হাওয়াই মিঠাই - পর্ব ২৯ - তামান্না ইসলাম শিমলা - ধারাবাহিক গল্প

হাওয়াই মিঠাই - তামান্না ইসলাম শিমলা
          টুকটুাক কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরেছে তেহরাব তনয়া, তেগরাবোর জোরাজুরিতেই এসব কেনা। বাড়িতে কাউকে না দেখে কিছুটা আশ্চর্য হলো তেহরাব, বুয়াকে জিজ্ঞেস করল,

“মা কোথায়?”

“আপা তো আপনার বড় ফুপুরে দেখতে গেছে, তিনি নাকি অসুস্থ!”

তেহরাব ভ্রু কুঁচকাল, তাকে একবার বলেও গেল না। ফোনটা বের করল তেহরাব, মায়ের নাম্বার থেকে সাতটা কল, ফোনটা সাইলেন্ট ছিল।

“আচ্ছা খালা রাত হয়েছে, আপনি বাড়ি যান।”

তেহরাবের কথায় মাথা নেড়ে বুয়া চলে যায়, তেহরাব দরজা ভেকর থেকে লাগিয়ে নিজের ঘরে আসে। 
তনয়া সবে ওয়াশরুম থেকে বের হলো, তেহরাব সেদিকে পা বাড়াল। যেতে যেতে বলল,

“,বই নিয়ে বস, আসছি আমি!”

তনয়া মাথা নেড়ে গণিত বইটা নিয়ে বসল, তেহরাব কিছু সময় পর ফ্রেশ হয়ে হালকা পোশাকে বেরিয়ে আসল। তনয়া টি টেবিলে বই রেখে পড়ছে, তেহরাব নিজের মাথায় হাত দিয়ে বিড়বিড় করে,

“পাগল মেয়ে!”

মুখে বলে,

“ বই গুলো৷ এ ঘরে কে এনেছে? আমি না বললাম স্টাডি রুমে রাখতে, যায়হোক চল আমার সাথে!”

তনয়া লেখা বাদ দিয়ে তেহরাবের দিকে তাকায়, 

“কোথায় যাব?”

তেহরাব দরজা পর্যন্ত চলে গিয়েছিল, তনয়ার কথায় থেমে তার দিকে তাকায়।

“বাসর করতে, চল!”

তনয়া চোখ মুখ কুঁচকায়,

“আপনার মাথায় কি এসবই ঘুরে?”

তেহরাব ক্রুর হাসে, হাত দিয়ে ঘাড় ঢলতে ঢলতে বলে,

“বিয়ে করেছি, এখনো বাসর করতে পারলাম না, তো মাথায় আর কি ঘুরবে?”

তনয়া মুখ ঘুরিয়ে নেয়, তেহরাব এবার শক্ত গলায় বলে,

“এবার আস জলদি!”

তনয়া বই নিয়ে উঠে দাঁড়াল, যেতে লাগল তেহরাবের পিছু পিছু। স্টাডি রুমে এসে বসলে দুজনে পাশাপাশি, রুমের একপাশে আরেকটি টেবিল যেখানে কম্পিউটার সহ বিভিন্ন জিনিস যা নিয়ে তনয়ার ধারনা নেই। হঠাৎ চোখ গেল দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা গিটারের দিকে, চোখ ঝলমলে হয়ে উঠে। আগ্রহী সুরে বলে,

“আপনি গান জানেন?”

তেহরাব বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছিল, তনয়ার চট করে বলা প্রশ্নে কপাল কুঁচকে বলে,

“আমাকে দেখে তোর গাঞ্জাখোর মনে হয়?”

তনয়া হতবাক হয়ে তেহরাবের দিকে তাকায়, সে প্রশ্ন করল কি আর তেহরাব জবাব দিল কি। তনয়া আশ্চর্য ভঙ্গিতে বলে,

“আমি কখন বললাম আপনি গাঞ্জাখোর?”

তেহরাবের কপালের ভাজ গাঢ় হয়,

“কিছু সময় আগেই তো বললি!”

“কই বললাম?”

“ওইতো বললি “আপনি গাঞ্জা নেন?” আমি কোন দিক দিয়ে গাঞ্জা নিলাম?”

তনয়া নিজোর কপালে নিজেই চাপড় মারে, হাই রাব্বা।

“আমি গাঞ্জার কথা বলি নি, বলেছি গান জানেন নাকি।”

তেহরাব এবার রেগে গেল,

“আবার এক প্রশ্ন, হ্যাঁ নেই গাঞ্জা, তুই নিবি?”

তনয়া গাল ফোলায়, এই ছেলেটা তো আরো পাগল। হাত দিয়ে গিটারের দিকে নির্দেশ করে বলে,

“গান গান, গান গাইতে জানেন নাকি সেটা জিজ্ঞেস করেছি!”

তেহরাব হতভম্ব হয়ে গিটারের দিকে তাকায়, বিগ মিস্টেক হয়ে গেছে। তনয়ার হাত ধরে সামনে ঘুরিয়ে বই ধরিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলে, 

“তোর প্রশ্ন করার ধরনই ভুল ছিল, এবার অংক কর। একটা অংক যদি ভুল হয় তবে হাত দুটো আস্ত রাখব না, এইযে স্কেল!”

তেহরাবের গম্ভীর রাগী কন্ঠ, একদম স্যার স্যার ভাব। তনয়া ঠোঁট টিপে হেসে অংক করতে বসে, কালকে থেকেই পরিক্ষা। বাংলা সব কভার করা আছে, সেটা নিয়ে তেমন সমস্যা হবে না!

তনয়া অংক করছে, মাঝে মাঝে যেখানে সমস্যা হচ্ছে সেটা তেহরাব দক্ষতার সহিত বুঝিয়ে দিচ্ছে! তনয়াও ভালো মতো বুঝতে পারছে, এভাবে কেটে গেল দু ঘন্টা। 

“এবার বাংলাটা রিভিশন দে, একদম চাপ নিবি না। যত চাপ নিবি তত পরিক্ষা খারাপ হবে, আর তোর প্রিপারেশন ভালো। পরিক্ষা ভালোই হবে, শুধু চিন্তা করবি না, প্যানিক করবি না। বুঝলি? “

তনয়া মাথা নাড়ে, এক ঘন্টা বাংলা পড়ে। তেহরাবের কথা অনুযায়ী এক বসায় এত সময় পড়তে হয় না, ব্রেইনে চাপ পরে, পরিক্ষার আগে শুধু মাথা ঠান্ডা রাখা প্রয়োজন।

রাত এখন দশটা!

“খিদে পেয়েছে, চল নিচে। খেতে দে!”

তনয়া বই রেখে উঠে দাঁড়াল, পা বাড়াল নিচে। তেহরাব এসে ডাইনিং টেবিলে বসল, খাবার বুয়া রান্না করে রেখেই গিয়েছে। তনয়া শুধু গরম করে টেবিলে রাখে, দুজনেই খেতে বসেছে। তবে তনয়া খাচ্ছে কম আঙুল ঘুরাচ্ছে বেশি, তার যে খেতে ইচ্ছা করছে না। 
তেহরাব লক্ষ্য করল বিষয়টা, 

“খাচ্ছিস না কেন?”

তনয়া তেহরাবের দিকে তাকাল, ঠোঁট উল্টে বলল,

“ভালো লাগছে না!”

তেহরাব কিছু না বলে তনয়ার প্লেটের খাবারটা নিজের প্লেটে নিয়ে নিল, ভাত তুলে তনয়ার মুখের সামনে ধরল। চোখের ইশারায় হা করতে বলল, তনয়ার ভালো লাগল, এই ছোট্ট ছোট্ট কেয়ার গুলোই যে তার মন কেঁড়ে নিচ্ছে।

ভাবনার তালে কখন যে খাবার শেষ করেছে খেয়াল নেই তনয়ার, তেহরাব হাত ধুয়ে তনয়ার দিকে তাকাল,

“ পানি খা, খাওয়া দাওয়ার তো কোনো ছিরিছাঁদ নেয়, শরীরের অবস্থা দেখেছিস?”

তনয়া তেহরাবের কথা মতো পানি খেল, তেহরাব প্লেট নিয়ে কিচেনে চলে গেল। সেগুলো ধুয়ে তনয়ার সামনে এসে দাঁড়াল, 

“এবার ঘুমাতে চল, ভালো ঘুম না হলে পরিক্ষায় লাড্ডু পাবি, আমি কিন্তু কোনো লাড্ডু পাওয়া মেয়েকে বিয়ে করব না!”

তনয়া হো হো করে হেসে উঠে,

“বিয়ে তো হয়েই গিয়েছে, আবার কি বিয়ে করবেন?”

তেহরাব চট করে তনয়াকে কোলে তুলে নেয়, 

“কথা কম, ঘুমাবি চল!”

তেহরাব তনয়াকে নিয়ে নিজের ঘরে চলে আসে, লাইট বন্ধ করে শুয়ে পরে বিছানায়।

—————

পরিক্ষা দিতে বের হতে তনয়া, যাওয়ার আগে সবাইকে কল করে দোয়া চেয়ে নিল। ইরার সাথে কথা বলছে এখন, বাইরে থেকে তেহরাবের ডাক শুনে কথা বলে কল কেটে দৌড়ে আসল বাড়ির বাইরে।

“তারা তারি বস, সিটও তো খুঁজতে হবে!”

তনয়া এক নজর তেহরাবের দিকে তাকাল, সাদা শার্ট, হাত ফোল্ড করা, কালো জিন্স, চোখে সানগ্লাস। ভ্রু কুঁচকাল তনয়া, তেহরাব কি তাকে দিতে যাচ্ছে নাকি মেয়ে পটাতে ঠিক মেলাতে পারছে না বিষয়টা!

“যাবি নাকি এখানেই থাকবি?”

তনয়ার ধ্যান ভাঙে, এসে বসে তেহরাবের পেছনে।
বাইক স্টার্ট দেয় তেহরাব, মিনিট ত্রিশের মাঝেই পৌঁছে যায় কেন্দ্রে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো অবিভাবককে ভেতরে প্রবেশ করতে দেবে না, তনয়াকে একায় যেতে হবে। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে তেহরাব তনয়ার দুগালে হাত রাখে,

“একদম প্যানিক করবি না, মাথা ঠান্ডা রাখবি। যত টুকু পারবি ততটুকুই দিবি, আবারও বলছি প্যানিক করবি না। এটা তোর প্রথম পরিক্ষা, সময় কোন দিক দিয়ে চলে যাবে বুঝতেই পারবি না।”

তনয়া স্মিত হেসে মাথা নাড়ে, তেহরাব ছোট্ট করে চুমু খায় তনয়ার কপালে,

“বেস্ট অফ লাক মাই জান, ভালোমতো পরিক্ষা দে। আমি নিতে আসব!”

তনয়া মুচকি হেসে প্রস্থান করে, তনয়াকে গেট দিয়ে যতদূর দেখা গেল ততদূর তাকিয়ে রইল তেহরাব। এমন সময় ফোনের রিং বেজে উঠল, পকেট থেকে ফোন বের করে দেখল ফাহিমের কল,রিসিভ করল তেহরাব।

“হ্যালো বল!”

“শালা দ্রুত ক্লাবে আস, সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে!”

তেহরাবের কপাল কুঁচকাল,চিন্তিত কন্ঠে জিজ্ঞেস করল, 

“ কি হয়েছে?”

“নান্নু হত্যা মামলার মূল আসামি মিজু আমাদের ক্লাবে আসছিল, তোর খোঁজ করে গেল। ভাই গতবারও চার পাঁচটা খু*ন করছে বুড়ায়, তোকে কেন খুঁজতেছে?”

তেহরাব শব্দ করে হেসে উঠে, ফাহিম অবাক হয়। তেহরাবের হাসির কারনটা তার জানা নেয়,

“ কি হলো হাসছিস কেন?”

“রিলাক্স এত ভাবতে হবে না, ওসব নিয়ে তোদের ভাবতে হবে না। আজ বিকেলে ঈদের বাজার গুলো তোরাই দিয়ে দিস, আমি যেতে পারব না.”

“ভাই তুই হলি মেইন পার্সন, আমাদের সমিতির সব দায়িত্ব তোর। তোকে ছাড়া কি করে?”

তেহরাব এদিক ওদিক তাকিয়ে বাইকে উঠে বসে,

“ আমার বউয়ের পরিক্ষা, আমি যেতে পারব না, আর সমস্যা কি? সব তো প্যাকেট করায়, বিকেলে স্কুল মাঠে নিম্নবর্গের মানুষরা আসবে তোরা শুধু তুলে দিবি। এখানে আমার কি দরকার? আমরা কি শুটিং করব?”

ফাহিম দীর্ঘশ্বাস ফেলল, 

“বুঝেছি ভাই, রাখছি!”

কল কেটে দিল ফাহিম, তেহরাব পকেটো ফোন গুঁজে বাঁকা হাসল। বিড়বিড় করে বলল,

“ মিজু দাদা, অবশেষে খবরটা আপনার কাছে পৌঁছাল। ভালো, বেশ ভালো!”

তেহরাব বাইক স্টার্ট দিল, এখন সে যাবে ফুপুর বাড়ি। অসুস্থ মানুষ, দেখে আসা যাক! এ সুযোগে মিজু দাদার সাথেও সাক্ষাৎ হয়ে যাবে খন, তেহরাব আবারো হাসল। এ হাসিতে মিশে আছে রহস্য, তবে কি সেই রহস্য? 

—————

তেহরাবকে এ বাড়িতে দেখে সবাই প্রচন্ড অবাক, আজকে পাঁচ থেকে ছয় বছর পর এ গ্রামে এসেছে সে। সবার অবাতকা মিশ্রিত দৃষ্টি উপেক্ষা করে তেহরাব ভেতরে প্রবেশ করল ফুপুর রুমে, তিনি বিছানায় পরে আছেন। কথা বলতে পারেন না!

তেহরাবকে দেখে ইউসুফও খানিকটা অবাক হলো, তেহরাব গিয়ে ইউসুফের পেছনে দাঁড়াল,

“এখন কি অবস্থা? “

ইউসুফ মাথা দুলাল,

“কেমন আর হবে, আগের মতোই!”

“তেহরাব না!”

তেহরাব পেছনে তাকায়, ফুপাতো ভাইকে দেখে জড়িয়ে ধরে দুজনে, ছোট্ট বেলায় খুব ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল তাদের মাঝে। 

“কি অবস্থা তোর?”

আবির মুচকি হাসে, 

“এই তো চলছে, তোর বিয়েতে তো যেতে পারলাম না।”

তেহরাব আবিরকে নিয়ে বাড়ির বাইরে আসতে আসতো বলে,

“সমস্যা নাই, এমনি একদিন চলে যাস। তুইও তো বিয়ে করেছিস?”

আবির হাসে,

“হ্যাঁরে, তাও কি আজ কাল? চারবছর হয়ে আসে, ভাগিয়ে নিয়ে আসছিলাম, এখন এক ছেলের বাপ!”

তেহরাব হাসে,

“তুই তো ভুলেই গিয়েছিস আমাকে, আগে প্রতিমাসে একবার করে আসতি। হঠাৎ কি হলো যে পাঁচ ছয় বছর কোনো খবরই নেয়?”

তেহরাব আবিরের পিঠে হাত রেখে বলে,

“তেমন কিছু না, যায় হোক তোর ছেলে কোথায়?”

আবির এদিক ওদিক নজর বুলাল,

“ ছেলেকে কু আর বাসাই রাখতে পারি? দেখগে ক্ষেতে গিয়ে কাঁদা মাখামাখি করছে!”

তেহরাব হাসল, হঠাৎ ক্ষেতের কথা মনে পরতেই চোখে মুখে এসে ভর করল অন্ধকার৷ গম্ভীর ভাব!

“যাকগে, বিয়ে যখন করেছিস এবার জলদি বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে ফেল বুঝলি।!”

তেহরাব আবিরের দিকে তাকাল,স্বাভাবিক ভাবেই বলল, 

“বাচ্চা কাচ্চার শখ নেয়, এমনিই ঠিক আছে।”

আবির ভ্রুজোড়া কুঁচকাল,

“এটা কেমন কথা? একটা বাচ্চার জন্য মানুষ আহাজারি করে,আর তুই কিনা বলছিস বাচ্চার শখ নেয়। এখনো বাচ্চায় রয়ে গেছিস!”

তেহরাব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আবিরের দিকে তাকায়, চোখ জোড়া বন্ধ করে কথা ঘুরিয়ে বলে,

“বড় আপা কই? আসেনি?”

“আর বলিস না, আপার শশুরের অবস্থাও খারাপ। এনামে ভর্তি, সে কি করে আসবে।”

এমন সময় একটি সাত আট বছরের ছেলে সামনে এসে দাঁড়াল তাদের,

“এই সাদা শার্ট ওয়ালারে দাদাই যাইতে কইছে!”

বলেই ছেলেটা আবারো দৌড়ে চলে গেল, আবির তেহরাবকে বলল,

“এটা রহিম কাকার ছেলে, মিজু দাদা বোধহয় যেতে বলছে। তাদের জন্য খারাপই লাগে, বড় ছেলে এক পা হাঁড়িয়ে বসে আছে, আর মাহিমের তো এখনো খোঁজ মেলেনি। কে জানে বেঁচে আছে নাকি, যা তুই দেখা করে আয়!”

“সবই কর্মফল!”

বিড়বিড় করে কথাটি বলে তেহরাব মাথা নাড়ায়, 

“হুম অনেক দিন দেখা হয় না!”

“যা তুই, আমি দেখি আমার বান্দর ছেলে কোথায়। ধরে নিয়ে আসি!”

আবির পা বাড়াল ক্ষেতের দিকে, আর তেহরাব মিজু সাহেবের বাড়ির দিকে। সম্পর্কে আবিরের দাদার ছোট ভাই হয় মিজু, তবে ছোট বেলাই এ বাড়ি আসলে সবসময় মাহিম আবির আর তেহরাব এক সাথেই থাকত।

বাড়ির সামনে এসে তেহরাব ক্রুর হেসে বলে,

“কত ধন দৌলত, কত জায়গা সম্পত্তি। এসব কি আপনার পাপের বোঝা হালকা করতে পারবে? নাকি কবরে নিয়ে যাবেন মানুষের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই টাকাকড়ি? “
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp