ঘন কুয়াশা বেয়ে শীতের বিকেল নেমেছে ধীরে ধীরে। পদ্মজা আলোকে বুকের সঙ্গে মিশিয়ে দুই তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখের দৃষ্টি বাড়ির গেটের দিকে। বাড়ির সব পুরুষ সকালে বেরিয়েছে রানির খোঁজে। এখনও ফেরেনি। যে নিজের ইচ্ছায় হারিয়ে যায়, তাকে কী আর খুঁজে পাওয়া যায়? তবুও পদ্মজা চাইছে রানিকে যেন অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়া যায়। আলো সারাদিন মায়ের জন্য কেঁদেছে। মায়ের আদরের জন্য ছটফট করেছে। আলোর অস্থিরতা দেখে কেঁপেছে পদ্মজার দুই ঠোঁটও, জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেছে মায়ের মতো আদর করার। কিন্তু সে তো আলোর মা নয়, মায়ের গন্ধ তার গায়ে নেই। রানি মা হয়ে কী করে পারল আলোকে ছেড়ে যেতে? পৃথিবীর সব মা একরকম হয় না। সব মা সন্তানের জন্য ত্যাগ করতে জানে না। দুঃখ আপন করে নিতে জানে না। পদ্মজা আলোর কপালে চুমু দিল। মেয়েটা চুপ করে আছে। চারিদিক কুয়াশায় ধোঁয়া ধোঁয়া। দিন ডুবিডুবি। স্তব্ধ হয়ে আছে সময়। একতলা থেকে শোনা যাচ্ছে আমিনার বিলাপ। তিনি এত কাঁদতে পারেন! পদ্মজা ঘুরে দাঁড়াল ঘরে যেতে। তখনই সামনে পড়লেন ফরিনা। পদ্মজা হাসার চেষ্টা করে বলল, আম্মা, আপনি!’
‘আলো ঘুমাইছে?’
‘না, জেগে আছে।’ পদ্মজা আলোর কপালে আবার চুমু দিল।
ফরিনা বললেন, ‘রানিরে কি পাওন যাইব?’
‘জানি না আম্মা।’ পদ্মজার নির্বিকার স্বর।
‘আলমগীর রুম্পারে লইয়া কই গেছে জানো তুমি? ওরা ভালো আছে তো?’
‘আপনাকে সেদিনই বলেছি আম্মা, জানি না আমি।’
ফরিনা আর প্রশ্ন করলেন না। তিনি নারিকেল গাছের দিকে চোখের দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন। পদ্মজা সেকেন্ড কয়েক সময় নিয়ে ফরিনাকে দেখল। ফরিনা আগের মতো ছটফটে নেই। নিশ্চুপ হয়ে গেছেন। আগে মনে হতো তিনি মনে মনে কোনো কঠিন কষ্ট পুঁতে রেখেছেন; কিন্তু এমন কোনো শক্তি আছে যার জন্য তিনি হাসতে পারেন, বেঁচে আছেন। আর এখন দেখে মনে হচ্ছে, সেই শক্তিটা নষ্ট হয়ে গেছে! জীবনের আশার আলো ডুবে গেছে। কথাগুলো ভেবে পদ্মজা চমকে উঠে! সে তো আনমনে নিজের অজান্তে এসব ভেবেছে! কিন্তু সত্যিই কি এমন কিছু হয়েছে? পদ্মজা আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করল, ‘আম্মা, আপনি আমাকে কিছু বলতে চান?’
ফরিনা তাকান। পদ্মজা তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে রইল ফরিনার দিকে। ফরিনা ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন। হঠাৎ যেন পাহাড়ের শক্ত মাটির দেয়াল ভেঙে ঝরনাধারার বাঁধ ভেঙে গেল। পদ্মজা খুব অবাক হলো। ফরিনা আঁচলে মুখ চেপে ধরলেন। উৎকণ্ঠার সঙ্গে জানতে চাইল পদ্মজা, ‘আম্মা, আম্মা আপনি কাঁদছেন কেন? কী হয়েছে? বলুন আমাকে। কী বলতে চান আপনি?
আচমকা ফরিনার কান্নার শব্দে আলো ভয় পেয়ে যায়। সে জোরে জোরে কাঁদতে থাকে। পদ্মজা আলোকে শান্ত করার চেষ্টা করে। বারান্দায় পায়চারি করে আদুরে কণ্ঠে বলল, ‘মা, কাঁদে না, কাঁদে না। কিছু হয়নি তো। মামি আছি তো।’
আলো জান ছেড়ে কাঁদছে, কান্না থামাচ্ছে না। বেশ অনেক্ষণ পর আলো কান্না থামায়। সঙ্গে সঙ্গে পদ্মজা ফরিনার দিকে এগিয়ে এলো। প্রশ্ন করল, ‘বলুন আম্মা। কী বলতে চান আমাকে?’
‘কিছু না।’ বলেই তড়িঘড়ি করে দোতলা থেকে নেমে যান তিনি। পদ্মজা আশাহত হয়ে অনেকবার ডাকলেও তিনি শোনেননি। পদ্মজা বিরক্তি নিয়ে বাইরে তাকাল। দেখতে পেল মজিদ হাওলাদারকে। তিনি আলগ ঘর পেরিয়ে অন্দরমহলের দিকে আসছেন। হাঁটছেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। পায়ে ব্যথা পেয়েছেন নাকি! পদ্মজা নিচ তলায় যেতে উদ্যত হলো। তখনই মাথায় এলোঃ কোনোভাবে কী আব্বাকে দেখে আম্মা ভয় পেলেন? আর উত্তর না দিয়ে চলে গেলেন?
নিশ্চয়ই এমনটা হয়েছে! ঘরের গোপন খবরই দিতে চেয়েছিলেন ফরিনা। কিন্তু ঘরের মানুষ দেখে আর দিতে পারলেন না। আচ্ছা, তিনি এমন হাউমাউ করে কেন কাঁদলেন? পদ্মজার কপালের চামড়া কুঁচকে গেল।
মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াল সে। আলোর পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে ভাবতে লাগল পেছনের সব অদ্ভুত ঘটনা নিয়ে। রুম্পা পাগলের অভিনয় করত, তাকে ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল অথচ বাড়ির কারও তা নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না। রুম্পা দিনের পর দিন না খেয়ে ছিল। পদ্মজা যতটুকু বুঝেছে ফরিনা খুব ভালোবাসেন রুম্পাকে, তাহলে তিনি কেন খাবার নিয়ে যেতেন না? রুম্পার ঘরে লতিফা নজর রাখত। রুম্পা লতিফাকে দেখে ভয় পেয়েছিল। যেদিনই সে জানতে পারে রুম্পা পাগল না, সেদিন রাতেই বাবলু নামের কালো লোকটি রুম্পাকে মারতে চেয়েছিল। এতসব কার নির্দেশে হচ্ছে? কে এই বাড়ির আদেশদাতা? আর আলমগীরই কী করে জানল রুম্পা খুন হতে চলেছে? তারপর একটা খুন হলো, অথচ ভোর হওয়ার আগেই সেই লাশ উধাও হয়ে গেল। কেউ খুনির খোঁজ করল না! রুম্পা বা আলমগীরের কথা রানি আর ফরিনা ছাড়া কেউ জিজ্ঞাসাও করল না! এই বাড়ির মানুষ জীবিত থেকেও মৃত। কী চলছে আড়ালে! আলমগীর তাকে একটা চাবি দিয়েছিল।
চাবিটা কীসের? রুম্পা বলেছিল: পেছনে…উত্তরে…ধ রক্ত। এই কথার মানেই বা কী?
পদ্মজা দ্রুত দুই চোখ বন্ধ করে ফেলল। তার মাথাব্যথা করছে। দপদপ করছে কপালের রগগুলো। রানির নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারটা পুরোপুরি মাথা থেকে বেরিয়ে গেছে। গাঢ় রহস্যের টানে উন্মাদ হয়ে উঠল সে। বাড়িতে খলিল, রিদওয়ান নেই। এই সুযোগে জঙ্গলে তাকে যেতেই হবে।
পরিবেশে অস্পষ্টতা ক্রমে ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যাকে ম্লান আলোয় জড়িয়ে ধরল বিকেল। আজান পড়ছে। পদ্মজা নিচ তলায় এসে আলোকে লতিফার কাছে দিয়ে নিজ ঘরে গিয়ে নামাজ আদায় করে নিলো। তারপর খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিল আলোকে। মজিদ পায়ে ব্যথা পেয়েছেন। তিনি ঘরে শুয়ে আছেন। ফরিনাও ঘরে। বাড়ির বাকি পুরুষরা তখনো ফিরেনি। আমিনা সদর দরজায় বসে আছেন। চুল এলোমেলো। কপালে এক হাত রেখে বাইরে তাকিয়ে রানির অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন। মানুষটার অনেক দোষত্রুটি আছে ঠিক। তবে মেয়ের জন্য পাগল! বাড়ির আরেক কাজের মেয়ে রিনু আলোর সঙ্গে শুয়ে আছে। আলো একা ঘরে কীভাবে থাকবে, তাই পদ্মজাই রিনুকে আলোর সঙ্গে থাকতে বলেছে। লতিফা রান্নাঘরে রান্না করছে। সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত। মানবতাবোধ থেকেও অন্তত রানির নিখোঁজ হবার শোকে কাতর হওয়া উচিত। কিন্তু পদ্মজা কাতর হতে পারছে না। তাকে চুম্বকের মতো কিছু টানছে উলটোদিক থেকে। পদ্মজা শক্ত করে খোঁপা বাঁধে। শাড়ির আঁচল কোমরে গুঁজে গায়ে জড়িয়ে নেয় শাল। হাতে নেয় টর্চ আর ছুরি। তারপর অন্দরমহলের দ্বিতীয় দরজা দিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এক নিশ্বাসে ছুটে আসে জঙ্গলের সামনে। হাঁপাতে থাকে। চোখের সামনে ঘন জঙ্গল। পেছনে কয়েক হাত দূরে অন্দরমহল। হাড় হিম করা ঠান্ডা। পদ্মজার ঠোঁট কাঁপতে থাকে।
এই জায়গায় সে বহুবার এসেছে, কখনোই জঙ্গলের ভেতর পা রাখতে পারেনি। কেউ না কেউ…অথবা কোনো না কোনো ঘটনা তাকে বাগড়া দিয়েছেই। আজ কিছুতেই সে পিছিয়ে যাবে না। তার স্নায়ু উত্তেজিত হয়ে আছে। জঙ্গলের ঘাসে পা রাখতেই একটা অদ্ভুত অনুভূতি হয়। গায়ের লোমকূপ দাঁড়িয়ে পড়ে। আরো কয়েক পা এগোতেই গা হিম করা অদ্ভুত সরসর শব্দ ভেসে আসে।
পদ্মজার একটু ভয় ভয় করছে। গাঢ় অন্ধকারে এমন এক গভীর জঙ্গলে সে একা! শীতের বাতাসে গাছের পাতাগুলো শব্দ তুলছে আর পদ্মজা উৎকর্ণ হয়ে উঠছে। ভয়-ভীতি নিয়েই সে সামনে এগোতে থাকে। চারিদিকে ঘাস, সরু একটা পথ বাদে। হয়তো এই পথ দিয়ে মানুষ চলাচল করে। পদ্মজা সেই পথ ধরে এগোতে থাকে। সে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চারপাশ দেখছে। বড়ো বড়ো গাছ দেখে মনে হচ্ছে কোনো অশরীরী দাঁড়িয়ে আছে! পদ্মজা মনে মনে আয়াতুল কুরসি পড়ে বুকে ফুঁ দেয়।
একটা সময় ফুরিয়ে গেল সেই পথ। পদ্মজা টর্চের আলোতে নতুন পথ খুঁজতে থাকে, যেদিকেই তাকায় সেদিকেই বুনো লতাপাতা। যারা এদিকে আসে তারা কী এখানেই থেমে যায়? পদ্মজা ভেবে কুল পায় না। মাথার ওপর ডানা ঝাপটানোর শব্দ শোনা যেতেই ধক করে উঠল পদ্মজার বুক। সে টর্চ ধরল মাথার ওপর। দুটো পাখি উড়ে গেল ঠিক সেই মুহূর্তেই, চোখের সামনে ভেসে উঠল চন্দ্র তারকাহীন ম্লান আকাশ। পদ্মজা লম্বা করে নিশ্বাস নিলো। কী না কী ভেবেছিল! সে সূক্ষ্ম-তীক্ষ্ণ চোখে দেখল চারপাশ। রুম্পা কী বলেছিল মনে পড়তেই সে উত্তরে তাকাল। বেশিদূর দৃষ্টি গেল না। ঝোপঝাড়ে ঢাকা চারপাশ। পদ্মজা মুখে অস্ফুট বিরক্তিকর শব্দ করল।
নিজে নিজে বিড়বিড় করে, ‘কোনদিকে যাব এবার?
ছটফট করার কারণে হাত থেকে ছুরি পড়ে গেল, সামনে ঝুঁকে ছুরি তুলতে গেলে সেই সঙ্গে ঘাস উঠে আসে হাতে। পদ্মজা অবাক হলো। এই বুনো ঘাসের শেকড় কি মাটির নিচে ছিল না? পদ্মজা উত্তর দিকের আরো কতগুলো ঘাস এক হাতে তোলার চেষ্টা করল। সঙ্গে সঙ্গে হাতে উঠে এলো ওগুলো। সত্যি মাটির নিচে শেকড় নেই! কে বা কারা পথের চিহ্ন আড়াল করতে নতুন তাজা ঘাস দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে পথ। পথ লুকোতে প্রায়ই এমন করা হয়? তাহলে তো বেশ পরিশ্রম করে! পদ্মজার উত্তেজনা বেড়ে গেল। সে উত্তর দিকের পথ ধরে এগোতে থাকে, থামল প্রায় দশ মিনিটের মতো হাঁটার পর।
এই মুহূর্তে সে চলে এসেছে জঙ্গলের ঠিক মধ্যখানে।
সামনে ঘন ঝোপঝাড়। পরিত্যক্ত ভাব চারিদিকে। ভূতুড়ে পরিবেশ থেকে থেকে পেঁচা ডাকছে কাছে কোথাও। পদ্মজা বিপদ মাথায় নিয়ে ঝোপঝাড় দুই হাতে সরিয়ে অজানা গন্তব্যে হাঁটতে থাকে। কাঁটা লাগে মুখে। চামড়া ছিঁড়ে যায়। পদ্মজা ব্যথায় ‘মা’ বলে আর্তনাদ করে উঠল ব্যথাকে পাত্তা না দিয়ে এগোতে থাকে সে। ঝোপঝাড় ছেড়ে বড়ো বড়ো গাছপালার মাঝে আসতেই পদ্মজার মনে হলো: তার পেছনে কেউ আছে! চট করে ঘুরে দাঁড়াল। কেউ নেই! মনের ভুল ভেবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে পদ্মজা। আবার মনে হয়, পেছনে কেউ আছে। পদ্মজা থমকে ঘুরে তাকাল। তার মনটা আনচান করছে, কু গাইছে। কেমন যেন ভয়ও করছে। এই গভীর জঙ্গলে সে একা।
কিছুক্ষণ আগে সন্ধ্যা হলো। কিন্তু এখানে মনে হচ্ছে গভীর রাত। কোনো অঘটন ঘটে গেলে কেউ জানবে না। পদ্মজার রগে রগে শিরশিরে অনুভব হয়। ভয়টা বেড়ে গেছে। ভেঙে পড়ছে সে! রাতের অন্ধকার তার শক্তি, সাহসিকতা যেন শুষে নিচ্ছে। পদ্মজা আল্লাহকে স্বরণ করে, স্বরণ করে হেমলতাকে। চোখ বুজে হেমলতার অগ্নিমুখ ভাবে। তিনি যেভাবে তীক্ষ্ণ চোখে তাকাতেন সেভাবে পদ্মজা তাকাল। কান খাড়া করে চারপাশে যত জীব, প্রাণী আছে সবকিছুর উপস্থিতি টের পাওয়ার চেষ্টা করে। কাছে কোথাও অদ্ভুত একটা কিছু ডাকছে। নিশাচর পাখিদের তীক্ষ্ণ ডাকও শোনা যাচ্ছে। ঝিঁঝিপোকারা ডাকছে এক স্বরে। বাতাস বইছে শোঁ শোঁ শব্দে। এ সবকিছুকে ছাড়িয়ে একটা মানুষের গাঢ় নিশ্বাস তীক্ষ্ণভাবে কানে ঠেকল। খুব কাছে, পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে! নিশ্বাস নিচ্ছে। পদ্মজার হাত দুটো শক্ত হয়ে যায়। অদ্ভুত এক শক্তিতে কেঁপে উঠে সে। চোখের পলকে দুই পা পিছিয়ে লোকটিকে না দেখেই ছুরি দিয়ে আঘাত করে। লোকটি ‘আহ’ করে উঠে। পদ্মজা চোখ খুলে ভালো করে দেখে, মুখটি অন্ধকারের জন্য অস্পষ্ট তবে কণ্ঠটি পরিচিত মনে হলো। পদ্মজার ছুরির আঘাত লোকটির হাতে লেগেছে। পদ্মজা রাগী কিন্তু কাঁপা স্বরে প্রশ্ন করে, ‘কে আপনি?’
লোকটি ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ছুটে এসে চেপে ধরল পদ্মজার গলা। পদ্মজা আকস্মিক ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। লোকটি এত জোরে গলা চেপে ধরেছে যে তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। মাথার ওপর আরো কয়েকটি পাখি ডানা ঝাপটে উড়ে গেল। একটা বলিষ্ঠ হাত গাঢ় অন্ধকারে অপরূপ সুন্দরী এক মেয়ের গলা টিপে ধরে রেখেছে। সুন্দরী মেয়েটি ছটফট করছে! লোকটির মুখ অন্ধকারে ঢাকা। ভয়ংকর এক দৃশ্য!
পদ্মজা তার হাতের ছুরিটা শক্ত করে ধরে, লোকটির পেটে ক্যাঁচ করে টান দিল। আর্তনাদ করে সরে গেল আক্রমণকারী, মাটিতে বসে পড়ে হাঁটুগেড়ে। পদ্মজা আবারও আঘাত করার জন্য এগোতেই উঠে দাঁড়াল লোকটি, যেন নতুন উদ্যমে শক্তি পেয়েছে। লোকটা ঝাঁপিয়ে পড়ল পদ্মজার ওপর, নখের আঁচড় হাতে বসিয়ে কেড়ে নেয় ছুরি।
পদ্মজা ছুরি ছাড়া এমন হিংস্র পুরুষের শক্তির সামনে কিছু না। যেভাবেই হোক, এর হাত থেকে বাঁচতে হবে। পদ্মজা টর্চ দিয়ে লোকটির মাথায় বাড়ি মারল, টাল সামলাতে না পেরে পিছিয়ে গেল আক্রমণকারী। পদ্মজা উলটোদিকে দৌড়াতে থাকে, পিছু ধাওয়া করে লোকটা। দুইবার ছুরির আঘাত, একবার মাথায় টর্চের বাড়ি খাওয়ার পরও ব্যাটা মাটিতে লুটিয়ে পড়েনি। নিঃসন্দেহে এই রহস্যের পাক্কা খেলোয়ার সে।
পদ্মজার শাল পড়ে যায় গা থেকে। তার খোঁপা খুলে রাতের মাতাল হাওয়ায় চুল উড়তে থাকে। ঝোপঝাড়ের মাঝে উদ্ভ্রান্তের মতো দৌড়াচ্ছে সে। কানে আসছে বাতাসের শব্দ শোঁ, শোঁ, শোঁ! দুই হাতে শাড়ি ধরে রেখেছে গোড়ালির ওপর, যাতে পা বেঁধে পড়ে না যায়। জুতা ছিঁড়ে পড়ে থাকে জঙ্গলে। কাঁটা কাঁটায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় পাজোড়া। রক্ত বের হয় গলগল করে। তবুও সে থামল না।
এত সহজে মরবে না…
…এই রহস্যের গোড়ায় পৌঁছতে হলে তাকে বাঁচতেই হবে।
·
·
·
সমাপ্ত……………………………………………………