কামিনী - পর্ব ৩৯ - মম সাহা - ধারাবাহিক গল্প

কামিনী - মম সাহা
          কক্ষ জুড়ে হেমন্তের বাতাসের মতন শব্দহীন ভাবেই বয়ে গেলো নিবিড়, নিশ্চুপতা। 
 ইনান ণেকিতান অবিশ্বাস্য ভঙ্গিতে তাকিয়েই রইল হেমলকের দিকে। রানিকে চিনে ফেলার এই বিশেষ গুণটি দেখে হেমলক বিস্মিত না হয়ে পারল না। তবে ভড়কালো না মোটেও। সে বহুক্ষণের নিস্তব্ধতা ভেদ করে স্বচ্ছ স্বরে বলল,
“কোথায় রানি কামিনীকাঞ্চন? ও আমার স্ত্রী।”

হেমলকের কথার পর পরই গা কাঁপিয়ে হাসলো ইনান ণেকিতান। যেন তাকে ভীষণ হাস্যকর কিছু বলা হয়েছে। রানি সবকিছু দেখছেন বিস্ময় নিয়ে। ইনান ণেকিতান এত সহজে তাকে কীভাবে চিনে গেলো তা ভেবে ভেবেই আশ্চর্য হচ্ছেন। তিনি এলেন আর বসলেন। মুখও দেখালেন না, কথাও বললেন না তাহলে কীভাবে চিনলো ইনান ণেকিতান? তাছাড়া ছবি অঙ্কনের বিষয়টিও তার মাথায় ঘুর ঘুর করছে কেবল অনবরত।

 “আপনি আমাকে চেনাতে চাচ্ছেন? রানি কামিনীকাঞ্চন কে আমি চিনি না? আমাকে কি বোকা ভেবেছেন আপনি, হেমলক পিয়ার্স? এই রানিকে পাওয়ার জন্য আমি রানির পা অব্দি ধরেছি। দিনের পর দিন তার প্রাসাদে পত্র পাঠিয়েছি যেন সে আমাকে একটু আমন্ত্রণ করে। আর আপনি আমার সাথে চতুরতা দেখাতে চাচ্ছেন? ভাবছেন আমি রানিকে চিনবো না?”

 হেমলক দেখলো ইনান ণেকিতানের কণ্ঠস্বরে আত্মবিশ্বাসী ভাব স্পষ্ট। মিথ্যে বলে আর কোনো লাভই নেই। 
ঠিক সেই মুহূর্তে রানি নিজের ঘোমটা খানা খুলে ফেললেন। আয়েসি ভঙ্গিতে বসে থাকলেন কেদারায়। তার ভেতর কোনো ভয় নেই। ইনান ণেকিতান তাকে চিনে ফেলার পর কী হতে পারে সেই ভাবনাও নেই। 
বরং তিনি বেশ সহজ-স্বাভাবিক স্বরে বললেন,
“বসুন, রাজা ইনান। এতটা উত্তেজিত হবেন না। আমরা বসেও কথা বলতে পারি।”

 ইনান ণেকিতানকে অধৈর্য দেখালো। তিনি বসতে নারাজ। তিনি মানতেই পারছেন না যে, তার স্বপ্নের নারী অন্য কারো বধূ। 
রানি ইনান ণেকিতানের ভাবনা ধরতে পারলেন। কীভাবে ইনান ণেকিতানকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব তা-ও তার বেশ জানা। এবং সেই জানাটাকেই কাজে লাগিয়ে তিনি বললেন,
“দেখুন, আমাদের এই বিয়েটি কেবলই একটি পথ। এ ব্যতীত কিছু নয়। আপনি বিচলিত হচ্ছেন অকারণে। বসুন আপনি, আমরা আমাদের কথোপকথন শেষ করি।”

 ইনান ণেকিতানের কাছে এবার খটকা লাগলো। হেমলক তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করল রানি চাচ্ছেনটা কী করতে। 
ইনান ণেকিতান বসলো। প্রশ্ন ারল, “আপনাদের বিয়েটা তাহলে কোনো উদ্দেশ্যে? এজন্য কি আপনি রাজ্য ছাড়া হয়ে এখানে লুকিয়ে আছেন?”

 “হ্যাঁ, উদ্দেশ্যে। আমার রাজ্যটি আমার হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। এবং এখন সেই রাজ্য তো আর আমি একা হাতে ফিরিয়ে আনতে পারবো না। তার জন্য আমার প্রজা, সৈন্য, শক্তি সবই চাই। এবং এর জের ধরেই হেমলক পিয়ার্সকে বিয়ে করা।”

 রানির কথায় এবার ইনান ণেকিতানকে আরেকটু স্থির হতে দেখা গেলো। তবে সে উৎকণ্ঠা নিয়ে বলল, “তাহলে তাকেই কেন বিয়ে করলেন? আমাকেও তো এই বিপদে স্মরণ করতে পারতেন, রানি?”

 “তাকে কেন করেছি, আপনাকে কেন করিনি তার ভেতর অনেক কথা রয়েছে। তবে আমি কেবল এতটুকুই চাইবো, আপনি আপাতত আমার পরিচয়টি আর কাউকে দিবেন না।”

 “তার পরিবর্তে আমি কী পাবো, রানি?” 
রানি এবার তাকালেন ইনান ণেকিতানের চোখে চোখ রেখে। রাজা ইনানের মতলব তিনি বেশ ভালো করেই আঁচ করতে পেরেছেন। ঐ ঠোঁটের বাঁকা হাসি, চোখের কৌতুক কী বুঝাতে চাচ্ছে রানি তা বেশ ভালো করেই বুঝতে পারলেন। 
রানি তাই কোনো প্রতিশ্রুতি দিলেন না। বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বললেন, “কী পাবেন তা পরেই দেখবেন, আপাতত 
যা বলেছি তা করুন।”

 “তাহলে সে কথাই রাখবেন, রানি। আমি যা চাই আমাকে তা দিবেন অবশ্যই।”

রানি হ্যাঁ বোধক অথবা না বোধক কিছুই বললেন না। কেবল হাসলেন। ক্ষমতা বা বুদ্ধিতে তার উপরে যাওয়ার মতন বিবেক, বিবেচনাবোধ এই রাজা ইনানের নেই। 
 হেমলক তাকিয়ে সব দেখলো তীর্যক দৃষ্টিতে। ভেতর ভেতর তার ঈর্ষা অনুভব হলো। সে বেশ বুঝতে পারলো রাজা ইনান কী চাওয়ার বা পাওয়ার কথা ভাবছে। তাছাড়া আর কেউ না জানলেও সে তো জানে রাজা ইনান কতটা মরিয়া রানির সান্নিধ্য পেতে। 

 কথোপকথনের শেষে রাজা ইনান প্রস্থানের জন্য তৈরি হলো। উঠে দাঁড়াল নিজের আসন ছেড়ে। যাওয়ার আগ মুহূর্তে হেমলককে বলল, “আমি রানি কামিনীকাঞ্চনের কথা ভেবেই সমস্তটা বর্তমানে সয়ে নিলাম। কিন্তু চিত্রশিল্পী হেমলক পিয়ার্সের এই বেইমানিটা আমার মনে থাকবে চিরকাল।”

 হেমলকের আর ধৈর্যে কুলালো না। মনে হলো রাজা ইনানের গলার টুটি টেনে ছিঁড়ে ফেলতে। কিন্তু কেবল আর কেবল মাত্র রানির কথা ভেবেই সে এই কাজটি করল না। তবে কড়া স্বরে বলল,
“আমি আপনার সাথে কোনো বেইমানি করেছি বলে আমার মনে পড়ছে না, রাজা ইনান। তাই বার বার এই কথাটি বলে আমাকে বিব্রত করবেন না।”

 রাজা ইনান এহেন কথা শুনে খানিক খ্যাপে গেল, “আপনি বেইমানি করেননি? করেননি বেইমানি? আপনি তো জানতেন আমার বিশ্রাম কক্ষ জুড়ে রানির কত-শত তৈলচিত্র ঝুলানো? সবগুলো তো আপনাকে দিয়েই আমি তৈরি করিয়ে ছিলাম, অঙ্কন করিয়েছিলাম। আপনি জানতেও চেয়েছিলেন যে- রানি কামিনীকাঞ্চনের ভেতর এমন কি আছে যা দেখে আমি উন্মাদ হয়ে গিয়েছি। আমি বলেছিলাম- এত জানতে চাইতে যাবেন না তাহলে আপনিও উন্মাদ হবেন। মিলেছে তো সেই কথা? উন্মাদ হয়েছেন তো? আপনার রক্তচক্ষু বলে দিচ্ছে আপনি রানির সাথে আর কাউকে কল্পনা করতে পারছেন না।”

  প্রথম কথাগুলো গা না করলেও শেষ বাক্যটায় হেমলক চট করে চোখ নামিয়ে ফেলল। রানি স্থির হয়ে বসে থেকে দু'জনের এই কথোপকথন শুনলেন। 
কে তাকে পাওয়ার জন্য মরিয়া হলো কিংবা কে নতুন করে পেতে চাইলো, তা দিয়ে তার মূলত কিছুই যায় আসে না। তার মাথায় এখন ঘুরছে কেবল নিজের রাজ্য ছিনিয়ে নেওয়ার ভাবনা। এবং রাজ্য লাভের জন্য যা যা করতে হয়, যার যার সাথে সক্ষতা করতে হয়, তার তার সাথেই সুসম্পর্ক করতে তিনি প্রস্তুত। 

রাজা ইনান বেরিয়ে যেতেই হেমলক দাঁড়িয়ে রইল শক্ত চোখমুখ নিয়ে। রসহীন স্বরে বলল, “তুমি যে বিশ্বাস করে এতকিছু বললে তাকে, সে যদি বিশ্বাসের মর্যাদা না রাখে?”

  রানি তাচ্ছিল্য করে হেমলকের কথার পরিপ্রেক্ষিতে বললেন, “আমি বিশ্বাস করে বলেছি কখন বললাম? আমি তো কেবল গুটি বানিয়েছি। আমাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় সে সব করতে পারবে।”

“কিন্তু তুমি তো তার হবে না।”

  রানি ওঠে দাঁড়ালেন। বিনা বাক্যে এগিয়ে গেলেন দরজা অব্দি। এরপর দাঁড়ালেন কী ভেবে। ঘাড় ঘুরিয়ে সামান্য হেসে বললেন,
“আমি কার হবো, কার হবো না, তার ভাবনা আমার। আপনি অত ভাবতে যাবেন না,। রাজা ইনানের মতন মোহে ডুবে যাবেন তাহলে। আর নয়তো আপনার ভ্রাতার মতন ভেঙে পড়বেন।”

কথা শেষ করেই হনহনিয়ে বেরিয়ে গেলেন রানি। 
 হেমলকের রাগে তখন শরীর জ্বলছে। কেন এত রাগ লাগছে সে বুঝে উঠতে পারল না। তার মনে হলো সবকিছু ভেঙে ফেলতে। রানি কামিনীর এক বিন্দু সে কাউকে দিবে না। কাউকে না। 

—————
 
 গভীর নিশুতি রাত। যামিনী বেরিয়ে এলো একটি কক্ষ ছেড়ে। তার কপালের লাল টিপ, ঠোঁটের রঞ্জক এবড়োখেবড়ো হয়ে আছে। চুলগুলোও উড়ছে এলোমেলো। প্রাসাদের দাসদাসীরা রীতিমতো ঘুমিয়ে গিয়েছে সব। প্রহরীরা জেগে আছে নামমাত্র। 
 যামিনী কক্ষ থেকে বেরিয়ে ধীরে ধীরে যেতে লাগলো নিজের কক্ষে। সেখানে শশীপূর্ণা রয়েছে। শশীকে বলবে স্নানাগার প্রস্তুত করতে। তার ভীষণ স্নানের প্রয়োজন। 
চৈতলী রাজ্যের রাজা চন্দ্রশেখর ভীষণ পাষণ্ড লোক। নারীর দেহ পেতে না পেতেই পিচাশ হয়ে ওঠে। খুবলে খেয়ে ফেলতে চায় আস্ত শরীরটাকে। 

 যামিনী মনে মনে বলল, সখী আর যাই করুক, একটা কথা ঠিকই বলতো— কামে মগ্ন পুরুষদের কাছে হার মেনে যাবে নরখাদকও। এরা কামের নেশায় মনুষ্যত্ব হারিয়ে জানো য়ার হয়ে ওঠে। 

 
 যামিনী যদিও ভেবেছিল প্রাসাদের সকলেরই ঘুমে মগ্ন কিন্তু তার ভাবনাকে অবাক করে দিলো হ্যাব্রো। যামিনী দেখলো হ্যাব্রো দাঁড়িয়ে আছে। প্রাসাদের খালি বারান্দায়। দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। 
আকাশে উজ্জ্বল চাঁদ ওঠেছে। সেই রূপালি আলোয় ঝলমল করছে হ্যাব্রোর মুখ। যামিনী নিজের এ অবস্থায় আর হ্যাব্রোর সামনে যাওয়ার আগ্রহ পেলো না। এমনিই মানুষটা তাকে ঘৃণা করে। তার উপর যদি এই রূপ দেখে তাহলে আরও ঘৃণা বাড়বে।
এসব ভেবেই যেই না সে নিজের কক্ষের দিকে পা বাড়াতে নিবে ঠিক তখনই হ্যাব্রো কথা বলে উঠল,
“এমন কোনো কাজ করতে নেই যেটাতে মুখ দেখানোর মতন আর অবস্থায় না থাকেন।”

 শীতল কণ্ঠস্বর তার। যামিনী তাকালো না মুখ তুলে। 
হ্যাব্রো পুনরায় বলল, “আপনার জন্য করুণাও হয় না আজকাল। রানি কামিনীর সমকক্ষ হতে গিয়ে গণিকালয়ের গণিকা হয়ে উঠেছেন, তা কি বুঝতে পারছেন না?”

 “খবরদার, মুখ সামলে কথা বলুন।” যামিনীর উচ্চস্বরে তেমন কোনো হেলদোল হলো না হ্যাব্রোর। সে আগের ন্যায় দাঁড়িয়ে থেকে ভর্ৎসনার স্বরে বলল,
 “আমি চুপ হলেই কি পৃথিবী থেকে সত্য গোপন হয়ে যাবে? যাবে না। যামিনী, আজ একটি সত্যি কথা বড়ো বলতে ইচ্ছে হচ্ছে।”

হ্যাব্রো কখনোই যামিনীর নাম ধরে সম্বোধন করেনি। আজই প্রথম হওয়ায় যামিনীর শরীরটা কিঞ্চিৎ কেঁপে ওঠল। শিরশির করল ভরা আবেগ। চোখে জল এলো,
“কী কথা? বলুন।”

 হ্যাব্রো এবার সোজাসাপটা ভাবে তাকালো যামিনীর দিকে। দীর্ঘ ক্ষণ তাকিয়ে থাকলো কেবল পুতুলের মতন। যামিনী মরিয়া হয়ে ওঠল সত্যি কথাটি শোনার জন্য। তার মন কেবল বলল, হ্যাব্রো বোধহয় ভালোবাসার কথা বলবে! 

 “যে কথাটি বলতে ইচ্ছে করছে সেই কথাটি এই মুহূর্তে বললে কথাটির অপমান হবে। অপবিত্র নারীর জন্য সে কথা সাজে না। আপনি খুব বড়ো ভুল করেছেন। করে যাচ্ছেন। একদিন এমন দিন আসবে যে, সে ভুলের আনুশোচনা আপনাকে মৃত্যু দিয়ে করতে হবে। মনে রাখবেন কথাটা।”
  কথা শেষ করেই হ্যাব্রো সেই জায়গা থেকে তৎক্ষনাৎ প্রস্থান নিলো। যামিনী দাঁড়িয়ে রইল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে। তার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়লো এক বিন্দু অশ্রু।

—————

    রাত হলে রানির ঘুম আসে না। বিছানায় শরীর রাখলেই ছটফট করে। নিজের সামগ্রিক জীবনের কথা ভেসে ওঠে চোখের ওপর। আজও তার ব্যতিক্রম ঘটল না। তবে আজ তার মনে পড়ছে কেবল তৈলচিত্রের কথা। তৈলচিত্র গুলো হেমলকের অঙ্কন করা ছিলো তা তিনি ভালো করেই জানতেন। কিন্তু আজ রাজা ইনান বললেন তৈলচিত্র না-কি তিনি আঁকাতেন। তাহলে রাজা ইনানও বা কীভাবে রানির জীবনের কথা জানতো? তাছাড়া রাজা ইনান বুদ্ধিমান রাজা হলেও এতটা তুখর বুদ্ধিমান নয় যে চিত্রের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করবে। আর তার উপর রানির একান্তই ব্যক্তিগত জীবনের কথা রাজা ইনানের কখনোই জানার কথা নয়। তাই ধরা যায় তাকে যেই চিত্রগুলো পাঠানো হতো তা হেমলকই পাঠাতো। যদি পাঠিয়েও থাকে তাহলে হেমলকও বা জানলো কীভাবে সকল কথা?

 রানি ওঠে বসলেন। কক্ষে কার মন টিকছে না মোটেও। তিনি ওঠে হাঁটতে আরম্ভ করলেন। রাত হওয়াতে প্রাসাদটি নিস্তব্ধ। তিনি সোপান ডিঙিয়ে ছাদে গিয়ে দাঁড়ালেন। নির্মল বাতাস কিছুটা স্বস্তি দিতে লাগলো তাকে। মনে মনে সাজালেন ছকও। ভাবলেন আবার যেতে হবে গণিকালয়ে। তার আকাঙ্ক্ষিত নারীর খোঁজ বের করতে হবে যেকোনো মূল্যে। 

 ছাদের এধার-ওধার হেঁটে হেঁটে তিনি ছাক সাজাতে লাগলেন। কীভাবে কী করবেন তা-ও ভাবতে লাগলেন। ঠিক তখনই তার চোখ পড়লো প্রাসাদের ডান দিকে পেছনের সেই কক্ষের দিকে। তার মনে হলো কক্ষের সামান্য আলোতে কারো ছায়া। কেউ হাঁটছে। তখনই মনে পড়ে গেলো প্রহরীর বলা সেই কথাগুলো। এখানে অশরীরী আছে।

 রানি ভাবলেন একবার তিনি গিয়ে স্বচক্ষে দেখবেন। ভাবনা অনুযায়ী তিনি নিচে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ হতেই আরেকটি আশ্চর্যজনক ঘটনায় দাঁড়িয়ে পড়লেন। 
 তিনি দেখলেন প্রাসাদের পেছন থেকে রানি ইথুন আসছে লুকিয়ে। চাদর দিয়ে ঢাকা তার মুখটি। রানির খটকা লাগলো বেশ। রানি ইথুন এত রাতে গিয়েছিলোই বা কোথায়?

 রানি কামিনী আরেকটু ভালো করে খেয়াল করতেই দেখলেন কেবল রানি ইথুন একা ঘন বাগানের ভেতর থেকে বের হচ্ছে না, তার পেছনে একটি পুরুষালি অবয়বও রয়েছে। চাদর দিয়ে এমন ভাবে পুরুষটির মুখ ঢাকা যেন বুঝার উপায় নেই মানুষটি কে।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp