তরুণ রাজবৈদ্য, যারা চোখে-মুখে এক ধরণের আত্মবিশ্বাস হামাগুড়ি দিয়ে যায়। যার শিরায় শিরায় উপচে পড়া সাহসের উপর মোহিত হয়েই রানি তাকে রাজবৈদ্যের আসনটি দেন। এবং রানি যে খুব ভুল ছিলেন না তা প্রমাণিত হলো রাজবৈদ্যর তুখোড় বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ পেয়ে। কয়েকদিনের ভেতরেই সে লোহার শিকের রহস্য এমন করে উদঘাটন করে ফেলবে তা রানিও ভাবতে পারেননি।
রানি তখন সবে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। সেই মুহূর্তেই তার কক্ষে প্রবেশ করে হেমলক। রানির অনুমতি নিয়েই অবশ্য প্রবেশ করে। এবং পেছন পেছন আসতে দেখা গেলো রাজবৈদ্য পিউলকেও। শীর্ণ, গৌর বর্ণের দেহ ছেলেটির। সবসময় হাসি টানা ঠোঁটে। বয়স সামান্যই। কুড়ি অথবা বাইশ!
এসেই রানিকে কুর্নিশ করল। আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলল, “আপনাকে দেওয়া কথা আমি পূর্ণাঙ্গ ভাবে রাখতে সক্ষম হয়েছি, রানি। আপনার লোহার শিকের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।”
হেমলক বিস্মিত হলো পিউলের কথায়। লোহার শিকের রহস্য যা বহু বর্ষ ধরে কেবলই আধ্যাত্মিক ভীতি ছড়িয়ে গিয়েছে প্রাসাদ জুড়ে তার রহস্য উদঘাটন হয়েছে! এই বাক্যটি অবশ্যই বিস্ময় জাগানোর মতনই।
সে বিস্মিত হয়ে রানির দিকে তাকালো। ভেবেছিল রানি কামিনীও বোধহয় একই বিস্ময় প্রকাশ করবেন। কিন্তু তাকে ভুল প্রমাণ করে দিলো রানির স্বাভাবিক মুখভঙ্গি।
“লোহার শিকের রহস্য? কী রহস্য? সুধাকান্তা, তুমি কি জানো সেসব আগেই?”
উত্তরের আশায় হেমলক তাকিয়ে রইল রানির দিকে।
রানি তার ঘোমটার নিচে ক্রুর হাসলেন। দু'টো হাত বুকের মাঝে আড়াআড়ি ভঙ্গিতে রেখে বললেন,
“অবশ্যই জানি। আপনারা আধ্যাত্মিক বলে যেই অন্যায়কে দিনের পর দিন বাড়তে দিয়েছেন তা তো আমি দিতে পারি না। অস্বাভাবিক কোনো কিছুই আমার নিকট ছাড় পেতে পারে না।” কথা থামিয়ে রানি পিউলের দিকে তাকালেন। নির্দেশের ভঙ্গিতে বললেন,
“কী জানতে পেরেছো তা জানাও আমাকে। আমিও দেখি আমার ধারণা ঠিক কি-না।”
“একদম ঠিক ছিলো, রানি। আপনি যেটা ধারণা করেছেন সেটাই ঠিক। শিকে হাত দিয়ে আপনি গুঁড়ো গুঁড়ো যা উপলব্ধি করেছেন তা পর্বতের একটি বিষাক্ত গাছের কণিকা। যা স্পর্শ করা মাত্রই তার বিষ শরীরে ছুটে বেড়াবে। এবং বিষের বিপরীতে আটাশ ঘন্টার ভেতর কোনো প্রতিষেধক না দেওয়া হলে সেই মানুষ মারা যাবেন। যেমন মারা গিয়েছেন প্রাক্তন রাজা।”
পিউলের কথা থামতেই নীরবতা বয়ে গেলো কক্ষ জুড়ে। বিস্মিত হেমলক হারিয়ে ফেলল ভাষা, শব্দ। কণ্ঠে আটকে গেলো তার সকল প্রশ্ন। এতদিন ধরে সে যেই ধারনাটি মেনে ও জেনে এসেছে তা এক লহমায় এমন করে মিথ্যে হয়ে গেলো যে তার মস্তিষ্ক চট করে বুঝে উঠতে পারল না কী প্রতিক্রিয়া দিবে।
“ঠিক আছে। তুমি এবার যাও পিউল। এবং অবশ্যই তুমি সাবধানে থাকবে। রাজবৈদ্যকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তোমাকেও হয়তো সেভাবেই হত্যা করার চেষ্টা চলবে। তাই যতটা পারো নিজেকে সাবধানে রেখো। আর বাকি নিরাপত্তা আমি তোমাকে দিবো অবশ্যই।”
পিউল মাথা নাড়ালো রানির কথায়। সম্মতি দিয়ে বলল, “আপনি আমাকে নিয়ে চিন্তা করবেন না। আমাকে হত্যা করা কোনো শত্রুপক্ষের কাছে সম্ভব নয়। তবে রানি আমার আপনাকে আরও একটি কথা বলার আছে। আমি তা নিয়ে আরেকটু গবেষণা করতে চাই। তারপর জানাবো।”
“অবশ্যই। যেকোনো প্রয়োজনে আমার নিকট আসবে। আর আমি ব্যতীত কোনো কথা কারো নিকট জানাবে না। এমনকি…”
কথা সমাপ্ত না দিয়েই রানি থামলেন। তাকালেন একবার হেমলকের দিকে। হেমলকও তাকিয়ে আছে অবুঝ ভঙ্গিতে রানির মুখটির পানে। হয়তো সে বুঝতে পেরেছে বাকি কথাটুকু। তবুও শুধালো, “এমনকি এর পরেরটা সম্পূর্ণ করো। বাকিটা কী হবে?”
রানি নিজেকে শক্ত করলো। কারো মনের কথা ভেবে তার তো বাক্য অর্ধসমাপ্ত রাখা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নয়। না তিনি আগে কখনো কারো মন নিয়ে ভেবেছেন না আজ ভাববেন। নিজেকে মনে মনে প্রস্তুত করে রানি পুনরায় কঠোর কণ্ঠে বললেন,
“এমনকি হেমলক পিয়ার্সকেও আমার অনুমতি ব্যতীত কোনো সংবাদ দিবে না।”
রাজবৈদ্য পিউল এবার অদ্ভুত ভাবে তাকালো। তার কাছে একটু অন্যরকম ঠেকলো বিষয়টা। রানি কি-না তার অর্ধাঙ্গকেও বিশ্বাস করেন না? এতটা কঠোর আর শক্ত?
পিউলকে চুপ থাকতে দেখে রানি শক্ত কণ্ঠে প্রশ্ন করল, “আমি কি বুঝাতে পেরেছি?”
পিউল নিজের ধ্যান থেকে বেরিয়ে ভ্যাবাচেকা খেয়ে বলল, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, পেরেছেন।”
“তাহলে এবার তুমি আসতে পারো।”
রানির নির্দেশ প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে পিউল মাথা নত করে বেরিয়ে গেলো। কক্ষ জুড়ে কেবল রইল হেমলক আর রানি। কিছুটা দূরে দাঁড়ানো দুজন দুজনের থেকে।
রানির অবিশ্বাসের স্বর ব্যথিত করল হেমলককে। মলিন দেখালো তার চোখগুলো, “আমায় তুমি আজও এতটা অবিশ্বাস করো, সুধাকান্তা?”
রানি সেই মলিন চোখের বিপরীতে কঠোর দৃষ্টি বজায় রাখলো। কণ্ঠ অধিক থেকে অধিকতর প্রখর করে জবাব দিলো, “বলেছিই আগে। আমি আমার ছায়াকেও বিশ্বাস করি না।”
হেমলক মলিন নয়ন নিয়ে তাচ্ছিল্য হাসলো, “যেখানে তোমার বিশ্বাসের একফোঁটা অংশ হতে পারলাম না সেখানে কি-না আমি নির্বোধের মতন তোমার নিকট ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা করে গিয়েছি। কত বোকা আমি! কত বোকা!”
হেমলকের ভঙ্গুর কণ্ঠে রানির শক্ত ভাবমূর্তি নরম হয়ে আসে কিঞ্চিৎ। কণ্ঠের তেজও কমে কিছুটা,
“তা কি আমার অপরাধ? আপনাকে কেন, পৃথিবীর কোনো পুরুষকেই ভালোবাসার ক্ষমতা আমার নেই। না আছে ইচ্ছে।”
হেমলকের মলিন স্বরে ভাঁটা পড়ল। কিছুক্ষণ মৌন থেকে তার চোয়াল শক্ত হলো যেন। নীলাভ, অস্বচ্ছ মণিগুলো কোনো এক অধিকারবোধে জ্বলতে লাগলো।
“তুমি আমায় ভালোবাসো কিংবা না বাসো কিন্তু আমার হয়েই থাকতে হবে চিরকাল।”
“জোর করছেন?”
“তোমার তা মনে হলে তা-ই করছি। আমাকে ছাড়ার কথা মোটেও ভেবো না, সুধাকান্তা। সমগ্র পৃথিবীতে যুদ্ধ হবে তাহলে। শিল্পীর হাতে প্রেমের তুলি ছেড়ে তখন অস্ত্র উঠবে। প্রেম দিয়ে না আটকাতে পারলেও আমি তোমায় অন্য ভাবে আটকাবোই।”
“দেখা যাক তাহলে। রানি কামিনীকে আটকে রাখতে পারেন কি-না।” রানির কণ্ঠে দেখা গেলো হেলা। হেমলক সেই হেলায় ফুঁসে উঠল। হনহনিয়ে বেরিয়ে গেলো কক্ষ ছেড়ে। যেতে যেতে উল্টে দিয়ে গেলো আরামকেদারা, ফুল রাখার পাত্রটি।
রানি এলোমেলো চোখে তাকিয়ে রইলেন। হেমলককে তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। এ-ই মানুষটার চোখে-মুখে অগাধ প্রেম দেখতে পান, এ-ই দেখেন পাগলামো। আজকাল তিনি পুরুষের প্রেমকে কামও বলতে পারেন না। কাম হলে এতদিন এক কক্ষে পাশাপাশি থেকেও হেমলক কেন তাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করল না?
—————
এ্যাজেলিয়া রাজ্যে যামিনীর সুখের দিন অতিবাহিত হচ্ছে। যে সুখ সম্বন্ধে সে কেবল কল্পনাই করে গিয়েছিলো সেই সুখ ধরা দিয়েছে তাকে আষ্টেপৃষ্টে। তাই তার ঠোঁটের কোনায় আজকাল স্থায়ী একটি হাসি টানা থাকে।
বৈঠকখানায় বসে আছে যামিনী। তার হাত পায়ে মালিশ করে দিচ্ছে একজন দাসী। দাসীটি নতুন। কিন্তু কী সুন্দর করে সেবাযত্ন করতে জানে! শশীর চেয়ে বেশি যত্ন নেয় তার।
কক্ষের নীরবতা ভেদ করে প্রবেশ করল শশী। মুখ চোখ তার অন্ধকার। এসেই নতুন দাসীটিকে আদেশ করল,
“তুমি যাও এখান থেকে। রানির সাথে আমি থাকছি।”
দাসীটির হাত থেমে গেলো। যামিনী তার বন্ধ চোখের পাতা খুলে তাকালো শশীর দিকে। বেশ স্বাভাবিক স্বরেই বলল, “আহা শশী! থাকুক না ও৷ তুমি বরং আয়েশ করো।”
শশী এগিয়ে এলো। গদোগদো হয়ে রানির পাশটায় বসতে বসতে বলল, “কী যে বলেন! আপনার পায়ের কাছে থাকতেই আমি আরাম বোধ করি। আমার আলাদা করে আয়েশের প্রয়োজন নেই।”
শশীর গদোগদো বাক্যে খুশি হয়ে গেলো যামিনী। আপ্লূত হয়ে বলল, “এজন্য তুমি আমার এত প্রিয়।”
শশী এবার যামিনীর থেকে চোখ ফিরিয়ে নতুন দাসীটির দিকে তাকালো। চাপা কণ্ঠে হুমকি দিয়ে বলল, “তোকে এখান থেকে যেতে বলেছি না? কথার অবাধ্য হলে প্রাসাদ ছাড়া করবো।”
হুমকিতে কাজ হলো। নতুন দাসী ভয় পেলো। হাত জোর করে মাথা নাড়িয়ে উঠে গেলো।
নিজের ক্ষমতায় নিজেই সন্তুষ্ট হলো শশী। রাজপ্রাসাদে তার যেই নীরব দাপট সে যামিনীর অন্তরালে গড়ে তুলেছে, সে দাপট ক'জনই বা পায়?
নতুন দাসীটি যেতে যেতে শুনতে পেলো শশী ও যামিনীর চাপা কথোপকথন। কী নিয়ে যেন কথা বলছে তারা। বিষয়টি হয়তো গোপন কিছু। শুনতে পেলে রানি কামিনীর নিকট তথ্য হস্তান্তর করা যেতো। কিন্তু ঠিকঠাক শুনতেই পেলো না। তবে কানে এলো তার ‘আগামীকাল রাত’ শব্দ দু'টো। নতুন দাসীর বেশভূষায় থাকা রেবেকা সেই শব্দ দুটি গেঁথে নিলো মস্তিষ্কে। নিশ্চয় কোনো গোপন কিছুই করবে এই দুটিতে। সে এই গোপন কিছুর খোঁজ নিয়ে অবশ্যই রানির কাছে যাবে।
—————
গগণ বক্ষে গোধূলির প্রথম কিরণ বিছিয়ে আছে কমলা রঙের শাড়ির মতন। ধীর, তীক্ষ্ণ, শীতল বাতাসে দিনের শেষভাগ ক্লান্তিতে নুইয়ে পড়েছে।
রাজ্য ঘুরতে বেরিয়েছিলেন রানি। রাজপ্রাসাদ থেকে বেশিদূর যাননি। প্রজাদের সাথেই কথা বলছেন টুকটাক। প্রজাদের সমস্যার কথা তিনি আগ থেকেই নিজে শুনতে পছন্দ করতেন। এ্যাজেলিয়া রাজ্যের প্রজারা তাকে ভয় পেতেন তাই কিছু বলতো না তেমন। কিন্তু ক্যামিলাস রাজ্যে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। তাকে সকলেই আপন করে নিয়েছে। নতুন রানির জয় জয়কারে মুগ্ধ তারা। নিজেদের সমস্যার কথা, আনন্দের কথা অকপটেই জানায় রানিকে। রানিও শুনেন তা মন দিয়ে। তার রক্তে যেন মিশে গেছে রাজত্বের ক্ষমতা। প্রজা, রাজ্য হয়ে গিয়েছে তার প্রাণ।
প্রজাদের সঙ্গে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে হেমলককে আসতে দেখা গেলো। সুঠামদেহী শরীরটা হেলতে দুলতে এসে দাঁড়ালো রানির পাশে। হাসি হাসি মুখ। সকালেই যে মানুষটা রানিকে আটকে রাখবে বলে হম্বিতম্বি করে ছিলো, রেগে একাকার হলো, সেই মানুষটার সাথে বর্তমানের মানুষটার যেন আকাশ-পাতাল পার্থক্য। রানি তার প্রজার কথা শোনার এক ফাঁকে তাকালেন হেমলকের দিকে। ভ্রু উঁচু করে প্রশ্ন করলেন,
“এখানে কী?”
“বিবাহের পর অর্ধাঙ্গিনী যেখানে তার অর্ধাঙ্গ তো সেখানেই থাকবে না-কি?” দুষ্টু হাসি ঝুলানো হেমলকের ঠোঁটে। বাতাসে মৃদু উড়ছে চুলগুলো।
নীলাভ মণিগুলোর দিকে তাকালে রানির ঘোর লেগে যায় তাই তিনি সরিয়ে নিলেন তার দৃষ্টি।
এরপর আরও দীর্ঘক্ষণ প্রজাদের কথা শুনলেন তিনি। কথা শেষ করেই ফিরতে লাগলেন প্রাসাদে। হেমলকের নির্দেশেই মন্ত্রীমশাই ও প্রহরীরা চলে গেলো আলাদা ভাবে। অবশিষ্ট রইল তারা দু'জন।
প্রাসাদের কাছাকাছি এসে বাগানে গেলো দু'জনে। হেমলকই জোর করে রানিকে নিয়ে গেলো বাগানে। বাগানের একদিকে আলাদা করে ঘিরে রেখেছে কাঠের সীমানা। অদ্ভুত সুবাস ছড়িয়ে আছে বাতাসে। রানি চেনে সেই সুবাস। তবুও আগ বাড়িয়ে বলল না কিচ্ছুটি। হেমলক তাকে নিয়ে গেলো সেই কাঠের সীমানায়। সুগন্ধি ফুলের গাছের সমাহার সেদিকটায়। রানি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল সেখানে। পেছন থেকে হেমলক জড়িয়ে ধরলো তাকে ধীরে, যত্নে।
তার কাঁধে রাখলো নিজের থুঁতনিটি। প্রফুল্ল স্বরে বলল,
“কেমন লাগলো এই উপহার, আমার রানি? তোমার সুগন্ধি ফুলের গাছের জন্য পর্বতে যেতে হবে না। এখন থেকে তোমার হাতের নাগালেই পাবে তা।”
“কিন্তু এগুলো চাষ করা তো ভীষণ ব্যয়বহুল!”
“যেখানে তোমায় পেলে আমি লাভবান হবো সবচেয়ে বেশি সেখানে এতটুকু ব্যয় নিতান্তই সামান্য। ভেবো না তোমার রাজকোষ থেকে খরচ করেছি। এগুলো শিল্পী হেমলক পিয়ার্সের অর্জিত অর্থের ব্যয়। বলেছিলাম না তুমি ফুল চাইলে সমগ্র পর্বত তোমায় এনে দিবো? এই তো এনে দিলাম।”
সুন্দর, মোহনীয় সুগন্ধের সমারোহে হেমলকের প্রেমের বাক্য মুহূর্তকে রঙিন করে তুলল। রানির কঠোর মনকে কঠোর হওয়া থেকে আটকে দিলো বারে বারে। রানি ছোটো শ্বাস ফেলল। এই প্রেমকে প্রত্যাখ্যান করার শক্তি চাইলো স্রষ্টার থেকে মনে মনে। ঠিক তখনই রানির ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে তৃতীয় কারো উপস্থিতির সংকেত দিলো। তিনি শান্ত চোখে মণিগুলো এধার ওধার ঘুরাতেই দেখলেন একটি পুরুষালি পা পিছিয়ে গেলো পেছনের প্রাচীরটায়। পাগুলো তার চেনা। হ্যাভেন কী? কিন্তু সে তো উন্মাদ! লুকোচুরি করার মতন ক্ষমতা তার আদৌ আছে?
·
·
·
চলবে……………………………………………………