কামিনী - পর্ব ৪২ - মম সাহা - ধারাবাহিক গল্প

কামিনী - মম সাহা
          রাজ সভাতে চাপা উদ্বেগ। দক্ষিনের রাজা ক্যামিলাস রাজ্যে চিঠি পাঠিয়েছেন। তাদের রাজ্যের বণিকদের এই কঠিনতম শাস্তির জন্য তারা নিন্দা জানিয়েছেন। এবং এটাও বলেছেন যে, ক্যামিলাস রাজ্যের সঙ্গে তারা সমস্ত সম্পর্ক চ্যুত করবেন। 

 কবি সাহেবের মুখের হাসিটা প্রশস্ত দেখালো। নিজেকে তার মনে হলো ভীষণ জয়ী। কারণ তিনি আগেই এই সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়ে ছিলেন বণিকদের সাথে কিছু করলে তার বিপরীতে শাস্তি কী হতে পারে।

  মন্ত্রীর মুখেও উদ্বেগ দেখা গেলো। থমথমে সভায় রানিকে পেলো সকলেই নির্লিপ্ত। ত্রিপাদ কুমার নিজেই আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 
"এখন আমাদের কী করণীয়?"

রানি বেশ স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর দিলেন, "কিছুই না। তাদের একটি পত্র পাঠানো হবে যে, আমাদের রাজ্যের কাছে সবার আগে নিজেদের প্রজারা। এরপর বাকি সব। যখন তারা দেখবে তাদের পত্রতে আমরা বিচলিত হইনি তখন নিজ থেকেই তারা বিষয়টাকে সামান্য জ্ঞান করে ভুলে যাবে।"

 "আদৌ কি তা সম্ভব? রাজ্যের বাণিজ্য এভাবে বন্ধ হতে থাকলে রাজ্যের কি কোনো লাভ হবে এতে? বরং ক্ষতি হবে। রাজ্য চালানো এত সহজ নয়।"

সভা কবির আত্ম অহং ভরা কথায় হাসলেন রানি। আসন ছেড়ে দাঁড়ালেন। জৌলুশ ভরা কণ্ঠে বললেন,
"ক্যামিলাস রাজ্য কোনো ছোটোখাটো রাজ্য নয়। বরং দক্ষিণের সেই রাজ্যের তুলনায় তিনগুণ বড়ো রাজ্য। দক্ষিণের রাজা যদি আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চ্যুত করেন তবে ক্ষতিটা তারই হবে। তিনি বাণিজ্যের এত বড়ো বাজার হারবেন। যদি তিনি বুদ্ধিমান হয়ে থাকেন তবে কখনোই আমাদের সাথে শত্রুতা করার ভুল করবেন না। অর্থনীতিতে দুর্বল হতে কেই-বা চাইবে? বুঝাতে পারলাম?"

  রানির ভাবনার চমকপ্রদ দিক সম্পর্কে আগেই অবগত হয়ে গিয়েছিলো এই রাজসভা। তার উপর আবার এই কৌশল দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারল না সকলে। সভা কবির মুখটি তো শুকিয়ে আমসি হয়ে গেলো। 
ত্রিপাদ কুমার হাসতে হাসতে উৎসাহী স্বরে বলল, "আপনার বুদ্ধি প্রশংসাযোগ্য, রানি। মার্জনা করবেন, তবে বলতে দ্বিধা নেই যে এমন কূটনৈতিক বুদ্ধি বোধহয় আমাদের প্রাক্তন রাজারও ছিলো না। তিনি সবসময় এইসব রাজ্যকে তোষামোদ করে গিয়েছেন।"

 "অপরকে তোষামোদ করতে গেলে নিজেদেরই বিশেষত্ব হারায়, মন্ত্রীমহোদয়। এবং আমাদের সভা কবি সেই কথাটি বোধহয় অবগত নয়। তিনি আমার মতামতের সঙ্গে কখনোই একমত হতে পারছেন না, তাই আমি চাচ্ছি তার মতকে সম্মান প্রদর্শন করে, তাকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিতে।"

 শেষের কথাটিই যেন বি স্ফো রণ ঘটানোর জন্য যথেষ্ট ছিলো। সভা কবি তো এতই বিস্মিত হলেন যে নির্বাক হয়ে গেলেন। ভাবলেন, হয়তো তিনি শুনতে ভুল করেছেন। 
 তাই আবারও জিজ্ঞেস করলেন, "কী বললেন, রানি? বোধহয় আমি বুঝতে পারিনি।"

 "আপনি ঠিকই বুঝতে পেরেছেন। এবং যেটা বুঝতে পেরেছেন তা-ই আমি বলেছি। আপনাকে আপনার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। রাজ্য এবং রাজসভা আমার অথচ সেখানে থাকা সদস্য অন্য কারো গুণ গাইবে তা আমি মানতে পারবো না।"

  সভা কবির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। তিনি আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে রইলেন। 

  রানি সেই তাকানোাকে মোটেও গ্রাহ্য না করেই বেরিয়ে গেলেন কক্ষ ছেড়ে। তিনি যাওয়ার সময় সকলেই মাথা নত করে কুর্নিশ করল। হতবিহ্বলের মতন দাঁড়িয়ে রইলেন কেবল সভা কবি। 

—————

  রানি মাত্রই তার কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন। এবং তার পেছন পেছন ছুটে এলেন রাজমাতা প্রাচী। রাজমাতা প্রাচী অবশ্য কখনো একা আসেন না। তার সঙ্গে সবসময়ই তার ভ্রাতা থাকেন। এই মুহূর্তেও তাই হলো। তিনি ও মামাশ্রী বিনা অনুমতিতেই কক্ষে প্রবেশ করলেন। 

  যেহেতু মাত্র রাজসভা থেকে রানি ফিরেছিলেন তাই মুখের উপর পড়ে থাকা ঘোমটাখানা সরানোর সুযোগ পাননি। তার আগেই রাজমাতা প্রাচীর আগমন ঘটল আচমকা ঝড়ের মতন। 

এসেই তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললেন, "তোমার এত বড়ো সাহস যে তুমি রাজসভা থেকে সভাকবিকে বহিষ্কার করো? তোমাকে এত দুঃসাহস দিয়েছে কে?"

 রাজমাতা প্রাচীর হুংকারে রানির বিন্দুমাত্র নড়চড় হলো না। তিনি আয়েশ করে গিয়ে বসলেন নিজের পালঙ্কে। পা দু'টো ছড়িয়ে। 
মাথার নিচে নিজের দু'হাত মেলে আরামদায়ক ভঙ্গিতে বললেন, 
 "আমি এই রাজ্যের রানি তা বোধহয় ভুলে যাননি? তাই আমি কোন সিদ্ধান্ত নিবো না নিবো না তা আমার উপর বর্তায়। আপনাকে নিশ্চয় আমি কৈফিয়ত দেবো না? এমন দুঃসাহস আর দেখাবেন না আশা করি।"

  রাজামাতা প্রাচী রানির এই অটল কণ্ঠস্বরে আরও দ্বিগুণ রেগে ওঠলেন, "তুমি আমাকে হুমকি দিচ্ছো? ভয় দেখাচ্ছো? জানো আমি কে?"

"হ্যাঁ, দেখাচ্ছি ভয়। আর আমি চাচ্ছি আপনি ভীত হয়ে নিজেকে সংযত করুন। নয়তো নিজের জীবনের দুঃখ নিজেই ডেকে আনবেন।"

 "ভুলে যেও না তোমার সামনে ক্যামিলাস রাজ্যের রাজমাতা অবস্থান করছেন।"

"এই মুহূর্তে আপনাকে কারাগালে নিক্ষেপ করলে আপনি রাজমাতা থেকে হয়ে যাবেন কারাগারের বন্দিনী। এবার বলুন আপনি কোন জায়গাটায় থাকতে চাচ্ছেন? নিজের জায়গাটি ধরে রাখতে চাইলে এখনি নিজেকে সংযত করুন। নয়তো..."

 রানির অর্ধেক কথার মাঝেই মামাশ্রী বুক উঁচিয়ে বললেন, "নয়তো কী? কী করবে তুমি?"

"আপনাদের সকলকে এমন ভাবে দুনিয়া থেকে মুছে ফেলবো যেন মানুষ ভুলে যায় রাজমাতা প্রাচী কিংবা তার ভ্রাতা ইত্যাদি বলতে কেউ পৃথিবীতে ছিলো। বুঝাতে পারলাম?"
  শেষের প্রশ্নটায় ছিলো উদ্যমী হিংস্রতা। 

রাজমাতা ও মামাশ্রী বিস্মিত না হয়ে পারলেন না। 
যেহেতু মামাশ্রী অত্যন্ত চতুর তাই নিজের ভগিনীকে আর কোনোরূপ তর্কে যুক্ত হতে দিলেন না। কিছুটা টেনেই কক্ষ থেকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। 
  রাজমাতা প্রাচীর তখন গা উপচে রাগ বের হচ্ছে আগুনের ফুলকির মতন। নিজের ভ্রাতার উপরও তিনি বিরক্ত হলেন। বললেন, 
"ঐ সামান্য মেয়েটাকে তুমি ভয় পাচ্ছো, ভ্রাতা? ওর ভয়ে আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে এনেছো? আমি দেখতে চাই ও কী কী করতে পারে।"

  মামাশ্রী নিজের ভগ্নির মাথায় হাত রাখলেন। ভগ্নিকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করে বললেন, "রাগ সংযত করো, ভগ্নি। রেগে গেলে তো হেরে গেলে। আর তুমি যাকে সামান্য মেয়ে বলছো, আমার মন বলছে সে মোটেও সামান্য কেউ নয়। তাছাড়া ও কী কী করতে পারে তা দেখতে চাইলে আমাদের ক্ষতি বৈ ভালো কিছু হবে না বোধকরি। কারণ এই মেয়ে সবকিছু করার ক্ষমতাই রাখে। খেলা ঘুরাতে হবে ভগ্নি। চাল বদলাতে হবে। এভাবে তাকে জব্দ করা যাবে না।"

  ভ্রাতার কথা শুনে অবুঝ ভাবে তাকালেন রাজমাতা। মামাশ্রী তখন ভাবুকতায় নিমজ্জিত। তবে হাসি ঝুলিয়ে রেখেছেন ঠোঁটের এক পাশে৷ 
রাজমাতা কৌতূহলী হয়ে বললেন, "কী করতে চাইছো, ভ্রাতা?"

   "যুদ্ধক্ষেত্রে যখন নেমেছি তখন একটু খেলা করতে চাচ্ছি, ভগিনী। যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলে মারতে হয়। ওকে কৌশলে আমরা মারবো। হয় কলঙ্কে মাখিয়ে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত করবো, নয়তো শারীরিক ভাবে শেষ করবো।"

রাজমাতা স্থির হয়ে গেলেন। নিজের ভ্রাতা সম্পর্কে তার সমস্তই জানা। ভ্রাতার বুদ্ধির কাছে পৃথিবীর সমস্ত কিছুই যে ফিকে। ভ্রাতার বুদ্ধির জোরেই তারা এই ক্যামিলাস রাজ্যে রাজত্ব করছেন। নিশ্চয় ভ্রাতার বুদ্ধির জোরেই সেই রাজত্ব আবারও নিজেদের হাতের মুঠোয় নিতে পারবেন।

—————

  এ্যাজেলিয়া রাজ্যে অমানিশা নেমেছে আজ বহুদিন। দুর্ভিক্ষে প্রায় হাহাকার করতে লাগলো প্রজারা। ছোঁয়াচে অসুখটা ধারণ করেছে মহামারিতে। অথচ রাজ্যের নতুন রানির সে নিয়ে বিশেষ আগ্রহ নেই। সে যেন নিজেতেই মত্ত। 

 যামিনী নিজের আরামকেদারায় বসে ঝিমুচ্ছিলো আরামে। তার পায়ে মালিশ করে দিচ্ছে তার খাসদাসী শশী। 
বাহির থেকে তখন প্রহরীর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, "রানি, আপনার সঙ্গে সেনাপতি মশাই সাক্ষাৎ করতে চান। তাকে কি প্রবেশ করতে দিবো?"

  হ্যাব্রোর উপস্থিতির কথা শুনেই ঝিমিয়ে থাকা যামিনী সজাগ হয়ে গেলো। চোখ মেলেই তাকালো দাসীর দিকে। আনন্দে বিগলিত কণ্ঠস্বরে বলল,
"আমি কি ভুল শুনেছি না ঠিক? সেনাপতি মশাই এসেছে বলল?"

 শশী হেসে কুটি কুটি হলো। রঙ্গ করে বলল, "হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। আপনার প্রাণের মানুষই এসেছেন।"

শশীর আশকারা যেন যামিনীর মনের লজ্জা ও আনন্দ দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিলো। সে লাজুক হেসে বলল, "তুমি বড়োই দুষ্টু, শশী।"

  এরপর কপাটের দিকে তাকিয়ে অনুমতি দিয়ে বলল, "সেনাপতি মশাইকে আসতে বলো।"

অনুমতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হ্যাব্রো প্রবেশ করল না। সে প্রবেশ করল রয়েসয়ে। মুখ-চোখ সবসময়ের মতনই গম্ভীর। এসে ভদ্রতা বজায় রেখে কুর্নিশ অব্দি করল না। কারণ সে যামিনীকে তো রানি বলেই মানে না তাহলে কীসের আবার শ্রদ্ধা, সম্মান?

  হ্যাব্রো বলার আগেই যামিনী আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, 
"কিছু কি বলবে?"

 "আপনি রাজ্যের দূর্দশা সম্পর্কে কিছু কি ভেবেছেন? প্রজাদের ভেতর হাহাকার পড়ে গিয়েছে। এখনও প্রায় সাত-আটজন এসেছে আপনার সঙ্গে কথা বলতে। তার ভেতর একজনের নবজাতক শিশু হারিয়ে গিয়েছে। আর বাকিরা এসেছে ছোঁয়াচে অসুখটা নিয়ে কথা বলতে। ধীরে ধীরে তো রোগটা ছড়াচ্ছেই! ওরা আপনার সাথে কথা বলতে চায়।"

"কী! প্রজাদের প্রাসাদে প্রবেশ করতে দিলো কে? এই প্রহরী গুলোকে কীসের জন্য রাখা হয়েছে? ওরা প্রজাদের আটকাতে পারল না? কী না কী রোগ নিয়ে এখানে চলে এসেছে। যদি এই রোগ প্রাসাদেও ছড়িয়ে যায়! আমাদেরও হয়ে যায়? ছোটোলোক গুলোকে এখানে প্রবেশ করার সাহস দিলো কে?"

  যামিনী নোংরা, ছোটোমনের তা জানতো হ্যাব্রো। কিন্তু এতটাই ছোটো মনের তা যেন তার ধারণার বাহিরে ছিলো। প্রজাদের নূন্যতম শ্রদ্ধাটুকু এর ভেতরে নেই! এ কেমন মানুষ! 

  যামিনী পুনরায় বলল, "ছোটোলোক গুলোকে বের করো, হ্যাব্রো।"

"আদেশ দিচ্ছেন? তাহলে তো বলা যায় প্রজাদের আগে রাজাসনে থাকা মানুষটাকে বের করতে হয়। কারণ তারচেয়ে ছোটোলোক আর ছোটোমন আর কারো নেই।"

  যামিনী কথাটুকু বুঝার আগে হ্যাব্রো হনহনিয়ে বেরিয়ে গেলো। স্থবির নয়নে তাকিয়ে তা দেখলো যামিনী। হ্যাব্রো তাকে ছোটোলোক বলল? সে ছোটোলোক? এত চেয়েও বিন্দুমাত্র হ্যাব্রোর মনের কাছের সে হতে পারছে না! কীসের কমতি তার? কীসের?
 যামিনী হয়তো জানে না তার কমতি মনুষ্যত্বের। 

হ্যাব্রো যামিনীর কক্ষ থেকে বেরিয়ে ভাবুক হলো। যেভাবে রাজ্যটি ডুবে যাচ্ছে তা বাঁচানোর আর কোনো পথ সে পাচ্ছে না। যামিনী রাজ্য নিয়ে ভাবছে না বলে মন্ত্রীগণও আরাম-আয়েশ করছে। এভাবে চললে এ্যাজেলিয়া রাজ্যের অস্বস্তি বিলীন হয়ে যাবে একদিন। তখন যদি রানি কামিনীকাঞ্চন ফিরে এসে জবাব চায় তখন হ্যাব্রো কী জবাব দিবে? রানি যে তাকে পরম ভরসায় রেখেছেন চিরটা কাল! ভরসার মানুষ হয়ে যদি ভরসাই রাখতে না পারলো তবে আর কেমন সেনাপতি হলো সে?

  আপন মনে সকল কথা ভাবতে ভাবতেই হাঁটতে রাখলো হ্যাব্রো। মনে মনে সে বুদ্ধি সাজাতে লাগলো। যামিনীকে যেই ভাবে বশ করে রাজ্যকে হাতের মুঠোয় আনা যায় সে এবার না-হয় তা-ই করবে! প্রতারণার ধর্ম যদিও তার নয় তবুও সে প্রতারণা করবে। রাজ্য বাঁচাতে এতটুকু প্রতারণা তার করতেই হবে। যামিনীর ভালোবাসাই হবে তার তলোয়ার। 

—————

  রানি কামিনী পায়চারি করতে লাগলেন প্রাসাদের বারান্দা জুড়ে। সন্ধ্যার ঢাকের শব্দে ঘুঙুরের সেই শব্দ উন্মাদ হয়ে বাজছে। তিনি নিজেকে আর আটকে রাখতে পারছিলেন না। শেষমেশ স্থির করলেন সেই কক্ষের নিকট পৌঁছানোর। 
  কক্ষের দিকটার কিছুটা জায়গা যেন মৃত্যুপুরীর সমস্ত অন্ধকার আটকে রেখেছে নিজের বুকে। গা ছমছমে আবহাওয়া। রানি দূর থেকে দেখলেন অনেকটা জায়গা জুড়ে তীব্র বাঁধা। 

  তবুও তিনি ভীত না হয়ে এগিয়ে গেলেন। লোহার বিশাল শিক পেরিয়ে বিরাট কপাটটি। 
 রানি শিকে হাত দিতেই গলগলিয়ে রক্ত পড়তে আরম্ভ করল তার নাক দিয়ে। কানে ভেসে এলো হেমলকের বলা সেই কথাগুলো। হেমলকের বাবা তো এমন র ক্তপাত হয়েই মারা গিয়েছিলেন! 
তবে কি সে-ও একই পথের পথিক হবেন?
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp