অন্ধকার কক্ষটিতে হেমলকের প্রবেশ ঘটলো দুর্নিবার ঝড়ের মতন। চারপাশটা ভেঙেচুরে যেন প্রবেশ করল।
সাথে তার কণ্ঠনালী হতে ঝরে পড়া রাগ মিশ্রিত বাক্যগুলো ছন্নছাড়ার মতন শব্দ তুলল তীব্র,
“আমার রানির কক্ষে তুই কে? কে তুই? অমানুষ, পশু। কে তুই।”
হেমলকের এই তান্ডবের মতন আগমন পালঙ্কে থাকা পুরুষটিকে ভীত করে তুলল। এক লহমায় লাফিয়ে পড়ল সে পালঙ্ক থেকে। ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করল তৎক্ষণাৎ। কিন্তু তা হতে পারল না। হেমলক অন্ধকারেও ঠিক ধরে ফেলল সেই অজ্ঞাত পুরুষটিকে।
হেমলকের চিৎকারে কম্পিত হলো পুরো রাজপ্রাসাদ। যেখানের যত দাসদাসী ছিলো প্রত্যেকেই ছুটে চলে এলো। ছুটে এলো প্রহরী হতে আত্মীয়স্বজন সকলে। ঘুমন্ত চোখ নিয়ে রাজমাতা, লিলি, ইথুন, মামিশ্রী, গুরুমাতা সকলেই। সবশেষে মামাশ্রী এসে কক্ষের সকল আলো জ্বালানোর নির্দেশ দিতেই এক লহমায় অন্ধকার কক্ষটি আলোয় ঝলমল করে উঠল।
এতক্ষণ যারা বুঝতে পারছিলো না কক্ষটিতে কী হচ্ছিলো তারা আলো জ্বলাতেই চমকে উঠল। কেঁপে উঠলো তাদের দু'নয়ন। পালঙ্কে ঘোরগ্রস্ত রানি পড়ে আছেন লেপ্টে। তার মোলায়েম, মসৃণ, ধবধবে, মেদহীন পেটটি উন্মুক্ত। ঠিকড়ে পড়ছে সৌন্দর্যতা। সৌভাগ্যবশত তার দীঘল কালো চুলগুলো মুখে পড়ে থাকায় মুখটি প্রায় ঢাকাই ছিলো। হেমলকের প্রথমে মুখের কথা মনে না থাকলে পরমুহূর্তেই সে ভীত হয়ে তাকাতেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। স্বয়ং বিধাতাই নিজের মায়াবলে রানিকে আড়াল করে ফেলেছেন।
রানির উন্মুক্ত পেটটি ঢাকার জন্য হেমলক লোকটিকে ছেড়ে ছুটে গেলো। রানির পরনের কাপড়টি টেনে দিলো আলগোছে। ডাকল কয়েকবার। অথচ সাড়াশব্দহীন ভাবে রানি পড়ে আছেন।
অপরদিকে হেমলকের হাত থেকে ছাড়া পেয়েই ছুটে যেতে চাইল সেই পুরুষটি। কিন্তু পারল না। তার আগেই হেমলক তার শক্ত হাতের মুঠোয় চেপে নিলো লোকটির ঘাড়ের দিকটার জামাটা।
কেবল আটকেই সন্তুষ্ট হলো না বরং পাষবিক ভাবে আঘাত করতে লাগলো একের পর এক। সেই আঘাতে ছেলেটি আর্তনাদ করছে অনবরত। অথচ হেমলক অধিক থেকে অধিক স্বরে চ্যাঁচিয়ে বলতে লাগলো,
“আমার রানির কক্ষে তোকে কে প্রবেশ করতে বলেছে? কে তোকে এই আস্পর্ধা দিয়েছে? তোর এত বড়ো সাহস! আমার রানির গায়ে হাত দিয়েছিস?”
সেই বেধড়ক মারধর প্রাসাদের সকলে তাজ্জব বনে দেখতে লাগলো। তারা তখনও সম্পূর্ণ ঘটনা বুঝতে পারছে না। হেমলক প্রাসাদে ছিলো না আজ সারাদিন। হুট করে কোথা থেকেই বা এলো সে? আর রানির কক্ষেই বা এ কে? তাছাড়া রানিও বা এভাবে শুয়ে আছেন কেন? হুঁশ জ্ঞান নেই কেন?
সকলে সংশয়ে হা হয়ে থাকলেও কথা বললেন রাজমাতা। তার নিদ্রা সরে গিয়েছে ততক্ষণে চক্ষুদ্বয় থেকে। কণ্ঠে জমা হয়েছে ভারি ঘৃণা ভাব,
“ছি ছি ছি! আমার রাজপ্রাসাদের বধূর কক্ষে কি-না অন্য পুরুষ? কী লজ্জার এটা! ধিক্কার তোমার বধূকে। ধিক্কার!”
হেমলক সেই প্রথম তীব্র চিৎকার করে উঠল রাজমাতার উপর, “চুপ। মুখের জবান বন্ধ করে দেবো আমার রানির ব্যাপারে একটিও বাজে কথা উচ্চারণ করলে। আপনি এই হেমলককে চেনেন না, রাজমাতা প্রাচী। আমি পুরো পৃথিবী ধ্বংস করে দেবো আমার রানিকে নিয়ে কিচ্ছুটি বললে।”
হেমলকের এই ধমক কেবল রাজমাতা নয়, কাঁপিয়ে তুলল রাজপ্রাসাদের ভিত। রাজমাতা প্রাচী তীব্র বিস্ময় নিয়ে হেমলকের দিকে তাকিয়ে রইলেন। এই হেমলকের সাথে আগের হেমলকের কোনো মিল নেই! এই হেমলক হিংস্র হয়ে গিয়েছে। চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝড়ছে ওর। এ তার কেমন রূপ!
অজ্ঞাত সেই পুরুষটিকে এলোপাথাড়ি মারে বেহুঁশ করে তুলল। সকল দাসদাসী, প্রহরীদের উৎসুক নয়ন চারপাশ জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা হেমলকের এই নতুন রূপটির সম্পর্কে অবগত নয় বলেই বিস্ময় ধরছে না আর।
মামাশ্রী এগিয়ে গেলেন। থামানোর চেষ্টা করলেন হেমলককে,
“থামো, পুত্র। কী করছো? এ মরে যাবে তো!”
“সরুন এখান থেকে। আমার সামনে এখন যে আসবে তাকে আমি মেরে ফেলবো। ও কী করেছে ও নিজেও জানে না। আমার রানির গায়ে হাত দেওয়ার মতন জঘন্য কাজটি ও করেছে। আমি তো ওকে বাঁচতে দিবো না। কখনোই না।”
হেমলক যেন আজ উন্মাদ হয়ে গিয়েছে। হারিয়ে ফেলেছে নিজেকে। রাগে সে রীতিমতো অন্ধ।
রাজবৈদ্যকে ততক্ষণে ডেকে নিয়ে এসেছে রানির দাসীটি। হেমলক মারতে মারতে জিজ্ঞেস করল, “কে তুই বল? কে তোকে সাহস দিয়েছে এই কক্ষে প্রবেশ করার? আমার রানির কক্ষে কে তোকে প্রবেশ করতে দিয়েছে?”
ছেলেটি এতই মার খেয়েছে যে কথা বলার আর বিন্দুমাত্র ক্ষমতা তার ভেতর দেখা গেলো না। সে ঢলে পড়ছে বার-বার।
হেমলক তাদের সেনাপতিকে ডাকল। ছেলেটিকে নোংরা বস্তুর ন্যায় ছুঁড়ে মারল সেনাপতির হাতে। সাথে দাররক্ষীদের দিকে আঙুল তাঁক করে রেখে বলল,
“সেনাপতি, ওদেরও সাথে নিয়ে গিয়ে বাঁধো বিচার শালায়। আমি আসছি। ওদের জীবনের শেষ আয়ুটুকু কেমন হবে তা আজ ওরা স্বচক্ষে দেখবে।”
দাররক্ষী দু'জন রীতিমতো ভয়ে কাঁপছে। হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দিলো। হাত জোর করে বলল,
“আমাদের প্রাণে মারবেন না। আমরা কিচ্ছুটি করিনি। আমাদের মারবেন না।”
তাদের এই আকুতি শোনার সময় নেই হেমলকের। সেনাপতিকে ইশারা করল সে। তার ইশারা পেতেই সেনাপতিসহ আরও রক্ষীরা প্রায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেলো ওদের।
কারো কথা বলার সাহস হচ্ছে না। হেমলক যেন কথা শুনলেই মেরে ফেলবে।
রানিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে বিধায় হেমলক নিজেকে স্থির করল। তার শ্বাস অস্বাভাবিক ভাবে উঠানামা করছে। ঘেমে-নেয়ে একাকার হয়ে গেছে শরীরটা। কণ্ঠ তীব্রতর গম্ভীর করে সকলকে আদেশ করল প্রায়,
“সকলে বিচারশালায় যান। ওখানে উপস্থিত হোন। আমি রানিকে নিয়ে আসছি। আজ যে আস্পর্ধা ওরা দেখিয়েছে তার বিচারটা দেখবেন। আমি প্রত্যেককে আজ দেখে নেবো। আমার রানির কিচ্ছুটি হলে এই গোটা সাম্রাজ্য আমি জ্বালানি ছাই করে দিবো। ধ্বংসযজ্ঞ চালাবো। মনে রাখবেন, প্রত্যেককে দেখে নিবো।” শেষ বাক্যটি বললো প্রায় সবার দিকে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে।
এমন হিমশীতল হুমকির পর আর কারই-বা দাঁড়িয়ে থাকার সাহস অবশিষ্ট রয়? প্রত্যেকেই দ্রুত গতিতে কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে গেলো। হেমলকের এই ক্রোধ সহ্য করার ক্ষমতা ওদের নেই।
সকলে যেতেই হেমলক কপাট দিলো। রাজবৈদ্যকে নির্দেশ দিলো রানিকে দেখার। নিজে গিয়ে বসল রানির পাশে। রানির মুখ থেকে সরিয়ে নিলো চুলগুলো। বেঘোরে নিদ্রায় আচ্ছন্ন রানি। রাজবৈদ্য তার সমস্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করল মনোযোগ দিয়ে। অতঃপর কপালে তিনটি ভাঁজ ফেলে হেমলকের উদ্দেশ্যে বলল,
“রানির এই নিদ্রা তো স্বাভাবিক নয়। কোনো কিছুর প্রতিক্রিয়া হিসেবে তার এই গভীর নিদ্রা।”
“ভাঙান সেই নিদ্রা। এখুনি।”
রাজবৈদ্য মাথা নাড়িয়ে জড়িবুটি আনতে চলে গেলো। কক্ষ জুড়ে রইল কেবল ওরা দু'জন আর হেমলকের বুকের লন্ডভন্ড করা ঝড়। তার ক্রোধে পুরো শরীর জ্বলছে। যে রানির দেহে আজ অব্দি সে হাত দেয়নি সেই রানিকে কোনো অপরিচিত পুরুষ ছোঁয়ার সাহস করেছে… এটি ভাবতে গেলেই তার মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে। যদি আজ সে উপস্থিত না হতো তবে কী হতো? কী হতো তার রানির দশা? কীভাবে রানি নিজেকে সামলাতেন? তিনি পৃথিবীর প্রতি আর বিশ্বাস রাখতে পারতেন? বাঁচতে পারতেন কি?
যেই বিপদটি ঘটেনি কিন্তু হেমলক না এলে ঘটতে পারতো, সেই বিপদটির কথা ভেবে ভেবেই তার দুনিয়া উল্টে যাচ্ছে। তার রানিকে সে একটু হলেই হারিয়ে ফেলছিলো! আর একটু!
স্বয়ং বিধাতা বোধহয় সহায় হয়েছিলেন।
—————
নিস্তব্ধ কক্ষটিতে থেকে থেকে ভেসে আসছে রানির উষ্ণ শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ। শরীরটি তার অত্যাধিক দুর্বল লাগছে যদিও কিন্তু চোখের সেই অগাধ ঘুম আর নেই। সে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা নিজের দাসীর নিকট থেকে শুনে হতবিহ্বল হয়ে গিয়েছে। তার মাথা ভার লাগছে। ভাবনার শক্তি ক্ষীণ হয়ে আসছে। তার সাথে এমন একটি কান্ড ঘটে গিয়েছে? তার শরীরকে ছোঁয়ার সাহস করেছে কেউ!
দাসীর কণ্ঠ মোলায়েম হলো। ষে তো নারী। আরেকটি নারীর এহেন দূর্দশায় তাে মায়া হওয়াটা স্বাভাবিক। নিশ্চয় রানির ভীষণ খারাপ লাগছে! মনে মনে এটা ভেবেই তার করুণাই বুক নরম হলো।
“আপনি চিন্তা করবেন না, রানি। ভেঙে পড়বেন না। রাজপুত্র হেমলক ওদের শাস্তির ব্যবস্থা করছেন। আপনি সুস্থবোধ করলেই আপনাকে নিয়ে যাওয়া হবে।”
“চিন্তা? চিন্তা করবো কেন? কীসের চিন্তা আমার! তুমি হয়তো আমায় আজও বুঝতে পারোনি। ভেঙে পড়া আমার ধাতে নেই। ও পশুগুলো কোথায়? আমায় নিয়ে চলো সেখানো। এখুনি।” রানির এই বাজখাঁই কণ্ঠে তাজ্জব হলো দাসী। এমন একটি ঘটনার পর যেকোনো মেয়েই হয়তো মুখ তুলে তাকাতে পারতো না। সেখানে রানি কি-না এমন তেজস্বিনী!
কথোপকথন আরও বাড়ার আগেই কক্ষে হেমলক প্রবেশ করল। এসেই গম্ভীর কণ্ঠে দাসীকে যাওয়ার নির্দেশ করল। কক্ষ আবারও ডুবে গেলো নীরবতায়। মধ্য রাত ঘন হওয়ায় দূর বনের হিংস্র পশুদের ডাক শোনা গেলো স্পষ্ট। রানির দৃষ্টি বাতায়ন ভেদ করে চলে গেলো যেন বহুদূর। অথচ মন? তা পড়ে রইল হেমলকের কাছে। সে যতই শক্ত কণ্ঠে জবাব দিক, ভেতর যে তার জ্বলে যাচ্ছে। ধ্বংস করে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে গোটা পৃথিবী। তার গায়ে যে হাত দিয়েছে সেই হাত তার দুমড়েমুচড়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে মন চাচ্ছে। কিন্তু সেই সকল ইচ্ছে ছাপিয়ে গিয়েছে আরও একটি ইচ্ছে— চিত্রশিল্পী হেমলক পিয়ার্সের মন বোঝার ইচ্ছে। সে কি ভাবছে এই মুহূর্তে তা জানার ইচ্ছে। সে রানিকে কতটুকু অবিশ্বাস করছে তা শোনার ইচ্ছে।
নিজের ইচ্ছেকে দমালেন না রানি। নিবিড় স্বরে শেষমেশ প্রশ্নটি করলো,
“দূরে দাঁড়িয়ে যে? এখন কি কাছে দাঁড়াতে সংশয় হচ্ছে? ভাবছেন নষ্ট হয়ে যাবেন কি-না?”
হেমলকের চোখে-মুখের ভাষা আজ বড়োভ অভেদ্য। শক্ত, কঠোর চাহুনি। প্রশ্নের বিপরীতে সে প্রশ্ন ছুঁড়ল,
“আমি যদি তা-ই ভাবি তবুও কি তোমার কিছু যায় আসে? তুমি নিজেকে কী ভাবছো তার উপর কোনো প্রভাব পড়বে?”
হেমলকের এমন প্রশ্নে রানির মন ঠিক বুঝে গেলো যে, হেমলক তাকে অবিশ্বাস করেছে। নয়তো এমন কথা বলতো না। তাই রানির কণ্ঠ আরও কাঠিন্যে মুড়ে যায়,
”না, কোনো প্রভাব পড়বে না। আমি জানি, আমি কী, আমি কে এবং আমি কতটা। কারো ভাবনা আমাকে টলাতে পারবে না। এই পৃথিবীর সমস্ত পুরুষও যদি আমাকে ছুঁয়ে দেয় তবুও আমি নিজে পবিত্র ভাববো। কারণ আমার হৃদয় পবিত্র। অন্যের ছোঁয়া আমার দেহ অপবিত্র করতে পারবে না কখনোই। অন্যের দোষের কলঙ্ক আমার নয়। কখনোই নয়।”
হেমলক এবার এগিয়ে এলো। একদম কাছাকাছি। হাত রাখল রানির মাথায়। স্নেহ, মমতায় বুলিয়ে দিলো রানির মাথাটি,
“ঠিক এই আত্মবিশ্বাসটুকু রাখো। ব্যস্, এতটুকুই যথেষ্ট। এরপর নগন্য হেমলক অথবা সারা পৃথিবী তোমার বিপরীতে গেলেও তোমায় হারাতে পারবে না। আমি খুবই সামান্য মানুষ। তবুও বলছি, এই পৃথিবীর সমগ্র মানবজাতিও যদি তোমার বিপরীতে চলে যায় মনে রাখবে সেদিনও একজন তোমার পাশে থাকবে। সেই নগন্য একজন আমি, কেবল আমি। যদিও আমার থাকা, না থাকায় তোমার কিছুই আসে যায় না কিন্তু আমার রানির পাশে থাকাই যে আমার ধর্ম। আমার প্রেমের স্বার্থকতা।”
হেমলকের পেটানো শরীরে এই প্রথম রানি মাথা রাখলো। পেটের কাছটায় হেলান দিয়ে এই মায়া, স্নেহে চোখ বন্ধ করল। সেই বন্ধ চোখের পাতা দিয়ে গড়িয়ে পড়লো এক ফোঁটা জল। পুরো পৃথিবীর দুঃখ ঝড়ে পড়ল সে জলে। একটি নারীর একার যুদ্ধ ঝড়ে পড়ল তারই সাথে।
—————
প্রজায় ভরে গেলো রাজপ্রাসাদ। ছি ছি, ধিক্কারে চারপাশ মুখরিত হলো। রানির মেয়েলি দেহে পরপুরুষের ছোঁয়া লাগেনি এই কথাটি তারা বিশ্বাস করতে নারাজ। দোষীদের শাস্তির আগেও তারা শাস্তি চাইলো রানির। কারণ উনি যে নারী। আর পৃথিবীতে সমস্ত কলঙ্ক যে নারীদের দেহেই লাগে। পুরুষদের যে কোনো কলঙ্ক নেই। তাদের গায়ে কলঙ্ক লাগে না কখনো।
·
·
·
চলবে……………………………………………………