ডওভিল, ফ্রান্স।
ফ্রান্সের নরম্যান্ডি অঞ্চলের এক স্নিগ্ধ বিলাসবহুল শহর হচ্ছে 'ডওভিল'। প্যারিস থেকে প্রায় ২০০-২২০ কিলোমিটার দূরে। ট্রেন থেকে এই শহরে আসতে সময় নেয় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। ছুটি কাটানোর জন্য এই শহর বেশ বিখ্যাত। এই শহরের অলিগলিতে সৌখিনতার ছাপ। বড় বড় দূর্গ, হোটেল, ক্যাসেল এসবে ভর্তি। এখানে এসে দাঁড়ালেই দুহাত ভরে খোলা আবহাওয়া, নীল সমুদ্রের অনুভূতি নেওয়া যায়। শহরে জীবনযাপনের পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবেশও এই অঞ্চলে আছে। বেশিরভাগই সমুদ্রের কাছাকাছি। গ্রামীণ এলাকা আরও বেশি নিরিবিলি হয়ে থাকে।
ডওভিলকে 'হর্স ক্যাপিটাল অফ নরম্যান্ডি'ও বলা হয়ে থাকে। এখানে অসংখ্য আস্তাবল এবং ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতার সুব্যবস্থাও আছে। বিরাট রেসকোর্স আছে, যেখানে প্রতি বছর ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা হয়। সেখানে দেশি বিদেশি অসংখ্য মানুষ আসে সেই প্রতিযোগিতা দেখতে।
ইসমাতরা যখন এই শহরে পৌঁছাল তখন ঘড়িতে সময় দুপুর বারোটা ছুঁইছুঁই। দুপুরের নরম রোদ তাদের ছুঁয়ে দিয়েছে। ইসমাত ক্ষণিকের জন্য ভুলে গেল তার বোনের আসার কথা। এই শহর যেন কোনো চিত্রকরের হাতে আঁকা কোনো শহর। সব পাথরের দালান, পথটাও পাথরের। পাথরের পথ প্যারিসেও দেখেছিল সে, তবে এই শহরে একটু বেশিই পাথর। পথ-ঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাড়িঘর, ক্যাফে সবই পাথরের। ফরাসির নিজস্ব ছাপ প্রকাশ পাচ্ছে প্রতিটি স্থানে। প্যারিসের মতো জমকালো, সড়গোলে ভর্তি না হলেও এই শহরে প্রশান্তি রয়েছে।
ট্রেনেই ইসমাতের শাশুড়ি কলে করেছিলেন। শাহেলা এখনো একই কথা বলে যাচ্ছেন, কবে দাদী ডাক শুনবেন? ইসমাতের তো বয়স অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। শাহেলা মোটেও চান না ওনার মতো অবস্থা ইসমাতের হোক। এজন্য উনি কোনো অনুরোধে কমতি রাখছে না। ইসমাত এখনো বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে কিছু ভাবছে না, এজন্য প্রতিবারের মতোই বাচ্চার কথা এড়িয়ে গেল। সাহিদকেও এসব বিষয়ে জানাল না। এই ছেলে আরেক পাগল! বাচ্চার কথা শুনলে না জানি সে নিজেই বাচ্চা নিতে উঠে পড়ে লাগে।
সাহিদ ইসমাতের হাত ধরে হাঁটছে। ফোনে বিভিন্ন বস্তু কিংবা সিনারির ছবি তুলছে। তাদের সাথেই আছে তাদের এক ফরাসি কর্মচারির পরিচিত। ওকে গাইড হিসেবে সাহিদ আগেই ঠিক করে রেখেছে। সে স্পষ্ট ইংরেজিতে বলে যাচ্ছে কোথায় কি পাওয়া যায়, কোন খাবার কিংবা ডেজার্ট এখানে বিখ্যাত ইত্যাদি।
ইসমাতের অনেক খুদা পেয়েছে, সকালে কোনো রকম একটা ব্রেড খেয়েই চলে এসেছিল। ওরা কিছুটা আসতেই একটা ক্যাফে দেখতে পেল। ক্যাফের বাইরে চেয়ার বসানো। সেসব টেবিলের ওপরেই রোদ থেকে বাঁচতে সাদা ছাতা। টেবিল, চেয়ারও সাদা রঙেরই। ইসমাতকে ওদিকে তাকাতে দেখে সাহিদ বলল, "এখানে শুধুই কফি আর টুকিটাকি ডেজার্ট পাবে। কটেজে খাবারের কথা বলা আছে।"
সাহিদের এক লাফে আপনি থেকে 'তুমি'-তে চলে যেতেই অবাকই হলো ইসমাত। নিজের চমক আড়াল করে বলল, "হট চকোলেট নাও একটা, খেতে খেতে যাই। এখানে যা ঠান্ডা।"
সাহিদ সময় নিল না, চলে যায় অর্ডার দিতে। অর্ডার আসতে বেশিক্ষণ লাগল না। তিনজনের জন্য তিন পছন্দের কফি নিয়েছে। ইসমাত হট চকলেট হলেও সাহিদ ব্ল্যাক কফি, ওরা ট্রেনেও কিছু খায়নি। খাবে কি করে? ম্যাডামের রাগ ভাঙাতেই তো আড়াই ঘণ্টা কেটে গেছে।
ওরা যখন গ্রামীণ এলাকায় পৌঁছাল, তখন টের পেল এই স্থান শহরের চেয়ে আরো কয়েকগুণ নিরিবিলি। রাস্তা-ঘাটে মানুষ অবধি নেই। তাদের গাড়ি প্রবেশ করল এক নির্জন পরিবেশে। একটা বড়ো লোহার গেইট খুলে দিতেই ওরা কটেজের সম্পদে গাড়ি ঢোকায়। জায়গা মতো গাড়ি পার্ক করে ওরা বেরিয়ে আসে।
এই কটেজটা অফ হোয়াইট এবং বাদামীর মিশেলে। সম্ভবত দোতলা। গাইড পল জানিয়েছে এই কটেজে প্রায় দশটা রুম আছে। অফ সিজন বিধায় এখানে খুব বেশি ভীড় নেই, পছন্দসই রুমটাও বুক করা গেছে। অথচ বাইরে থেকে বোঝাই যা না এখানে এতগুলা রুম থাকতে পারে।
ভেতরে আসতেই কটেজের কর্মচারীরা ওদের ওয়েলকাম ড্রিংক্স দিল। ওটা খেতেই যেন পুরো সফরের ক্লান্তি উবে যায়। একজন কর্মচারী ওদের রুমের জন্য উপরে নিয়ে গেল। পল চলে গেছে, জানায় দুই ঘণ্টা পর সে আবারও আসবে।
কটেজের বাহিরটা যেমন সবুজে ভরপুর, ভেতরটাও তার থেকে বেশি সুন্দর। ফরাসি কারুকার্জ করা ফার্ণিচার, ল্যাম্প, ঝারবাতি। ইসমাত তো ছুটল ছোটো বারান্দায়। কী আশ্চর্য, এখান থেকে এক টুকরো নীল সমুদ্র দেখা যাচ্ছে। সাহিদ দাঁড়াল ইসমাতের পেছনে, এক হাতে জড়িয়ে ধরল।
"এবার রাগ ভাঙল তো?"
"উহু!"
"তুমি জানো তোমাকে এই সারপ্রাইজ দিতে আমার কত টাকা খরচা গেছে?"
"অসময়ের এই ট্যুর কে চেয়েছে তোমার কাছে?"
সাহিদ এবার নিজের স্বার্থ প্রকাশ করল,
--"হোয়াই নট ইসমি? তুমি কি ভেবেছ, আমি শালীর কাছে বউ হস্তান্তর করে দিব? সবেই আমার প্রেম শুরু হয়েছে। আমার প্রেমে যে থার্ড পার্সন হবে তাকেই আমি দূরে সরিয়ে দিব। সে তোমার আপন বোনই হোক না কেন!"
ইসমাত বিস্মিত হয়ে তাকাল সাহিদের দিকে।
--"আর ইউ ক্রেইজি?"
সাহিদ বাঁকা হেসে বলল,
--"মোর দ্যান ইউ কুড এভার ইমাজিন।"
--"খুব চালাক হয়ে গেছ আজকাল।"
--"তো হবো না? সিনিয়র বউ পালা কি চারটে খানেক কথা?"
বলেই সাহিদ নিজের চুমু হাতিয়ে নিল। ইসমাত তার পাগলামিতেই মজে গেল। ছেলেটা অতিরিক্ত পাগল, তবুও তার নিজের মানুষ।
ওরা গোসল, ফ্রেশ হয়ে নিচে এলো। ইতিমধ্যেই ওদের লাঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুই পদের সি-ফুড আর এপেলের স্পেশাল ডেজার্ট। এই এপেল ডেজার্ট খুব বিখ্যাত এই ডওভিল-এ। সবই সাহিদের ঠিক করে দেওয়া ডিশ, কোনোটাতেই হারামের লক্ষণ নেই। ইসমাত সাফ সাফ নিষেধ করেছে তাকে। যদি কোনো প্রকার এলকোহল দেখে সে, ওটা তখনই সাহিদের মাথায় ফাটিয়ে দিবে। অগত্যা, সাহিদের এই অঞ্চলের বিশেষ ওয়াইনগুলো আর চেখে দেখা হলো না।
খাবারের মাঝে ভিডিও কল চলছে। কলে ইফরা আছে। ইসমাত ভেবেছিল তার বোন রাগ করেছে। কিন্তু এখানে দেখছে উলটো। তাদের রুমে খুবই হাস্যোজ্জ্বল মুখে বসা। ইসমাত বোকামির প্রশ্ন করল না। খেতে খেতে স্বাভাবিক প্রশ্ন করল,
--"জার্নি কেমন ছিল?"
--"খুব ভালো! আমি আর আশিফ খুব এঞ্জয় করেছি।"
ইফরা থেমে আবারও বলল,
--"তোদের এই লোকেশনটা এত সুন্দর কেন আপু, টেরেসে বসেই আইফেল টাওয়ার দেখা যাচ্ছে। সত্যি তোরা কত লাকি। আমার মনে হচ্ছে এখানে বসেই আমি যুগের পর যুগ কাটিয়ে দিতে পারব।"
ইসমাত হাসল বোনের কর্মকাণ্ডে। মেয়েটার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতটা খুশি সে। খুশি করার মতো সবকিছুর ব্যবস্থা যে এসেছে সাহিদ, তা আর বুঝতে বাকি নেই। পাশ থেকে আশিফ এসেও ওকে সালাম জানাল। সেও নিজের অনুভূতি জানাল। দুজনকে ওখানে একা রেখে আসা যে কাজের কাজ হয়েছে তা বোঝা গেল। ইসমাত তাকাল সাহিদের দিকে। সাহিদ খাচ্ছে তখনো, নজর ফোনে স্থির।
ইফরা আরও জানাল সাহিদ নাকি ওকে ডিনার ডেট গিফট করেছে। মানে এই মেয়ের মাথা ব্যথাই নেই যে তার বোন তার থেকে দূরে। ফ্রান্স আসার আগেই তো দিব্যি কতশত প্ল্যান করল। এখন এখানে এসে স্বামী আর হানিমুনের সুযোগ পেয়ে বোনকেও দূর-ছাই করল? অবিশ্বাস্য!
ইফরা কল কাটতেই সাহিদ খেতে খেতে বলল,
--"কি, আমার সিনিয়র শালী তোমাকে যেতে বলেনি?"
--"একবারও বলেনি।"
সাহিদ হতাশ হবার ভান করে বলল,
--"আমার সিনিয়র শালী হানিমুন, হাসবেন্ড নিয়ে কতটা খুশি। এদিকে আমার বউ— সে পড়ে আছে তার বোন কি ভাববে, তার বোন একা পড়ে যাবে, বোনকে দেখবে! সো টিপিক্যাল! সবাই তাদের হাসবেন্ডদের গুরুত্ব দেয়, আর আমি জুনিয়র হাসবেন্ড বলে ঠিকঠাক পাত্তাও দেয় না।"
সাহিদের হতাশা শুনে মুখ চিপে হাসল। মজা নিয়ে বলল,
--"তুমি এত এক্সপ্লেইন না করলে তো জানতামই না, আমার বোন কত সেলফিশ।"
সাহিদ নিজের পাতের একটা চিংড়ি কাটা চামচে জড়িয়ে সেটা ইসমাতের সামনে ধরল। ইসমাত সেটা খেতেই সে বলল,
--"আপনিও খুব সেলফিশ হবেন। জাস্ট ফর মি, আপনার দুনিয়ার ফার্স্ট প্রায়োরিটি উইল বি সাহিদ মুস্তাহাব। ডিল?"
ইসমাত হাসল শুধু। কিছুদিন আগেও কেউ কাউকে সহ্য করতে পারত না, জীবন নরক লাগত। অথচ এখন এই ছেলেটাই তার হাসার, সুন্দর স্মৃতিগুলোর কারণ। হ্যাঁ, ওর ভালোবাসার ধরণ আলাদা, তবে ওতে ইসমাতের একটুও অস্বস্তি হচ্ছে না। ইউনিক সাহিদের ইউনিক ভালোবাসাগুলিই সে খুব উপভোগ করে। সাহিদের লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ আবার ইসমাতের রাগ ভাঙানো। সে যেমন করেই হোক। ইসমাত তো ভাবে এছেলে নির্ঘাত তার রাগ ভাঙানোর নতুন নতুন ব্যাপার আবিষ্কার করতেই তাকে রাগিয়ে দেয়।
ওদের এই সুন্দর কথোপকথনের মাঝেই সাহিদ তার সবচেয়ে বড়ো এক্সপোজটা করল। এই এক্সপোজের জন্য সে অনেক মাথা খাটিয়েছে, টাকা খাইয়েছে, সাথে সময় তো নিয়েছেই। সাহিদ পুরো ক্যারিয়ার শেষ করে দিবে এই মেয়ের। রোদসীর। আজকাল সে খুব জনপ্রিয়। ভুলেই গেছে সাহিদ তাকে কি বলেছিল। সাহিদ আবার এই ধরণের চাল চালতে ওস্তাদ। সুন্দর করে এক্সপোজের নির্দেশ দিয়ে সে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো থেকে লগ আউট হলো। এখন সে তার হানিমুন মন ভরে উপভোগ করবে।
দুপুরে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার জন্য বিশ্রাম করে। বিশ্রাম শেষ হতেই সাহিদ ইসমাতকে নিয়ে বেরিয়ে এলো। আজকের প্ল্যান অনুযায়ী দুটো স্পট ঘুরে দেখবে, এরপর সন্ধ্যার পর বিচে যাবে। এরপর রাতে এসে কটেজেই ডিনার করবে। ডিনারের সব নির্দেশনা আগেই দিয়ে দিয়েছে সাহিদ।
পলের সাথে ঘুরাঘুরির পাশাপাশি দুজন খুব সুন্দর ছবিও তুলল কতগুলো। সাহিদকে ইসমাত তুলে দিয়েছে, ইসমাতকে সাহিদ। আর কাপল তুলতে গেলে পল হলো ফটোগ্রাফার। এই শীত শীত মরশুমে দারুণ অনুভূতি। ইসমাত সবকিছুর উর্ধ্বে গিয়ে উপভোগ করল।
সন্ধ্যার পরপর ওরা বিচে আসে। বিচের একপাশে পার্টি হচ্ছে। সব ছেলেরাই ওখানে শর্টস আর হালকা কাপড়ের শার্ট গায়ে জড়ানো, মেয়েরা বিকিনি। সাহিদ মশকরা করে বলল,
--"আরেহ, সব বিদেশি ডেজার্ট দেখি এখানে!"
ব্যাস! ইসমাতের রাগ আর দেখে কে। গিলে নেওয়ার মতো নজরে তাকাল সাহিদের দিকে। সাহিদ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়, ইসমাত এতটা রাগবে ভাবেনি। সামান্য টিজই তো করেছিল সে।
--"বিদেশি ডেজার্ট?" ইসমাতের কাট কাট গলা।
--"না..ন-নো! আই মিন.."
ইসমাত শুনল না। লম্বা লম্বা পায়ে সাহিদকে ফেলেই ওই গ্যাদারিং এর দিকে এগিয়ে গেল। সাহিদ পেছন থেকে ডাকতে ডাকতে ওর কাছাকাছিই আসছে। এমন সময়ই ইসমাত অসাবধানবশত এক বিদেশি ছেলের সাথে ধাক্কা খায়। খুব লম্বা ছেলেটা, ইসমাতকে উপর-নীচ দেখে যেন লালা পড়ল। সুর টেনে বলল,
--"ওও, সো গর্জিয়াছ লেইডি। ওয়ানা ডান্স?"
ইসমাতকে স্পর্শ করার আগেই সাহিদ তেড়ে এলো। সরিয়ে নিয়ে গরম চোখে তাকাল। হিসহিসিয়ে বলল,
--"হেই ইউ! ডোন্ট টাচ মাই গার্ল, স্ট্রেঞ্জার!"
--"ইওর গার্ল?"
সাহিদ জোর গলায় বলল, "হাই ওয়াইফ!"
বিদেশীরা কোনো মেয়ে বিবাহিত শুনলেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, দূরে সরে যায়। এবারও তাই হলো! ছেলেটা কেটে পড়ল ঝামেলাহীন। সাহিদ এবার ইসমাতের দিকে ফিরে। গরম চোখে তাকিয়ে বলল,
--"আপনাকে দাঁড়াতে বলেছিলাম!"
ইসমাতও এই সুযোগ হাতছাড়া করল না।
--"ডাকলেই শুনতে হবে নাকি? আসলে কেন আমার কাছে? যাও যাও ওসব মেয়েদের কাছে। আমি ওই ছেলের সাথে ডান্স করব।"
মেয়ে মানুষ যেকোনো বয়সেই হিংসুক প্রকৃতির হয়। সেই মেয়ে যত ম্যাচিওরই হোক না কেন। নিজেদের প্রিয় মানুষ নিয়ে খুবই সংবেদনশীল হয় তারা। নিজের প্রিয় মানুষের সাথে নিজের ছায়াকেও সহ্য করতে পারে না। ছেলেদের তুলনামূলক ঈর্ষাটা কম হলেও সাহিদ পেয়েছে মাত্রাতিরিক্ত। ইসমাতের হাত ধরে বলল,
--"কটেজে চলুন, নাচাচ্ছি আপনাকে।"
—————
কটেজে এসে ইসমাত অবাক। ইফরার আনা শাড়িগুলো এখানে। সাহিদ কখন ওগুলা আনাল? সাহিদকে প্রশ্ন করার সুযোগ হলো না। সে এক কালো জর্জেট শাড়ি ধরিয়ে দিয়ে বলল,
--"এটা পরুন।"
সাহিদের আপনি তুমির দোটানার মাঝেই ইসমাত তৈরি হলো। তৈরি হওয়ার আগেই ডিনার সেরে নিয়েছে। শাড়ি পরা শেষ হতেই দেখল রাত প্রায় এগারোটা ছুঁইছুঁই। আজও ইসমাতকে শাড়িতে দেখে সাহিদ নিজের সব রাগ ভুলে বসল। কেমন ঘোর জড়িয়ে আছে চোখ জোড়ায়। নেশালো গলায় আওড়াল,
--"ইউ আর ইম্পসিবল ইসমাত! আজও চোখ ফেরাতে পারছি না।!
সাহিদ দেরী করল না। ইসমাতকে নিয়ে ছুটল কোথাও। ইসমাত অবাক হলো। যাচ্ছেটা কোথায় এই রাতে? তার উপর বাইরে কি শীত! এই সাধারণ শাড়ি পরে শীত নিবারণ করা যায়? সমুদ্রের কাছাকাছি এমনিতেই শীত বেশি পড়ে। সাহিদ অবশ্য কাচা খেলোয়াড় না। আগেই তার জন্য মোটা জ্যাকেট রেখেছে গাড়িতে। ইসমাত নিজের রাগ ভুলে কতবার প্রশ্ন করেছে কোথায় যাচ্ছে, কিন্তু সাহিদ কোনো উত্তরই দিল না।
গাড়ি এসে থামল বিচে। সাহিদ ইসমাতকে বসতে বলে গাড়ির পেছনের ডিকি খুলে কিছু একটা করছে। ইসমাত পেছনে দেখে আবার জানালা দিয়ে বাহিরটা দেখছে। কী সুন্দর লাগছে রাতের সমুদ্র। এখানটা পুরোই নিরিবিলি। এই লোকেশন কীভাবে খুঁজে পেল কে জানে?
মুহূর্তেই সাহিদ ইসমাতের পাশে এসে দরজা খুলে দিল। হাত বাড়াতেই ইসমাত সেই হাত ধরে নেমে পড়ল। সাহিদ তাকে ডিকিতেই নিচ্ছে। ডিকিতে লাইটিং দেখেছে সে। কিন্তু কিসের তা জানে না। ডিকির কাছে আসতেই সে চমকে গেল। ডিকিতে দুটো বেলুন 30 আর অসংখ্য মরিচবাতি। একটা রেড ভেলভেট কেক আর লাল টকটকে গোলাপের কালো বুকে। সাহিদ সেই বুকেটা হাতে নিয়ে ইসমাতের দিকে ফিরল।
--"হ্যাপিয়েস্ট লাভলি বার্থডে.. মিসেস ইসমাত শানজে। বাকি বছরগুলো আমার নামে সাজিয়ে নিবেন, ওকে?"
ইসমাতের চোখে জল। তার তো মনেই ছিল না আজকের তারিখ। তাই বুঝি সাহিদের আয়োজন করে এখানে আসা? শুধুমাত্র তাকে স্পেশাল অনুভব করানোর জন্য? জীবনে এই প্রথম কেউ তাকে এভাবে সারপ্রাইজ দিয়েছে, তার জন্মদিন এভাবে পালন করছে। ইসমাত কম্পিত হাতে বুকেটা নিল। চোখে জল আর মুখে হাসি নিয়ে বলল,
--"কীভাবে জানলে?"
--"যাকে মন দিলাম তার আগাগোড়া জানাটা দরকার ছিল। নভেম্বরের সাতাশ তারিখ আরও বহুবার ফিরে ফিরে আসুক। বয়স বাড়বে, কিন্তু আমাদের ভালোবাসা একই থেকে যাবে। সবসময় মিসেস মুস্তাহাব হয়ে থাকবেন। আপনার পাশে অন্য কাউকে দেখার মতো সহ্যক্ষমতা আমার নেই, ধ্বংস করে দিব সব।"
সাহিদ কেক নিল। খুবই ছোটো একটা কেক। সাহিদ এক হাতে কেক নিয়ে অন্য হাতে রিবন পেচানো নাইফটা দিল।
--"কাটুন।"
ইসমাত মুচকি হেসে তাই করল। সাহিদের হাতেই কেকটা কাটল সে। দুজনের কেক খাওয়াও হলো বেশ। কেক খেতে খেতে সাহিদ সাব্বিরের কথোপকথন শুরু করে দিল। প্রতিবার কেক নিয়ে তাকে কেমন জ্বালাত তা বিশ্লেষণ করত। এখন আর সাহিদ সাব্বিরকে দেখার আশা করে না। সে মেনে নিচ্ছে, সাব্বির আর কখনোই ফিরবে না। সে এখন শুধুই সোনালী স্মৃতি। ইসমাতও সাহিদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। সে আবার পাক্কা লিসেনার। একটুও বিরক্ত হয় না। এজন্যই বুঝি সাহিদের মতো ইন্ট্রোভার্ট মানুষ আরও কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পায় স্ত্রীর সামনে।
টুকিটাকি খাওয়ার পর সাহিদ এবার ইতি টানল সবকিছুর।
--"আপনি না ডান্স করবেন? আসেন, সমুদ্রের পানিতে পা ভিজিয়ে নাচব আমরা।"
ইসমাত হাসিমুখেই সাহিদের এই পাগলামো মেনে নিল। সাগরের খুব কাছে গেল না। এমন স্থানে গেল যেখানে স্রোত শুধু পায়ে এসে ধাক্কা খাবে। গানহীন দুজনে নাচতে শুরু করল। সাহিদ যখন দেখল বিনা গানে বোরিং লাগছে তখন সে নিজেই গান ধরল,
"If you stay forever,
let me hold your hand
I can fill those places in your heart
no else can
Let me show you love,
oh, no pretend, yeah
I'll be right here, baby,
you know it's sink or swim
Oh, oh, oh, don't
Don't you worry
I'll be there, whenever you want me
I need somebody who can
love me at my worst
No, I'm not perfect,
but I hope you see my worth, yeah
'Cause it's only you,
nobody new, I put you first
And for you, girl,
I swear I'd do the worst."
—————
পরেরদিন সকালে ওরা আস্তাবলে এসেছে। আজ ঘোড়ায় রাইড দিবে। ভোরে উঠেছিল সানসেট দেখতে, এরপর ব্রেকফাস্ট করে সোজা এখানে আসা। এই শহরের বিখ্যাত হচ্ছে ঘোড়া। ঘোড়ায় না চললে পুরো ট্রিপই বৃথা।
আস্তাবলটা কটেজের সাথে সম্পৃক্ত। কটেজের মালিকেরই এই আস্তাবল। ঘোড়ার সাথে ওদের একটা প্যাকেজ আছে, সাহিদ ওটাই নিয়েছিল। এই আস্তাবল খুব বেশি বড়ো না, তবে কয়েকটা তাগড়া ঘোড়া আছে।
আস্তাবলের দায়িত্বে থাকা ফরাসি কর্মচারীরা তাদের স্বাগতম জানায়। আজকের জন্য তারা কোন ঘোড়াদের নিচ্ছে তা পছন্দ করতে বলে। ইসমাতের ওভাবে আগ্রহ কাড়েনি, তার একটা হলেই হলো। কিন্তু সাহিদ আবার এই বিষয়ে প্রচুর আগ্রহী। সে বুঝে শুনে প্রতিটা ঘোড়া দেখছে। কালো ঘোড়াগুলোর গায়ের রং ধবধবে সাদা। শুধু দুটো বাদামি। সাহিদের নজর আটকাল একটা সুন্দর ঘোড়ার ওপর। এটাকে খুব রাজকীয় লাগছে তার। গায়ের পশম, রং, বাকিদের তুলনায় বেশি তাগড়া, বড়। আস্তাবলের কর্মচারী বুঝে নিল সাহিদের এটাই পছন্দ। তাদের বেশিরভাগ গেস্টরাই এই ঘোড়াই বেছে নেয়। এই ঘোড়া যেমন দ্রুত, তেমনই বিচক্ষণ। তার অতি প্রিয় ঘোড়া, কথাও শোনে। এই ঘোড়াটা যে ছেলে সেটা আগেই জানিয়েছে সাহিদকে।
ভদ্রলোক গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
"His name is Ace, Mr. Sahid. he likes you. Ace, Say hello to your new master!"
বিদেশি লোকটির কথায় এইস তার মাথাটা একটু নামিয়ে আনল, সাহিদের বরাবর। সাহিদ স্পর্শ করল এইসের মাথা, হাত বুলিয়ে দিল। পরপর তার পেছনে দাঁড়ানো ইসমাতের দিকে তাকিয়ে বলল,
--"ওর ছেলে হওয়ার কোনো দরকার ছিল? মেয়ে হলে কি হতো? দেখতে তো লাগে মেয়েদের মতোই।"
ফরাসি লোকটা বোকা বনে তাকিয়ে রইলো সাহিদের বাংলা শুনে। বেচারা কিছুই বুঝেনি। ইসমাত কটাক্ষ করে বলল,
--""ভালোই হলো, আমি লাইন মারব।"
এ কথা শুনে সাহিদ এবার বিদেশি লোকটির দিকে তাকাল।
--"আপনাদের ফিমেইল ঘোড়া নেই? ডেটে যেতাম।"
ইসমাত হো হো করে হেসে ফেলল। ফরাসি লোকটা হাসির কারণ বুঝল না, তবে জানাল ওদের ফিমেইল ঘোড়া নেই। যেটা ছিল ওটা অসুস্থ। সাহিদের মুখে আঁধার নামল, ইসমাত তাই তাকে টিজ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
সাহিদকে টিজ করা বুঝি এতই সোজা? সাহিদ তার হাসির বদলা নিতে বলল একই ঘোড়ায় দুজন চড়বে। ইসমাত চোখ পাকিয়ে তাকাল,
--"অসম্ভব!"
--"সেটা হাসার আগে মনে ছিল না?"
সাহিদ সত্যি সত্যিই ইসমাতকে নিয়ে রেইস শুরু করল। ইসমাত ভয়ে সাহিদের গায়ের নতুন পোশাকটা খামচে ধরেছে। আজ সাহিদ ঘোড়ায় চড়ে ওমন আউটফিট পরেছে। ঘোড়া খুব জোরে ছুটছে। সাহিদ এক হাতে খুব শক্ত করে ইসমাতকে চেপে ধরে আছে। হাসতে হাসতেই বলল,
--"ভয় পেও না ইসমি, আমি থাকতে তোমার কিছু হবে না।"
ইসমাত ভয় পেয়েছিল প্রচুর। কতবার চিৎকারও দিয়েছে ভয়ে। কিন্তু ধীরে ধীরে সে ভয় কাটিয়ে উঠল। পুরোপুরি না হলেও অল্পস্বল্প উপভোগ করছে। তা দেখে সাহিদ হো হো করে হাসতে হাসতে বলল,
--"মাই বয় এইস! থ্যাঙ্কস টু ইউ। তোর জন্যেই আমার বউ আমার এতটা কাছে। আরও জোরে চল!"
--"অসভ্য!"
--"আপনাকে কাছে পেতে একটু তো অসভ্য হওয়াই যায়।"
ইসমাত বলল, "মাইর খাবে, ঘোড়ার স্পিড কমাও। ভয় লাগছে।"
সাহিদ ঘোড়ার বেগে নিয়ন্ত্রণ এনে মুচকি হেসে বিড়বিড় করল, "নিভৃতে বাঁধিয়ো প্রিয়া। আমায় আঁচলে বেঁধে রাখলে কোনো ক্ষতিই তোমাকে ছুঁতে পারবে না। আফটার অল, আমরা একজন আরেকজনের ওপর নির্ভরশীল, রাইট?"
ইসমাত লজ্জা পেল, আর কিছু বলল না।
—————
একপ্রকার সুখের ঘোরে কেটে গেল ওদের পাঁচদিন। দুইদিন ওরা ঘোড়ায় চড়েছে। প্রথমদিন ইসমাত সাহিদের সাথে আরেকদিন দুজন পাশাপাশি রেইস করেছে, আলাদা ঘোড়ায়। এছাড়াও ডিওভিলের আরও কিছু নির্দেশনা জায়গাতেও ঘুরেছে। সাথে সাহিদের পাগলামো তো ইসমাতের জন্য ছিলই।
ওরা যখন প্যারিস ফিরল, তার পরেরদিনই ইফরাদের ফ্লাইট। ওই একটা দিন দুই বোন একসাথেই কাটিয়ে দেয়। সাহিদ আর ইফরার মাঝেও যে কত ধরণের ঝগড়া হতে পারে, সেটাও শক্ত করে উপলব্ধি করল ইসমাত। এসব আশিফ আর সে আলাদা দাঁড়িয়ে দেখে গেছে শুধু। সত্যি, শালী-দুলাভাই দুটোই পাগল, মাথার তাঁরছিড়া।
ইফরা তো এও জানাল তারা এখানে আসার পর জেনেছে রোদসী নাকি কঠিনরকম এক্সপোজ খেয়েছে। তার অনৈতিক কাণ্ড, বুড়ো বিজনেসম্যানদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক.. সাহিদের মতো একই ফাঁদে আরও কিছু ইনফ্লুয়েন্সার, বিজনেসম্যানসহ ডিরেক্টরকে ফাঁসানো, ব্ল্যাকমেইল করে টাকা খাওয়া, পরকিয়া করে মানুষের ঘর নষ্ট করাও তার অন্যতম কাজ। সাহিদকেও যে ফাঁসানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট হয় সেদিনের ফাইভ স্টার হোটেলের ফুটেজ থেকে। সেখানে সাহিদ চেঁচামেচি করছিল কি কারণে, সেটাও সবাই শোনে। এত এত প্রমাণ পেয়ে রোদসীর আর কোনো দিকে যাওয়ার পথ রইলো না। বেচারী পুরোদমে ফেঁসে গেছে। মানুষ এই ভেবে অবাক হচ্ছিল এত ছোটো মেয়ে, সবে তেইশ বছর বয়সে সে এতকিছু করল কি করে?
রোদসীর নামে প্রথম মা মলাটাই ঠুকেছেন মাহফুজ সাহেব। রোদসী লাইভে এসে কান্নাকাটি করেও লাভ হয়নি, সবাই হিসেবহীন তাকে ঝেড়ে যাচ্ছে। রোদসী লাইভে সবাইকে বলতে চেয়েছিল এসব সাহিদ করছে, সব মিথ্যা! সাহিদ যে তার বাড়িতে এসে গলা টিপেও ধরেছিল, হুমকি দিয়েছিল, এটাও সবাইকে বলে সে। এসব ঘটনার আগে এই কথাগুলো বললে হয়তো বিশ্বাসযোগ্য হতো, কিন্তু রোদসী এখন বলছে। যখন পুরো দুনিয়া তার বিপক্ষে। হবে নাই বা কেন? সকল তথ্য-প্রমাণ সবার সামনে। রোদসী আবারও সাহিদকে ফাঁসাচ্ছে না তার গ্যারান্টি কি।
ইফরা চলে যাওয়ার পর ইসমাত নিজেও দুইদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় পড়ে রইলো। ঘেটে ঘেটে সব দেখল, পড়ল সে। কেন যেন খুব পৈশাচিক আনন্দ হচ্ছে। বুঝতে বাকি নেই এসব কিছুই সাহিদ করেছে। ভাবা যায়, এই মেয়ে কত বড় এক অ মানুষ্? এত অল্প বয়সে এতকিছু? টাকা আর ফেম মানুষকে ঠিক কতটা নিচে নামাতে পারে তার বিরাট নিদর্শন এই রোদসী। ইসমাত মিনমিন করে আওড়ায়,
--"সাব্বাশ, সাহিদ.. মাই বয়!"
—————
ক্রিসমাসের পরপর শহর এখন নিউ ইয়ারের রঙে সেজেছে। প্রতি বছর নিউ ইয়ার উপলক্ষ্যে পর্যটকে গিজগিজ করে প্যারিস। এবারও তাই। সব জায়গায় কেমন উপচে পড়া ভীড়। অথচ বাইরে কত তুষারপাত। নিউ ইয়ারের জন্য বারোটা বাজতে আর মাত্র ঘণ্টাখানেক বাকি। সাহিদ চাইল না ইসমাতকে নিয়ে ভীড়ের মধ্যে যেতে। কিন্তু ইসমাত তাকে জোর করছে বের হওয়ার জন্য।
--"আমরা তো টেরেস থেকেই আইফেল টাওয়ার দেখতে পারি।"
--"ওখানে গিয়ে সবার সাথে দেখা আর এখানে দাঁড়িয়ে দেখার মধ্যে পার্থক্য আছে। তুমি কি চাও আমি একা চলে যাই?"
অগত্যা! সাহিদের ইসমাতের সাথে আসতেই হলো। প্রচুর ভীড়, তবে সাহিদ ইসমাতকে সন্তর্পণে আগলে রেখেছে। আজকে আবার তুষার পড়ছে। শীত মাইনাস কত ডিগ্রি কে জানে। ইসমাত নাক-মুখ পেচিয়ে রেখেছে ঠান্ডা। মুহূর্তেই সকলে কাউন্ডাউন শুরু করল।
"টেন, নাইন.. ফাইভ.. থ্রি, টু ওয়ান.. ইয়েএএএ"
মুহূর্তেই রাতের আকাশে অসংখ্য আতশবাজি ফোটানো শুরু হলো। চারপাশে চেঁচামেঁচির রোল পড়ল, আইফেল টাওয়ারের আলো আগের থেকেও বেশি ঝলমল করছে আজ। ওরা দুজনই একবার আইফেল টাওয়ারে উঠেছিল, উপর থেকে পুরো প্যারিস শহর দেখেছিল। কি যে সুন্দর দৃশ্য!
সাহিদ দেখল, আশেপাশের কাপল কিস করছে। সাহিদ ইসমাতের গালে চুমু দিয়ে বলল,
--"ডিরেক্ট কিস করতে পারতাম, কিন্তু আমার বউ যে আবার লজ্জাবতী।"
ইসমাত সত্যিই লজ্জা পেল। সাহিদ ইসমাতকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিল। দুজনে ওভাবেই উপভোগ করতে লাগল সকলের উদযাপন।
অতিরিক্ত ঠান্ডায় কিনা কে জানে, ইসমাতের শরীর খারাপ হতে লাগল শেষ রাতের দিকে। সাহিদ তৎক্ষণাৎ ইসমাতকে নিয়ে ছুটল হাসপাতালে। দশ মিনিটের পথই ওরা যেতে পারছিল না। রাস্তায় বরফ জমেছে ভালো, গাড়ি চলাচল সম্ভবই হচ্ছিল না। তবুও ইসমাত নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে সাহিদের সাথেই হেঁটে হেঁটে যায়। কিন্তু শীতে মেয়েটা জমে যাচ্ছে। সাহিদ আচমকা ওকে কোলে তুলে নিল। ইসমাত চমকে, জ্বরে দূর্বল গলায় বলল,
--"আমি ঠিক আছি। নামাও আমাকে। হাসপাতালে যাওয়ার কি দরকার? বাড়িতেই চলো না।"
সাহিদ শুনল না। সাহিদ তাকে কোনোরকমে নিয়ে গেল কিছুদূর। ভাগ্যিস হাসপাতাল খুব বেশি দূরে ছিল না, ইসমাতও ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়ছিল।
সব রকম টেস্টের পর জানানো হয় ইসমাতের জ্বরটা বেড়ে গিয়েছিল, এখন চিকিৎসা চলছে তার। সঙ্গে আরেকটা সুসংবাদ দেয়। ইসমাত প্রেগন্যান্ট। সে মা হতে চলেছে। সাহিদ বিস্ময়ের শেষ চূড়ায়!
"প্রে..প্রেগন্যান্ট?"
·
·
·
চলবে……………………………………………………