নিভৃতে বাঁধিয়ো প্রিয়া - পর্ব ১৫ - লাবিবা ওয়াহিদ - ধারাবাহিক গল্প

নিভৃতে বাঁধিয়ো প্রিয়া
          পুরো দিন সাহিদকে ঘুমের ওপরেই রাখা হলো। আগামীকাল তাকে কেবিনে শিফট করা হবে। বড়ো কাচের মধ্যে দিয়ে শাহেলা পরপর কয়েকবার দেখেছেন ছেলেকে। ওনার চোখের জল থামছেই না। ডাক্তার আপাতত কাউকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেননি। যেহেতু সাহিদ আহত বেশি, তার ব্যথা নিরাময়ের জন্য ঘুমটাই বেশি প্রয়োজন। 

ইসমাত আজও বাড়ি যায়নি। ইফরা ইসমাতের আলমারিতে হাতের কাছে তার একটা মেরুন রঙের স্যুট পেয়েছিল সেটাই নিয়ে এসেছে। ওটা কত জোর-জবরদস্তি করে ফ্রেশ করে পরিয়ে দেয় তাকে। নয়তো ইসমাত সাহিদের আইসিইউর সামনে থেকে এক পাও নড়ছে না। তার বারবার মনে হয় সে সরে গেলেই সাহিদ জেগে উঠবে, অস্থির হয়ে পড়বে। সে না থাকলে কে সামলাবে সাহিদকে? 

ইফরা বারোটা অবধি বোনের কাছে থেকে চলে যায়। তার আগামীকাল একটা ব্র‍্যান্ডের সাথে শুট আছে। সেটার জন্য ইসমাতই তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। আজ রাতে রমযান সাহেব, আকিব, সে ছাড়া আর কেউ নেই হাসপাতালে। সবাইকে ঠেলেঠুলে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। আর কত হাসপাতালে থাকবে, ইসমাত তো আছেই। বাকিরা রাতটা বিশ্রাম নিয়ে আগামীকাল আসবে নাহয়।

ওদের সাথে আরও দুইজন বডিগার্ড আছে। তাদের মধ্যে একজন উৎসব। বসের কথামতো সে ইসমাতের ঢাল হয়ে আছে। আকিব অন্যদিকে গিয়েছে, তার সিগারেটের খুব দরকার। রুশান আর সে এখনো আধ ম রার মতোই রয়ে গেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কেই-বা ভালো থাকে? এক বন্ধুকে ক ব রে নামিয়ে এলো সকালে আরেকজন এখনো আইসিইউতে। ভালো থাকার সংজ্ঞাটাও ওরা ভুলে গেছে। চোখের সামনে ভেসে উঠে নানান স্মৃতি। মিনমিন করে কিছু আওড়ায় সে, হাসে। শেষবার ওরা যখন মাওয়া গেল, কি দারুণ ছিল সবকিছু। আকিব সিগারেট টেনে আপনমনেই হাসল। তার চোখ ঝাপসা হয়ে এসেছে। মানুষ চলে যায় অথচ কতশত স্মৃতি রেখে যায়। এখনো মনে হয় সবকিছু কত জীবন্ত। 

দূর্ঘটনায় সাব্বির হেলমেট পরা ছিল না। সাহিদ পরা ছিল বলেই রক্ষা, ভয়াবহ কোনো বিপদ হয়নি।

রমযান সাহেব একটু গেছেন মোবাইল নিয়ে আলাদা কোথাও। খুব সম্ভবত জরুরি কল এসেছে। যাওয়ার আগে দুই বডিগার্ডকে বলে গেল যেন ম্যাডামের খেয়াল রাখে। এখনো বিরতিহীন ইসমাতের মাথার কাছেই দাঁড়ানো উৎসব। ও সবসময় ইসমাতের আশেপাশেই থাকছে। তার বর্তমান বসের অবর্তমানে লেডি বসকে সুরক্ষা দেওয়াই তার কর্ম। 

ইসমাত করিডোরে একাকী বসে আছে। নজর তার কোলে। একমনে ভেবে যাচ্ছে তাদের বিয়ের মুহূর্ত।

—————

 সেদিন ছিল বৃষ্টির রাত। অফিস থেকে বের হতেই হঠাৎ তার দাদী কল করে জানাল যে, তার বসের স্ত্রী হার্ট অ্যাটাক করেছেন। সে যেন দ্রুত নির্ধারিত হাসপাতালে পৌঁছায়। তাদের আগে থেকে চেনাজানা ছিল বিধায় মমতাজ বেগম প্রায়ই তাদের বাড়ি আসা যাওয়া করতেন। ইসমাতও মাঝে মাঝে শাহেলার ডাকে সাড়া দিয়ে যেত সে বাড়ি। কিন্তু কখনো সেভাবে সাহিদকে দেখেনি সে।

সেদিন সে বৃষ্টির মধ্যেই সিএনজি ভাড়া করে হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। এসে দেখে দুই পরিবারের সবাই উপস্থিত। খুব কাছ থেকে সেদিন সাহিদকেও দেখেছিল সে। কাছ থেকে দেখেই বুঝতে পেরেছিল খুবই নাক উঁচু আর বেয়াদব স্বভাবের ছেলেটা। এছাড়াও তার বেয়াদবির গল্প কম শোনেনি দাদীর কাছে। 

 ইসমাত যেতেই মাহফুজ সাহেব গম্ভীর গলায় রমযান সাহেবকে বলেছিলেন,
--"কাজী ডেকে আনো!"

ইসমাত হতবাক হয়। সন্দিহান চোখে তাকায় মমতাজ বেগমের দিকে। মমতাজ বেগম তখন তাকে কেবিনের ভেতর, শাহেলার কাছে নিয়ে যায়।গিয়ে দেখল শাহেলার জ্ঞান আছে, এখানে এসে শুনেছিল দুপুরে নাকি হার্ট এট্যাক হয়েছিল। সম্ভবত দাদী কল দেওয়ার আগেই জ্ঞান ফিরেছে। শাহেলা তখন প্রাণ ভরে ইসমাতকে দেখেছিল। বারবার কেমন ঝাপসা হয়ে এসেছিল তার চোখ। কাছে ডেকেছিল ইসমাতকে। সে বাধ্য মেয়ের মতো এগিয়ে যায়, শাহেলা কম্পিত হাতে ইসমাতের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। সময় নিয়ে খুবই ধীর গলায় বলেন,
--"আমার বোধ হয় বেশিদিন নেই।"

ইসমাত প্রতিবাদ করেছিল,
--"ছি আন্টি, এসব বলতে নেই।"
--"সত্যি বলছি রে মা। মনে হয় এই বুঝি জান কবজ হয়ে যাবে।"

এসব শুনতে ভালো লাগছিল না ইসমাতের। তার বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিল নিজের বাবা-মায়ের কথা। ঠিক তখনই ইসমাতের আবেগের ফায়দা তুলে সাহিদের সাথে ইসমাতের বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসলেন। এতে দাদী আগে থেকেই রাজি, শুধু ইসমাতকে মানানো জরুরি। ইসমাত অবাক হয়ে যায়। সে মুখের ওপর না করে দিয়েছিল। কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হয়, ভদ্রমহিলা আরও অসুস্থ হয়ে যান। ডাক্তারের সে কি পেরাশানি! শুধু যে ইসমাতই বিয়েতে রাজি ছিল না, একই অবস্থা ছিল সাহিদের। তাকে আরও কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই মানানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। ডাক্তার জানান সার্জারি জরুরি, কিন্তু শাহেলা রাজি হননি। ওনার এক কথা, আমি ম রে গেলে আমার ছেলেকে কে দেখবে? ছেলের দুশ্চিন্তায় নিজেকে হাসপাতালে এনেছেন, এই দুশ্চিন্তা নিয়ে ম রে গেলেই বুঝি ভালো হবে? দাদীও নানান ভাবে ইসমাতকে চাপের মাঝে রাখে। ইসমাত কিছুতেই রাজি হয় না এই এইজ গ্যাপের বিয়েতে। এই ধরণের বিয়েগুলো খুবই কমপ্লিকেটেড হয়ে থাকে। তার উপর সাহিদ তো চরম বেয়াদব। হাত ছাড়া হয়ে গিয়েছে বাবা-মায়ের থেকেই, বিয়ে করলে তা ফিরে আসবে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। কিন্তু কেই-বা তখন তার যুক্তি শোনার অবস্থায় ছিল? শাহেলা বারবার বলেই যাচ্ছিলেন,
--"আমার ছেলের জন্য ইসমাতের চেয়ে ভালো কেউ নেই। ওকেই আমার বউমা চাই। বয়স দিয়ে কি হবে? দায়িত্ববোধ, বোঝাপড়াই মূল।"

সময়ের সাথে সাথে শাহেলার অবস্থা সোচনীয় হচ্ছিল। কাজীও বসে ছিল বিয়ে পড়ানোর অপেক্ষায়। এরপর ঠিক রাত দেড়টা নাগাদ বিয়ে পড়ানো হয়। তীব্র অনিচ্ছা এবং বিতৃষ্ণা নিয়েই দুজন বিয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। ইসমাত ছিল সাধারণ সেলোয়ার-কামিজ পরিহিত। কোত্থেকে যেন লাল টুকটুকে দোপাট্টার ব্যবস্থা করেছিল, সেটাই ছিল মাথায়— বিয়ের সময়ে।

সাহিদের মতো বেয়াদবও সেদিন মায়ের এই হাল দেখতে পারেনি। বিয়েই তো? বিয়ে করলে যদি তার মা বেঁচে যায় তবে তাই হোক। এ আর এমন কি? কিন্তু বিয়ের পর যখন চারপাশ থেকে দায়িত্ব, কর্তব্য, এটা সেটা তার গলা টিপে ধরল, তখনই টের পেল বিয়ে জিনিসটা এত সহজ নয়। ইসমাতের জন্যও হয়েছে একই। 

—————

ভাবনার মাঝেই ইসমাত উঠে দাঁড়াল। কেবিনের বড়ো কাচটার কাছাকাছি ছিল। এই কাচটা সন্ধ্যা অবধিও পর্দায় ছিল, কিন্তু মাহফুজ সাহেবের বিশেষ অনুরোধে পর্দাটা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখান থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সাহিদকে। সে খুব ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস ফেলে গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। ইসমাত কম্পিত হাতে কাচে হাত রাখল। নির্লিপ্ত চেয়ে রইলো সাহিদের দূর্বল মুখটায়। এখনো অক্সিজেন মাস্ক লাগানো তার। ছেলেটা কি সুন্দর ঘুমোচ্ছে। এমন করে তার বন্ধুটাও যে চিরদিনের মতো ঘুমিয়ে গেছে। তা জানলে কি সে ঘুমাতে পারত? 

কাচে হাত বুলাল ইসমাত। চোখ ঝাপসা হচ্ছে তার। বিয়ের দিনের কথা বারবার মনে পড়ছে তার। সেদিনের তীব্র বিতৃষ্ণা আজ অনুভব করতে পারছে না। সেদিনের বিরক্তিকর ছেলেটার জন্যই আজ তার মন পুড়ছে, বুক জ্বালা করছে। ছেলেটার নাক উঁচু করা, রাগ দেখানো, কথায় কথায় তাকে বিরক্ত করা সবই চোখে ভাসছে। ইগোতে ভরপুর ছেলেটার এই অসহায় রূপ কিছুতেই সহ্য করা যায় না। 

ইসমাত সাহিদের দিকে তাকিয়ে আপনমনে আওড়ায়,
--"কে ভেবেছিল, আমি একদিন বোকার মতো তোমাকে খুঁজব?"

খুবই অবাক বিষয়, যেই মানুষটা সাহিদের নাম শুনতে পারত না, সে আজ কয়েক রাত যাবৎ সাহিদের জন্যই হাসপাতালে পড়ে আছে। নিজের খেয়াল রাখা তো দূর, নাওয়া-খাওয়া, ঘুম সবই ভুলতে বসেছে। কিসের টান এটা? এই টান তো আগে কখনো এত জোরালো করে অনুভব করেনি। এই টান দায়িত্বের নয়, এক বুক পোড়া অনুভবের। 

--"ফিরে আসো সাহিদ। আমি তোমার সব বিরক্তি মেনে নিতে প্রস্তুত, শুধু তুমি হারিয়ে যেয়ো না। আই বেগ ইউ।"

—————

ফজরের পরপর সাহিদের ঘুম ভাঙে। সে ভারী চোখ-জোড়া খুবই সময় নিয়ে খোলে। চোখ খুলেই সে কতক্ষণ আপনমনে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে, হাতের আঙুল গুলো বাদে শরীর নড়াচড়ায় বেশ কষ্ট হচ্ছে তার। খোলা জানালা দিয়ে তখন আলোর কিছুটা উৎস দেখা যাচ্ছে। ধীরে ধীরে আলো ফুটছে ধরনীর বুকে। এই কেবিনে বেশি কিছু নেই। 

সাহিদ কোনো রকমে মাথাটা ফিরিয়ে একপাশে তাকাল, বোধ হয় কাউকে খুঁজতেই। সে দেখল পশ্চিম দিকে মুখ করে একজন জায়নামাজে বসা, মোনাজাত ধরেছে। সাহিদ স্থির চোখে চেয়েই রইল। মোনাজাত শেষ করে মুহূর্তেই পিছে ফিরে তাকাল ইসমাত। সে চমকে যায় সাহিদকে জাগতে দেখে। মুহূর্তেই দুজনের চোখাচোখি হলো।

 ইসমাত জায়নামাজ সরিয়ে সোজা ছুটে আসে সাহিদের কাছে। আয়নায় সাহিদকে জাগতে দেখে আকিব ছুটেছে তখন ডাক্তারকে ডাকতে। ইসমাত সাহিদের হাত চেপে ধরে ব্যস্ত গলায় বলল,
--"সাহিদ, আ-আর ইউ ওকে? এখন কেমন লাগছে তোমার?"

সাহিদ অক্সিজেন মাস্কটা খুলতে চাইল। কিন্তু ইসমাত বাঁধা দিল। সাহিদ মিনমিন করে কয়েকটা শব্দ বলল,
--"সাব্বির? ইজ হি.. অল-রা.. রাইট?"

ইসমাতের মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সাহিদ বারবার সাব্বিরের কথাই বলছে। ডাক্তার এলো, কেউই তার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারল না। তাকে চেকআপ করে আবারও ঘুমের ইঞ্জেক শন দিতে হলো। সাহিদ ক্রমে ক্রমে হাইপার হয়ে যাচ্ছিল, যা তার এই শরীরে বেশ ক্ষতিকর।

—————

পরেরবার ঘুম ভাঙল তার কেবিনে। তখন দুপুর সাড়ে বারোটা বাজছে। এবার তার মুখে মাস্ক নেই, সাধারণ কেবিনে তাকে দেওয়া হয়েছে। ইসমাত সবেই ঢুকেছে খাবার নিয়ে। এসেই ভূত দেখার মতো চমকে গেল। সাহিদ ওঠার চেষ্টা করছে। হাতের ক্যানোলা গুলো খুলে ফেলারও তাড়া করছে। ইসমাত দ্রুত ছুটল সাহিদের কাছে। সাহিদ বাঁধা মানতে চাইল না। দূর্বল গলায় বলল,
--"বিরক্ত করবেন না, ইসমাত। আমি জানি আপনারা আমার থেকে কিছু লুকাচ্ছেন। আমাকে যেতে দিন, আমাকে বন্দী করে রাখবেন না।!

--"সাহিদ৷ এসব কোরো না। শুয়ে থাকো তুমি। তুমি বসা হাঁটার অবস্থায় নেই। ফর গড সেক।"

সাহিদ ইসমাতের কথা কথা শুনতে চাইল না। সে না পেরে এবার জোরে ধমক দিয়ে বসল। সাহিদের পাগ লামো থেমে গেল। মূর্তির মতো বসে রইল, ঘাড়ে একটা পট্টির মতো কি যেন, ঘাড়ের নড়াচড়া বেশ কঠিন। ইসমাত ছলছল চোখ নিয়ে সাহিদকে বসতে সাহায্য করল। সে শক্ত থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। মুহূর্তেই সাহিদ হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠল সে। কেমন বাচ্চাদের মতো কাঁদছে সে। বারবার ইসমাতকে জিজ্ঞেস করছে,
--"ইসমাত, প্লিজ বলুন সাব্বির কোথায়? ও.. আমি ওকে দেখতে চাই। ও ঠিক আছে কিনা বলুন না।"

ইসমাতের গলা দিয়ে বের হলো না যে, "সাব্বির আর নেই। তাকে আর কখনো তুমি দেখতে পারবে না।"

নাহ, ইসমাত এরকম পাষাণ হতে পারল না। তার নীরবতাই যেন সাহিদকে কঠিন সত্যটা বলে দিল। তার কান্নার গতি আরও বাড়ল। এই প্রথম, প্রথমবারের মতো সাহিদ বাচ্চাদের মতো উম্মাদ হয়ে কাঁদছে। ইসমাত জড়তা ভুলে সাহিদের মাথাটা নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে ফেলল। সাহিদের কান্নার শব্দ কিছুটা চেপে গেল ইসমাতের বুকে। সাহিদ কম্পিত হাতে ইসমাতকে আঁকড়ে ধরল। কান্নার বেগ যেন বাড়ছেই। ইসমাত পারল না ওকে বলতে, যেন কান্না থামায়। তাদের বিয়েতে ভালোবাসা না থাকুক, একে অপরকে সঙ্গ দেওয়ার মতো অধিকার তো আছেই। ইসমাতের চোখের অশ্রু পড়ছে সাহিদের এলোমেলো চুলের ভাজে। সাহিদ বারবার সাব্বিরকে পাগলের মতো চাইছে, সে তার বন্ধুকে চায়।
--"আমাকে সাব্বির ছাড়া কেউ জানে না, বোঝে না ইসমাত। আমাকে বাঁচাতে ও ট্রাকের মুখে পড়েছিল। আমার জন্য, আমার জন্য.. আমি ম রে যাব, ইসমাত। আমি ওকে হারানোর ব্যথা মেনে নিতে পারছি না। ওর জায়গায় আমি কেন হলাম না? ওর কেন.. আমি তো চাইনি, আমি.."

কান্নায় সাহিদের কথা জিভে জড়িয়ে যাচ্ছে। সে অনেক কিছুই বলছে, যার বেশিরভাগ অস্পষ্ট। সাহিদকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ইসমাত। মিনমিন করে বলল,
--"ইট ওয়াজ নট ইওর ফল্ট, নট ইওরস। তুমিও একই পরিস্থিতিতে ছিলে, দুজনেই ভিক্টিম। সাহিদ, প্লিজ বি স্ট্রং। আমার জন্য?"

—————

যখন সাহিদকে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছিল না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সবাই মিলিতভাবে তাকে সামলানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিল তখনই আরেক দুঃসংবাদ আসে। রাত তখন সাড়ে নয়টা।সাব্বিরের মা সেদিন যে স্ট্রোক করেছিলেন। তিনিও কিছুক্ষণ আগে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ছেলে হারানোর শোক ভদ্রমহিলা দুইদিনের বেশি নিতে পারেননি। এই দুইদিন তিনি বিছানায় পড়ে ছিলেন। তিনি মা-হীন করে গেলেন ওনার আরও দুই সন্তানকে। 
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp