রাজপ্রাসাদ জুড়ে আনন্দোৎসব। বিভিন্ন রাজ্যের রাজাদের আহারের আয়োজন বেশ ভালো ভাবেই করা হয়েছে। এরপর নিদ্রা যাপনের জন্য তাদেরকে কক্ষও দেওয়া হয়েছে। রাতে আবার বাইজি নৃত্যের আসর বসবে। ক্যামিলাস রাজ্যের আথিতেয়তার জয়ধ্বনি চারপাশ জুড়ে।
যামিনী খাবারে মগ্ন হতেই হ্যাব্রো সরে গেলো তার কাছ থেকে। মনটা ভীষণ উতলা তার। হেমলক পিয়ার্সের বধূর কাছ অব্দি না যেতে পারলে মনের এই কৌতূহল দমাতে পারবে না সে। কিন্তু এটা বড়োই অশোভনীয় কাজ হবে। একটি রাজ্যের সামান্য সেনাপতি হয়ে এমন কাজ করা যদিও মানানসই নয় তবুও সে করতে প্রস্তুত। তার জন্য যদি কোনো শাস্তি পায় তা-ও মাথা পেতে নেবে সে।
ক্যামিলাস রাজ্যের রাজপ্রাসাদে হ্যাব্রো যতটা প্রবেশ করছে ততটাই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছে। কতটা শৌখিনতার সাথে এই মহল গড়া হয়েছে তা দেখেই সে বিস্মিত না-হয়ে পারছে না। রাজা হ্যাভেন এতটা শৌখিন মানুষ বলে তার মনে পড়ে না। দেখেও মনে হয়নি এটা শৌখিন ছিলেন। অথচ প্রাসাদ জুড়ে ঝলকে বেড়াচ্ছে শৌখিনতা। কী নেই এখানে! অচেনা ফুলদানী হতে শুরু করে কারুকার্যে শোভিত প্রাচীর, স্বচ্ছ কাঁচের তৈরি আলো রাখার বস্তু! দেয়ালে দেয়ালে মুগ্ধ করা তৈলচিত্র।
হাঁটতে হাঁটতে হ্যাব্রো এসে দাঁড়ালো একটি কক্ষের সামনে। কক্ষটির সামনে প্রহরী দাঁড়ানো। বস্তুর মতন দাঁড়িয়ে আছে তারা এক ধারে। কক্ষের দরজার উচ্চতা এতই বৃহৎ যে মাথা একবারে উপরের দিকে না করলে দরজার শেষ সীমানা দেখা সম্ভবপর নয়। এ্যাজেলিয়া রাজ্যে এমন দরজা ছিলো কেবল তাদের রানি কামিনীকাঞ্চনের।
হ্যাব্রো দরজা থেকে একটু দূরেই দাঁড়িয়ে ভেজানো দরজার ফাঁকফোকরে একবার দৃষ্টি রাখবে ভাবলো। কিন্তু পরক্ষণেই তার মনে হলো এমন চরিত্রের সে তো নয়। তাই সে দাঁড়িয়ে পড়ল। প্রহরীদের জিজ্ঞেস করল,
“ভেতরে কে?”
প্রহরীরা আগের মতনই ঠাঁই দাঁড়িয়ে থেকে যন্ত্রের মতন উত্তর দিলো, “রাজকন্যা লিলি।”
হ্যাব্রো ভ্রু কুঞ্চিত করল। লিলিকে সে শেষ দেখে গিয়েছিলো সেই কবে। এরপর লিলি সম্পর্কিত কিছুই জানে না। আজ সবাইকে দেখলো অথচ লিলিকে দেখলো না। হেমলক পিয়ার্স তাদের রাজ্যে থাকাকালীন কিছু বলেনওনি রাজপ্রাসাদের বাকি সদস্য সম্পর্কে।
হ্যাব্রোর কৌতূহল জন্মালো। সে আবার প্রশ্ন করল, “রাজকুমারী লিলি আজ সভাতে উপস্থিত হলো না কেন?”
“রাজকন্যা লিলি তো অসুস্থ। তিনি তাই সচারাচর কোথাও থাকেন না।”
হ্যাব্রোর কিছুটা খটকা লাগলো। সে আজ থেকে ছয়-সাত মাস বা তারও আগে যখন লিলিকে দেখলো তখন তো লিলি যথেষ্ট সুস্থ ও তেজস্বিনী কন্যা ছিলো। হুট করে এমন কি অসুস্থতা এলো যে সে নড়তেই পারছে না?
হ্যাব্রোর ভেতর কৌতূহল তখনও আকাশচুম্বী। সে নিজের এই আগ্রহ দমিয়ে রাখতে না পেরেই তৃতীয় প্রশ্নটা করল,
“কেন? কী হয়েছে তার?”
“তার হাত এ্যাজেলিয়া রাজ্যের প্রাক্তন রানি- কামিনীকাঞ্চন কেটে ফেলেছিলেন।”
ভেসে এলো গমগমে পুরুষালি স্বর। হ্যাব্রোর চমকানোর ধাঁত না থাকা সত্বেও সে চমকে উঠলো। চমকে তাকালো পেছনো ঘুরে। রানি রাজকন্যা লিলির হাত কেটে ফেলেছেন সেটা সম্পর্কে তো তারা কেউই অবগত নয়! কবে এই ঘটনা ঘটলো তা-ও তারা জানে না।
হ্যাব্রো পেছনে তাকাতেই দেখলো অপরিচিত একটি পুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন।
এবং সে খেয়াল করলো অদূরে সোনালি কারুকার্য করা দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে ঘোমটা দেওয়া হেমলক পিয়ার্সের বধূ।
হ্যাব্রো আপাতত সেখান থেকে ধ্যান সরিয়ে তাকালো তার সামনের মধ্যবয়স্ক লোকটার দিকে। সে যে লোকটাকে চিনতে পারল না তা লোকটা বেশ ভালো করেই বুঝলো। নিজেই এগিয়ে এসে বাঁকা হাসি উপহার দিয়ে নিজেকে পরিচিত করালো।
“আমি রাজা হ্যাভেনের মামাশ্রী- নোমানচন্দ্র।”
হ্যাব্রো মাথা সামান্য নাড়িয়ে পরিচয় গ্রহণ করল।
মামাশ্রী এগিয়ে এলেন কিছুটা। কর্কশ স্বরে হেসে হেসে বললেন,
“আপনারা শত্রুকে ভুলে যান দেখে বড়োই আশ্চর্য হলাম। রানি কামিনীকাঞ্চনের রাজ্যের সেনাপতি কি-না শত্রু মনে রাখেন না! অথচ রানির বুলিতে তো আলাদাই অহংকার ছিলো। তবে রানি নেই রানির মতবাদ থাকবে না তা-ও স্বাভাবিক। সে যাই হোক, আমরা কিন্তু শত্রু ভুলি না।”
হ্যাব্রো তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো।
মুচকি হেসে বলল, “আমরা শত্রু ভুলেছি তা কে বলল আপনাকে?”
“বলার প্রয়োজন কোথায়? আচরণে প্রকাশ পায়। দীর্ঘ বেশ কিছু মাস যাবতই তো আমাদের রাজ বৈদ্যর সাহায্য নিচ্ছেন রাজ্যের ব্যাধি দূর করায়। এই যে আমন্ত্রণ পেতেই শত্রু রাজ্যে চলেও এলেন। এগুলোই যথেষ্ট নয় প্রমাণ করতে যে আপনারা শত্রু ভুলেছেন?”
“রাজ্য পরিচালনায় কৌশলতা ও কুশলতা দু’টোই অধিক প্রয়োজনীয়, আমাদের রানি বলতেন। শত্রুর সাথে কীভাবে এক আসনে বসে খাবার খেয়ে একই ময়দানে যুদ্ধ করতে হয় তা-ও আমাদের জানা। আমরা আপনাদের শত্রু, আপনারা আমাদের শত্রু এতটুকুই মনে রাখতে হয়। মানুষকে বুঝাতে হয় অন্যকিছু। আপনি সম্পর্কে শ্রদ্ধেয় মামাশ্রী হতে পারেন কিন্তু পরিচালনায় বড়োই ছেলে মানুষ।”
নোমানচন্দ্র রাগান্বিত হলো হ্যাব্রো দুঃসাহসিকতা দেখে। তলোয়ার উঁচিয়ে ধরল ক্রোধে। গর্জন করে উঠল,
“তোমার আস্পর্ধা এত আমার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলো? এই মুহূর্তে তোমার গর্দান নিলে আটকাতে পারবে আমায়?”
“আটকাতে হয়তো পারবে না সে কিন্তু বিশ্ব জানবে, ক্যামিলাস রাজ্য কতটা কাপুরুষ। তারা শত্রুকে নিজের রাজ্যে ডেকে এনে হত্যা করে, এতটাই ভীতু তারা। ক্যামিলাস রাজ্যের এতটা দুর্নাম কি শোভনীয়?”
পেছনের তীর্যক নারীকণ্ঠে ফিরে তাকালো মামাশ্রী। হেমলক পিয়ার্সের নতুন বধূটিকে দিখে কিছুটা থমকালো। হতভম্বও হলো।
তবে বধূটির কথা নিতান্তই বাস্তব। তাই তর্ক করার স্থান নেই এখানে। তিনি পরাজিত সৈনিকের মতন নামিয়ে ফেললেন তলোয়ারটি। এরপর দ্রুত পায়েই প্রস্থান নিলেন সেখান থেকে।
জায়গাটি তখন কেবল দাঁড়িয়ে রইল হ্যাব্রো, রানি কামিনী ও বাকি দু'জন প্রহরী।
হ্যাব্রো যেন এবার পুরোপুরিই নিশ্চিন্ত হলো। তাদের রানি কামিনীকাঞ্চন ছাড়া কথার ভেতর এমন জৌলুশ কারোই থাকে না। সে তো আজ অব্দি কাউকেই দেখেনি। তাছাড়া কথার বানে এমন জব্দ করার বিশেষত্ব একমাত্র রানিরই ছিলো।
হ্যাব্রো প্রহরীদের দিকে একবার দৃষ্টিনিক্ষেপ করে কিছুটা এগিয়ে গেলো। রানি ঘোমটার আড়ালেই দাঁড়িয়ে রইলেন কঠিন ভঙ্গিতে। কোনো মতেই তিনি হ্যাব্রোর সামনে নিজের পরিচয় বের করবেন না। কারণ তার পিঠ পিছে থাকা শত্রুদের তিনি চেনেন না। তিনি জানেন না কে তাকে নিঃশেষ করতে চেয়েছিলো। তাই সবাইকেই রাখতে হবে সন্দেহের তালিকায়।
“আপনি, আপনাকে আমার বড্ড পরিচিত লাগছে। আপনি কোন রাজ্যের রাজকন্যা ছিলেন বলতে পারবেন?”
রানি কামিনী বুঝতে পারলেন হ্যাব্রোর মতিগতি। কথার জালেই সে রানিকে সামনে আনতে চাচ্ছে। রানিও বা কম কীসে?
তিনি উত্তর দিলেন,
“আমার রাজ্যে আপনি কখনো আসেননি। তাই পরিচিত হওয়ায় সম্ভাবনা নেই।”
“গিয়েছি কি-না তা তো আমি বলতে পারব তাই না?”
“আমিও বলতে পারছি কারণ এ্যাজেলিয়া রাজ্যের রানি কিংবা তার আশেপাশের কাউকেই কখনো আমাদের রাজ্যে আমন্ত্রণ করা হয়নি। কারণ আমরা পূর্বাঞ্চল রাজ্যের। ওদিকে নারীদের রানি হিসেবে তেমন নামডাক নেই। না আগ্রহ আছে কারো।”
হ্যাব্রো এবার কিছুটা দমে গেলো। অন্যকারো স্ত্রীকে দেখার মতন রুচিবোধ তার নেই। কিন্তু তবুও মনের প্রবল কৌতূহল, আকাঙ্ক্ষা থেকেই সে হেমলকের স্ত্রীর পা থেকে হাত অব্দি দেখলো। ছোটো ছোটো অসংখ্য দাগে ভরপুর। কিন্তু তাদের রানির দেহে তো কোনো দাগই ছিলো না। জলের মতন স্বচ্ছ ছিলো রূপ।
সে কি ভুল করছে কোনো!
নিজের মনে মনে প্রশ্ন করল। দিকভ্রান্ত হলো। রানি কামিনীকাঞ্চনকে পেয়ে গিয়েছে বলে এক মুহূর্তে তার ভেতর যেই আনন্দ হয়েছিলো তা মিইয়ে আসছে এখন। তবে কি ভুল নারীকে রানি ভাবলো?
রানি আর হ্যাব্রোর সামনে দাঁড়ালেন না। ব্যস্ত পায়েই সরে গেলেন সেখান থেকে। যতক্ষণ শত্রু চেনা যাচ্ছে না ততক্ষণ সে নিজেকে আড়াল করবে। সমগ্র বিশ্ব থেকে লুকিয়ে রাখবে নিজেকে। একটিবার শত্রু চেনা হলেই সে দশগুণ তেজ নিয়ে ফিরবে। গোটা পৃথিবী তার নাম তখন শুনবে। ইতিহাস জানবে বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি কেমন হয়৷ কাউকে ছাড়বে না সে। কাউকে না।
—————
নিবিড় ভাবে উড়ছে বাতায়নের কোল ঘেঁষে থাকা শুভ্র রঙের পর্দাগুলো। পর্দার ভেতর আবার সোনালি সুতোয় বুনে আছে কত স্বপ্ন, সৌন্দর্যতা।
ফুরফুরে বাতাস ভেসে আসছে জোছনায় ম্লান হয়ে থাকা রাত্তিরের বুক থেকে।
রানি কামিনী দাঁড়ানো ঠিক তার জানালাটার কাছে। ঠান্ডা হাওয়া শরীরে মেখে নিচ্ছেন আপোষে।
কক্ষের নীরবতা ভেদ করে খড়খড়ে শব্দে প্রবেশ করল হেমলক। সাদা পাঞ্জাবি পরনে তার। সুঠাম দেহী, অতিব সুন্দর পুরুষ। সৌন্দর্যতার খামতি রাখেননি সৃষ্টিকর্তা। চোখ গুলো নিলাভ, গোলাটে। মাথার চুল গুলো উল্টে রাখা যা ঘাড় অব্দি। রাজপুত্রের সমস্ত আভা তার সর্বাঙ্গ জুড়ে থৈথৈ করছে।
সে এসে দাঁড়াল ঠিক রানির কাছ থেকে এক পা পেছনে। হাসি তার ঠোঁট জুড়ে।
“কী করছো?”
রানি কামিনী সোজা দৃষ্টি আকামে নিবদ্ধ করেই জবাব দিলেন, “সম্ভবত শত্রুর ভবিষ্যৎ কল্পনা করছি।”
কামিনীর টান টান, ধারালো বাক্যে হেমলকের হাসি প্রশস্ত হলো, “কত ভয়ঙ্কর হবে সেই শাস্তি তা-ই ভাবছি কেবল। তবে আমি জানি আমার ভাবনার চেয়ে দ্বিগুণ হবে।”
“এতটাই চিনেছো?” প্রশ্ন করেই ঘুরে দাঁড়ালেন রানি। সরাসরি তার দৃষ্টি গিয়ে পড়লো হেমলকের মুখে। চোখ গুলে খেলে গেলো হেমলকের মুখ জুড়ে। হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
হেমলক নিজের দু-হাত আড়াআড়ি ভঙ্গিতে বুকের সামনে ভাঁজ করলো। বুঝদার ভঙ্গিতে অল্প মাথা নাড়ালো।
“এতটা না চিনলেও কিছুটা তো চিনেছি, তাই না?”
“শত্রুকে চেনা ভালো।”
“তুমি আমার শত্রু?”
“শত্রু নই, বলছো?”
“আমি কোথায় কিছু বলেছি? সব তো তুমিই বলছো!”
“আমি তো ভুল কিছু বলছি না। ভুল বললে শুধরে দাও।”
রানির কণ্ঠে ঠাট্টার রেশ। হেমলক এগিয়ে এলো দু'পা, “শুধরে দেওয়ার আমি কে? আমি যে নেহাৎ শিল্পী। রানির মনের মতন বাক্য কোথায় পাই বলো?”
কথা শেষ করে সে রানির কপালে এসে পড়া আধো সোনালি রঙের একগাছি চুল কানের পিঠে গুঁজে দিলো।
এ-ই প্রথম, কোনো পুরুষ রানির পা ছেড়ে মুখ ছুঁতে পারল। এর আগে তো সবাই রানির সান্নিধ্য পাওয়ার লোভে পা অব্দি এসে পড়ে থাকতো। এর বেশি পাওয়ার সাধ্য তাদের ছিলো না।
কিন্তু আজ রানির রূপ নেই, খুঁতে ভরে গেছে রূপের আঙিনা তবুও একটি পুরুষ তাকে ধরলো। তার সান্নিধ্য লাভের জন্যও নয়। কেবল স্নেহ থেকে! কাম ব্যতীতও পুরুষ হয় তবে?
“শত্রুর স্পর্শে কি থাকে বলো তো, রানি?”
রানি আলগোছে এক পা পেছনে গেলেন। হেমলকের হাতটাও সরে গেলো কপাল থেকে। রানি তার কৌশলগত অঙ্গভঙ্গি ধরে রেখেই বললেন,
“ঘৃণা থাকে।”
“রানি, তবে আমায় তুমি শত্রু ভেবো না। ঘৃণা নিয়ে তোমার মায়াময় চোখ দু'টি আমাকে দেখুক, আমাকে তা বড্ড পীড়া দিবে। তুমি বন্ধু না ভাবো, কেবল হুটহাট করে আসা অতিথি পাখির মতন শুভাকাঙ্ক্ষী ভেবেই না-হয় পাশে রেখো।”
“পাশে কই থাকলে? তুমি তো দেখি সবসময় আমার থেকে এক পা যে পেছনেই থাকছো!”
রানির কৌতূহলে ঈষৎ হাসলো হেমলক,
“তোমার পায়ের সাথে পা রাখার মতন যোগ্যতা এই ধরণীর কারো নেই। আমার তো নয়ই। তুমি দেবী, তোমার বন্দনা করাই আমার কাজ, সমকক্ষ হওয়া নয়। কেবল তুমি নও, আমি মনে করি- পৃথিবীর সকল নারী সমস্ত শক্তি, লোক, বলের উর্ধ্বে। তাদের থেকে এক কদম পিছিয়ে থাকতেই পুরুষের জন্ম।”
“এত প্রেম!”
“তোমার ভাষা যদি যুদ্ধ হয় তবে আমার ভাষা প্রেম। তোমার কাছে আছে ক্ষমতার বলে সব পাওয়ার রীতি আর আমার কাছে ভালোবাসা-ই বীজমন্ত্র। আমি বিশ্বাস করি পৃথিবীতে ভালোবাসা দিয়ে ঠিক সব জয় করা যায়।”
“ভালোবাসা নিয়ে এত স্লোগান দেওয়া মানুষের নিজের মাতার সাথে কেন এত মতবিরোধীতা?”
রানির প্রশ্নে এবার কিছুটা শক্ত হয়ে আসে হেমলকের কণ্ঠস্বর। ঘোলাটে চোখ গুলো জ্বলে মৃদু ঘৃণায়। কঠিন স্বরে সে জবাব দেয়,
“ভালোবাসা দিয়ে সব জয় করা যায় ঠিক কিন্তু সাপকে কি ভালোবাসা দিয়ে পোষ মানানো যায়? তুমি পেরেছিলে কি মানাতে? ক্যামিলাস রাজ্যের রহস্যে ডুবো না তুমি। তোমার লক্ষ্য স্থির রাখো, রানি। তোমাকে নিজের রাজ্য আবার ছিনিয়ে নিতে হবে। পৃথিবীতে সবকিছুতেই কৌতূহল আনতে নেই। লক্ষ্য ভ্রষ্ট হবে তাহলে।”
·
·
·
চলবে……………………………………………………