পারছে না। বুঝে ওঠার অবস্থাও নেই। তবুও সে হাত দুটো ওঠাল। একহাত শ্রেয়ানের পিঠে ও অন্য হাত শ্রেয়ানের চুলের ভাঁজে রেখে দিলো। ছোট ছোট হাতগুলোর বলহীন স্পর্শে শ্রেয়ানের ঘুম চোখে আশি শতাংশ নেমে এলো। ঘুমিয়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে তুশির উদ্দেশ্যে আবারও বলল,
-“সকালে ডেকো না, বহুদিন পর ঘুম পাচ্ছে।”

তুশি আস্তে-ধীরে স্বাভাবিক হতে লাগে আর তার ঠিক পরপর বাধভাঙ্গা খুশিতে অন্তরটা ভরে ওঠে। তার স্বামী এই প্রথম তার সান্নিধ্যে এসেছে, অথচ তার চোখে কামনা ছিল না, অগাধ মায়া আর অপরিমেয় ধরে রাখার ইচ্ছেশক্তি ছিল। তুশির আর কী চাই? আর কী চাই? কিচ্ছু না।

—————

-“আপডেট কী?”

আয়াতের প্রশ্নে প্রহর কপাল কুঁচকে ফেলল। আর অর্থ এ-ই—কীসের আপডেট! কথাটা বুঝে আয়াত বলল,
-“আঙ্কেল-আন্টিকে আমার ব্যাপারে বলবি কবে? এদিকে তো গ্যাঞ্জাম লেগে যাবে। জলদি জলদি কর সব।”

প্রহর আয়াতের দিকে তাকিয়ে বলল,
-“আম্মু-আব্বুকে বলেছে, আপু।”

আয়াত সামান্য কেঁপে উঠল, বড়ো উত্তেজনা নিয়ে শুধাল,
-“ওনারা কী বললেন? কোনো সমস্যা নেই তো? রাজি?”

প্রহর সামান্য হাসল,
-“প্রথমে কিছুটা ইতিউতি করছিল। এরপর যখন তোর নাম বললাম, তখন একবাক্যে রাজি।”

শব্দ করে আয়াত বলল,
-“আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ!”
-“আমার অনার্সটা হোক, আর মাস ৩ লাগবে। এ-কটাদিন সামলাতে পারবি না?”

আয়াত উৎফুল্ল হয়ে বলব,
-“কেন পারব না? অবশ্যই পারব। তোর জন্য আমি আমার পছন্দের আইস্ক্রিমকেও তালাক দিতে পারি, ব্যাটা! ক'জ আই লাভ ইউ।”

প্রহর মিহি হেসে আয়াতের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। আয়াত ঠোঁট কামড়ে হাসল। পরক্ষণেই স্বীয় সত্তায় আবির্ভাব ঘটিয়ে বলল,
-“মাম্মা, তুই জোস! এত জোস কেন তুই? হুয়াই ম্যান? একটা ব্যাটা মানুষ তুই, তুই কেন এত জোস হবি? অন্য জোস জোস মাইয়াদের পিছে ঘুরবি, মাইয়ারা কেন তোকে চোখ দিয়ে গিলে খাবে? চ্যাহ! প্রকৃতির নিয়ম উলটা-পালটা করে দিচ্ছিস। তোর তো এ জগতে থাকার অধিকারই নাই।”

প্রহর অনিমেষ তাকিয়ে রইল। আয়াত বলতেই লাগল,
-“শোন, প্রহর! তুই ব্যাটা এক পিস এই দুনিয়াতে, তা নিয়ে সন্দেহ নাই। আমিও একপিসই। আমার মতো ওহ সো সুইট মেয়ে তুই দুইটা খুঁজে পাবি? জীব্বনেও না। লিখে দিতে পারি—যদি আমার মতো দ্বিতীয়টা পাস, তবে এই মেহেরিন আয়াত সাওদাহ্ নিজের নাম চেঞ্জ করি চামচিকা রাখব।” 

ঠোঁট টিপে হাসল প্রহর,
-“তাই না?”
-“জী জী, অবশ্যই তাই।”

কিছুটা থেমে আবারও বলল,
-“শোন প্রহর, আমার বান্ধবী আছে না? তুশি? ও আর আমি আগে বহুত প্ল্যান করতাম লাইফ নিয়ে। এই হবে, সেই হবে। আমাদের প্ল্যান যেখানেই শুরু হতো না কেন, শেষ হতো গিয়ে এক বাড়িতে বিয়ে নিয়ে। কিন্তু তা তো না-ও হতে পারে এবং হলোও না। তাই আমরা আরেকটা প্ল্যান রেখেছিলাম। সেটা হচ্ছে ট্যুরের। প্রতিমাসে মাসে ট্যুর দেবো আমরা চারজন। মানে ও আর ওর জামাই, আমি আর আমার জামাই মানে তুই। জোস হবে না বল?”
-“হুঁ।”

-“এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? শোন, আজ একটা সিরিয়াস কথা বলি তোকে। এই যে তোর এই চুপচাপ থাকাটা! এটা আমার খুব ভালো লাগে। আমার মতো এক্সট্রোভার্টের জন্য ইউ আর দ্যা পার্ফেক্ট ওয়ান। ট্রাস্ট মি, ব্রো। তোর মতো আমাকে কেউ বুঝবে না, আমার খেয়াল রাখবে না। অ্যান্ড দ্যা মোস্ট ইম্পর্টেন্ট থিং, আমাকে তোর মতো কেউ ভালোবাসবে না। অন্যান্য মানুষের বয়ফ্রেন্ড করে কী জানিস? গার্লফ্রেন্ডের তৃষ্ণা পেয়েছে কি না জিজ্ঞেস করে, আর তুই সরাসরি পানির বোতল হাতে ধরিয়ে দিস। অন্যান্যরা জিজ্ঞেস করে, ‘তোমার অস্বস্তি হচ্ছে?’
তুই আমার স্বস্তির ব্যবস্থা করে বলিস, ‘এখন ভালো লাগবে।’
অন্যান্য মানুষের বয়ফ্রেন্ড বলে, ‘তোমার চেহারায় দুশ্চিন্তা, কী হয়েছে বলো?’
আমার তুই আমাকে কখনও জিজ্ঞেস করিসনি তা, বুঝে নিয়েছিস, দুশ্চিন্তা দূর করেছিস কিছু না করেই কীভাবে কীভাবে যেন। আফটার আব্বুজান, ইউ আর দ্যা ওনলি ওয়ান, হু মেকস মি মাচ স্পেশ্যাল। আমার পৃথিবীতে এতখানি স্পেশ্যাল আমি আর কাউকে দেখিনি, যতটা তুই আমাকে ফিল করিয়েছিস। বিনিময়ে আমি আমৃত্যু ভালোবেসে যাব তোকে। এখন বরঞ্চ প্রশ্ন জাগে। তুই আমার বয়ফ্রেন্ড, প্রহর? না তো। বয়ফ্রেন্ডরা এমন হয় না। তোকে আমি কোনো ক্যাটাগরিতেই ফেলতে পারিনি। বহু ভেবে উত্তর পেলাম, তোর সাথে আমার একটা অ-সম্পর্ক আছে। আমি শেষ অবধি এভাবেই থাকতে চাই। যদি অ-সম্পর্ক এত সুন্দর হয়, আমি এই সম্পর্কটার কোনো নাম দেবো না। কক্ষনও না। বিয়ের পরও এভাবেই থাকবে। কিচ্ছু পালটাতে দেবো না আমি।”

মলিন হয়ে উঠল প্রহরের ঠোঁটের হাসিটা। মাথা নাড়ল সে। নিজ দায়িত্বে প্রেয়সীর হাত ধরল, সে হাতের পিঠে একটা চুমু খেল। প্রহরের এহেন কাণ্ডে আয়াত থতমত খেয়ে ওঠে,
-“জিনে ভর করেছে নাকি, মাম্মা? চ্যাহ! এসব কী? তোকে ভালো ভাবছিলাম। আর তুই কি না? চ্যাহ! মামুউউউ, দাদুউউউ, নানুউউ!”

প্রহর কিছু বলল না। অনিমেষ দেখে গেল তার এই পুতুলটাকে। পলকটাও ফেলছে না ঠিকঠাক। যেই এই পলক ফেলার সময়টাও তার কাছে নেই। 

—————

প্রিয় অফিস থেকে ফেরার বহু পরে আজ শরৎ ফিরেছে। এসে থেকে কেমন ক্লান্ত। মাত্র ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে গেল। আজ আসার পর থেকে তেমন কিছু বলেনি প্রিয়কে। রোজ একটা ফুল নিয়ে আসে, রোজ জলদি আসে! অথচ আজ? 

ঘড়িতে বাজে রাত বারোটা প্রায়। এই অবধি শরৎ এত দেরিতে আসেনি তো। দেরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও কল/ম্যাসেজ করে দিয়েছে। প্রিয়র বুক কাঁপছে। কিছু হয়েছে কি? অবশ্যই হয়েছে। নতুবা অকস্মাৎ এই পরিবর্তনই বা কীসের? প্রিয় ভাবনায় পড়ে গিয়ে দেখল শরৎ বেশ কিছু কাপড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রেখেছে।

প্রিয় এগিয়ে এসে ফেলে রাখা কাপড়গুলো গোছাতে গোছাতেই ওপাশ থেকে শরতের ফোনের ম্যাসেজ টিউন বেজে উঠল। প্রিয় কখনও শরতের ফোন ধরে না, কেন যেন খুব নিম্নমানের কাজ লাগে এটা তার কাছে। তবুও আজ সে এই কাজটা করল। নোটিফিকেশনে ম্যাসেজের আইডিটার নাম সেভ করা ‘শর্মি’ দিয়ে। ম্যাসেজটাও পড়ল নোটিফিকেশন থেকে, ওখানে লেখা,
-“আজকের দিনটা ওয়ান অফ দ্যা মোস্ট স্পেশ্যাল ডে অভ মাই লাইফ। আ'ম থ্যাংকফুল টু ইউ শরৎ, ফর মেকিং মাই ডে। অ্যান্ড আই লাভ.. ”

এটুকুই শো হলো। আর এতেই প্রিয় আঁতকে উঠল। তার ফোনের লক প্রিয়র জানা নেই। কিংবা জানা থাকলেও এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।৷ ওদিকে শরতের দেরি হচ্ছে। প্রিয়র মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে অসংখ্য কথা। শ্রেয়ানের কাহিনিগুলো। সে-ও তো খেলেছিল প্রিয়কে নিয়ে। অথচ শুরুতে কী নিঁখুত অভিনয়! 

সেবার সামান্য ঘুমিয়ে গিয়েছিল সে, ওদিকে শ্রেয়ান সারারাত বাইরে মশার কামড় খেতে খেতে সরি বলছিল, অথচ এরপর মাসের পর মাসের প্রিয় হাসপাতালে গা পাতলেও সেখানে শ্রেয়ানের বিন্দু সমান গায়ে বাঁধেনি। পানশীতে এত এত মানুষের সামনে হাঁটু গেড়ে সেই প্রপোজালটা! জীবনের বাকি ৬৮টি বছরের দায়িত্ব নিতে বলে, ছ'বছরেই হারিয়ে যাওয়া! চাঁদের সাথে রোজ তুলনা করতে করতে চাঁদের মতো কলঙ্কিত করে ছেড়ে যাওয়া। এক নারীকে অপশনে ফেলে একাধিকের সাথে মন বিনিময়! এসবই তো সে পেয়েছে শ্রেয়ানের থেকে। তারপর সে শরৎকে বিশ্বাস করল।

খট করে ওয়াশরুমের দরজা খুলে ফেলল শরৎ। প্রিয়র হাতে তার ফোন এবং চেহারায় অস্বাভাবিকতা। মুখটা অসামান্য রক্তিম। ক্ষণে ক্ষণে ছোট্ট নাকটা ফুলে-ফেঁপে উঠছে। বুকভার হয়ে আসছে। রাগ আটকানোর অভিলাষে শান্ত থাকার প্রয়াসটায় বার বার সে ঠোঁট চেপে ধরছে, ডান গালের টোলটা দৃশ্যমান হচ্ছে। 

শরৎ এক কদম এগোতেই প্রিয় দুটো পা পিছিয়ে যায়। ভ্রুকুটি করে শরৎ শুধাল,
-“কিছু হয়েছে?”

প্রিয় তাকাল শরতের দিকে। বড়ো বড়ো চোখ দুটো দিয়ে যেন আগুন ঝরছে..
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp