এ্যাজেলিয়ার বৈঠক খানায় তীব্র আলোচনা হচ্ছে। রানি সিংহাসনে বসে প্রত্যেকের মতামত নিচ্ছেন। রাজ্যের কোষাগার, অস্ত্রাগার, সৈন্যসামন্তের খোঁজ নিচ্ছেন গুরুতর ভাবে। যেন যু দ্ধ তিনি কালই শুরু করবেন!
হেমলকও বৈঠকখানায় উপস্থিত। রানির পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। একপাশে হেমলক আরেক পাশে দাঁড়ানো হ্যাব্রো।
মন্ত্রীমহোদয়ের যুদ্ধ নিয়ে কিঞ্চিৎ গড়িমসি দেখা গেলো। সে বলল,
“এমন হটকারিতায় যু দ্ধ ঘোষণা দেওয়া কি ঠিক হবে, রানি?”
“আগে পত্র যাবে আমাদের বণিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। আমার মনে হয় রাজা জহুররাজ ফিরিয়ে দিবেন না। কারণ তিনি চাচ্ছেন আমাকে রণক্ষেত্রে আমন্ত্রণ দিতে। এত বছর ধরে সিংহাসন চালাই আর সামান্য রাজাদের মনস্তত্ত্ব বুঝব না?”
“তার প্ররোচনা বুঝেও আমরা যদি সেই মোতাবেক কাজ করি তবে এটা ফাঁদে পা দেওয়া হবে না?”
“দারুণ যুক্তি। এবং মন্ত্রীমহোদয়, আপনার ধারণা স্বচ্ছ করতে আমি বলছি যে— মূলত আমার তার প্ররোচনায় পড়ছি না, তিনি আমাদের প্ররোচনায় পড়ছেন।”
এবার রাজ সভা কিছুটা হতবিহবল হয়ে গেলো। মন্ত্রী সমেত ভ্রু কুঁচকে ফেলল সকলেই। রানি বিশেষ গা করলেন না। সভায় থাকা গুপ্তচর প্রধানের উদ্দেশ্যে বললেন,
“গুপ্তচর স্নেহশিস, তবে আপনিই বলুন বাকিটুকু। উনারা না-হয় শ্রবণ করুক।”
ডান পাশের তিন নাম্বার আসনটিতে বসা সুঠাম পেশীবহুল শরীর নিয়ে স্নেহশিস দাঁড়াল। লম্বাচওড়া, স্বাস্থ্যসম্মত, সবল পুরুষ। দাঁড়িয়ে প্রথমে সে নত হয়ে রানিকে কুর্নিশ করে বাকিদেরও সম্মান প্রদর্শন করল। কণ্ঠটি চওড়া তার।
“রানি কামিনীকাঞ্চনের আদেশেই রাজা জহুররাজের রাজ্যে আমাদের কিছু গুপ্তচর প্রেরণ করা হয়েছিলো বেশ অনেকদিন আগেই। এবং জহুররাজ আমাদের রাজ্যে আসার আগেই আমরা সংবাদ পেয়েছিলাম যে তিনি আমাদের রাজ্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। বিভিন্ন রাজ্যের রাজাদের সাথে তিনি বৈঠকে বারংবারই রানির প্রসঙ্গ তুলেছেন। বিভিন্ন রাজাদের অন্তরে নারীতান্ত্রিক ক্ষমতা নিয়ে কটুক্তি করে বিদ্বেষ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন এবং সবাইকেই রানির বিরুদ্ধে উদ্ভুদ্ধ করারও চেষ্টা করেছেন। প্রসঙ্গতই উনি উনার যেই ভগ্নিপতিকে খুঁজছেন তিনি তার রাজ্যেই রয়েছে। তবুও তিনি রানিকে রণক্ষেত্রে আহ্বান করার জন্য বহুদিন ধরেই এই শলাপরামর্শ জারি রেখেছেন। এবং রানি সেই সংবাদ জানার পর থেকেই তৈরি ছিলেন তাকে আক্রমণের জন্য। এবং তিনিই বাণিজ্য অঞ্চল সম্বন্ধে প্রশংসা আরও বেশি করে ছড়াতে লাগলেন যেন রাজা জহুররাজ একটি মাধ্যম পান রানিকে আক্রমণ করার। কিন্তু মূলত তিনি নিজেই নিজের ষড়যন্ত্রে এবার ফাঁসবেন।”
রাজ সভায় উপস্থিত প্রতিটি মানুষ নির্বাক হয়ে গেলো। স্নেহাশিসের কথাগুলো গিললো ড্যাবড্যাব চোখ করে। এই প্রসঙ্গে যেহেতু কখনোই রাজসভায় আলোচনা হয়নি তাই সবার অগোচরেই ছিলো এত তথ্য।
মন্ত্রীমহোদয় তাজ্জব বনে বলল, “আপনি কীভাবে বুঝতে পেরেছিলেন রাজা জহুররাজ কিছু একটা করবেন!”
“উনার ভগ্নিপতি আমার কারাগারে বন্দী ছিলো। তাকে যামিনী ছাড়িয়ে দিয়েছিল। তাই আমি নিশ্চিত ছিলাম ঐ পুরুষ পালিয়ে সেখানেই আশ্রয় নিবেন। এবং সেখানেই কোনো ছক কষবেন। সেটারই পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হলো আমায়। শত্রুর ঘ্রাণ আমার চেয়ে ভালো কে চিনবে? আমি শত্রুর সাথে ঘর করেছিলাম, সখী বলে বুকে চেপে রেখেছিলাম আর আমিই শত্রু চিনব না?”
মন্ত্রীর মুখ দিয়ে অস্ফুটস্বরে “দুর্দান্ত” শব্দটি বের হয়ে গেলেও সে দমিয়ে নিলো নিজেকে। ইচ্ছেতো করছিলো রানির এত চতুরতার প্রশংসা মন খুলে করার কিন্তু ভয়ে আর তা করতে পারল না।
কোষাধ্যক্ষ নিজের কৌতূহল দমন করতে পারল না। মন্ত্রীর কৌতূহল দমে আসলেও তার ভেতরে একটি প্রশ্ন তখনও উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিলো বলেই সে দাঁড়িয়ে গেলো। কুর্ণিশ করে বলল,
“আপনার বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা আমার সামান্য বুলিতে করা সম্ভব নয়। তবে রানি, জহুররাজ যেহেতু আপনার বিরুদ্ধে বেশ কিছু রাজ্যের রাজাকেও উতলা করিয়েছেন তাহলেতো তাকে সাহায্য করার জন্য অনেক রাজাই পরোক্ষভাবে তার পক্ষে থাকবেন। সেক্ষেত্রে আমাদের বিপরীত পক্ষের শত্রুদের শক্তি বেশি মজবুত হয়ে যাচ্ছে না?”
রানির ঠোঁটে ফুটে উঠল সেই দাম্ভিক, অহংকারী হাসিটি। ঠোঁট বাঁকিয়ে তিনি পায়ের উপর পা তুলে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসলেন। কোষাধ্যক্ষের প্রশ্নটি যে তার মনমতো হয়েছে সেটি তার মুখশ্রী দেখেই বেশি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
তার দাম্ভিক স্বরে প্রতিত্তোর করলেন, “সেটির জন্য আমাদের রাজ নর্তকী রূপসী বাঈ আছেন তো!”
“মানে?”
“জহুররাজ যে গুটিকয়েক রাজাদের সাথে আলাপ সেরেছেন সেই সকল রাজাদের রাজ্যে আমার পক্ষ থেকে উপহার গিয়েছে। রানি কামিনীকাঞ্চন তাদেরকে জগৎ-বিখ্যাত কিছু অতি সুন্দরী, মনোরঞ্জনকারী নর্তকী পাঠিয়েছেন উপহারস্বরূপ। এটা কত বড়ো বিষয় ভাবতে পারছেন, কোষাধ্যক্ষ ধৃষ্ট? রানি কামিনীকাঞ্চন তাদের কথা ভেবেছেন। যেই রানির একটু সান্নিধ্য তাদের সাতপুরুষের কল্পনা সেই রানি এ কাজ করেছেন। এরপর তারা আমার বিপরীতে যুদ্ধে দাঁড়াবেন কোন মুখে? পুরুষ আর যা-ই পারুক, সুন্দরী নারীকে কষ্ট দিতে পারে না। তার উপর উপহারের কৃতজ্ঞতাও অস্বীকার করার জো নেই। তাই ভেবে নিন, যুদ্ধের আগেই ওরা সমর্পণ করে নিয়েছে। রাজা জহুররাজ যেই অস্ত্রে আমায় মাত দিবেন ভেবেছেন সেই অস্ত্রে ধার দেওয়া হচ্ছে তারই জন্য। দুঃখজনক বিষয়টি তাই না বলুন?”
কথা শেষ করে সশব্দে হেসে উঠলেন রানি। সভা জুড়ে জয় জয়কার পড়ল। হাততালির ধ্বনি ও প্রশংসায় মুখরিত হয়ে উঠল সভা। যুদ্ধে না-কি কৌশলে জিততে হয় কিন্তু রানি যে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগেই জিতে বসে আছেন। এ কী চতুরতা তার! এ কী বুদ্ধি ও ক্ষমতা! কেমন অদ্ভুত ক্ষমতা রানির রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্রষ্টা দিয়ে রেখেছেন।
হেমলক পুরোটা সময় তাকিয়ে রইল রানিরই দিকে। রানিকে জানার শেষ আর হচ্ছে না। এ কেমন নারী সে দেখছে। এমন নারী পৃথিবীতে আর একটিও আছে কি-না সন্দেহ। বুদ্ধি এতটা প্রখর এই নারীর! ভেতর থেকেই যেন এক বুক বিস্ময় আর গর্বে ধরছে না তার।
—————
রানি নিজের কেদারায় বসে দুলছেন। কিছু একটা অনবরত ঘুরছে তার মস্তিষ্কে। খেলায় গুটি সাজাচ্ছেন অনবরত, একের পর এক গুটি। তার আগামী পরিকল্পনাগুলো একেকটি একেকটির চেয়ে তুখোর।
কপাটে তখন মৃদু শব্দ হলো। রানি ভাবলেন হ্যাব্রো এসেছে। তাই তিনি নির্দ্বিধায় বললেন,
“হ্যাব্রো, আসো।”
গুটি গুটি পায়ে একজন এলো। পেছন থেকে একটি পত্র এগিয়ে দিলো রানির দিকে। রানি পেছনে না ফিরেই পত্রটি হাতে নিলেন। পত্রটি খুলে চোখ বুলিয়ে প্রশ্ন করলেন, “মন্ত্রী ত্রিপাদ কুমারের পত্র? কখন এলো!”
“তোমার সেনাপতিতো মাত্রই দিতে আসছিলো তাহলে হয়ত এখনই এসেছে।” হেমলকের কণ্ঠ পেতেই রানি চমকে গেলেন কিছুটা। তবে সেটি নিজের ভেতরেই চেপে নিলেন আলগোছে। ঘাড় ঘুরিয়ে একবার হেমলকের মুখের দিকে তাকিয়ে পত্রটি রেখে দিলেন নিজের সামনে থাকা পাত্রটিতে।
“ওর কর্ম আপনি করছেন কেন? এটি ওর দিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো।”
“আমি আসছিলাম দেখলাম উনিও আসছেন। আমিই তাকে আশ্বস্ত করলাম যে এই ক্ষুদ্র কাজটি আমি করে দিতে পারব। উনি অন্য কাজে ফিরুক।”
“আজকাল হ্যাব্রো ভীষণ কাজে ফাঁকি দিচ্ছে। ওকে আমি নির্দেশ দেওয়ার পরও এই পত্র কীভাবে অন্য হাতে পড়ল সেটাই তো ভেবে হয়রান হচ্ছি। কী আশ্চর্য!”
“তুমি আমায় বিশ্বাস করতে পারো না সেটা হয়ত উনি বুঝেননি। বুঝল নিশ্চয় দিতেন না। তাছাড়া হ্যাব্রো তোমার প্রতি ভীষণ অনুগত্য। অনুরোধ করব, তাকে কখনো লোক সমাগমে উচ্চবাচ্য করো না। তার মতো তোমার আপন কেউ নেই।”
"হ্যাব্রো অভ্যস্ত আমার আচরণে। তাছাড়া কেউ যদি ভুল করে সেটা ভুলই। আমার আপনলোক করুক বা পর, সবার ক্ষেত্রে আমার বিধান এক। নীতি ও নৈতিকতায় আমার সমকক্ষ কেউ নয়। আমার কাছে হ্যাব্রো জন্য যে বিধান, সামান্য প্রজার জন্য একই।"
"আর আমার জন্য? আমায় যে অবিশ্বাস করেই কাটিয়ে দিচ্ছো সেটি?"
রানি কথা বাড়ালেন না আর। উত্তরও দিলেন না। হেমলক এবার আবেগের দুর্যোগ শুরু করে দিতে পারে। রানি তাকে বিশ্বাস করে না এই কথাটি একেবারে সত্যি নয়। তবে রানি পৃথিবীতে পুনরায় বিশ্বাস করে ঠকতে চান না।
“তুমিতো এখন যু দ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছ। তাহলে নিশ্চয় কিছুদিনের ভেতর আর ক্যামিলাস যাওয়া হচ্ছে না তোমার, তাই তো?”
“যাবো না কেন? অবশ্যই যাব। বরং কালই যাচ্ছি।”
“কালই? এ্যাজেলিয়াতে তো এখন তোমার প্রয়োজন বেশি।”
“তারচে বেশি বোধহয় ক্যামিলাসে। আমি সব সামলে নিতে পারি। ভাববেন না।”
“তুমি সব সামলে নিতে জানো তা আজ বৈঠকখানাতেই স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে। সেই নিয়ে আমার সন্দেহ নেই। আমার সন্দেহ ঠিক অন্য স্থানে।”
রানি ভ্রু কুঁচকালেন, “কী নিয়ে সন্দেহ?”
“এই যে যামিনীর পিতার প্রতি তোমার এত ক্ষোভই বা কীসের কিংবা তিনি তোমার প্রতি এত ক্ষিপ্ত ছিলেনই বা কেন। যামিনীর গোটা পরিবার ও রাজ্যকেও ধূলিসাৎ করে দিয়েছিলে। কিন্তু কেন দিয়েছিলে তা আর জানা হলো না। কী ছিলো তার অপরাধ?”
রানি শান্ত মেজাজেই তাকিয়ে রইলেন হেমলকের দিকে। হেমলকের কৌতূহল ভরা মুখশ্রী, জানার আগ্রহে পূর্ণ হওয়া চোখ কিছুই অদেখা রইল না তার। পুরনো সেসব বিষয় নিয়ে রানির কথা বলতে ইচ্ছে করে না। আগ্রহ হয় না ঠিক। নিজের অসহ্যকর সেসব স্মৃতি তিনি ভুলে থাকতে চান। তবুও হেমলকের কৌতূহল কিছুটা দমন করতে বললেন,
“আমার সঙ্গে যিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ছিলেন তার তাতশ্রী ছিলেন চড়ক রাজ্যের রাজা রামকৃষ্ণ। এবং তিনিই কুবুদ্ধি দিতেন। তিনিই আমাকে মা রার জন্য সমস্ত কুমন্ত্রণা দিতেন। আমার অত্যাচারে তার অবদান কম কিছু নয়।”
“তাতশ্রী ছিলেন! তাহলে তার কন্যা যামিনীকে তুমি চিনতে পারোনি কেন?”
“কারণ আমি কখনো তাদের রাজ্যে যাইনি। যামিনী তখন গুরু দীক্ষা নিতে কোনো এক আশ্রমে ছিলো শুনেছিলাম। ওর নাম তো যামিনীও ছিলো না। তাছাড়া ওকে কখনো দেখিনি। যদিও ওর পিতার রাজ্য দখলের পর সেই রাজ্যের ভার নিয়েছিলেন আমার সহযোগী রাজা আমি আপসেই দিয়ে ছিলাম। আমার লক্ষ্য ছিলো ওদের ধ্বংস করা। আমি যামিনীর খোঁজে আশ্রমেও গিয়ে ছিলাম কিন্তু ততদিনে ও সেখান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলো। ও সবসময় আমাকে দোষী মেনে এসেছিলো। ওর ভুল ভাঙানো হয়নি। ওকে জানানো হয়নি আমার পিঠে যেই আগুনের পুড়ে যাওয়া দাগ তা ওর পিতা শখবশত করেছিলেন। শখ! হাহ্…”
রানি তপ্ত শ্বাস ফেললেন। অতীতের স্মৃতিগুলো তার কাছে ঘৃণার মতো। ঘৃণা লাগে রন্ধ্রে রন্ধ্রে। নিজের শরীরকে তখন অপবিত্র লাগে। হেমলক তাই প্রসঙ্গ পাল্টাতে চাইল।
“তাহলে আগামীকালই কি ক্যামিলাস ফিরছ?”
রানি বড়ো বড়ো শ্বাস ফেলেন। মাথা নাড়িয়ে কেবল হ্যাঁ বুঝিয়েই চোখ বন্ধ করে ফেললেন। মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে তার যন্ত্রণায়। রাগে-দুঃখে গা গরম হয়ে যাচ্ছে চক্রবৃদ্ধি হারে।
রানি ভেবেছিলেন হেমলক চলে যাবে কিন্তু হেমলক গেলো না। ধীরে রানির কাছে এসে আলতো হাতে ছুঁলো রানির কপাল। ধীরে ধীরে, পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। তার হাতের ছোঁয়ায় আরাম বোধ হলেও রানি একবার বললেন,
“চলে যান। আমার এসব প্রয়োজন নেই।”
“আমার প্রয়োজন আছে। আমি তোমায় এমন যন্ত্রণায় ভরা মুখে দেখতে পারি না। সাধ্য থাকলে আমি তোমার সকল যন্ত্রণা দূর করে দিতাম।”
“সকল যন্ত্রণা?”
“হ্যাঁ, সকল।”
রানি আর কথা বললেন না। বলতে পারলেন না। তার খুব বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো তার ভেতরে হওয়া অনুশোচনার যন্ত্রণা কি দূর করতে পারবে হেমলক? রানির মাতার করা সকল কৃতকর্মের যন্ত্রণাও কি দূর করে দিতে পারবে লোকটা? রাজমাতার করা সেই প্রজন্মের অভিশাপের যন্ত্রণা মুছে দিতে পারবে?
না, না, না। পারবে না। হেমলক এগুলো কখনোই দূর করতে পারবে না। তাই বলে কি রানি প্রজন্মের অভিশাপ বয়ে নিয়ে যাবেন? তার মতোই তীব্র একাকীত্ব, লজ্জা ও দুঃখে কাটাবে তার আগামী প্রজন্ম? না, রানি এই নরকময় জীবন আর কাউকেই দিয়ে যেতে পারবেন না যে। তিনি তাই অভিশাপ মুছবেন। সেই সকল পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবেন সে সকল পাপ তার মাতা করে গিয়েছিলেন। সাথে তার মাতাকেও ক্যামিলাসের প্রাসাদ থেকে মুক্তি দিবেন। বড্ড কষ্টেই আছে হয়ত সেই আত্মাটি।
·
·
·
চলবে……………………………………………………