চুল ছাড়ুন অভ্র ভাই… ব্যথা পাচ্ছি আমি…। আআআআআ….,,,
অভ্র কোনো দয়া-মায়া না দেখিয়ে চুল ধরেই, টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে।
রাহা নিজেকে ঠিকমতো সামলাতে পারছে না—বারবার গাউনের সাথে পা জড়িয়ে পড়ে যেতে যেতে সামনে এগোচ্ছে। তাড়াহুড়োর সেই টানে পা অনেক জায়গায় ছিলে গেছে। হঠাৎ ব্যথায় চিৎকার করে সে মাটিতে বসে পড়ল।
এই দৃশ্য দেখে অভ্র এক মুহূর্ত থামল, তারপর আচমকাই রাহাকে কাঁধে তুলে নিল। সোজা সিঁড়ি বেয়ে উঠে নিজের রুমে নিয়ে গিয়ে ধপ করে বিছানায় ফেলে দিল।
রাহা তাড়াতাড়ি উঠে বসতেই অভ্র সামান্য ঝুঁকে এগোতে লাগল, আর রাহা ভয়ে পিছাতে লাগল। পিছাতে পিছাতে একসময় খাটের সাথে পিঠ ঠেকে গেল।
“আর কত পিছাবি? যা, খাট ভেঙে ফেল, পারলে দেয়ালটাও ভেঙে ফেল!”
পরমুহূর্তেই কিছু একটা ভেবে দ্রুত সরে এসে কাবার্ড থেকে কিছু কাগজ আর কলম এনে রাহার সামনে ছুঁড়ে দিলো।
— “নে, সাইন কর।”
রাহা অবুঝ চোখে কাগজগুলোর দিকে তাকিয়ে আবার অভ্রর দিকে চাইল—চোখেই প্রশ্ন, কিসের কাগজ?
অভ্র তার সেই দৃষ্টি দেখেই ঠান্ডা গলায় বলল,
— “এত বুঝতে হবে না। যা বলছি, কর।”
রাহা সই করছে না দেখে তার কণ্ঠ আরও কর্কশ হয়ে উঠল,
— “কিরে বান্দি, সই কর।”
— “আমি কোনো কাগজে সই করবো না।”
কথাটা শোনামাত্র অভ্র হঠাৎ তাকে হেঁচকা টানে বিছানা থেকে তুলে নিজের সামনে এনে ঘুরিয়ে দিল। আলতো হাতে চুলগুলো একসাইডে সরিয়ে ঘাড়ের কাছে মুখ ঝুঁকিয়ে আনতেই রাহার পুরো শরীর কেঁপে উঠল। অপ্রত্যাশিত সেই স্পর্শে তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে গেল।
রাহা দু’হাতে নিজের জামা মুঠো করে ধরে চোখ বন্ধ করে বড় বড় শ্বাস নিতে লাগল।
তখনও অভ্রের ঠোঁট তার ঘাড়ে লাগেনি। রাহার ঘাড় আর ঠোঁট ছুঁই ছুঁই দূরত্ব।
অভ্র নিজেই তার ঠোঁট লাগায়নি শুধু উষ্ণ নিশ্বাস আছড়ে পড়ছে ।
কয়েক মুহূর্ত পরই হঠাৎ চোখ খুলে অভ্রের দিক ঘুরেই পুরো শক্তি দিয়ে তাকে ধাক্কা দিল। অভ্র তখন যেন নিজের মধ্যেই ছিল না, তাই সহজেই পুরুষালী দেহটা দুই কদম পিছিয়ে গেল। তার ঠোঁটের কোণে শয়তানি হাসি।
— “কি করছেন আপনি! এসব কী?”
অভ্র নির্লিপ্ত স্বরে বলল,
— “যেটা আগেই করা দরকার ছিল।”
— “ছি… লজ্জা করে না? একটা অবিবাহিত মেয়ের সাথে এসব—”
— “একদমই না।
তুই আমাকে ভালো নজরে দেখ বা খারাপ নজরে,,আমি কিন্তু দুইদিক দিয়েই সেরা।"
তারপর আরও নিচু, হুমকির সুরে বলল,
— “সাইন না করলে কিন্তু এখানেই থামবো না।”
অভ্রর কথার ইঙ্গিত বুঝতেই রাহার ভেতরটা কেঁপে উঠল। ভয় আর অসহায়তায় হাত কাঁপতে কাঁপতে শেষমেশ সই করে দিল। কাগজটা পড়ার সুযোগও পেলো না।
তার একটুকু সই হয়তো তাদের পুরো জীবনটাই বদলে দিতে চলেছে।
সই শেষ হতেই অভ্র ঝট করে কাগজটা নিয়ে কাবার্ডে রেখে এলো। তারপর ফিরে এসে কঠোর কণ্ঠে বলল—
— “এই বান্দি, তোর খুব নাচার শখ, তাই না?
আজ তোকে জীবনের নাচ নাচাবো…
এই না না জীবনের কেনো হবে, অভ্রের নাচ নাচাবো”
বলেই ঘরে রাখা কয়েকটা ড্রিংকসের বোতল একে একে মেঝেতে ছুড়ে ফেলল।
মুহূর্তেই কাঁচের বোতলগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে।
এই দৃশ্য দেখে রাহার মাথা যেন কাজ করা বন্ধ করে দিল। ভয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগল। অভ্র দ্রুত এগিয়ে এসে তার হাত ধরে টেনে বলতে লাগলো।
“যা, নাচ।”
“ভুল হয়ে গেছে ভাইয়া… আর করব না… আর কোনোদিন নাচব না…”
“তোর ভুলের গুষ্টি কিলাই!
কয়বার ভুল করে মানুষ,,,,!
চেনা নাই জানা যায়নি এসে আই লাভ ইউ বলে দেস আবার ছেলেদের সামনে নাচা তাই না।
যা, নাচ—আমি দেখবো। কুইক!”
– “প্লিজ ভাইয়া”
–“আমাকে আর ভাইয়া বলবি না”।…
–“তো কি বলবো”
– “সাইয়া”..
– “ঠিক আছে..বলে আবারও বলল কী”..!
– “কি না জ্বি”
আবারও ইশারায় দেখিয়ে দিলো যা নাচ।
কাঁচের ওপর কেউ কীভাবে নাচবে—এই প্রশ্নটা বুকের ভেতরই রয়ে গেল রাহার। এতটা নিষ্ঠুর কেউ হতে পারে—ভাবতেই পারছে না সে। কিন্তু মুখে কিছু বলার আগেই আবার ধমক এল,
“কি হলো? আমি তিন পর্যন্ত গুনব। বেশি কথা আমার পছন্দ না।”
এক,,দুই…
রাহা ধীরে ধীরে ভাঙ্গা কাঁচ গুলোর দিকে এগিয়ে গেল। ভয় আর কান্নায় তার পুরো শরীর কাঁপছে। পা তুলেও থেমে গেল এক মুহূর্ত—চোখে অসহায়তা, বুকভরা আতঙ্ক।
ঠিক যখন কাঁচের ওপর পা রাখতে যাবে, হঠাৎই মাথা ঘুরে উঠল। চারপাশ যেন ঝাপসা হয়ে গেল।
পড়ে যাওয়ার আগেই সন্তর্পণে দু’টি শক্ত হাত তাকে ঘিরে ফেলল।
মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আগেই থেমে গেল তার ভেঙে পড়া শরীর—অপর কারও দৃঢ় বাহুতে আটকে।
তাড়াহুড়োর সেই মুহূর্তে খেয়ালই করল না, অভ্রর পা সোজা গিয়ে পড়ল মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা ভাঙা কাঁচের উপর।
কচ্…!
ধারালো কাঁচ মাংসে ঢুকে গেল।
কিন্তু সে থামল না।
ব্যথার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না—বরং আরও দ্রুত রাহাকে জড়িয়ে ধরল, যেন পড়ে গিয়ে আর আঘাত না পায়।
তার পায়ের নিচে লালচে দাগ ছড়িয়ে পড়তে লাগল, কাঁচের ফাঁক গলে রক্ত উঠে এসে মেঝেতে ছাপ ফেলছে।
এক ঝটকায় বুকের সাথে টেনে নিল অভ্র।
শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁপা গলায় বলতে লাগল—
“জান রে… তোকে কিভাবে বুঝাই আমি…! তোর দিকে কারো নজর আমার সহ্য হয় না।
এই নয়টা বছর কোনো ছেলেকে তোর পাশে ঘেষার সুযোগ দেইনি। আজকে তাদের ওই নজর আমার সহ্য হচ্ছিলো না।…যদি বুঝতি, আমার মনের অবস্থা তাহলে হয়তো নিজেকেই লুকিয়ে ফেলতি।”…
আজকে তোকে আইনি ভাবে আমার করে নিলাম। শুধু কবুল বলা বাকি সেটাও খুব দ্রুত করে নিবো। তোকে নিয়ে দূরে চলে যাব, যেখানে শুধু তুই আর আমি, আমাদের একটা ছোট্ট পৃথিবী হবে…।”
—————
অভ্র একঝটকায় বাস্তবে ফিরে এলো।
নিবু নিবু চোখে তাকালো তার বুকে ঢলে পরে থাকা
প্রাণটার দিকে। তার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। কপালে একটা পবিত্র স্পর্শ একে দিলো।
দ্রুত তাকে আগলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। কাঁপা আঙুলে রাহার গাল ছুঁয়ে দেখল—নরম, নিস্তব্ধ… চোখ দুটো বন্ধ, শ্বাস আছে, কাঁপা হাতে তার মুখে চাপড় দিল হালকা করে—
“এই, চোখ খোল,,প্লিজ…”
সরি জান, আমার ফেইরি টেইল ।
তার গলায় প্রথমবারের মতো অসহায়তা স্পষ্ট।
বাইরে তখন ততক্ষণে তীব্র আওয়াজ শুরু হয়ে গেছে।
“অভ্র! দরজা খোল!” “কি হচ্ছে ভেতরে?!”
ধাপ… ধাপ…!
দরজায় আঘাত পড়ছে বারবার।
অভ্রর রুমটা সাউন্ডপ্রুফ—ভেতরের কোনো আওয়াজ বাইরে যায় না। তাই কাঁচ ভাঙার শব্দ, রাহার চিৎকার—কিছুই কেউ শোনেনি। কিন্তু বাইরে যা হচ্ছে, তার সবটাই পরিষ্কার ভেসে আসছে ভেতরে।
ভেতরে দাঁড়িয়ে অভ্র এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। চোখ চলে গেল মেঝের দিকে—ভাঙা কাঁচ, রক্তের দাগ, রাহার নিস্তেজ মুখে।
তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
দ্রুত পাশের টেবিল থেকে পানি নিয়ে এসে রাহার মুখে হালকা ছিটিয়ে দিল। তার কপালে হাত রাখল—গরম নিঃশ্বাস, কিন্তু কোনো সাড়া নেই।
“ড্যাম…” বলেই
অভ্র গেলো দরজা খুলতে।
দরজা খোলার সাথে সাথেই বাড়ির সবাই প্রায় ধাক্কা মেরে ভেতরে ঢুকে পড়ল।
একজন, দু’জন নয়—প্রায় সবাই একসাথে থমকে দাঁড়াল।
ঘরের দৃশ্যটা যেন কাউকে কথা বলতে দিল না।
মেঝেজুড়ে ভাঙা কাঁচ… লালচে রক্তের দাগ… আর বিছানায় অচেতন হয়ে পড়ে আছে রাহা। সবাই মনে করেছে রাহার পা কেটে গিয়েছে।
রাহাকে ঘিরে সবাই চিন্তিত হয়ে পড়েছে—কেউ তার কপালে পানি দিচ্ছে, কেউ হাত ধরে ডাকছে।
“রাহা ,মা, চোখ খোল,,কিছু বল…”
ইভান যখন রাহার দিকে এগিয়ে যায়। পালস রেট চেক করার জন্য হাত ধরতেই নিবে। তখনই
– “হেই ইউ,,স্টপ.
ডোন্ট টাচ হার”।…
ইভান ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো অভ্রের পানে।
অভ্রর চোখ দেখে মনে হচ্ছিল, হিংস্রতার প্রলেপ লাগানো।
--"ও ডাক্তারি পরছে ,ওকে দেখতে দেও বাবা।
কি অবস্থা হয়েছে আমার মেয়েটার।"
অভ্র মাথা নেড়ে প্রতিউত্তর করে
“নোপ”..
শিফা বলে ডাক দিতেই...
শিফা আর দেরি না করে দ্রুত ফোন বের করে তাদের পারিবারিক ডাক্তারকে কল দিল।
“আংকেল, প্লিজ তাড়াতাড়ি আসেন… রাহার অবস্থা ভালো না…”
সময় যেন থেমে গিয়েছিল।
প্রায় দশ মিনিটের মধ্যেই ডাক্তার এসে পৌঁছালেন। সবাই একটু সরে দাঁড়াল। তিনি ধীরে ধীরে রাহাকে চেক করতে লাগলেন—পালস, চোখের রেসপন্স, শ্বাস।
কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়িয়ে শান্ত গলায় বললেন—
“ভয়ের কিছু নেই। অতিরিক্ত ভয়ের কারণে জ্ঞান হারিয়েছে।”
ঘরে একটুখানি স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ল।
“সামান্য কিছু ওষুধ দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ ঠিক হয়ে যাবে। ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছি।
সময় ওভার হলেই জ্ঞান ফিরে আসবে।”
শিফা মাথা নাড়ল, ওষুধগুলো নিয়ে নিল। কেউ রাহার পাশে বসে রইল, কেউ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করল।
হঠাৎ করেই অভ্র বলে উঠল—
— “আউট।
আমার রুম ফাঁকা চাই, এখনই।”
কণ্ঠের কঠোরতায় সবাই থমকে গেল। বিস্মিত চোখে একে অপরের দিকে তাকাল।
সাথী বেগম কিছুতেই যেতে চাইছিলেন না, মেয়েকে এভাবে রেখে। কিন্তু আফসানা বেগম চোখের ইশারায় বুঝিয়ে ধীরে ধীরে তাকে নিয়ে বের হয়ে গেলেন। একে একে সবাই চলে গেল।
দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রইলেন শুধু আমান খান।
বের হওয়ার আগে থেমে, গম্ভীর গলায় বললেন—
“আমি এক মুহূর্তের জন্য ভেবেছিলাম… তুই হয়তো যোগ্য হয়ে ফিরে এসেছিস। কিন্তু এখন দেখছি, আমি ভুল ছিলাম।”
অভ্র হালকা হেসে উঠল—শূন্য, তিক্ত এক হাসি।
“ও আচ্ছা… এত তাড়াতাড়ি ভুল ভেঙে গেল আপনার? কংগ্রাচুলেশন, চেয়ারম্যান সাহেব।”
তার কণ্ঠে কটাক্ষ স্পষ্ট।
“আমি তো ভেবেছিলাম, আপনি আমাকে এখনও যোগ্যই মনে করেনি। আসলে বলুন তো—আমি যোগ্যটা ছিলাম কবে?”
আমান খানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
“যোগ্যতা কথায় প্রমাণ হয় না, কাজে হয়! আর আজ যা করেছিস—তার পরে তোকে কোনোভাবেই যোগ্য বলা যায় না!”
অভ্র সরাসরি তার চোখে চোখ রাখল।
“আপনি যেটাকে অযোগ্যতা ভাবছেন… আমি সেটাকেই নিয়ন্ত্রণ বলি।”
এক পা এগোতেই তার পায়ের রক্তের দাগ আবার মেঝেতে পড়ল।
“সবকিছু দেখে বিচার করবেন না… কিছু না বুঝলে চুপ থাকাই ভালো।”
- “তুই কি সত্যিই নিজেকে ঠিক মনে করিস?”
“আমি কখনোই বলিনি আমি ঠিক।” অন্তত আপনার চোখেই তো নাইই।
— “একটা মেয়ের এই অবস্থা তুই কী করে করলি?”
– এক্সকিউজ মি, একটা মেয়ে মানে।
আপনি কিন্তু ভালো করেই জানেন সব।
রাহা আমার কি হয়। আর আমি কিছু ‘করিনি’ বললে আপনি বিশ্বাস করবেন?”
— “বিশ্বাস করার মতো কিছু আছে আর!”
— “আপনি সবসময় ফল দেখেন, কারণটা না।”
— “কারণ যাই হোক—পরিণতি আমি দেখেছি!”
— “আর সেই পরিণতিটা সামনেই অচেতন রাহা মা।…”
অভ্রর চোখ এক মুহূর্ত স্থির রইল, তারপর নিচু, ভারী কণ্ঠে বলল—
“আমি রাহাকে কতটা ভালোবাসি… তার ধারণাও আপনার নেই। ওর জন্যই আমার দেশে ফেরা… ওর জন্যই সব ছেড়ে আসা।”
- “ওর প্রতি শুধু আমারই হক… কেউ এসে সেটা কেড়ে নিতে পারবে না। যাকে আমি নিজের বলে মেনে নিয়েছি, তাকে হারানোর প্রশ্নই ওঠে না। আমি একবার যা ঠিক করি, সেটা শেষ না করা পর্যন্ত থামি না… আপনি সেটা জানেন।”
আমার জিনিস… আমি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ে চলে যেতে পারি।”
আমাকে যতই অযোগ্য বলেন না কেন… আমি আজও আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। পালাইনি… জেঠা শশুর।”
শেষ শব্দটা বলেই চোখ টিপে দিল।
আমান খান বিস্ময়ে বড় বড় চোখে তাকিয়ে রইলেন।
“এভাবে তাকিয়ে লাভ নেই। আইনি কাজ সেরে ফেলেছি।”
“বজ্জাত ছেলে!”
“আমি তো আপনারই জাত।”
“চুপ হতচ্ছাড়া! রাহা মা’র ১৮ বছর শেষ হোক, আমি নিজের হাতে তোর কাছে তুলে দিবো।”
“আপনি তুলে দেওয়ার কে?”
আমার জিনিস আমি নিজেই নিতে পারি।”
এখন আপনি যান আপনার বউয়ের কাছে, আর আমিও যাব আমার বউয়ের কাছে।”
“ ছিঃ,নির্লজ্জ ছেলে কোথাকার,
এই একদম না! ওর মতামত না থাকলে আমি এই বিয়ে মানবো না—বলে দিলাম।”
তারপর অভ্র ঠান্ডা গলায় বলল—
“মতামত ছাড়া আমি ওর কাছে যাব না… এটা আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন।”
একটু থেমে, চোখে চোখ রেখে যোগ করল—
“কিন্তু এটাও বলে রাখি,,যখন দেখবেন, রাহা নিজের থেকেই আমার কাছে আসবে।”তখন কি করবেন জেঠা শশুর….।
বলেই ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে দরজা বন্ধ করতেই ,আবারও ভেসে এলো
আমান খানের কণ্ঠ
"পা টা ড্রেসিং করে নিস আমি কাউকে পাঠাচ্ছি"..
"দরকার নেই "বলেই দরজা লাগিয়ে দিলো
এই ছেলে যে এত টা বেপরোয়া হবে তিনি কল্পনাও করেনি।
দরজা বন্ধ করেই রাহার ঘুমন্ত দেহের পাশেই ।
ফ্লোরে বসে পড়ে। তারবিছোট্ট হাত দুটি নিজের হাতের আগলে এনে ছোট ছোট চুমু দিতে থাকে। আর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে তার অপ্সরা কে।
আল্লাহ’র তৈরি জিনিস কতই না সুন্দর।
আনমনে মুখ ফুটে বেরিয়ে গেলো
মাশাআল্লাহ…
“তুই চাস, বা না চাস
আমি তোর পিছু ছাড়ছি না, তোর আমাকেই ভালোবাসতে হবে।
আমি ভালোবাসা ছেড়ে নয়, কেড়ে নেওয়াতেই বিশ্বাসী।”
“তোকে প্রথম দেখার পর যেই অনুভূতি হয়েছিল
সেই থেকে আজ পর্যন্ত আমি কোনো মেয়ের দিকে তাকাই নি। আমার চোখে তুই ছাড়া কারো কোনো ছায়া নেই। তুই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
তোর জন্য আমি সবকিছু করতে পারি।
মারতেও পারি, আবার মরতেও পারি।”
একহাতে ফোন নিয়ে কল করে তার এসিস্ট্যান্ট জারিফ কে….
"কালকে যেন সব তৈরি থাকে..
ওই কু*ত্তার’ বাচ্চাদের শাস্তি না দেয়া পর্যন্ত আমার শান্তি হবে না"।
বলেই ফোন টা কেটে দিলো।
প্রিয়তমার মুখের দিক তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে তারও চোখ বুজে এল নিজেও ঠাওর করতে পারল না।
·
·
·
চলবে……………………………………………………