শহরের বুকে অঝোর বর্ষার নৃত্য। ঢাকার কর্মব্যস্ত রাস্তায় মিথিদের শুটিংয়ের প্রস্ততি চলছে। ক্যামেরাম্যান তৈরি। একটা চেয়ারে বসে মনিটরের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে মিথি। তার মাথার উপর বিশাল একটা গার্ডেন আমব্রেলা ধরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছে মিথির এসিস্ট্যান্ট, হৃদয়। হৃদয় অল্প বয়স্ক, ছটফটে যুবক। বড় বড় চোখদুটোতে সর্বক্ষণ একটা কৌতুহলী আভা। দারুণ পরিশ্রমী হলেও সময়ে-অসময়ে গান গাওয়ার বাতিক আছে। সর্বক্ষণ সে চঞ্চল পাখির মতো উড়ে বেড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে ঠোঁটে বাজছে বাহারি গানের সুর। ক্যামেরা ম্যান এই মুহূর্তে বর্ষণমুখর পথের ভিডিয়ো গ্রহণ করছে। ভারী যানবাহনের চাকার তলায় পিষ্ট হচ্ছে স্নিগ্ধ বৃষ্টি ফোঁটারা। বাংলার মোহনিয়া বর্ষার চিত্রগ্রহণ করা হয়ে গেলে নেওয়া হবে প্রধান চরিত্রের শট। বর্ষণমুখর রাস্তায় এক গুচ্ছ কদম হাতে হাঁটতে দেখা যাবে একটি মেয়েকে। মেয়েটির চোখে-মুখে আশ্চর্য আনন্দের ছটা। বছরের তিনশো পঁয়ষট্টি দিন যে মেয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ গৃহিনীর রূপে সাজিয়ে রাখে নিজেকে সেই মেয়েটি আচমকা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে এই নব বর্ষার আহ্বানে। ফুটে উঠেছে নতুন এক সত্তা। এই নতুন সত্তার সঙ্গে পথে দেখা হয়ে যাবে তারই অফিস ফেরত স্বামীর। পারিবারিকভাবে বিয়ের পাঁচটি বছর যে স্ত্রীর সঙ্গে একই ছাদের নিচে একটা নির্জীব, গড়পড়তা জীবন কাটিয়ে আসছে। সেই স্ত্রীর নতুন রূপে, নতুন সাক্ষাতে সৃষ্টি হবে নতুন এক গল্পের। একটা গভীর প্রেমের আখ্যান। মৌনির গল্পটা চমৎকার। তার থেকেও চমৎকার তার পেছনের বার্তা। নিজেকে ভালোবাসলে, নিজেকে জানলে, নিজের মনকে পাখির মতো উড়তে দিলেই কেবল আমরা দেখতে পাব সত্যিকারের নিজেকে। আঁচলে ধরা পড়বে অপরিচিত সুখেরা। এখানে স্বামী চরিত্রটি প্রতীকী। স্বামী বলতে মৌনি বুঝিয়েছে, নিজের বাহ্যিক সত্তাকে৷ চমকপ্রদ ব্যাপার।
গল্পের প্রধান চরিত্র হিসেবে মিথি কাস্ট করেছে মোটামুটি স্বনামধন্য এক অভিনেত্রীকে। গোলগাল, স্নিগ্ধ তার মুখ। তারপরও অভিনেত্রীর শট নিতে গিয়ে অসন্তুষ্টিতে কপাল কুঁচকে আসছে তার। নায়িকার নীরব অনুভূতিগুলো তার মনঃ পূত হচ্ছে না। মনে হচ্ছে, এই মেয়েটির জায়গায় মৌনি হলে ভালো হতো। মৌনির মতো চমৎকারভাবে কেউ বৃষ্টিবিলাস করতে পারবে না। উদাস চোখে তাকালে তার মুখে আশ্চর্য এক বিষাদের ছায়া পড়ে। এই চরিত্রে সেই বিষাদটুকু দরকার। কিন্তু উপায় নেই। মৌনি ক্যামেরার সামনে আসতে রাজি হবে বলে মনে হয় না। মিথি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এতোক্ষণ দমবন্ধের মতো নীরব থাকলেও এবার গান গেয়ে উঠল হৃদয়। চিত্র নায়িকা রিদিমাকে অঝোর বর্ষায় উদাস হয়ে হাঁটতে দেখতে দেখতে সে গাইল লতা মঙ্গেশকরের গান,
‘ আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন
ঝরো ঝরো ঝরো ঝরো ঝরেছে
তোমাকে আমার মনে পড়েছে
তোমাকে আমার মনে পড়েছে।’
হৃদয়ের সুরে মিথির মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটছে। বারবার শ্রবণেন্দ্রিয় চলে যাচ্ছে গানের লাইনগুলোর দিকে। মিথি একবার মনিটর থেকে মুখ তুলে ধমক দিতে গিয়েও থমকাল। মনে হলো, গাক। এই সুন্দর শ্রাবণে কাউকে ধমক দেওয়াও বোধহয় পাপ। এই শ্রাবণ প্রিয়দের মনে করবার জন্যই। মিথির মতো কঠিন হৃদয়ের মেয়েটিরও এই বৃষ্টিভেজা দিনে কাজ থেকে মন ছুটে যাচ্ছে কোন এক অজানা সন্ধ্যায়। চোখের সামনে ভেসে উঠছে একটা বৃষ্টিভেজা স্নিগ্ধ মুখ। এই মুখ দেখেই জীবনে প্রথমবার হৃদয় হারিয়েছিল মিথি৷ সেই মুখের দিকে তাকিয়েই সে প্রথম বুঝেছিল নজরুলের সেই অমর কথা –
‘ তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে একদিন
সে জানে তোমারে ভোলা কি কঠিন!’
বৃষ্টির তালে তালে বাড়তে থাকে মিথির হৃদস্পন্দন। কাজে মন বসে না। উতলা মনে কেবল একটাই নাম ভেসে বেড়ায়, সাব্বির! সাব্বির! সাব্বির! নিজের প্রতি বিরক্ত হয় মিথি৷ প্রেম বুঝি এমনই বেহায়া? এতো আনকালচার! বেয়াদব! এতোবার দূরে ঠেলে দেয় সে। তারপরও তার মধ্যেই ডুবে যেতে চায় শরীর, মন। উফ!
মিথি বিরক্ত কণ্ঠে বলে,
‘ কাট!
আপু, গাড়িতে বসেন। দশ মিনিটের ব্রেক নিচ্ছি আমরা। হৃদয়? সবার জন্য চায়ের ব্যবস্থা করো তো।’
—————
টিং-টিং-টিং
শব্দটা অনবরত বাজছে। সাব্বিরের সামনে আড়াই-তিন বছরের একটি বাচ্চা বসে আছে। শ্যামলা চেহারার গোলগাল মুখ। তার হাতে একটা খেলনা। খেলনাটা নাড়ালেই এমন অদ্ভুত বাজনা বাজছে। সাব্বিরের এই বাজনা পছন্দ হচ্ছে না। কিন্তু কিছু করার নেই। তার পছন্দ না হলেও বাচ্চাটার বোধহয় খুবই পছন্দ হচ্ছে। তার চেম্বারে তার থেকেও বাচ্চাদের পছন্দ গুরুত্বপূর্ণ। সাব্বির হাত বাড়িয়ে বাচ্চার মায়ের বাড়িয়ে দেওয়া রিপোর্টগুলো নিলো। তার থেকে একটু দূরত্ব রেখে বসে আছে তার এসিস্ট্যান্ট, মীরা। মেয়েটা ইন্টার্ন করছে। সাব্বিরের একবার ইচ্ছে হলো, মীরাকে রিপোর্টগুলো দেখে প্রেসক্রাইব করে দিতে বলবে। পরমুহূর্তেই সিদ্ধান্ত বদলাল। গম্ভীরমুখে নিজেই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল রিপোর্ট। আজকে তার মনটা বিক্ষিপ্ত। থেকে থেকে আচমকা কেমন গুমোট হয়ে আসছে হৃদয়। সাব্বিরের জীবনে মন খারাপ বলে কোনো বস্তু ছিল না কখনও। জীবন থেকে কোনো চাওয়া-পাওয়া প্রত্যাশা ছিল না বলে মন কেমনের গল্পও তার কাছে ছিল অচেনা। জীবন যা দিচ্ছে, যতটুকু দিচ্ছে তাতেই কৃতজ্ঞ হয়ে উঠত হৃদয়। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। মিথি নামের এক যুবতী মনের অজান্তেই ঢুকে গিয়েছে তার জীবনে। হৃদয়ের মরচে পড়া আয়নাগুলো সরিয়ে ফেলে নতুন ঝকঝকে আয়নায় নিত্য নিজের মোহনিয়া রূপ দেখিয়ে চলেছে। সেই রূপের দিকে তাকালে সাব্বিরের অসহায় লাগে। সব কাজ ফেলে রেখে মুখ আঁধার করে বসে থাকতে ইচ্ছে করে৷ বুঝে, একটা নিজের মানুষ পাওয়ার তৃষ্ণার মতো প্রচন্ড তৃষ্ণা পৃথিবীতে বিরল। সাব্বির নীরবে রিপোর্ট ঘেঁটে মাথা তুলে তাকায়। গম্ভীর স্বরে শুধায়,
‘ আপনার পেশা কী?’
বাচ্চার মা হঠাৎ এই অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নে অবাক হয়ে তাকায়। বলে,
‘ জি, আমি একটা প্রাইভেট ব্যাংকে আছি।’
সাব্বির মাথা নাড়ে। শুধায়,
‘ আর আপনার হাজবেন্ড?’
‘ সে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করছে।’
‘ আপনারা তো দু'জনেই এডুকেটেড। তাহলে বাচ্চাকে এতোগুলো ডাক্তার, এতোসব পরীক্ষা নীরিক্ষা করানোর আগে একটা চাইল্ড স্পেশালিষ্ট দেখানোর কথা মনে পড়ল না কেন? বাচ্চা আর প্রাপ্ত বয়স্ক তো এক নয়। আপনারা কী মনে করে তাকে এতোদিন ধরে নরমাল ডাক্তার দেখিয়ে এলেন? সেই সঙ্গে এতোগুলো পরীক্ষা করিয়েছেন। এটা ওর শরীরের জন্য কতটা ঠিক; ওর শরীর এই ধাক্কা নিতে পারবে কি-না, সেটা একবার চিন্তা করবেন না?’
ভদ্রমহিলা কোনো উত্তর দিতে পারলেন না। সাব্বির এবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
‘ বারবার এই হার্ড টেস্টগুলো করিয়ে আপনারা না জেনেই ওর অবস্থার আরও অবনতি করে ফেলেছেন। যে টেস্টগুলো আগের ডাক্তার সাজেস্ট করেছে এগুলো একটাও ওর বয়সের সঙ্গে প্রিফারেবল না। টেস্টের সময় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। শী কুড হ্যাভ লস্ট হার লাইফ।’
ভদ্রমহিলার মুখটা মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সাব্বির বুঝতে পারল, প্রথমবার মা হওয়ায় অকূল পাথারে পড়েছেন তিনি। বাচ্চা সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা নেই। ভদ্রমহিলার বয়সও অল্প। মিথির সমবয়সী হবে হয়তো। অথবা তার থেকেও ছোট। সাব্বিরের হঠাৎ করেই মনে হয়, তাদের সন্তান হলে মিথি কেমন মা হবে? পরমুহূর্তেই ভয়ংকর চমকে যায়। কী সব চিন্তা করছে সে! কতটা পাগল হয়ে গিয়েছে তার মস্তিষ্ক! হে বিধাতা, তাকে সুবুদ্ধি দাও। তার এই ভর্ৎসনায় এতোদিন সুপ্ত থাক হৃদয় বিক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তীব্র রোষ নিয়ে বলে,
‘ নিজেকে এতোটা অযোগ্য কেন ভাবছ তুমি? তুমিও তো একটা মানুষ। তুমি জানো না কবিরা কী বলে? সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। তুমি পূর্ণাঙ্গ মানব সন্তান হয়েও স্বপ্ন দেখার অধিকার কেন থাকবে না তোমার?’
‘ সন্তান!’
আশ্চর্য এক ঘৃণায় মন ভার হয়ে আসে সাব্বিরের। তিক্ত কণ্ঠে বলে,
‘ না! আমার কোনো সন্তান এই পৃথিবীতে আসতে পারে না। কক্ষনও না। আমার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর মাটি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এই পাপ। আমি তার কোনো চিহ্ন থেকে যেতে দিব না। এ হয় না। অসম্ভব!’
সুপ্ত হৃদয় মরিয়া হয়ে উঠে। যুক্তি দেবার চেষ্টা করে,
‘ কেন তুমি কেবল তোমার পাপের কথাটাই ভাবছ। মিথির কথা ভাবো। এই আশ্চর্য পবিত্র মেয়েটির অংশও তো থাকবে তার মধ্যে! তার সংস্পর্শে যদি কিছুটা মলিন হয় এই অপবিত্রতা?’
সাব্বিরের বুকের ভেতরে আবারও ডেকে উঠে গাঢ় আষাঢ়িয়া গর্জন। নিজের এই সত্য আর মিথি দুটো পাশাপাশি বসলেই বুকের ভেতর তীব্র চাপ অনুভব করে সাব্বির। মৃত্যু যন্ত্রণার মতো এক তীক্ষ্ণ যন্ত্রণা ছুটে আসে কোনো এক অচেনা গহ্বর থেকে। সাব্বির অসহায় কণ্ঠে বলে,
‘ মিথি এতো পবিত্র বলেই তো আরও বেশি ব্যথা আমার। ওকে কলুষিত করার মতো দুঃসাহস আমার নেই। তা আমার নিজেরই সহ্য হবে না। ও যদি একটু…’
বাকপ্রাপ্ত হৃদয় হাসে। কৌতুকী কণ্ঠে বলে,
‘ একটু কী? একটু কলঙ্কিত হলে পারতে বলছ? সত্যি করে বলো তো, কোনো বারবনিতাকেও কী ঘনিষ্ঠভাবে কাছে টানতে পারবে তুমি? ওদের কলঙ্ক তো কিছু কম নেই।’
সাব্বির দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলে,
‘ সত্যিই পারব না। তুমি তো জানো, এই পৃথিবীর কোনো নারীই আমার পাপের থেকে অপবিত্র না।’
‘ তারপরও, একটা চেষ্টা করে দেখো। মিথিকে বলো।’
‘ কী বলব?’
‘ তোমার সকল অপারগতার কারণ।’
সাব্বির গম্ভীর হয়ে থাকে। সুপ্ত হৃদয় অস্থির হয়ে বলে,
‘ মেয়েটা তোমাকে ভালোবাসে।’
সাব্বিরের হৃদয় ভেঙে আসে। বিড়বিড় করে বলে,
‘ সো ডু আই।’
বাচ্চাটাকে দেখা শেষ করার পর চেয়ারে গা এলিয়ে দেয় সাব্বির। দীর্ঘ একটা শ্বাস ফেলে মীরাকে বলে,
‘ এখন আর পেশেন্ট দেখব না। তুমি লাঞ্চটা শেষ করে আসতে পারো মীরা৷’
মীরা তৎক্ষণাৎ সম্মতি দিয়ে বলে,
‘ ওকে স্যার।’
‘ যাওয়ার আগে কাইন্ডলি জানালাটা একটু খোলে দিয়ে যাবে মীরা?’
মীরা ঘাড় নাড়ে। বেরিয়ে যাওয়ার আগে জানালাটা খোলে দিতেই অঝোর ধারার সঙ্গে মিশে থাকা এক পশলা ঠান্ডা হাওয়া এসে ছুঁয়ে দেয় সাব্বিরের ক্লান্ত শরীর। সাব্বির সেই রূপবতী বর্ষার দিকে তাকিয়ে থেকে কেমন আনমনা হয়ে বলে,
‘ মহিনকে এক কাপ চা দিতে বলতে পারবে মীরা?’
মীরা মাথা নেড়ে নীরবে বেরিয়ে যায়৷ কী আশ্চর্য এই মানবজাতি! তার থেকেও আশ্চর্য এই পৃথিবী। এই আশ্চর্য বসুন্ধরায় কত ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে রোজ। এই বর্ষা শীতল ক্ষণে তেমনই এক আশ্চর্য ঘটল যেন৷ স্বয়ং প্রকৃতিও চমৎকৃত হয়ে দেখল, সমস্ত কাজে ইস্তেফা দিয়ে দুটো তৃষ্ণার্ত হৃদয় একই রকম উতলা হয়ে ভিন্ন দুটো জায়গায় বসে একই সঙ্গে চুমুক দিচ্ছে চায়ের কাপে। চোখে তাদের একই রকম বিষাদ মুখানো মুগ্ধতা। মনে তাদের একই রকম ধ্বনি। একই নাম। অনুভূতিতে একই রকম নৃত্য। যাকে আমরা বলি, ভালোবাসা।
—————
রেস্তোরাঁয় অলস বসে ধোঁয়া উঠা কফি কাপে চুমুক বসাচ্ছে মৌনি। বিরক্ত চোখ জোড়া স্থির হয়ে আছে কাচের দেওয়াল বেয়ে নেমে চলা বৃষ্টি প্রবাহের দিকে। এতোদিন বৃষ্টিকে বড়ো আদর করতো মৌনি। মনে হতো, অতি অবশ্যই বৃষ্টি শব্দের আভিধানিক অর্থ দেওয়া উচিত মন ভালো, মন ভালো। আজ অবশ্য তেমন কিছু মনে হচ্ছে না। বরং উল্টো ধারায় বইছে অনুভূতির চোরাবালি। উপলব্ধি হচ্ছে, বৃষ্টি এমনও কোনো রসগোল্লা না৷ মৌনি চোখ ফিরিয়ে বিরক্ত হয়ে বলে,
‘ বা*লের রেস্তোরাঁ এগুলো। চা পাওয়া যায় না। এই ফাউল কফি খাওয়ার জন্য রেস্টুরেন্টে আসার কী দরকার আমি বুঝি না! চাকে যে এরা খুব সূক্ষ্মভাবে অপমান করছে বুঝতে পারছিস? চা একটা মানুষ হলে, আমি তার পক্ষ হয়ে এই রেস্টুরেন্টের মালিকের নামে মানহানির মামলা করতাম। চাকে অপমান! এতোবড় স্পর্ধা!’
মিষ্টি কফির কাপে চুমুক দিয়ে আড়চোখে মৌনির দিকে তাকায়। ঠোঁট উল্টে বলে,
‘ করাই উচিত। তোর পরিচিত কোনো লয়্যার আছে?’
মৌনি হাসে। চোখ টিপে বলে,
‘ আমাদের দাদাজান হলেন জাতে মাতাল তালে ঠিক। এতো প্রডাকশন তো আর এমনি এমনি ঘটান নাই৷ এহেন প্রজাতি নাই যা তার নাতি-নাতনী, ছেলে-পুলের মধ্যে নেই। যেকোনো পেশার মানুষ আমাদের পরিবারে উপস্থিত। বাহিরে তাকানোর প্রয়োজন নেই। আমার বড় চাচারই পাঁচ ছেলে। তার মধ্যে একজন ব্যারেস্টার, একজন পুলিশ অফিসার, একজন ব্যাংকার, একজন ডাক্তার, সবার ছোটজন ক্যাডেট কলেজে পড়ছে। ব্রাইট স্টুডেন্ট। ভবিষ্যতে মেজর টেজর হয়ে যেতে পারে। এভাবে ক্রমান্বয়ে চলছে। শুধু আমি আর মিথি আপাই একা৷ এছাড়া সবারই ঘরভর্তি প্রডাকশন। বুঝতেই পারছিস অবস্থা?’
বলে নিজেই হেসে ফেলে মৌনি। মিষ্টি হেসে বলে,
‘ তোর দাদাজানকে আমার জোস লাগে। বুদ্ধিমান ভদ্রলোক। এখন তাঁর উচিত তোদের পরিবারে একটা নায়ক উৎপাদন করা যায় কি-না সেদিকে মনোযোগী হওয়া। সব আছে, মিডিয়া পাড়ার কেউ না থাকলে হয়?’
‘ নেই কে বলল! আমাদের মিথি আপা তো নাট্যপরিচালক। সে চাইলে নায়িকাও হতে পারে। শী ইজ ড্যাম বিউটিফুল। কিন্তু সবসময় মুখটা বিরক্ত করে রাখে। আমি কোনো একদিন তাকে আমার থেকে একটু হাসি উপহার দিবো। শী নিডস্ ইট। আর নায়ক! সোহান ভাই যদিও মডেল। কিন্তু আমাদের ভাইদের মধ্যে সবথেকে সুদর্শন হলো ইশতিয়াক ভাই। শান্ত, সুন্দর, চমৎকার হাইট। তবে নায়ক হিসেবে বেশি মানাবে নাহিদকে। যদি ও এইদিকে ক্যারিয়ার করে আই এ্যাম শিওর, ওকে কেউ বিট করতে পারবে না৷ দীব্যর নিজের একটা ব্র্যান্ড আছে। হি ইজ আ গুড সিংগার।’
মিষ্টি সম্মতি দিয়ে বলে,
‘ হ্যাঁ, এটা ঠিক। নাহিদকে নায়ক হিসেবে দারুণ মানাবে। ওর মধ্যে অন্যরকম একটা চার্ম আছে। ওর এটিটিউটের সঙ্গেও যায়৷ তবে আমার ওকে খুব কনফিউজিং লাগে। দেখতে রাফ এন্ড টাফ। কিন্তু ওর বিহেভ এতো সফট! আমাদের সম্পর্ক চলাকালীন আমি ওকে কখনওই রাগ করতে দেখিনি। ও কখনও আমার সঙ্গে উঁচু গলায় কথা বলেনি। সিচুয়েশন যেমনই হোক। সে সবসময়ই শান্ত। সদা হাসিমুখ। আমার মাঝে মাঝে মনে হতো ওর কী রাগ নাই?’
মৌনি হাসে। চোখে-মুখে দুষ্টুমি ফুটিয়ে বলে,
‘ ও তোমাকে আদর করতে চাইত বেইব। মিষ্টিকে মিষ্টি খাওয়ানো যায়, তার সঙ্গে রাগ করা যায় না — এই আমার লক্ষ্মী ভ্রাতার বিশ্বাস। কিন্তু তুই আদর না খেয়ে খেতে গেলি এক ম্যানহলকে। আর যাই বলিস, বয়ফ্রেন্ডের দিক থেকে তোর টোটাল লস প্রজেক্ট।’
মৌনির কণ্ঠের হতাশায় হাসে মিষ্টি। হাসি হাসিমুখে বলে,
‘ আসলেই। আমিও মাঝে মাঝে ভাবি আমার চয়েজের কোনো অবস্থা নাই। আমার বাবা সুন্দরের পূজারি। ঈশানকে দেখেই রিজেক্ট না করে দেয় এই ভয়ে আছি। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই। প্রেম একটা আশ্চর্য জিনিস বুঝলি? যাকে ভালো লাগে তার সব ভালো-খারাপ সবকিছু ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। আমি জানি, ঈশান রেড ফ্ল্যাগের কাণ্ডারী। কিন্তু তারপরও ওকে আমি ভালোবাসি। আমি নিজেকে আটকে রাখতে পারি না। কী করব বল?’
মৌনি উত্তর দেয় না। হঠাৎ করেই ভাবুক হয়ে যায় মন। চোখের পর্দায় ভেসে উঠে শাওনের মুখ। ওই মুগ্ধ চোখজোড়া আজও মনে পড়ে মৌনির। ওই দৃষ্টিকে অবিশ্বাস করতে পারে না। কারো পক্ষে এতে নিঁখুত অভিনয় করাও সম্ভব? মৌনি জানে, শাওনের ওই দৃষ্টি সত্য। তাহলে মিথ্যাটা কী? একসঙ্গে দুটো কী সত্য হতে পারে? সে ভাবুক কণ্ঠে বলে,
‘ আমার কেন যেন মনে হয়, শাওন তার গার্লফ্রেন্ডের ব্যাপারটা মিথ্যা বলছে। হুদাই একটা ভাব নেওয়ার চেষ্টা করছে।’
মৌনি হঠাৎ প্রসঙ্গ বদলানোই মৌনির দিকে তাকায় মিষ্টি। ঠোঁট টিপে একটু ভেবে বলে,
‘ হতে পারে। আমার কাছেও একটু অদ্ভুত লেগেছে। আমার সঙ্গেও ওর এতোদিন কথা হয়েছে। কখনও ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি। এটাও সম্ভব? আবার থাকতেও পারে। ছেলেরা এইসব লুকোচুরিতে সিদ্ধহস্ত। ওরা সিরিয়াস রিলেশনশিপগুলো লুকিয়ে রেখে যত্রতত্র ফ্লার্ট করে বেড়ায়। তারপর হুট করে প্রেমিকাকে বিয়ে করে ফেলে। হয়ত, শাওনেরও তেমন প্ল্যান ছিল।’
মৌনি ব্যথিত চোখে তাকাল। প্রিয় বন্ধু শাওনকে তার ওই ধরনের ছেলে ভাবতে ভালো লাগছে না। বন্ধুর পক্ষ নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু, কী বলবে সে? শাওন যে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে ঘন কুয়াশার আড়ালে! তারপরও মৌনি অবিশ্বাস নিয়ে বলে,
‘ একটু দুষ্টুমি, ফাজলামো করে ঠিক আছে। কিন্তু শাওন ওই ধরনের ছেলে না। হলেও, ও এটলিস্ট আমাকে বলতো। আমার বিশ্বাস হয় না। দেখিস, লাস্ট মোমেন্টে ঠিক পাল্টি মেরে বলবে, ওটা প্রাঙ্ক ছিল মন।’
মিষ্টি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
‘ হতেও পারে!’
কিন্তু হয় না। মৌনিকে হতাশ করে দিয়ে মৌনির হোয়াটসঅ্যাপে টুংটাং ধ্বনি তুলে এসে উপস্থিত হয়, কিছু জোড়া ছবি। শাওন পাঠিয়েছে। নিচে ছোট্ট টেক্সট – এটা সৌমি। নির্দয়ের মতো প্রায় বিশটা ছবি পাঠিয়েছে শাওন। বেশ ঘনিষ্ঠ ছবি। মৌনি অনুভূতিশূন্য চোখে একবার করে চোখ বুলিয়ে যায় ছবিগুলোর ওপর। একটা ছবিতে এসে খেয়াল করে তাকায় মেয়েটির দিকে। শাওনের বাহু আঁকড়ে সবুজ ঘাসের উপর পাশাপাশি বসে আছে দু'জন। মেয়েটি হাস্যোজ্জ্বল চোখে তাকিয়ে আছে ক্যামেরার দিকে। টকটকে ফরসা গায়ের রঙ। ভালো স্বাস্থ্যের চমৎকার রূপবতী। শাওনের সঙ্গে মানিয়েছেও দারুণ। মৌনি আবেগশূন্য হয়ে উত্তর পাঠায়,
‘ সৌমি ভীষণ সুন্দর। মা-শা-আল্লাহ৷ তোমাদের দু’জনকে পাশাপাশি খুব সুন্দর মানিয়েছে। কনগ্রাচুলেশনস্। এই মিষ্টি পুতুলটিকে আমার ভালোবাসা দিও।’
তারপর মোবাইলের স্ক্রিনটা মিষ্টির দিকে ঘুরিয়ে মিষ্টিকে দেখিয়ে বলে,
‘ সৌমি। শাওনের গার্লফ্রেন্ড। সুন্দর না?’
মিষ্টি এক নজর তাকিয়ে দেখে বলে,
‘ দেখেছি।’
মৌনি অবাক হয়ে শুধায়,
‘ কখন?’
‘ কাল রাতে। শাওন পাঠিয়েছিল।’
বাহ, চমৎকার! এই পর্যায়ে হেসে ফেলে মৌনি। নিজের অবস্থানটা ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে সে। শাওন তাকে এই এক সপ্তাহেই চিনিয়ে দিয়েছে জীবনের অনেকগুলো গুপ্ত গহ্বর। তার মধ্যে সবথেকে নিষ্ঠুর সত্য হলো, শাওন তার কেউ ছিল না। কেউ না।
—————
অনেকক্ষন হলো বৃষ্টি থেমেছে। ছাদের পাঁচিলে নাচছে গোধূলির কনে দেখা আলো।
দুটো কাক অলস বসে আছে বৈদ্যুতিক তারে। ঝিম ধরে বসে দেখছে ব্যস্ত শহর। থেকে থেকে কর্কশ কণ্ঠে ডেকে সচকিত করে তুলছে চারপাশ। নাহিদ তার ঘরে বসে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল জানালার বাইরে। কর্কশ কাকও ভঙ্গ করতে পারছে না তার এই নীরব ধ্যান৷ টেবিলের উপর ছড়িয়ে আছে কিছু কাগজ। কোলের উপর ল্যাপটপ।
‘ কী রে? কোথায় হারিয়ে গেছিস ভাই?’
নাহিদ ঘাড় ফিরিয়ে তাকায়। সৌধ তখন দাঁড়িয়ে আছে ড্রেসিং টেবিলের সামনে। তার কাজকর্ম দেখে মনে হচ্ছে নাহিদের পারফিউমের বোতলটা খালি করাই তার জীবনের একমাত্র অভিলাষ। নাহিদ সেদিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলে,
‘ তোর আব্বার টাকায় কিনছি তো! রাখ ব্যাডা। গোসল করবি পারফিউম দিয়া?’
সৌধ পারফিউমের বোতলটা নামিয়ে রেখে নির্মল হাসল। সেদিন মিটিং হওয়ার পর ঠিক দুইদিন বাদেই চুক্তিপত্র তৈরি করে পাঠিয়ে দিয়েছেন আদিব হোসেন। নাহিদ মনোযোগ দিয়ে খুঁটিনাটি পড়ে সিগনেচার করেই ডুবে গিয়েছে পরিকল্পনা তৈরির কাজে। দিনরাত বই, জার্নাল ঘাটাঘাটি থেকে শুরু করে নিজের আইডিয়া আপডেট করে সেটাকে আরও তীক্ষ্ণ, আরও ফলপ্রসূ একটা ফরম্যাটে আনার প্রয়াসে লেগে আছে দিন-রাত চব্বিশ ঘন্টা। তার মাঝে আবার ইউনিভার্সিটির কোর্সগুলোর খবরাখবরও নিয়ে ফেলেছে। ব্যাকলগের সাবজেক্টের তালিকাটা নোট করে ঝুলিয়ে দিয়েছে চোখের সামনে। সৌধকে বসিয়ে দিয়েছে দু'জনের সব এসাইনমেন্ট শেষ করার কাজে। নাহিদ যে প্রয়োজনে দারুণ পরিশ্রম করতে পারে এই তথ্য সৌধর জানা। তারপরও এই নাহিদ, এই দৃঢ় প্রত্যয়ী নাহিদকে কেমন অচেনা লাগে সৌধর। সৌধ দীর্ঘশ্বাস গোপন করে বলল,
‘ এক সপ্তাহ ধরে এই বাল ছাল এসাইনমেন্ট করতেছি৷ আর ভাল্লাগতাছে না। চল বাইরে দিয়ে একটু চক্কর দিয়ে আসি।’
নাহিদ প্রতিবাদ করল না৷ ঠোঁট উল্টে ল্যাপটপের শ্যাটার বন্ধ করে উঠে দাঁড়াল। গায়ের শার্ট পরিবর্তন করতে করতে ব্যক্তিত্বও যেন বদলে গেল তার। টেবিলের উপর থেকে বাইকের চাবি নিয়ে বলল,
‘ চল ঢাকার বাইরে থেকে ঘুরে আসি৷ ঢাকার বাইরে কোন জানি একটা নতুন রেস্টুরেন্টের কথা শুনলাম সেদিন? চল, সেখানে গিয়ে চা খেয়ে আসি।’
সৌধ অবাক হয়ে বলল,
‘ সত্যি যাবি?’
নাহিদ দ্বিগুণ অবাক হয়ে বলল,
‘ যাব না কেন? আজ সারারাত বাইরে ঘুরব৷ রেস্টুরেন্ট থেকে ফিরে ক্লাবে যাব।’
সৌধ নাহিদের সঙ্গে বেরুতে বেরুতে বলল,
‘ আজ রাতে বার্সেলোনার খেলা আছে।’
খেলা নিয়ে আলাপ করতে করতেই সৌধ খেয়াল করল, এ আবারও সেই আগের ছটফটে, দুষ্ট নাহিদ। অথচ কিছুক্ষণ আগেও একেবারে ভিন্ন এক মানুষ ছিল সে। সৌধ মনে মনে বিস্মিত হয়। বহুদিন পর আবারও বাইকের গতি উঠিয়ে মেঘের মতো শহরের বাইরে ছুটে চলে দুই বন্ধু। সেই আগের উদ্বেগহীন বয়ে চলা। হঠাৎ সৌধ রাস্তার দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠে বলে,
‘ এই দ্যাখ! দ্যাখ! মৌনি।’
নাহিদ হ্যালমেটের ভেতর থেকে এক নজর তাকায়। তারপর চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বাইকের গতি বাড়িয়ে হারিয়ে যায় তাদের দৃষ্টির বাইরে। সৌধ আফসোসের স্বরে বলে,
‘ মৌনি কিন্তু তোর ওই এক্স মিষ্টির সঙ্গে ছিল, খেয়াল করেছিস? তোকে এভাবে ছেড়ে দিল অথচ তার সঙ্গে কেমন হে হে করে হাসছে তোর বোন।’
নাহিদ অবাক হয়ে বলে,
‘ মিষ্টি আমার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙেছে। মৌনির সঙ্গে তো ভাঙেনি। আমার সম্পর্ক ভেঙেছে বলে মৌনির হাসি বন্ধ হয়ে যাবে কেন! ওরা ভালো বন্ধু। বন্ধুত্ব সব কিছুর ঊর্ধ্বে ।’
নাহিদের কথাটা পছন্দ হলো না সৌধর। যথোপযুক্ত যুক্তি দিয়ে বলল,
‘ আচ্ছা! ধর মিষ্টির জায়গায় আমি, তোর জায়গায় মৌনি। আমি যদি মৌনির সঙ্গে এমন করতাম, তুই আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতি?’
হেসে ফেলে নাহিদ,
‘ কী আজব! তুই মৌনির সঙ্গে কী করেছিস না করেছিস তাতে আমাদের সম্পর্ক ভাঙবে কেন? তবে ওর জায়গায় রিফা হলে আমি তোকে খুন করে ফেলতাম। ঠিক তেমনই আমার জায়গায় মৌনির নিজের ভাই হলে হয়ত ওর প্রতিক্রিয়া আরেকটু অন্যরকম হতো। আমি মৌনির ভাই নই। কাজিন আর নিজের ভাইয়ে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।’
সৌধ কিছুক্ষণ নীরব থেকে ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা করল। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মৃদু মাথা নাড়িয়ে
বলল,
‘ তবে তোর এই বোনের ভাব মারাত্মক। এতো অহংকারী! যেন আকাশের চাঁদ। ছুঁলেই ফুসকা পড়বে হাতে।’
নাহিদ বাইকের গতি আরও বাড়িয়ে দিল এবার। হাইওয়ের উপর মেঘের মতো উড়তে উড়তে বাতাসের শনশন শব্দের সঙ্গে মিশিয়ে সে জবাব দেয়,
‘ তুই ছুঁবি কেন ওকে?’
·
·
·
চলবে……………………………………………………