মুহূর্তের জন্য মাথাটা ঘুরে উঠল। দেওয়াল ধরে না থাকলে মনে হয় মেঝেতে লুটিয়ে পড়তাম। চার-পাঁচ বোতল বিয়ার পেটের ভেতর গেলেও এতটা মাথা ঘুরত না।
“আহসান সাহেব, আপনি কি ড্রিংক করেছেন?” এসআই কবির জিজ্ঞেস করল।
প্রশ্নটা করার ভঙ্গিটা আমার ভালো লাগল না। রাত আটটা, নিজের বাসায় বসে আমি নিজের ইচ্ছেমতো যা খুশি করতেই পারি। “একটু। আসলে আমি খুব অবাক হয়ে গেছি। আপনি কি নিশ্চিত?”
“হান্ড্রেড পার্সেন্ট,” এসআই কবির বলল। “আর আমরা ওনার ড্রয়িংরুমের শোকেসের ওপর থাকা একটা পুরোনো দেয়ালঘড়িতে রক্তের চিহ্ন পেয়েছি।”
দেয়ালঘড়ি!
হক সাহেবের ফ্ল্যাটে ঢোকার সময় আমি ওই ঘড়িটাই দেখেছিলাম। মনে হয়েছিল ওটা আমাদের রান্নাঘরের পুরোনো নষ্ট ঘড়িটার মতো। দেখতে প্রায় একই রকম। হঠাৎ করে আমার মাথায় একটা প্রশ্ন ঢুকে পড়ল...
আমাদের রান্নাঘরের ওই ঘড়িটা আমি শেষ কবে দেখেছি?
“তাই আমি ওনার প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলছি,” এসআই বলছে, “জানতে চাচ্ছি, কেউ সন্দেহজনক কিছু দেখেছে বা শুনেছে কি না।”
“আমি কিছুই দেখিনি,” আমি দ্রুত বললাম। “সারাদিন অফিসে ছিলাম।”
“ঠিক,” সে বলল, “কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে উনি আগের রাতেই মারা গেছেন। তাহলে আগের রাতে কি আপনি কাউকে ওনার বাসায় ঢুকতে বা বের হতে দেখেছেন?”
“না,” আমি ঢোক গিললাম। “আমি... আমি কিছুই দেখিনি।”
আগের রাত? তাহলে ডাইনিং টেবিলে বেড়ে রাখা ভাতটা তার লাঞ্চ ছিল না, ওটা ছিল ডিনারের খাবার। তিনি খেতে বসেছিলেন আর ঠিক তখনই কেউ তার ফ্ল্যাটে ঢুকে ওই পুরোনো ঘড়িটা দিয়ে মাথায় আঘাত করেছিল... আর তিনি সাথে সাথে মারা গিয়েছিলেন।
হঠাৎ করে আমার ভীষণ ইচ্ছে করছে রান্নাঘরে গিয়ে দেখে আসি, আমাদের ঘড়িটা এখনও জায়গা মতো আছে তো? ব্যাপারটা নিশ্চয়ই কাকতাল। নিশ্চয়ই।
“...কার সাথে বনিবনা হতো না?” এসআই বলছে।
কখন থেকে যে আমি তার কথা শুনতে পাচ্ছি না, টেরই পাইনি। মাথাটা ভারী আর চোখটা ঝাপসা লাগছে। ধুর, এখন এক কাপ কফি দরকার। “কী বললেন?” আমি কোনোরকমে বললাম।
এসআই কবির মোটেও হাসছে না। “আপনি কি এমন কাউকে চেনেন, যার সাথে হক সাহেবের বনিবনা হতো না?”
“না, ঠিক সেভাবে তো জানি না,” আমি বললাম। “উনি বেশির ভাগ সময় একাই থাকতেন।”
“হুম।” সে ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল। “আর আপনার কথা বলুন। আপনার সাথে কি ওনার সম্পর্ক ভালো ছিল?”
আমি ইনস্পেক্টরের কথা বলাই এই ভঙ্গিটা একদমই পছন্দ করছি না, তবু কথায় থাকলাম। “আমরা বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম না। কিন্তু মোটামুটি ঠিকই ছিল।”
“তাহলে গত সপ্তাহে আপনাদের ঝগড়া কী নিয়ে হয়েছিল?”
হঠাৎ করে আমার সাম্প্রতিক জীবনের অনেক সিদ্ধান্তের জন্য ভীষণ আফসোস হতে লাগল। “ওটা আমার একটা বোকামি ছিল। শুধু একটু ময়লা নিয়ে। প্রতিবেশীদের তুচ্ছ ঝামেলা।”
“প্রতিবেশীদের তুচ্ছ ঝামেলা?” সে কথাটা আবার রিপিট করল।
“হ্যাঁ।”
সে মাথা একটু কাত করল। “আর আপনি কি ওনার দিকে ময়লার বালতি ছুঁড়ে মেরেছিলেন?”
ধুর ছাই!
“না, আমি আসলে ওনাকে আঘাত করতে চাইনি।” আমি মাথা নিচু করলাম। “ আর দেখুন, ব্যাপারটা আসলে ওনাকে নিয়ে ছিল না। আমার স্ত্রী ঐ সময়টাতেই আমাকে ছেড়ে গিয়েছিল। আর আমি তখন মেন্টালি খুব ডিস্টার্বড ছিলাম...”
“আপনার স্ত্রী আপনাকে ছেড়ে গেছে?”
লোকটা কেন আমার কথা বারবার হুবহু রিপিট করছে? আমি কাঁপা হাতে মাথার চুলের ভেতর আঙুল চালালাম। চুলটা কেন জানি না একটু তেলতেলে লাগছে। শেষ কবে জানি গোসল করেছি? “আমরা একটু ঝামেলার মধ্যে আছি। এখন আলাদা থেকে একটু নিজেকে সময় দিচ্ছি, এই আর কী।”
“বুঝলাম।”
ঘরটা ঘুরছে। পড়ে যাওয়ার আগে বসে পড়তে হবে। এই পুলিশ কি সত্যিই ভাবছে যে, আমি হক সাহেবকে খুন করেছি? এটা কি আদৌ সম্ভব?
কিন্তু কেউ না কেউ তো মেরেছে। কেউ ভারী একটা কাঠের বা মেটালের ঘড়ি দিয়ে হক সাহেবের মাথা থেঁতলে দিয়েছে। ব্যাপারটা আমি ভাবতেই পারছি না।
“আহসান সাহেব,” এসআই কবির বলল, “আপনি কি আমার সাথে থানায় এসে একটা অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট দেবেন? আমি আপনাকে চা খাওয়াতে পারি। ওখানে বসে শান্তভাবে কথা বলা যাবে। তারপর এই ঝামেলা শেষ।”
“আমি... আমার মনে হয় না...”
“আর আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্টও ফাইলে রাখতে হবে,” সে বলল। “ভাববেন না, ওটা কেবল আপনাকে সাসপেক্ট লিস্ট থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার জন্য। যাতে আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।”
সে আমার ফিঙ্গারপ্রিন্ট চাচ্ছে। এটা ভালো খবর না।
বিয়ারের কারণে মাথা ঝাপসা হয়ে গেছে, তবু এতটুকু বুঝতে পারছি, আইনজীবী ছাড়া থানায় গিয়ে কথা বলা উচিত না। এই এসআইকে এমন কোনো তথ্য দেওয়া উচিত না— যেটা পরে সে ঘুরিয়ে আমাকে ফাঁসাতে ব্যবহার করতে পারে।
আর একটা ব্যাপার, আমার ড্রয়িংরুমের মেঝেতে কার্পেটের নিচের যে দাগটা, সেটা এখনই কোনোভাবে মুছে ফেলতে হবে। সাথে পকেটে কুঁচকে ধরা সেই ভেজা টিস্যু পেপারটাও ফেলে দিতে হবে।
“আসলে,” আমি বললাম, “আমি খুব একটা ভালো ফিল করছি না। মনে হয় এই মুহূর্তে আমি তেমন সাহায্য করতে পারব না। আমার... মনে হয় একটু শুয়ে পড়া দরকার।”
“আমি চাইলে আপনাকে গাড়িতে করে নিয়ে যেতে পারি,” সে বলল। “আমার জিপ তো বাইরেই দাঁড়ানো।”
আমার কেবলই মনে হচ্ছে, এখন যদি থানায় যাই, হয়তো আর বের হতে পারব না।
“সরি,” আমি বললাম। “এই মুহূর্তে পারছি না। তবে... আমাকে কি যেতেই হবে? মানে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট ছাড়া?”
এসআই কবির এক মুহূর্ত চুপ করে থাকল, আর আমি ভয় পেয়ে গেলাম। এখনই হয়তো হাতকড়া বের করবে, আমার কব্জিতে চাপিয়ে থানায় টেনে নিয়ে যাবে। কিন্তু সে তা করল না। শুধু মাথা নাড়ল।
“না,” সে বলল, “আপনাকে যেতে হবে না। অন্তত এখন না গেলেও চলবে। ”
‘এখন না গেলেও চলবে’। কথাটা আমার জন্য ভালো শোনাল না। তবে হাতকড়ার চেয়ে এটা ভালো।
“ঠিক আছে,” সে বলল। “তাহলে আমি যাচ্ছি। সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।”
সে ঘুরে দরজার দিকে এগোতেই আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। যাচ্ছে তাহলে! আল্লাহ বাঁচাল আমাকে! তাড়াতাড়ি সামনে গিয়ে আমি দরজা খুলে দিতে চাইলাম।
“আপনার কাছে আরও কিছু প্রশ্ন থাকতে পারে, আহসান সাহেব,” সে বলল। এই মুহূর্তে আমার আঙুলগুলো ঠিকমতো কাজই করছে না যেন। তবু অনেক কসরত করে দরজাটা খুলে দিলাম। “অতএব, আপনাকে যেন পাওয়া যায়। শহর ছাড়বেন না।”
“ঠিক আছে,” আমি কোনোমতে বললাম। “যদি পারি, অবশ্যই সাহায্য করব।” আমি একদম খুশি নই। আমি চাই সে আর কোনোদিন ফিরে না আসুক।
দরজার ফুটো দিয়ে দেখলাম, এসআই কবির বাইরে গিয়ে জিপে উঠল। কী হলো এটা? হক সাহেব কি সত্যিই খুন হয়েছেন? কীভাবে সম্ভব? এমন বয়স্ক একজন মানুষকে কে খুন করবে? আর কয়েক মাস গেলে তো প্রকৃতিই কাজটা করে দিত!
যদি না...
গত সপ্তাহে করিডরে সবার সামনে ওনার সঙ্গে আমার ঝগড়া হয়েছে। আর তার পরপরই উনি খুন হয়ে গেলেন... এটা কি কাকতাল? আমার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে পুলিশ কী আবিষ্কার করতে চাচ্ছে?
আমি হোঁচট খেতে খেতে রান্নাঘরে ছুটে গেলাম। প্রথম কাজ হচ্ছে টিস্যুটাকে বাথরুমে ফ্লাশ করে দেওয়া। তারপর আমার চোখ পড়ল রান্নাঘরের দেয়ালের দিকে, যেখানে নাবিলা আড়ং থেকে কেনা পুরোনো স্টাইলের ঘড়িটা টাঙিয়ে রেখেছিল।
ঘড়িটা যেখানে থাকার কথা, সেখানে একটা পেরেক ছাড়া আর কিছু নেই। দেয়ালটা একদম ফাঁকা।
ধুর!
ঘড়িটা কবে থেকে নেই? আমি নিজেও জানি না। গত সপ্তাহটা পুরোটাই যেন ধুয়াশা হয়ে ছিল। কিন্তু এখন আমার কাছে ব্যাপারটা একদম পরিষ্কার হয়ে গেছে। আমাদের রান্নাঘরের ঘড়িটা ব্যবহার করেই হক সাহেবকে মারা হয়েছে। তারপর খুনি সেটা ওনার শোকেসের ওপর রেখে গেছে। ও জানে যে এটাকেই মার্ডার ওয়েপন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। আর সেটায় আমার ফিঙ্গারপ্রিন্ট তো থাকবেই, আমি নিশ্চিত।
তবে... হয়তো ব্যাপারটা যতটা ভয়ংকর মনে হচ্ছে, ততটা না-ও হতে পারে। এমনও তো হতে পারে যে... নাবিলা ঘড়িটা হক সাহেবকে গিফট দিয়েছিল। আর কোনো চোর ঢুকে ভয় পেয়ে ওনাকে কাবু করতে ওই ঘড়িটাই ব্যবহার করেছে।
কিন্তু... জানি না কেন, আমার মনে হচ্ছে এটা সেই কেস না।
হৃদপিণ্ড ধুকপুক করা অবস্থাতেই আমি ড্রয়িংরুমে ফিরে এলাম। কার্পেটটা টেনে সরিয়ে মেঝের দাগটার দিকে তাকালাম। ভিজে যাওয়ার পর এটা এখন একদম পরিষ্কার। রঙটা বাদামি নয়, লাল। আর নাক খুব কাছে নিয়ে বুঝতে পারলাম, এটার গন্ধ একটুও শরবতের মতো না।
ঠিক তখনই সামনের দরজায় চাবি ঘোরার শব্দ হলো। আমি মাথা ঝাঁকিয়ে ওপরে তাকালাম। যত দ্রুত পারি উঠে দাঁড়ালাম। সাথে সাথে তানজিনা ঘরে ঢুকল। আমাকে দেখে ভুরু নাচাল।
“আরেহ!, আহসান ভাই যে! মেঝের সাথে আপনার স্পেশাল কোনো মুহূর্তে বাধা দিলাম নাকি?”
তানজিনা কি হক সাহেবের সাথে যা হয়েছে তার জন্য দায়ী হতে পারে? আমাদের রান্নাঘর থেকে ঘড়িটা নিয়ে গিয়ে ওনাকে মাথায় আঘাত করে আমাকে ফাঁসিয়েছে? কিন্তু এতটা পরিকল্পিত, এতটা নিষ্ঠুর কিছু ও করতে পারবে— ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। তবে... অসম্ভবও না। মানুষ চাইলে কী না করতে পারে।
আমি মেঝের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললাম, “এই দাগটা কীসের, তানজিনা?”
সে অভিনয় করে আমার পাশে এগিয়ে এল। দাগটার দিকে তাকাল, ঠোঁটে একটা পৈশাচিক হাসি। “দাগটা তুলতে বেশ ঝামেলা হবে মনে হয়।”
“তুমি ফেলেছ এটা?”
সে নিষ্পাপ মুখে পলক ফেলল। “আহা, আপনি তো দিন দিন খুব প্যারানয়েড হচ্ছেন। নেশাটা কমাবার চেষ্টা করেন।”
“আমি এক বোতল বিয়ার খেয়েছি মাত্র,” আমি দাঁত চেপে বললাম। “আর তুমি এই ম্যানিপুলেটিভ শয়তানি মেয়েটার মতো আচরণ বন্ধ করো।”
“আপনি আমার সাথে এখন কী করবেন?” সে দু’হাত কোমরে রাখল। “যেটা হক সাহেবের সাথে করেছিলেন, সেটাই?”
আমার মুখ হা হয়ে গেল। সে সিরিয়াস?
“বিকালে বের হওয়ার সময় দারোয়ান বলছিল পুলিশ এসেছে,” সে বলল। আমার কাছে মনে হচ্ছে, তার কথা শুনে আমার মুখের ভাব দেখে সে মজা পাচ্ছে। “আমি নিশ্চিত করে দারোয়ানকে বলে দিয়েছি, বুড়োটা আপনার খুব একটা প্রিয় মানুষ ছিলেন না।”
রাগটা এত তীব্রভাবে উঠে এল যে সামলাতে কষ্ট হলো। পুলিশের ইনকুইরিতে আমাকে জড়াতে ওর এত সাহস! হ্যাঁ, হক সাহেব মাঝে মাঝে আমাকে পাগল করে দিতেন, কিন্তু আমি কি তার ঘরে ঢুকে তাকে খুন করার সাহস রাখি? পাগল নাকি!
“আমি কখনোই হক আংকেলকে খুন করতে পারি না। তুমি কি সত্যিই ভাবছ, খুনটা আমি করতে পারি?”
“আমি নিশ্চিত নই আপনি কী করতে পারেন,” সে ঠান্ডা গলায় বলল। “আপনি তুচ্ছ ব্যাপারে হঠাৎ হঠাৎ ভয়ংকর রেগে যান। আপনি আসলে চরম প্যারানয়েড। আর আমাকে প্রায়ই হুমকি দিয়েছেন। আর যেই সময়ই আমি রাতে বাড়ি ফিরি, দেখি আপনি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঠিক নেশাগ্রস্তদের মতো। কে জানে তুমি কী করতে পারেন!”
ওর কথা কি সত্যি? আমি তো রাতভর ঘুরাঘুরি করি না। হ্যাঁ, ইদানিং ঘুম হচ্ছে না। কিন্তু তাই বলে ও যেমন করে বলছে আমি তো ততটা করছি না।
নাকি... করছি?
না। করছি না। তানজিনা আমাকে উসকে দিচ্ছে। আমাকে বিশ্বাস করাতে চাইছে যে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। এমনকি আমাকে সন্দেহে ফেলে দিচ্ছে। হক সাহেবের সাথে যা হয়েছে, তাতে কি আমি কোনোভাবে জড়িত? অথচ আমি জানি, আমি জড়িত নই। ও হচ্ছে আসল শয়তান।
হঠাৎ করে আমার খুব ই্েচ্ছ হতে থাকল, তানজিনার চিকন গলাটা দুই হাত দিয়ে পেঁচিয়ে ধরব। আমি ওর চেয়ে অনেক শক্তিশালী। একটু জোরে চেপে ধরলেই... ওই বিদ্রুপভরা হাসিটা আর দেখতে হবে না।
কাজটা কত সহজ...
ঠিক তখনই আমার মনে পড়ে গেল, মিতুজা খালার কথা। ঐ মহিলাটা নিশ্চিত ছিল, এই ড্রয়িংরুমেই আমি কাউকে ছুরি মারব। সে বলেছিল, আমি নাকি নাবিলার মৃতদেহের ওপর ঝুঁকে থাকব। তার চোখের ভয়টা এতটাই সত্যি ছিল যে সে নাবিলাকে বলেছিল পালিয়ে যেতে। তখন আমি ওর পুরো কথাটাই মিথ্যা বলে ভেবেছিলাম।
কিন্তু যদি সে ঠিকই দেখে থাকে? অন্তত আংশিকটা যদি ঠিক হয়ে থাকে?
যদি তার দেখা সত্যি হয়... শুধু মেঝেতে পড়ে থাকা মেয়েটাকে চিনতে সে ভুল করেছে?
আমি নিজের চিন্তার ছিরি দেখে শক খেয়ে এক পা পিছিয়ে গেলাম। আমি কাউকে ছুরি মেরে মারব— অসম্ভব। তাহলে আমার মাথায় এমন ভাবনা আসছে কেন? তানজিনা আমার সাথে কী করছে?
“আমি... আমি ঘুমোতে যাচ্ছি,” আমি নিচু গলায় বললাম।
আমি ক্লান্ত না হলেও এখন এখান থেকে বের হতে হবে। তানজিনার কাছ থেকে দূওে চলে যেতে হবে। যাতে আমাকে এমন কিছু করতে না হয়, যার জন্য পরে পস্তাতে হবে।
আমি দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে যত দ্রুত পারি ওপরে উঠে গেলাম। আর মনে হচ্ছে পুরোটা সময় তানজিনার দৃষ্টি যেন আমার পিঠে পেরেকের মতো গেঁথে আছে।
·
·
·
চলবে……………………………………………………