কামিনী - পর্ব ৬৩ - মম সাহা - ধারাবাহিক গল্প

কামিনী - মম সাহা
          যুদ্ধক্ষেত্রে ইথুনের উপস্থিতি আজ ক্যামিলাস রাজ্যের রানি ও সৈন্যদের আগে ঘটেছে। রানিকে হারানোর জন্য সে মরিয়া হয়ে গিয়েছে। তার যেন তর সইছিলো না। প্রভাতের আরম্ভ হয়েছে সবে। সূর্যের প্রথম কিরণ এসে লেগেছে চোখে-মুখে। 
 ইথুনের হাস্যোজ্জ্বল মুখটি প্রসস্থ হলো আরও রানিকে তার সৈন্যসামন্ত নিয়ে আগমন হতে দেখে। 
ইথুন হাত খানিক মেলে বলল, “আসুন, আসুন, রানি। আপনার জন্যই অপেক্ষা করছি। আশা করছি আজই আমাদের শেষ সাক্ষাৎ হবে ময়দানে।”

 রানি কামিনীকাঞ্চনের মুখটি এতক্ষণ যাবত গুরুগম্ভীর ছিলো। ইথুনের কথায় তিনি চোখ-মুখ তুলে তাকালেন। এরপর নিমিষেই তার সেই গুরু-গম্ভীর মুখের আদল বদলে গেলো। সেখানে দেখা দিলো হাসি ইথুনের চেয়েও গাঢ়। সেই হাসিতে যেন সর্বোচ্চ জয় করে নেওয়া সাহস জ্বলজ্বল করে উঠল। তিনি ইথুনের কথাটিকে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি প্রদান করে বলে উঠলেন,
“আপনার আশা অবশ্যই পূর্ণ করবো আমি, ইথুন। আপনি অবশ্যই আজই আমাকে শেষবারের মতন দেখে নিন। এরপর আপনার প্রাণ নাও থাকতে পারে।”

 রানির সেই আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠ চারপাশে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে ফিরে গিয়ে বাজল ইথুনের কানে। রানি কালকের এই ধ্বংসাবশেষের পরেও এত অদম্য বিশ্বাস নিয়ে আজ কীভাবে উপস্থিত হলেন তা-ই ভেবে পাচ্ছে না ইথুন। 
 তাকে অবশ্যই বেশিক্ষণ ভাবতেও হলো না। রানির পক্ষের সৈন্য গণহারে বাড়তে লাগলো সমুদ্রের স্রোতের মতন। সৈন্য আসছেই, আসছেই, আসছেই…
 থামছে না সেই সৈন্যদের আগমন। এত, এত, এত অসংখ্য সৈন্য যে যতদূর চোখ যায় ততদূর কেবল দেখা যাচ্ছে সৈন্য আর সৈন্য। এ যেন দ্বিগুণ নয়, দশগুণ হয়ে ফিরে আসা। কীভাবে সম্ভব? কেই-বা রানিকে এমন সাহায্যের হাত এগিয়ে দিলো?

ইথুনের ভাবুক চোখ এদিক ওদিক ছুটে গেলো উত্তরের জন্য। এবং তাকে ভীষণ ভীষণ বিস্মিত করে দিয়ে যুদ্ধের ময়দানে প্রবেশ করতে দেখা গেলো হেমলক পিয়ার্সকে। বুক তার টানটান, বাহু তার চওড়া। ফর্সা দেহে সূর্যের কিরণ আছড়ে পড়ে লাগছে মাখনের মতন। সোনালি চুলগুলো তার উসকোখুসকো হয়ে উড়ছে ঘোড়ার ছোটার তালে তালে। ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো ইথুন। হেমলক পিয়ার্স কি-না শেষমেশ যু দ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয়েছেন! হেমলক পিয়ার্স? 
 যে মানুষটা রংতুলি ছেড়ে কখনো তলোয়ার তুলে নেয়নি হাতে আজ সে রানির জন্য ত লো য়ার ছুঁয়েছে? এ কেমন অবিশ্বাস্যকর বিষয়!

ইথুনকে আরও চমকে দিয়ে পরপর ছুটে এলো আরেকটি রথ। রথের উপর দাঁড়ানো মৃন্ময়ী ও ইনান ণেকিতান। সমস্তই এসে থামল তার সামনে। এক রাতের ব্যবধানে এত সৈন্য, এত লোকবল দেখে ইথুনের পায়ের নিজের জমিন একটু তো আলগা হলোই। বুকে আশঙ্কা জমেছে ঠিক। দূরের উঁচু পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে সে ঢোক গিলল। নিচ থেকে অত উপরে থাকা যামিনীকে সে না দেখতে পেলেও মনে মনে যেন খুঁজল যামিনীকে। গতকাল কতই না বড়াই করে বলেছিলো এই জয় তাদেরই হবে কিন্তু আজ যে সমস্ত কিছুই ঘুরে গেলো। রাতারাতি যে সব পাল্টে যাবে তা-ও কি সে জানতো?

 পাহাড়ের উপর দাঁড়ানো যামিনীর শরীরে মেঘ ছুঁয়ে যাচ্ছে নরম বাতাসের তালে তালে। সে ময়দানের দিকে তাকিয়ে আছে এক ধ্যানে। পলকও যেন পড়ছে না তার। কোনো সাড়া নেই, শব্দ নেই, কথা নেই। 
 অন্যদিকে, শশীপূর্ণার গলা শুকিয়ে এসেছে রীতিমতো। এখান থেকে দাঁড়িয়ে নিমিষেই বোঝা যাচ্ছে আজ কে জয়ী হবেন। আর কাকেই বা হারতে হবে নির্মম ভাবে। সে রানি কামিনীকাঞ্চনের এই অঢেল সৈন্য দেখে ভীত হলো। ময়দান থেকে চোখ ঘুরিয়ে যামিনীর দিকে তাকাল। শুধালো,
“আপনি কিছু ভাবছেন কি?”

 যামিনীর দৃষ্টি আগের মতনই রণক্ষেত্রে নিবদ্ধ। উত্তরে সে বলল, “কী ভাবার কথা বলছো?”

“এত সৈন্য এক রাতের মাঝেই রানির নিকট কীভাবে এলো? আর সেই সৈন্য আমাদের সৈন্যদের চেয়ে তুলনায় দশগুণ বেশি। আদৌ কোনো সম্ভাবনা আছে কি জয়ের?”

 “মনে হচ্ছে না। যদিও গতকাল রাতেই আমি জানতাম রানির শূন্য হওয়া মানে কেবল শূন্য নয়, সেই শূন্যের পাশে এক বসে দশ হওয়া। রানি কামিনীকাঞ্চনকে আমি তো জানতাম। তিনি হারতে শেখেননি।”

“তবুও আপনি এখানে দাঁড়িয়ে আছেন? কেন? তিনি যদি জয়ী হয়েই যান সর্বপ্রথম আমাদেরই তো বন্দী করবেন। আপনার শাস্তি তো আরও ভয়ঙ্কর হবে।”

 “জানি। জানি বলেই দাঁড়িয়ে আছি। উনার সঙ্গে আমার অনেক হিসেব বাকি। সেসকল হিসেব আজ মুখোমুখি হবে।”

“রানি ইথুনের কি হবে তবে?”

 “কী আর হবে? মরবেন।” বেশ স্বাভাবিক ভাবেই বলল যামিনী। কিন্তু সেই স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরই শশীপূর্ণার কাছে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হলো। এ কেমন মানুষকে সে দেখছে! এ কেমন মানুষ এই যামিনী? যার কাছে পৃথিবীর কারোই কোনো মূল্য নেই! এ কী অসুস্থ! 

 যুদ্ধের ময়দানে পিছু ফিরে যাওয়ার নীতি নেই। রানি কামিনীকাঞ্চনের কাছে মাথা নত তো ইথুন করবেই না। তাই সে ঠিক করল শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করার। রানিকে আজ সে আঘাত করার চেষ্টা করবে। এই রানিকে মারার পর তার মৃত্যু হলেও আফসোস থাকবে না। তাছাড়া জঙ্গলের গহীনে তো কিছু সৈন্য আছেই লুকিয়ে। সুযোগ মতন তারাও পেছন থেকে আক্রমণ করতে পারবে। একেবারে হার নিশ্চয় হবে না তাদের। 

 নিজের মনে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে প্রস্তুত হলো ইথুন। যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল পুনরায়। আজকের আক্রমণ শুরু হলো ক্যামিলাস রাজ্যের দিক থেকে। সবচেয়ে অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত সৈন্যদের দিয়ে সেই শুভারম্ভ হলো। তারা একেবারেই বিপরীত পক্ষদের অবাক করে দিয়ে ছুঁড়তে আরম্ভ করল ব র্শা ও কু ড়া ল। বৃষ্টির মতন গিয়ে সেসব বিপরীত পক্ষীয় সৈন্যদের ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিলো। চিৎকার করে উঠল তারা। এমন ভয়াবহ ভাবে কারো কারো শরীর ক্ষত-বিক্ষত হলো যে সেই দৃশ্য দেখে বাকিদের সাহসের এক-তৃতীয়াংশ নিভে গেলো। এটা ছিলো কৌশল। কীভাবে একজনকে আঘাত করে দশজনকে দুর্বল করা যায় সেই কৌশল। রানি কামিনীর কৌশলের কাছে দাঁড়িয়ে থাকার সাধ্যি আছে কি আদৌ কারো?

 ইথুন তার সৈন্যদের তীর ছোঁড়ার নির্দেশ দিলো। সৈন্যরা এতই ভীত হয়ে পড়েছে যে তারা নিশানা তাঁক করতে গিয়ে লাগালো অনেক সময়। ততক্ষণে ক্যামিলাসের সৈন্যরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে গিয়েছে। রানি ঘোড়ায় বসে ঠোঁট বাঁকিয়ে তাকিয়ে রইলেন ইথুনের দিকে। ইথুন উদ্ভ্রান্তের মতন চিৎকার করে একবার তীর ছুঁড়তে বলছে, একবার তলোয়ার নিয়ে এগিয়ে যেতে বলছে। অথচ সৈন্যরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। দ্বিখণ্ডিত দেহ দেখ কারো কারো তো গা গুলিয়ে গিয়েছে। মাথা ঝিমঝিম করছে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা কি আর তাদের পক্ষে সম্ভবপর হয়!
 তবুও শেষ অব্দি যে যু দ্ধ করতে হবেই! তাই একটা সারি ত লো য়া র নিয়ে এগিয়ে যেতে আরম্ভ করল। কিন্তু লাভ কিছুই হলো না। সে সৈন্যদের ঘিরে ফেলল রানির সৈন্যরা। 

ইথুন দিশা না পেয়ে জঙ্গলের সৈন্যদের আদেশ ছুঁড়লেন,
“হে সৈনিকগণ, তোমরা তোমাদের অবস্থান থেকে আঘাত করা শুরু করো।”

  ইথুন ভেবেছিলো তার আদেশ পেয়ে জঙ্গলের সৈন্যরা ছুুটে আসবে। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে এমন কোনো সৈন্য এলো না বরং তাদের দিকের জঙ্গল থেকে যেন পাথরের বর্ষণ শুরু হলো। আচমকাই পাথরের এই আঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়ল প্রায় সকল সৈন্য। পাথরের সেই বর্ষণে সবাই মুখ থুবড়ে পড়তে লাগলো। খেলা যে পুরোপুরি ঘুরে গিয়েছ তা স্পষ্ট হলো রানির মুখের হাসি দেখে। 

বাঁচবার আর পথ খুঁজে না পেয়ে এ্যাজেলিয়া রাজ্যের নব্য সেনাপতিটি ইথুনের কাছে এলো। তার চোখে ফুটে উঠেছে তীব্র ভয়। সে ইথুনকে কুর্নিশ করে ভীত স্বরে বলল,
“আমাদের যুদ্ধ আর বেশিদূর এগোনো সম্ভব নয়। প্রায় সকল সৈন্যই আহত-নিহত হয়ে গিয়েছে তাদের কয়েকটা কৌশলেই। আমাদের বোধহয় পরাজয় স্বীকার করে ফেলা উচিত। আপনি তা-ই করুন।”

 পরাজয় স্বীকার করার কথা শুনে জ্বলে ওঠল ইথুন, “কখনোই না। আমি শেষ অব্দি যু দ্ধ করবো।”

 “করুন তবে। আমরা কেউ আর নেই আপনার সঙ্গে।” কথা শেষ করেই সেনাপতি হাঁটু ভেঙে বসে আত্মসমর্পণ করে ফেলল। তার দেখাদেখি বাকি যেসব সৈন্য সুস্থ ছিলো কিংবা খানিক আহত তারাও হাঁটু ভেঙে বসে পড়ল। ইথুনের তা দেখে যেন ক্রোধ আরও দ্বিগুণ বাড়ল। রানিকে উপহাস করে, ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলল,
“আমি হার মানছি না, রানি কামিনীকাঞ্চন। তুমি নেমে আসো। তোমার এই সৈন্যসামন্ত, দলবল ছেড়ে একাকী নামো। আমি তোমার সঙ্গে যু দ্ধ করতে চাই। আমি দেখতে চাই তুমি একাকী কতটুকু লড়াই করার ক্ষমতা রাখো।”

 “তার ক্ষমতা বোধহয় আপনি দেখে ফেলেছেন, রানি ইথুন। তবুও উত্তেজনার বশে এগুলো বলছেন! তার ক্ষমতা এতটাই যে, সে আপনার রাজার রাজ্যে গিয়ে রাজত্ব করছে এবং সেই রাজ্যেরই বিশিষ্ট একজন মানুষকে সকলের সামনে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে। তারপরেও আর কী দেখতে চান?”

 হেমলক পিয়ার্সের কথা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে সম্মতি প্রদান করল মৃন্ময়ী, 
“একদমই তাই। আমি এটা ভেবে অবাক হচ্ছি যে, আপনি রানি কামিনীকাঞ্চনের মতন একজন নারীর সান্নিধ্যে না এসে কি-না তার বিপক্ষে দাঁড়ানোর মতন বোকামো করলেন? কেন? এমন নারীর সান্নিধ্য ছাড়ার ভুল কেউ করে?”

“আমি করি। আমি, রানি ইথুন সেই দুঃসাহস দেখিয়েছি। ঐ নিষ্ঠুর, অহংকারী রানির বিপক্ষে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আমার রয়েছে। রানি এবার তার সাহসটুকু দেখান।”

 রানি কামিনী সবটাই নীরবে পরখ করছিলেন। এবার তিনি নামতে উদ্যত হলেন। হেমলক বাঁধ সাধলো, “রানি, কী করছো! তোমার ডান হাত আঘাতপ্রাপ্ত। তলোয়ার চালানোর মতন শক্তি এখন নেই হাতের। কেন উনার ফাঁদে পা দিচ্ছো?”

  রানি কামিনী সেই বাঁধাতে থামলেন না বরং নেমে গেলেন। বা-হাতে তলোয়ার ধরতে ধরতে বললেন,
“সামান্য আঘাত আমায় আটকাবে? এতই কি সাধ্যি সেই আঘাতের?”

হেমলকও নেমে দাঁড়ালো ময়দানে। 
 ইথুন রানির দিকে ছুটে এলো তলোয়ার নিয়ে। আঘাত করতে প্রস্তুত হতেই তা থামিয়ে দিলো রানির তলোয়ার। ময়দান জুড়ে প্রতিধ্বনিত হলো তলোয়ারের ঘাত-প্রতিঘাতের শব্দ। ঝংকার তুলল সেই শব্দ। 
 হেমলক দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলো কী অভিজ্ঞ হাতেই রানি সামলে নিচ্ছেন ব্যাপারটা। যেন কিছুই না তার কাছে এসব। বা'হাতও যে কম নয় তা সে মুহূর্তেই বুঝে উঠল। 

  রানির তলোয়ারের কাছে ইথুন নেহাৎই শিশুটি। নারী যোদ্ধাদের ভেতর সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন রানি কামিনীকাঞ্চন। তার সঙ্গে কি-না জিতে যাবে সামান্য ইথুন? তা-ও কি সম্ভব? 
 সম্ভব নয় বলেই ইথুনের হার হলো। রানি এক ঝটকায় তলোয়ারের আঘাতে ইথুনের তলোয়ারটি ফেলে দিয়েই ঘুরিয়ে তার তলোয়ার ইথুনের গলার সামনে ধরে ফেললেন। ইথুন আটকে গেলো রানির বাহুর মাঝে। তলোয়ার ছিটকে পড়ার সময় তার হাতেও আঘাত লাগাতে সে আর্তনাদ করে উঠল কিছুটা৷ রানি হাসলেন, 
“কেমন ক্ষমতা আমার এখন বুঝলে তো, রানি ইথুন? ওহ্ দুঃখীত, মামাশ্রীর প্রেয়সী। কেমন লাগছে এই হার? উপভোগ্য নিশ্চয়?”

ইথুন চমকে উঠল। রানি কীভাবে সব বুঝে গিয়েছে তা ভেবেই তাজ্জব বনে গেলো।

  পাহাড়ে দাঁড়ানো যামিনী তপ্ত শ্বাস ফেলল। সূর্য তখন মাথার উপরে। তপ্ত দুপুরের নিঃসঙ্গতা জড়িয়ে ধরল যামিনীকে। সে ডাকল শশীকে, “শশীপূর্ণা, আমায় একটু জল পান করাও। রানির সাথে অনেক কথা বাকি। জল দিয়ে গলাটা ভিজিয়ে নিই।”

যামিনী আদেশ ছুঁড়লে শশী মুহূর্তেই উপস্থিত হয় যেখানেই থাকুক না কেন সে। কিন্তু এই মুহূর্তে উপস্থিত হলো না। ভ্রু কুঁচকালো যামিনী, “শশীপূর্ণা, শশীপূর্ণা। কোথায় তুমি?”

 “ও কি এখনও আছে ভাবছেন? কখন পালিয়ে গিয়েছে। বিশ্বাসঘাতকের সাথে এতদিন থেকেছে আর বিশ্বাসঘাতকতা শিখবে না তা-ও কি হয়?”
হ্যাব্রোর কথা বোধগম্য হলো না যামিনীর। হয়তো হলো কিন্তু বিশ্বাস করতে পারল না। তাই জিজ্ঞেস করল, “শশী কোথায়?”

“কোথায় আবার, পালিয়ে গিয়েছে। আপনার মতন দাঁড়িয়ে থেকে যুদ্ধ দেখার তাড়া ওর নেই। সেই কখন তাই নেমে গিয়েছে। এতক্ষণে বোধহয় এই রাজ্যের সীমানাও পাড় করা শেষ।”

 “আমাকে না জানিয়েই চলে গেলো!”

“আপনার থেকেই তো শিখেছে পিঠ পিছে ছুরি মারা। তাই আপনাকেই সেটা মে রে গেলো। কেমন বোধ করছেন? সামান্য বিশ্বস্ত দাসীর এই বিশ্বাসঘাতকতা সহ্য করতে পারছেন না? এবার ভাবুন তো রানির কেমন লেগেছিলো আপনার বেইমানি? ভাবুন, ভাবুন… আপনার আর পালানোর পথ নেই।”

—————

বহু, বহুদিন পর নিজের রাজ্যে রাজবেশে প্রবেশ করছেন রানি। তার ঘোড়ার পেছনে বাঁধা যামিনীর দেহটা হেঁচড়ে হেঁচড়ে আসছে। রানির প্রজারা উন্মুখ হয়ে সেই দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে আছে। আজ বহুদিন পর তাদের বুকে শান্তি লাগছে। যে রানিকে তারা পাষণ্ড বলে দূর দূর করেছে এত বছর তাকে আজ দেখার পর সেই আগের অনুভূতিটা কাজ করছে না। বরং প্রজাদের মনে হচ্ছে তারা আবারও নতুন করে বাঁচার পথ ফিরে পেয়েছে। আবারও বাঁচবে তারা।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp