আজ ওদের মন ভালো নেই - পর্ব ৪৭ - নৌশিন আহমেদ রোদেলা - ধারাবাহিক গল্প

          সকালের ঝুরিঝুরি রোদ এসে পড়ছে খোলা জানালার কাচে। একটা চঞ্চল চড়ুই জানালার গ্রিলে বসে খুব আগ্রহ নিয়ে মিথির কার্যকলাপ দেখছে। মিথি কোলের উপর ল্যাপটপ নিয়ে অন্যমনস্ক চোখে তাকিয়ে আছে জানালার বাইরে। আজ তার নিরবিচ্ছিন্ন অবসর। শুটিং শিডিউল নেই। অফিসে যাওয়ার তাড়াও নেই। একটানা কাজ করবার পর সম্ভবত একটু বিশ্রাম চাইছে শরীর। 

‘ আপা, দুপুরের জন্য কী রান্ধুম?’ 

দরজায় খুঁট করে শব্দ হওয়ায় অন্যমনস্কতার শেকল ভেঙে ফিরে তাকাল মিথি। দরজার কাছে বুয়াকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অন্যমনস্ক কণ্ঠে বলল,

‘ আপনার যা ইচ্ছে।’ 

পরমুহূর্তেই একটু ভেবে শুধাল,

‘ আপনার স্যার বেরিয়ে গিয়েছেন?’

‘ জ্বী না। স্যার তো বাসাতেই। একটু আগে চা চাইলো আমার কাছে।’ 

মিথি মাথা নাড়ল। সাব্বির আজ বাড়িতে! সেইদিন সেই রাতের কথোপকথনের পর থেকে মিথিকে একরকম এড়িয়েই চলছে সাব্বির। প্রথম কিছুদিন দরজায় দোর দিয়ে বসে থাকতো। তারপর একদিন হুট করে আবিষ্কার করলো, সাব্বির বাড়ি থাকছে না। প্রায় পনেরো দিনের মতো সে নিরুদ্দেশ। কোথাও তার খোঁজ-খবর নেই। তাকে কোথায় খোঁজ করা যায় সে সম্পর্কে অবশ্য তেমন কোনো ধারণা ছিলো না মিথির। তারওপর তার টাইট শিডিউল। দম ফেলবার ফুরসত নেই। সেখানে সাব্বিরকে কোথায় খুঁজে বেড়াবে সে? কেউ যদি নিজ ইচ্ছায় হারাতে চায়, তাকে কী খুঁজে পাওয়া সম্ভব? কিন্তু যদি আত্মহত্যা করে বসে? এই ভয়টা একবার হয়েছিল মিথির। সেই ভয় থেকেই যখন অস্থির হয়ে উঠল তখনই নিজের শোবার ঘরের টেবিলের উপর পেলো পুরোনো এক চিরকুট, 

‘ মিথি, একটা আউটরিচ প্রোগ্রামে যাচ্ছি। আত্মহত্যা করব না, ভয় নেই।’ 

মিথি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ল্যাপটপটা সরিয়ে রেখে বেরিয়ে গেলো রান্নাঘরের দিকে। চুলগুলো চুড়ো খোঁপা করে চুলোয় চায়ের জল বসাতে বসাতে বলল,

‘ চা'টা আমি বানিয়ে নিচ্ছি বুয়া। আপনি অন্য কাজগুলো সেরে ফেলুন।’ 

বুয়া মাথা নাড়ে। মোজাইক করা মেঝেতে সবজির ঝুড়ি নিয়ে বসে কৌতূহলী কণ্ঠে শুধায়,

‘ স্যারের লগে কী আপনের কাইজ্জা লাগছেনি আপা? দুইজন দুই ঘরে থাকেন যে হের লাইগা বলি৷ মনে কিছু নিয়েন না আপা, আপনেরে আপন ভাবি বইলা বলি..’ 

পরবর্তী কথাটুকু গলার স্বর নিচু করে প্রায় ফিসফিস করে বলে বুয়া,

‘ সোয়ামীর সঙ্গে হাজার কাইজ্জা হইলেও বিছনা আলাদা করুন ঠিক না। দিন-দুনিয়া তো ভালা না। পুরুষ মানুষের নজর ঘরের বাইরে যাইতে কয়দিন?’ 

 বুয়া শ্রেণির এই ধরনের আলাপে মিথির তীব্র অরুচি থাকলেও কমলার মায়ের দিকে তাকিয়ে হাসল সে। শুধাল,

‘ আপনার স্যার, ঘরের বাইরে নজর দেওয়ার মতো মানুষ?’ 

বুয়া জিভ কেটে বলে,

‘ আস্তাগফিরুল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! খোদার কসম আপা! আল্লার কিরা কাইট্টা বলতেছি, স্যারের নাহাল পুরুষ মানুষ খুব কম আছে এই দুনিয়ায়। একেবারে মাটির মানুষ। কিন্তু তারপরও পুরুষ মানুষ বইলা কথা? শয়তানে কখন কী মতলবে কুটকুটায় কওন যায়? তারওপর মাথার উপর বসায় রাখছেন আরেক ডাইনি। প্রতিদিন কত রঙঢঙ করে কলেজ যায়, মাগো মা!’ 

বৃষ্টির প্রসঙ্গে আজ আর রাগ করলো না মিথি। বর্ষার মিঠে মিঠে সকালটা বড় ভালো লাগছে তার। কৃত্রিম আতঙ্ক নিয়ে বলল,

‘ আমি তো ভেবেছিলাম, পনেরো দিন বাড়ি না থাকার অপরাধে আপনার স্যারকে পনেরো দিন শাস্তি দেওয়া হবে। আপনি দেখছি চিন্তায় ফেলে দিলেন!’ 

বুয়া মিথির ঠাট্টা বুঝতে পেরে হাসল। আধকাটা সবজি হাতে মুগ্ধ কণ্ঠে বলল,

‘ স্যারের সঙ্গে আপনারে যে কী মানাইছে আপা! যতবার দেখি ততবার চোখে পানি আইসা যায়। ওমন মাটির মানুষের তো আপনার মতোন বউই দরকার। আল্লাহ কী আর কম বুঝে ওমন জুটি বানাইছে?’ 

বলতে বলতে মলিন আঁচলে চোখ মুছে বুয়া। মিথি রান্নাঘরের কেবিনেটে ঠেস দিয়ে মুগ্ধ-আশ্চর্য হয়ে দেখে বুয়ার অশ্রু ভেজা চোখ। অন্যের সুখ দুঃখে এতো সহজে চোখে জল আসা মানুষগুলোর জীবন কত সহজ, সুন্দর ভেবে ভাবুক হয়ে আসে মন। অন্যদিকে মিথি? হৃদয়ের জায়গায় যেন পাথর এঁটে হেঁটে বেড়াচ্ছে শতসহস্র বছর। আবেগ নেই, অনুভূতি নেই। কিন্তু সেই রাতে, সাব্বিরের শিশুর মতো কান্নায় ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল তার হৃদয়ের সমস্ত শিলা। মাতৃসুলভ আদরে তাকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে হয়েছিল বুকের ভেতর। কিন্তু মিথিকে সেই সুযোগ দেয়নি সাব্বির। যেভাবে ঝট করে ভেঙে পড়েছিল ঠিক সেভাবেই আচমকা সামলে নিয়েছিল নিজেকে। মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা কাগজগুলো গুছিয়ে রেখে খুব স্বাভাবিক কণ্ঠে বলেছে, 

‘ অনেক রাত হয়েছে মিথি। এবার বোধহয় আপনার ফ্রেশ হওয়া দরকার। আমিও ঘুমোবো। শুভ রাত্রি।’ 

মিথির রাত শুভ হয়নি। ভয়ংকর এক দুঃস্বপ্নের মতোন কেটেছে গোটা রাত৷ এতো নৃশংস! এতো ঘৃণ্য ঘটনা এই পৃথিবীতে ঘটে এই ভাবনায় ভেতর ভেতর মরে যেতে ইচ্ছে হয়েছে তার। পরমুহূর্তেই সাব্বিরের ধৈর্যশক্তির কথা ভেবে বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়েছে। ভোর হওয়ার জন্য মুখিয়ে থেকেছে, আবার, সাব্বিরকে কোনোভাবে অস্বস্তিতে না ফেলে দেয় সেই ভয়ে তটস্থ থেকেছে। সাব্বির অবশ্য অতিমাত্রায় স্বাভাবিক। মিথির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেছে। মিথি তখন না বুঝলেও পরবর্তীতে বুঝেছে, সাব্বির খুব কৌশলে তাকে এড়িয়ে চলছে। টলটলে চোখদুটো তুলে মিথির দিকে তাকায় না সে কত কাল! মিথি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বুয়াকে এক কাপ চা দিয়ে দু'কাপ চা হাতে নিঃশব্দে বেরিয়ে গেল রান্নাঘর থেকে। সাব্বিরের দরজায় মৃদু করঘাত করতেই ভেতর থেকে ভেসে এলো শান্ত কণ্ঠ,

‘ আসুন, বুয়া।’ 

মিথি দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে বলল, 

‘ বুয়া নন। আমি।’ 

 টেবিলের কাছে বসে কোনো একটা বই ঘাঁটছিল সাব্বির। মিথির কথায় মুখ তুলে তাকাল। তারপর তাকিয়েই রইল অনেকটাক্ষণ। যেন কত সহস্র বছর পর মিথিকে দেখছে সে৷ 

‘ আমার ভেতরে আসার অনুমতি আছে?’

এবারের প্রশ্নে সম্বিত ফিরে পেল সাব্বির। তৎক্ষনাৎ চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে অপ্রস্তুত কণ্ঠে বলল,

‘ প্লিজ, আসুন।’ 

এতো নম্র কণ্ঠে কথা বলা এই সুদর্শন পুরুষটির ওমন চোখ ফিরিয়ে নেওয়া দেখে পৃথিবীটা যেন ভেঙে আসতে চাইল মিথির। সাব্বির মিথিকে বসার জায়গা করে দিয়ে নিজেই চায়ের ট্রে টা নিয়ে রাখল টেবিলের ওপর। মিথির হাতে চায়ের কাপ তুলে দিয়ে নিজে চেয়ার টেনে বসল। হাসিমুখে শুধাল,

‘ তারপর, কেমন আছেন মিথি?’ 

মিথি ঘাড় ফিরিয়ে সাব্বিরের ঘরটা দেখছিল। এতো মাস ধরে এই বাড়িতে থাকলেও এই ঘরটিতে আজ প্রথম এলো মিথি। সাব্বিরের কথার জবাব না দিয়ে বলল,

‘ ঘরটাকে এমন অন্ধকার করে রেখেছেন কেন সাব্বির?’ 

সাব্বির উত্তর না দিয়ে উঠে গিয়ে ঘরের জানালাগুলো খুলে দিলো। ফিরে এসে চেয়ারে বসতেই মিথি শুধাল,

‘ আপনি কেমন আছেন?’ 

সাব্বির হাসল,

‘ ভালো আছি। আপনার টেলিফিল্মের কাজ কেমন চলছে?’ 

‘ ভালো। একদিন শুটিং দেখতে আসুন না!’ 

‘ যাব। নিশ্চয় যাব।’ 

তারপর একটু নীরব থেকে বলল,

‘ মিথি, আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা ছিল৷’ 

মিথি জিজ্ঞাসা নিয়ে তাকাল। মিথির চোখের সঙ্গে সারা জনমের আড়ি কেটে সাব্বির তখনও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মিথির চায়ের কাপ ধরা হাতের দিকে। বলল,

‘ আমার মনে হয়, আমাদের ডিভোর্সের ব্যবস্থাটা করে ফেলা উচিত। আপনারও তো পরের মাসে এই বাসা থেকে শিফট হয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা। তারপর তো আমাদের দেখাসাক্ষাৎ-এর সম্ভাবনাও কম। কাজটা তাড়াতাড়ি সেরে ফেললে আপনারও সুবিধা হতো।’ 

মিথিকে চুপ করে বসে থাকতে দেখে চোখ তুলে তার মুখের দিকে তাকাল সাব্বির। পরমুহূর্তেই চোখ সরিয়ে নিয়ে শুধাল,

‘ আপনার কী আমার কাছে কোনো দাবী আছে, মিথি?’ 

মিথি উত্তর দিলো না। কাঠের পুতুলের মতো তাকিয়ে রইল সাব্বিরের দিকে। এই মাস শেষ হতে আর মাত্র সপ্তাহ খানেক বাকি। সাব্বির যে স্পষ্ট করে এই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ জারি করলো সে কথা বুঝতে অসুবিধা হলো না তার। ম্লান হেসে বলল,

‘ তাড়িয়ে দিচ্ছেন?’ 

‘ ছিঃ, মিথি! এই দুঃসাহস কী আমার আছে?’ 

 ‘ তাহলে এতো তাড়া কেন?’ 

‘ যা অনিবার্য। তাতে বিলম্ব করা উচিত না মিথি।’ 

‘ অনিবার্য! কেন?’ 

সাব্বির চোখ নামিয়ে নিলো। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, 

‘ আপনি এই পৃথিবীর সবথেকে চমৎকার এক রমণী মিথি। আপনি অনেক ভালো থাকা ডিজার্ভ করেন।’ 

‘ আমি এখানে ভালো আছি। আপনার সঙ্গে ভালো আছি।’ 

‘ আপনি এখানে ভালো নেই, মিথি। এভাবে ভালো থাকা যায় না। আপনি ভালো থাকলেও আমি ভালো থাকতে পারছি না। এই সম্পর্কের প্রতিটি দিন আমাকে নরক যন্ত্রণা দিচ্ছে মিথি।’ 

মিথি স্তম্ভিত হলো। এতো স্পষ্ট প্রত্যাখানের পর কী উত্তর দেওয়া যেতে পারে খুঁজে পেল না। কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল,

‘ আমি যে আপনার জীবনে এতো বড় যন্ত্রণা তা আগে কখনও বুঝতে পারিনি সাব্বির। আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি।’ 

সাব্বির চোখ তুলে তাকাল। চোখের কোণে চিকচিক করা অশ্রু নিয়ে বলল,

‘ আপনি কারো জীবনে যন্ত্রণা হতে পারেন না মিথি। কিন্তু আমার জন্য স্বর্গ নিষিদ্ধ। আপনি আমার এই নোংরা জীবনে এসেছেন। দুদণ্ড বসেছেন। অকারণে একটু মায়া করেছেন। তারজন্য আপনার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এই জগতের সকল পবিত্রতা আমার জন্য নিষিদ্ধ জানার পরও এই বাড়িতে আপনার উপস্থিতি আমাকে লোভী করে তুলেছিল। আপনি যেদিন প্রথম আমার বাড়ি এলেন, বারান্দায় দাঁড়িয়ে উদ্বেগ নিয়ে আমার জ্বর দেখতে চাইলেন। মিথি! তার আগে কেউ কোনোদিন আমার জ্বর দেখতে চায়নি। একটু স্নেহের লোভে আমি আমার অতীত ভুলে বসেছিলাম, আমার অস্তিত্ব ভুলে বসেছিলাম। আপনি দুঃখ পাচ্ছেন জেনেও, আপনাকে আমি কখনও সুখী করতে পারব না জেনেও শুধু নিজের সুখের কথা ভেবে অবচেতনেই অদ্ভুত এক মানসিক খেলায় মেতেছি। ভেবেছিলাম আপনার হৃদয়ে একটা আক্ষেপের দাগ হয়ে এভাবেই হারিয়ে যাব একদিন। এতো পাপ নিয়ে জন্মে আপনার মতো চমৎকার কারো হৃদয়ের এক কোণায় এক টুকরো স্থান পেয়েছি, এই তো আমার জীবনের সার্থকতা! কিন্তু তাতে যে আপনার কতখানি অপমান সে কথা একবারও মাথায় আসেনি। সম্বিৎ ফিরল সেদিন যেদিন আপনি আমাকে মুখের উপর জিজ্ঞাসা করলেন, কী দোষ আপনার? কোথায় আপনার কমতি? বিশ্বাস করবেন মিথি, লজ্জায় আমার মাথা কাটা যাচ্ছিল সেদিন। নিজের জন্মের লজ্জা, নিজের পাপের লজ্জা নিয়ে কী করে পারলাম আমি আপনার মতো চমৎকার কাউকে ভালোবাসতে!’ 

মিথি ততক্ষণে ব্যকুল হয়ে কাঁদছে। নিঃশব্দে জল গড়াচ্ছে সাব্বিরর কপোল বেয়ে। সাব্বির আগের মতোই স্থির কণ্ঠে বলল,

‘ সেদিন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আপনাকে সত্যটা জানাব। জানাব, কত তুচ্ছ একজনের জন্য নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন আপনি। আপনি আমার কাছে দেবীর মতো। কতো উপরে আপনার স্থান! আমার কী সাধ্য আপনাকে ছুঁই! আপনার দাদাজান বড় মহান মিথি। তাই তিনি সমস্ত জেনেও দয়া করে তার হৃদয়ের সবথেকে কাছের, সবথেকে চমৎকার রত্নটি তুলে দিয়েছিলেন আমার হাতে। কিন্তু সেই রত্ন সামলে রাখার স্পর্ধা আমার নেই। আমি এই জীবনে অনেক যুদ্ধ করেছি মিথি। নিজের মধ্যে এতো অসুন্দর নিয়েও এই সুন্দর পৃথিবীতে টিকে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু আমি জানি, একদিন আমাকে হারিয়ে যেতে হবে। হয়তো এই মানসিক যুদ্ধে একদিন আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ব। আপনি যত কাছে আসেন আমার জীবনের প্রতি আফসোস, ঘৃণা, লজ্জা আরও বাড়তে থাকে মিথি। আমার দমবন্ধ হয়ে আসে। মরে যেতে ইচ্ছে করে। আমি বেঁচে থাকতে চাই। আপনি আমার সঙ্গে থাকলে এই ক্লান্তি আমার দ্রুত বাড়বে। আপনাদের কত প্রিয় মানুষ আছে এই পৃথিবীতে। আমার তো কেউ নেই মিথি। এই পৃথিবীতে কারো মধ্যে আমি একটুখানিও বেঁচে থাকতে পারব না। আমি হারিয়ে যাওয়া মানে একেবারেই হারিয়ে যাওয়া। মিথি? আমি হারিয়ে গেলে আপনি কী আমায় একটু মায়া নিয়ে মনে করবেন মিথি? হলাম নাহয় পাপ। কিন্তু মানুষ হয়ে তো জন্মেছিলাম, বলুন।’  

মিথি হঠাৎ কথা বলতে পারে না। দু'হাতে কপাল চেপে বসে থেকে রুদ্ধ কণ্ঠে বলল,

‘ আমাকে আপনার সঙ্গে থাকতে দিন সাব্বির।’ 

সাব্বির ম্লান কণ্ঠে বলল,

‘ আপনার মায়া আমার সহ্য হয়েছে। কিন্তু এই দয়া আমার সহ্য হবে না মিথি।’ 

মিথি মুখ তুলে তাকিয়ে অধীর কণ্ঠে বলল,

‘ আমি আপনাকে ভালোবাসি।’ 

‘ আমাকে ভালোবাসা অন্যায়।’ 

মিথি এই অসহ্য সুন্দর পুরুষের দিকে অসহায় চোখে তাকিয়ে থাকে। তার বালকের মতো মুখ, বেদনার্ত চোখের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলে,

‘ আমি কী আপনাকে একবার জড়িয়ে ধরতে পারি সাব্বির?’ 

সাব্বির রুদ্ধ কণ্ঠে বলে,

‘ না মিথি।’ 

‘ প্লিজ!’ 

সাব্বির মিথির চোখের দিকে তাকায়। দু'জোড়া অশ্রুসজল চোখের মিলন হতেই বেদনার্ত কণ্ঠে বলে,

‘ আপনাকে গ্রহণ করতে না পারার আক্ষেপ আমার সারাজীবনের দুঃখ হয়ে থাকবে মিথি।’ 
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp