হাওয়াই মিঠাই - পর্ব ৪৮ - তামান্না ইসলাম শিমলা - ধারাবাহিক গল্প

হাওয়াই মিঠাই - তামান্না ইসলাম শিমলা
          ভোরের আলো ফুটেছে সবে, আকাশ আজ মেঘাচ্ছন্ন। তেহরাব গিয়েছে মসজিদে, এসে পরবে হয়তো এখুনি। তনয়া নামাজ শেষে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে, শীতল বাতাস এক অন্য রকম প্রশান্তি বয়ে আনছে। এমন সময় দরজা খোলার খট আওয়াজ পেয়ে পেছনে তাকাল তনয়া, তেহরাব এসেছে। নামাজ শেষে হাটাহাটি করে বাড়ি ফেরে তেহরাব, এই বিষয়টা ভালো লাগে তনয়ার কাছে।

“তনয়া, আমার বাইকের চাবি কই?”

হঠাৎ তেহরাবের ভারিক্কি স্বরে কিছুটা চমকায় তনয়া, দ্রুত রুমে আসে। বাইকের চাবিতো ওয়ারড্রবের উপরেই ছিল, তেহরাব সেখানেই খুঁজছে। তনয়া এগিয়ে গিয়ে বলে,

“ এখানেই তো রেখেছিলাম।”

তেহরাব চাবি খুঁজতে খুঁজতে গম্ভীর কন্ঠে বলে,

“এখানে তো নেই, ভালো করে মনে কর।”

তনয়া ওয়ারড্রবের কাছে আসলো, চাবিটা গেল কই? 

“পেয়েছি!”

তেহরাবের কন্ঠে পেয়ে পাশে তাকায় তনয়া, তেহরাব কাবার্ড থেকে থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট ও একটি ঢিলেঢালা ওভার সাইজ টি শার্ট বের করে দ্রুত পরে নিল। তেহরাবতে সাতসকালে তৈরি হতে দেখে ভ্রু কুঁচকাল তনয়া,

“কোথায় যাবেন?”

“তোর বোনের শশুর বাড়ি, দ্রুত রেডি হয়ে আয়।”

তনয়া চমকায়, এত সকাল সকাল কেন যাবে? আর তারা তো ও বাড়ি থেকে এক সাথে তানহার শশুর বাড়ি যাবে, তাহলে?

“এখনই কেন?”

তেহরাব কাঠকাঠ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তনয়ার দিকে,সানগ্লাসটা নিয়ে টি শার্টের গলায় ফেলে। ঘড়ি পড়তে পড়তে বলে,

“আমি বলেছি তাই।”

তেহরাবের মেজাজ স্বাভাবিক নয়, কিছু একটা হয়েছে। তনয়া কথা বাড়ায় না, কাবার্ড থেকে গোলাপি রঙের থ্রিপিস বের করে ওয়াশরুমে চলে যায়।
ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসে দেখে তেহরাব বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে, এবার মেজাজটা তনয়ারও গরম হল। চুলগুলো হেয়ারক্লিপ দিয়ে খোঁপা করে তেহরাবের কাছে আসলো, কিছুটা রাগ দেখিয়েই বলল,

“আপনি আবার সিগারেট খাচ্ছেন! আপনাকে মানা করেছি না খেতে?”

তেহরাব তনয়ার দিকে তাকায়, তনয়াকে একবার ভালো মতো দেখে নেয়। 

“মাথায় ঘোমটা দে, চল।”

নিজের প্রশ্নের জবাব না পেয়ে রাগটা আরো বাড়ল তনয়ার, তেহরাব হাত ধরতে আসলে তনয়া পিছিয়ে গিয়ে বলে,

“আমি কি বলেছি শুনতে পান নি? আমি না করার পরেও সিগারেট কেন খাচ্ছেন? বিরক্তিকর!”

তনয়া দাঁতে দাঁত খিঁচে বেরিয়ে যেতে নিলে তৎক্ষনাৎ তেহরাব তনয়ার হাত ধরে ফেলে। একটানে নিজের সামনে এনে দাঁড় করায়, ক্রুর হেসে সিগারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ে তনয়ার মুখের উপর। তনয়া চোখ মুখ কুঁচকে নেয়, এবার সত্যি সত্যি অসহ্যকর লাগছে।

তনয়া ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগল, তেহরাব আরো শক্ত করে তনয়াকে নিজের সাথে চেপে ধরল। সিগারেটটা নিচে ফেলে দিয়ে তনয়ার চুলের ক্লিপটা খুলে দিল। লম্বা কালো চুল গুলো সাথে সাথে ছড়িয়ে গেল শরীরে!! হাত রাখল চুলের ভাঁজে, নিজের আরেকটু কাছে এনে তনয়ার কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,

“এই সিগারেটের আগুনে পোড়া ঠোঁটই তোর প্রতিবার গ্রহণ করতে হবে, আমি যতই বিরক্তিকর হয় না কেন এই আমাকেই সারাজীবন তোর সহ্য করতে হবে।”

তেহরাবের হিশহিশানি কথায় শরীর কেঁপে উঠে তনয়ার, হৃৎস্পন্দন ভারী হয়ে উঠেছে। চোখ মুখ খিঁচে দাঁড়িয়ে রইল সে, বরফের ন্যায় জমে গেছে। তেহরাবের স্পর্শ, তার কথা গুলোই তনয়ার দূর্বলতা। তেহরাবের কাছে সে পেরে উঠে না, আর এই কারনেই কখনো রাগ অভিমানও করতে পারে না।

“ছ ছাড়ুন!”

তনয়ার কাঁপান্বিত কণ্ঠস্বর, তেহরাব ক্রুর হাসলো। এই মেয়ের ভীতু মুখশ্রী তার সবচেয়ে বেশি প্রিয়! তেহরাব তনয়ার মুখ উচু করে তাকায় তার ঠোঁটের দিকে, সেদিকে তাকিয়েই বিড়বিড় করে,

“আচ্ছা আজ সারাদিন এই ঘরে, আমি আর তুই, গোটা বাড়ি ফাঁকা থাকলে কেমন হবে?”

তনয়া তরাৎ করে চোখ খোলে, শ্বাস প্রশ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে এমনিতেই। তার উপর তেহরাবের বেপরোয়া স্পর্শ ও কথায় সব কিছু কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে, কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারল না যেন। তা দেখে তেহরাবের হাসি আরো গাঢ় হল, তনয়ার অধরে ছোট্ট করে চুমু খেয়ে বলল,

“বিয়ে তো শেষই, বৌভাতে গিয়ে আমাদের কি কাজ জান? আমরা বরং আজ সারাদিন রোমা……

তেহরাবের পুরো বাক্য শেষ হতে দেয় না তনয়া, হাত রাখে তেহরাবের মুখে। তেহরাব তনয়ার হাত নিজের মুখের উপর থেকে সড়িয়ে নেয়, 

“ প্লিজ, একটু।”

তনয়া দুদিকে মাথা নেড়ে না করে, তেহরাব অসহায় ভাবে নিভে আসা গলায় বলে,

“প্লিজ জান, একটু তাকা। কথা দিচ্ছি আমি একদম জেন্টাল থাকব।”

তনয়া তেহরাবকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলে,

“উফ না, ছাড়ুন।”

তেহরাব ছাড়ে না, উল্টো তনয়া গালে কপালে নিজের অধর ছোঁয়ায়। হাস্কি স্বরে বলে,

“আচ্ছা তোর ইচ্ছা, তবে রাতে কিন্তু ছাড় নেই। উল্টো আরো ভারী পরবে!”

তনয়া তরাক করে চোখ খুলে তাকায় বড়বড় চোখ করে,শুকনো ঢোক গিলে বলে,

“উহু, প্লিজ না।”

“তোর হাতেই সব, এবার বল।”

তনয়া আর কিছু বলতে পারে না, শুধু চোখ জোড়া বন্ধ করে নেয়, তেহরাব পেয়ে যায় তার কাঙ্ক্ষিত জবাব। তেহরাব তৎক্ষণাৎ আঁকড়ে ধরে তনয়ার অধর জোড়া। তনয়াও আঁকড়ে ধরল তেহরাবের টি শার্ট, সেই অবস্থায় তনয়াকে কোলে তুলে নেয় তেহরাব। বারান্দা থেকে প্রস্থান করে প্রবেশ করল রুমে, শব্দ করে বন্ধ করে দিল দরজা। হয়তো আবারো তারা মত্ত হবে ভালোবাসায়, একে অপরের বেপরোয়া স্পর্শে!

—————

নীল রঙের লেহেঙ্গা, সাথে ভারী সাজে দারুণ লাগছে তানহাকে। আর হালকা গোলাপি রঙের লেহেঙ্গা পরে আছে রাফা, দুজনকেই অসাধারণ লাগছে। শিহাব প্রত্যয় অতিথিদের আপ্যায়ন করতে ব্যস্ত, ওবাড়ি থেকে লোক চলে এসেছে। খেতে বসেছে সকলেই, এমন সময় বাইক নিয়ে হাজির হয় তেহরাব তনয়া।

তনয়া কিছু না বলে বাইক থেকে নেমে পরে, নিজের মাথায় থাকা ঘোমটাটা টেনে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। তেহরাব বাইক সাইড করে নিজেও৷ চলে আসে তনয়ার কাছে, সকলেই আজব দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তেহরাবের দিকে। তাকাবেই বা না কেন? বৌভাতের মতো অনুষ্ঠান, আর তেহরাব কিনা থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট আর ওভার সাইজ টি শার্ট পরে এসেছে। 

সকলের দৃষ্টি উপেক্ষা করে তেহরাব তনয়ার হাত ধরে তানহা ও রাফার কাছে যায়, দুজনেই বসে আছে স্টেজে। তনয়া এক পলক তেহরাবের দিকে তাকায়, তেহরাব তনয়ার দিকে। ভ্রু নাড়িয়ে জিজ্ঞেস করে,

“ কি?”

তনয়া দুদিকে মাথা নাড়ে, মিনমিনে গলায় বলে,

“কিছু না।”

তেহরাব ক্রুর হাসে, তনয়া স্টেজে চলে যায়। সবাই দু বউ এর ছবি তুলতে ব্যস্ত, তনয়াকে দেখেই রাফা চিৎকার করে উঠে, 

“ এই ফাজিল এতক্ষনে আসার সময় হল? আমি তো ভেবেছিলাম তুই আসবিই না।”

তনয়া মৃদু হাসে, রাফার চিৎকার শুনে তানহাও পাশে তাকায়। তনয়াকে দেখে উঠে দাঁড়ায়, তনয়া তানহার কাছে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে।

“ কেমন আছিস আপু? এত দেরি কেন হল?”

তনয়া জোরপূর্বক হাসে, আমতাআমতা করে বলে,

“ আ আসলে একটু কাজ ছিল, যাইহোক তুই ঠিকঠাক আছিস তো?”

তানহা উপর নিচ মাথা নাড়ে,  

“খেয়েছো?”

তানহার প্রশ্নে তনয়া মৃদু হেসে বলে,

“নাহ খাবো এখন, খেয়ে চলে যাব।”

রাফা ভ্রু কুঁচকায়,

“ চলে যাবি মানে? আমাদের সাথে যাবি না?”

তনয়া জোরপূর্বক হেসে বলে,

“ নাহ, শশুর বাড়ি যাব।”

“কেন?”

“ একটু কাজ আছে, আচ্ছা তোমরা থাকো আমি আসছি।”

তানহা আর রাফাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই তনয়া নেমে পরে, তেহরাব নিচে দাঁড়িয়েই ফোন টিপছিল। তনয়ার উপস্থিতি টের পেয়ে চোখ তুলে তাকাল, তনয়া অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় তেহরাবের চোখের দিকে। তেহরাব বাঁকা হেসে ইশারায় চুমু ছুঁড়ে মারে তনয়ার দিকে, তনয়া না চাইতেও হেসে ফেলে।

“এবার চলুন ম্যাডাম, খেয়ে দেয়ে বিদায় হওয়া যাক।”

তেহরাব তনয়াকে নিয়ে খেতে চলে যায়, এর মাঝে একবার শিহাবের সাথে দেখক হয় তাদের। খাওয়া শেষে তনয়া সালমার ঘরে আসে, তিনি আজ মহাব্যস্ত। সারাদিন ছুটছে, শুনেছে শরীর ভালো নেই তার। ঘরে গিয়ে দেখলো সালমা আলমারি থেকে কিছু একটা বের করছে,

“কেমন আছো ফুপি?”

সালমা চমকে পেছনে তাকায়, তনয়াক দেখে মুচকি হেসে বলে,

“ তোর আর তেহরাবের জন্য শাড়ি আর পাঞ্জাবী কিনেছিলাম, আর দেওয়া হলো না। এইনে তোর শাড়ি, আর তেহরাব কই? ডাক দে।”

তনয়া দরজার দিকে তাকাল, তেহরাব ভেতর আসছে দেখে সালমা ব্যাগটা হাতে নেয়।

“ আসসালামু আলাইকুম ফুপি, কেমন আছেন?”

সালমা সৌজন্যমূলক হাসলো,

“ এইতো বাবা ভালো, তুমি কেমন আছো?”

তেহরাবও হাসলো,

“ জ্বি আমিও ভালো।”

“ এটা তোমার জন্য।”

সালমা তেহরাবের হাতে ব্যাগটা দিয়ে কথাটা বলে, তেহরাব অবাক হয়ে তনয়ার দিকে তাকায়।
সালমা মুচকি হেসে বলে,

“সামান্য উপহার বাবা।”

তেহরাব হেসে জবাব দেয়,

“ধন্যবাদ, আচ্ছা আজ আসছি।”

সালমা তনয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,

“আবার আসিস, তেহরাব তুমিও এসো।”

তনয়া মাথা নাড়ে, অতঃপর দুজনেই বেরিয়ে যায়। যাওয়ার আগে তানহা আর রাফার সাথে দেখা করে গিয়েছে অবশ্য, বাইকে উঠতেই তেহরাব সানগ্লাসটা পরে নিল। তনয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“প্রতিবার ধরে বসার কথা বলতে হয় কেন?”

তনয়া গাল ফুলিয়ে মৃদু অভিমানী মুখ করে তেহরাবকে ধরে বসে, তেহরাব বাইক স্টার্ট দেয়।
কিছু দূর আসতেই তনয়া প্রশ্ন করে,

“কোথায় যাবেন?”

তেহরাব বাইকের স্পিড বাড়াল, গম্ভীর কন্ঠে বলল,

“তোকে মারতে।”

তনয় তৎক্ষনাৎ ভেংচি কেটে বলে,

“আপনি আমাকে মারতে পারবেন? হুহ, কখনোই না।”

তেহরাব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লুকিং গ্লাসে তনয়ার দিকে তাকায়, গম্ভীর কন্ঠে বলে,

“ পারব না বলছিস?”

তনয়া নিজেও এবার ভ্রু কুঁচকাল, মাথা নেড়ে বলল,

“নাহ।”

তেহরাব ক্রুর হেসে স্পিড আরো বাড়াল,

“ তাহলে চল প্রমাণ দেই।”

অতিরিক্ত স্পিডে বাইক চালানোর কারনে তনয়ার ভয় করছে, সে আরো মিশে যায় তেহরাবের সাথে। চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিয়ে চিৎকার করে উঠে,

“ তেহরাব স্পিড কমান, ভয় করছে।”

বাইক চালানো অবস্থাতেই তেহরাব বলল,

“ ভয় কেন করছে?”

“ এ এক্সিডেন্ট হয়ে যাবে তো।”

তনয়ার ভয় মিশ্রিত কন্ঠস্বর শুনে তেহরাব হাসে,

“ হলে হোক, দুজন নাহয় এক সাথেই মরলাম।”

এবার ভয়ের চোটে ঠোঁট উল্টে কেঁদে ফেলল তনয়া,

“নাহ, প্লিজ প্লিজ কমান, স্পিড কমান, কিছু হয়ে যাবে।”

তনয়াকে কাঁদতে দেখে তেহরাব নিজেই হতভম্ব হয়ে গিয়েছে, সে ভাবতে পারেনি এটুকু কারনে তনয়া এভাবে কেঁদে ফেলবে৷ তেহরাব স্পিড কমিয়ে নরমাল স্পিডে বাইক চালাতে লাগল,

“হয়েছে হয়েছে, আর কাঁদতে হবে না। কমিয়েছি তো, কাঁদার কি আছে?”

তনয়া তেহরাবের পিঠের সাথে মিশে আছে, হিচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলে,

“অনেক কিছু, এত জোরে চালাবেন না প্লিজ।”

তেহরাব দীর্ঘশ্বাস ফেলল, এই মেয়ে অল্পতেই কান্না জুড়ে দেয়।

“এবার থাম, মানুষ তো ভাববে তোকে আমি কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছি। তখন তো মানুষ আমার ছাল চামড়া উঠিয়ে ফেলবে পেটাতে পেটাতে!!”

তনয়া কিছু না বলে চুপ করে বসে থাকে, কিছু সময় পর হঠাৎ বলো উঠে,

“ আমি বাড়ি যাব, শরীর কেমন করছে।”

তেহরাব দ্রুত বাইক থামিয়ে দেয়, তনয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,

“কি হয়েছে? কোথায় খারাপ লাগছে?”

তনয়া চোখ মুখ খিঁচে বসে আছে, তেহরাব অনুভব করল তনয়া তার টিশার্ট খুব শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে। তেহরাব নিজেই যেন অস্থির হয়ে উঠল, 

“ এই তনয়া, কি হয়েছে? কোথায় কষ্ট হচ্ছে?”

তনয়া বড় করে শ্বাস নিয়ে বলে,

“ পেট ব্যথা করছে,প্লিজ বাড়ি চলুন।”

“ বাড়ি কেন? চল হাসপাতালে যাই।”

তেহরাব বাইক স্টার্ট দিতে নিলে তনয়া তৎক্ষনাৎ বাঁধা দেয় তেহরাবকে,

“ নাহ,প্লিজ বাড়ি চলুন। প্লিজ।”

তনয়ার এমন অবস্থা ঠিক নিতে পারছে না তেহরাব, তার ভেতরে ঝড় চলছে। তার তনয়ার কষ্ট হচ্ছে,

“ আচ্ছা বাড়িতেই যাব, একটু শান্ত হ।”

তনয়া দুহাত দিয়ে তেহরাবকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে,

“ হুম, চলুন।”

তেহরাব আবারো বাইক স্টার্ট দেয়, তার মন অশান্ত হয়ে উঠেছে। কি হলো তনয়ার হঠাৎ? বিয়ের পর এমন তো কিছু হয়নি,এভেন তাদের প্রথম কাছে আসার পরেও না। আজ হঠাৎ কি হলো? তনয়া ঠিক আছে তো? সব ঠিক আছে নিশ্চয়? 
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp