“আহসান! আহসান!”
নিচতলা থেকে নাবিলার চিৎকার শুনে ধড়মড় করে জেগে উঠলাম। এক সেকেন্ড লাগল এটা বুঝতে যে, আজ শুক্রবার। আমি বিছানায় শুয়ে আছি। নাবিলা পাশে নেই। আর এখন মাত্র সকাল সাতটা!
“আহসান!”
এত ভয়ানকভাবে চিৎকার করছে কেন ও? পেটটা কেমন জানি মোচড় দিয়ে উঠল। আবার কী হলো? আমার ভয় ভয় করছে।
তানজিনার বিছানায় পচা ফল ফেলার ঘটনাটার পর এক সপ্তাহেরও বেশি কেটে গেছে। তানজিনা এখনও ঐ বিষয় নিয়ে একটা কথাও বলেনি। সত্যি বলতে কী, আমার এখন প্রায়ই মনে হয় ঐ ঘটনাটা কি আমি স্বপ্নে ঘটিয়েছিলাম? সবটাই কি আমার কল্পনা ছিল? ক্যাবিনেটের ভেতর ইচ্ছা করে পচা ফলভরা একটা কাগজের ঠোঙা লুকিয়ে রাখার মতো ঘটনা শুনলেই তো পাগলামি লাগে। ওটা কি আসলেই কোনো দুঃস্বপ্ন ছিল?
কিন্তু না। ফলে ভরা একটা কাগজের ঠোঙা কেউ ‘কল্পনা’ করতে পারে না। ওটা বাস্তবেই ঘটতে হয়।
তবে মাছির অবস্থা আগের তুলনায় অনেক ভালো। আমরা আরও কয়েকটা নতুন ফাঁদ পেতেছি, তাতে প্রায় নব্বই শতাংশ মাছি ধরা পড়েছে। তার ওপর আমি হাতে চাপ দিয়ে মেরেছি বেশ কিছু। সব মিলিয়ে মাছির উৎপাত এখন যথেষ্ট কমে গেছে।
“আহসান!”
আমি চোখ কচলালাম। বিছানায় উঠে বসতে কষ্ট হচ্ছে। “আসছি!” আমি চেঁচিয়ে বললাম।
বিছানা থেকে নেমে তাড়াহুড়ো করে একটা টি-শার্ট পরে নিলাম। তবে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্টটা বদলালাম না। তানজিনা থাকলে থাক। আমাকে ঘরের পোশাকে দেখতে এতদিনে ও নিশ্চয়ই অভ্যস্ত হয়ে গেছে।
সিঁড়ি দিয়ে অর্ধেকটা নেমেই নাবিলাকে দেখতে পেলাম। ড্রয়িংরুমে দাঁড়িয়ে আছে। মুখটা টকটকে লাল হয়ে আছে। আরেকটু নেমে বুঝতে পারলাম গাল বেয়ে চোখের জল পড়ছে। ও কাঁদছে!
ওহ না। কী হলো?
“গোল্ডি!” নাবিলা হাউমাউ করে উঠল। “গোল্ডি মারা গেছে!”
আমি খালি পায়ে বাকি সিঁড়িগুলো দৌড়ে নামলাম। অ্যাকুরিয়ামের কাছে গিয়ে দেখলাম, সত্যি সত্যি গোল্ডি পানিতে উল্টো হয়ে ভেসে আছে। বাজারের মাছ ছাড়া আগে কখনও মৃত মাছ দেখিনি। কিন্তু গোল্ডিকে দেখে ঠিকই বুঝতে পারলাম, ও মরে গেছে।
“হায় হায়! কী দুঃখজনক ঘটনা!” নাবিলার কাঁধে হাত রেখে ওকে টেনে কাছে নিলাম। “ব্যাপারটা... খুবই কষ্টের।”
সত্যিই বেশ কষ্ট হচ্ছে। গোল্ডির সঙ্গে আমাদের খুব বেশি ‘ইন্টারঅ্যাকশন’ ছিল না, তবু ওর উপস্থিতিতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। আর আমি তো ওর সঙ্গে মাঝে মাঝে কথাও বলেছি। আমি জানি, ও কেবলই একটা মাছ। কিন্তু ওর মধ্যে কেমন জানি একটা ব্যক্তিত্ব ছিল। মাছেদের যতটুকু থাকতে পারে আর কি।
নাবিলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ও আমাকে আঁকড়ে ধরে আমার টি-শার্টে মুখ গুঁজে কাঁদছে। আমি ওকে লেভেল টেন হাগ দিলাম। ওর চোখের জলে আমার শার্ট ভিজে গেল। কয়েক মিনিট পর ও মাথা তুলল; চোখ লাল হয়ে ফুলে আছে।
“মাছের জন্য এত কষ্ট পাওয়া হয়তো বা বোকামি,” নাবিলা বলল। “কিন্তু আমি ওর প্রতি খুব ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম। আর আমরা কাপল হিসেবে প্রথম পোষা প্রাণী এটাই। বুঝলে? মনে হচ্ছে... মনে হচ্ছে ওর মৃত্যুটা আমাদের জন্য একটা অশুভ সংকেত...”
“আরে কী যে বলো না! এটা অশুভ সংকেত হতে যাবে কেন?” ওর এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভাবনাটা আমি এখনই থামাতে চাইলাম। “কাটাবন মার্কেটের দোকানদারটা তো বলেছিল, এ ধরনের গোল্ডফিশ সাধারণত বেশি দিন বাঁচে না।”
“কিন্তু ও তো বেশ হেলদি ছিল,” নাবিলা নাক টেনে বলল। “আমি বুঝতে পারছি না। গতকালই ওকে খাইয়েছি, একদম ঠিক ছিল! দানাগুলো সাথে সাথে খেয়েছিল!”
“হুম,” আমি বললাম।
নাবিলা ওড়না দিয়ে চোখ মুছল। “আমি তোমাকে বলেছিলাম গত সপ্তাহে পানি বদলাতে, বদলেছিলে তো? ঠিকমতো?”
“অবশ্যই।”
“নিশ্চয়ই সব পানি বদলাওনি, তাই না? শুধু বিশ পারসেন্ট, তাই তো?”
“হ্যাঁ। তাই-ই তো করেছি।” কমবেশি।
“আর অ্যান্টি-ক্লোরিন লিকুইড দিয়েছিলে তো?”
“অবশ্যই।”
নাবিলা যখন পানি দেয়া নিয়ে আমাকে একের পর এক প্রশ্ন করছে, তখন আমি নিজের অজান্তেই একটু স্বস্তি অনুভব করলাম। এখন আর এতকিছু করতে হবে না বলে। অ্যাকুরিয়াম পরিষ্কার করাটা কী যে ঝামেলা ছিল! যদিও মনে হচ্ছে, খুব শিগগিরই হয়তো নতুন মাছ কিনতে আমাদের কাটাবন যেতে হবে। আমি কি ওকে একটু সময় নেওয়ার জন্য বোঝাতে পারব? অন্তত সবকিছু শান্ত হওয়া পর্যন্ত।
এর ভেতর আমাকে একটু রিসার্চ করতে হবে। দেখতে হবে, কোন প্রাণী সবচেয়ে সহজে পোষা যায়। কচ্ছপ টাইপ কিছু হলে মন্দ হবে না। শোনেছি কচ্ছপ অনেকদিন বাঁচে।
“আমাদের... আমাদের এখন ওকে কবর দিতে হবে,” নাবিলা বলল।
“ক... কবর? মানে... টয়লেটে ফ্লাশ করে দিলেই তো হয়?”
নাবিলা আমার দিকে এমন একটা ভয়ংকর দৃষ্টিতে তাকাল, যেন আমি কোনো জঘন্য কথা বলে ফেলেছি। হয়তো কথাটা একটু নির্মম হয়ে গেছে। গোল্ডির ছোট, নিথর শরীরটার দিকে তাকিয়ে বুকের ভেতর হালকা একটা টান লাগল।
“সরি,” আমি তাড়াতাড়ি বললাম। “অবশ্যই কবর দেব। চাইলে বাসার পেছনের বাগানে বা বড় কোনো টবে মাটি দিতে পারি।”
ও কিছুটা শান্ত হলো। দারুণ! এখন তবে আমাকে একটা গোল্ডফিশের জানাজা পড়তে হবে! ভাবতেই পারিনি ছুটির দিনের সকালটা এভাবে কাটবে।
“দাঁড়াও, একটা পলিথিন নিয়ে আসি। ওকে রাখার জন্য,” নাবিলা বলল। “তুমি কি ওটাকে বের করে আনতে পারবে?”
“হ্যাঁ, পারব।”
মরা মাছ হাতে ধরার ভাবনায় একটু গা গুলিয়ে উঠল। তারপরই নিজেকে বুঝালাম, বাজার থেকে মাছ কিনে তো এমনটাই করি।
আমি ছোট নেট নিয়ে ফিশ ট্যাংকের ওপর ঝুঁকতেই ভেতরের পানির গন্ধ নাকে লাগল। আর তখনই আমি ব্যাপারটা টের পেলাম। যদিও প্রথমে মনে হলো আমি বেশি বেশি সন্দেহ করছি। কিন্তু না, অ্যাকুরিয়াম থেকে একদম স্পষ্ট একটা গন্ধ আসছে।
ব্লিচিং পাউডারের গন্ধ!
নাবিলা ড্রয়িংরুমে ফিরে এল। হাতে একটা ছোট্ট পলিথিন। ওর চোখ এখনো ফুলে আছে। মাছটার মৃত্যু স্বাভাবিক না— এই পরিস্থিতিতে ব্যাপারটা ওকে জানানো কি উচিত হবে? কিন্তু ওর তো সত্যিটা জানা দরকার। আমরা যে কার সঙ্গে থাকছি, সেটা ওকে বুঝতে হবে। ও তো বিষয়টা এখনো সিরিয়াসলি নিচ্ছে না।
“নাবিলা,” আমি ধীরে ধীরে বললাম। “মনে হচ্ছে, অ্যাকুরিয়ামের ভেতর কেউ ব্লিচিং পাউডার বা হারপিক জাতীয় কিছু ঢেলেছে।”
ওর চোখ বড় বড় হয়ে গেল। “কী?”
“আমি গন্ধ পাচ্ছি।” এখন মনে হচ্ছে গন্ধটা যেন পুরো ঘরে ছড়িয়ে আছে। “গন্ধটা খুবই কড়া।”
নাবিলা দৌড়ে অ্যাকুরিয়ামের কাছে গেল। ভেতরে মরা মাছ থাকা সত্ত্বেও এমনভাবে ওর ধারালো নাকটা কাছে নিয়ে গেল, যা আমি কোনোদিনও করতাম না। তারপর মুখ তুলে বলল, “আমি তো কোনো গন্ধ পাচ্ছি না।”
“সিরিয়াসলি?” আমি অবাক হলাম। “আমি তো করিডোর থেকেও গন্ধ পাচ্ছিলাম। আমি শিওর এটা ব্লিচ, নাবিলা।”
ও আবারও শুঁকে দেখল। “আমি জানি না... ব্লিচের গন্ধ কী রকম, আমি তো সেটাও ঠিকমতো জানি না।”
“কেমিক্যাল কেমিক্যাল গন্ধ! হারপিকের মতো!” আমি চিৎকার করে উঠলাম।
আমি যে কতটা জোরে চিৎকার করেছি সেটা বুঝতে পারলাম যখন নাবিলা এক পা পিছিয়ে গেল। “আচ্ছা... তাহলে অ্যাকুরিয়ামের মধ্যে ব্লিচ আসবে কেন?”
এই প্রশ্নটাই তো আমিও ভাবছি। “নিশ্চয়ই তানজিনা ঢেলেছে।”
“তানজিনা?” নাবিলার চোখ আরও বড় হয়ে গেল। “তানজিনা কেন এমনটা করবে?”
“কারণ ও একটা সাইকোপ্যাথ,” আমি বললাম। আমার কাছে এটা একদম পরিষ্কার। “জানি আমাদের টাকা দরকার, তবুও বলছি— ওকে এখান থেকে বের করে দিতে হবে।”
নাবিলা কপাল কুঁচকে ফেলল। “তাহলে ফ্ল্যাটের কিস্তি কীভাবে দেব?”
আমার হঠাৎ মনে হলো, তানজিনার সঙ্গে একই ছাদের নিচে থাকার চেয়ে ফ্ল্যাট ছেড়ে দেওয়াই ভালো। আমি ওকে একদম বিশ্বাস করি না। যে মেয়েটা নিরীহ একটা গোল্ডফিশকে বিষ দিয়ে মেরে ফেলতে পারে, না জানি ঐ মেয়েটা আরো কত কী করতে পারে! “তুমি কি সত্যিই চাইছ, আমাদের সঙ্গে এমন কেউ থাকুক যে একটা অসহায় মাছকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলতে পারে?”
“আমি তো সত্যি কোনো গন্ধ পাচ্ছি না...”
“বিশ্বাস করো, নাবিলা। আমি সত্যি বলছি।”
নাবিলা সন্দেহভরা চোখে তাকাল। ওর তাকানো দেখে আমার বিরক্ত লাগল। ও কীভাবে এই কেমিক্যালের গন্ধটা পাচ্ছে না? ওর ঘ্রাণশক্তি কি এতটা কম?
“আমাদের অবশ্যই তানজিনাকে বের করে দিতে হবে,” আমি আরও জোর দিয়ে বললাম। “আমরা অন্য কাউকে পেয়ে যাব।”
“মনে নাই তোমার? বাকিরা কতটা ভয়ংকর ছিল,” নাবিলা আমাকে মনে করিয়ে দিল। “আমি তানজিনাকে পছন্দ করি। ও সবসময়ই আমার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করেছে।”
“হ্যাঁ, ওটা তোমার সঙ্গে।”
হঠাৎ করে নাবিলা ঠিক মিতুজার মতো করে আমার দিকে সরু চোখে তাকাতে থাকল। “আহসান, এমন কোনো সম্ভাবনা কি আছে যে তুমি...?”
“আমি কী?”
আর তখন নাবিলা চোখ সরিয়ে নিল। “মানে... তানজিনাকে নিয়ে কি তুমি নিজে থেকে অতিরিক্ত কল্পনা করছ? কিন্তু বুঝতে পারছ না যে ওগুলো তোমার কল্পনা?”
“একটা হাস্যকর কথা বললে।” তবে স্বীকার করতেই হবে, কথাটা শুনে বুকের ভেতর একটা অস্বস্তি হলো। “আমি কিছুই কল্পনা করছি না। তানজিনা আমাকে ঘৃণা করে।”
“ওর সাথে বসে যখন লাঞ্চ করলাম তখন তো ও তোমাকে অপছন্দ করার কথা কিছু বলেনি।”
আমার মনে হলো কেউ আমার পেটে একটা ঘুষি মারল। “তুমি ওর সঙ্গে লাঞ্চ করেছ?”
“কেন করব না?” নাবিলা কোমরে হাত দিল। “ও শত্রু না, আহসান। ও আমাদের সঙ্গেই থাকে।”
“ও শত্রুই,” আমি প্রতিবাদ করলাম। আর শব্দগুলো মুখ থেকে বেরোতেই টের পেলাম, আমি সত্যিই অতিরিক্ত রকমের চেঁচিয়ে কথা বলছি। গোল্ডির অ্যাকুরিয়ামের পানিটাও দুলে উঠল। আমি গলা খাঁকারি দিলাম। “আর এটা ও সম্ভবত আমার ওপর রাগ করে করেছে।”
“তোমার ওপর রাগ? কেন? কী জন্য?”
“ওর বিছানায় আমি যা করেছিলাম, তার জন্য।”
নাবিলা কপাল ভাঁজ করল। “ওর বিছানায় আবার তুমি কী করেছ?”
ধ্যাত। কথাটা বলা একদম উচিত হয়নি।
“কী করেছ, আহসান?” নাবিলা চোখ সরু করল। “সত্যি করে বলো।”
আমি অস্বস্তিতে নড়েচড়ে বসলাম। অতিরিক্ত রকমের রেগে গিয়ে কাজটা করে ফেলেছিলাম। এখন মনে হচ্ছে ওটা করা ঠিক হয়নি। কিন্তু দোষটা তো ওরই। ও-ই তো আমাদের রান্নাঘরে পচা ফল লুকিয়ে রেখেছিল। শয়তান একটা।
“মনে আছে, রান্নাঘরে কত মাছি ছিল?” আমি বললাম। “তখন তুমি বাসায় ছিলে না। খুব বেশি গন্ধ করছিল। একটু খোঁজাখুজি করে দেখতে পেলাম, তানজিনা ক্যাবিনেটের একদম ওপরের তাকে কয়েকটা ফল লুকিয়ে রেখেছে। আর ঐ কারণেই সারা ঘরে মাছি ছড়িয়ে পড়েছে।” ওই স্মৃতি মনে পড়তেই আমার গা গুলিয়ে উঠল। “তাই... আমি ওগুলো ওকে ফিরিয়ে দিয়েছি।”
“ফিরিয়ে দিয়েছ? মানে?”
“আমি ঐ পচে গলে যাওয়া ফলগুলো ওর বিছানায় ঢেলে দিয়েছিলাম।”
“ওহ মাই গড...” নাবিলা মাথায় হাত দিয়ে বসল। “তুমি সিরিয়াসলি ওই পচা ফলগুলো তানজিনার বিছানায় ফেলে দিয়েছিলে? তোমার মাথা ঠিক আছে তো? তুমি তো দেখছি পাগল হয়ে গেছ।”
“ও-ই তো ওগুলো রান্নাঘরে রেখে ছিল...”
“তুমি ওটা কীভাবে জানলে?” নাবিলা প্রায় চেঁচিয়ে উঠল। “তুমিই তো সবসময় ফল খাও! হতে পারে তুমিই ওটা ওখানে রেখেছিলে!”
“আমি কি একগাদা ফল কাগজের ঠোঙায় ভরে এমন জায়গায় লুকিয়ে রাখব, যেখানে টুল ছাড়া আমি নিজেই পৌঁছাতেই পারি না?!”
নাবিলা মাথা নাড়ল। “এর জন্যই কি ঐ টুলটা ভেঙে ুিগয়েছিল? তুমি পড়ে গিয়েছিলে?”
“তুমি কথা ঘুরাচ্ছো নাবিলা,” আমি খেঁকিয়ে উঠলাম। “দেখো, আমি জানি কাজটা ও-ই রেখেছিল। আর আজ ও আমার ওপর শোধ নিল অ্যাকুরিয়ামে ব্লিচ ঢেলে।”
“এতে তোমার ওপর শোধ নেয়া কীভাবে হবে?” নাবিলা পাল্টা চেঁচিয়ে উঠল। “গোল্ডিকে আমি ভালোবাসতাম! তুমিই তো ওকে একদম কেয়ার করতে না! তুমি তো ওকে টয়লেটে ফ্লাশ করে দিতে যাচ্ছিলে!”
আমি গোল্ডিকে পছন্দ করতাম— মাছের জন্য ‘ভালোবাসা’ শব্দটা একটু বেশি বেশি। কিন্তু হ্যাঁ, যদি এখন সুযোগ থাকত, এই হাস্যকর মাটি-চাপা দেওয়ার আয়োজন এড়াতে আমি অবশ্যই ফ্লাশ করে দিতাম। কিন্তু এখন আমাকে সংবেদনশীল স্বামীর ভূমিকা নিতে হবে। কারণ নাবিলাকে হারানোর ঝুঁকি দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। ও ভাবছে আমি সাম্প্রতিক সময়ে ‘পাগল’ হয়ে গেছি, যা মোটেও সত্যি না। চাকরি হারানো, কম ঘুম, ধপধপ শব্দ- এতকিছুর মধ্যেও আমি বেশ ভালোই টিকে আছি।
আমি লম্বা করে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলাবার চেষ্টা করলাম। এই মুহূর্তে নাবিলার সঙ্গে চেঁচিয়ে কথা বললে অবস্থা আরও খারাপ হবে।
“নাবিলা,” আমি নরম করে বললাম। “সরি। আমি গোল্ডিকে আসলেই খুব কেয়ার করতাম। মানে... এখনো করি। আর আমি সত্যিই ওকে মাটি দিতে চাই। ও ভালো মাছ ছিল।”
“ও ভালো মাছ ছিল,” নাবিলা নাক টেনে বলল।
ব্লিচ নিয়ে ও আর কিছু বলল না। তার মানে ও সম্ভবত বিশ্বাস করছে না, ব্লিচেই মাছটা মরেছে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো এবার গন্ধ শুঁকলেও আমি ব্লিচের গন্ধ পেলাম না। কিন্তু এটাও সত্যি যে, আমি কল্পনা করিনি।
তানজিনা সত্যি সত্যি আমাদের মাছটাকে মেরে ফেলেছে। মানে, খুন করেছে। জীবনে আর কোনো বিষয়ে আমি এতটা নিশ্চিত কখনো হইনি।
আর আমার বারবার কেবল একটাই কথা মনে হচ্ছে— এটা কেবল শুরু।
·
·
·
চলবে……………………………………………………