ভালোবাসি সুচরিতা - পর্ব ০১ - মম সাহা - ধারাবাহিক গল্প

ভালোবাসি সুচরিতা - মম সাহা
          বৈশাখের বিকেলে বারান্দায় এসে বসা দাঁড়কাকগুলোর কোন্দল বড্ড বিরক্ত করছে জোহরাকে। টেলিফোনে কান ডুবিয়ে, বুকের ভেতর চাপা উত্তেজনার মাঝে এই শ্রীহীন ডাকটি তাকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। বুকের ঝড়ের সাথে বেসামাল লাগে চারপাশের কোলাহল। ওপাশে আজ রিসিভার তুলতে এত সময় কেন নিচ্ছে? লোকটার কি তবে বিরক্তি এসে গেলো? গত প্রতিটি সপ্তাহের শুক্রবারেতো চট করেই রিসিভার তুলেছে সে! তবে আজ কেন নয়?
জোহরা উঁকিঝুঁকি দিয়ে একবার সিঁড়ির দিকটাও দেখে নিলো। বাবার যদিও এখন ভাতঘুম শেষ হওয়ার সময় হয়নি তবুও ক্ষণে ক্ষণে তার হৃদয় বিচলিত হচ্ছে। কেউ এসে পড়লে সে কার নাম বলবে? জোহরার জীবনে এমন কে আছে যাকে সে এত উতলা হয়ে ফোন করবে? কার নাম বলা উচিত? 

 তার সাত-পাঁচ ভাবনার মাঝেই যে কখন ওপাশে রিসিভার তুলে নিয়েছে লোকটা, তা ও খেয়ালই করেনি। খেয়াল হলো তখন, যখন বিপরীত পাশ থেকে একটি মেঘমন্দ্র স্বর ভেসে এলো,
 “হ্যালো…”

 সেই মন্থর প্রায় কণ্ঠ শুনে জোহরার হৃদপিণ্ডটার একটি ধ্বনি হয়ত বাদ পড়ে গেলো ধুকপুক করতে। সে থতমত খেলো। গলা শুকিয়ে হলো কাঠ। মনে হচ্ছে যেন একটু জল পেলে ভালো লাগতো তার। না, না, একটু জল নয়, অনেক জল লাগবে তার। বাড়ির পাশের নদীটার সমান জল হয়ত!

  ওপাশের পুরুষটির কণ্ঠ অধৈর্য হলো, “হ্যালো? কে বলছেন?”

জোহরার মনে হলো লোকটা বড়ো তাড়াতে থাকে। এত তাড়া কীসের তার? যেন দহরমমহরম একটা বিষয়। না-কি সে কল দিলেই তাড়া দেখায় বেশি? দেখালে দেখাক। ও সেসব থোড়াই ধরে? ধরলে কি আর সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে এত কল দিতে পারত?
 
 “প্রতি সপ্তাহের প্রথম কয়েক মিনিট আপনি এমন নিশ্চুপ থেকেই কাটিয়ে দেন দেখছি! আপনার বাবার কি অনেক টাকা? না আপনার অনেক সময়? প্রতি সপ্তাহে আমাকেই বিরক্ত করে সময় অপচয় করতে ইচ্ছে হয়?”

 লোকটা পরপর এত কথা একসাথে বলে কম। আজ বলেছে। জোহরা কান পেতে তা শুনল কেবল। কণ্ঠটা কী ভীষণ ভারি! কথা শুনলেই যেন মনে হয় তার কথার বড়ো দাম। 
জোহরা স্থির করল নিজেকে। চোখ খিঁচে, ঠোঁট দুটো প্রসারিত করে পা নাচাতে নাচাতে বলল,
 “সময় অপচয় কোথায় হলো? আপনার সাথে কথা বললে সময় বিনিয়োগ হয়। মানে, ইনভেস্টমেন্ট।”

 “ইনভেস্টমেন্ট?” ফোনের ওপাশে কৌতূহলী শোনালো পুরুষটির কণ্ঠ। কিছুটা রঙ্গ করে বলল কি? যেন জোহরাকে বিদ্রুপ করার চেষ্টা করেছে!
 জোহরা উৎফুল্ল ভঙ্গিতে মাথা নাড়ালো। তার মাথা নাড়ানোটা ফোনের ওপাশে থাকা লোকটা কীভাবে বুঝলো কী জানে! চট করেই বলল,
“মুখ থাকতে মাথা দিয়ে উত্তর দিচ্ছেন কেন? আমার তো আর তৃতীয় নয়ন নেই যে দেখতে পারব।”

  জোহরা চমকে উঠল। টেলিফোন কান থেকে তড়িৎ গতিতে সরিয়ে দাঁড়িয়ে গেলো। ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক-ওদিক দেখতে লাগল। লোকটা কি কোনো ভাবে তাকে দেখছে? নয়ত কী করে বুঝল সে মাথা নাড়িয়েছে? 
পরক্ষণেই বুদ্ধি জাগ্রত হতেই সে বুঝল, লোকটার তাকে দেখতে পাওয়ার কথা নয়। সে মানুষ থাকে সিলেট আর সে থাকে ঢাকা। এই যে এত কিলোমিটারের দূরত্ব সে বেমালুম ভুলে বসেছে? মানুষটার সঙ্গে কথা বলতে নিলেই যেন তার মতিভ্রম ঘটে। পথঘাট, দূরত্বের মাপঝোঁক ভুলে বসে সব। 

 জোহরা জিভ দিয়ে নিজের শুষ্ক ঠোঁট দু'টো ভিজিয়ে নেয়। ঢোক গিলে আলগোছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বলে,
 “মাথা দিয়ে কোথায় উত্তর দিলাম? আপনি নিজেকে খুব চালাক ভাবেন তাই না?”

 “ভাবব কেন? আমিতো সেটাই!”

 জোহরা মুখ ভেংচি কাটে। কিন্তু এবার আর মানুষটা সেটা বুঝতে পারল না। তৃতীয় নয়ন যে তার সত্যিই নেই।

 “আচ্ছা আপনি কেমন আছেন?”

 “প্রতি শুক্রবারই আপনার জানতে ইচ্ছে করে আমি কেমন আছি? অন্য দিনগুলোতে কী করেন?”

“শুক্রবারেতো আপনি অবসর থাকেন তুলনামূলক। তাই সেইদিনকেই বেছে নিয়েছি।”

 “কিন্তু আপনি যে ভুল। শুক্রবারে আমি খুব ব্যস্ত থাকি।”

“ব্যস্ত? কী নিয়ে?” জোহরা উদ্রেক নিয়ে প্রশ্ন করলেও সঙ্গে সঙ্গে উত্তর ভেসে এলো না। সেকেন্ড পেরুলো নিশ্চিন্তেই। এরপর বিকট একটা শব্দ হলো। এত তীক্ষ্ণ শব্দ যে সোজা এসে টেলিফোন ফুঁড়ে যেন জোহরার কানে এসে বিঁধল। 
 জোহরা চমকে গেলো। ভয়ও পেলো বেশ। মৃদু চিৎকার আপনা-আপনি বেরুলো মুখ থেকেই। জোহরা সঙ্গে সঙ্গে নিজের মুখ চেপে ধরল নিজেই। 

 পরক্ষণেই ফোনের ওপাশের লোকটার অগ্নিঝরা চিৎকার শুনতে পেলো সে,
“সিকান্দার, উনাকে সরাও আমার চোখের সামনে থেকে। ওরা ভুলে গিয়েছে রাজনীতির বাপ কে। ওরা ওদের বাপকে চেনে না? হ্যাঁ?”

 এরপর আরও একটি ভীত কণ্ঠ পেলো জোহরা। বয়স্ক পুরুষালি কণ্ঠ সেটি। লোকটার থমথমে স্বর, “তুমি অন্যায় করছ, মেজবাহ্। তুমি তোমার বদ্ধ ঘরে আমায় ভয় দেখাতে চাইছো?”

  মানুষটার কণ্ঠ আরও চওড়া হলো যেন। শব্দও হলো সঙ্গে। শব্দ কীসের জোহরা বুঝতে পারল না। কিন্তু দূর থেকে ঠিক ঠিক জোহরা কথাগুলো শুনতে পেলো,
 “ভয় পাচ্ছেন? ভয় পান, ভয় পান। হ্যাঁ, আমি ভয় দেখাচ্ছি আপনাকে। পান ভয়।”

 বয়স্ক কণ্ঠটির থমথমে ভাব পাল্টে আকুতি ধরা দিয়েছে যেন, “আমি তোমার চাচা হই, মেজবাহ্!”

 “আমি আপনার কী হই বলেন তো? বাপ হই। মেজবাহ্ শেখ আপনার বাপ হয়। ভুলে গেছেন সেটা? বলেন, বলেন আপনার বাপ কে? বাপকে ভুলে গেলে শাস্তিতো পেতেই হবে। সিকান্দার, গানে বু লে ট কয়টা আছে? বুক ঝাঁঝরা হবেতো?”

 জোহরা আরও আঁতকে উঠল। সেই কথোপকথন আর শোনার সাধ্যি নেই তার। তাই খট করে কেটে দিলো লাইনটা। হাঁপাচ্ছে সে অনবরত। এই লোক এত ভয়ংকর? অথচ গত দেড় বছরে একটাবারও তো এত ক্ষুব্ধ ভাবে তার সাথে মানুষটা কথা বলেনি! মেজবাহ্ শেখ ওরম বয়স্ক লোকটার বাপ হয়? নির্লজ্জ লোক! কেমন করে বলল কথাটা?
 জোহরা জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে বুকটা হালকা করল। ভয় পেলেও এই তেজটার প্রতি যে সে দুর্বল সেটা কি তার মন জানে না? অবশ্যই জানে। জানে বলেই তো সে শুনে সেই কণ্ঠ। টেলিভিশনের পর্দায়, টেলিফোনের অপেক্ষায় এই কণ্ঠ শুনতেই উন্মুখ হয়ে থাকে সে। ঐ তেজী কণ্ঠে কিছু তো মাদকতা আছে। নয়ত সে কেন আটকাবে?

 সেই যে বছর দুই আগে সিলেটে দেখেছিলো লোকটাকে! চারপাশে ছোটাছুটি, গোলাগুলির মাঝে কিশোরী জোহরাকে যে হাত ধরে উঠিয়ে ছিলো, চেপে ধরেছিলো বুকে…এরপর আর জোহরার দেখার শেষ হয়নি। এ-ই তো সেই লোক, সেই পুরুষ যার চোখে জোহরার সমগ্র সিলেটকে দেখা হয়েছিলো।

জোহরার চিৎকারে ছুটে এলো সতেরো বর্ষীয়া টুইটুবানি। সিঁড়ি দিয়ে ধপধপ করে আসতে আসতেই বলতে লাগল,
“মেঝো আপা, চিৎকার দিছিলেন কেন? রাস্তা থেকে আপনার গলা শুইনা ছুটলাম। কী হইছে আপা? ঠিক আছেন? কত কই দোতালায় উঠলে আমারে নিয়া আইবেন। আপনার মতো সুন্দর সুন্দর মাইয়াগো উপর কত জিনপরীগো নজর থাকে জানেন?”
 
 রাজ্যের কথা বলে ফেলল মেয়েটা সিঁড়িতেই। জোহরা টেলিফোনটা থেকে এমন ভাবে ছিটকে গিয়ে দূরে দাঁড়ালো যেন এই যন্ত্রকে সে চেনে না। কখনো দেখেইনি। জীবনে প্রথমবার দেখেছে।

 টুইটুবানির লাল চমকালো লিপস্টিক কিছুটা লেপ্টে গিয়েছে ঠোঁটের উপরে। গলায় এখনো ভেসে আছে পাউডার। ঘ্রাণটা পেয়েই জোহরা বুঝতে পারছে পাউডারটা তার। বড়ো ফুপি অস্ট্রেলিয়া থেকে নিয়ে এসেছিলো তার জন্য। 
 জোহরা চোখ সরু করে। প্রসঙ্গ পাল্টাতেই জহুরি কণ্ঠে প্রশ্ন ছুঁড়ে,
“রাখ তোর জিনপরী। তুই আগে বল তুই আমার পাউডার দিয়েছিস?”

মুহূর্তেই টুইটুবানি থেমে গেল সিঁড়ির মাথাতে। ধরা পড়ে যাওয়া চোরের মতো চোখ ঘুরাতে লাগলো এদিক সেদিক। আপাটার এত চোখের ধার! একটু লুকিয়ে রাখতে পারে না সে পাউডার দিয়ে। মুখেতো সে ডলে ডলে দিয়েছিলো পাউডারগুলো যেন বোঝা না যায়। তাহলে আপা বুঝল কেমন করে?
টুইটুবানি তার সুতি ওড়নাটির কোণা দিয়ে গালগুলো মুছতে মুছতে বেশ অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিথ্যে বলল,
“কই আপা? দেহেন কিচ্ছু নাই! এই যে দেখেন ডলতাছি, উঠছে কিছু? আপনিও না সামাইন্য একটু বিদেশি পাউডার পাইয়া কেমন করেন। অমন পাউডার আমরা ছুঁইয়াও দেহি না।”
 বেশ গর্বের সহিত শেষের বাক্যটি বলল টুইটুবানি। এমন আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে যে কেউ মিথ্যা বলতে পারে তা টুইটুবানিকে না দেখলে কেউ বুঝবে না। 

 জোহরা বুকের উপর আড়াআড়ি করে রাখল নিজের হাত দু'টো। বা' ভ্রুটি নাচিয়ে মাথা নাড়তে নাড়তে বলল,
“তোর পাউডার গালে না, গলাতে। মোছার হলে গলাটা মোছ। আর পাউডার ছোঁয়ার জিনিস না, মাখারই জিনিস। মাখলে তো সমস্যা নেই কিন্তু তুইতো রীতিমতো গোসল করে ফেলিস সেটা দিয়ে। আর সেসব ভেসে ভেসে থাকে তোর মুখ, গাল, গলাতে।”

 টুইটুবানি বেমালুম ভুলে গেলো একটু আগের হওয়া শব্দটির কথা। যেমন উৎকণ্ঠা আর ব্যস্ততা নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠেছিলো তেমন তাড়া নিয়ে নামতে নামতে জবাব দিলো,
 “একটু পাউডারের জন্য এত কথা কইবেন? আব্বারে আর ইমন ভাইরে বইলা এমন পাউডার আমি আরও আনামু। মানুষের ভালোও করতে নাই। চিল্লান দিলেন বইলা দেখতে আইলাম আর আপনে আমারে পাউডারের খোঁটা দিলেন।”

 টুইটুবানি চলে গেলো বিড়বিড় করতে করতেই। জোহরা বাঁচলো হাঁফ ছেড়ে। ভাগ্যিস মেয়েটা দেখেনি ওকে টেলিফোনের কাছে! নয়ত বাবাকে গিয়ে ঠিক ঠিক নালিশ করে দিতো। এ বাড়িতে বাবা ব্যতীত তাদের সকলের যে টেলিফোন ধরা নিষেধ। বড়ো আপার… 
 জোহরা আর সেসব অতীতে গেলো না। স্কার্টটা হালকা উঁচু করে ছুটল সিঁড়ি ভেঙে নিচে। আজ সাতটায় টেলিভিশনে লোকটার একটা সাক্ষাৎকার আছে। এখন থেকে টেলিভিশনের রিমোর্টটা নিজের হাতে না রাখলে টুইটুবানির জন্য আর দেখতে পারবে না। মেয়েটা এত সিনেমার পাগল! ঘরভর্তি করে রেখেছে সিনেমার পোস্টার দিয়ে। সিনেমা মেয়েটার জীবনের একটা অংশ। জানপ্রাণও বলা যায়। 

—————

   মেজবাহ্ শেখের প্রথম গুলিটা গিয়ে লেগেছে আফসার উদ্দিনের কাঠের চেয়ারের পায়াতে। লোকটা এতেই যা ভয় পেয়েছেন যেন দমই বের হয়ে যাবে। দ্বিতীয়বার আর ভয় দেখানোর প্রয়োজন পড়েনি। বেশি ভয় দেখালে ভয়টাই ভেঙে যাবে বলে মেজবাহ্ শেখ সামান্য শাসিয়েই ছেড়ে দিয়েছে লোকটাকে। ছাড়িয়েই যখন টেলিফোনটা কানে চাপল দেখল ততক্ষণে কল বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে যথারীতি। মেয়েটা আজ বেশি হেঁয়ালি করার সুযোগই পায়নি। না-কি ভয় পেয়েছে? কণ্ঠ শুনলেতো মনে হয় কিশোরী হবে নেহাৎ! নির্ঘাত গু লির শব্দেই ফোন রেখেছে। মেজবাহ’র কপাল কুঁচকে এলো। হাতের ব ন্দু কটি টেবিলের উপর রাখতে রাখতে আনমনেই বলল, 
 “ভয় পেলো না-কি ও? সিকান্দার, আমি কি খারাপ কিছু বলেছি লোকটাকে?”

 সিকান্দার নামের ছেলেটি দাঁড়িয়ে ছিলো মেজবাহ শেখের থেকে কিছুটা দূরেই। মেজবাহর ধীরে বলা কথাটিও তার সজাগ মস্তিষ্কে দ্রুতই প্রবেশ করল। তারও ভ্রু কুঁচকে এলো এমন প্রশ্ন শুনে। তাদের নেতার কি আজকাল কিছু হয়েছে? ভয় দেখানোর জন্য এত ঝুঁকি নিয়ে চেয়ারের পায়ে অব্দি গুলি ছুঁড়তে ভুল করলেন না আর এখন জিজ্ঞেস করছে ভয় পেয়েছে কিনা? যেন কাউকে গুলি ছুঁড়লে ভয় না পেয়ে আনন্দ পাওয়ার কথা?
“ভাই, আপনি তো আফসার উদ্দিনকে ভয়ই দেখাতে চেয়েছিলেন। মনে হলোতো ভয় পেয়েওছে!”

  “আরেহ্! আফসার উদ্দিনের কথা জিজ্ঞেস কোথায় করলাম? জিজ্ঞেস তো করলাম ফোনের মেয়েটির…” কথা সমাপ্ত না করেই থেমে গেলো মেজবাহ্। বোকার মতো সে কী বলে ফেলছিলো এখন? মেয়েটার কথা সিকান্দারই বা জানবে কীভাবে? তাছাড়া সে-ও বা কেন ভাবছে অহেতুক? কে মেয়েটি? একটি অপরিচিত ফোনকলের ওপারের মেয়েটিকে নিয়ে তারই বা এহেন ভাবনা কেন থাকবে? অদ্ভুত! 

 সিকান্দার চমকে উঠল, “মেয়ে! আপনি কোনো মেয়ের সাথে কথা বলছিলেন, ভাই?”

 
মেজবাহ্ সামলে নিলো নিজেকে। কপালে তার সেই পুরোনো গাম্ভীর্যতা টেনে আনলো জোরপূর্বক। তাকালো গভীর দৃষ্টিতে। যেই দৃষ্টির ভাষা জানা আছে সিকান্দারের। এই দৃষ্টির মানে হলো, সিকান্দারকে তার জায়গা দেখিয়ে দেওয়া। মেজবাহ শেখকে প্রশ্ন করার অধিকার সে কাউকে দেয়নি। নিজেকে বাবাকেও না। সেখানে সিকান্দারতো তার পোষা কর্মচারী! 
সিকান্দার দমে এলো খানিক। প্রসঙ্গ পাল্টাতেই হয়ত বলল,
 “ভাই ঢাকা থেকে একটা ছেলে এসেছে, সাংবাদিক। আপনার সাথে দেখা করতে চায়। আজ সকালে এসেছিলো একবার আপনার শিডিউল নিতে। কী করব?”

 “কোন চ্যানেলের? আর কোন বিষয়ে সাক্ষাৎকার চায়? আমার বাড়িতে আসা অব্দিতো নিষেধাজ্ঞা আছে এসব মিডিয়ার লোকদের। বলোনি ওকে?”

 “বলেছিলাম কিন্তু মনে হলো গোঁয়ারা ছেলে। বয়স পঁচিশ-ছাব্বিশ হবে।”

 “ছেলের বয়স দিয়ে আমার কী কাজ? পাত্রী দেখব? যতটুকু দরকারী ততটুকুই বলো।”

 সিকান্দার আবার থতমত খেলো। আমতা-আমতা করে বলল, 
 “আমাদের যে একটা ওষুধ ফ্যাক্টরির ওষুধ নিয়ে ঝামেলা হলো না? সেটার জন্য।”

 “কিন্তু আমিতো এই প্রসঙ্গ ধামাচাপা দিয়ে দিতে বলেছি। তাহলে এ এখানে এলো কেন? তুমি বলোনি ওকে?” মেজাবাহ'র কণ্ঠে এবার কিছুটা রুষ্ট ভাব স্পষ্ট। সিকান্দারের তাই জড়তা ভর করল শরীরে, 
 “বলেছিলাম কিন্তু ও একরোখামি দেখিয়েছে। বলেছে ইমন শিকদার তার পেশার জন্য সব করতে পারে।”

 “এত তেজ? ইন্টারেস্টিং। দেখতে হচ্ছে তবে। আমার সামনে কোনো সাপই বিষ দাঁত বের করতে পারবে না। হয় দাঁত থাকবে না, নয়ত সাপ।”
·
·
·
চলবে……………………………………………………

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

WhatsApp