কামিনী - পর্ব ৭৭ - মম সাহা - ধারাবাহিক গল্প

কামিনী - মম সাহা
          ক্যামিলাস রাজ্যে রাত তখনও শেষ হয়নি। তবে অন্ধকারটা দমে এসেছে খানিক। কিছুক্ষণ বাদেই ভোর হবে সম্ভবত। ঘোড়ার পায়ের সেই উচ্চশব্দ এসে প্রাসাদের সামনেই মিলিয়ে গেলো। মৃন্ময়ী ক্যামিলাস রাজ্যেই ছিলো আজ। তার রাতে তেমন ঘুম হয় না। তাই উন্মুক্ত বারান্দায় উঁচু বসার জায়গাটিতে বসে চারপাশটা দেখছিলো। এই রাজ্যের প্রাসাদের চারপাশটা ভীষণ শৌখিন ভাবে সাজানো কিনা! 
ঘোড়ার শব্দ পেতেই সে প্রাসাদের সদর দোরের দিকে তাকাতেই হত-বিহবল হলো। একই ঘোড়া থেকে নামছে হেমলক আর রানি। হেমলক কী সাবধানে রানিকে আগলে আগলে নামতে সাহায্য করে দিচ্ছে! যেন কিছু হলেই রানির মোমোর মতন শরীর ব্যথা পাবে ভীষণ। 

  মৃন্ময়ী অপেক্ষা করল না। দ্রুত পায়ে গিয়ে দাঁড়ালো তাদের সামনে। আচমকা মৃন্ময়ীকে দেখতেই হেমলক এবং রানি দাঁড়িয়ে গেলেন। মৃন্ময়ী হাঁপাচ্ছে। চোখে-মুখে তার আনন্দ। 
“কোথায় ছিলেন আপনারা? প্রাসাদ তো আপনাদের নিখোঁজ হওয়ার গুঞ্জনে কলরব করেছে সারাটি অপরাহ্ণ।”  

  রানি এক পলক হেমলকের দিকে তাকালেন। ভ্রু নাচিয়ে বললেন,
“কেবলই প্রাসাদ গুঞ্জন করেছে? রাজকন্যা মৃন্ময়ী করেনি?”

 “করেছি। অবশ্যই করেছি। আপনাকে খুঁজছিলাম।”

“কেবলই আমাকে?” চাপাস্বরে জিজ্ঞেস করে রানি আড়চোখে হেমলকের দিকে তাকালেন। কিছু একটা ইশারায় বুঝাতে চাইলেন যেন। কিন্তু হেমলক আজ বড্ড রেগে থাকার কারণে সেই ইশারাকে তেমন গা করল না। রানিকে ‘আসছি’ বলেই চলে গেলো গটগট করে। মৃন্ময়ীর এত আগ্রহ নিয়ে আসাটা যেন তার চোখেই লাগল না! 

 হেমলকের আচরণের পরিবর্তন মৃন্ময়ীর চোখে ঠিকই লাগল। সে পিছু ফিরে একবার হেমলককে দেখলো। হেমলক তাকে এমন অদেখা করে চলে গেলো তা বিশেষ ভালোও লাগলো না তার। হেমলকের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থেকেই বলল,
“উনার কি কিছু হলো? রেগে আছেন মনে হয়!”

 “তুমি বেশ বুঝতে পারো দেখছি উনাকে। তাকে নিয়ে কিছু অনুভব করো নাকি?” 
 রানি বেশ অকপটেই প্রশ্নটি করে তাকালেন মৃন্ময়ীর দিকে। স্থির তার দৃষ্টি। যেন খুব সাধারণ কথাটিই বলেছেন। অথচ কথাটি মোটেও সাধারণ নয়। নিজের স্বামীর প্রতি অন্য কোনো নারীর অনুভূতি আছে কি-না তা সাধারণ কোনো নারী হলে জিজ্ঞেস করতে পারত না। কেবল তিনি বলেই পারছেন!
 মৃন্ময়ী চমকে গেলো। তৎক্ষণাৎ তাকালো রানির দিকে। চোখগুলো তার আশ্চার্য রকমের বড়ো হয়ে গিয়েছে।
“কী! কী বলছেন এসব!”

 “খারাপ কী বললাম? মানুষের প্রতি মানুষের অনুভূতি আসতে পারে না? এটা কি খারাপ?”

“খারাপ নয় বলছেন?”
 
 “তুমি খারাপ বলছো অনুভূতি আসাটা?”

“হ্যাঁ। অবশ্যই।”

 রানি এবার দু'কদম এগিয়ে এলেন। শুধালেন, “কারণ?”

“কারণ উনি বিবাহিত।”

 “খারাপ জেনেও তো অনুভূতি আসছে তোমার। তুমি সেই অনুভূতির জন্য তার চারপাশে ঘুরছো। আমার চোখের সামনে তুমি আমার স্বামীর প্রতি আদর, যত্ন দেখাচ্ছ। মায়া দেখাচ্ছ। আর ভাবছো আমি এসব বুঝবো না? আমি রানি কামিনীকাঞ্চন। আমার পিঠ পিছনে যা হয় তা-ও আমার ইশারা ছাড়া হয় না আর তুমি ভাবছো তোমার এই মায়া আমি দেখেও দেখব না?”

  মৃন্ময়ী রানির দিকে তাকাল। সরাসরি চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করল, “যদি বুঝেই থাকেন তবে আটকাচ্ছেন না কেন? কোন নারী তার স্বামীর ভাগ ছাড়ে?”

 “আমি ছাড়ছি। তোমাকে সুযোগ দিচ্ছি। চাচ্ছি তুমি ভাগ বুঝে নাও।”

  মৃন্ময়ী আরও অবাক হয়, “আপনি অদ্ভুত! নিজের স্বামীর ভাগ দিয়ে দিচ্ছেন!”
রানি জবাবে কেবল মুচকি হাসেন। অনবরত মাথা নাড়েন। মৃন্ময়ী তাকিয়ে থাকে। বুঝার চেষ্টা করে রানি কামিনীকাঞ্চন মূলত কী চান, কী ভাবেন। কিন্তু রানিকে কি আর বোঝা এত সহজ!

 মৃন্ময়ীকে হতবিহ্বল অবস্থানে রেখেই রানি প্রাসাদে প্রবেশ করলেন। আজ প্রাসাদ গমগমে। এতগুলো কক্ষ কেবল মানুষে পরিপূর্ণ। মানুষের কোলাহল কিছুটা কম হলেও একেবারে নিভে যায়নি। এই রাত্তিরেও আনাগোনা চলছে। 
 
 ইনান ণেকিতানও সজাগ ছিলো। রানিকে দেখে নিজের কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে এলো আগ্রহী পায়ে। আসতে আসতে প্রশ্নও করল, 
“আসার পর থেকে আপনার অপেক্ষা করছিলাম। শুনলাম বিশেষ কার্যের জন্য এ্যাজেলিয়া রাজ্যে গিয়েছিলেন।”

 “গিয়েছিলাম। আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। কাল বলছি। আপনি বিশ্রাম করুন। রাত ফুরিয়ে আসছে।”

“কী কথা? এখুনি বলুন। আমি শুনছি।”

 রানির বাহু উঁচু। মাথাও একদম সোজা। এত রাতেও ক্লান্তি নেই এক ফোঁটাও। তীক্ষ্ণ স্বরে বললেন, “আমার চিত্র আপনি হেমলক পিয়ার্সকে দিয়ে অঙ্কন করাতেন তাই না?”

 হয়তো এমন প্রশ্ন আশা করেনি ণেকিতান। তার ভ্রু কুঁচকে আসে তাই। মাথা নাড়ে বোকা ভঙ্গিতে, “হ্যাঁ।”

“আমার প্রাসাদে পাঠানো সমস্ত চিত্রগুলো কি আপনিই পাঠিয়েছেন?”

  ণেকিতানের বোকা বোকা চাহুনি এখনও স্থির। সে বুঝতে পারছে না মূলত রানি কোন চিত্রের কথা বলছেন। 
“আপনি পাঠাতেন কি?” পুনরায় রানির প্রশ্নে সম্বিৎ ফিরে এলো তার। দ্রুত গতিতে মাথা নাড়িয়ে জবাব দিল,
“না তো, আমি কিছুই পাঠাইনি। আমিতো কেবল…”

 ণেকিতানের কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই কোথা থেকে যেন ঝড়ের বেগে উপস্থিত হলো হেমলক। এসেই খপ করে জড়িয়ে ধরল রানির হাতটি। চোখ-মুখ তার আগের মতনই কঠিন। কণ্ঠে ভারিক্কি ভাব বজায় রেখে বলল,
“আসো, ঘুম পেয়েছে বড়ো।”

  হেমলকের অদ্ভুত আচরণ রানিকে অস্বস্তিতে ফেলল। তিনিও কি আর দমে যাওয়ার পাত্রী? ণেকিতানের সাথে তার কথা বলাটা যে হেমলক সহ্য করতে পারছে না তা কি আর বুঝতে বাকি আছে তার? তবুও তিনি ঠাট্টা করলেন,
“ঘুম পেলে ঘুমান। আমি কি আপনার চোখের উপর বসে আছি?”

 রানির শীতল কণ্ঠে করা মশকরায় হেমলক দাঁত কিড়মিড় করল। ণেকিতানের দিকে এক পলক তাকিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের অসভ্যতামি করে বলল,
“চোখে না বসো, বুকেতো বসেছো। তোমার সেই সান্নিধ্য না পেলে আমার কি আর নিদ্রা আসে?”
 কথা শেষ করেই হাসল হেমলক। রানিকে বাজিমাত করতে পেরে সে যেন আজ বেজায় আনন্দিত। রানি আর কথা বাড়ালেন না। হেমলকের এসব বাচ্চামির সাথে তিনি তো আর বাচ্চা হতে পারেন না। দৃষ্টিকটু লাগবে। যতই হোক, তার নামের সাথে দাম্পত্যের এহেন সোহাগ, আহ্লাদ বেমানান লাগছে বড্ড। 

 ণেকিতানের থেকে বিদায় নিয়ে রানি নিজের কক্ষে চলে গেলেন। তবে মনে মনে তার খচখচানিটা থাকল ভীষণ। তাকে পাঠানো সমস্ত চিত্র তাহলে হেমলকই পাঠিয়েছে। কিন্তু হেমলক কীভাবে এত তথ্যের খোঁজ পেয়েছে? কীভাবেই বা জানতে পেরেছে সে সমস্ত কিছু?

 —————

 ক্যামিলাস রাজ্যের আদর্শ রাজাকে হারিয়ে প্রাসাদে আত্মীয়দের শোকের ছায়া সীমিতই। বরং মনে হচ্ছে আনন্দ, উৎসব লেগেছে। মহা উৎসবে হৈ-হল্লা চলছে চারপাশে। রাজাদের জীবন বেঁচে থাকতেও রাজকীয়, মৃত্যুর পরও রাজকীয় তারই যেন প্রমাণ জ্বলজ্বল করছে চারপাশে। 

 আজ হ্যাভেনের মৃত্যুর চারদিন। কিছু ধর্মীয় আচার-আচরণের জন্য কারাগার থেকে বের করা হয়েছে রানি ইথুনকে। রানি ইথুনের সেই ঝলমলে সৌন্দর্যতা মলিন হয়েছে। জীর্ণ-শীর্ণ দেহ। কারগারে তার শাস্তি কতটুকু ঠিকঠাক হচ্ছে তা তার মুখমন্ডলেই স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। 

  বেলা বেড়েছে বিধায় সূর্য অত্যাধিক কিরণে চারপাশ জ্বালিয়ে ফেলছে। প্রাসাদ বলা চলে খালি। সকলেই গিয়েছে বাহিরের উদ্যানটায়। সেখানেই হ্যাভেনের নামে যজ্ঞানুষ্ঠান হচ্ছে। 
রানি স্নান সেরে বেরিয়েছেন মাত্রই। পুরোপুরি তৈরি হননি। তার খাসদাসীকেও উদ্যানে পাঠানো হয়েছে। বাকি দাস-দাসীরাও সেখানে। নামমাত্র কিছু প্রাসাদে রয়েছে। 
 তার রাজকীয় পোশাক, গহনাপত্র পরিধান করেছেন কেবল। বিশাল চুলগুলোতে ধূপের ধোঁয়া দেওয়ার পালা। কিন্তু একা হাতে এত বড়ো চুলে ধোঁয়া দিতে গিয়ে পড়লেন সমস্যায়। একা হাতে যেন সামলাচ্ছেই না চুলগুলো। বারংবার অবাধ্য হয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে গাল, কপাল। তার পুরুষটির মতনই অবাধ্য হচ্ছে ওরা।

  রানি বিড়বিড় করলেন। যিনি কি-না দু দু'টো রাজ্য সামলে নিচ্ছেন বুক ফুলিয়ে তিনি সামান্য চুল সামলাতে পারছেন না? এত ক্ষুদ্রতম বস্তুটির কাছে নাজেহাল হতে হচ্ছে? এ কেমন অদ্ভুত নিয়ম? 

 বিনা অনুমতিতেই চট করে একটি পুরুষালি হাত আচমকাই প্রেমের ঋতু বসন্তের মতন উপস্থিত হলো সে সময়। বলিষ্ঠ হাতের মুঠোয় মেঘের মতন আদুরে ভঙ্গিতে চেপে ধরল সেই চুলগুলো। আরেকটি হাতে ধূপের পাত্রটি ধরে ধোঁয়া দিতে লাগল চুলের চারপাশে। যেন কত পটু সে এই কাজটিতে! 
 আরশিতে তাকিয়ে দেখলেন রানি সেই হাতের মালিকটিকে। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মালিকটি যেন বিশ্বজয় করার যুদ্ধে ব্যস্ত। খুব যত্নে, আহ্লাদে চুলগুলো ছড়িয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। 

 রানির চোখ জুড়িয়ে গেলো সেই দৃশ্যে। ঘোর লেগে এলো। মনে জুড়ল কত প্রশ্ন। আচ্ছা, এমন করে মৃন্ময়ীর চুলও গুছিয়ে দিবে মানুষটা? এমন করেই কি যত্ন করবে মৃন্ময়ীর?
 সে মৃন্ময়ীর যত্ন নিলে কষ্ট হবে কি রানির বুকে একটু? অল্প? একদম সামান্য? আসলেই কি স্বামীকে ভাগ করা এত সহজ যত সহজে সেদিন সে বলেছিলো মৃন্ময়ীকে? 

 রানির ভাবনা ছুটে হেমলকের মৃদু আর্তনাদে। আরশিতে তাকাতেই দেখেন কপাল কুঁচকে হাতে ফু দিচ্ছে লোকটা অনবরত। হয়তো ধূপের পাত্রটির উষ্ণতায় ছ্যাঁকা খেয়েছে। 
 রানি পিছু ঘুরে। হাত এগিয়ে নিতে গিয়েও তার এত বছরের দম্ভে বাঁধে। যত্ন করতে চেয়েও হাতটি থেমে যায় সেই বুক ভরা দম্ভে। কণ্ঠস্বর তবুও ঢাকতে পারে না উতলা।
 বলে উঠলেন,
“লেগেছে?”

  হেমলক চোখ উঠিয়ে তাকায়। চোখ রাখে ঠিক রানির চোখে। তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
“লেগেছে তবে আজ নয়। যেদিন নিজের ভালোবাসার চোখে আমাকে না দেখে অন্য কাউকে দেখেছিলাম, সেদিনই লেগেছে। এই যন্ত্রণা দেখা যায় বলে এত উৎকণ্ঠা? সেই যন্ত্রণা দেখো একটিবার। যে ব্যথাকে আমি ভয় পাই তুমি আমায় সে ব্যথায় দিচ্ছো অনবরত। নিজ নারী বলে এত পাষণ্ড কাজ করেও ছাড় পাচ্ছো।”

   রানি হেমলকের চোখের দিকে আর তাকাতে না পেরে পুনরায় উল্টো হয় বসেন। নিজেকে ব্যস্ত করার অজুহাত খুঁজেন। 
হেমলক সেই প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে পারে না। ধূপের পাত্রটি খালি হাতে চেপে ধরে চূর্ণবিচূর্ণ করে ছুঁড়ে মারে মেঝেতে। তামার পাত্রটি কী ঝংকার তুলে! এমন গরম পাত্রটি মুঠোয় আঁকড়ে ধরায় হয়তো হাতটাও পুড়ে যায়। রানি তবুও টানটান বসে থাকেন। আরশিতে দেখেন হেমলকের সেই রাগান্বিত চোখজোড়া। 
 সে চেঁচিয়ে বলে, 
“আমি কিছুতেই ভুলতে পারছি না হ্যাভেনের জন্য ঝরা তোমার চোখের অশ্রুকে। তোমার অশ্রুও বড্ড বেইমান। ভালোবাসলাম আমি আর ঝরে কি-না অন্যের দুঃখে? তোমার এই সুন্দর দু'টি চোখও ছলনা জানে। বড্ড ছলনা জানে।”

  বলতে বলতে বেরিয়ে গেলো কী ভীষণ ক্রোধ নিয়ে! রানি ঠাঁই বসে রইলেন। তার ঐশ্বর্য, তার রাগ, তার দম্ভ যেন কোথাও গিয়ে দমে দমে যায় এই মানুষটার বেলাতেই। কেন সে অভিমানের বিপরীতে রাগ ফিরিয়ে দিতে পারছে না? রানি কামিনীকাঞ্চন থেকে সে প্রেমের তৃষ্ণায় মূর্ছা যাওয়া সাধারণ নারী কামিনী হয়ে উঠছে আজকাল। 
 সে তো সাধারণ হতে চায় না। কখনোই না। 

শ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ান রানি। এই রাজ্য তাকে ছাড়তে হবে শীগ্রই। তবে তার আগে এই প্রাসাদে জন্ম নেওয়া গোলকধাঁধার সমাধান প্রয়োজন। 
 তার বহু আকাঙ্ক্ষার নারীটিকে খুঁজতে হবে। নয়তো শান্তি নেই, শান্তি নেই।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp