রুমের ভেতর ভোরের মিষ্টি রোদ জানালার পর্দা ভেদ করে চোখে পড়তেই রাহা কুঁকড়ে গেল। পিটপিট করে চোখ খুলতেই চারপাশটা অচেনা লাগল।
চোখ ঘুরিয়ে আশপাশ দেখল সে। দু’হাতে মাথা চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল,
— “একি,আমি কোথায়?”
আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসতেই দৃষ্টি গিয়ে থামল দেয়ালে টাঙানো বড় ছবিটার দিকে।
অভ্র ভাইয়া..
উনার রুমে আমি…!
হঠাৎ করেই সব মনে পড়ে গেল। গতকালের প্রতিটা ঘটনা যেন একে একে মাথায় ভেসে উঠল। কাঁচের ওপর পড়েছিল—এই কথা মনে পড়তেই তাড়াহুড়ো করে হাত-পা খুঁটিয়ে দেখল। কিন্তু কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।
হাফ ছেড়ে বলল,
— “যাক বাবা, বেঁচে গেছি…”
ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে দেখল একদম পরিষ্কার—চকচকে, ঝকঝকে। মনে হয়ই না, এখানে গতকাল কোনো তাণ্ডব হয়েছিল।
পরক্ষণেই নিজের দিকে তাকিয়ে থমকে গেল।
— “একি! আমার ড্রেস… এটা তো আমার না! কে চেঞ্জ করল?”
একটা অস্বস্তি ভর করল তার ভেতরে। চোখ ছোট করে চারপাশে তাকিয়ে মনে মনে বলল,
— “এই বদমাইশটা আবার ঘরে নেই তো…?”
সাথী বেগম এসে একবার মেয়েকে দেখে গিয়েছিলেন। রাহা তখনো ঘুমাচ্ছিল, তাই চুপচাপ রান্নাঘরে চলে যান সকালের নাস্তা তৈরি করতে। অভ্রর ওপর তার আগের মতোই বিশ্বাস আছে। মনে কষ্ট লাগলেও প্রকাশ করেননি। ভেবেছেন, হয়তো রাহাই কিছু ভুল করেছে—অভ্র তো অকারণে রাগারাগি করার মানুষ নয়।
কিছুক্ষণ পর আফসানা বেগম নাস্তা নিয়ে রুমে এলেন।
— “রাহা মা, উঠে গেছিস?”
— “বড় আম্মু…”
— “যা মা, ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নে।”
— “আমি আগে শাওয়ার নেবো বড় আম্মু। মাথাটা ভার লাগছে।”
— “আচ্ছা, তুই তোর রুমে যা, আমি খাবার নিয়ে আসছি।”
— “না, রুমে আসতে হবে না। আমি নিচেই আসছি। কলেজেও যাবো।”
আফসানা বেগম একটু থামলেন।
— “আজ না গেলেই হয় না মা…?”
রাহা হালকা হাসল,
— “গেলেই ভালো লাগবে।”
তিনি বুঝলেন—মেয়েটার উপর দিয়ে বড় ঝড় গেছে। তাকে নিজের মতো থাকতে দেওয়াই ভালো।
— “ঠিক আছে, তাড়াতাড়ি আসবি।”
রাহা চলে যেতে গিয়েও থেমে ফিরে তাকাল।
— “কিছু বলবি রাহা?”
— “আসলে… বড় আম্মু, তোমার ছেলে কোথায়?”
— “আমিও জানি না মা। হয়তো সকালেই বের হয়েছে।”
— “ওহ…”
বলে চুপচাপ চলে গেল সে।
আফসানা বেগমের মনে কষ্ট থাকলেও একটা অদ্ভুত তৃপ্তি কাজ করছিল—রাহার প্রতি অভ্রর গভীর টানটা তিনি স্পষ্ট দেখেছেন।
গত রাতে অভ্র রাহার হাত ধরে ফ্লোরেই বসে বসে ঘুমিয়ে পড়েছিল। আফসানা বেগম একবার এসে সেই দৃশ্য দেখেছিলেন। দরজাটা খোলা ছিল—ইচ্ছা করেই রেখেছিল অভ্র, যেন কারো মনে কোনো ভুল ধারণা না জন্মায়।
সে জানে, সে এমন কিছু করবে না যা তার চরিত্র বা রাহার সম্মান নষ্ট করে। যা হবে—ঠিকভাবে, সবার সামনে, হালাল পথে।
ইচ্ছে করলে অনেক কিছুই করতে পারত… কিন্তু সে চায় রাহার মায়ের সম্মতিতে তাকে নিজের করে নিতে।
আইনি বিয়ের কথাটা এখনো গোপন—শুধু তিনজন জানে: অভ্র আর তার বাবা-মা। এর পেছনেও কিছু কারণ আছে।
আফসানা বেগম সেই দৃশ্য দেখে চুপচাপ দোয়া করে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
—————
সকাল ৭:৩০
সবাই নাস্তার টেবিলে একে একে জড়ো হয়েছে। সবশেষে রাহা আসতেই সবার চোখে একটু চিন্তার ছাপ ফুটে উঠল।
রাহা বুঝে ফেলে বলল,
— “কি ব্যাপার? এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? আমাকে কি খুব খারাপ লাগছে?”
সবাই হেসে উঠল। আমান খান বললেন,
— “আরে রাহা মা, আমার মেয়েকে কখনো খারাপ লাগতে পারে?”
একসাথে সবাই বলল,
— “কখনোই না!”
হাসির রোল উঠল। শুধু ইভান চুপচাপ—মুখ গম্ভীর। রাহার অবস্থার জন্য তার মনে অভ্রর প্রতি চাপা ক্ষোভ জমেছে, যা সে প্রকাশ করতে পারছে না।
শিফা- ইভানের দিকে তাকিয়ে ভাবছে—এত গম্ভীর কেন সে।
কিছুক্ষণ পর জানা গেল, ইভানের একটা কাজ আছে—তাই আরও পাঁচ দিন ঢাকায় থাকবে। কিন্তু তার বাবা-মা আজই কুমিল্লায় ফিরে যাবে।
এই খবর শুনে রাহার মন খারাপ হয়ে গেল। খালাকে ছাড়তেই চাইছিল না। অনেক বুঝিয়ে, আয়াতের স্কুলের কথা বলে, শেষে রাজি করানো হলো।
আফরোজা বেগম বললেন,
— “তোর তো পাঁচ দিন পর পরীক্ষা শেষ। তারপর ইভানের সাথে আমাদের বাড়ি যাবি। কয়েকদিন বেরিয়ে আসবি। কুমিল্লা খুব সুন্দর—তোকে নিয়ে ঘুরব।”
সবাই চেষ্টা করেও তাদের আর একদিন রাখতে পারল না।
রাহার খালা মনে মনে অনেকদিন ধরেই একটা স্বপ্ন দেখেন—রাহাকে নিজের ছেলের বউ করবেন।
একদিন মজা করে তার বোনকে বলেছিলেন, “তোর পুতুলটাকে আমাকে দিস, আমি একেবারে পুতুলের মতো সাজিয়ে রাখব।”
রাহার মা ও বাবা তখন হেসে উড়িয়ে দিলেও, কথাটা তিনি মনে গেঁথে রেখেছেন। রাহার বাবা তখন জীবিত ছিলেন। তিনি ও বলেছিলেন ,"আপা রাহা আগে বড় হোক, আমার মেয়ে যেটা বলবে সেটাই হবে।"
যাওয়ার সময় খালা বলে গেলেন,
— “অভ্র যেন রাহার কাছাকাছি না আসে। এমন ডেঞ্জারাস ছেলের আশেপাশে আমার রাহা থাকবে না।”
সাথে সাথে সাথী বেগম বললেন,
— “আপা, তুমি ভুল বুঝছো। অভ্র তেমন নয়, খুব ভালো ছেলে।”
— “চুপ কর! কেমন ভালো ছেলে আমি দেখেছি কাল! দেশে এসেই মারামারি, আর রাহার সাথে যা করেছে—সব দেখিনি নাকি?”
— “হয়তো রাহাই কিছু ভুল করেছে…”
— “আচ্ছা আচ্ছা, থাক। তুই নিজের খেয়াল রাখিস। আর ওদের আবার পাঠাস—আমি অপেক্ষা করব।”
বিদায় নিয়ে তারা চলে গেল।
রাহা গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে ফিরছিল, তখনই দেখে তার দুই বান্ধবী—সাফা আর অবন্তিকা—এসে পরেছে।
দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে তারা বলল,
— “ঠিক আছিস তো রাহু ?” (তারা আদর করে রাহাকে রাহু বাইক ডাকে)
— “হুম, ঠিক আছি। আমার আবার কি হবে?”
এই উত্তর শুনে দু’জনই থমকে গেল। এই কি সেই রাহা—যে ছোট কিছুতেই দুইদিন মন খারাপ করে থাকে?
ওদের চুপ করে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাহা বলল,
— “এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবি, না ভেতরে আসবি?”
বলে নিজেই হাঁটতে শুরু করল। ওর পিছু পিছু দু’জনও ঢুকল।
— “তোরা বস, আমি রেডি হয়ে আসছি।”
দশ মিনিটের মধ্যেই তৈরি হয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল সে।
টানা তিন ঘণ্টা ক্লাসের পর ব্রেক।
প্রচণ্ড গরম। ক্যান্টিনে বসে তারা খাবারের অপেক্ষা করছে।
সাফা আর অবন্তিকাকে চুপচাপ দেখে রাহা বলল,
— “কি রে, কি হয়েছে?চুপ কেন.?
সাফা বলল ,
"রাহু তুই তো কিছু বলছিস না"..!
কালকের কাহিনী নিয়ে কিছু বলবি না?”
রাহা সবকিছু শেয়ার করে, কিন্তু গতকালের অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলো বলতে পারছে না—ইচ্ছে করেই এড়িয়ে যাচ্ছে।
দু’জন একবার একে অপরের দিকে তাকাল, তারপর সাফা বলল—
— “আচ্ছা থাক,বাদ দে। আগে খাই। কিন্তু ওই খাটাসটা যে তোর ভাই—কাল রাতে পার্টিতেই তো জেনেছি আমরা!”
অবন্তিকা ভ্রু কুঁচকে বলল,
— “তুই কেনো জানাসনি?
পার্টিতে না গেলে কিছুই জানতাম না!”
রাহা এক মুহূর্ত থমকে গেল। তারপর চোখ ঘুরিয়ে একটু বিরক্ত গলায় বলল,
— “আমি নিজেই তো পরশু রাতে জেনেছি। বলার সুযোগই তো পাইনি,আর কালকে তো তোরা দেরি করে আসলি।
—“আচ্ছা আচ্ছা, সব ভুলে যা—আমাদের আর কোনোদিন নাচার দরকার নাই, ভাই।”
রাহাও সাথে সাথে সায় দিল—
“হুম, ঠিক! আর নাচব না বাবা… এমন বাঁশ জীবনে খাইনি!”
খাবার এসে যেতেই আর দেরি না করে খেতে শুরু করল তারা। গরমে যেন শরীর-মাথা সব একাকার—ঘাম, ভিড় আর কোলাহল মিলে একেবারে হাঁসফাঁস অবস্থা।
এত মানুষের ভিড়ে দ্রুত খাওয়া শেষ করে তিনজনই বাইরে বেরিয়ে এল।
কলেজের ভেতরে এক পাশে বিশাল একটা বকুলফুলের গাছ—নিচে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ঝরা ফুল। চারপাশটা দেখলেই মনটা অদ্ভুতভাবে শান্ত হয়ে যায়।
ক্যান্টিন পেরিয়ে সেদিকে হাঁটতে হাঁটতেই সাফা বিরক্ত গলায় বলল,
“এই গরমে কিছুই ভালো লাগে না। রাতে আবার কারেন্টও থাকে না… দূর, বালের জিন্দেগি!”
অবন্তিকা আর রাহা শুধু মেকি একটা হাসি দিল।
সত্যিই—জীবনটা যেন পুরো ঝান্ড হয়ে গেছে।
গাছটার নিচে গিয়ে পাশাপাশি বসে পড়ল তিন বান্ধবী।
হঠাৎ সাফা বলল,
“আমি একটা গান গাইব।”
রাহা ভুরু কুঁচকে হেসে বলল,
“এই গরমে তোর গান গাইতে ইচ্ছা করছে?”
“আচ্ছা, গাই—শুন!”
তারপর নাটকীয় ভঙ্গিতে গাইতে শুরু করল—
“সাদা সাদা, কালা কালা,
কারেন্ট গেছে রাত্রি বেলা,
আমি বলি—বাত্তি জ্বালা,
সরকার বলে—তুইও কালা!
রাতও কালা, অন্ধকার,
বইসা থাক—এইটাই ভালো আর!”
গান শেষ হতেই রাহা আর অবন্তিকা হেসে লুটোপুটি—একজনের উপর আরেকজন পড়ে যাচ্ছে।
তাদের হাসির ঝংকার চারপাশে ছড়িয়ে পড়ল, আর আশেপাশের কিছু মানুষ ঘুরে তাকাল—কেউ অবাক হয়ে, কেউ মুচকি হাসছে।
অথচ রাহা কি বুঝতে পারছে—তার এই হাসির ঝংকার কারো মনে কী অদ্ভুত ঢেউ তুলে দিচ্ছে?
চারপাশের কোলাহলের মাঝেও একজন নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
রাহার অজান্তেই তার হাসি যেন কারো বুকের ভেতর নরম এক আলো জ্বেলে দিয়েছে—শান্ত, অথচ গভীর।
কিন্তু রাহা?
সে তো কিছুই টের পাচ্ছে না… নিজের জগতে, নিজের মানুষদের মাঝেই হারিয়ে আছে।
—————
— “জারিফ…”
— “জ্বি, বস।”
— “সবগুলোকে নিয়ে আয়, আমার সামনে।”
— “এখনই যাচ্ছি।”
কিছুক্ষণ পর একে একে সবাইকে এনে বসানো হলো তার সামনে—মেঝেতে। চোখ বাঁধা, হাত দুটো পেছনে শক্ত করে বেঁধে রাখা। চারপাশে নীরবতা, যেন বাতাসও থমকে আছে।
জারিফ ধীর গলায় বলল,
— “আপনার আদেশ মতোই হয়েছে, বস। শুধু ধরে রাখা হয়েছে… কেউ কিছু করেনি। কারণ যা করার—আপনি নিজেই করবেন।”
সামনের দিকে তাকিয়ে রইল সে—চোখে ঠান্ডা আগুনের ঝলক। ঠোঁট বাঁকা করে তীক্ষ্ণ হাসি ঝুলছে ।
তার “ফেইরি টেইল”-এর দিকে যারা একবার চোখ তুলেছিল… তার মূল্য তো দিতেই হবে।
সে আবার ধীরে, কিন্তু কঠিন স্বরে বলল—
— “সবাই আছে তো..? গুড জব
— “কেউ যদি বাদ যায়… তোর অবস্থাও কিন্তু এদের মতোই হবে।”
কথাটা শুনে জারিফ শুকনো ঢোক গিলে নিল। গলাটা যেন হঠাৎই শুকিয়ে গেল, তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে নিচু স্বরে বলল—
— “সবাই আছে, বস… একজনও বাদ যায়নি।”
বাঁধা লোকগুলো নিঃশব্দে বসে আছে, আর জারিফের চোখে-মুখে স্পষ্ট আতঙ্ক—ভুলের কোনো জায়গা নেই এখানে।
— “যা, আমার যন্ত্রপাতিগুলো নিয়ে আয়।”
— “ইয়েস, বস।”
কিছুক্ষণ পর জারিফ একটা বক্স এনে তার সামনে ধরে রাখল।
সে ধীরে বক্সটা খুলল, ভেতরে চোখ বুলিয়ে একটা লম্বা, সূচালো ধাতব পিন তুলে নিল—প্রায় এক হাত লম্বা, ঠান্ডা আর নিস্তেজ ঝিলিক দিচ্ছে।
এক মুহূর্ত থেমে চারপাশে তাকাল সে, তারপর শান্ত কিন্তু ভারী গলায় বলল—
— “সবার চোখ খুলে দে।”
চোখের বাঁধন খুলতেই যেন মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু থমকে গেল।
সামনে অভ্র—লালচে চোখ, শক্ত চোয়াল, হাতে সেই সূচালো আলপিন।
দৃশ্যটা দেখেই যেন সবার শরীর থেকে রক্ত সরে গেল।
কারও ঠোঁট শুকিয়ে ফেটে গেছে, কারও শ্বাস আটকে আসছে—বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দটা যেন বাইরে থেকেও শোনা যায়। কেউ কাঁপছে এতটাই যে ঠিকমতো বসে থাকতেও পারছে না।
একজনের গলা কেঁপে উঠল—
— “ছেড়ে দিন… প্লিজ… ভুল হয়ে গেছে…”
তারপর যেন একসাথে সবার ভাঙা গলা—
— “আমরা আর কখনো তাকাবো না… প্লিজ ছেড়ে দিন…”
কথা বলতে গিয়েও শব্দ জড়িয়ে যাচ্ছে, কারও চোখে পানি গড়িয়ে পড়ছে, কারও মুখে আতঙ্ক এমনভাবে জমে গেছে যেন চিৎকার করতেও ভুলে গেছে। তাদের চোখে এখন শুধু একটাই জিনিস—খাঁটি ভয়। এমন ভয়, যেখানে মানুষ নিজের অস্তিত্বটাই ছোট মনে হয়। কেউ কাঁপতে লাগল, কেউ পিছিয়ে যেতে চাইছে—কিন্তু বাঁধা অবস্থায় কেউই ঠিকমতো নড়তে পারছে না।
আর অভ্র…
সে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। চোখ দুটো লাল, চোয়াল শক্ত—নিঃশব্দে বসে থেকেও তার উপস্থিতি যেন পুরো ঘরটা দমবন্ধ করে দিচ্ছে।
ভুল..!
অভ্রের কণ্ঠ ছিল ঠান্ডা, ধারালো
— “আমার কাছে ভুলের দ্বিতীয় কোনো সুযোগ নেই। আমার ‘ফেইরী টেইল’ ছাড়া এই অভ্র কাউকে দ্বিতীয় সুযোগ দেয় না।”
আর তোরা হারামির বাচ্চা তার দিক লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলি। তোদের কিভাবে ছেড়ে দেই বল।
বলেই ধাতব পিনটি সামনের একজনের এক চোখে গেঁথে দেয়।
অমনি চোখ থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত এসে অভ্রের শার্ট ভিজিয়ে দেয়।
চোখ বন্ধ করে শান্তির নিশ্বাস নিচ্ছে,
মনে হচ্ছে অভ্র শান্তি পাচ্ছে এই রক্তের স্পর্শে।
একে একে সবার এক চোখ নষ্ট করে দেয়।
সকলের চিৎকারে ঘরটি ভয়ানক হয়ে উঠছে। ঘরের ভেতরের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে উঠছে।
অভ্রর চোখে কোনো কোমলতার চিহ্ন নেই। শুধু ভয়ঙ্কর ছাপ।
– জারিফ এদের ক্লিয়ার কর এখান থেকে
বলেই ভারী পা ফেলে চলে গেলো….
·
·
·
চলবে……………………………………………………