শাহজাহান তন্ময় - পর্ব ৮৬ - নাবিলা ইষ্ক - ধারাবাহিক গল্প


ফায়াজ-ফাইজাকে ঘিরে পরিবারের এমন হুলস্থুল কাণ্ডকারখানা যেমন কম হচ্ছিলো, তা পোষাতেই বুঝি বন্ধুদের আগমন ঘটে এসময়ে। মাহিনের পেছনে সারি বেঁধে সবগুলো মিইয়ে যাওয়া বিড়ালের মতন ছোটো ছোটো কদমে এসে— ঠিক তন্ময়ের পেছনেই দাঁড়িয়ে পড়েছে খুব আলগোছে, সটান দেহে। আপাতত কাউকেই বিরক্ত অথবা অস্বস্তিতে ফেলতে চায় না তারা। এমন এক নাজুক সময়ে বাইরের মানুষের উপস্থিতি মোটেও সভ্যতার কাতারে পড়ে না। এমনিতেও বন্ধুরা তারা সবগুলো অসভ্য, তবে নিজেদের বন্ধুর পরিবারের কাছে মোটেও অসভ্য, এঁচড়ে পাকা নয় বরঞ্চ বেশ ভদ্রসভ্য, ধোয়া তুলসীপাতার এক প্রতিবিম্ব দেখিয়ে এসেছে যুগ যুগ ধরে। এই কাজে তাদের আগেপিছে কারো অস্তিত্ব থাকাটাই অসম্ভব প্রায়। মাহিন নীরবে মাথাটা নুইয়ে বেশ নিপুণ দৃষ্টিতে দেখছে তন্ময়ের কোলের ছোট্টো, তুলতুলে নরম প্রাণটিকে। ছটফটে নবজাতক শিশুটিকে শুভ্র রঙের তোয়ালেতে মোড়ানো হয়েছে। ধবধবে সাদা চামড়ায় লালচে আভা। হাপুসহুপুস করছে শীর্ণ ঠোঁট দুটো। কী ভীষণ টকটকে লাল! তন্ময় টুপ করে মাথা নুইয়ে ছেলের মুখের কোণে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয় বড্ড আদুরে ভাবে। তার বড়ো ডান হাতের একটি আঙুল মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছে ফায়াজ। তন্ময় সেই ছোট্ট মুষ্টিবদ্ধ হাতটিতেও চুমু দিয়ে মিহি স্বরে ডাকে, 

‘বাবা, এইযে বাবা, ফায়াজ! আমার রাজপুত্র!’

ঠিক এক জীবন্ত পুতুলের মতোই দেখতে শিশুটিকে কোলে নেবার জন্যে রীতিমতো হাত নিশপিশ করছে প্রত্যেকের। বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে চঞ্চল, উৎসুক মাহিন আর নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারে না। সে ভেবে এসেছিল শুধু দূর থেকে দেখে যাবে। একদম আগ বাড়িয়ে বাচ্চাদের কোলে নেবার তাড়া দেখাবে না, আরেকজন ভাগিদার হয়ে মোটেও দাঁড়াবে না। তবে তা আর বুঝি হওয়ার নয়। মাহিন দ্রুত কদমে পেছন থেকে সামনের সবাইকে ঠেলেঠুলে সরিয়ে তন্ময়ের দিকে নিজের উত্তেজিত হাত দুটো মেলে দেয়। ভারী চমৎকার হেসে উৎসুক চোখে চেয়ে বলে, 

‘আমি একটু নিই, দে না রে দোস্ত। বাবাকে আমার কোলে মিনিটখানেকের জন্য দে।’

তন্ময় এতক্ষণ ওদের খেয়াল করেনি। আওয়াজ শুনে আশ্চর্য হয়ে মাথা তুলতেই পেছন থেকে সব ঝাপিয়ে পড়ে তার গায়ের ওপর। রিয়ান একপ্রকারে তন্ময়ের প্রশস্ত কাঁধ জড়িয়ে ধরে চিৎকার করতে গিয়ে থেমে যায় চারিপাশে চেয়ে। মোস্তফা সাহেব বড়ো চোখে চেয়ে আছেন। রিয়ান ঢোক গিলে। সাফাই গাইতে কাইকুই করে হাসার চেষ্টা করে সামান্য, 

‘আসসালামু আলাইকুম, চাচা। দুঃখিত এমন অসময়ে না বলে চলে এসে বিরক্ত করলাম।’

এবেলায় হেসে ফেলেন মোস্তফা সাহেব। পালাক্রমে হাসেন বাকিরাও। আনোয়ার সাহেবের চোখের কোণ তখনো ভেজা। তার কোলে ফাইজা চোখ বুজে শুয়ে আছে। তিনি মৃদু হেসে বলেন,

‘বিরক্তির কী আছে বাবা? চাচ্চু হয়েছো—ভাতিজী, ভাতিজাকে দেখতে আসবে না?’

রিয়ান আপ্লুত হয়। সন্তুষ্টিতে যেন পাখা নাড়িয়ে আকাশে উড়ছে। দ্রুত আনোয়ার সাহেবের দিকে এগিয়ে আসে। মুগ্ধ চোখে চেয়ে ভদ্রলোকের কাঁধ ঘেঁষে হাত দুটো বাড়িয়ে দিয়ে আদুরে গলায় আবদার ধরে, 

‘চাচা, আমার কোলে একটু দিন না।’

আনোয়ার সাহেব উচ্চকণ্ঠে হেসে ওঠেন। বলেন, ‘এভাবে বলার কী আছে! নাও, নাও। এইতো…’

রিয়ান কাঁপা কাঁপা হাতে ফাইজাকে বুকে জড়িয়ে নেয়। কী ভীষণ আনন্দের স্রোত বয়ে যায় তার অন্তরের ভেতরে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতন নয়। তাদের তন্ময়ের সন্তান এরা এই ভাবনাই যেন তার চোখ ভিজিয়ে তুলতে যথেষ্ট। রিয়ান ছলছল চোখে ফ্যাচফ্যাচ কণ্ঠে আওড়ায়,

‘মামণি, কী ভীষণ কষ্ট করেছি আমরা তোমাদের পৃথিবী দেখাতে তা যদি ভবিষ্যতে জানো আমাকে তুমি গুণেগুণে গালে চারটা চুমু দিবে তুমি। লিখে রাখো।’

শুহানি ঠোঁটে ঠোঁট টিপে হাসি চেপে চিমটি কাটে রিয়ানের বাহুতে। শাসায় চুপিসারে, ‘তুই কী থামবি?’

তন্ময় দীর্ঘশ্বাস ফেলে। আড়চোখে দেখে মাহিনের আগ্রহী মুখ। মাহিন মাথা নুইয়ে তন্ময়ের কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,

‘কংগ্রাচুলেশনস, দোস্ত। তোর বাবা হওয়ার ক্রেডিট কিন্তু আমাদের একপার্সেন্ট হলেও আছে। হ্যাঁ, মানছি নাইন্টি নাইন পার্সেন্ট তোর। কিন্তু দোস্ত, বাসর আমরাই সাজিয়েছিলাম, রিমেম্বার? নাইলে কিন্তু আজ তুই দুটো সন্তান হাতে দাঁড়াতে পারতি না। তাই এখন বাবাকে আমার কোলে দে তাড়াতাড়ি।’

তন্ময় নির্বিকার থাকতে পারে না। থমথমে চোখে বন্ধুকে কিছুক্ষণ দেখে নেয়। অগত্যা নিঃশব্দে হেসেও ফেলে ওদের কাণ্ডতে। সাথে সাথে সন্তানকে অতি সাবধানে বাড়িয়ে দেয় বন্ধুর কোলে। মাহিন উৎসাহিত তবে কম্পিত হাতে ফাইজাকে কোলে নিয়ে মোমের মতন গলে যায়। মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। তন্ময় সে দৃশ্যে হাসে। নরম চোখে দেখে সন্তানদের ঘিরে থাকা আবেগে আপ্লূত পরিবারকে। হাত ঘড়িতে দৃষ্টি বুলিয়ে তন্ময় সরে আসে। খুঁজে বেড়ায় নার্সদের।
বাইরে ঝুম বৃষ্টি নামছে তখনো। ভোররাত থেকেই নেমে যাচ্ছে। ঝড়ো বাতাস এখনো বিদ্যমান। করিডোরের মাথায় মস্তবড়ো জানালা। জানালার কাঁচে বয়ে যাচ্ছে বৃষ্টির রেখা। তন্ময় দাঁড়িয়ে আছে এখানটাতেই, ঠিক জানালার সামনে। দৃষ্টি শূন্যে। ভাবনারা সচেতন। গোটা একদিন পোষ্ট অপারেটিভ কেয়ারে রাখা হবে অরুকে। জ্ঞান ফিরলে শুধুমাত্র স্বামীকে সেখানে ঢোকার অনুমতি দেয়া হবে। তন্ময় অপেক্ষা করছে অরুর জ্ঞান ফেরার। ডাক্তার বলেছিলেন ঘণ্টা খানেক লাগবে। ঘণ্টা খানেক তো সেই কখন কেটে গেল। অরুর কী এখনো জ্ঞান ফেরেনি? তন্ময় কোনোভাবেই শান্তি পাচ্ছে না যে। অরুকে একনজর না দেখা অবধি বুঝি পুরোপুরি শান্তি নেই তার। অবচেতন মনটা অশান্ত হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে ঘুরছে তার চেতনাও। চোখের পাতায় ভেসে বেড়াচ্ছে অরুর আদুরে, হাস্যোজ্জ্বল দীপ্তি ছড়ানো মুখখানি। কয়েকটি ঘণ্টা তার কাছে এক যুগের সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাইরের এমন ঝুম বৃষ্টি মনে করিয়ে দিচ্ছে কতশত স্মৃতির মেলাবন্ধন। অরুর সহস্ররকমের আবদার, ইচ্ছেদের, নানান ধরনের অদ্ভুৎ কাণ্ডের সংমিশ্রণের এক ফিল্ম যেন চোখের পাতায় ছাড়া হয়েছে। সেই ফিল্মের একটি অংশতেই তার মনোযোগ স্থির হয়। 

অরু তখন সবে সতেরোতে। দুগাল ভরতি মাংস, ফুলোফুলো। চেহারা জুড়ে বাচ্চাবাচ্চা ভাব। গোলগোল চোখ দুটো তুলে তাকালে মনে হতো খরগোশ চেয়ে আছে। তন্ময় ওই চোখে চেয়ে কখনো ওর একটি আবদারও ফেলতে পারেনি। ও না তখন নতুন নতুন শাড়ি পরতে চাইতো, সুন্দর সুন্দর কামিজ পরতে চাইতো। সাজগোজ করে পরিপাটি থাকতে ব্যাকুল হয়ে পড়তো। যেই পোশাকে একটু বড়ো বড়ো দেখাবে তাই পরে তন্ময়ের চারিপাশে ঘুরতে উতলা হয়ে থাকতো। ভারী দস্যি ছিল। তন্ময় সবসময়, সবখানে, সবভাবে ওকে লক্ষ্য করতো। গোপনে খুব করে ওর পাগলামি দেখতো, আশ্চর্যও হতো। এতো ধৈর্য বুঝি কাউকে মাত্রাতিরিক্ত ভালো লাগলেই আসে? নাইলে তন্ময়ের মতন এমন নির্বিকার, চুপচাপ, গম্ভীর পুরুষকে ওমন কিশোরী বয়সে মন দেবার মানেই হয় না। তার জন্য ওমন আধপাগল কাণ্ড করার কারণও হয় না। ওর বয়সী মেয়েরা তখন সম্ভবত একটু বেয়ারা ছেলেদের পছন্দ করে থাকতো। যারা প্রেমে টপ ক্লাসের সার্টিফিকেট প্রাপ্ত। পিছু পিছু ঘুরবে, ত্যক্তবিরক্ত করবে। কিন্তু অরু ছিলো ভারী অদ্ভুৎ। তন্ময়ের মতন একজন, যে প্রেমে পাগল অরুকে এড়িয়ে বেড়িয়েছে বছরের পর বছর, এমন একজনকে কী করে কেউ পছন্দ করে যেতে পারে এমন মাত্রায়? সেক্ষেত্রে তন্ময়ের প্রেমে পড়ার, ভালোলাগার, ভালোবাসার হাজারো কারণ আছে। চোখের সামনে এমন সুন্দর দেখতে এক দস্যি মেয়ের চঞ্চলতার প্রেমে পড়া কঠিন কিছু তো নয়, বরঞ্চ সহজ এক বিষয়। তন্ময় মুগ্ধ হতো ওর সব কিছুর ওপর। তন্ময়কে দেখতে পেলেই কেমন জ্বলজ্বল করতো ওর চোখদুটো। শরীরে এক অন্যরকম আনন্দ নিয়ে ঘুরেবেড়াতো তার চতুর্দিকে। ওর কর্মকাণ্ডই বলে দিতো মুখে বলতে না পারা হাজারো কথা। সতেরোতে ও শুধুই দূর থেকে তার পিছু নিতো। তবে আঠারোতে ওর পরিবর্তনটা ছিলো অন্যরকম, চোখে বিঁধার মতন। ওই বয়সটাই যেন মেয়েদের সৌন্দর্যের বিস্তারিত প্রকাশ ঘটে। তখন বাদলার দিন। যখনতখন ঝুম বৃষ্টি নামে ঘণ্টা পর ঘণ্টা। সেই দিনও নামছিল। ভোর থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছিল। তন্ময় সেদিন বাড়িতেই। ছুটির দিন তো। বিকেলের পরপর বৃষ্টির মাত্রা বাড়ে। আকাশ কালো হয়ে ছিলো। তন্ময় কেবলই উঠেছিল ছাঁদের উদ্দেশ্যে। ছাঁদের দুয়ারে গিয়েই তার পাজোড়া থমকে যায় পুরোপুরি। শ্বাসপ্রশ্বাস ক্ষণিকের জন্য বুকে আটকে রয়। ছাঁদে অরু ভিজছে। টপটপ করে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে ওর গা জুড়ে। কোমর সমান কালো চুলগুলো ছাড়া। সেগুলো ভিজে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভাঁজে ভাঁজে লেপ্টে ছিল। ওর দু'হাতে তন্ময়ের নেভিব্লু রঙের শার্টটা। বুকে তা শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছে। হাসছে, ঘুরছে। বিড়বিড় করে কথাও বলছে। তন্ময়ের হৃৎপিণ্ড তখন উত্তেজিত। কী জোরসে বিট করছিল! মনে হচ্ছিল, হার্টব্লক খাবে সে। দু'হাতের শক্ত মুষ্টিবদ্ধও তার চেতনা ফেরাতে ব্যর্থ। বৃষ্টিতে ভেজা অরু আর অরুর বুকে থাকা তার শার্ট যেন তার জন্য কালবোশেখী ঝড়ের পূর্বাভাস ছিল। শার্টের বদলে তন্ময় ওই বুকের মধ্যে—এই কল্পনা তার মাথা থেকে কোনোভাবেই যাচ্ছিলো না। এরপর থেকে অরুর পাগলামির মাত্রা দিন বা দিন বাড়ছিলো বৈ কমছিল না। নানাভাবে, নানা কায়দায় তন্ময়কে পাগল না করলে যেন ওর পেটের ভাত হজম হচ্ছিল না। তন্ময়ও ছিলো এক পাগল, প্রচণ্ড রকমের এক উন্মাদ।

 অরুর জন্য উন্মাদ, অরুতেই উন্মাদ। 

— — —

‘স্যার, পেসেন্টের জ্ঞান ফিরেছে।’

তন্ময় চমকে ওঠে। চেতনা ফেরে তার। সামনে-পেছনে না তাকিয়ে মুহূর্তেই দ্রুত কদমে এগোয় পোস্ট অপারেটিভ রুমের দিকে। তার ব্যাকুল, অধৈর্য্য পা-জোড়া একমুহূর্তের জন্যও থামে না। সজোরে একটানে দরজাটা খুলে ঢুকেই থমকে পড়ে। নিপুণ দৃষ্টিতে দেখে বেডে শুয়ে থাকা দেহটা। দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়েছে নার্স। অরু শুয়ে আছে। হাতে স্যালাইন চলছে। সে দরজার দিকে ফিরে চেয়েইছিল। তন্ময়কে দেখতে পেতেই ঠোঁট ফুলিয়ে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে। ডাকে,

 ‘তন্ময় ভাই…’

তন্ময় বড়ো করে শ্বাস টেনে নেয়। অনুভব করে তার অশান্ত হৃদয় শান্ত হয়ে পড়েছে এক পলকেই। হৃৎপিণ্ডের গতি স্বাভাবিক হয়েছে। অসহনীয় হয়ে ওঠা পৃথিবীটা মুহূর্তে সহনীয় হয়ে যাচ্ছে। তন্ময়ের সাড়া না পেয়ে অরু ফুপিয়ে বিড়বিড় করে ওঠে,

‘আমাকে কী আর আপনার ভালো লাগছে না? বাচ্চাদের পেয়ে বুঝি আমাকে আর মনে নেই আপনার!’

বলতে বলতে উঠে বসতে চাইলে তন্ময় অসহায় কদমে দ্রুত এগিয়ে জাপ্টে ধরে ওকে। শুইয়ে দেয় সাবধানের সাথে। দু'হাতে অরুর ফ্যাকাসে মুখখানি ধরে অজস্র চুমু বসায় একেক করে মুখের প্রত্যেকটা অংশে। নাকের ডগায় গাঢ় চুমু খেয়ে চোখের মণিতে চায়। অরুর চোখ দুটোতে তারাদের নিবাস। তন্ময় সেই চোখ দুটোতেও ঠোঁট ছুঁয়ে দেয়। একটি হাতের পাতা নিজের দুটো হাতের পাতায় জড়িয়ে নিয়ে মিহি স্বরে শুধায়,

‘কেমন লাগছে এখন?’

অরু নাক টেনে বলে, ‘খুব ভালো লাগছে। আমিতো এখন আপনার বাচ্চাদের মা।’

তন্ময় ঠোঁটে ঠোঁট টিপে ধেয়ে আসা হাসিটুকু গিলে ফেলতে চেয়েও পারে না। হেসে ফেলে শব্দ করে। মাথা নুইয়ে অরুর হাসি মাখা ঠোঁটে শক্ত করে চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বলে,

‘হুঁ, আমার বাচ্চাদের মা। এখন কী বাচ্চাদের পাশাপাশি বাচ্চার মাকেও পালতে হবে নাকি শুধু আদর করলেই হবে?’

অরু ভারী লজ্জা পায়। দৃষ্টি নামায়। তন্ময়ের দিকে চাইতেই পারে না। সেভাবেই বিড়বিড় করে বলে,

‘আমি কি বাচ্চা নাকি?’

তন্ময় আগ্রহী হয়, ‘ওহ, তাহলে তো পালতে হবে না। খুব আদর করতে হবে, তাই তো?’

অরু অন্যদিকে চেয়ে দু’গাল ভরে হেসে মাথা দোলায়। পরমুহূর্তেই এক হাত ছড়িয়ে দেয়। জড়িয়ে ধরার আহ্বানে সাড়া না দেবার সামর্থ্য কী তন্ময়ের আছে? নেই তো। সে ঝুঁকে অরুকে বুকে জড়িয়ে ধরে আলতোভাবে। চোখজোড়া বুজে বড়ো করে শ্বাস টেনে নেয়। চুলে ঠোঁট ছুঁইয়ে হাত বুলিয়ে আওড়ায়,

‘আমার পৃথিবী তুই ছাড়া অসম্পূর্ণ, জান। তুই আমার পৃথিবীর, চাঁদ। আমার বেঁচে থাকার অনেক বড়ো কারণ।’
.
.
.
চলবে......................................................................

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp