হাওয়াই মিঠাই - পর্ব ০৪ - তামান্না ইসলাম শিমলা - ধারাবাহিক গল্প

হাওয়াই মিঠাই - তামান্না ইসলাম শিমলা
          রাত নয়টা, তানিয়া খাওয়ার জন্য ডাকছে তনয়াকে। ডাকাডাকিতে বিরক্ত হয়ে খাওয়ার রুমে চলে আসল তনয়া, তানহা টিভির সামনে বসে নিজ মনে খাচ্ছে আর টিভি সিরিয়াল দেখছে। কিছুটা দূরত্বে শিহাবও খাবার নিয়ে বসে আছে, যারা এতসময় ডাকাডাকি করল তারাই নেই! তনয়াকে দেখে তানহা টিভির দিকে মনোযোগ রেখেই বলল,

“ টেবিলে খাবার রাখা, খেয়ে নিতে বলেছে আম্মু!”

তানহার গলার আওয়াজ পেয়ে শিহাব মাথা উচু করে দরজার দিকে তাকায়, তনয়া দাঁড়িয়ে আছে। শিহাব নিতান্ত ভদ্র ও সভ্য ছেলে, মুচকি হেসে তনয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“ কেমন আছো তনয়া?”

তনয়া মুচকি হেসে স্বাভাবিক স্বরে জবাব দেয়,

“ এইতো ভাইয়া ভালো, আপনার কি অবস্থা?”

শিহাবের খাওয়া শেষ, সে টেবিলের দিকে যেতে যেতে বলল,

“ এইতো চলছে, তোমাকে তো সারাদিনে দেখতেই পেলাম না!”

তনয়া খাবার রেখে সোফায় তানহার পাশে বসল, মাথার ওড়নাটা টেনে পেছনে তাকিয়ে বলল,

“ঘরেই ছিলাম, সামনে পরিক্ষা তাই পড়ছিলাম!”

শিহাব হাত ধুয়ে ফিরে আসে, পাশের সোফাতে বসে, তনয়ার দিকে তাকায়।

“এত চাপ নেওয়ার কিছু নেই মেয়ে, সব সময় বই নিয়ে বসে থাকলেই হয় না, পড়ার মতো ঘন্টা খানিক পড়লেই যথেষ্ট! “

তনয়া মৃদু হাসল, সত্যি আজকাল বেশি চাপ নিয়ে ফেলছে। তবে সেটা পড়াশোনা নিয়ে নাকি তেহরাব নামক লোকটার জন্য ঠাহর করতে পারছে না সে নিজেই।

“ শুনলাম গণিতে নাকি সমস্যা? কোনো দরকার পরল বলো, বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব!”

তনয়া ফট করে মনে পরলো ত্রিকোনমিতি অধ্যায়ের কথা, এই অধ্যায় নিয়ে তার যত ভোগান্তি! ওদিকে শিহাব গণিত নিয়ে মাস্টার্স করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, টপ লেভেলের ছাত্র সে!

“ ত্রিকোণমিতিতে একটু সমস্যা আছে!”

“ আজ আর পড়তে হবে না, কাল বুঝিয়ে দেব।”

এতক্ষণ খাওয়া রেখে ওদের নিরামিষ কথোপকথন গিলছিল তানহা, এই দুটো মানুষই কেমন একইরকম। চুপচাপ, নিরামিষ, পড়াশোনা নিয়ে থাকে, লাইফে রসকষ কিছুই নেই।

তানহা মুখ ফস্কে বলে ফেলে,

“ ভাইয়া আপনি কতদিন থাকবেন?”

শিহাব আর তনয়া দুজনেই অবাক হয়ে তানহার দিকে তাকায়, এ কেমন ধরনের কথা? তনয়া চোখ রাঙায়, তানহা মুখ ঘুরিয়ে খাওয়াই মনোযোগ দেয়!

“ আসার আগেই বিদায়ের চিন্তা করছ?”

শিহাব মুচকি হেসে বলল, তানহা একবার তনয়ার দিকে তাকিয়ে আবার শিহাবের দিকে তাকিয়ে বোকা বোকা হেসে বলে,

“আরেহ আমি ওভাবে বলিনি, আমি বলছিলাম যে অনেক দিন হয় আসেন না, এবার এসেছেন যখন বেশিদিন থেকে যাবেন। আমাদের নিয়ে একটু ঘুরতেও যাবেন।!”

তানহা কথা শেষ করে আবার হাসল, শিহাবও হাসল,

“ আচ্ছা, আগামীকাল বিকেলে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি যাব তোমাদের নিয়ে!”

তানহা খুশিতে লাফিয়ে উঠে, চিল্লিয়ে বলে,

“ ওকে ডান, তোমার আইফোন দিয়ে অনেক ছবি তুলে দিতে হবে।”

বলেই উঠে টেবিলের দিকে চলে গেল, শিহাব ঠোঁট টিপে হাসল। হাসলে তার গালে টোল পরে, বিষয়টা লক্ষ্য করল তনয়া, ছেলেটা শ্যাম বর্নের, চেহারায় অন্য রকম একটা মায়া মায়া ভাব আছে। তনয়া উঠে দাঁড়াল, ঘুম পাচ্ছে তার, এখন আর খেতেও ইচ্ছে করছে না।

“আচ্ছা থাকুন, আমার ঘুম পাচ্ছে!”

তনয়া পা বাড়াতে নিলে শিহাব বলে,

“ রাতের খাবার খেলে না? এমনিতেই শরীরের যা অবস্থা, ভালো ভাবে খাওয়া দাওয়া কর!”

তনয়া মাথা ঘুরিয়ে তাকাল, শান্ত কন্ঠে বলল,

“ ও ঠিক হয়ে যাবে!”

তনয়া চলে আসল নিজের ঘরে, বড্ড অস্থির লাগছে তার। কেমন যেন মনে হচ্ছে কিছু একটা নেই তার, মনের ভেতর অশান্ত ঝড় বইছে। ছটফট করছে, কিন্তু কেন? চোখ বন্ধ করে বিছানায় বসল তনয়া, সাথে সাথে চোখের সামনে ভেসে উঠল সুদর্শন বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী তেহরাবের হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রী!

সাথে সাথে চোখ খুলে নিজের বুকে হাত রাখে সে,হৃৎস্পন্দন ক্রমশ বাড়ছে। কেন মনে পড়ছে লোকটাকে, দ্রুত টেবিল থেকে পানির গ্লাস হাতে নিয়ে পুরোটা গলায় ঢালল, নিজের মাথা চেপে আবারও বসে পরল বিছানায়। মাথা ব্যথা করছে, মাথার কাপড় ফেলে খোপা করা হাঁটু সমান মসৃণ চুল গুলো ছেড়ে দিল পিঠে,ফ্যানের বাতাসে গা ছেড়ে শান্ত করার চেষ্টা করল নিজেকে।

“ তোর আবার কি হলো?”

তনয়ার ভালো লাগছে না! তানহাকে কিছু না বলে বিছানা ঠিক করে শুয়ে পরল, তানহাকেও দরজা ও লাইট বন্ধ করে ঘুমাতে বলল। তানহা কিছু সময় তাকিয়ে রইল তনয়ার দিকে, তাকে আজকাল কেমন অদ্ভুত লাগে! 
তানহাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে তনয়া ভ্রু কুঁচকে বলে,

“ তাকিয়ে না থেকে দরজা বন্ধ করে লাইট বন্ধ কর, তারপর ঘুমা।”

“তোর কি হয়েছে বলতো? আজকাল কেমন খিটখিটে হয়ে গেছিস, সত্যি করে বলতো কারো প্রেমে ট্রেমে পরলি নাকি?!”

শেষ কথাটা মৃদু হেসেই বলেছিল তানহা তবে পরক্ষনেই তনয়ার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে হাসি মিলিয়ে যায়। দ্রুত দরজা, লাইট বন্ধ করে শুয়ে পরে তনয়ার পাশে!

—————

মধ্যরাত, ঘুম আসছে না তেহরাবের। বারান্দায় বসে একে একে সাতটা সিগারেট শেষ করেছে সে, মনটা অশান্ত! বারবার মন চাইছে তার এলোকেশীকে দেখতে, কিন্তু এই মধ্যরাতে সেই মেয়েকে কোথায় পাবে? এমন অবাধ্য চাওয়া কেন মনের কোণে হানা দিচ্ছে, এখন যে যন্ত্রণা দিচ্ছে!

সিগারেটে শেষ টান দিয়ে ফেলে দিল, আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে আওড়াল, 

“কবে আমার হবি তুই জান? আমার বউ হয়ে কবে আসবি? এইযে রাত বিরেতে আমার অবাধ্য অনুভূতি, অবাধ্য মন তোকে এক নজর দেখতে চায়, একে আর কত দমিয়ে রাখব? তুই চলে আয় জান, আমি সারাদিন তোকে দেখব। তোকে সাজিয়ে গুঁজিয়ে সারাদিন চেয়ে থাকব, মাঝে মাঝে তোর ভয়ার্ত আঁখি পল্লবে হারানোর বাসনা পূরন করব। তোর কাঁপা কাঁপা অধর যুগল আপন করে নেব, কবে বল?”

মাথা এলিয়ে দিল বেতের দোলনায়, বড্ড অস্থির লাগছে। মন বলছে এই মুহূর্তে তার এলোকেশীকে না দেখতে পেলে সে তৃষ্ণায় মরে যাবে, যে করেই হোক দেখতেই হবে। কিন্তু কি করে? চোখ বন্ধ করে ভাবতে লাগল তেহরাব, কি করা যায়! এত ভেবে লাভ নেই, দোলনা থেকে উঠে ঘরে আসল, একটা টি শার্ট গায়ে জড়াল সাথে ওয়ার্ড্রপের উপর বাইকের চাবি নিয়ে নিঃশব্দে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসল।

বাইক নিয়ে সোজা চলে আসল তনয়াদের বাড়ির পিছনের রাস্তায়, এদিকে তেমন মানুষজন থাকে না।

ফোনটা বের করে কল করল তনয়ার নাম্বারে, প্রথমবার রিং হয়ে কেটে গেল। আবার কল দিল!

—————

মাথার কাছেই ফোন রেখে ঘুমায় তনয়া, কম্পনের জোরে নড়েচড়ে উঠল। আবারও কম্পন অনুভব হতেই টিপটিপ করে চোখ খুলে ফোনের দিকে তাকাল, ফোনটা হাতে নিয়ে ভালো করে নামটা দেখল। অস্পষ্ট নাম্বারটা স্পষ্ট হতেই তরিঘরি করে উঠে বসল, এই মধ্যরাতে তেহরাব ভাই কেন ফোন দিচ্ছে? লোকটা পাগল নাকি?

দ্বিতীয়বারের ন্যায় কল কেটে গেল, আবারও বেজে উঠল সাথে সাথে, ভাগ্যিস ফোন সাইলেন্ট ছিল।
এখন কল রিসিভ না করলে সারারাতই হয়ত কল দিতে থাকবে। এই ভেবে বিরক্তি নিয়েই কল রিসিভ করল। পাশে তানহা আছে বিধায় তনয়া কোনো কথা বলল না, শুধু রিসিভ করে কানে ধরল,

“ ঘুমাচ্ছিলি?”

তেহরাবের ঠান্ডা শীতল কন্ঠস্বরে তনয়ার মনযে অশান্ত হয়ে উঠল, এই লোকটার এত ঠান্ডা মেজাজ মানায় না। কিছু মানুষ উগ্র, জেদি,রাগী হলেই ভালো লাগে যা তেহরাবকে না দেখলে সে বুঝতেই পারত না।

“শুনছিস?”

আবারও ভেসে আসল কঠোর মানুষটার নরম কন্ঠস্বর,এবার তনয়া বিছানা থেকে নেমে জানালার কাছে আসল। মিনমিনে মৃদু গলায় ভীত কন্ঠে বলে,

“ এত রাতে ফোন কেন দিয়েছেন?”

“বাইরে আয়!”

তেহরাবের আগের ন্যায় কন্ঠস্বর, তনয়া ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,

“কি?”

তেহরাবের কন্ঠস্বর এবার কিছুটা গম্ভীর হলো,

“তোদের বাড়ির পেছনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি, দুমিনিটের মধ্যে আমার সামনে দেখতে চাই!”

তনয়া তৎক্ষনাৎ মৃদু চিৎকার করে বলে উঠে,

“অসম্ভব!”

আকস্মিক শব্দ করে উঠায় নিজেই ভরকে যায় তনয়া, পেছন ফিরে তাকায় তানহার দিকে। এই মেয়ে দুনিয়া আন্ধার হয়ে গেলেও ঘুম ভাঙবে না, বুকে হাত দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। ঠিক সেই মুহুর্তেই তেহরাবের গম্ভীর কন্ঠস্বর ভেসে আসে তনয়ার কানে,

“ অসম্ভবকে সম্ভব করতে হয় কি করে আমার জানা আছে, ঠিক দু মিনিট। যদি তোকে সামনে না পাই আমি নিজেই চলে আসব তোর রুমে।”

“মাথা খারাপ হয়েছে আপনার, কি বলছেন এসব? আমাকে বিপদে ফেলতে চাইছেন?”

তেহরাব হাসে,

“ বিপদের দেখলি কি? আসবি নাকি আমি আসব? আমি আসলে তো বুঝতেই পারছিস কি হবে!”

তনয়া চোখ মুখ কুঁচকে কিছুক্ষণ চুপ রইল, তেহরাবকে ভরসা নেই। সত্যি সত্যি চলে আসবে!

“সময় শেষ, আসছি আমি!”

তনয়া চট করে মাথা নেড়ে বলল,

“ নাহ! আমি আসছি!”

সাথে সাথে কল কেটে দেয় তনয়া, তেহরাব ঠোঁট টিপে হাসে! তনয়া দ্রুত ফোন বিছানায় রেখে চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ, কি করবে এখন? নিজের নখ কামরাতে লাগল তনয়া।তানহার দিকে এক নজর ভালো করে তাকিয়ে মাথায় ওড়না চাপিয়ে সাবধানে রুম থেকে বের হলো সে।

বাড়ির পেছনের দিকে তেমন একটা যাওয়া হয়না বিধায় গেটটাও বন্ধ থাকে। তনয়া গেটের তালা খুলে বাইরে বের হলো, অন্ধকারে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে এদিক ওদিক দেখে, অবশেষে কিছুটা দূরে বিশাল বড় গাব গাছের নিচে বাইকের উপর বসে আছে তেহরাব।

তনয়া জ্বিভ দ্বারা ঠোঁট ভিজিয়ে নেয়, ভয় করছে তার। এই রাত বিরাতে যদি কেউ দেখে ফেল, তাহলে কি হবে?
অবশেষে মাথা নিচু করে এগিয়ে যায় তেহরাবের দিকে, তিনহাত দূরে দাঁড়ায় তনয়া। তেহরাব সিগারেট চেপেছে ঠোঁটে, তনয়ার সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য হয় না! হাত দিয়ে নাক চেপে ধরল, তা দেখে তেহরাব সিগারেটটা ফেলে দিল! দুজনের মাঝে বিরাজ করছে পিনপতন নীরবতা, নীরবতা ভেঙে তেহরাব শীতল কন্ঠে বলে উঠে, 

“আমার দিকে তাকা!”

তনয়া শুনে না, সে দাঁড়িয়ে থাকে আগের ন্যায় মাথা নিচু করে। তেহরাব আবার বলে,

“ আমার দিকে তাকাতে বলেছি, শুনতে পাসনি?”

তনয়া শুকনো ঢোক গিলে মাথা উচু করে তাকায় তেহরাবের দিকে, তেহরাব তাকিয়ে তাকে এক দৃষ্টিতে তার এলোকেশীর দিকে।

“ভালোবাসি জান, অনেক ভালোবাসি! একটু অপেক্ষা কর, তোকে আমি আমার করেই ছাড়ব!”

তনয়া নিজের ওড়না খামচে ধরল, চোখ সড়িয়ে নিল তেহরাবের দিক থেকে।

“এসব বলবেন না দয়া করে!”

তেহরাব মৃদু হাসে,

“কেন? ভালোলাগে না আমাকে? ভালোবাসিস না আমাকে?!”

তনয়া কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,

“মনের মানুষ মনেই সুন্দর তেহরাব ভাই, কপালে থাকা মানুষটাকেই গ্রহন করা উচিত!”

তেহরাবের মুখ শক্ত হয়, ভারী গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,

“কপালের লেখা খন্ডাতে সময় লাগে না, মনের মানুষকে কপালে লেখাটাই যুদ্ধ!”

“সে যুদ্ধে জেতা মুশকিল!”

তনয়ার কথায় তেহরাব ভারাক্রান্ত কন্ঠে বলে,

“মুশকিল তবে অসম্ভব না!”

তনয়া তাকায় তেহরাবের দিকে, মাথা নেড়ে না করে,

“আমি আপনাকে চাই না তেহরাব ভাই!”

তেহরাব শান্ত, কিন্তু কেন? তেহরাব শান্ত কন্ঠে তনয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,

“ তুই আমাকে চাস না, কিন্তু তোর মন, তোর চোখ আমাকেই চায়। আর তোর অস্তিত্ব আমার মাঝে, তোকে আমারই হতে হবে। সেখানে বাঁধা হয়ে যেই বা আসবে আমি মানব না!”

তনয়ার গলা ধরে আসছে,

“কেন পাগলামি করছেন বলুন তো? আমি আপনাকে চাই না, কখনোই চাই না!”

তেহরাব বাইকে উঠে বসে,

“ কেন পাগলামি করি জানিস? কারন তোকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না, এইযে রাত বিরাতে তোকে এক পলক দেখার তৃষ্ণা আমাকে অশান্ত বানিয়ে ছাড়ে এই যন্ত্রনা কি তুই বুঝিস?”

“বুঝি তেহরাব ভাই! সেই যন্ত্রণায় যে আমিও পুড়ছি, কিন্তু আমার কিছু করার নেই!”

তনয়ার মনের কথা তেহরাব শুনল না, জানল না! তেহরাব বাইক স্টার্ট দিতে দিতে তনয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে, 

“ তোর জন্য গোটা দুনিয়া ধ্বংস করে ফেলতে পারি, কিন্তু আমাকে ধ্বংস করার জন্য তুই একাই যথেষ্ট। আমি বাঁচতে চাই তনয়া, তোর সাথে বাঁচতে চাই!”

তেহরাব বাইক স্টার্ট দেয়, চলে যায় দৃষ্টি সীমানার বাইরে। তনয়ার কানে এই কথাই প্রতিফলিত হতে লাগল,

“ আমি বাঁচতে চাই তনয়া, তোর সাথে বাঁচতে চাই!”

তনয়ার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পরল নোনা জল, কেন এই অনুভূতি সৃষ্টি হলো? সে কি পারবে তেহরাবের সাথে বাঁচতে? কেন এই লোকটা এত পাগলামি করে? তার পাগলামি গুলো যে তার রাতের ঘুম কেঁড়ে নিচ্ছে!
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp