-“হি..হিশাম?”
ব্যক্তিটি ঝুঁকে দাঁড়াল। মৌরির ডানগালে হাত রাখল সে। বৃদ্ধাঙ্গুল আলতোভাবে গালে বোলাল, বাকি রুক্ষসূক্ষ্ণ আঙ্গুলগুলো নরমভাবে গলিয়ে দিলো কানের পাশ দিয়ে। বড্ড নরম আর ফিসফিসানো আওয়াজে সে ঠোঁটের দুই ইঞ্চি দূরত্বে বলল,
-“বেল্লা...”
পরদিন মৌরির যখন ঘুম ভাঙল, তখন ঘড়িতে ভরদুপুর। অকস্মাৎ আসা জ্বর হঠাৎ করেই নেমে গেছে। গা ঘেমে আছে তার। শরীরে ব্যথা ও অস্বস্তি। একরাতের জ্বর অনেকটা প্রভাব রেখে তবেই গেছে। মৌরি পিটপিট করে চোখ খুলল।
পর্দার ফাঁক গলিয়ে মৃদু আলো যা আসছে, তাতে রুমটির অন্ধকার দূর হচ্ছে না। তবে এটুকু বুঝতে পারছে যে, সে সম্পূর্ণ অচেনা কোনো জায়গায় আছে। সে ত্বরিতে উঠে বসল। এদিক-ওদিক তাকাল। তার ব্যাগ? আর তার গায়ের পোশাক?
সে একটা কালো ওভার সাইজড টিশার্ট পরে ছিল। তার ব্যাগ পুরো রুম হন্যে হয়ে খোঁজার পরও পাওয়া গেল না। বারান্দার গ্লাসের পর্দা টেনে দিলো সে। পুরো রুম আলোকিত হয়ে এলো।
এটা একটা মাঝারি আকারের রুম ছিল। দেয়ালগুলো মোচা কালার, সিলিং অফ হোয়াইট আর ফার্নিচারগুলো কালচে বাদামি মিশেলে সাজানো। আহামরি ফার্নিচার নেই রুমটিতে। মৌরি চারপাশে চোখ ঘুরিয়ে নিল। তখনো তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই কথা।
সে এখানে নিজ থেকে আসেনি। এখানে তার থাকার কথা নয়। সে এখানে কীভাবে এলো?
তারপর কিছু ফ্ল্যাশব্যাক ক্যামেরার ক্যাপচারের মতো শব্দ তুলে তার চোখ ও মস্তিষ্কের সাথে বিপরীতক্রমে ফিল্মস্ট্রিপের মতো চলতে থাকল। অস্পষ্টভাবে, অসহ্য অবস্থায়, মস্তিষ্ক ঝালাপালা করে দেওয়ার মতো করে।
-“হিশাম?”
মৌরির চোখ বড়ো বড়ো করে তাকাল। তার সম্মুখে দরজা। উত্তেজনায় হাত-পা ঠান্ডা তার। দ্রুত ও উদ্বিগ্ন সংখ্যামাত্র পদক্ষেপে সে দরজার নব ঘোরাল। হৃৎপিণ্ড লাফিয়ে উঠল তার। ভয়ে, আতঙ্কে, অস্বস্তিতে তার সদ্য ঠান্ডা হয়ে আসা হাতটা ঘামতে লাগল।
শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে সে দরজা চাপড়াতে লাগল। হিশাম তাকে এখানে এনেছে? তাহলে এখন কোথায় সে? তাকে এভাবে আটকেই বা রেখেছে কেন?
কোনোভাবে কি সে কোনো ছেলে ধরার খপ্পরে পড়েছে?
কিন্তু ছেলেধরারা এত সুন্দর বাড়িতে থাকে না।
যদি হিউম্যান স্মাগলারদের কেউ তাকে এখানে এনে রাখে? তারপর পাচার করে দেয়?
তাহলে জামা চেইঞ্জ করাবে কেন?
ওয়েট.....
তার জামা? কে চেইঞ্জ করেছে? হিশাম? নাহ! এটা হতে পারে না। সে যতই তার কবুল পড়া স্বামী হোক না কেন, এভাবে তার সর্বোস্ব দেখে ফেলার কোনো অধিকার তার নেই। দুঃখে কষ্টে কান্না পেতে লাগল মৌরির। সে কান্না চিবিয়ে দরজায় কপাল ঠুকতে লাগল।
আর এতে করে কী হলো?
স্পষ্টতই মাথা ব্যথা বাড়তে লাগল। এ-ছাড়া আর কী?
মৌরি এক পর্যায়ে চেঁচিয়ে উঠল,
-“কেউ আছেন? দরজাটা খুলুন৷ আশেপাশে কেউ আছেন?”
সে খুব করে চাইছে, এই মুহূর্তে কোনো এক ফেরেশতা আসুক। এসে তাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করুক। সে বাঘের মুখ থেকে বেড়িয়ে যেই কুমিরের মুখে এসে পড়ল, সেখান থেকে যে তাকে উদ্ধার করবে, তাকে মৌরি পুরষ্কৃত করবে। পুরষ্কার স্বরূপ গুণে গুণে তিনটা চুমু খাবে, তাও প্যাশনেটলি।
দরজার নব ঘুরল। কেউ একজন দরজা খুলছে... খুশিতে মনটা লাফিয়ে উঠল মৌরির। হ্যাঁ, দরজার ওপাশে যদি কোনো নারী থাকে, তাহলে মৌরি নিশ্চয়ই নিজের কথা রাখ্....ওয়েট!
মৌরি না গতদিনই আশফিনকে বলছিল, সে মেয়েদেরকে চুমু খেয়ে নিজের স্ট্রেটনেসের চোদ্দটা বাজাবে না? তাহলে ছেলেজাতকে চুমু খাবে?
নাহহহহহহহহ!
মৌরি মনে মনে চিল্লিয়ে না করে উঠল। নিজের মনের কথা মনে মনে নিজের মনের ভেতর ফিরিয়ে নিতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই দরজা খুলে গেল। দরজার ওপাশে দাঁড়ানো ব্যক্তিটি আপাদমস্তক একজন পুরুষ।
তার পরনে কালো টিশার্ট, সাদা ট্রাউজার। হাতে কফির মগ। চোখে গ্লাসেস। এটা হিশাম ছিল না। গতকাল মৌরি যার কোলে চড়ে হাইওয়ের আড়াই ঘন্টার পথ অতিক্রম করেছিল, সে হিশাম ছিল না। যার গলায় মার্ক করে দিয়েছিল রাতে, সে হিশাম ছিল না।
মৌরি প্রয়োজনে একটা বিষাক্ত সাপকে চুমু খাবে, তবু এই ব্যক্তিকে না।
কারণ ব্যক্তিটি আজমীর সাহেব।
নওশাদ আজমীর।
ভ্রু উঁচিয়ে কটাক্ষবানে মারতে উদ্যত ব্যক্তি তখন বলে উঠল,
-“স্লিপ ওয়েল?”
মৌরি পারে না গরম কফিটা তার মুখে ছুড়ে দিতে, কিংবা দুইখণ্ড ইট দুইহাতে তুলে মাঝখানে লোকটার মাথা রেখে ইচ্ছামতো ছেঁচতে। সে অসহায়, সে অপারগ। তার শরীরে উপচে পড়ছে রাগ, জেদ, ঘৃণা আর অস্বস্তি।
সেসব অনুভূতির সবটা একযোগে চিবিয়ে মৌরি বলল,
-“কেন আমাকে তুলে এনে এখানে আটকে রেখেছেন আপনি? কী চান আমার থেকে? ওয়েট, আপনি জানলেন কী করে আমি ওখানে ছিলাম? ফলো করছিলেন আমাকে? আমার অর্গ্যান বিক্রি করে দিতে চান? টাকা-পয়সার অভাব পড়েছে আপনার? নাকি আমার সাথে শুতে চান? মেয়ের অভাব পড়েছে? আপনি...”
মৌরির ননস্টপ বলে যাওয়া কথার তাল কাটল তখন, যখন নওশাদ একটু বিরক্ত হয়েই তাকাল,
-“আপনি ততটা ইম্পর্টেন্ট নন, যতটা নিজেকে ভাবেন।”
কথা আটকে গেল মৌরির। ঘাড় বাঁকা করে তাকাল। অবুঝ ভান করে বলল,
-“ওহ তাই? তাহলে আমাকে এখানে তুলে এনেছেন কেন? হাঁস পালাতে? নিশ্চয়ই তাই? তা না হলে মুরগী পালতে? এগুলোও না হলে ওয়াশরুম ক্লিন করতে, তাই না? তবে এইসবে তো আমি গুরুত্বপূর্ণ ক্যারেক্টার প্লে করব। তাহলে কীজন্য এনেছেন? আপনার বেরসিক জোকসে হা হা করে হাসার জন্য?”
নওশাদ ভ্রু কুঁচকে তাকাল,
-“না।”
মৌরি ফোঁস ফোঁস করতে লাগল,
-“না? তাহলে কী? কী সমস্যা আপনার? কথা বলতে পারেন না? কথা শিখেননি? আপনি আগা টু গোড়া একটা আপদ, যে আমার জন্য দুনিয়ার সকল বিপদ একসাথে নিয়ে হাজির হয়েছে। আর আমার স্বামী? একমাত্র আপনি এক কুফা, যার জন্য আমার স্বামীকে পাচ্ছি না। আপনি এসব ছাড়েন.. এটা বলেন আগে। আমাকে এখানে তুলে এনেছেন কেন? রাতে কীজন্য ওখানে এসেছিলেন? আমার না-হয় জ্বর ছিল, ঘুমের তালে ছিলাম, আশেপাশে ভূত-প্রেত ছিল। তাই আপনাকে হিশাম ভেবেছি। আপনি কেন আমার ভুল ভাঙেননি? আমি যখন হিশাম বলে ডাকলাম, আপনি তখন নিজের পরিচয় না দিয়ে নাচতে নাচতে আমাকে ‘বেল্লা’ বলে ডাকলেন কেন?
কীজন্য? উত্তর দিন!”
নওশাদ কফির মগটা সামনে এগিয়ে দিয়ে বলল,
-“আমার দেশে সুন্দরী নারীদের বেল্লা বলা হয়।”
মৌরি সঙ্গে সঙ্গে বলল,
-“আমি জানি। এটা একটা আদুরে ডাকনাম। হিশাম আমাকে ছোটবেলায় অনেক সুন্দর সুন্দর ডাকনাম শিখিয়েছিল। এটা ওটার মধ্যে একটা। সুন্দরী নারীদের আদর করে বেল্লা ডাকা হয়। কিন্তু আপনি কেন আমাকে এই নামে ডেকেছিলেন?”
নওশাদ একটু কনফিউজড হয়ে কফির মগের দিকে তাকাল, যেটা তখনো মৌরির দিকে তুলে রাখা, সে ধীর শব্দে বলল,
-“চোখে কম দেখেছিলাম রাতে।”
মৌরি কফির মগটা হাত থেকে নিয়ে পাশের টেবিলের ওপর রেখে বলল,
-“মানেহহহ্? কী বলতে চাইছেন? আপনি আমাকে অন্যকেউ মনে করেছিলেন? নাকি বলতে চাইছেন আমি সুন্দরী নই? অ্যান্সার মি!”
নওশাদের ঠোঁটের বাঁ পাশ দিয়ে বাঁকানো চাঁদের মতো কিছু একটা খুবই অল্প সময়ের জন্য এসেছিল। কারো দৃষ্টিজালে তা আটকে যাওয়ার আগে চলেও গেল। সে একই স্বরে বলল,
-“সেকেন্ডটা।”
-“আমি সুন্দর নই? আমি? সুন্দর নই? আ-মি? সু-ন্দ-র নই? ন-ই? আ—মি?”
মৌরি ভেঙে ভেঙে বলতে লাগল বার বার। তার কথা বলার সবচেয়ে প্রিয় ভঙ্গিমায় আবারও আবৃত হয়ে গেল সে। অপমান চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
-“তাহলে তুলে এনেছেন কেন?”
-“আপনি নিজেই আমার কাঁধে চেপে বসেছিলেন। নামিয়ে দিলে অন্য কারো ঘাড়ে চড়তেন। তাই লোকগুলোকে বাঁচালাম আপনার থেকে। এটুকুই।”
অপমানের উপর দিয়ে অপমান, আর সেই ঘাঁয়ের উপর দিয়ে লেবু, লবন আর মরিচ মাখানো পেস্ট লেপটে দিলো। মৌরি নিজেকে শান্ত রাখার আপ্রাণ প্রচেষ্টায় দীর্ঘশ্বাস টানল। একটু শীতল হলো সে। মাথা ঠান্ডা করল। থেমে থেমে শব্দ উচ্চারণ করল,
-“কালকে রাতে আমাদের মধ্যে কী হয়েছিল?”
এ পর্যায়ে নওশাদ ঠোঁট চেপে কাশল, সরু চোখে তাকিয়ে বলল,
-“ওয়ানা সী?”
ওপর-নীচ মাথা নাড়ল মৌরি,
-“হুম, হ্যাঁ।”
নওশাদ নিজের ট্রাউজারের পকেট থেকে ফোন বের করল। তারপর দক্ষ আঙুলে কিছু স্টেপ এগিয়ে, রুমের এককোণায় থাকা সিকিউরিটি সিস্টেমের ফুটেজ ফোনের স্ক্রিনে প্লে করল। সেখানে স্পষ্টভাবে মৌরি বিছানায় বসে রয়েছে, নিজের দুইহাত দুইদিকে ছড়িয়ে দিয়ে, ঠোঁট চৌকা করে। ভিডিয়োতে এখান থেকে দুই সেকেন্ডের মাথায় সে নওশাদকে বলে উঠল,
-‘বেইবে, আসো, তোমাকে চুম্মি দেবো, একদম কষে চুম্মি, ফ্রেঞ্চটা। না পারলেও সমস্যা নেই। আমি অনেক বই পড়েছি, আমি পারি৷ আমি শেখাব তোমাকে।’
নওশাদ তর্জনী আঙ্গুল মৌরির কপালে ঠেকিয়ে ওকে কিছুটা পিছে সরিয়ে বলল,
-‘নট ইনট্রেস্টেড।’
মৌরি সেই আঙ্গুলটাকে দুইহাতে সরিয়ে কাছ ঘেঁষার চেষ্টায় বলল,
-‘তুমি গরম। আমি গরম। আমরা দুইজন গরমাগরম। আসো চুমি খাই।’
নওশাদ বুকে হাত গুঁজে দেয়ালের সাথে হেলান দেওয়া অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে,
-‘ক্যালেন্ডারে এটা জানুয়ারি।’
মৌরি তখন নওশাদের খুব কাছাকাছি। একহাত দেয়ালে ঠেকিয়ে তার দিকে ঝুঁকে বলল,
-‘তো? জানুয়ারি মাসে মানুষ কিস করতে পারে না? ইউ আর ট্যু রুড বেইবে-বয়।’
—————
মৌরি প্রথমে ফোনের স্ক্রিনের দিকে, এরপর দক্ষিণ-পশ্চিম দেয়ালের কোণায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার দিকে তাকাল। প্রথমত সে ভালোমতেই জানে, এখানে শেষ হয়নি। আরও আছে। আর দ্বিতীয়ত বেডরুমে কে ক্যামেরা লাগায়? তার ইজ্জতের খেতা পোড়া শেষ তো সেই কখনই হয়েছিল। আর এখন যেটা হলো? সেটার পর আর কিছু বাকি থাকে না। মৌরি ফোনটা হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ভিডিয়ো ডিলিট করে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
-“এটা এআই।”
নওশাদ দুটো ক্ল্যাপ করে বলল,
-“আই অ্যাপ্রিশিয়েট ইওয়োর সেনস অভ হিউমর।”
মৌরি নিজেও জানে এটা এআই নয়৷ সুতরাং এমন সাফাই তার নিজেকে দেওয়া নিজের এক অযৌক্তিক যুক্তি ছিল, যার একবিন্দুও প্রতিপক্ষ বিশ্বাস করেনি। সে আবার বলল,
-“আমি শিওর আমার ওপর তেনারা ভর করেছিল। নয়তো দুনিয়াতে আপনি শেষ বান্দা হলেও আপনার মুখ লাগবো না আমি।”
মৌরি প্রসঙ্গক্রমে আবারও বলল,
-“আর আমার শার্ট? কে চেইঞ্জ করেছে? কোনো মেইড?”
নওশাদ দরজার দিকে ঘুরেছিল ততক্ষণে। মৌরির প্রশ্নে সে থামল। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছে তাকাল।। ছোট্ট করে বলল,
-“আমি।”
রাগে-দুঃখে মৌরির গাল লাল হয়ে উঠল। এক প্রকার চেঁচিয়েই বলল,
-“আপনার.. আপনার লজ্জা করে না একজন ম্যারিড নারীর ড্রেস চেইঞ্জ করতে?”
রুম ত্যাগ করার আগ মুহূর্তে নওশাদের থেকে পাওয়া মৌরির জবাবটা শুধু এটুকুই ছিল,
-“নাহ্।”
বিছানায় বসে পড়ল মৌরি। নিজের মাথার সবগুলো চুল টানতে লাগল। সে এমন এক জঞ্জালে এসে পড়েছে, যেখান থেকে যত বেরোতে যাচ্ছে, ততই জড়িয়ে পড়ছে। তার ব্যক্তিজীবন এক সপ্তাহ আগেও খুব চমৎকার ছিল। আর এখন? খিদেয় পেটের ভেতরটা জ্বলতে লাগল তার।
সে আর্তনাদ করতে লাগল,
-“হিশাম? কোথায় তুমি? তুমি কি জানো, সব দোষ তোমার? কেন তুমি আমার জীবনটাকে এভাবে এলোমেলো করছো? কেন? যদি চলে যাওয়ারই ছিল, তবে এসেছিলে কেন জীবনে? তুমি কি আমাকে আর চাও না?”
মৌরির ক্ষোভ, রাগ, জেদসহ সকল কিছুই কমে এলো। দুঃখটা কমল না। কণ্ঠের ক্লান্তি গেল না। সে অনেকটা সময় পর জড়ানো গলায় বলল,
-“একবার সামনে আসো! প্লিজ। তুমি যে আমাকে চাও না, অন্তত এটুকুই এসে বলো। আই প্রমিজ, আমি সব অধিকারবোধ তুলে নেব, সব দায় মুছে ফেলব। আমি তোমাকে আর জ্বালাব না। আর একবারের জন্যও চাইব না...”
মৌরি বিছানায় গুটিশুটি মেরে শুয়ে পড়ল। এককাত হয়ে। হাঁটু ভাঁজ করে বুক বরাবর তোলা। চোখের পাশের অশ্রু শুকিয়ে যেতে লাগল।
সিলিংয়ের মাঝ বরাবর একটা লাল বিন্দু অকস্মাৎ জ্বলে উঠল, যেটা প্রমাণ করে রুমে একটি নয়, বরঞ্চ দুটো ক্যামেরা রয়েছে। একটা সদ্য লাগানো, সবাই দেখতে পারে। আর অন্যটা? গোপনে। লাগানো হয়েছিল আজ থেকে একযুগ আগে।
মৌরি তখনো জানে না, এটা সেই বাড়ি যেটা নওশাদ আজমীর কিছুদিন আগে রেনোভেশন করিয়েছে বা করাচ্ছে। মৌরি কখনো জানবে না—রুমের মধ্যে তার অবস্থানকালের এই রাত থেকে বিকেল অবধিকার লাইভ ফুটেজ কোনো একজনের চোখের সামনে বড়ো স্ক্রিনে চলছে।
ব্যক্তিটি চোখে হাসল, বিড়বিড় করে বলল,
-“গেটিং ইমপ্যেশেন্ট, ডার্লিং? হাউ ডেসপারেট্...”
·
·
·
চলবে……………………………………………………