গহীন অরণ্যে শুকনো পাতার স্তূপ জমে আছে কেবল। সন্ধ্যের মৌসুমী বাতাস ও হালকা কুয়াশায় গহীন বনটিকে রহস্যপুরী মনে হচ্ছে। থমথমে চারপাশে, কয়েকটি নানান বর্ণের চোখ দেখা যাচ্ছে মাঝে মাঝে। যা হিংস্র, বন্যপ্রাণীদের উপস্থিতি টের পাওয়াচ্ছে। শীত শীত লাগছে। মনের কৌতূহল নিয়ে একের পর এক পা ফেলছে কয়েকজন। শুকনো পাতা সেই পদতলে পিষে মড়মড় করে উঠছে আর্তনাদে।
যেই হেমলক সবার আগে রানিকে রাখে সেই হেমলক আজ রানির আগে আগে হাঁটছে। এই গভীর জঙ্গলে ওঁৎ পেতে থাকা বিপদের মুখে সে তো তার রানিকে আগে ঠেলে দিতে পারে না।
আবছা আলোয় ঠিকঠাক কিছু দেখা যাচ্ছে না। এতই গাছগাছালি চারপাশে যে আকাশের সামান্য আলোটুকু তা ভেদ করে জঙ্গলে ঢুকতে সক্ষম হয়নি। অন্ধকারই যেন তার একচেটিয়া অধিকার বজায় রেখেছে সেখানে। তবে মশালের আলো সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে তার উজ্জ্বলতা দেওয়ার। হেমলক হাঁটতে হাঁটতে প্রশ্ন করল,
“আর কতক্ষণ?”
ভীত প্রহরীর বিমর্ষ কণ্ঠ প্রতিত্তোর করল, “এইতো সামনেই।”
রানি এগিয়ে যাচ্ছেন কেবল। আজকাল তিনি কাউকে বিশ্বাস করতে পারেন না বলেই নিজের তলোয়ারটি শক্ত করে ধরে রেখেছেন হাতে। মশালের আলোয় মাঝে মাঝেই রূপোলী চিলিক দিচ্ছে তলোয়ার তার ধারালো যোগ্যতা প্রমাণ করতে। উনারা তিনজনেই এসেছেন এখানে।
অবশেষে কাঙ্ক্ষিত জায়গাটিতে এসে পৌঁছালো। জায়গাটিতে একটি ছোটো ডাল পুঁতে রাখা। সেই ডালটায় বাঁধা লাল কাপড়।
এবার রানি কথা বললেন, “এখানটায়? কোথায় রেবেকা?”
প্রহরী এবার এগিয়ে গেলো আরেকটু সামনে। মশাল ধরলো। রানি দেখতে পেলেন মশালের আলোয় রেবেকাকে। যার প্রাণ নেই দেহে। লুটিয়ে আছে মাটিতে। কয়েকটি পাতা ঝরে পড়ে আছে দেহটির উপর। চোখ গুলো নেই মেয়েটার। চোখের জায়গায় কেবল দু'টি গর্ত। যা চুইয়ে রক্ত পড়েছিলো বোধহয় অনেকক্ষণ। এখন শুকিয়ে আছে সে র ক্ত। গাল গুলো কেটে ফেলেছে নৃশংসভাবে। রানি আঁতকে উঠলেন। চোখগুলো তার বড়ো বড়ো হয়ে গিয়েছে। মুখের ভাষা হারিয়ে ফেললেন। তিনি যাকে শাস্তি না দিয়ে, মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে বেঁচে থাকার জন্য মুক্তি দিয়েছিলেন, সেই মানুষটাকে কি-না অন্য কেউ মেরে ফেলেছে? এতটা সাহস সেই ব্যক্তির?
হেমলক শক্ত করে ধরল রানির হাতটা। রেবেকার মৃত দেহটির দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলো,
“রেবেকা! ওর এমন অবস্থা কী করে হলো?”
প্রহরীর চোখ-মুখ এতটাই ভীত হয়ে ছিলো যে সে সাথে সাথে উত্তর দিতে পারছিলো না। রানি বুঝলেন রেবেকার এই ভয়ঙ্কর মৃত্যু বোধহয় তার মস্তিষ্কে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে। রানি কামিনী আশ্বস্ত করলেন,
“ভীত হইও না। তোমার কিছু হবে না।”
প্রহরী কাঁপতে কাঁপতে বলল, “সেদিন রাতে উনি বললেন উনি নাকি রানি যামিনীর পেছন পেছন এই অরণ্যে আসছেন কোনো একটা কিছুর খোঁজ জানতে। যদি উনাকে পাওয়া না যায় তবে যেন আমি এখানে এসে খোঁজ নিই। উনি বোধহয় বুঝতে পেরেছিলেন উনার আগাম ভবিষ্যতের কথা।”
থামলো প্রহরী। অস্বাভাবিক ভাবে হাঁপাচ্ছে সে। চোখগুলোও কেমন বিভ্রান্ত।
হেমলক আগ বাড়িয়ে প্রশ্ন করতে চাইলেও রানি থামিয়ে দিলো তাকে। প্রহরীকে সর্বোচ্চ স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করল।
প্রহরী কতক্ষণ বুক ভরে শ্বাস নিলো। অতঃপর পুনরায় বলতে লাগল,
“আমি সেদিন উনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। দেখলাম ভোরের দিকে যামিনী প্রাসাদে প্রবেশ করছেন। তখনই মনে খটকা লাগলো। যেহেতু উনি খোঁজ নিতে গিয়েছেন তার মানে উনার তো খোঁজ নিয়ে যামিনীর আগে আসার কথা তাহলে আসলো না কেন? আমি সারা ভোর জেগে রইলাম। দেখলাম রেবেকার চিহ্নটুকু নেই। আমি সকালে আর প্রাসাদে থাকার দুঃসাহস করতে পারলাম না। মনে হলো যদি রেবেকা ধরা পড়ে যায় তার মানে উনি তো সবই জানাবে। উনি রানি কামিনীকাঞ্চনের পক্ষ থেকে এসেছেন এবং উনার সাথে আমিও এসেছি। তার মানে আমারও পরিণতি খারাপ হবে। তাই লুকিয়েই প্রাসাদ ছেড়ে বেরিয়ে পড়ি। এই জঙ্গলে এসে সারাদিন খুঁজি কিন্তু পাই না। রাত নামতেই বেরিয়ে গিয়ে লুকিয়ে থাকি। পরের দিন আবারও ভোরে জঙ্গলের ভেতর আসি। এবং শেষমেশ সন্ধ্যায় উনার মৃত দেহটি খুঁজে পাই। তখনও র ক্তগুলো শুকোয়নি। কী বিভৎস লাগছিলো! আমি তারপরই আপনার রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হই।” কথা শেষ করে আবারও থামলো প্রহরী। এরপর এক মুহূর্ত দেরি না করে, গিয়ে রানির পায়ের কাছে হাঁটু মুড়ে বসল। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“আমাকে বাঁচান আপনি। আমাকে বাঁচান। এমন কঠিন মৃত্যু আমি চাই না। বাঁচান।”
রানির চোখমুখে যেন আগুন জ্বলে ওঠল। উনার মনে হলো এখুনি গিয়ে যামিনীকে কঠিন থেকে কঠিনতম মৃত্যুদণ্ড দিতে। উনি চাইলে সেটা করতেই পারবেন। কিন্তু তিনি নিজের ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করলেন। নিজেকে বুঝালেন। যামিনীর মৃত্যু এত সহজে হলে আনন্দ নেই। যামিনীকে মৃত্যু দিতে হবে ধীরে ধীরে। মৃত্যুর জন্য ও নিজে আকুতি করবে।
নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করেই রানি ঠান্ডা কণ্ঠে প্রহরীর উদ্দেশ্যে বললেন,
“ভীত হইও না। প্রজাদের প্রাণের চেয়ে বড়ো আমার কাছে কিছু নেই। তুমি ক্যামিলাস রাজ্যে ফিরে চলো আমাদের সাথে। তাছাড়া এই মুহূর্তে এত কথা এখানে বলাও শোভনীয় না এবং বোকামো। যে-কোনো মুহূর্তে বিপদ হতে পারে। বাহিরে ঘোড়াগুলো দাঁড়ানোই আছে। আগে এই অরণ্য থেকে বের হতে হবে।”
রানির কথা থামতেই পাতার মড়মড় শব্দ আচমকাই বাড়তে লাগলো। বন্য পশু পাখিগুলো কারও আগমনে উতলা হয়ে হাঁকডাক আরম্ভ করল। হেমলক তাড়া দিলো,
“তাড়াতাড়ি বের হও। নিশ্চয় ওরা আজ আবার আসছে। আমাদের দেখে নিলেই বিপদ হবে। দ্রুত বের হও।”
রানি কানখাড়া করে শুনে বুঝার চেষ্টা করলেন শব্দটা কোন দিক থেকে আসছে, এবং কতটা দূরত্বে। এরপরেই গম্ভীর হয়ে গেলো তার কণ্ঠ,
“হেমলক পিয়ার্স, আপনি প্রহরীকে নিয়ে আগে ছুটুন। ওর যা অবস্থা ও ছুটতে পারবে না একা। দ্রুত ছুটুন।”
এই উত্তেজিত, কঠিন সময়ে রানির এহেন কথায় ভ্রু কুঞ্চিত করল হেমলক,
“তুমি? তোমাকে ছাড়া আমরা যাবো নাকি?”
“আমিও আসছি। আপনারা ছুটুন। আমি, ক্যামিলাস রাজ্যের রানি আপনাকে হুকুম করছি। আমার প্রহরীর প্রাণের ভার আপনাকে সঁপেছি। আমার হুকুম নিশ্চয় অমান্য করবেন না?”
হেমলক দিকভ্রান্ত হলো। রানিকে বিপদে রেখে সে কোনোক্রমেই যেতে পারে না। আবার হুকুমও অমান্য করতে পারছে না। রানি ঠিক কী চাচ্ছে সে বুঝেই উঠতে পারছে না।
হেমলককে দিকভ্রান্ত দেখে রানি নিজের তলোয়ার তুললেন। রূঢ়ভাবে বললেন,
“আপনি এখুনি না গেলে এই তলোয়ারে আমি আপনাকে ছিন্ন করে ফেলবো।”
হেমলক হতভম্ব হলো, “প্রাণের ভয় দেখাচ্ছো আমায়! আমি প্রাণের ভয় করি না।” শেষের বাক্যটি বলার সময় তার কণ্ঠ কঠিন হলো।
রানি দু'বার চোখের মণিগুলো এলোমেলো ঘুরিয়ে বললেন,
“ঠিক আছে, তাহলে আমার প্রাণই আমি নিয়ে নেবো। সে ভয় নিশ্চয় করেন? আমাকে না আপনি ভালোবাসেন?”
হেমলক অসহায় হয়ে পড়ল। দীর্ঘশ্বাস ফেলল একটা। রানির এহেন কথায় আঘাত পেলো মনে। ভঙ্গুর স্বরে বলল,
“তুমি দ্রুত এসো। আমরা অপেক্ষা করব।”
কথা শেষ করেই সে দিক্বিদিক ভুলে ছুট লাগালো প্রহরীর হাত ধরে। যেন প্রতিযোগিতা হচ্ছে এখানটায়! কে জিততে পারবে আয়ু বাড়ানোর যুদ্ধে। ছুটতে ছুটতে ভুল করেও হেমলক একটিবার পিছে ফিরে তাকালো না। অভিমানে তার মন ভার হয়েছিলো কি-না! অবশ্য পিছু ফিরে তাকালে সে দেখতে পেতো, রানি কামিনী এই প্রথম বোধহয় কারো দিকে ভালোবেসে তাকিয়ে আছেন!
—————
বনের বাহিরটায় খোলা একটি জায়গা রয়েছে। জায়গাটির একদিকে শূন্য ভূমি অন্যদিকে একটি নদী।
সে জায়গাটি পেরুলেই ক্যামিলাস রাজ্যের এক প্রান্তর দেখা যায়। রাত বেড়েছে। একটি মশালের আগুন জ্বলছে বেতালে। হাওয়ায় হাওয়ায় নৃত্য করছে সেই আগুন।
অমাবস্যা বলে আকাশে আলো নেই বিন্দুমাত্র। দমবন্ধকর লাগছে তাই রাতটিকে।
একটি গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে প্রহরী। তার মিহি কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে। পুরুষদের মিহি কান্না কেমন অদ্ভুত ও গম্ভীর হয়। যার ফলস্বরূপ চারপাশটা আরও খানিক গা ছমছমে লাগছে।
রানির ঘোড়াটিকে ধরে দাঁড়িয়ে আছে হেমলক। চুপচাপ একদম। তাকিয়ে আছে বনের দিকে। তারা এসে পৌঁছেছে অনেকটা সময় হলেও রানির ফেরার নামগন্ধটি নেই। সেই চিন্তায় সে ঘামছেও।
প্রহরী ক্রন্দনরত অবস্থায় থেমে থেমে বলল,
“রানি কোথায়? ফিরছেন না কেন? ঐ যামিনী অনেক ভয়ংকর। ও যা কিছু করতে পারে।”
প্রহরীর কথায় হেমলক প্রতিত্তোর করল না। মনটা তারও কু ডাকছে। রানি কেনই বা থেকে গেলেন জঙ্গলে তা ভেবে পাচ্ছে না।
বেশ খানিকক্ষণ অপেক্ষার পর অধৈর্য হলো হেমলক। সিদ্ধান্ত নিলো আবারও জঙ্গলের ভেতরে ফিরে যাওয়ার। কিন্তু তার আগে রানির দেওয়া হুকুমও তো মানতে হবে! তাই সে গিয়ে প্রথমে প্রহরীকে টেনে তুলল।
“কী হলো? আমাকে কোথায় নিচ্ছেন আবার?” অবাক কণ্ঠে শুধালো প্রহরী।
হেমলক কালো মিশমিশে ঘোড়াটির সামনে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করালো প্রহরীকে। তার কোমড়ে গুঁজে রাখা ছোটো একটি ছুরি বের করে প্রহরীর হাতে দিতে দিতে বলল,
“তুমি সোজা ক্যামিলাস রাজ্যে চলে যাও। তোমার প্রাণ বাঁচানোর হুকুম আমি পালন করছি। তুমি ক্যামিলাস রাজ্যে গিয়ে অপেক্ষা করো। যদি আমরা ফিরে না আসি তবে এই ছুরিটি রাজবৈদ্যর কাছে দিবে। এবং সমস্ত কথা খুলে বলবে। ছুরিটিই প্রমাণ থাকবে তুমি যে সত্যি বলছো তার। আর আমরা ফিরে এলে তো তা আমাদের সৌভাগ্য।”
নিজের প্রাণের মায়ায় এতক্ষণ মরিয়া হয়ে থাকা প্রহরীর যেন হুট করে কী হলো! সে আর নিজের প্রাণের চিন্তায় হাউমাউ করে কাঁদলো না। বরং ধীরে, দৃঢ় স্বরে বলল,
“আপনাদের রেখে আমি কোথাও যাবো না। প্রয়োজনে রানিকে খুঁজতে আমিও যাবো। আমি ভীতু হতে পারি কিন্তু স্বার্থপর নই। যে রানি আমার প্রাণ বাঁচাতে আপনাকে শর্ত দিলো, যে আপনি আমার জন্য নিজের রানিকে রেখে জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে এলেন, সেই আপনাদের রেখে আমি চলে যাবো? কীভাবে তা ভাবলেন? রাজাদের কাছ থেকেই তো প্রজারা শিক্ষা পায়। রানি কামিনীকাঞ্চন আমাদের স্বার্থপরতার শিক্ষা দেননি যে!”
প্রহরীর জ্বলন্ত কথায় হেমলক ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। রাজনীতি কিংবা রাজ্য নিয়ে তার কোনো কালেই টান ছিলো না। কৌতূহল ছিলো না। তাই জানে না প্রজারা ঠিক কতটা ত্যাগী হতে পারে। কিন্তু আজ সেসব নিজের চোখে দেখে সে ভাষা হারাচ্ছে। রানি ঠিক কতটা মায়ায় এই রাজ্য, রাজত্বকে ভালোবেসেছেন তাও টের পাচ্ছে সে।
সেই মুহূর্তেই ভেসে এলো কারো পদধ্বনি। হেমলকের এতক্ষণে বুকে জমা থাকা অসহায়ত্ব সরে গিয়ে বুকে ধরা দিলো তীব্র সাহস। সে বুক পেতে প্রহরীর সামনে দাঁড়ালো। যদি যামিনী অথবা অন্য কেউ হয় তাহলে আজই তার মৃত্যু ঘটবে। কী অদ্ভুত না?
যে হেমলক সবসময় বলেছে ভালোবেসেই জয় করা যায় সব তার হাতে আজ তলোয়ার! অস্ত্র বেছে নিয়েছে সে কেবল একটি নারীকে ভালোবেসে! রানি কামিনীকাঞ্চনের ক্ষমতা যে এতটাই।
তাদের ভাবনার সমাপ্তি ঘটিয়ে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এলেন রানি। তার পিঠে রেবেকার মৃত দেহটি। রানির কমলা রঙের কাপড়ের একটি ভাগ দিয়ে বাঁধা রেবেকার সেই দেহটি।
এমন দৃশ্য দেখে হেমলক ও প্রহরী দু'জনই চমকে গেলো। যেই মৃতদেহটি দূর থেকে দেখলেই যে কারো আত্মা শুকিয়ে আসবে সেই দেহটিকে নিয়ে রানি ছুটে এসেছেন? কেন?
হেমলক ধপাধপ্ পা ফেলে রানির কাছে গেলো। একবার রানির মুখ, আরেকবার রানির পিঠে থাকা রেবেকাকে দেখল। বিস্মিত কণ্ঠে বলল,
“ওকে আনার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলে! কেন? ও তো মৃত! ওকে নিয়ে এতটা পথ এলে যদি ধরা পড়ে যেতে? কেন আনতে গেলে ওকে? এমনতো নয় যে ও বেঁচে আছে তাই নিজের প্রাণ ঝুঁকিতে রেখে হলেও ওকে আনতে হবে! ও তো মারা গিয়েছে!”
“ও মারা গিয়েছে কিন্তু আমার প্রতি তো প্রজাদের বিশ্বাসকে আমি মেরে ফেলতে পারি না। ও আমার প্রজা ছিলো, ওর দায়ভার তো আমারই তাই না? আজকে ওকে ওখানে রেখে এলে আমার প্রতি অচিরেই প্রজাদের বিশ্বাস ভেঙে যেতো। ওরা আর আমায় ভালোবেসে মৃত্যু বেছে নিতে পারতো না। রেবেকা জানতো ওর মৃত্যু হবে তাও ও আমায় ভালোবেসেই নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলো। তাহলে আমি কেন তা পারবো না? আমি ওকে রেখে এলে ওর বিশ্বাস, ভালোবাসা হেরে যেতো। মৃত রেবেকা আর ওখানে দাঁড়িয়ে থাকা ঐ ভীত ছেলেটা আজন্ম মনে রাখতো— ওদের রানি ওদের জন্য প্রাণ দিতে জানেন না। ওদের মৃত্যুর পর ওদের মৃতদেহ বেনামি হয়ে পড়ে থাকবে। এমন কলঙ্ক আমি বইতে পারি বলুন? আমি সব ছাড়তে পারলেও এদের মায়া ছাড়তে পারি? পারি না যে। আমি, রানি কামিনীকাঞ্চন, সর্বপ্রথম ভালোবেসেছি আমার প্রজাদের ও রাজ্যকে। সর্বশেষেও আমি যে ওদেরই ভালোবাসি, ভালোবাসবো।”
·
·
·
চলবে……………………………………………………