সাহিদ শপিংমলে এসেছে সাব্বিরের টানা-হেঁচড়ায়। সাহিদ সেভাবে কখনো শপিংমল থেকে শপিং করেনি। হাতে গোণা কয়েকবারই নিজের দরকারে আসতে হয়েছে তার। সাহিদের বেশিরভাগ আউটফিটই বাইরে থেকে অর্ডার করে আনা হয়। ব্র্যান্ডেড জিনিসে তার ক্লোজেট রুম ভরপুর। সাহিদের বাংলোতে বড়ো বেডরুমের পাশাপাশি একটা বিরাট ক্লজেটের ঘরে আছে। যেখানে তার সবকিছুই অর্গানাইজ করে রাখা। একপাশে শার্ট, একপাশে প্যান্ট, জুতা, ঘড়ি, সানগ্লাস সবকিছুরই আলাদা আলাদা সেকশন। হয়তো কখনো ইসমাত তার সাথে ওই বাড়িতে থাকলে তার ক্লোজেটের বাড়তি স্পেসটা ইসমাতের দখলে চলে যাবে। মাহফুজ সাহেব বেশ যত্নেই বউমার জন্য সেখানে জায়গা রেখেছেন। সারাজীবন যে তারা ফ্ল্যাটে থাকবে সেই সম্ভাবনা নেই। তাদের মূল ঘাটি যে সে বাড়িতেই।
সেদিন অবশ্য পার্টি থেকে সে পালিয়েছে। ভুলেও মাহফুজ সাহেবের কল রিসিভ করেনি। সে কখনোই এই সমস্ত অফিসিয়াল পার্টিতে থাকে না, যথাসম্ভব এড়িয়ে চলে। এ নিয়ে প্রতিবার বাবার হাতে প্রচুর ঝাড়ি খায়। সেবার অবশ্য বেঁচে গেছে, মাহফুজ সাহেব সবাইকে বুঝ দিয়েছিলেন যে ছেলে অসুস্থ তাই আসতে পারেনি।
সাহিদ সাব্বিরকে হাজার গালি দিয়েও লাভ হচ্ছে না। সাব্বির তাকে নিয়ে গেছে জামদানির এরিয়াতে। সাব্বির খুঁজে খুঁজে দেখছে শাড়ির কালার। সাহিদকে বলছে,
--"কখনো ভাবীকে শাড়ি গিফট দিছিস?"
সাহিদের চোখ-মুখে বিরক্তি। ইসমাতের সাথে তার এক বছরের বিয়েতে সে কখনোই তাকে শাড়ি পরতে দেখেনি। যেদিন ইসমাতের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল, সেদিনও ইসমাত শুধু সেলোয়ার-কামিজ আর একটা মাথায় দোপাট্টা পরা ছিল। সেদিন ইসমাতকে কেমন দেখাচ্ছিল সেটাও সাহিদেত ঠিকঠাক মনে পড়ছে না। সে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
--"আর ইউ ইনসেইন সাব্বির? আমি গিফট করব?"
--"অফ কর্স করবি! চুপচাপ একটা শাড়ি সিলেক্ট কর।"
সাহিদ উলটো পথে হাঁটা দিতে চাইছিল কিন্তু সাব্বির তাকে আবারও আটকে দিল। সাহিদ পড়েছে মহা মুসিবতে। হাতের কাছে কিছু পেলে ঠিকই সাব্বিরের মাথা ফাটিয়ে দিত। মশকরা করার জায়গা পায় না? সাহিদ বিশ্রী এক গা লি দিয়ে বসল তাকে। সাব্বির তাতে আরও দুইটা গা লি দিয়ে বলল,
--"সিনক্রিয়েট করবি না। চুপচাপ কালার দ্যাখ!"
--"শাড়ি ইসমাতকে নয়, তোকে দেওয়া উচিত। তোর শখ হয়েছে শাড়ি পরার।"
সাব্বির গাল টিপে হেসে বলল,
--"বিশ্বাস কর, তোর ওয়েডিং নাইট প্রোপার হয়ে গেলে আমি শাড়ি পরে তোর সামনে নাচমু দোস্ত।"
সাহিদ ওর মাথায় এক ঘা বসিয়ে দিল। শেষমেষ সাব্বির যখন দেখল সাহিদকে কিছুতেই মানানো যাচ্ছে না তখন হতাশ হয়ে বলল,
--"আমিই আসলে ভাবীর জন্য একটা শাড়ি নিতে চাচ্ছিলাম। যতই হোক উনি তোর বউ, আমার ভাইয়ের বিয়েতে প্রথম আসবে। আমরা সবাইকেই টুকিটাকি উপহার দিচ্ছি। ভাবীকে না দিলে কেমন দেখায় বল? আমি তো জানিও না ভাবীর কী ধরণের পছন্দ।"
সাহিদের বলতে ইচ্ছে করল, "হ্যাঁ। আমি বোধ হয় ইসমাতের সাথে মিশে থাকি সারাদিন, যে জানব। ইডিয়েট।"
কিন্তু সে তা করল না। কেমন আ গুন নজরই নিক্ষেপ করে রইল সাব্বিরের দিকে। সাব্বিরের চোখ-মুখে তখনো হতাশা, অসহায়ত্ব। বিয়ে-বাড়ির নিয়ম সম্পর্কে সাহিদের জানা-শোনা সম্পূর্ণ শূন্য। যেহেতু সাব্বির ইসমাতকে শাড়ি দিতে চাচ্ছে সেটা নিয়ে তার মাথা ব্যথা হওয়ার কথা না। অবশেষে সাহিদ জব্দ হয়ে শাড়ি দেখল। কেন যেন তার একটাও পছন্দ হলো না। ছি ছি, এগুলা কোনো ডিজাইন হলো? কোনো এলিগেন্ট ভাইব নেই। সাব্বির সাহিদের বিকৃত মুখ দেখে তার কাঁধে চাপড় মে রে বলল,
--"আরে মদন, জামদানি শাড়ি এমনই দেখতে হয়, কিন্তু যখন মেয়েরা পড়ে তখন তাকে অসম্ভব সুন্দর দেখায়। চ্যালেঞ্জ ভাই, সত্যিই পছন্দ হবে।"
সাহিদ এ কথা শুনেও কোনো সৌন্দর্য বুঝতে পারল না। মনে পড়ে গেল বিয়েতেও ইসমাত লাল কিছু পরেনি। সাহিদ কি মনে করে লাল শাড়ি গুলো দেখল। পরপর কি ভেবে একটা শাড়ি পেল। দূর থেকে তর্জনী তুলে, দেখিয়ে বলল,
--"ওটা।"
সাব্বির তখন হাসতে হাসতে বিল করতে চলে গেল। খুবই সন্দেহজনক সেই হাসি। বিল করার সময় সাহিদ নিজের পকেটে হাত দিয়ে দেখল তার কার্ড নেই। সাহিদ অস্ফুট স্বরে চেঁচাল,
--"হারামি।"
বলতে বলতে সে কাউন্টারে গেল। মুহূর্তেই সাব্বির দাঁত কেলিয়ে তার দিকে ক্রেডিট মেশিনটা উঠিয়ে দিয়ে বলল,
--"পিন নাম্বার প্লিজ?"
সাহিদ আশেপাশে তাকাল। সবাই তার দিকে চেয়ে। এখন সে চাইলেও বিল কাটতে পারবে না। একপ্রকার দাঁতে দাঁত চেপে সে পিন নাম্বার লিখল। মুহূর্তেই শাড়িটা কেনা হয়ে গেল। পছন্দ করা থেকে শুরু করে বিল পর্যন্ত সবই সাহিদের। শুধু মাঝখান দিয়ে এক্সট্রা খাটনি গেছে সাব্বিরের। সাব্বির মূলত প্রায়শ্চিত্ত করছে তার বন্ধুকে ডিভোর্সের কথা বলার অ পরাধে। এতে সে খুব খুশি যে সাহিদকে সে জব্দ করতে পেরেছে। সাব্বির জানে তার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে এই কাজ করা কখনোই সম্ভব হতো না। সেখানে শাড়ি কেনা তো পরের বিষয়। শাড়ি কেনার কথা বললে হয়তো সেখানেই অন্যদের গু ম করে দিত সাহিদ। কিন্তু সাব্বিরের ক্ষেত্রে সে একটু ব্যতিক্রম।
সাব্বির জয়ের হাসি হাসতে হাসতে শপিংব্যাগটা সাহিদের হাতে ধরিয়ে দিল। হাতের শাড়িটা লাখ টাকার। ইচ্ছে তো করছে ছুঁড়ে ফেলে দিতে। তার বিশ্বাসই হচ্ছে না সে ইসমাতের জন্য প্রথমবারের মতো কোনো উপহার কিনেছে। সাব্বির হাসি বজায় রেখে বলল,
--"এরপর থেকে আরও ভালো মানের জামদানি কিনলে আমাকে জানাবি। আমার মা এমন একজনকে চেনেন যার থেকে আম্মা জামদানি খরিদ করে। সে নিজেই জামদানি বুনে, ওনার জামদানি ব্যবসা আর কি। ওনাকে বলে দিলে সে হিউজ কালেকশন নিয়ে আমাদের বাড়ি হাজির হয়। এরপর থেকে লাগলে মাকে বলে দিব। সেই আঙ্কেল তোদের বাড়িতেও চলে যাবে। ওকে?"
সাহিদ সেসব কথায় কান দিল না। সাব্বির তখনো বকরবকর করে যাচ্ছে। সেই ভদ্রলোকের জামদানি কত ফেমাস সেসবই গুণগান করে যাচ্ছে সে। বহু সেলিব্রিটিরা তার থেকেই জামদানি নেয়। রাষ্ট্রপতিও নাকি তার থেকে জামদানি কিনেন। বাহ! রাষ্ট্রপতিরও দেখছি বউকে নিয়ে সেই চিন্তা-ভাবনা। অথচ এদিকে তা সাহিদেরই নেই। বউয়ের জন্য কিছু করার মতো মন-মানসিকতা তার কখনোই ছিল না।
ওরা বের হতেই সাব্বিরের আবারও ডাক পড়ল। তার ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে কয়েকবার করে তার শপিংমলে আসতে হচ্ছে। এই শপিং চলবে পুরো মাস। সাহিদের সাহস হলো না সাব্বিরের সাথে মেয়েলি গ্যাঞ্জামে যাওয়ার। এজন্য সে সাব্বিরের হাতেই শাড়ির প্যাকেটটা ধরিয়ে দিল। সাব্বির হো হো করে হেসে উঠল, বেচারা সাহিদ কেমন গাইগুই করছে। সে ক্যারি করবে ইসমাতের গিফট.. প্রশ্নই উঠে না। অগত্যা সাব্বিরই সাথে করে নিয়ে গেল। সাহিদের ভরসা নেই। আবার যদি ফেলে টেলে দেয়?
ইসমাত সারাহর সাথে এসেছে শপিং-এ। সাহিদের জন্মদিন আসছে সামনের সপ্তাহে। সেজন্য তার জন্য উপহার কেনার পাশাপাশি তার আর তার মেয়ে তুবার জন্য জামা কিনতে এসেছে। বসের ছেলের জন্মদিন বলে কথা, ভালো জামা তো থাকা চাই।
তুবা বাচ্চাটা চার বছরের। ভারী দুষ্টু। সে ছুটছে চারপাশে। সারাহকে কিনতে দিয়ে ইসমাত তুবার সাথে সাথে থাকছে। বাচ্চাটা বড্ড আদুরে। ইসমাতকে যখন কিউট করে "মিম্মি" ডাকে, সে মুহূর্তেই গলে পানির মতো স্বচ্ছ হয়ে যায়। মনে মনে আফসোস করে, ইফরাটা কেন বড়ো হলো না। তার বড়ো হলে নিশ্চয়ই ইফরা বিয়ে করত, বাচ্চা-কাচ্চা হতো। তখন ইফরার বাচ্চাটা তাকে খালামণি বা মিম্মি বলে ডাকত। সেই কি মধুর ডাক, এই ডাক শোনার জন্য ইসমাত তখন সবকিছু করতে পারত।
পেন্সিল হিল পরে ইসমাত তেমন ছুটতে পারে না। কিন্তু বাচ্চাটা লোকের ভীড়ে হারিয়ে যাবে সেই ভয়ে সে ছোটার চেষ্টা করল। এতেই হিতে বিপরীত হয়ে গেল। ইসমাত তার ব্যালেন্স হারিয়ে বসল। ইসমাত টাল সামলাতে ব্যর্থ হয়ে যেই মুখ থুবড়ে পড়তে নিচ্ছিল ওমনি এক শক্ত হাত তার পাতলা কোমর পেঁচিয়ে নিল। ইসমাতের রূহ কেঁপে উঠল সেই স্পর্শে। তাকে এক টানে সোজা দাঁড় করিয়ে দিল, যেন সামনের লোকটার কাছে তার এই ওজন অতি সামান্য। ইসমাত চোখ পাকিয়ে চাইতেই দেখল এটা সাহিদ। গা কেমন গুলিয়ে উঠল তার। ছিটকে দূরে সরে যেতেও পারল না, সাহিদের শক্ত হাত বাঁধা দিল। ইসমাতের মনে হলো শক্ত হাত তার কোমরের হাড্ডি বেঁকিয়ে দিচ্ছে। কি ভয়াবহ ব্যথা।
--"আর ইউ ব্লাইন্ড?"
--"ছাড়ো সাহিদ, ব্যথা পাচ্ছি।"
সাহিদ এক ঝটকায় দূরে সরে গেল। ইসমাত এতক্ষণে যেন নিঃশ্বাস ফেলতে পারল। তার যেন এতক্ষণ দম বন্ধ হয়ে আসছিল। সাহিদ দায় সাড়া ভাব নিয়ে বলল,
--"থ্যাঙ্কস টু মি, আপনার ওয়েস্ট ফ্র্যাকচার থেকে বাঁচিয়েছি। নয়তো সেই অপ রাধেও ড্যাড আবার আমার ক্লাস নিত।"
--"তোমাকে বাঁচাতে বলেছি আমি? তুমি কোত্থেকে আসছ এখানে?"
ইসমাতের পালটা প্রশ্ন সাহিদের পছন্দ হলো না। বিরক্তি নিয়ে বলল,
--"আনগ্রেটফুল ওম্যান!"
তুবা তখনই এগিয়ে এলো। দু'কোমরে হাত গুজে ফাপা রাগ দেখিয়ে বলল,
--"মিম্মি, ইউ আর আ লুজার। আমাকে ধরতে পারোনি।"
ইসমাত সাহিদকে ভুলে তুবার দিকে তাকাল। মেয়েটা প্রচন্ড ইংরেজি কার্টুন দেখে। সেজন্য তার চটপটে কথার মাঝে বেশিরভাগ ইংরেজিই কিচিরমিচির করে। ইসমাতের আবার তুবার সবকিছুই আদুরে লাগে, এবারও লাগল।
সাহিদের আবার খুব একটা পছন্দ হলো না বাচ্চাটাকে। ম্যানার্স নেই বাচ্চাটার কোনো? যে কীভাবে বড়োদের সাথে কথা বলতে হয়? ইসমাত আবার সাহিদের বিড়বিড় শুনে ফেলল। তাকে কটাক্ষ করে বলল,
--"তুমি বুঝি খুব জানো ম্যানার্স? নিজের এক আনাও নেই, সে এসেছে অন্যকে জাজ করতে।"
সাহিদ চেঁচাতে চাইল ইসমাত চোখ রাঙিয়ে থামিয়ে দিল। তুবা এবার সাহিদকে পর্যবেক্ষণ করছে। সে বেশ সতর্ক চোখে সাহিদকে দেখে বলল,
--"আর ইউ আ ফরেইনার? মিম্মির সাথে তোমার কি? তুমি কি মিম্মিকে বিরক্ত করছ? বিরক্ত করলে কিন্তু ত্রিপল নাইনে কল করব।"
সাহিদের চোখ কপালে। কনিষ্ঠ আঙুলের সমান পুঁচকে মেয়ে তাকে হুমকি দিচ্ছে? ইসমাত তুবার সরল হুমকি শুনে মিটিমিটি হাসল। যাক, তুবা অন্তত তার মনের কথা বলে দিয়েছে। সাহিদের মুখটাও কেমন দেখার মতো হয়েছে। সাহিদ চোখ পাকিয়ে বলল,
--"ওয়াচ ইওর মাউথ, কিড!"
--"আ'ম নট এনি কিড! আমি আমার পুতুলদের বিয়ে দিয়েছি তুমি জানো? আমি পুতুলের মা।"
এবার সাহিদ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। তুবা পরমুহূর্তেই বলল,
--"নাহ, তুমি হ্যান্ডসাম আছ।"
বলেই তুবা দুই হাত বাড়িয়ে দিল। মিনমিন করে বলল,
--"কোলে নাও। কোলে উঠব।"
--"হোয়াট? নো!"
সাহিদের সেই ধমকে তুবার চোখ ছলছল করে উঠল। এটা ইসমাতের সহ্য হলো না। সে গরম চোখে তাকাল সাহিদের দিকে।
--"ক্যারি হার।"
--"আমি আপনার কথা কেন শুনব?"
--"ওপাশে একজন ভ্লগারকে দেখে এসেছি, ব্লগ করছে। যদি গড়িমসি করেছ তবে ওটাকে ডেকে এনে একদম তোমার গলায় ঝুলিয়ে দিব। ওই মেয়ের কিন্তু গায়ে পড়া স্বভাব আছে।"
ব্যাস! মুহূর্তেই সাহিদ কাবু। জীবনে এই ভ্লগার সমাজকে সে বড্ড অপছন্দ করে সাথে ভয়ও পায়। এখানে এখন কেউই নেই যে কিনা সেই ভ্লগারের হাত থেকে তাকে বাঁচাবে। অগত্যা, সম্পূর্ণ বিতৃষ্ণা নিয়েই তুবাকে সে কোলে নিল। তুবা খুব সুন্দর করে সাহিদের গলা জড়িয়ে ধরল। সাহিদ কোনোরকমে কোলে নিয়ে অন্যদিকে ফিরে রইলো, যেন বাচ্চাদের কোলে নেওয়া খুব অপছন্দের কাজ। সাহিদের খোঁচা খোঁচা দাঁড়িতে ছোটো তর্জনী ঘঁষে বাচ্চাটা খুব মজা পেল। খিলখিল করে হেসে উঠল। ইসমাতের না চাইতেও চোখেমুখে মুগ্ধতা প্রকাশ পেল। না চাইতেও তার কল্পনায় অন্যকিছু চলে আসল। নিজেদের মেয়ে সাহিদের কোলে.. ভাবতেই ইসমাত ছিটকে দূরে দাঁড়াল। ছি ছি! কি ভাবছে সে? মাথা গেল নাকি? ভেবেই কেমন চিমটি কাটল নিজেকে- সবার অগোচরে। এসব যে ভাবাও পাপ। সাহিদের সাথে তার সংসার কখনোই সম্ভব না, কখনোই না। বাচ্চা তো দূরের বিষয়।
·
·
·
চলবে……………………………………………………