তেহরাব তনয়ার দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে নরম স্বরে বলে,
"হয়তো শতবার কিংবা হাজারবার। তবে তেহরাবের জীবনে প্রেম এসেছিল একবার। আর সেখানেই তেহরাব আটকে গিয়েছিল।"
তনয়া মুচকি হেসে তেহরাবের দিকে তাকায়। তেহরাবের বুকে ঘুমিয়ে আছে আরিশ আর তিতলি। তনয়া প্রেগন্যান্সির ছয়মাস চলছে৷ সংসার, বাচ্চাকাচ্চা, তেহরাব সাথে পড়াশোনা তো আছেই সব কিছু সামলে চলতে হচ্ছে তাকে। তেহরাব যেন দিনদিন আরো বাচ্চা হয়ে যাচ্ছে নিজেও। কি রেখে কি যে করে।
"জানিস তনয়া একটা কথা তোকে বলা হয়নি।"
তনয়া চমকায়। ভ্রু উচিয়ে জিজ্ঞেস করে,
"কি?"
তেহরাব আরিশ তিতলির দিকে তাকিয়ে বলল,
"আমি তোকে অল্প ভালোবাসি।"
তনয়া হেসে উঠে। তেহরাব তো তার এলোকেশীর এই হাসি মুখটা দেখার জন্যই কথাটি বলেছে। তনয়া তেহরাবের কাঁধে মাথা রেখে বলে,
"আমারো একটি কথা বলা হয়নি।"
তেহরাব নিজেও প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে তনয়ার দিকে তাকায়,
"কি? কি বলিস নি?"
তনয়া গলায় একটু গম্ভীর ভারি ভাব এনে বলে,
"বলব না।"
তেহরাবের কপালে ভাজ পড়লো। তনয়ার দিকে গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
"বলবি না মানে? একটা মারব কানের নিচে তিনদিন কথা শুনতে পারবি না।"
"হুহ আপনার এত সাহস আছে নাকি?"
তনয়ার মুখ ভেঙানো কথা শুনে তেহরাব দীর্ঘশ্বাস ফেলে। আসলেই সে পারবে না। একটু আকটু ভয় ও দেখাতে পারে না আজকাল।
"তনয়া।"
"হু?"
"ভালোবাসি।"
"কতটা?"
"অল্প।"
তনয়া হাসে তেহরাবের কথায়। চোখ বন্ধ করে বলে,
"আমিও ভালোবাসি।"
তেহরাব মৃদু হেসে প্রশ্ন করে,
"কতটা?"
তনয়া নিজের পেটে হাত রেখে বলে,
"গোটা পৃথিবী সমপরিমাণ।"
"মাত্র?"
তনয়া হাসে। তেহরাবের কানের কাছে বিড়বিড় করে বলে,
"এই গোটা মহাবিশ্বের যত ভালোবাসা যেখানে শেষ হবে সেখান থেকেই শুরু হবে আপনার প্রতি আমার ভালোবাসা। সেটা কি পরিমাপ করা যায়?"
তেহরাব তনয়ার দিকে তাকায়। স্মিত হেসে বলে,
"ভালোবাসি।"