শোয়েব আড়চোখে শাওলিনের দিকে তাকায়। লজ্জা, সংকোচ, রাগে থমথম করছে মুখ। চিন্তা করেনি খাবার টেবিলে বসে এমন মিথ্যা শোয়েব বলবে। কিন্তু শোয়েব নিরুপায়। এই মুহুর্তে বাইরে যেতে দেয়া অনিরাপত্তার বিষয়। সে গম্ভীর মেজাজে ঘোষণার স্বরে বলল,
- চাঁদের গাড়ি পাঠাতে বলছি। সবাই দশটার ভেতর নিচে থাকবে।
এ কথায় খাবার টেবিলে সবাই নির্বাক। কারো বুঝতে বাকি নেই শোয়েব চায় না শাওলিন যাক। ফাতিমা মাথা নেড়ে সায় ভঙ্গিতে বললেন,
- ঠিক আছে ফারশাদ। এই যদি হয় তোমার সিদ্ধান্ত, তাহলে বাকিদের জন্য গাড়ি ডেকে দিয়ো। আমি এখানে থাকব। বাইরে যাবার তেমন ইচ্ছে নেই।
চোখদুটো ঘুরল শোয়েবের। দাদীকে একপ্রস্থ দেখে নিয়ে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়াল।
- রাফানকে বলে দিলাম। ঘণ্টাখানেকের ভেতর গাড়ি চলে আসবে।
মাপা কথায় চেয়ার ছেড়ে উঠল শোয়েব। পাশে বসা শাওলিনের দিকে চোখ রেখে বলল,
- একটা ফাইল খুঁজে পাচ্ছি না। আলমারির ড্রয়ারে রেখেছি। ফাইলটা দেখেছ?
শাওলিন নাশতা শেষ করেছে। চা পান বাকি। কাপটা উঠিয়েও টেবিলে রেখে বলল,
- কেমন ফাইল? কী রঙ ছিল?
- ব্লু। ফাইলটা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। আসবে একটু?
- আচ্ছা চলুন। আমার মনে নেই কোন ফাইলের কথা বলছেন।
শাওলিন চেয়ার ছেড়ে পিছু পিছু চলে গেল। দোতলায় পৌঁছে ঘরের চারপাশ দেখতে থাকল। এখনো মনে পড়ছে না কী ফাইল। এখানে আসার পর সামান্য কিছুই গুছিয়ে ছিল। কোথাও নীল ফাইল ছিল বলে মনে পড়ছে না। আলমারি খুলে পা উঁচু করে তাকে তাকে খুঁজছে, শাওলিন উদ্বিগ্ন গলায় প্রশ্নটা করল,
- শেষবার কোথায় রেখেছেন? আমার কিন্তু সত্যি মনে পড়ছে না।
ঘরের এককোণ থেকে জবাবটা এল,
- নিচে চুপ ছিলে কেন?
চমকে হাত থামাল শাওলিন। ভারি গলাটায় প্রচ্ছন্ন রাগের সুর। শাওলিন মাথা ঘুরিয়ে তাকাল।
- কী ব্যাপারে বলছেন?
শোয়েব তীক্ষ্ম চোখে রাগী মেজাজে বলল,
- রেবার ব্যাপারে বলছি। দাদীকে বললেন না কেন তুমি যাচ্ছ না।
স্বচ্ছ জলের মতো বুঝতে পারল শাওলিন। স্থির ভাবে প্রত্যুত্তর করল,
- টেবিলে ওই প্রসঙ্গ ওঠেনি যে আলাপ করব। আপনি জানেন ওখানে ঘুরতে যাওয়ার কথা হচ্ছিল। সেখানে মণির আসা নিয়ে কীভাবে কথা ওঠাব?
শোয়েব পলক ফেলছে না। কিছুক্ষণ একটা কথাও বলল না। কণ্ঠার হাড়টা ঢোকের কারণে নড়তেই হিমকণ্ঠে বলল,
- আমি যে পর্যন্ত নিশ্চিত না হব, রেবার কাছে যাবে না। আমি ঝুঁকি নিব না শাওলিন। এক ভুল বারবার করব না।
শাওলিন ধীরে ধীরে ভ্রুঁ কোঁচকাল। পায়ে পায়ে এগোতে থাকলে সন্দিগ্ধ সুরে বলল,
- আপনি কী ভুলের কথা বলছেন আমি সেটা জানি না। আপনি আমাকে এখনো বলেননি মণির সঙ্গে কী ঝামেলা।
শোয়েব জায়গাতে অটল। চশমায় ঢাকা চোখের ধার ছুরির মতো শাণানো। শাওলিন মুখোমুখি থেমে অকপটে বলল,
- আমাদের বিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে হয়নি। তাই বলে আপনাকে ভুল বুঝিনি। কিন্তু শুরু থেকেই দেখছি আপনি সবাইকে অবিশ্বাসের চোখে দেখছেন।
শোয়েব সংশোধন করে বলল,
- তোমাকে অবিশ্বাস করিনি। কখনো এ কথা বলবে না।
শাওলিন ভেতরে ভেতরে কেঁপে ওঠে। সত্যিটা এতো অকপটে শুনবে ভাবতে পারেনি। শোয়েব এবার নড়ে উঠল। মধ্যবর্তী দূরত্ব সম্পূর্ণ মিটিয়ে শাওলিনের থুতনি ছুঁয়ে ধরল।
- আমার বাংলোয় কোনো মানুষ ঢুকতে পারে না আগেই জানিয়েছি। অনুমতি নেই। তুমি আমার বুকের ভেতর ছিলে যখন এ বাড়িতে এসেছ। এগুলো অবিশ্বাসের নমুনা হতে পারে না শাওলিন।
- তাহলে কীসের নমুনা? কীসের আকর্ষণে আপনি আমাকে তুলে এনেছিলেন?
- তুমি জখমে ছিলে, আহত ছিলে। তোমার মন তোমার শরীরের চেয়েও ক্ষতবীক্ষত ছিল।
- এগুলো প্রশ্নের উত্তর না। আপনি ঘুরিয়ে-প্যাঁচিয়ে প্রসঙ্গ বদলাচ্ছেন।
- খুব ছোটোবেলায় একটা রঙের বাক্স পছন্দ হয়। দাম দুই ডলার আশি সেন্ট। আম্মি কিনে দিল না। দেয়াল, ঘরবাড়ি নষ্ট করে ফেলব। কিন্তু আমার ওই বাক্সটা চাই-ই চাই। কিছুদিন পর স্কুলে আর্ট কম্পিটিশন হয়। প্রথম বিজয়ী হলাম, পুরষ্কারে পেলাম সেই রঙের বাক্সটাই।
পুরো ঘটনা শুনতে শুনতে শাওলিন অবাকের শীর্ষে পৌঁছে যাচ্ছে। ঘটনা শেষ করে শোয়েব মাথা নিচু করল। শাওলিনের সমান উচ্চতায় নিজেকে রেখে আবার বলল,
- ভাগ্য আমার প্রাপ্য কেড়ে নেয় না। দেরিতে হলেও আমাকে ফিরিয়ে দেয়।
নীল তারা দুটো নরম হলো। শাওলিনের চোখ, কপাল, গাল, ঠোঁট সমস্ত কিছু নিরীক্ষণ শেষে জানাল,
- যাদের নিয়ে আমার সংশয় থাকে, তাদের কাছে ঘেঁষতে দিই না। তুমি নিজেই জানো, বিয়ের প্রথম রাত থেকে তুমি আমার কোথায় থাকো।
থুতনি ছেড়ে দেয় শোয়েব। কিছুক্ষণ স্থির তাকিয়ে থাকার পর মাথা সোজা করে। তারপর নিঃশব্দে চলে গেল ঘরের বাইরে। শাওলিন কথাগুলো শুনে নানা ভাবনায় মশগুল হয়ে গেল। মণির সাথে কী হয়েছিল ওকে জানতে হবে। কেন বাড়ির লোক উনাকে স্বাভাবিক ভাবে নেয় না, এর পেছনের কারণগুলো জানতে হবে।
বাড়ির লোকগুলো চাঁদের গাড়ি করে ঝুলন্ত ব্রিজ দেখতে গেছে। বাংলো বাড়িতে আছে শাওলিন, রাবেয়া, মতিন লাল। মোখলেস রাঙামাটি গিয়েছে। রোকেয়া দাদীর সঙ্গে সুনীল দত্তের বাড়িতে আমন্ত্রণে গেছেন। রান্নাঘরের মেঝেতে বসে রাবেয়া মাছ কাটছে। শাওলিন দুপুরের রান্না চড়িয়েছে। এমন সময় বাইরে থেকে মতিন লালের গলা শোনা গেল,
- ভাবীজান? ভাবীজান!
শাওলিন ডাক শুনে আঁচলে হাত মুছে রাবেয়ার দিকে বলল,
- সাবধান, আঙুল কেটো না।
রাবেয়া হেসে বলল,
- কাটতাম না ভাবী।
শাওলিন দৌড়ে ছুটে হলঘর পেরিয়ে সদর গেটের কাছে পৌঁছুল। মতিন লাল গলায় ঝুলানো গামছা দিয়ে ঘামে ভেজা মুখ মুছে বলল,
- ভাবীজান, ভাইজানের চিডি আইছে। বেডায় ভাইজানরে চায়।
- আপনার ভাইজান তো বাড়িতে নেই। রাফান সাহেব গাড়িতে করে নিয়ে গেছে।
- ভাবীজান, বেডারে এহন কী কমু? সরকারি কাগজপত্তর হইলে তো সমুস্যা।
শাওলিন দূরের গেটে অস্পষ্ট কাউকে দেখে কিছু ভাবল। মতিন লালের দিকে দৃকপাত করে বলল,
- চলুন তো মতিন ভাই।
মতিন লাল দুহাতে গামছা খামচে বড়ো বড়ো পা ফেলে হাঁটতে লাগল। শাওলিন পায়ে জুতো গলিয়ে লম্বা আঁচলে পিঠ ঢেকে অগ্রসর হয়। গেটের সশস্ত্র দারোয়ান শাওলিনকে দেখে গেট খুলে দেয়। বাইরে একজন মাঝবয়সি লোক। পিয়নের পোশাক গায়ে। শাওলিন বিনীতভাবে বলল,
- উনি বাড়ি নেই। দশ মিনিট হলো বেরিয়ে গেছেন। চিঠিগুলো দেয়া যাবে?
লোকটা তীক্ষ্ম চোখে শাওলিনকে দেখতে থাকে। ব্যাপারটা নজর এড়ায় না মতিন লালের। মতিন ভ্রুঁ কুঁচকে হুংকার দেয়,
- কী দেখতাছেন আপনে?
লোকটা থতমত খেয়ে যায়। এমন দৃষ্টিতে মতিনের দিকে তাকায়, যেমন করে মানুষ নর্দমার দিকে তাকাতো। তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,
- চাকরদের সঙ্গে কথা বলি না। কর্তা কই? কর্তাকে ডাক্!
লোকটা কপাল কুঁচকে শাওলিনকে শুধাল,
- আপনার পরিচয়? এই বাড়িতে যতবার আসলাম, আপনাকে দেখছি বলে মনে হয় না।
শাওলিন শুরু থেকেই লোকটার চাহনি পছন্দ করেনি। তার উপর উগ্রপন্থী আচরণ ওকে ক্ষুদ্ধ করে দিল। শাওলিন স্পষ্ট গলায় বলল,
- আমি উনার স্ত্রী। বাদবাকি পরিচয় জানতে উনার নম্বরে কল করুন। চিঠিগুলো দেবেন?
লোকটা অবাক চোখে শাওলিনের আপাদমস্তক দেখতে লাগল। লোকটার হাতে কিছু খাম, একটা ক্লিপবোর্ড। খামগুলো হস্তান্তর করলে শাওলিন হাতে পেয়ে বলল,
- সই? ক্লিপবোর্ডটা দিন।
লোকটা ক্লিপবোর্ড এগিয়ে দিলে শাওলিন খসখস করে সই করে দিল। ফেরত দেবার সময় সংক্ষেপে 'ধন্যবাদ' দিয়ে শাওলিন দৃঢ় পায়ে ভেতরে ঢুকল। লোকটা ততক্ষণ পর্যন্ত তাকিয়ে রইল যতক্ষণ পর্যন্ত শাওলিনকে দেখতে পেল। চোখ ঘুরাতে যাবে, উঠোনে মতিন লালের দৃষ্টি। মতিন তীব্র চোখে তাকিয়ে আছে। দুহাতে গামছা প্যাঁচাচ্ছে। দ্রুত জায়গাটা ত্যাগ করল লোকটা। রাস্তার বাঁকে পৌঁছেই পকেট থেকে ফোন বের করল। ওপাশে কল ধরতেই শুধু বলল, ' খবরটা সত্যি। বিয়ে করেছে!'
—————
শাওলিন খামগুলো নিয়ে অফিসে ঘরে ঢুকল। সেখানে টেলিফোন আছে। এ কদিনে যতটুকু জেনেছে, রাফানের বাড়িতেও টেলিফোন আছে। শাওলিন টেলিফোন বুক থেকে নম্বর নিয়ে কল বসালো। যান্ত্রিক শব্দে সংযোগ স্থাপন হলে খট করে উঠল। নির্দয়ের মতো কণ্ঠটা বলল,
- হ্যালো। রাফান সিদ্দিকী স্পিকিং। কে বলছেন?
শাওলিন সালাম দিয়ে বলল,
- আমি শাওলিন বলছিলাম। আপনার স্যার সঙ্গে আছেন?
রাফান একটু হতবাক হয়। বসের বউ কল দিয়েছে? ওর ল্যাণ্ডলাইনে? রাফান ব্যক্তিত্বে ফিরে বলল,
- জ্বী ম্যাম। হোল্ড করুন।
রাফান হোল্ডে রেখে ছোটোবোনের নামে হুংকার ছাড়ল,
- রুদাবা! রুদাবা! স্যারকে ডাক্!
রুদাবা ট্রে ভর্তি খাবার সাজিয়ে যাচ্ছে, রাফানের আত্মা কাঁপানো স্বরে কেঁপে উঠল। নিচু সুরে বলল,
- কলে কে ভাইয়া?
রাফান দাঁত খিঁচিয়ে বলল,
- মার খেতে চাস?
রুদাবা রাফানের রাগ বোঝে। গালে ঠাটিয়ে থাপ্পড় খাওয়ার ইচ্ছে নেই। বসার ঘরে জনাকয়েক লোকজনের ভেতর শোয়েব আলোচনা শুনছে। রুদাবাকে দেখে শোয়েব হাতের ইশারায় আলোচনা থামিয়ে বলল,
- কোনো প্রয়োজন, রুদাবা?
- জ্বি, ভাইয়া। আপনাকে রাফান ভাইয়া ডাকছে। আপনার জন্য একটা কল এসেছে।
শোয়েব কপাল কোঁচকায়,
- কল?
বলতে বলতেই সভা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। নিচতলায় রাফানের ঘরে ঢুকল শোয়েব। রাফান বুকে হাত ভাঁজ করে অপেক্ষা করছিল। শোয়েবকে দেখে ত্রস্তভাবে ফোন দেখিয়ে বলল,
- আপনার মিসেস।
কথাটা বলার সময় রাফান হাসি দিল। ব্যাপারটা ভালো লাগল না শোয়েবের। বিয়ের পর থেকে তার বিশ্বস্ত লোকগুলো বেশ টিটকারি দিচ্ছে। শোয়েব কানে টেলিফোন তুলে ভরাট গলায় বলল,
- ফারশাদ বলছি। বলো,
- আপনার পিয়ন লোকটা অসভ্য। কেমন ছুঁচোর মতো আচরণ।
শোয়েব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ফেলে এসেছে। প্রথমে বুঝতে পারল না শাওলিন কী বলছে। সে বাঁ ভ্রুঁ উঁচু করে জিজ্ঞেস করল,
- কার কথা বলছ শাওলিন? আমি একটু ব্যস্ত আছি। খুলে বলো।
- পিয়ন এসেছিল। লোকটা মতিন ভাইয়ের সাথে বাজে আচরণ করেছে। আপনি অসভ্য লোকটাকে বিদায় করে দিবেন।
শোয়েব সতর্ক হয়ে গেল। কী যেন মনে হতে লাগল তার। শোয়েব উৎকণ্ঠার গলায় বলল,
- শাওলিন, তুমি লোকটার সামনে গিয়েছ?
শাওলিন হঠাৎ এমন গলা শুনে একটু ঘাবড়ে গেল। ঢোক গিলে উদ্বেগ সুরে বলল,
- চিঠিগুলো তো আমি নিয়ে এলাম।
শোয়েব হুংকার গলায় চেঁচাল,
- বাড়িতে দারোয়ান ছিল, মতিন ছিল। তোমার সামনে যেতে হলো কেন?
শাওলিন অপ্রত্যাশিত গর্জনে চমকে উঠেছে। অস্বস্তিতে বলতে লাগল,
- লোকটা চিঠিগুলো কারো হাতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে নিতে গিয়েছি।
- রাখছি। বাড়ি এসে কথা বলব।
খটাং করে ফোন রাখার শব্দ হল। শোয়েবের এমন ব্যবহার আগে দেখেনি শাওলিন। গেটে সশস্ত্র প্রহরী থাকতে ভয় কীসের? ওই লোকটা একা কী করতে পারবে? শাওলিন খামগুলো ডেস্কের উপর রেখে এল। মন কিছুতেই ভালো বোধ করছে না।
—————
সন্ধ্যার আযান পড়েছে। চারপাশ বেগুনি রঙ ছেড়ে গাঢ় আঁধারে ডুবে যাচ্ছে। নীড়ে ফেরা পাখিদের কিচকিচ সুরে শাওলিন জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। এখনো ফেরার নামগন্ধ নেই মানুষটার। দুপুরে খেতে আসেনি। হঠাৎ রোকেয়া পেছন থেকে ডাকল,
- ভাবীজান? দাদী ডাকে।
শাওলিন আকাশ থেকে চোখ তুলে দরজায় তাকাল। রোকেয়া সুন্দর করে চুল বেঁধেছে। বেণী দুটোয় লাল রিবণ। সন্ধ্যার আঁচ পড়তে না পড়তেই বিদ্যুৎ চলে গেছে। ঘরের একটিমাত্র মোমের আলোয় অদ্ভুত সুন্দর দেখাচ্ছে। শাওলিন মৃদু হেসে বলল,
- চুল কে বেঁধে দিল? দাদী?
রোকেয়া মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
- জুর কইরা বাইন্ধা দিল। খারাপ দেহাইতাছে ভাবী?
- মোটেও না। তোমাকে সুন্দর লাগছে। ছোটোবেলায় আমার মাও লাল ফিতা দিয়ে চুল বেঁধে দিতো।
কথাটা বলার সময় ঠোঁটে হাসি, চোখে দুঃখ ছেপে উঠল। রোকেয়া নিভে যাওয়া মুখে বলল,
- আপনের মার কতা মনে পড়ছে? আমারও মনে পড়ে। মা না থাকার যেই কষ্ট, কেউ বুজে না ভাবী। এইসব কেউ বুজব না।
শাওলিন ভারী শ্বাস ছেড়ে প্রসঙ্গ বদলে বলল,
- তোমার ভাইজান কখন আসবেন জানো?
- ভাইজানের রাইতেও ডিউটি পড়ে ভাবী। তিনডার সময়ও দেখছি গাড়ি লইয়া বাইর হইছে।
শাওলিন কোনো কথা বলল না। রোকেয়ার পাশে হেঁটে দাদীর ঘরে পৌঁছে গেল। দাদী অন্ধকার ঘরে মোমবাতি জ্বালিয়ে বসে আছেন। বিছানার মাথার কাছে পিঠ ঠেকিয়ে আধশোয়া ভাবে বই পড়ছেন। শাওলিন দরজায় ঠক্ ঠক্ করে বলল,
- দাদী, আপনি ডেকেছেন?
বই বন্ধ করে দাদী তাকালেন,
- আসো শাওলিন। বসো।
শাওলিন বিছানায় এসে চুপ করে বসল। দাদী সোনালী ফ্রেমের চশমা চোখে একপলক নাতবউকে দেখলেন। দুপুরে গোসল শেষে কালো রঙের সুতির শাড়ি পরেছে। পেলব গায়ে কালো রঙ অদ্ভুত মায়াবী লাগছে। চুলগুলো ভেজা থাকায় পিঠময় মেলে দেয়া। কান দুটো খালি, হাতে অলংকার নেই, নতুন বউসুলভ সজ্জা কোথাও দেখলেন না। একটু বিরস সুরে ফাতিমা বলেন,
- বিয়ের পর নতুন বউদের সেজেগুজে থাকার নিয়ম। ভালো শাড়ি, গলায় গহনা, হাতে চুড়ি পরতে হয়।
শাওলিন নিজের দিকে তাকিয়ে বলল,
- নাকে নাকফুল না পরলে স্বামীর অমঙ্গল হয় এগুলো?
- তুমি কী মানো?
- আমি আল্লাহকে মানি। আল্লাহ কোথাও বলেননি নারীর অলংকারে স্বামীর ভালো-মন্দ নির্ভর করে।
দাদী উত্তর শুনে খুশি হলেন। আধুনিক যুগের মেয়ে হলেও ধর্মীয় অবলম্বন আছে। শাওলিন বইয়ের দিকে নজর দিয়ে বলল,
- আল্লামা ইকবাল.. আপনিও দর্শনশাস্ত্র পড়ছেন।
দাদী বইটা কোলে উঠিয়ে বললেন,
- তোমার স্বামীর। দর্শন, ভূগোল, ইতিহাস, রাজনীতি সবকিছুতে তাক ভর্তি। তুমি পড়ো না?
- পাঠ্যবইয়ের বাইরে কিছু পড়া হয় না।
- তোমাকে একটা প্রশ্ন করি? যদিও অনেক সময় পেরিয়েছে। তুমিও সবকিছু মানতে শিখেছ।
- করুন।
- তোমার মা তোমাকে কতটুকু রেখে চলে যান?
- পাঁচ। তিন জানুয়ারী স্কুলে ভর্তি হলাম। তিন জানুয়ারী দুপুরেই মা চলে গেল।
- তুমি তাহলে অনেক ছোটো। ফারশাদ তোমার থেকে আরেকটু বড়ো ছিল।
শাওলিন উৎসুক স্বরে বলল,
- কতটুকু?
- সাত বছর দুমাস হয়েছিল।
তথ্যটা শুনে শাওলিন চুপ হয়ে গেল। কিছুটা সময় নীরব থেকে একটা প্রশ্ন করে উঠল,
- বড়ো ভাবীদের সন্তান নেই? প্রশ্নটা বেখাপ হলে দুঃখিত।
দাদী মুখ তুলে শাওলিনের দিকে তাকান। তিনি বুঝতে পারেন শাওলিন এখনো ঘরোয়া কিছু জানে না। আগ বাড়িয়ে রেবেকাও তেমন কিছু বলেনি। ফাতিমা হ্যাঁ সূচক মাথা নেড়ে বলেন,
- সেগুফতার দুই পুত্র, মিথিলার একজন। বোর্ডিং স্কুলে ছেলেরা পড়ে। তাহিয়ার দুবার গর্ভধারণে সমস্যা হয়। অধরা বোধহয় তোমার সঙ্গে সুখবরটা দিবে।
শাওলিন লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সাথে সাথে চোখদুটো অপ্রস্তুত ভাবে নামাল। আঁচলের খুটে আঙুল প্যাঁচাচ্ছে। এমন সময় কানে ভেসে এল গাড়ির গমগমে স্বর। ধড়াস করে উঠল বুকের ভেতর। যেন ঝংকার দিয়ে উঠল রক্তের অণুরা! দাদী জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে বললেন,
- ওইতো! মহাজন আসার সময় হলো। দুপুরে এল না, বিকেল এল না, সন্ধ্যার সময় এল।
এদিকে শাওলিন উত্তেজনায় স্থবির। কথা বলতে জড়তা হচ্ছে। হাত-পা খিল ধরে আছে। বিছানা থেকে ওঠার কথাও খেয়ালে নেই। দাদী তাগাদা দিয়ে জাগালেন,
- যাও শাওলিন। সারাটা দিন বাইরে কাটিয়ে এল। ঘরে গিয়ে দেখো কী লাগবে।
শাওলিন কোনোমতে বলতে পারল,
- ঠিক আছে, দাদী।
এরপর বিছানা ছেড়ে হাঁটা দিল। ঘরের বাইরে থেকেই পুরুষালি পারফিউমের সুবাস। তীব্র ঘ্রাণটা নাকে ধাক্কা দিয়ে বোঝাল সে এসে গেছে। ঘরে ঢুকে মেঝে থেকে চোখ ওঠাল শাওলিন। চোখে চোখ পরবে, তৎক্ষণাৎ শোয়েবের গলা শ্রবণপথে পেল,
- দরজা লাগিয়ে দাও।
আদেশসূচক গলা। বুঝতে পারছে দুপুরের ঘটনায় মহারাজ এখনো খাপ্পা। শাওলিন দরজা চাপিয়ে ছিটকিনি তুলে দিল। ফিরে তাকালে শোয়েবকে বিছানার ধারে বসতে দেখল। গায়ে শার্ট নেই। ঘামে চকচক করছে সারা দেহ। মাথার চুল ভ্যাপসা গরমে ভিজে আছে। মাথাটা নুইয়ে রেখেছে মেঝে বরাবর। দুপা এগিয়ে শাওলিন সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
- দুপুরের ঘটনায় নারাজ?
শোয়েব খুব ধীরে মাথা ওঠাল। শাওলিনের চোখে একপলক তাকিয়ে ফের নত করল। হঠাৎ দুহাত বাড়িয়ে এক হেঁচকা টানে ওর কোমর জড়িয়ে ধরল। এবার মুখটা ডুবিয়ে দিল পেটে। আকস্মিক কাণ্ডে শাওলিন চমকে উঠেছে, কিন্তু স্বাভাবিক হয়ে দেখল শোয়েবের ক্লান্ত রূপ। কিছুই বলল না দুজন। পরষ্পরকে তীব্র ভাবে অনুভব করতে লাগল। শাওলিনই প্রথম মৌণতা ভেঙে বলল,
- গোসল করে নিন। খাবার বেড়ে দিচ্ছি। এরপর শুনব সমস্যাটা কোথায়।
শোয়েব দুহাতের বেড়ি আলগা করল না। ভেজা মাথা শাওলিনের শাড়ি ভেদ করে চামড়া ছুঁয়ে দিচ্ছে। ডানহাতে ঝরঝরে চুলগুলো নেড়ে দিল শাওলিন। শোয়েব কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে উঠে যায়। গোসল সেরে নিচে নামলে খাবার টেবিলে শাওলিনকে পরিবেশন করতে দেখল। নিচে কেউ নেই। আজ বাড়ির লোকেরা ফিরবে না। শোয়েব চেয়ার টেনে বসলে শাওলিন পাশে দাঁড়িয়ে ভাত বেড়ে দিল। শোয়েব খপ করে ওর ডানহাত ধরে বলল,
- বেড়ে দিলে চলবে না। আমার মেখে খাওয়ার ইচ্ছে নেই।
শাওলিন আশপাশে তাকিয়ে নিচু গলায় বলল,
- দাদী, রোকেয়া এখানেই আছে। যেকোনো সময় বাইরে বেরিয়ে আসবে।
শোয়েব ভ্রুঁ উচাঁল,
- বুঝলাম না?
শাওলিন অবাক। আশ্চর্য কণ্ঠে বলল,
- খারাপ দেখাবে না?
শোয়েব একপলক শুধু তাকিয়ে থাকল। এরপরই অপ্রত্যাশিত ব্যাপারটা ঘটাল। গলা ছেড়ে 'দাদী!' বলে উচ্চস্বরে ডেকে উঠল। শাওলিন বিষম খেয়ে কিছু বুঝে উঠতে পারল না। দাদী সঙ্গে সঙ্গে এসে বললেন,
- কী হয়েছে ফারশাদ? ডাকছ যে?
রোকেয়া একবার শাওলিনকে দেখল, আরেকবার শোয়েবকে দেখে চুপ। শোয়েব ডানহাত ধরে শাওলিনকে পাশে বসিয়ে বলল,
- তুমি! ভাত মেখে খাওয়াও।
ঘাড় ঘুরিয়ে দাদীর দিকে তাকাল শোয়েব। বউয়ের দিকে ইশারা করে বলল,
- আম্মি বাবাকে ভাত মেখে খাওয়াতো। ওকে শেখাও না কেন?
ফাতিমা হো হো করে হেসে দিলেন। নাতীর দিকে ঠোঁট টিপে বললেন,
- একদিনেই সব বুঝে নিতে চাও কেন? সময় দিবে না?
শাওলিন দুজনের কথায় বিষম খাবি খেল। কী অবস্থা! কী লজ্জা! মাটি ফাঁক হয়ে যাচ্ছে না কেন? শাওলিন মাটির ভেতর লুকিয়ে পড়ত! ফাতিমা আর বিব্রত না করে রোকেয়ার সঙ্গে ঘরে ফিরে গেলেন। শাওলিন স্তব্ধ মুখে বসলো। প্লেট টেনে ভাত মাখিয়ে এই প্রথম তাকে খাইয়ে দিল। শোয়েব চোখে চশমা পড়েনি। খালি চোখদুটো ওকে দেখছে। শাওলিন মুখ পাংশু করে বলল,
- দুপুরে ধমকালেন আর এখন দেখাচ্ছেন আরেক রূপ।
শোয়েব কথার ফাঁকে ফোন চালু করছে। দু সেকেণ্ড স্ক্রিনে তাকিয়ে ফোনটা ঠেলে দিয়ে বলল,
- দুপুরে এই লোক ছিল কিনা দেখো তো।
শাওলিন দ্বিতীয় লোকমা মাখাতে যেয়ে ফোনটার দিকে তাকাল। কপালের মাঝখানে ভাঁজ পড়লে চকিতে বলে উঠল,
- এই লোকটাই ছিল!
শোয়েব ফোনটা সরিয়ে বলল,
- ইনফর্মার। তথ্য বিক্রি করা এর পেশা।
শাওলিন চিন্তিত সুরে বলল,
- আপনার কোনো ক্ষতি করবে?
শোয়েব দ্বিতীয় লোকমা মুখে নিয়ে বলল,
- তথ্য কার কাছে, কীভাবে বিক্রি করবে এর উপর নির্ভর করবে।
- এরা আসলে কী চায় কী? আপনার পেছনে কেন লেগে আছে?
- এরা সরাসরি আক্রমণ করে না। আগে ভুক্তভোগী সেজে থাকে, সহানুভূতি আদায় করে, তারপর সুযোগ পেলে ছোবল।
- সাংঘাতিক। গতবার এসেই বুঝেছি, এ জায়গাটা কেমন যেন। কিছু আছে, যেগুলো পর্যটকদের চোখে ধরা দেয় না।
- ফাইরুজকে মনে আছে?
- ফাইরুজ? হাসপাতালের নার্স মেয়েটা?
- ডেডবডি পাওয়া গেছে।
শাওলিন আঁতকে ওঠে,
- কী বলছেন? মেয়েটা খুন হয়েছে?
চোখের সামনে হাসিখুশি মেয়েটার মুখ ভেসে উঠল। শাওলিন ভাবতে পারছে না মেয়েটা আর নেই! শোয়েব শান্ত ভাবে বলল,
- ফাইরুজ কিছু জানতো। কারা, কেন, কী - এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনেছিল। যারাই মেরেছে ওর কাছ থেকে একটা সূত্র নিয়ে যায়নি।
শাওলিন ঢোক গিলতে পারছিল না। এতোটা আশ্চর্য ও কখনো হয়নি। সেকেণ্ড দুয়েক পর নিভু সুরে বলল,
- কী সূত্র?
- একটা ক্যামেরা, হাসপাতাল থেকে হারিয়েছিল। একটা লেডিস হ্যাণ্ডব্যাগ, যাতে ক্যামেরার ফিল্ম, চার্জার ছিল।
শাওলিন বিস্ফোরণ চোখে তাকাল। কয়েক মুহুর্ত চোখের পলক ফেলল না। নিঃশ্বাস রুদ্ধ হয়ে কাঠপুতুল হয়ে গেছে। ঠোঁটদুটো যখন ফাঁক হতে লাগল ভীষণ অবাক গলায় বলল,
- নাযীফ ভাইয়ার হারানো ক্যামেরা! সোহার চুরি যাওয়া হ্যাণ্ডব্যাগ! ফাইরুজ এসবের পেছনে ছিল?
শোয়েব স্থির চোখে তাকিয়ে ছিল। মাথাটা সম্মতির সূচকে নাড়িয়ে বলল,
- কার নির্দেশ পেয়ে চুরি করেছিল এই তথ্য এখনো ধোঁয়াশা। ফাইরুজ চোর মানসিকতার ছিল না। হাসপাতাল থেকে মিসিং আইটেমের রেকর্ড নেই। ফাইরুজ ব্যবহার হয়েছে। কাজ শেষ হতেই খুন।
শাওলিন অনেকটা সময় কথা বলল না। চুপ করে এতোদিনের ঘটনাগুলো মেলাতে লাগল। সব জট যেন এক সুঁতোয় বাঁধা। নাযীফ ভাইয়া কী লুকোতে চেয়েছিল সেদিন? ক্যামেরায় কী ধারণ করেছিল? যা পরবর্তীতে কাউকে দেখায়নি? ঢাকায় ফেরাটা দরকার, কিন্তু... মনে মনে ভাবতেই শাওলিন শোয়েবের দিকে তাকাল। ' এত শীঘ্র যেতে দেবে না।'
—————
প্রায় মাঝরাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে নির্দিষ্ট কামরায় শ্রেষ্ঠা একা। রুমমেট মেয়েটা বাড়ি গেছে। রাত জেগে অ্যাসাইনমেন্ট লিখছে সে। কানে হেডফোন দিয়ে শূন্য ব্র্যান্ডের 'বেদনা' গানটা শুনছে। হঠাৎ কী মনে হতে ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ খুলে শাওলিনের চ্যাটে ঢুকল। টপাটপ আঙুল চালিয়ে লিখল,
- তোর জামাইকে বল আমার জন্য একটা জামাই খুঁজে দিতে। তোর না চারটা দেবর? কোনজন খালি?
ম্যাসেজটা নিঃশব্দে শাওলিনের ফোনে পৌঁছাল। খাগড়াছড়ির মায়াবি পরিবেশে শাওলিন ঘুমে বিভোর। ফোনটা আলো জ্বলে উঠলে জাগ্রত শোয়েব দেখতে পেল। খুব সাবধানে বিছানা ছেড়েছে। রাতে আমেরিকার জোন মিলিয়ে কিছু ব্যবসায়িক কল দেখতে হয়। ফোনটা ড্রেসিংটেবিল থেকে তুলে নোটিফিকেশন দেখল। ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটতেই শোয়েব লকস্ক্রিন সরিয়ে দিল। প্রত্যুত্তরে লিখে পাঠাল,
- আহ.. একজনও খালি নেই।
শ্রেষ্ঠা ঠিক সেসময়ই লিখে পাঠিয়েছে,
- তোর বিয়ের অবস্থা দেখে আমার বিয়ে করতে মন চাচ্ছে। বাবাকে তথ্যটা কীভাবে দেয়া যায়? আইডিয়া দে।
- তোমার বাবার নাম্বার দাও। আমি কথা বলে দিব।
টুট টুট করে ম্যাসেজের আগমন। শ্রেষ্ঠা ভীষণ অবাক হয়ে ঘড়ির দিকে তাকাল। এতো রাতে এই মেয়ে জেগে আছে? এরপরই দুষ্টু হাসিতে ভ্রুঁ নাচাতে থাকে। মিটমিটে হাসিতে দুটো লজ্জা পাওয়া ইমোজি দিয়ে লিখল,
- কী ছোট্ট বন্ধু? ঘুমাস নাই কেন?
শোয়েব এমন ম্যাসেজ দেখে ঠোঁট কামড়ায়। পালটা উত্তরে আবার লিখল,
- বিয়ের পর কম ঘুমাতে হয়। স্বাস্থ্য, স্বামী দুটোই ভালো থাকে।
শ্রেষ্ঠা ম্যাসেজ পড়ে হাসতে হাসতে টেবিল চাপড়াচ্ছে। কান থেকে হেডফোন খুলে মেঝেতে ঝুলছে। একটু দম নিয়ে আবার লিখে পাঠাল,
- তুই তো বড়ো ফাজিল, এই তথ্যটা জানতাম না তো!
শোয়েব এবার ভয়েস রেকর্ড করল। শ্রেষ্ঠা টুং করে ভয়েস ম্যাসেজটা দেখে ক্লিক বসায়। একটুর জন্য কলিজটা হাতে চলে আসেনি, শোয়েবের কণ্ঠ গমগম করে বেজে উঠেছে,
- শ্রেষ্ঠা, বাবার নাম্বারটা দিয়ে রাখো। আমি কথা বলে দেব।
শ্রেষ্ঠা বজ্রাহত হলো। বুক ধড়ফড় করছে। এতোক্ষণ উনার সঙ্গে কথা হলো? আল্লাহ, এই মসিবতে ফেলে দিলে কেন? যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে কী সত্যিই সন্ধ্যে হতে হয়? সর্বনাশ! সর্বনাশ!
·
·
·
চলবে……………………………………………………