নিভৃতে বাঁধিয়ো প্রিয়া - পর্ব ১৯ - লাবিবা ওয়াহিদ - ধারাবাহিক গল্প

নিভৃতে বাঁধিয়ো প্রিয়া
          সকাল থেকে তিরিক্ষি মেজাজে বসা সাহিদ। গালে তিন আঙুলের ছাপ, সে নিশ্চয়ই মাথা ঠান্ডা করে রাখবে না। ফোলা চোখে যখন বাথরুমের আয়নায় দাগগুলো দেখেছিল সে তো ভড়কেই গিয়েছিল। এলকোহলের প্রভাবে ধরে যাওয়া মাথায় ভাসা ভাসা স্মৃতি মনে পড়েছিল সেই সময়েই। এই বিষয়ে সে যে রাগ ঝাড়বে সেই ফুরসত মিলছে না। 

 তার থেকেও কয়েক গুণ বেশি রেগে আছে ইসমাত। সকাল থেকে কেমন ধুপধাপ শব্দ করে যাচ্ছে পুরো ঘর জুড়ে। যেন নিজের বো ম পুষে রাখা মাথা ঠান্ডা করার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছে। যার ফলস্বরূপ রাগ ঝেড়ে ফেলছে জড়বস্তুগুলোর উপর। যেটাই ধরছে সেটাই শব্দ করে সরাচ্ছে কিংবা রাখছে। সেই প্রতিটা জড়বস্তুর ওপর যেন সাহিদকে কল্পনা করে নিজের ক্ষোভ ঝাড়ছে। 

ইসমাতের অবশ্য রাগটা সাহিদের ওপর নয়, তার নিজের ওপর। সে কী টিনেজের কোনো বাচ্চা? তার কেন গতকাল এমন ভিন্ন অনুভূতি হয়েছিল, কেন তাকে কিশোরীদের মতো লজ্জায় ধরেছে? তার এখন কি লজ্জা পাওয়ার বয়স? সে কেন সাহিদের ছোঁয়া এক ফোঁটা সহ্য করতে পারেনি? কেন তার গা ওমন অবশ হয়ে গিয়েছিল কম্পনে? গত রাতের প্রভাবে সে সারা রাত দু চোখের পাতা এক করতে পারেনি, অদ্ভুত সব খেয়ালে মজে ছিল তার মস্তিষ্ক। তা নিয়েও সে বেশ করে নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছে৷ তার রাগের কারণ আরও একটা আছে। সাহিদের অতিমাত্রায় হাবিজাবি গেলাটা। বান্দা কি পরিমাণে খেলে নেশায় বুদ হতে পারে, ভাবতে ভাবতেই এবার প্লেটটা শব্দ করে রাখল কিচেন কাউন্টারে। কিন্তু প্লেটটা তার রাগের ভার সহ্য করতে পারল না। দ্বিগুণ শব্দের সাথে সেটা ভেঙে গেল। সেই শব্দ শুনে সাহিদ ছুটে এলো। দুজন মেইড চোখ কপালে তুলে ম্যাডামের কর্ম-কাণ্ড দেখছে।

সাহিদ দেখল ইসমাতের হাত-পায়ের কাছে প্লেটে ভেঙে পড়ে আছে। কিন্তু ইসমাতের কোনোপ্রকার নড়চড় নেই, সে একই ভাবে লাঞ্চ বানাতে ব্যস্ত। চুলোর তরকারিতে তখনো খুন্তি নাড়ছে সে। সাহিদ ইসমাতের দিকে এগিয়ে গিয়ে চাপা গলায় বলল,
--"কি শুরু করেছেন আপনি সকাল থেকে?"

ইসমাতের ব্যস্ত হাত থামল। সে তাকাল মেইডদের দিকে। ইশারা করতেই ওরা চলে গেল। সাহিদ ইসমাতের এড়িয়ে যাওয়া লক্ষ্য করে এবার রাগ সংবরণ করতে পারল না। ইসমাতের কবজি টেনে ধরল। ইসমাত রাগী চোখে তাকাল,
--"সমস্যা কি!"
--"কিছু জিজ্ঞেস করেছি।"

--"তা জেনে আমি কি করব? হাত ছাড়ো!"

সাহিদ হাত আরও টেনে নিল, ইসমাতকে একই স্থানে দাঁড়াল। ইসমাত অনুভব করল সাহিদ এবার শক্তি প্রয়োগ করছে। এখন সে আর নড়তে পারবে না তা বুঝল। এজন্য শক্তি অপচয় করল না।
--"বিহেভ ইসমাত! আপনি আমাকে চড় দিয়েছেন কেন? আপনার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি।"

ইসমাত গরম চোখে তাকিয়ে বলল,
--"বেশ করেছি দিয়েছি। তুমি যা করেছ, ইউ ডিজার্ভ ইট।"

সাহিদ চোখ-মুখ বিকৃত করে তাকালে ইসমাত তার কাঁধের থেকে স্কার্ফটা সরাল, মুহূর্তেই কলারবনে জ্বলজ্বল করে উঠল একটা দাগ। এই দাগ দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে এটা দেখেও নিজের প্রতি তার রাগ আসছে না। সাহিদ ভ্রু কুঁচকে বলল,
--"সো হোয়াট? দিতেই পারি।"

ইসমাত হতভম্ভ হলো সাহিদের দায় সারা গলা শুনে। 
--"আর ইউ কিডিং মি সাহিদ?"
--"আপনি আমার ওয়াইফ হন, দিতেই পারি! তাই বলে আপনি আমাকে চড় দিবেন? এটা কেমন ম্যানার্স? জানেন মেইডরা দাগ দেখে কেমন হাসছে?"

ইসমাত কি বলবে ভেবে পেল না, এজন্য সে চুপ করে গেল। সাহিদও গুণগুণ করতে করতে রান্নাঘর থেকে চলে গেল। যাক, ইসমাতকে কিছু করে তো জব্দ করা গেল। হাওয়ায় যেন ভাসল সাব্বিরের কথা,
--"সাব্বাশ ভাই! ভাবীকে তবে লাভ বা*ট দিয়েই দিলি! এই নাহলে সাহিদ।"

সাহিদ আপনমনে হাসল। তার মনের কথাগুলোই সাব্বিরের গলার স্বর হয়ে তার কানে বারি খাচ্ছে। 

—————

সাহিদ যখন লাঞ্চ করতে বসে তখন সে চমকে যায়, যখন দেখে ড. হ্যারেনও তাদের সাথে লাঞ্চের টেবিলে বসেছে। সাহিদ নিজের খাবার ভুলে এই ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে। সে যতদূর জানে এই ধরণের সাইকোলজিস্টদের এপোয়েন্টমেন্ট সহজে পাওয়া যায় না। তাহলে আজই আবার কী করে এলো? সাহিদ গরম চোখে ইসমাতের দিকে তাকাল। তবে আজ আর ইসমাতের চোখে অসহায়ত্ব ভাব নেই। সাহিদ টের পেল আজকে ইসমাত খুব জেদ ধরেছে। সাহিদের এমন তাকানোর ভঙ্গি দেখে ইসমাত উদাসীন গলায় বলল,
--"তোমার জন্য গতকাল ওনাকে খালি মুখে পাঠিয়েছি, এজন্য ইনভাইট করেছি।"

--"ইনভাইট করেছেন ভালো কথা, আমার মুখের সামনে কেন?"

ইসমাত এবার উলটো চোখ রাঙাল,
--"সেটা তোমাকে বলতে বাধ্য নই।"

--"আপনি বাধ্য! আপনার সাহস কী করে হলো আবার এই বুড়োটাকে ডাকলেন।"

ড. হ্যারেন আর ইসমাত দুজনেই দেখল সাহিদ আবারও হাইপার হয়ে যাচ্ছে। ড. হ্যারেন মুখের ভঙ্গি দেখেই বুঝলেন, সাহিদ তাকে দেখে খুশি নয়। আবারও কেমন হাইপার হয়ে যাচ্ছে। হ্যারেন সাহেব ভয় পেলেন। তিনি ইসমাতকে বুঝিয়ে আবারও চলে যাওয়ার কথা বলার জন্য প্রস্তুতি নিলেন। কিন্তু ড. হ্যারেনকে অবাক করে দিয়ে ইসমাত সাহিদের মাথায় চাটি মা র ল। সাহিদের হাইপারনেস মুহূর্তেই গায়েব, সে থ। আর ড. হ্যারেন তো বুঝি আকাশ থেকে পড়লেন। ইসমাত সাহিদকে ধমক দিয়ে বলল,
--"ওনাকে সম্মান দিয়ে কথা বলো! ওনার মতো হতে তোমার আরও দু'বার জন্ম নিতে হবে।"

সাহিদ তখনো বিমূঢ়! সম্মানহানিতে মাথা কাটা যাচ্ছে।
--"আপনি আমাকে এই বুড়োটার সামনে মা র লেন?"

--"হ্যাঁ, তুমিই একবার বলেছিলে মনে নেই, যে সিনিয়র আপু বিয়ে করেছ? এখন আমার জুনিয়র হাসবেন্ড যদি একটু ব্যাঁকা ত্যাড়া হয় তাকে সোজা করার দায়িত্বও আমার। চুপচাপ খাও, এরপর কাউন্সিলে বসবে! ইট'স মাই অর্ডার।"

--"গত রাতে চড়.."

--"সেটা এতগুলা মদ গেলার আগে মনে ছিল না? তুমি নেশায় বেহুঁশ হয়ে নিজের স্ব-জ্ঞান খুইয়ে বসেছিলে। মুহূর্তেই একটা প শুতে পরিণত হচ্ছিলে, আমি শুধু তোমাকে ঠেলে দিয়েছি!"

ইসমাত থেমে গেল। কিছুটা সময় নিয়ে বলল,
--"তুমি এখন মানসিক রোগী, সেটা তুমি মানো বা না মানো। যেদিন সুস্থ মস্তিষ্কে, ভালোবেসে আমাকে চাইবে.. সেদিন.."

ইসমাত আবারও আটকে গেল। বাকিটা বলতে পারল না। সে আবারও ড. হ্যারেনকে আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সাহিদ শুধু তাকিয়ে দেখল ব্যস্ত ইসমাতকে। এই বিদেশের মাটিতে কেমন পাক্কা সংসারী রূপে চোখে ধরা দিচ্ছে। ইসমাতের নজর লুকানোটাও সাহিদ বেশ লক্ষ্য করল। খেতে খেতে ভাবল সাহিদ ইসমাতের ব্যাপারে। ইসমাত বুঝি কোনো এক প্যাকেজ। অফিস, ঘর, সংসার, শ্বশুর-শাশুড়ি, সাহিদ সব কেমন একা হাতে সামাল দিচ্ছে সে। সাহিফ কি কখনো পারত তার মতো করে সবকিছু সামলাতে? সে তো উলটো অফিসের কাজ হেডেকের বলে বলে দায়িত্ব থেকে পালিয়ে এসেছে। কিন্তু ইসমাত, সে যেন পালাতেই জানে না। সাহিদ আবারও চোখ তুলে দেখল ব্যস্ত মেয়েটাকে। আজ একটু বেশিই পরিণত মানুষের লাগছে তাকে।

ড. হ্যারিস বাঙালি খাবারের খুব প্রশংসা করলেন। বিদেশিরা ঝাল খাবার খেতে পারে না, এজন্য ইসমাত ঝাল অনেকটা কমিয়েই দিয়েছিল। ড. হ্যারিসের কাছে এজন্য সব ব্যালেন্স লেগেছে। ভদ্রলোক বড্ড খুশি। সাহিদ পুরোটা সময় শুধু দাঁতে দাঁত পিষেছে। বাঁশ দিতে এসে আবার প্রশংসা করা হচ্ছে।

অবশেষে সাহিদের একপ্রকার বাধ্য হয়েই কাউন্সিলের জন্য বসতে হলো। ড. হ্যারিস শুরুতে কিছু প্রশ্ন করেন। কিন্তু সাহিদ একটারও ঠিকঠাক উত্তর দেয়নি। শুধু ত্যাড়ামি আর বেয়াদবি করেছে। সে যে করেই হোক এই কাউন্সিলিং পণ্ড করতে চাচ্ছে। গতকাল সাব্বিরের কথা ভেবেই গলা অবধি ম দ গিলেছিল। এত কষ্টের কি ফায়দা যদি পরেরদিনই তাকে কাউন্সিলিং এ বসতে হয়? তার অনুভূতি, আবেগের কোনো মান থাকল? সে সাব্বিরকে ভুলতে চায় না, তাকে হ্যালুসিনেশন করাও বাদ দিতে চায় না বলে সে কাউন্সিল বিষয়টা দেখতে পারে না।

 কিন্তু ড. হ্যারেনের ধৈর্যশক্তি প্রবল। তিনি আবারও প্রশ্ন করলেন। সাহিদ আবারও ত্যাড়া উত্তর দিলে, এবার কোত্থেকে ইসমাত এলো। টি-টেবিলে চা-কফির ট্রে-টা দেখে সাহিদের বাহুতে চড় দিল। চোখ রাঙিয়ে বলল,
--"বিদেশি মানুষদের সামনে মান-সম্মান ডুবাতে চাও।"

সাহিদ স্বীকার করতে বাধ্য, ইসমাতের এই রূপ সে আগে কখনো দেখেনি। বেচারা বারবার অপ্রস্তুত হচ্ছে। সে গলা উঁচু করলেও লাভের লাভ হচ্ছে না, উলটো ইসমাত তার থেকেও দ্বিগুণ উচ্চ গলায় ধমকে দিচ্ছে। এতে সাহিদ বিস্মিত হয়, হতবুদ্ধি হয়। ইসমাতের এই রাগের উৎপত্তি কী গতকাল ওয়াইন গেলার কারণে হয়েছে? আগে জানলে তো সে ওসব ছুঁয়েও দেখত না। কি মহা মুসিবত! সে তো হুঁশ হারিয়ে তার বউকেই ছুঁয়েছিল, অন্য মেয়েকে তো না! তাহলে এমন আচরণ করার মানে কি।

অগত্যা, ভার মুখে ড. হ্যারেনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া শুরু করল সে। আগে আকিবকে কত কথা শুনিয়েছে, হাসাহাসি করেছে এই বলে যে সে তার গার্লফ্রেন্ডকে ভয় পেত। তখন আকিব তাকে অভিশাপ দিত বারবার করে। সেই অভিশাপ বুঝি লেগে গেল?

ড. হ্যারেন এক পর্যায়ে সাহিদের হ্যালুসিনেশন হয় কিনা এ বিষয়ে প্রশ্ন করল। সাহিদ সঙ্গে সঙ্গে অস্বীকার করল,
--"একদম না।"

হ্যারেন খুবই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সাহিদের দিকে তাকাল। ছেলেটা হঠাৎ কেমন ঘাবড়ে গিয়েছে মনে হলো। সন্দিহান গলাতেই বললেন,
--"আপনি মিথ্যে বলছেন, মি. স্যাহিড।"

সাহিদ বিরক্ত হলো। ড. হ্যারেনও চাইলেন না শুরুতেই এত কিছু জানতে। এতে পেশেন্টের উপর বাজে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে। এজন্য আজকের জন্য সময় অল্পই নিলেন। ড. হ্যারেন যেতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল সাহিদ। আরেকটুর জন্য বুঝি দম আটকে যেত তার।

আশেপাশে তাকিয়ে দেখল ইসমাত নেই। সাহিদ তার মেইডদের জিজ্ঞেস করল। ওরা জানাল ইসমাত কাছেরই এক ক্যাফেতে গিয়েছে। ক্যাফের নাম "Hello cafe". কি অদ্ভুত নাম। তবে সাহিদ টের পেল এই ক্যাফে ইসমাত আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছিল। নয়তো মেইডরা এত আত্মবিশ্বাসের সাথে ক্যাফের নাম বলতে পারত না। 

সাহিদও দ্রুত পরণের শর্টস আর টি-শার্ট চেঞ্জ করে বেরিয়ে গেল। এখন প্রায় বিকালই। কিন্তু আকাশ মেঘলা। রাস্তা-ঘাট ভেজা, যেন একটু আগেই বৃষ্টি নেমেছিল। সাহিদ এতটাই বিরক্ত ছিল যে জানালার বাইরে খেয়ালই করেনি। আর ইসমাত যে কখন তাকে ধমক দিয়ে বেরিয়ে গেছে, সেটাও বুঝতে পারেনি। বেশ শীত শীত অনুভব হচ্ছে আজ। অক্টোবর আসতে বেশি দেরী নেই, অথচ এখনই শীত অনুভব হচ্ছে। হয়তো বৃষ্টির জন্যই।

ওইতো ক্যাফে দেখা যাচ্ছে। ক্যাফের ওপর নেমপ্লেটটা কাঠের৷ আর ক্যাফের কাচে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধরণের পেস্ট্রি, কেক, ডেজার্ট সাজানো। বাহিরেও অফ হোয়াইট রঙের কারুকাজ করা, ভেতর থেকে হলদে আলো ভেসে আসছে। দেখতে কত লোভনীয় লাগছে। সাহিদ এগিয়ে যেতেই বৃষ্টি নামল। যার ফলস্বরূপ এবার হাঁটার গতি বাড়িয়ে দ্রুত চলে ক্যাফের মুখে এসে দাঁড়াল। পিছ ফিরে একবার বৃষ্টি দেখে নিল। মোটা মোটা বৃষ্টির ফোঁটা। একটুতেই কেমন ভিজিয়ে দিল। সাহিদ হালকা হাতে চুল ঝাড়ল। এরপর ক্যাফের ভেতর ঢুকে পড়ল। 

ইসমাত এক কোণে বসা, হাতে একটা ম্যাগাজিন নিয়ে বসা। খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ছে সেটা। তার হাতের কাছেই সদ্য আসা কাপে ধোঁয়া ওঠা চা আর ক্যাফের স্পেশাল ডেজার্ট। ইসমাত আজ হলুদ রঙের শার্ট ইন করে সাদা প্যান্টের সাথে পরা। এসেছিল মূলত একটু নিজের মতো করে সময় কাটাতে, রাগটা নিয়ন্ত্রণ করতে। যেই রাগটা পড়ে গেল, আবারও সে দেখল সাহিদের ভেজা মুখটা। তখনই সে বুঝতে পারল বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। 

সাহিদ কোনো কথা না বলেই ইসমাতের পাশের চেয়ার টেনে বসল। ক্যাফের বাইরে যতটা না সুন্দর, ভেতরটা আরও বেশি আকর্ষণীয় ডেকোরেশন। কেমন ফ্রান্সের পুরানো ঐতিহ্য ধারণ করছে। চারপাশ বেশ ফটোজেনিকও। এই ভিন্টেজ টাইপের ক্যাফের সাথে কেন যেন 'হ্যালো ক্যাফে' নামটা মানাচ্ছে না। কে জানে, কি ভেবে নামটা দিল।

ইসমাত আড়চোখে সাহিদের ভেজা মুখটা দেখল। কিছুটা সময় নিয়ে নিজের পার্স থেকে একটা রুমাল নিয়ে যত্নের সাথে সাহিদের মুখটা মুছে দিল। সাহিদ অবাকের চরম পর্যায়ে, কিন্তু তা মুখে প্রকাশ পেল না। সে নীরবে ইসমাতের মুখের দিকে তাকিয়ে।
--"এখানে এসেছ কেন?"
--"বাসায় একা থাকতে চাইনি।"

--"ভিজে গেছ তো?"

সাহিদ থেমে তাকাল ইসমাতের দিকে। ইসমাতও তাকাল। মুহূর্তেই দুজনের চোখাচোখি হলো। সাহিদ ইসমাতের রুমটা নিয়ে নিজের মাথা মুছতে শুরু করল,
--"প্যারিসের বৃষ্টি আমাকে ওয়েলকাম করল, লোভনীয় অফার রিজেক্ট কি করে বলুন?"

--"তো ভিজতে!"

--"একা? নাহ, প্যারিস এসেছি দুজনে। ভিজলেও দুজনই ভিজব। খবরদার আমাকে ফেলে সলো ট্রিপে আসবেন না।"

--"হিংসে করছ?"

--"মোটেই ন! আপনি একা ঘুরলে আমার কি? শুধু বের হবেন না ব্যাস! হারিয়ে গেলে কি হবে?"

--"নিজেকে সামলাতে পারে না, সে আবার আমাকে বলে হারিয়ে যাব।"

--"এক্সকিউজ মি? আমি হারাই না।"

--"দেখাই যায়।"

--"এবার কিন্তু আমাকে রাগাচ্ছেন।"

--"রাগ ছাড়া আর কি পারো?"

--"গতকাল রাতের দাগটার কথা মনে নেই? ওটা পারি মানে সবই পারি।"

ইসমাত হতভম্ভ!
--"আমিও গাল লাল করতে জানি।"

--"ভাবলেন কী করে একবার সুযোগ দিয়েছি বলে বারবার পারবেন? আপনি আমার বড়ো হতে পারেন বাট ফিজিক্যালি আমি আপনার বস, মিসেস মুস্তাহাব।"
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp