সকাল ৬টা খান বাড়ি দিনের আলোর সাথে সাথে সেজে উঠছে। তিনতলা ভবনের বিলাসবহুল বাড়িটিকে চারপাশে নানা রঙের লাইটিং দিয়ে সাজানো হচ্ছে। অন্যদিকে সাদা ও লাল গোলাপের কম্বিনেশনে তৈরি হচ্ছে সুন্দর একটি স্টেজ। ছবি তোলার জন্য রাখা হয়েছে আলাদা ফটো সেশন। ড্রিংকসের জন্য রয়েছে আলাদা কর্নার। ভিআইপি মানুষদের জন্য করা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
চেয়ারম্যান সাহেবের দাওয়াত ফেরানোর সাধ্য কারো নেই।
এছাড়াও এলাকার গরিব-দুঃখীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তাদের নিকটাত্মীয়রাও ইতোমধ্যে আসতে শুরু করেছে।
আজকে সকাল সকাল রাহার ঘুম ভেঙে যায়।
ঘুম থেকে উঠেই ব্যালকনিতে চলে যায়। চোখ বুলিয়ে চারিপাশের সাজানো দেখছে। আর গাইছে..
“বন্ধু তুই লোকাল বাস রে, বন্ধু তুই লোকাল বাস
আদর কইরা ঘরে তুলোস, ঘাড় ধইরা নামাস”
তখন মেইন গেট দিয়ে আসা অভ্র, গানের আওয়াজ শুনে ব্যালকনির দিক কপাল কুঁচকে তাকালো।
রাহার ও হঠাৎ চোখ পড়ে অভ্র ভাইয়ের দিকে। জগিং শেষ করে বাসায় ফিরছে। গায়ে পরা কালো রঙের ফিটেড ড্রাই-ফিট টি-শার্ট, যা তার শরীরের গঠনটা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
নিচে ডার্ক গ্রে ট্র্যাক প্যান্ট, হাঁটার সাথে সাথে হালকা দুলছে। চুল গুলো ঘেমে ভিজে কপাল লেপ্টে রয়েছে। পায়ে সাদা-কালো রানিং শু, প্রতিটা পদক্ষেপে যেন ছন্দ তৈরি করছে।
রাহা তাকে দেখে বোকা বোকা চোখে তাকিয়ে রইল। গান গাওয়া ও বন্ধ হয়ে গেলো অটোমেটিক।
হঠাৎ যেন সবকিছু ভুলে গেছে সে—চারপাশ, সময়, নিজের অবস্থান… কিছুই মনে নেই।
তার চোখে মিশে আছে বিস্ময় আর অদ্ভুত এক টান, যেটা সে নিজেও বুঝে উঠতে পারছে না।
ঠোঁটটা সামান্য ফাঁকা হয়ে আছে, যেন কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারছে না।
মনে হচ্ছিল, সে শুধু তাকিয়েই থাকতে চায়—আর কিছু না।
অভ্রর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি গিয়ে থামলো ঠিক রাহার চোখে—দু’জনের গভীর চোখ এক হলো।
মুহূর্তটা যেন থমকে দাঁড়ালো। রাহার গলায় ঝুলে থাকা পেনডেন্টটা সূর্যের আলোয় ঝলমল করে উঠল—যেন সেই ঝলকই তাদের নিঃশব্দ অনুভূতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।
রাহা সেই দৃষ্টি দেখে দ্রুত উল্টে ঘুরে দাঁড়াল।
নিজের আচরণটা মনে পড়ে সে বিরক্ত হয়ে জিভ কাটল, যেন নিজেকেই ধমক দিচ্ছে।
“কী করছি আমি…”
—মনে মনে বলে সে হালকা অস্বস্তিতে ভ্রু কুঁচকালো। এই বজ্জাত লোকটি কালকে আমাকে অপমান করে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে, আর তার দিক আমি এভাবে তাকিয়ে ছিলাম। ছি,আমাকে এখন কি মনে করবে..!
দূর,ভাল্লাগে না…।
অভ্র ও বাসার ভিতরে চলে গেলো। যাচ্ছে আর বলছে তোর লোকাল বাস কে যদি প্রাইভেট বাস না করি আমার নাম ও অভ্র নয়। ঠোঁটে তার প্রশান্তির মুচকি হাসি
—————
বাসার গেট পেরিয়ে সিঁড়ির দিক এগুতেই
আমান খান বলেন,
“দাড়াও”…
অভ্র কোনো বাক্য ব্যয় না করেই সামনের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে রইল।
হাত দুটি শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ—ভেতরের অস্থিরতা যেন আঙুলের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
একবারও পেছন ফিরে তাকাল না—
আমান খান বুঝতে পেরে বলেন..
“ইতিমধ্যে সবাই জেনে গেছে—আমার একমাত্র ছেলে তুমি, দীর্ঘ নয় বছর পর দেশে ফিরেছো।
রাহা মায়ের জন্মদিন এর পাশাপাশি আমার সকল সহকর্মীদের সাথেও সাক্ষাতের আয়োজন করেছি।
সবার সাথে যেনো তোমার পরিচয় হয়।
আমার বিশ্বাস তুমি আমার আর এই খান বাড়ির মান রাখবে।”
অভ্র তৎক্ষণাৎ বলে উঠল..
“বিশ্বাস”…!
আমায় আবার কবে থেকে বিশ্বাস করতে শুরু করলেন আপনি?এই শব্দটি আপনার সাথে যায় না।
আমার উপর কোনো বিশ্বাস না রাখাই আপনার জন্য মঙ্গল হবে।
আর পরিচিত আমি আমার নিজের যোগ্যতায় হব অন্য কারো নাম দিয়ে নয়…।
বলেই চলে যেতে নিলেই
আফসানা খান ডেকে উঠলেন.
“ব্রেকফাস্ট করে যা বাবা।”
– “উপরে পাঠিয়ে দিবেন।”
এতক্ষণ ধরে সব কথাই সিঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে শুনছিল রাহা। কিন্তু নিচে নামার মতো সাহস আর জোগাড় করতে পারেনি সে।
তার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠছিল—যেন সবকিছু হঠাৎ করে বদলে যাচ্ছে।
ঠিক তখনই অভ্র কোনোদিকে না তাকিয়ে, একদম সোজা নিজের বরাদ্দ করা রুমের দিকে চলে গেল। তার মুখে ছিল একরাশ গম্ভীরতা, যেন ভেতরে জমে থাকা কথাগুলো সে কাউকেই বুঝতে দিতে চায় না।
রাহা নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল… শুধু তাকিয়ে রইল অভ্রর চলে যাওয়ার পথে।
কয়েকজন মেহমান নিজ নিজ রুমে থাকায় ঘটনাটা কেউ দেখেনি, জানতেও পারেনি। আসান খানও সেখানে ছিলেন না; তিনি তখন ইভেন্ট ম্যানেজারের সঙ্গে বাইরে সাজসজ্জার তদারকি করছিলেন।
এদিকে, আমান খান এক গভীর হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে নিজের রুমে ফিরে গেলেন।
রাহা নিচে নেমে দেখে, তেমন কেউ নেই। শুধু তার বড় আম্মু, মা আর ছোট আম্মু রান্নাঘরে ব্যস্ত।
রাহার মা ধীর কণ্ঠে ডাকলেন—
“আপা…”
— “হুম, বল।”
— “অভ্র বাবা এমন আচরণ করছে কেন?”
প্রশ্নটা শুনে আফসানা বেগমের চোখে হঠাৎ এক অজানা ভয় কাজ করল। তিনি অস্থিরভাবে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগলেন—কীভাবে উত্তর দেবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। এতদিন ধরে লুকিয়ে রাখা কথাগুলো কীভাবে প্রকাশ করবেন? যদি সাথী ভুল বুঝে বসে?
সাথী বেগম যেন তার জা’য়ের মনের অবস্থা বুঝতে পারলেন। তিনি মৃদু হাসি দিয়ে ভরসার সুরে বললেন—
“থাক আপা, এখন বলতে হবে না। যখন তোমার মনে হবে, তখন বলো।”
একটু থেমে আবার বললেন—
“তবে অভ্র বাবার এই অবস্থাটা দেখে খুব খারাপ লাগছে। আমি গিয়ে কথা বলি, আমাকে হয়তো ফিরিয়ে দেবে না।”
— “হ্যাঁ, কথা বলে দেখ। তোর সাথে তো অন্তত একটু-আধটু কথা বলে।”
এরপর রাহা, শিফা আর বাড়ির সবাই মিলে সকালের নাস্তা শেষ করল।
—————
নাস্তা হাতে অভ্রর রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েই ডাক দিলেন—
— “ অভ্র বাবা”…!
— “হ্যাঁ, মেজো আম্মু, ভিতরে আসো।”
— আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল সেট করছিলো অভ্র।
— “কোথাও বের হচ্ছ?
— “হ্যাঁ, একটা মিটিং আছে।”
—”কালকেই দেশে ফিরলে, আজকেই মিটিং”..!
— “হুম্ দরকারী”। কি বলবে বলো।
— “তোমার নাস্তা নিয়ে এলাম।”
— “তুমি কেন কষ্ট করতে গেলে? অন্য… বলতে গেলেই—”
সাথী বেগম কথার মাঝেই বলে উঠলেন”
— “কষ্ট কেন হবে, বাবা? তুমি তো আমারই সন্তান।
সন্তানের জন্য কিছু করলে কি মায়ের কষ্ট হয়?
আগেও তো তোমাকে আমি কত খাইয়ে দিয়েছি…”
তার চোখে মুহূর্তের জন্য কষ্টের ছায়া ভেসে উঠল।
— “ঠিক আছে, মেজ আম্মু, বসো।”
— “আমি খাইয়ে দেই, বাবা?”
— “আচ্ছা…”
— “তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই… আমার বিশ্বাস, তুমি আমাকে ফেরাবে না…”
সাথী বেগমের চোখে পানি টলমল করছে।
অভ্র হয়তো বুঝতে পারল তিনি কী বলতে চান,
তবুও বলল—
— “বলো”
— “নয় বছর আগে কী হয়েছিল, আমি জানি না। জানার চেষ্টা করেছিলাম, তাও পারিনি।
তোমাকে কোথাও না পেয়ে আমিও ব্যাকুল হয়ে খোঁজ করতে থাকি…ভাইজানকে জিজ্ঞেস করেছি, আপাকে জিজ্ঞেস করেছি—কেউ কিছু বলেনি।
অনেকবার জিজ্ঞেস করার পরও না…”
— “তুমি তো আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগও রাখোনি… এতদিন কীভাবে থাকতে পারলে, বাবা?”
তারপর নিজেই থেমে বললেন—
— “আচ্ছা, এসব কথা বাদ দেই। এতদিন পর তুমি ফিরে এসেছ—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।…”
একটু থেমে আবার বললেন,
— “তোমার মেজ আম্মু তোমার কাছে একটা আবদার করবে… রাখবে তো?”
নিজেই আবার বলে উঠলেন—
— “জানি, রাখবে… আমাকে ফেরাবে না।”
— “বাড়িতে আজ অনেক মেহমান আসবে… আর আজ রাহার জন্মদিনের অনুষ্ঠান।
আমি চাই, তুমি সেখানে উপস্থিত থাকো।আজ সবাই তোমাকেও দেখতে আসবে,বাবা, বড় ভাইজানের মাথাটা যেন নিচু হতে দিও না…”
বলেই চোখের পানি ছেড়ে দিলেন।
অভ্র হয়তো সবটাই বুঝে নিয়েছিল।
কিছু না বলে, খুব শান্ত স্বরে শুধু বলল—
— কি করছো মেজো আম্মু, কাঁদছো কেন..!
“ঠিক আছে… আমি থাকবো।
সাথী বেগম হাসি মুখে খাবার শেষ করে চলে গেলেন।
অভ্র উনার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল…
মনে মনে বলতে লাগল—
“তুমিও হয়তো এই কথাগুলো শুনলে ভুল বুঝতে পারো।তোমাদের হারানোর ভয়ে কিছুই জানানো হয়নি। যদি কোনোদিন সবকিছু জানতে পারো।
আমি শুধু এইটুকু আশা রাখি—
তুমি ও আমাকে ভুল বুঝবে না…”
—————
বিকেল গড়াতেই বাড়িটা যেন হঠাৎ করে আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠল। আত্মীয়-স্বজন একে একে এসে ভরে তুলল চারপাশ।
রাহার খালা মিসেস আফরোজা বেগম, খালু মাইনুদ্দিন মির্জা—তাদের সঙ্গে এসেছে ছেলে ইভান মির্জা আর ছোট বোন আয়াত মির্জা। রাহার মা আর খালা দুই বোন হওয়ায়, তাদের আসাটা যেন ঘরটা আবার পুরনো দিনের মতো করে দিল।
ইভান রাহার চেয়ে ছয় বছরের বড়, আর আয়াত এক বছরের বড়।
তারা বাড়িতে ঢুকতেই রাহা, খালাকে দেখে খুশিতে আর নিজেকে সামলাতে পারল না। আয়াতকেও জড়িয়ে ধরল, যেন অনেকদিনের জমে থাকা অভিমান আর অপেক্ষা একসাথে মিশে গেছে সেই আলিঙ্গনে।
–“খালা…”
আফরোজা বেগম হেসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
“আরে পাগলি, কোথায় যাচ্ছি না আমি, ঠিক আছি তো।”
– “অনেকদিন পর তোমাদের পেলাম… আর ছাড়ছি না।”
আফরোজা বেগম চোখ কুঁচকে হাসলেন।
“দেখো পাগলিটা! আগে তোর খালুর সাথে কথা বল।”
রাহা একটু লজ্জা পেয়ে মাথা নাড়ল। তারপর এগিয়ে গিয়ে সালাম দিল।
“আসসালামু আলাইকুম খালুজান।”
মাইনুদ্দিন মির্জা শান্ত স্বরে উত্তর দিলেন,
“ওয়ালাইকুমুস সালাম রাহা মামুনি।”
এদিকে রাহার মা একটু তাড়া দিয়ে বললেন,
“আরে দাঁড়িয়ে না থেকে ভিতরে আসতে দে সবাইকে। এতদূর থেকে এসেছে, আগে একটু রেস্ট নিক।”
রাহা সবাইকে ভেতরে নিয়ে গেল।
হাঁটতে হাঁটতেই ইভানকে হালকা হেসে জিজ্ঞেস করল,
“ভালো আছেন ভাইয়া? আপনাদের দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।”
ইভান হেসে উত্তর দিল,
“ভালো আছি। আর বার্থডে গার্লকে দেখে আরও ভালো হয়ে গেছি।”
রাহা একটু লজ্জায় মাথা নামিয়ে নিল।
সবাইকে গেস্ট রুমে ফ্রেশ হতে নিয়ে যাওয়া হলো।
আর এদিকে অন্য এক ঘরে কারো চোখে মুখে জমে উঠছিল অদ্ভুত রাগ—একদম নীরব, কিন্তু ভিতরে ভিতরে যেন টগবগ করে ফুটছে আগুনের মতো।
আফসানা বেগম সবাইকে ড্রেস কোড মনে করিয়ে দিয়ে চলে গেলেন—কালো রঙের পোশাক পরবে সবাই।
—————
সন্ধ্যা নামতেই বাড়ির সামনে একের পর এক দামি গাড়ি এসে থামতে শুরু করল। ঝকঝকে হেডলাইটের আলো যেন পুরো আঙিনাকে আলোকিত করে তুলছিল।
অতিথিরা ধীরে ধীরে ভেতরে প্রবেশ করতে লাগল—কারো হাতে উপহারের বক্স, করি হাতে ফুলের তোড়া, কারো মুখে হাসির ঝিলিক। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনের ব্যস্ততা, ভেতরে সাজানো আলোর ঝলকানি—সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হলো।
চারপাশে হাসি, গল্প, আর কোলাহলে মুহূর্তেই ভরে উঠল পুরো বাড়ি। মনে হচ্ছিল, আজকের রাতটা যেন শুধু আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের জন্যই সাজানো।
সবার কথাবার্তার মাঝেই হঠাৎ করে বাড়ির প্রধান আলো একটু ম্লান হয়ে এলো। কোলাহল ধীরে ধীরে থেমে গিয়ে যেন এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এল চারপাশে।
গেট থেকে বাগান পর্যন্ত বিছানো লাল গালিচার দিকে সবার দৃষ্টি গিয়ে থামল।
ধীরে… খুব ধীরে, সেই লাল গালিচা ধরে হেঁটে আসছে রাহা।
কালো গাউনে রাহাকে আজ একেবারে অন্য রূপে দেখা যাচ্ছে। একদম প্রিন্সেস দের মতোন।
গাউনের নরম, ফ্লোয়িং কাপড় তার চলাফেরার সাথে হালকা দুলে উঠছে, যেন প্রতিটি পদক্ষেপে এক ধরনের নীরব সৌন্দর্য তৈরি হচ্ছে।
তার সাজ ছিল খুবই সিম্পল কিন্তু এলিগ্যান্ট—অতিরিক্ত ভারী কিছু নয়, তবুও চোখে পড়ার মতো নিখুঁত।
চুলগুলো খোলা, হালকা ঢেউ খেলানো স্টাইলে কাঁধের ওপর ছড়িয়ে আছে। মাঝে মাঝে বাতাসে সেগুলো নরমভাবে দুলে উঠছে, আর সেই দোলার সাথে তার পুরো উপস্থিতি আরও জীবন্ত হয়ে উঠছে।
মুখে থাকা মৃদু হাসি আর চোখের শান্ত গভীরতা মিলিয়ে তাকে শুধু সুন্দর না, বরং এক ধরনের স্বাভাবিক, অথচ অদ্ভুতভাবে টান ধরে রাখার মতো উপস্থিতিতে পরিণত করেছে।
মনে হয় না সে চেষ্টা করছে নজর কাড়তে—তবুও চারপাশের দৃষ্টি অজান্তেই বারবার তার দিকেই ফিরে যাচ্ছে।
চারপাশে ফিসফাস শুরু হয়ে গেল—
“ওই তো বার্থডে গার্ল…”
“কী সুন্দর লাগছে!”
মাশাআল্লাহ….
ইভান একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল, ঠোঁটে হালকা হাসি। আয়াত মুগ্ধ চোখে বোনের দিকে তাকিয়ে আছে।কিছু প্রভাবশালী পরিবারের ছেলেরাও তাদের দিকে তাকিয়ে এক মুহূর্তের জন্য যেন নিজেকে সামলাতে পারেনি, তাকিয়েই আছে।
রাহার সাথে ছিল শিফা আর তার দুই বান্ধবী—অবন্তিকা ও সাফা। চারজনই আজ যেন আলাদা এক জৌলুসে সেজেছে।
তাদের দেখে মনে হচ্ছিল, চারটি ভিন্ন রঙের সৌন্দর্য একসাথে ফুটে উঠেছে—যে কেউ একবার তাকালে চোখ ফেরাতে কষ্ট হতো।
ইভান আর শিফা একে অপরের দিকে তাকালো।
হয়তো তাদের দৃষ্টিতে কিছু না বলা কথা ভেসে উঠেছিল—একটা অদ্ভুত নীরব বোঝাপড়া।
রাহা ইভানের সাথে সবার পরিচয় করিয়ে দিলো।
কিন্তু সবার ভিড়ের মাঝেও—একজোড়া চোখ স্থির হয়ে আছে রাহার উপর।
রাহা ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলো…
কিন্তু সে কি টের পাচ্ছে??—তার এই একটুখানি এন্ট্রিই কারো ভিতরের ঝড়কে আরও ভয়ংকর করে তুলছে?
·
·
·
চলবে……………………………………………………