পদ্মজা - পর্ব ১৪ - ইলমা বেহরোজ - ধারাবাহিক গল্প

পদ্মজা - ইলমা বেহরোজ
          কিছুটা দূরেই রেলস্টেশন। সেখান থেকে হুইসেলের শব্দ ভেসে আসছে। গভীর রাতের ট্রেন ছুটে যাচ্ছে নিজ গন্তব্যের দিকে। কাছে কোথাও নেড়ি কুকুরের দল ঘেউঘেউ করছে। হেমলতা জানালাগুলো বন্ধ করে দিলেন যাতে কুকুরের ডাকাডাকির আওয়াজে পদ্মজার পড়াশোনায় সমস্যা না হয়।

পদ্মজা ইংরেজি বইয়ের দিকে চোখ রেখে মিনমিনে স্বরে বলল, ‘পরীক্ষা তো পরশু।

হেমলতা খোলা চুল মুঠোয় নিয়ে হাত খোঁপা করে বললেন, ‘কাল আর পরশুর মাঝে তো খুব একটা পার্থক্য নেই।’

পদ্মজা কিছু বলল না। বইয়ের দিকে তাকিয়ে এমন ভান ধরল যেন পড়ায় তার ভীষণ একাগ্ৰতা।

হেমলতা চোখ ছোটো ছোটো করে পদ্মজাকে দেখছেন। মেয়েটা পড়ায় মনোযোগ দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, কিন্তু সফল হতে পারছে না। বার বার নিচের ঠোঁট কামড়াচ্ছে। তিনি হঠাৎই বললেন, ‘ছাদে যাবি?’

এহেন প্রস্তাবে পদ্মজা বিস্মিত হলো, নাকের পাটা হয়ে গেল লাল। যদিও এই কথাই নাক লাল কেন হলো, তা জানা নেই। সে হাঁ করে তাকিয়ে রইল মায়ের দিকে। হেমলতা আবার বললেন, ‘যাবি?’

পদ্মজা প্রফুল্লচিত্তে বলল, ‘যাব…যাব আম্মা।’

আকবর হোসেনের বাড়িটির নাম সিংহাসনকুঞ্জ। এই অদ্ভুত নামের হেতু ছাদে উঠলেই জানা যায়। মা-মেয়ে সিঁড়ি বেয়ে ছাদের দিকে উঠছে। তাদের পায়ের শব্দ মোহময় ছন্দ তুলে হারিয়ে যাচ্ছে গহিন অন্ধকারে। ছাদের ঠিক মধ্যিখানে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল সিংহাসন। তা দেখে পদ্মজার চক্ষু চড়কগাছ!

বিষ্ময় নিয়ে প্রশ্ন করল, ‘আম্মা! এই সিংহাসন কার?’

হেমলতা পদ্মজার মুখের ভাব দেখে বেশ আনন্দ পাচ্ছেন। তিনি নিজেও দুইদিন আগে সিংহাসনটি দেখে খুব অবাক হয়ে আকবর হোসেনের কাছে একই ভাবে করেছিলেন প্রশ্নটা। তাই আকবর হোসেনের উত্তর পুনরাবৃত্তি করলেন, ‘তোর আকবর কাকার বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। উনার ইচ্ছে ছিল নিজের বাড়ির ছাদে একটা সিংহাসন তৈরি করার। শেষ বয়সে এসে নিজের মনের ইচ্ছে পূরণ করেছেন। দিনরাত নাকি রাজকীয় ভঙ্গীতে সিংহাসনে বসে থাকতেন। মৃত্যুও হয় এই সিংহাসনে, ঘুমানো অবস্থায়।’

পদ্মজা হাঁ করে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল। তারপর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল সিংহাসনটি—ময়ূর সিংহাসন! ইট-সিমেন্টের তৈরি আসনটি যেন পেখম মেলে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক বড়ো, দৈর্ঘ্যে পাঁচ ফুট বা আরো বেশি হবে। পদ্মজা প্রশ্ন করল, ‘আম্মা, এটা মোঘল সম্রাট শাহজাহানের সিংহাসনের মতো না?’

হেমলতা বললেন, ‘অনেকটাই তেমন। সম্রাট শাহজাহানের সিংহাসনের মতো করে বানানোর স্বপ্নই বোধহয় তিনি দেখতেন। অর্থের জন্য পারেননি।’ পদ্মজা ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে গেল। অনুরোধ করে বলল, ‘আম্মা তুমি সিংহাসনে বসো।’

‘আমাকে মানাবে না। তুই বস, তোকে রাজরানি লাগবে।’

‘তুমি আগে বসো। আম্মা একটু বসো…একটু?’

পদ্মজার অনুরোধে হেমলতা সিংহাসনে বসলেন। পদ্মজাকে ডেকে

বললেন, ‘তুইও আয়, পাশে বস।’

পদ্মজা এলো না। দূর থেকে বলল, ‘মাঝে বসো আম্মা।’

‘কী শুরু করেছিস!’

‘বসো না।’

হেমলতা কপাল কুঁচকে সিংহাসনের মাঝে বসেন। পদ্মজার ঠোঁটে হাসি ফুটে আবার হারিয়ে গেল। বলল, ‘আরেকটু বাকি।’

‘কী বাকি?’

বাঁ-পায়ের উপর ডান পা তুলে রানিদের মতো বসো।’

হেমলতা বিরক্তি নিয়ে উঠে পড়েন। পদ্মজাকে বললেন, ‘পাগলের প্রলাপ শুরু করেছিস!’

পদ্মজা নাছোড়বান্দা হয়ে দৃঢ়ভাবে বলল, ‘আম্মা, বসো। নয়তো আমি কাঁদব।’

পদ্মজার ছেলেমানুষি দেখে হেমলতা হাসবেন না রাগবেন—ঠাওর করতে পারলেন না।

রাতের সৌন্দর্য আর তার মায়াবী রূপকে, প্রতিটি মানুষের ভেতরের আহ্লাদ-ইচ্ছে-কষ্টকে ঠেলেঠুলে বের করে আনার ক্ষমতা বোধহয় আল্লাহ নিজ হাতে দিয়েছেন। তাই হেমলতা তার নিজের শক্ত খোলসে ফিরতে পারলেন না। পদ্মজার পাগলামোর সুরে সুর মিলিয়ে তিনি সিংহাসনে রাজকীয় ভঙ্গীতে বসলেন। পদ্মজার কেমন অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়, বুকের ভেতর ঝিরিঝিরি কাঁপন। এই তো তার কল্পনার রাজ্যের রাজরানি—হেমলতা…এবং তার কন্যা সে পদ্মজা। চোখের মণিকোঠায় ভেসে উঠল একটি অসাধারণ দৃশ্য। হেমলতার সর্বাঙ্গে হীরামণি-মুক্তার অলংকার। অসম্ভব সুন্দর শ্যামবর্ণের এই সাহসী নারীকে দেখতে কতশত দেশ থেকে মানুষ ভিড় জমিয়েছে। আর সে হেমলতার পাশে বসে আছে। চারিদিকে ঢাকঢোল পিটানো হচ্ছে। হাতিশাল থেকে হাতির হুংকার আসছে। তারাও যেন খুশি এমন রানি পেয়ে।

‘তোর পাগলামি শেষ হয়েছে?

পদ্মজা জবাব না দিয়ে হেমলতার পাশে এসে বসল। কোলে মাথা রেখে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আক্ষেপের স্বরে বলল, ‘আম্মা, তুমি রানি আর আমি রাজকন্যা কেন হলাম না? সবাই আমাদের ভালোবাসত। সম্মান করত। মুগ্ধ হয়ে দেখত।

হেমলতার বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। সমাজ কেন তার প্রতিকূলে থাকল? কেন পদ্মজা ছোটো থেকে সমাজের অন্য কারো মেয়ের সঙ্গে মেশার অধিকার পেল না? তিনি বললেন, ‘জন্ম যেভাবেই হোক। জীবনে সফলতা না এনে মৃত্যুতে ঢলে পড়া ব্যক্তির ব্যর্থতা। তুই এমন জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা কর যাতে মানুষ সম্মান করে। সম্মান করতে বাধ্য হয়। চোখ তুলে তাকাতেও যেন ভয় করে। যারা দূরছাই করেছে তাদের যেন বিবেকে বাঁধে।’

‘পারব আমি?’

‘কেনো পারবি না? পুরো জীবন তো দুঃখে-অবহেলায় যায় না।’

‘তোমার জীবনের অনেকগুলো বছর দুঃখ আর অবহেলাতেই তো গেছে। কিছুই পাওনি।’

হেমলতা তাৎক্ষণিক পালটা জবাব দিতে পারলেন না। তিনি দুঃখকষ্ট- অবহেলা-অপমান আর একাকীত্ব ছাড়া জীবনে কী পেয়েছেন? উত্তরটাও চট করে পেয়ে গেলেন।

পদ্মজাকে বললেন, ‘তিনটে মেয়ে পেয়েছি। আমার মেয়েরা আমার সফলতা। আমার অহংকার। প্রেমা তো ছোটো। তোরা দুইজন নিজেদের মতো থাকিস, পড়িস; কোনো দুর্নাম নাই। যখন মানুষ বলে—এই যে, এরা হচ্ছে হেমলতার মেয়ে…তখন আমার অনেক কিছু পাওয়া হয়ে যায়। গর্বে বুকটা ভরে উঠে।’

পদ্মজা আশ্বস্ত করে বলল, ‘কখনো ভুল কাজ করব না। তোমার সম্মান আমাদের জন্য একটুও নষ্ট হতে দেব না।’

হেমলতা পদ্মজার ডান হাত নিয়ে তার উলটোপাশে চুমু দিয়ে বললেন, ‘আমি জানি পদ্ম। আমার মেয়েরা কখনো আমার অসম্মান হতে দিবে না।’

নিস্তব্ধতা ভেঙে ভেঙে মাঝে মাঝে পাতার ফাঁকে ফাঁকে পাখ-পাখালির ডানা নাড়ার শব্দ ভেসে আসছে। পদ্মজা চোখ তুলে আকাশের দিকে তাকাল। আকাশে একটা চাঁদ, অগণিত তারা। আকাশকে তারায় পরিপূর্ণ একটি কালো গালিচার মতো লাগছে। হেমলতা বিভ্রম নিয়ে বললেন, ‘গায়ের কালো রংয়ের দোষে সমাজের সঙ্গে আমার সখ্যতা কখনো হয়ে উঠেনি। প্রকৃতির মতিগতি অবস্থা দেখে দেখে আমার সময় কাটত। আব্বা শিক্ষক ছিলেন বলে কালো হয়েও পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছিলাম। অবশ্য আব্বার সামর্থ্যও ছিল। আমাদের সব ভাই-বোনকে পড়িয়েছেন। আম্মা আমাকে পড়ানোতে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। রং কালো, কেউ বিয়ে করবে না। একটু পড়ালেখা থাকলে হয়তো করবে সেই আশায়। যখন আমি তোর বয়সি ছিলাম, তখন বড়ো আপার মেয়ে হয়। মেয়েটার গায়ের রং কালো। শ্বশুর বাড়িতে তুলকালাম কাণ্ড। বংশের সবাই ফরসা। বাচ্চা কেন কালো হলো। আপাকে বের করে দিল! বাড়ি ফিরল আপা, সমাজের কত কটুক্তি হজম করেছে! তখন আমি নামাজের দোয়ায় আকুতি করে চাইতাম একটা সুন্দর মেয়ের। আমার বিয়ে হলে মেয়েটা যেন পরির মতো সুন্দর হয়, আমার মতো অবহেলার পাত্রী যেন না হয়; বড়ো আপার মতো কালো মেয়ে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হতে যেন না হয়। তুই যখন পেটে তখন নফল নামাজ-রোজা বাড়িয়ে দেই। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বাদে সময় পেলেই সেজদায় লুটিয়ে আল্লাহকে একই কথা বলতাম। আমার পরির মতো মেয়ে চাই। দোয়াও কবুল হয়ে গেল। তোর যেদিন জন্ম হয়, সবাই অবাক হয়ে শুধু তাকিয়েই ছিল। আমি তো খুশিতে কেঁদেই দিয়েছিলাম। এত সুন্দর বাচ্চা এই গ্রামে কেন, পুরো দেশেও বোধহয় ছিল না। চোখের পাপড়ি যেন ভ্রুতে এসে ঠেকছিল। ঠোঁট এত লাল ছিল যেন ঠোঁট বেয়ে রক্ত ঝরছে। সদ্য জন্মানো শিশুর মাথা ভরতি ঘন কালো রেশমি চুল। অলন্দপুরের সবার কাছে ছড়িয়ে পড়ে এই কথা। দল বেঁধে দেখতে আসে। এক সপ্তাহ বেশ তোড়জোড় চলে। কী খুশি ছিলাম আমি! সারাক্ষণ তোকে চুমো খেতাম। রাতেও ঘুমাতে ইচ্ছে করত না। মনে হতো, এই বুঝি আমার পরির মতো মেয়ে চুরি হয়ে গেল! তোর আব্বা সারাক্ষণ খুশিতে বাকবাকম করত। বাইরে থেকে এসে গোসল ছাড়া কোলে নিত না। যখন কোলে নিত বার বার আমাকে বলত, ‘ও লতা। ছেড়িড়া মানুষ না শিমুল তুলা।’

হেমলতা থামলেন। তার চোখের তারায় জল ছলছল করছে। পদ্মজা আগ্রহ নিয়ে শুনছিল। সে বলল, তারপর?

‘কেউ বা কারা রটিয়ে দিল তুই তোর বাপের মেয়ে না। যুক্তি দাঁড় করাল: বাপ-মা কালো মেয়ে এত সুন্দর হয় কী করে? গ্রামের প্রায় সব মানুষ অশিক্ষিত, কুসংস্কারে বিশ্বাসী। তাই বিবেচনা ছাড়াই বিশ্বাস করে নিলো।’

হেমলতা থামলেন। পদ্মজার মনে হতে থাকে, হেমলতা কিছু একটা লুকিয়েছেন। শুধু গ্রামের মানুষ বললেই এত বড়ো দাগ লেগে যায় না। অন্য কোনো কারণ আছে, যা যুক্তি হিসেবে শক্ত ছিল। হেমলতা দম নিয়ে বললেন, ‘আমায় একা করে দিয়ে তোর বাপ সরে গেল। সমাজ সরে গেল। আঁতুড়ঘরে তোকে নিয়ে একা পড়ে রইলাম। তোকে দেখলেই মনে হতো, আল্লাহ কোনো মূল্যবান সম্পদ আমাকে দেখে রাখতে দিয়েছেন। তোকে দেখে রাখা আর বড়ো করাটাই জীবনের লক্ষ্য মনে হতে থাকে। নিজেকে শক্ত করে আমি অন্য-আমি হয়ে যাই, খোলসটা পালটে যেতে থাকে; রাত জেগে স্বপ্ন সাজাই। তোর সঙ্গে ফুল কুড়ানোর স্বপ্ন দেখে ফুল গাছ লাগাই। যখন তোর চার বছর হয় বাড়ি ভরে যায় ফুলগাছে। ছোটো শাড়ি পরিয়ে প্রতিদিন মা-মেয়ে মিলে ফুল তুলে মালা গাঁথতাম। নিশুতি রাতে পাকা ছাদে জোছনা পোহানোর স্বপ্ন ছিল। আজ পূরণ হলো। আর দুইটা ইচ্ছে বাকি, সাগর জলে মা-মেয়ে পা ডুবিয়ে পুরো একটা বিকেল কাটাব। আর, শেষ বয়সে নাতি-নাতনিদের নিয়ে তাদের মায়ের জীবনী বলব।’

পদ্মজা দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হেমলতার কোমর। তিনি টের পান পদ্মজা ফোপাচ্ছে।

উৎকণ্ঠা নিয়ে বললেন, ‘পদ্ম… কাঁদছিস কেন?

পদ্মজা বাচ্চাদের মতো কাঁদতে থাকল। কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘আমাকে কখনো একা থাকতে দিয়ো না আম্মা। আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না। তোমার মতো কেউ হয় না।’

‘এজন্য কাঁদতে হয়? আমি সবসময় তোর সঙ্গে আছি। কান্না থামা। কী মেয়ে হয়েছে দেখো! কেমন করে কাঁদছে। পদ্ম, চুপ…আর না…মারব এবার…পদ্ম।’

পদ্মজা থামল। কিন্তু ভেতরের ছটফটানি পীড়া দিচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে জানে না, কিন্তু হচ্ছে; কান্না পাচ্ছে। ভয় হচ্ছে আকাশ ভরা রাতের দিকে তাকিয়ে। একটু আগেই সুন্দর লাগছিল এই আকাশ। আচমকা ভয়ংকর মনে হচ্ছে। মায়ের কোল ছাড়তে ইচ্ছে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে, চারিদিকে অশরীরীদের ভিড়। তাদের কোলাহলে মস্তিষ্ক ফেটে যাচ্ছে। পদ্মজা মায়ের কোলে মুখ লুকাল। মেয়েকে অনেকক্ষণ কথা বলতে না দেখে হেমলতা বললেন, ‘পদ্ম, ঘুমিয়ে পড়েছিস?’

‘না আম্মা।’

হেমলতা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘সেদিন মাঝ রাত্রিরে ছুরি নিয়ে বের হয়েছিলাম। হানিফের ঘরটা আব্বা-আম্মার ঘর থেকে দূরে হওয়াতে সুবিধা ছিল। ঘরের পাশে গিয়ে দেখি, মদনও ঘরে। আমার পক্ষে দুজন পুরুষকে সামলানো সম্ভব না। তাই মদনের চলে যাবার অপেক্ষা করতে থাকি। এরপর আরেকজন লোক আসে। একটু দূরে সরে যাই, গোয়ালঘরের পেছনে। মিনিট কয়েক পর উঁকি দিয়ে দেখি দরজা লাগানো, সাড়াশব্দ নেই। সাবধানে দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে দেখি হানিফ নেই। তখন হয়তো আম্মা দেখেছে। তাই ভাবছে আমি খুন করেছি।’

‘নানু কেন এমন ভাবল? হানিফ মামা তো তোমারই ভাই।’

হেমলতা তাৎক্ষণিক জবাব দিলেন না। সময় নিয়ে একটা গোপন সত্যি বললেন, ‘আমি তোর নানুর ভাইকে খুন করেছি। তাই তিনি আমাকে ঘৃণা করেন, ভয় পান; সন্দেহ করেন।’

হেমলতার কণ্ঠ স্বাভাবিক। পদ্মজা চমকে উঠে বসল। মুখখানা হাঁ অবস্থায় স্থির হয়ে গেল তার, দৃষ্টি গেল থমকে। পদ্মজা যাতে নিজেকে সামলে নিতে পারে সেই সময়টুকু দিতে হেমলতা দূরের আকাশে চোখ রাখেন। পদ্মজা নিজেকে ধাতস্থ করে নিয়ে বলল, ‘তিনি কি হানিফ মামার মতো ছিলেন?’

হেমলতা সম্মতিসূচক মাথা নাড়ালেন। সিঁড়িতে কারো পায়ের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।

হেমলতা সাবধান হয়ে পদ্মজাকে আড়াল করে দাঁড়ান। সেকেন্ড কয়েক পর একটা ছেলের দেখা মিলল, অচেনা মুখ। হেমলতা আগে কখনো দেখেননি। ছেলেটিও তাদের দেখে ভড়কে গেল।
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp